পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

পরীক্ষাব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
"Exam - 90 Daily Quiz: Bangla: Topic: বাক্য শুদ্ধি, যতিচিহ্ন।"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. প্রাতঃকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে।
  2. ছেলেটি ভয়ংকর মেধাবী।
  3. আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
  4. ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি ভয়ংকর মেধাবী।
• শুদ্ধরূপ: ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।

অন্যদিকে, শুদ্ধবাক্যগুলো হলো:
• প্রাতঃকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে।
• আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
• ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।

--------------------------------------
এরূপ কিছু অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো:
• অশুদ্ধ বাক্য: বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর।
• শুদ্ধ বাক্য: বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।

• অশুদ্ধ বাক্য: মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রুষা কর।
• শুদ্ধ বাক্য: মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।

• অশুদ্ধ বাক্য: রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
• শুদ্ধ বাক্য: রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।

• অশুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
• শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
হাইফেন ব্যবহৃত হয়-
  1. সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে বসে।
  2. নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে।
  3. সংখ্যা বা পরিমাণগত ব্যবধান বোঝাতে।
  4. নির্দিষ্ট শব্দে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য।
ব্যাখ্যা
• সংখ্যা বা পরিমাণগত ব্যবধান বোঝাতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- আবহনী ২-৪ গোলে মোহামেডানের কাছে হেরেছে।

অন্যদিকে, 
• নির্দিষ্ট শব্দে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
• নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোলনচিহ্ন বসে।
• সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে প্রশ্নচিহ্ন বসে।

-------------------
• হাইফেন:

- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. মাতাহীন শিশুর কী দুঃখ।
  2. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  3. আমি সাক্ষী দিব না।
  4. আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো:
• অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বিসহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভূল করে৷
• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল করে৷

• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

• অশুদ্ধ বাক্য: প্রতিযোগীতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।
• শুদ্ধ বাক্য: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।

• অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
• শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

• অশুদ্ধ বাক্য: মাতাহীন শিশুর কী দুঃখ।
• শুদ্ধ বাক্য: মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল কত?
  1. ১ বলার দ্বিগুণ
  2. ১ মিনিট
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ১ বলেতে যে সময় প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল ১ সেকেন্ড।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- যাও।
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি আশ্ঢ় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
তা-প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তার অধৈর্যতা কেউ পচ্ছন্দ করে না।
  2. দরিদ্রতা আমাদের অভিশাপ।
  3. তার লেখায় বিচিত্রতা রয়েছে।
  4. ইহার আবশ্যকতা নাই।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তার অধৈর্যতা কেউ পচ্ছন্দ করে না।- বাক্যটিতে ‘তা’ প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: তার অধীরতা কেউ পচ্ছন্দ করে না।

----------------------------
• ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় ব্যবহারের নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
প্রবাদ-প্রবচনজনিত অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
  2. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।
  3. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  4. এক মাঘে শীত য়ায় না।
ব্যাখ্যা
• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন:
• অশুদ্ধ: সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।
• শুদ্ধ: সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
• শুদ্ধ প্রয়োগ: এক মাঘে শীত য়ায় না।
• শুদ্ধ প্রয়োগ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. ড্যাশ
  2. হাইফেন
  3. বিন্দু
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
- আমি বললাম, “আমি ভালো আছি।”

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
  2. পুরস্কার পেয়ে সকলেই আনন্দিত হয়।
  3. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  4. কাউকে তিরষ্কার করবে না।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: কাউকে তিরষ্কার করবে না।
• শুদ্ধ বাক্য: কাউকে তিরস্কার করবে না।

• নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. বিন্দু
  2. সেমিকোলন
  3. কোলন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধবাক্য: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- 
• অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
বাগ্‌ধারার পরিবর্তনজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. উনো ভাতে দুনো বল, ভরা ভাতে রসাতল বুঝলেন মহাশয়।
  2. কাঁচা টাকা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
  3. সে নিজের পায়ে নিজে কোদাল মেরেছে।
  4. উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌ধারা ভাষার সৌন্দর্যবর্ধন, অর্থের স্পষ্টতা এবং ভাবের ব্যঞ্জনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ এ বাগ্‌ধারার অপপ্রয়োগ দেখ যায়; ফলে বাগ্‌ধারার সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি অশুদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হয়।
যেমন:

• অশুদ্ধ: সে নিজের পায়ে নিজে কোদাল মেরেছে।
• শুদ্ধরূপ: সে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরেছে।

এরূপ কিছু বাগ্‌ধারার অপপ্রয়োগজনিত বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো:
• অশুদ্ধ: উলুবনে সোনা ছড়িয়ে লাভ নেই।
• শুদ্ধ: উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।

• অশুদ্ধ: কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।
• শুদ্ধ: কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।

• অশুদ্ধ: লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
• শুদ্ধ: লোকটির যেন কৈ মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি। ।

• শুদ্ধ: কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
• অশুদ্ধ: কাঁচা টাকা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
বাক্যে পাদচ্ছেদ যতিচিহ্ন থাকলে, বিরতির সময়কাল কত?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. এক বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

♦ বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থ সমূহ সরিয়ে রাখো।
  2. সে এখন আর চিঠি লেখেনা।
  3. সব পাখিরা নীড় বাঁধে না।
  4. তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।

অশুদ্ধবাক্য গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• সে এখন আর চিঠি লেখে না।
• সব পাখি নীড় বাঁধে না।
• অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।

----------------
• (না, নেই, নয়) ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:

না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• অশুদ্ধ বাক্য: সে এখন আর চিঠি লেখেনা।
• শুদ্ধরূপ: সে এখন আর চিঠি লেখে না।

• বহুবচনের অপপ্রয়োজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
• অশুদ্ধ বাক্য: সব পাখিরা নীড় বাঁধে না।
• শুদ্ধ বাক্য: সব পাখি নীড় বাঁধে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।