পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
পরীক্ষা- ৮ পিএসসি নির্ধারিত গদ্য, ও নাট্য সাহিত্য (লেকচার ৭)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্য নয় কোনটি?
  1. ক্রন্দসী’
  2. উত্তর ফাল্গুনী'
  3. পূর্বমেঘ’
  4. সংবর্ত’,
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-৬১) ‘অর্কেস্ট্রা', ‘ক্রন্দসী’, ‘উত্তর ফাল্গুনী', ‘সংবর্ত’, 'দশমী'

প্রভৃতি কাব্যরচনার মাধ্যমে পাণ্ডিত্য, বুদ্ধি ও ঔৎসুক্য কাব্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন । 

বিষ্ণু দে (১৯০৯-৮২) ‘উর্বশী ও আর্টেমিস', 'চোরাবালি’, ‘পূর্বমেঘ’, ‘সন্দ্বীপের চর',

‘অন্বিষ্ট’, ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার’, ‘সাত ভাই চম্পা', 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,

‘স্মৃতিসত্তা ভবিষ্যৎ’, ‘সেই অন্ধকার চাই’, ‘ইতিহাসের ট্র্যাজিক উল্লাসে', 'রবিকারোজ্জ্বল

নিজদেশে’, ‘দিবানিশা’, ‘চিত্ররূপমত্ত পৃথিবীর’, ‘উত্তরে থাকো মৌন’, ‘আমার হৃদয়ে বাঁচো'

প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা। 

.
‘পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে স্বতন্ত্র লেখকগোষ্ঠীর সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সুধীন্দ্রনাথ
  3. বিষ্ণু দে 
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ বিখ্যাত ‘পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে স্বতন্ত্র লেখকগোষ্ঠীর সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন।

এই পত্রিকাটিকে কেন্দ্র করে জীবন-জিজ্ঞাসার এক অনন্য— প্রায় অননুসরণীয় মান অর্জন

করেছিল। তিনি ছিলেন পরিশ্রমী কবি। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যা জেনেছিলেন

তার সঙ্গে সমকালীন প্রতীচ্য কবিতা-লোক থেকে সমর্থন নিয়ে আপন কাব্যধারণা গড়ে তুলেছিলেন।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
'নাম রেখেছি কোমল গান্ধার’ কাব্যেরগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে 
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সুধীন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে (১৯০৯-৮২) ‘উর্বশী ও আর্টেমিস', 'চোরাবালি’, ‘পূর্বমেঘ’, ‘সন্দ্বীপের চর',

‘অন্বিষ্ট’, ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার’, ‘সাত ভাই চম্পা', 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,

‘স্মৃতিসত্তা ভবিষ্যৎ’, ‘সেই অন্ধকার চাই’, ‘ইতিহাসের ট্র্যাজিক উল্লাসে', 'রবিকারোজ্জ্বল

নিজদেশে’, ‘দিবানিশা’, ‘চিত্ররূপমত্ত পৃথিবীর’, ‘উত্তরে থাকো মৌন’, ‘আমার হৃদয়ে বাঁচো'

প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা। তিনি সমাজসচেতন কবি এবং চিন্তায় মার্কসপন্থী। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
‘পারাপার'  কাব্যেরগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে 
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-৮৬) আধুনিক কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জটিল ও দ্বিধাবিভক্ত কবিমানসের অধিকারী।

