পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান; ii) সত্তরের নির্বাচন; iii) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ; iv) বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি; v) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে কত তারিখ ছিল?
  1. ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ
  2. ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ
  3. ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ
  4. ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
বিজয় দিবস
- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:৩১ মিনিটে পাক বাহিনীর পক্ষে লে.জেনারেল নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। 
- বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে দিনটি ছিল  ২৯ অগ্রহায়ণ,১৩৭৮ বঙ্গাব্দ।

উল্লেখ্য, 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯ টি জেলার মধ্যে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোর, যেটি ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ স্বাধীন হয়।

তথ্যসূত্র- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন কে?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. আব্দুল মান্নান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই হল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই আদেশ জারি করেন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ এই ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে জারি করা হয়।
- এটি ২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে বলবৎ হয়।

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ এ অধ্যাপক ইউসুফ আলী মুজিবনগরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬ষ্ঠ অফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণের বিষয়বস্তু নয় কোনটি?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
  2. সামরিক আইন প্রত্যাহার।
  3. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর।
  4. সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।
- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল। যথা--
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উল্লেখ্য, 
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করা হয়।
- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত ছয় দফা দাবির প্রথমটি ছিল 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন'।

তথ্য - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
.
কত তারিখে বাংলাদেশে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়?
  1. ২৫ মার্চ
  2. ১২ ডিসেম্বর
  3. ১৪ ডিসেম্বর
  4. ১৪ আগস্ট
ব্যাখ্যা
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ২১ মার্চ শহিদ বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে।
- ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘যে সকল সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনৈতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত ও শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহিদ কিংবা চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরা শহিদ বুদ্ধিজীবী।’
- ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসাবে পালন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও আলবদর বাহিনী যৌথভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তাদের বাসা থেকে একে একে তুলে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতনের পর হত্যা করে।
- এছাড়াও, ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।
- তাঁদের স্মরণে ঢাকার রায়ের বাজার ইটখোলায় নির্মিত হয়েছে "বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ "।

তথ্য - ডেইলি স্টার বাংলা এবং বাংলাপিডিয়া।[লিংক]
.
কোন ঘটনাটি বাংলায় অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ঘটেছিল?
  1. প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন
  2. বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা
  3. ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ জাতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।

- ২ মার্চ, ১৯৭১ ঢাবির বটতলায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম এই জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন শিব নারায়ণ দাস।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা এদেশের মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
.
সাইমন ড্রিং কোন ঘটনা বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরেন?
  1. অপারেশন জ্যাকপট
  2. অপারেশন সার্চলাইট
  3. ক্র্যাক প্লাটুনের হিট এন্ড রান
  4. বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট ও সাইমন ড্রিং
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

অন্যদিকে,
অপারেশন জ্যাকপট
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট ১০ নং সেক্টরে নৌবাহিনী পরিচালিত প্রথম অভিযান 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- এই রাতে নৌ-কমান্ডোরা পাকবাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র- দৈনিক প্রথম আলো। বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কবে গঠিত হয়?
  1. ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  2. ৮ মার্চ ১৯৭২
  3. ৮ এপ্রিল ১৯৭২
  4. ৮ জুন ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন মূলত বিভিন্ন সরকারি পদ ও চাকরি নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- এই কমিশন গঠিত হয় ৮ এপ্রিল ১৯৭২
- ৮ এপ্রিল সিভিল সার্ভিস দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বর্তমানে মোট ২৬ টি ক্যাডার রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি সাধারণ ও ১২টি পেশাগত/কারিগরি ক্যাডার।
- ১৯৭৭ সালের ২২ ডিসেম্বর এই কমিশনের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।
.
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস কবে পালিত হয়?
  1. ২০ জানুয়ারি
  2. ২৪ জানুয়ারি
  3. ১৫ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৮ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- এছাড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামি মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
.
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ কে?
  1. রফিকউদ্দিন
  2. মনু মিয়া
  3. শংকু মজুমদার
  4. নীল রতন সরকার
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহিদ
- ৭১ এর ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালীন রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন শংকু মজুমদার।
- তিনি কৈলাশ রঞ্জন বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।
- তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহিদ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- একই দিনে, পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- এই সময় অসহযোগ আন্দোলন চলমান ছিল।

