পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৮ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা টপিক: বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার ও পদ প্রকরণ। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
"ফেরারি" কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. তদ্ভব
  2. দেশি 
  3. তৎসম
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা

"ফেরারি" একটি বিদেশি (ফারসি) শব্দ। 

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
‘আপনা আপনি’ কোন শ্রেণির সর্বনাম?
  1. সংযোগজ্ঞাপক
  2. অন্যাদিবাচক
  3. ব্যতিহারিক
  4. আত্মবাচক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ব্যতিহারিক সর্বনাম।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়:
- ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
- আত্মবাচক - স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
- সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
- দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব।
- সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
- প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
- অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
- ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর, ইত্যাদি।
- সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা, ইত্যাদি।
- অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  2. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
  3. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) যথাসময়ে সে হাজির হয়। 

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় তা নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
আরবি ও ফারসি সহযোগে কোন মিশ্র শব্দটি গঠিত হয়েছে?
  1. আসমান
  2. আলিশান
  3. চারপায়া
  4. জমাদার
ব্যাখ্যা

• আরবি ও ফারসি সহযোগে গঠিত মিশ্রশব্দ- জমাদার।

• জমা (আরবি) + দার (ফারসি) = জমাদার।
- ‘জমাদার’ শব্দের অর্থ: পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কর্মচারীবিশেষ; প্রধান যন্ত্রচালক।

---------------------
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীথ' কোন পদ? 
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:  
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।

• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
‘সাইরেন বেজে উঠল’ বাক্যটি যৌগিক ক্রিয়ার কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. তাগিদ দেওয়া
  2. কার্যসমাপ্তি
  3. আকস্মিকতা
  4. নিরন্তরতা
ব্যাখ্যা

'সাইরেন বেজে উঠল' বাক্যটি যৌগিক ক্রিয়ার আকস্মিকতা অর্থ প্রকাশ করে। 

যৌগিক ক্রিয়া: একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণসমূহ:
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ।
খ. নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।
গ. কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
ঘ. আকস্মিকতা অর্থে: সাইরেন বেজে উঠল।
ঙ. অভ্যস্ততা অর্থে: শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
চ. অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

.
‘পাউরুটি’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. পর্তুগিজ
  2. গ্রিক 
  3. ফারসি
  4. গুজরাটি
ব্যাখ্যা

‘পাউরুটি’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে। 

পর্তুগিজ শব্দ থেকে সৃষ্ট বাংলা শব্দ:

আলপিন, পাউরুটি, ইংরেজ, সাবান, তোয়ালে, বালতি, নিলাম, আলকাতরা, মার্কা, জানালা, পেরেক, ক্রশ, পরাত (বৃহৎ গালা), বারান্দা, নোনা, যিশু, বেহালা, পেঁপে, পাচার, পেয়ারা, বোতাম, আলমারি, মিস্ত্রি, গামলা, ফিতা, সেমিজ, কামিজ, গির্জা, চাবি, পাদ্রি, আনারস, টুপি, বোমা, কেরানি, কামরা, আতা, তামাক, ইস্পাত, আয়া, আচার, পিস্তল, বেহালা, মাম্বল, মাইরি, গুদাম।

 উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
‘বিঘাটেক জমি’ - এখানে 'বিঘাটেক' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. অংশবাচক
  4. উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা

‘বিঘাটেক জমি’ পরিমাণবাচক নাম বিশেষণ। 

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। 

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

.
কোন বাক্যটি ক্রিয়ার সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করছে?
  1. অন্যায় কাজ করো না।
  2. তারা বাড়ি যাবে।
  3. বৃষ্টি আসে আসুক।
  4. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) ভালো করে পড়লে সফল হবে।

সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

অন্যদিকে, 
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব: যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-সে যাক। যা হয় হোক। সে একটু হাসুক। বৃষ্টি আসে আসুক। তার মঙ্গল হোক।

অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন-
ক. আদেশাত্মক: চুপ কর, তুমি কাল যেও।
খ. নিষেধাত্মক: অন্যায় কাজ করো না।

নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়। যথা-
ক. সাধারণ নির্দেশক : আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় : আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১০.
‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যে প্রযোজ্য কর্তা কে?
  1. মা
  2. শিশু
  3. চাঁদ
  4. খাচ্ছেন
ব্যাখ্যা

‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যে প্রযোজ্য কর্তা হচ্ছে "শিশুকে"। 

প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনা বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
- সংস্কৃতে একে ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়।
উদাহরণ:
চাঁদ দেখাচ্ছেন = প্রযোজক ক্রিয়া। 