‘খসড়া’, ‘এক মুঠো', 'মাটির দেয়াল', অভিজ্ঞান বসন্ত’, ‘পারাপার', 'পালাবদল', ‘ঘরে ফেরার দিন’, 'কবিতাবলী', 'উপহার', 'দূরযানী’, ‘হারানো অর্কিড', ‘পুষ্পিত ইমেজ', 'অমরাবতী', 'অনিঃশেষ' ইত্যাদি তাঁর কাব্য ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
'মরচে পড়া পেরেকের গান' কাব্যেরগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে 
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-৭৪) আধুনিক বাংলা কাব্য-আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাতিমান ছিলেন। ‘
বন্দীর বন্দনা', ‘পৃথিবীর পথে', 'কঙ্কাবতী', 'দময়ন্তী', ‘দৌপদীর শাড়ি’, ‘শীতের প্রার্থনা : বসন্তের উত্তর’, ‘যে-আঁধার আলোর অধিক', 'মর্মবাণী', 'মরচে পড়া পেরেকের গান', ‘একদিন চিরদিন’, ‘স্বাগত বিদায়' ইত্যাদি তাঁর কাব্যগ্রন্থ। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
অমিয় চক্রবর্তী'র কাব্য গ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. অভিজ্ঞান বসন্ত’
  2. ঘরে ফেরার দিন’
  3. ‘বন্দীর বন্দনা'
  4. 'অমরাবতী'
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-৭৪) আধুনিক বাংলা কাব্য-আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাতিমান ছিলেন। ‘বন্দীর বন্দনা', ‘পৃথিবীর পথে', 'কঙ্কাবতী', 'দময়ন্তী', ‘দৌপদীর শাড়ি’, ‘শীতের প্রার্থনা : বসন্তের উত্তর’, ‘যে-আঁধার আলোর অধিক', 'মর্মবাণী', 'মরচে পড়া পেরেকের গান', ‘একদিন চিরদিন’, ‘স্বাগত বিদায়' ইত্যাদি তাঁর কাব্যগ্রন্থ।

অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-৮৬) আধুনিক কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জটিল ও দ্বিধাবিভক্ত কবিমানসের অধিকারী। ‘খসড়া’, ‘এক মুঠো', 'মাটির দেয়াল', অভিজ্ঞান বসন্ত’, ‘পারাপার', 'পালাবদল', ‘ঘরে ফেরার দিন’, 'কবিতাবলী', 'উপহার', 'দূরযানী’, ‘হারানো অর্কিড', ‘পুষ্পিত ইমেজ', 'অমরাবতী', 'অনিঃশেষ' ইত্যাদি তাঁর কাব্য ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
জসীমউদ্দীন এর কাব্য গ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. 'মাটির কান্না'
  2. 'পাখির বাসা'
  3. 'বালুচর
  4. সুচয়নী'
ব্যাখ্যা

জসীমউদ্দীন এর কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম : 'রাখালী', 'নকশী কাঁথার মাঠ', 'বালুচর', ‘ধানখেত', 'সোজন

বাদিয়ার ঘাট', 'মাটির কান্না', 'হাসু', 'রঙিলা নায়ের মাঝি', 'এক পয়সার বাঁশি',

যে জননী কান্দে', 'সুচয়নী' ইত্যাদি। 

ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম :

‘সাত সাগরের মাঝি', 'সিরাজাম মুনীরা', 'হাতেম তায়ী', 'নৌফেল ও হাতেম',

'মুহূর্তের কবিতা', 'পাখির বাসা', 'হরফের ছড়া' ইত্যাদি। 


উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
বুদ্ধদেব বসু'র উপন্যাস কোনটি? 
  1. রেখাচিত্র'
  2. মৌলিনাথ'
  3. 'হাওয়া বদল'
  4. একটি জীবন ও কয়েকটি মৃত্যু'
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু'র উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হল :
উপন্যাস : 'সাড়া', 'সানন্দা', 'লাল মেঘ’, ‘পরিক্রমা', ‘কালো হাওয়া', 'তিথিডোর', 'নির্জন স্বাক্ষর', ‘মৌলিনাথ', নীলাঞ্জনের খাতা’, ‘পাতাল থেকে আলাপ', 'রাতভর বৃষ্টি', 'গোলাপ কেন কালো’, ‘বিপন্ন বিস্ময়', ‘রুক্‌মি' প্রভৃতি।