তথ্যসূত্র- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১০.
মুক্তিযুদ্ধকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়
  2. অজয় মুখোপাধ্যায়
  3. প্রফুল্লচন্দ সেন
  4. জ্যোতি বসু
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়
- তাঁর নেতৃত্বে 'মুক্তিযুদ্ধ সহায়ক সমিতি' গঠিত হয়।
- এই সমিতির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও বিশ্বনেতাদের নিকট প্রচারণা চালান।
- এছাড়া, তাঁর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রায় ৭৫ লাখ শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়।

তথ্যসূত্র- বিবিসি নিউজ বাংলা।
১১.
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় কবে?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। 
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি। 
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬ টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে আদমশুমারি হয়েছিল।
-  সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- ৬ষ্ঠ আদমশুমারি ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন জনশুমারি ও গৃহগণনা নামে অনুষ্ঠিত হয়।
- জনশুমারি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)। 

উল্লেখ্য, 
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন এবং তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
১২.
১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধু ভারতের কোন রাজ্যে ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে বৈঠক করেন?
  1. ত্রিপুরা
  2. আসাম
  3. আগরতলা
  4. মিজোরাম
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পটভূমি
- সামরিক বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সদস্য মিলে ২৫০ জন বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের ১২-১৫ জুলাই ভারতের সহযোগিতা লাভে বঙ্গবন্ধু এবং আলী রেজা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা জেলায় ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে বৈঠক করেন।
- পরিকল্পনাকারীদের একজন, আমির হোসেন ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে এই পরিকল্পনা ফাঁস করেন।
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি এই কারণে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- আইয়ূব খান সরকার "রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য" নামে এই মামলা দায়ের করেছিল।
- প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মোট আসামি ছিলেন ৩৫জন।
- গনঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১৩.
সত্তরের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে কয়টি আসনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে?
  1. ১৬৯টি
  2. ১৬৭টি
  3. ২৯০টি
  4. ৩১৩টি
ব্যাখ্যা
সত্তরের নির্বাচন ও আওয়ামী লীগ  
- বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এর নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম এবং শেষ সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচনে মোট ২৪ টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- সমগ্র পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩ টি, যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিল ১৬৯ টি ( ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ )।
- এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ২ টি আসনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়নি।
- ময়মনসিংহ ও রাঙ্গামাটিতে এই দুটি আসনে বিজয়ী হয় যথাক্রমে পিডিপি'র নূরুল আমিন এবং চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়। 
- এছাড়া , এই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ৩০০ টি আসনের মধ্যে ২৮৮ টিতে জয়লাভ করে।
- " ভোটের আগে ভাত চাই " স্লোগানে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ন্যাপ ( ভাসানী ) এই নির্বাচন বর্জন করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
১৪.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'অগ্নিশিখা' অনুষ্ঠানটি কে পরিচালনা করতেন?
  1. বেলাল মোহাম্মদ
  2. এম.আর.আখতার মুকুল
  3. কল্যাণ মিত্র
  4. টি.এইচ সিকদার
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও 'অগ্নিশিখা'
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বেলাল মোহাম্মদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
- বেতারে প্রচারিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হলো বজ্রকন্ঠ, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার, অগ্নিশিখা, প্রতিধ্বনি প্রভৃতি।
- 'অগ্নিশিখা' অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন টি.এইচ সিকদার।
- এটি ছিল মুক্তিবাহিনীর জন্য অনুষ্ঠান।

এছাড়া,
- ৭ মার্চের ভাষণ সহ বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য ভাষণ 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হত।
- ঢাকার আঞ্চলিক ভাষায় প্রচারিত 'চরমপত্র' লিখতেন ও পড়তেন এম.আর.আখতার মুকুল।
- জল্লাদের দরবার পরিচালনা করতেন কল্যাণ মিত্র।