প্রযোজক কর্তা:
- যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
মা = প্রযোজক কর্তা। 

প্রযোজ্য কর্তা:
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
শিশুকে = প্রযোজ্য কর্তা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১১.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. সৌরভ
  2. গমন
  3. যৌবন
  4. তারুণ্য
ব্যাখ্যা

গমন ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), দেখা, শোনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
- যথা: মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা,
- তরল দ্রব্যের গুণ = তারল্য,
- তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ = তিক্ততা,
- তরুণের গুণ = তারুণ্য।
- তদ্রূপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১২.
‘বেগম’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. ওলন্দাজ
  3. তুর্কি 
  4. আরবি 
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 

বিদেশি শব্দের উদাহরণ
ফরাসি:
- কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

ওলন্দাজ শব্দ:
- ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন ইত্যাদি। 

তুর্কি শব্দ:
- কুলি, কোর্মা, খাতুন, তোপ, বেগম, লাশ।

আরবি:
- ধর্মসংক্রান্ত শব্দ: আল্লাহ্, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গোসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
- প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ: আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মোক্তার, রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৩.
“তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।” বাক্যে “অথচ” কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

“তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।” বাক্যে “অথচ” সংকোচক অব্যয়। 

সমুচ্চয়ী অব্যয়
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
ক. সংযোজক অব্যয়: আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।
খ. বিয়োজক অব্যয়: বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলোও বিয়োজক অব্যয়।
গ. সংকোচক অব্যয়: অথচ, কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
“রকেট অতি দ্রুত চলে” বাক্যে “অতি” কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. বাক্যের বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

“রকেট অতি দ্রুত চলে” বাক্যে “অতি” হচ্ছে বিশেষণীয় বিশেষণ। 

বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা:
- ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ: সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।

------------------
ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
- ক. ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
- খ. ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
- যথা: ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

বাক্যের বিশেষণ: কখনো কখনো কোনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলা হয়।
যেমন:
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫.
'রাখাল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি 
  2. তৎসম
  3. হিন্দি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা

• 'রাখাল' দেশি শব্দ।
অর্থ: গবাদিপশু চরানো যার পেশা।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬.
কোনটি আরবি শব্দ?
  1. নামাজ
  2. তারিখ
  3. দোয়াত
  4. রোজা
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
তারিখ, দোয়াত- আরবি শব্দ।
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

আরবি শব্দ:

- বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলোকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
(১) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ:
- আল্লাহ্, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গোসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ:
- আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মোক্তার, রায় ইত্যাদি।

খ. ফারসি শব্দ
- বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলোকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি:
(১) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ:
- খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ:
- কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
(৩) বিবিধ শব্দ:
- আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৭.
‘কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।’ - এ বাক্যে ‘কি’ অব্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জিজ্ঞাসায়
  2. বিরক্তি প্রকাশে
  3. সাকুল্য অর্থে
  4. বিড়ম্বনা প্রকাশে
ব্যাখ্যা

• ‘কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।’ - এ বাক্যে ‘কি’ অব্যয়টি সাকুল্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

"কি/কী" অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার:
- জিজ্ঞাসায়: তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
- বিরক্তি প্রকাশে: কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
- সাকুল্য অর্থে: কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।
- বিড়ম্বনা প্রকাশে: তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৮.
‘Secretary’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. সচিব 
  2. ব্যবস্থাপক
  3. উদযান
  4. মহাব্যবস্থাপক
ব্যাখ্যা

‘Secretary’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে সচিব। 

পারিভাষিক শব্দ:
পারিভাষিক শব্দ হলো বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দ। এই শব্দগুলো মূলত আধুনিক সময়ে ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ:
- অম্লজান – oxygen,
- উদযান – hydrogen,
- নথি – file,
- প্রশিক্ষণ – training,
- ব্যবস্থাপক – manager,
- বেতার – radio,
- মহাব্যবস্থাপক – general manager,
- সচিব – secretary,
- স্নাতক – graduate,
- স্নাতকোত্তর – post graduate,
- সমাপ্তি – final,
- সাময়িকী – periodical,
- সমীকরণ – equation। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৯.
কোনটি ক্রিয়াজাত বিশেষণের উদাহরণ?
  1. উপরি পাওনা
  2. চৌচালা ঘর
  3. হারানো সম্পত্তি
  4. জ্ঞানহারা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) হারানো সম্পত্তি। 

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি
ক. ক্রিয়াজাত - হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত - আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনামজাত - কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ - বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর
ঙ. বীপ্সামূলক - হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত - কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।