গল্প : 'অভিনয়’, 'অভিনয় নয়’, ‘রেখাচিত্র', 'হাওয়া বদল', 'শ্রেষ্ঠ গল্প',

একটি জীবন ও কয়েকটি মৃত্যু', ‘হৃদয়ের জাগরণ', ‘ভালো আমার ভেলা’, ‘প্রেমপত্র' ইত্যাদি ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
বুদ্ধদেব বসু'র গল্পগ্রন্থ কোনটি? 
  1. 'লাল মেঘ’
  2. 'তিথিডোর'
  3. 'নির্জন স্বাক্ষর'
  4. 'ঘরেতে ভ্রমর এল'
ব্যাখ্যা

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হল : উপন্যাস : 'সাড়া', 'সানন্দা', 'লাল মেঘ’, পরিক্রমা', ‘কালো হাওয়া', 'তিথিডোর', 'নির্জন স্বাক্ষর', ‘মৌলিনাথ', নীলাঞ্জনের খাতা’, ‘পাতাল থেকে আলাপ', 'রাতভর বৃষ্টি', 'গোলাপ কেন কালো’, ‘বিপন্ন বিস্ময়', ‘রুক্‌মি' প্রভৃতি।

গল্পগ্রন্থঃ 'অভিনয়', 'অভিনয় নয় ও অন্যান্য গল্প', 'এরা ওরা এবং আরও অনেকে', 'অসামান্য মেয়ে', ঘরেতে ভ্রমর এল', 'নতুন নেশা', 'খাতার শেষ পাতা' ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১০.
 বুদ্ধদেব বসু'র উপন্যাস নয় কোনটি? 
  1. ‘একটি জীবন ও কয়েকটি মৃত্যু'
  2. ‘কালো হাওয়া'
  3. রডোড্রেনড্রন গুচ্ছ'
  4. শেষ পাণ্ডুলিপি'
ব্যাখ্যা

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলঃ 

গল্প : 'অভিনয়’, 'অভিনয় নয়’, ‘রেখাচিত্র', 'হাওয়া বদল', 'শ্রেষ্ঠ গল্প',

‘একটি জীবন ও কয়েকটি মৃত্যু', ‘হৃদয়ের জাগরণ', ‘ভালো আমার ভেলা’, ‘প্রেমপত্র' ইত্যাদি ।


 উপন্যাস : 'সাড়া', 'সানন্দা', 'লাল মেঘ’, ‘পরিক্রমা', ‘কালো হাওয়া', 'তিথিডোর', 'নির্জন স্বাক্ষর', ‘মৌলিনাথ', নীলাঞ্জনের খাতা’, ‘পাতাল থেকে আলাপ', 'রাতভর বৃষ্টি', 'গোলাপ কেন কালো’, ‘বিপন্ন বিস্ময়', ‘রুক্‌মি' প্রভৃতি।


 'অকর্মণ্য', 'রডোড্রেনড্রন গুচ্ছ', 'যেদিন ফুটল কমল' প্রভৃতি উপন্যাসে বুদ্ধদেব বসু কাব্যপ্রবণতার পরিচয় দিয়েছেন।

'তিথিডোর', 'নির্জন স্বাক্ষর', ‘শেষ পাণ্ডুলিপি' ইত্যাদি উপন্যাস নতুন জীবন-সমীক্ষা-রীতির পরিচয়বাহী।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১১.
‘পুষ্পিত ইমেজ’ কাব্যেগ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3.  অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-৮৬) আধুনিক কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জটিল ও দ্বিধাবিভক্ত কবিমানসের অধিকারী। ‘খসড়া', 'এক মুঠো', 'মাটির দেয়াল', ‘অভিজ্ঞান বসন্ত’, ‘পারাপার’, ‘পালাবদল', ‘ঘরে ফেরার দিন', 'কবিতাবলী', 'উপহার', 'দূরযানী’, ‘হারানো অর্কিড’, ‘পুষ্পিত ইমেজ’, ‘অমরাবতী', ‘অনিঃশেষ' ইত্যাদি তাঁর কাব্য।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।  