তথ্য- বাংলাপিডিয়া।
১৫.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতিসংঘে কয়বার যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয়?
  1. এক বার
  2. দুই বার
  3. তিন বার
  4. ছয় বার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিসংঘে যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যখন বাঙালির বিজয় আসন্ন , তখন তিন বার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়।
- পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ৪ ডিসেম্বর প্রথমবার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিষদের আট দেশ এবং ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো (আমি মানি না) দেয়ার কারণে প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। 

এছাড়াও, 
- আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নির্দেশে ৭টি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজকে বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎপরতায় মার্কিন রণতরি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে। 

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ বাংলা।
১৬.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে জুলিও কুরি শান্তি পদক এর জন্য মনোনীত হন?
  1. ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
  2. ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
  3. ১৯৭২ সালের ২৩ মে
  4. ১৯৭৩ সালের ১০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক ও বঙ্গবন্ধু  
- বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে মানবতার কল্যাণে ও শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে শান্তি পদকে ভূষিত করে আসছে।
- ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি শান্তি পদক’। 
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্য মনোনীত করা হয়। 
- ১৯৭৩ সালের ২৩ মে তাঁকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। 
- সেই দিন বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বলেন ‘শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, আজ থেকে তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে’।

- বঙ্গবন্ধুর আগে যারা ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-
. কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো,
. ভিয়েতনামের হো চি মিন,
. ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত,
. চিলির সালভেদর আলেন্দে,
. দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা,
. কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা,
. আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং
. ভারতের জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা,সহ প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো। দৈনিক ইত্তেফাক।
১৭.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ ফলাফল কোনটি?
  1. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার
  2. আইয়ুব সরকারের পতন
  3. ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা লাভ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- এছাড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ  সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১৮.
বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মোট কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল?
  1. ১১ টি
  2. ১২ টি
  3. ১৪ টি
  4. ১৫ টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে।
- মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল।
- রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, তথ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী -- এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান।
- অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী -- মোহাম্মদ মনসুর আলী।

তথ্যসূত্র - উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
কবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' ঘোষণা করা হয়?
  1. ১ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২ মার্চ, ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ, ১৯৭১
  4. ৭ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অসহযোগ আন্দোলন
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ জাতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
-  ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।

উল্লেখ্য,
- ২ মার্চ, ১৯৭১ ঢাবির বটতলায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম এই জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন শিব নারায়ণ দাস।
- ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা এদেশের মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
২০.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'জল্লাদের দরবার'-এ ইয়াহিয়া খানকে কোন চরিত্রে চিত্রিত করা হয়?
  1. টিক্কা খান
  2. ছোট জল্লাদ
  3. ফতেহ খান
  4. কেল্লা ফতেহ খান
ব্যাখ্যা
জল্লাদের দরবার এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বেলাল মোহাম্মদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
- বেতারে প্রচারিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হলো বজ্রকণ্ঠ, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার, অগ্নিশিখা, প্রতিধ্বনি প্রভৃতি।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয়।
- ‘কেল্লা ফতেহ খান’ ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ। 
- 'জল্লাদের দরবার'  পরিচালনা করতেন কল্যাণ মিত্র।

এছাড়াও, 
- ৭ মার্চের ভাষণ সহ বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য ভাষণ 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হত।
- ঢাকার আঞ্চলিক ভাষায় প্রচারিত 'চরমপত্র' লিখতেন ও পড়তেন এম.আর.আখতার মুকুল।
- 'অগ্নিশিখা' ছিল টি.এইচ সিকদার পরিচালিত মুক্তিবাহিনীর জন্য অনুষ্ঠান।

তথ্য- বাংলাপিডিয়া।
২১.
আগরতলা পরিকল্পনা ফাঁস করেন কে?
  1. আমির খান
  2. মোহাম্মদ আমির
  3. আমির হোসেন
  4. আমির হোসেন আমু
ব্যাখ্যা
আগরতলা পরিকল্পনা ফাঁস
- সামরিক বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সদস্য মিলে ২৫০ জন বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের ১২-১৫ জুলাই ভারতের সহযোগিতা লাভে বঙ্গবন্ধু এবং আলী রেজা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা জেলায় ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে বৈঠক করেন।
- পরিকল্পনাকারীদের একজন, আমির হোসেন ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে এই পরিকল্পনা ফাঁস করেন।
- এই কারণে ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ।