১২.
নিচের কোনটি প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. কুলায় ও কালপুরুষ
  2. তন্বী
  3. অর্কেস্ট্রা
  4. উত্তর ফাল্গুনী
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি। সেগুলো হল : তন্বী (১৯৩০), অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), ক্রন্দসী (১৯৩৭), উত্তর ফাল্গুনী (১৯৪০), সংবর্ত (১৯৫৩), দশমী (১৯৫৬)।

তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে—স্বগত (১৯৩৮), কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৩.
‘দ্রৌপদীর শাড়ি' কাব্যেগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3.  অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু হিসেবে খ্যাতিমান ছিলেন। ‘বন্দীর বন্দনা', ‘পৃথিবীর পথে’, ‘কঙ্কাবতী’, ‘দময়ন্তী’, ‘দ্রৌপদীর শাড়ি’, ‘শীতের প্রার্থনা : বসন্তের উত্তর', 'যে-আঁধার আলোর অধিক', ‘মর্মবাণী', ‘মরচে পড়া পেরেকের গান', 'একদিন চিরদিন', ‘স্বাগত বিদায়' ইত্যাদি তাঁর কাব্যগ্রন্থ। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৪.
'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ' কাব্যেগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3.  অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে ‘উর্বশী ও আর্টেমিস', 'চোরাবালি', ‘পূর্বমেঘ', ‘সন্দ্বীপের চর’, ‘অন্বিষ্ট’, ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার', 'সাত ভাই চম্পা', 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ', ‘স্মৃতিসত্তা ভবিষ্যৎ’, ‘সেই অন্ধকার চাই', ‘ইতিহাসের ট্র্যাজিক উল্লাসে', ‘রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশে’, ‘দিবানিশা’, ‘চিত্ররূপমত্ত পৃথিবীর’, ‘উত্তরে থাকো মৌন’, ‘আমার হৃদয়ে বাঁচো' প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা। তিনি সমাজ সচেতন কবি এবং চিন্তায় মার্কসপন্থী ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৫.
রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রথম মুদ্রিত কাহিনিকাব্য কোনটি? 
  1. 'সন্ধ্যাসঙ্গীত'
  2. 'পৃথিরাজ পরাজয়'
  3. 'হিন্দু মেলার উপহার'
  4. 'বনফুল'
ব্যাখ্যা

'সন্ধ্যাসঙ্গীত' (১৮৮২) কাব্যগ্রন্থ থেকে রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাধনার প্রকৃষ্ট নিদর্শন ফুটে উঠেছিল। অবশ্য এই কাব্যের পূর্ববর্তী সময়ের কিছু কিছু নিদর্শন থাকলেও সেগুলোকে রবীন্দ্রনাথ নিজেই গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে বিবেচনা করেন নি। প্রাচীনতম রবীন্দ্র পদ্য রচিত হয়েছিল সাত-আট বছর বয়সে। তা ‘করুণাময়ী বিলুপ্তি দেবী' গ্রাস করেছিল। বার বছর পূর্ণ হওয়ার মুখে লেখা 'পৃথিরাজ পরাজয়' কাব্যটিরও একই অবস্থা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের স্বনামাঙ্কিত প্রথম মুদ্রিত কবিতা 'হিন্দু মেলার উপহার' ১৮৭৫ সালে হিন্দু মেলায় পঠিত এবং ২৫শে ফেব্রুয়ারি তারিখের দ্বিভাষিক ‘অমৃতবাজার পত্রিকায়' প্রকাশিত হয়। কবির লেখা প্রথম মুদ্রিত কাহিনিকাব্য 'বনফুল'।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৬.
মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই ।

পঙক্তি কোন গ্রন্থের?
  1. 'প্রভাত- সঙ্গীতের'
  2. 'ভগ্নহৃদয়'
  3. 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী'
  4. 'কড়ি ও কোমল'
ব্যাখ্যা

কবির লেখা প্রথম মুদ্রিত কাহিনিকাব্য 'বনফুল'। তারপর ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত হয় গীতিকাব্য সংকলন 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী', গাথাকাব্য 'ভগ্নহৃদয়', গীতিনাট্য 'বাল্মীকি প্রতিভা' ও ‘কালমৃগয়া’ এবং নাটক 'রুদ্রচণ্ড'।  এসবই কবির অপরিণত রচনা এবং কুড়ি-একুশ বছরের বয়ঃসীমায় রচিত।

'প্রভাত- সঙ্গীতের' ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটিতে কবি প্রতিভার প্রথম নিদ্রাভঙ্গ। 

'কড়ি ও কোমল' কাব্যে জগৎ ও জীবনের প্রতি কবি নিবিড় আকর্ষণের পরিচয়

দিলেন :

মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,

মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৭.
‘নিষ্ফল কামনা' কবিতা কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. 'চিত্রা',
  2. 'সোনার তরী'
  3.  ‘মানসী'
  4. 'কড়ি ও কোমল'
ব্যাখ্যা

মানসী' কাব্যের ‘নিষ্ফল কামনা' কবিতায় :

ক্ষুধা মিটাবার খাদ্য নহে যে মানব,

কেহ নহে তোমার আমার ।

অতি সযতনে

অতি সংগোপনে,

সুখে দুঃখে, নিশীথে দিবসে,

বিপদে সম্পদে,

জীবনে মরণে,

শত ঋতু-আবর্তনে।

............................................

ভালোবাসো, প্রেমে হও বলী

চেয়ো না তাহারে ।

আকাঙ্ক্ষার ধন নহে আত্মা মানবের !

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৮.
'স্বর্গ হইতে বিদায়'   কবিতা কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. 'চিত্রা'
  2. 'সোনার তরী'
  3.  ‘মানসী'
  4. 'কড়ি ও কোমল'
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথের মর্ত্যপ্রীতির বৈশিষ্ট্য 'চিত্রা' কাব্যের 'স্বর্গ হইতে বিদায়' কবিতায় :

স্বর্গে তব বহুক অমৃত,

মর্ত্যে থাক্ সুখে-দুখে-অনন্ত-মিশ্রিত 

প্রেমধারা অশ্রুজলে চিরশ্যাম করি

ভূতলের স্বর্গ খণ্ডগুলি ।

“চিত্রা'য় জীবনদেবতার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে রবীন্দ্রনাথ কবিহৃদয়ের বিচিত্র পরিচয়

দান করেছেন। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৯.
'বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়।' কোন কাব্যের কবিতার অংশবিশেষ? 
  1. নৈবেদ্য'
  2. খেয়া'
  3. 'গীতাঞ্জলি'
  4. 'গীতালি'
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথের মুক্তি সংসার পরিত্যাগ করে নয় বলে 'নৈবেদ্য' কাব্যের 'মুক্তি' কবিতায় কবি বলেছেন, 'বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়।' নৈবেদ্য কাব্যের কবিতার মধ্যে অধ্যাত্ম-জীবনের জন্য কবির প্রবল আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠেছিল। তিনি ভগবদুপলব্ধির জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। কবিকে সত্যে দৃঢ়প্রতিষ্ঠ, দুঃখে-দৈন্যে অবিচলিত, ন্যায়ে কর্তব্যে কঠোর করার জন্য কবি স্রষ্টার উদ্দেশ্যে নিজেকে নিবেদন করেছেন। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