উল্লেখ্য,
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- আইয়ূব খান সরকার "রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য" নামে এই মামলা দায়ের করেছিল।
- প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মোট আসামি ছিলেন ৩৫জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন, ১৯৬৮ তারিখে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার ১৭ নং আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দেয়া হয়।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
২২.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানকে কয়টি প্রাদেশিক পরিষদে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
সত্তরের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বাঙালি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এর নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
- এই কমিশনের অধীনে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মোট ২৪ টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- এই নির্বাচনে ৫ টি প্রাদেশিক পরিষদে ২১টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৬২১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ৩১০ টি আসনের ( ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ ) মধ্যে ২৯৮ টিতে জয়লাভ করে।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
২৩.
মুক্তিবাহিনী কয় ভাগে বিভক্ত ছিল?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. এগার ভাগে
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
-নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা। এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে প্রথমে ৪ টি যুদ্ধাঞ্চলে ভাগ করে। পরে আরো ৩টি ভাগ করা হয়। ফলে মোট যুদ্ধাঞ্চল ছিল ৭টি।
- S ফোর্স, K ফোর্স ও Z ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
-এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সমগ্র বাংলাদেশ ১১ টি সেক্টর ছিল , যেখানে মোট ১৬ জন সেক্টর-কমান্ডার ছিলেন।

তথ্যসূত্র- বিবিসি নিউজ।
২৪.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ কোনটি?
  1. ইরাক
  2. ইরান
  3. সেনেগাল
  4. তুরস্ক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশ ও বিশ্ব-স্বীকৃতি
-  প্রথম অনারব মুসলিম দেশ হিসেবে- মালয়েশিয়া(১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি ) এবং
- প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল (১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

এছাড়াও, 
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।
- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- বাংলাদেশকে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে স্বীকৃতি দেয় - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
২৫.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন? 
  1. ২নং সেক্টর
  2. ১০নং সেক্টর
  3. উভয়ই
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- নোয়াখালীতে তাঁর জন্মস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে পরে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়।
- গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'।
- রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।

তথ্যসূত্র -১.বাংলাপিডিয়া।
২.মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।লিংক
২৬.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার কে?
  1. এন এস সাহা
  2. নিত্যানন্দ সাহা
  3. কামরুল হাসান
  4. মাইনুল হোসেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম
- লাল বৃত্তের মাঝখানে হলুদ রংঙের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরে  লেখা ’গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে  লেখা ’সরকার’ এবং বৃত্তের দুপাশে ২ টি করে মোট ৪ টি তারকা।
- ডিজাইনার - নিত্যানন্দ সাহা (এনএন সাহা)

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার - কামরুল হাসান।
- জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল, তার উপর ৩ টি পরস্পর সংযুক্ত পাট পত্রক এবং তার দুপাশে ২ টি করে তারকা।  
- সৈয়দ মাইনুল হোসেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের ডিজাইনার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কোন নামে দায়ের করা হয়?
  1. পাকিস্তান বনাম শেখ মুজিবুর রহমান
  2. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান
  3. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  4. পাকিস্তান বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য (আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা)
- সামরিক বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সদস্য মিলে ২৫০ জন বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের ১২-১৫ জুলাই ভারতের সহযোগিতা লাভে বঙ্গবন্ধু এবং আলী রেজা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা জেলায় ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে বৈঠক করেন।
- পরিকল্পনাকারীদের একজন, আমির হোসেন ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে এই পরিকল্পনা ফাঁস করেন।
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি এই কারণে আইয়ূব খান সরকার "রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য" নামে একটি মামলা দায়ের করে।
- বহুল আলোচিত এই মামলা 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মোট আসামি ছিলেন ৩৫জন।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
২৮.
মুক্তিবাহিনীর প্রথম গোলন্দাজ ইউনিট কোনটি?
  1. কাদেরিয়া বাহিনী
  2. ক্র্যাক প্লাটুন
  3. মুজিব ব্যাটারি
  4. হেমায়েত বাহিনী
ব্যাখ্যা
মুজিব ব্যাটারি
- পাকিস্তান বাহিনী থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া গোলন্দাজ কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের নিয়ে গড়ে উঠে মুজিব ব্যাটারি।
- এটি মুক্তিবাহিনীর প্রথম গোলন্দাজ ইউনিট।
- প্রথমে নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আজিজ পাশা, পরে ক্যাপ্টেন আনোয়ারুল আলম।
- এই বাহিনী ২নং সেক্টরের অধীন ছিল।
- এই বাহিনীর ৬টি কামান ছিল।