২০.
কোন কাব্যে কবি  'প্রথম মহাযুদ্ধের ভাবালোড়ন, এর জীবন সমীক্ষার নতুন প্রেরণা, এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিবেশে মানবমনের দুরূহতর প্রয়াস ও আদর্শনিষ্ঠার কথা গভীরভাবে অনুভব করেছেন'?
  1. 'পূরবী'
  2. 'মহুয়া
  3. 'বলাকা'
  4. 'নৈবেদ্য'
ব্যাখ্যা

'বলাকা' কাব্যে কবি প্রথম মহাযুদ্ধের ভাবালোড়ন, এর জীবন সমীক্ষার নতুন প্রেরণা, এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিবেশে মানবমনের দুরূহতর প্রয়াস ও আদর্শনিষ্ঠার কথা গভীরভাবে অনুভব করেছেন এবং তাঁর ছন্দরীতির পরিবর্তনে এই ভাবান্তর প্রতিবিম্বিত হয়েছে। এ কাব্যে কবি গতিবাদের কথা ব্যক্ত করেছেন। কবি উপলব্ধি করেছেন, সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নিরন্তর পরিবর্তনের স্রোত বয়ে চলেছে। এই গতিই সৃষ্টির মর্মবাণী। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

২১.
গদ্যছন্দে' লেখা রবীন্দ্রনাথের কাব্য নয় কোনটি? 
  1. পুনশ্চ
  2. শ্যামলী 
  3. মহুয়া
  4. পত্রপুট
ব্যাখ্যা

পঞ্চম পর্ব কবির গদ্যছন্দে রচিত কাব্যগুলোর সমন্বয়ে গঠিত। কবি এই পর্যায়ে কাব্যের অন্ত্যমিলের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য উপেক্ষা করে গদ্যছন্দে কবি কাব্য রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ 'লিপিকা' গদ্যগ্রন্থে এই জাতীয় নতুন ছন্দের পরীক্ষাকার্য চালিয়েছিলেন এবং পরবর্তী কাব্য 'পুনশ্চ', ‘শেষ সপ্তক', 'পত্রপুট' ও 'শ্যামলী'—এই চারটি গ্রন্থে এই ছন্দে রচিত কবিতা বিধৃত। বাংলা ছন্দের মুক্তি সাধনার্থে রবীন্দ্রনাথ যে সব ছন্দের সৃষ্টি করেছিলেন তার মধ্যে এই শ্রেণির গদ্যছন্দ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে । 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

২২.
কোনটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য নয়? 
  1. 'আকাশ প্রদীপ'
  2. সেঁজুতি’
  3. 'জন্মদিনে'
  4. 'লিপিকা'
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ 'লিপিকা' গদ্যগ্রন্থে গদ্যছন্দের পরীক্ষাকার্য চালিয়েছিলেন এবং পরবর্তী কাব্য 'পুনশ্চ', ‘শেষ সপ্তক', 'পত্রপুট' ও 'শ্যামলী'—এই চারটি গ্রন্থে এই ছন্দে রচিত কবিতা বিধৃত। 

কবির পরবর্তী কাব্যগুলো শেষ পর্বের নিদর্শন। 'প্রান্তিক', 'আকাশ প্রদীপ', ‘সেঁজুতি’, ‘নবজাতক', 'সানাই', ‘রোগশয্যায়', 'আরোগ্য', 'জন্মদিনে' প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ এই শ্রেণিভুক্ত। এদের কতকগুলোর মধ্যে শৈথিল্যপূর্ণ কবিকল্পনা সহজ সরল ছন্দ সহকারে প্রকাশ পেয়েছে।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 


২৩.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা?
  1. রবীন্দ্রনাথ
  2. বিদ্যাপতি
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. বিহারীলাল
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল চক্রবর্তী।

বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। তাই তাঁকে ‘ভোরের পাখি' বলা হয়েছে। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম ‘স্বপ্নদর্শন' (১৮৫৮), 'সঙ্গীত শতক' (১৮৬২), ‘বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০), ‘নিসর্গ সন্দর্শন' (১৮৭০), 'বন্ধু বিয়োগ’ (১৮৭০), ‘প্রেম প্রবাহিণী' (১৮৭০) ও ‘সারদা মঙ্গল' (১৮৭৯)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৪.
‘সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন' কোন কাব্যের অংশবিশেষ? 
  1. ‘সারদা মঙ্গল'
  2. ‘স্বপ্নদর্শন'
  3. বঙ্গসুন্দরী'
  4. নিসর্গ সন্দর্শন'
ব্যাখ্যা

বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন : ‘সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন / চারিদিকে ঝালাপালা / উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা / অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।' 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৫.
বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1.  ‘সারদা মঙ্গল'
  2. 'সাধের আসন'
  3. ‘স্বপ্নদর্শন'
  4. বঙ্গসুন্দরী'
ব্যাখ্যা

বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন : ‘সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন / চারিদিকে ঝালাপালা / উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা / অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।'

রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন : ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।'

গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরবালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৬.
বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1.  ‘সারদা মঙ্গল'
  2. 'সাধের আসন'
  3. ‘স্বপ্নদর্শন'
  4. বঙ্গসুন্দরী'
ব্যাখ্যা

বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত। এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত। কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়। 'সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান। শেলির মতো বিহরীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৭.
বিহারীলালের শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1.  ‘সারদা মঙ্গল'
  2. 'সাধের আসন'
  3. ‘স্বপ্নদর্শন'
  4. বঙ্গসুন্দরী'
ব্যাখ্যা

 বিহারীলালের শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধেরআসন'কে (১৮৮৯) ‘সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়। কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল' কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে উপহার দিয়েছেন। সেখানে ওই নারী কবিকে প্রশ্ন করেছেন, তুমি কাকে ধ্যান কর? এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন' লিখেছেন। শুরুই করেছেন এভাবে : ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানি নে / কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।' এ কাব্যের সূচনাতে কবির রোম্যান্টিক মনোবৃত্তি প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু কাব্যের শেষে তা মিস্টিসিজমে রূপান্তরিত। উপসংহার ছাড়া ‘সাধের আসন' কাব্য দশ সর্গ বিশিষ্ট। এর প্রথম সর্গ মাধুরী, দ্বিতীয় সর্গ গোধূলি ও নিশীথে, তৃতীয় সর্গ প্রভাত ও যোগেন্দ্রবালা, চতুর্থ সর্গ নন্দনকানন, পঞ্চম সর্গ অমরাবতীর প্রবেশ পথ, ষষ্ঠ সর্গ তুমি, সপ্তম সর্গ মায়া, অষ্টম সর্গ শশিকলা, নবম সর্গ আসনদাত্রী, সমকালীন সমস্যাবলি ততোটা প্রাধান্য পায় নি। কিন্তু কবিতার চরণে ছন্দে ঢেউ তুলেছে নূপুর-নিক্বণ। মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রকৃতির রস পান করেছেন যেভাবে, সেই-মুগ্ধতার প্রকাশ ঘটেছে তার কবিতায়। নগরবাসের অভিজ্ঞতা কঠিন আবরণে আচ্ছন্ন করতে পারে নি তাঁর সলজ্জ সরস মানসভূমিকে ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৮.
ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যা আজও বের হয়। তিনি কে? 
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3.  অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু জগন্নাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি ‘বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যা আজও বের হয়। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৯.
হুমায়ুন কবিরের সাথে বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা?
  1. বাসন্তিকা
  2. প্রগতি
  3. কবিতা
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ'। 

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম ‘প্রগতি' (১৯২৭-২৯) ও ‘কবিতা’ (১৩৪২-৪৭)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩০.
কোনটি বুদ্ধদেব বসুর কবিতাগ্রন্থ নয়?
  1. 'সতীর্থ'
  2. ‘মর্মবাণী'
  3. কঙ্কাবতী'
  4. দময়ন্তী’
ব্যাখ্যা