এছাড়া,
- বীর উত্তম বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে টাঙ্গাইলে গড়ে উঠে কাদেরিয়া বাহিনী।
- হেমায়েত বাহিনীর প্রধান ছিলেন হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম।
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ঢাকায় গেরিলা আক্রমণকারী একদল তরুণ যাদের পরিচালনা করতেন ২নং সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
২৯.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯ টি জেলার মধ্যে যশোর প্রথম স্বাধীন হয়।
- এই দিনই (৬ ডিসেম্বর) ভুটান প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- একই দিনে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ভুটান এবং ভারত; মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই দুই দেশই শুধুমাত্র বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু বহির্বিশ্বের স্বীকৃতি ও দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতা লাভের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।
- ৩য় ও ৪র্থ দেশ হিসেবে যথাক্রমে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম মুসলিম দেশ হিসাবে সেনেগাল বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা।
৩০.
কোনটি জয়নুল আবেদিনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম?
  1. মুক্তিযোদ্ধা
  2. ম্যাডোনা
  3. ক + খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন
- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহুকুমার কেন্দুয়াতে (বর্তমান নেত্রকোণা) জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৪ সালে জাতীয় অধ্যাপক (বাংলাদেশ) সম্মান লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সবচেয়ে বড় খেতাব হেলাল-ই-ইমতিয়াজ অর্জন করেন এবং ১৯৭১ সালে সেটি বর্জন করেন।
- ১৯৬৮ সালে ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রদের তরফ থেকে 'শিল্পাচার্য' উপাধি লাভ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের মূল সাজসজ্জার পরিকল্পনাকারী ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। 
-  ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 
- 'মুক্তিযোদ্ধা' জয়নুল আবেদিনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম।
- ১৯৪৩ সালের ভয়াল দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে জয়নুল আবেদিনের আঁকা স্কেচধর্মী চিত্রকর্ম 'ম্যাডোনা'।
- তাঁর আরো কিছু বিখ্যাত শিল্পকর্ম:
. দুর্ভিক্ষ,
. সংগ্রাম,
. সাঁওতাল রমণী,
. বিদ্রোহী,
. মনপুরা,
. নবান্ন,
. মহিলা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ডেইলি স্টার।
৩১.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিক কে?
  1. ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
  2. সাইমন ড্রিং
  3. উভয়েই
  4. কেউই নয়
ব্যাখ্যা
বীর প্রতীক ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড 
- ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমষ্টারডাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি হলেন একমাত্র বিদেশি নাগরিক যিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত হন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কমান্ডো হিসেবে তিনি ছিলেন অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'বীরপ্রতীক' সম্মাননায় ভূষিত করে।
- ১৯৭১ সালে তিনি ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
- ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে ৮৪ বছর বয়সে বীরপ্রতীক উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ঔডারল্যান্ড মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ডেইলি স্টার। 
৩২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামী বিচার চলাকালীন অবস্থায় শহিদ হন?
  1. আহমেদ ফজলুর রহমান
  2. সার্জেন্ট শামসুল হক
  3. সার্জেন্ট আবদুল জলিল
  4. সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
-২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হক বিচার চলাকালীন অবস্থায় শহিদ হন।
- ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।