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থের নাম ‘মর্মবাণী' (১৯২৫), 'বন্দীর বন্দনা'(১৯৩০), ‘কঙ্কাবতী' (১৯৩৭), ‘দময়ন্তী’ (১৯৪৩), ‘যে আঁধার আলোর অধিক (১৯৫৮), ‘মরচেপড়া পেরেকের গান।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো ‘মাল্যবান' (১৯৭৩), 'সতীর্থ' (১৯৭৪)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩১.
রবীন্দ্রনাথ কোন কবিতাগ্রন্থ পাঠ করে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ লিখেছিলেন?
  1. ঝরাপালক
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. বনলতা সেন
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’। কবিতাগ্রন্থ পাঠ করে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ লিখেছিলেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩২.
বনলতা সেন কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৮
  2. ১৯৩৬
  3. ১৯৪২
  4. ১৯৪৪
ব্যাখ্যা

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো ‘ঝরাপালক' (১৯২৮), ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’(১৯৩৬), ‘বনলতা সেন' (১৯৪২), ‘মহাপৃথিবী' (১৯৪৪), 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮), 'রূপসী বাংলা' (১৯৫৭) ও ‘বেলা অবেলা কালবেলা" (১৯৬১)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৩.
'হায় চিল' কবিতার উপর কোন কবির কাব্য প্রভাব রয়েছে?
  1. এডগার এলেন পো
  2. ইয়েটস
  3. বোদলেয়ার
  4. উপরের কেউই নয়
ব্যাখ্যা

‘হায় চিল’ ‘মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত। এই কবিতার সঙ্গে ইয়েটস-এর ‘He reproves the curlow' কবিতার মিল আছে ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৪.
‘সেই দিন এই মাঠ' কবিতাটি কোনকাব্যগ্রন্থভুক্ত?
  1. রূপসী বাংলা
  2. ঝরাপালক
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

‘সেই দিন এই মাঠ' জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রথম কবিতা। ‘রূপসী বাংলা' প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর

পর, ১৯৫৭ সালে । গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় ‘আবহমান বাংলা, বাঙালী'কে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৫.
জীবনান্দের প্রথম প্রকাশিত কাব্য 'ঝরাপালক' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬
  2. ১৯২৭
  3. ১৯২৮
  4. ১৯২৯
ব্যাখ্যা

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো ‘ঝরাপালক' (১৯২৭), ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’(১৯৩৬), ‘বনলতা সেন' (১৯৪২), ‘মহাপৃথিবী' (১৯৪৪), 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮), 'রূপসী বাংলা' (১৯৫৭) ও ‘বেলা অবেলা কালবেলা" (১৯৬১)।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় - ১৯২৭ সালে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৬.
‘সুচেতনা’  কবিতাটি কোন  কাব্যগ্রন্থ ভুক্ত? 
  1. ‘মহাপৃথিবী'
  2. সাতটি তারার তিমির
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

‘সুচেতনা' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন' (১৯৪২) কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৭.
বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ধূসরতার কবি
  2. তিমিরহননের কবি
  3. নির্জনতম কবি
  4. রূপসী বাংলার কবি
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম কবি বলে আখ্যায়িত করেছেন ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৮.
‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন; / মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।' কোন কবিতার অংশ?
  1. বোধ
  2. সেই দিন এই মাঠ
  3. আট বছর আগের একদিন
  4. সুচেতনা
ব্যাখ্যা

‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন; /

মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।'  সুচেতনা' কবিতার অংশ।



কবি জীবনানন্দ দাশ সমকালীন অবক্ষয় আর অমানবিকতা দেখে খুবই হতাশা

নিয়ে বলেছেন, এ সবই সাময়িক। মানুষের যেমন অসুখ হয় তেমনি

পৃথিবীরও অসুখ হয়েছে। কিন্তু এটাই

শেষ সত্য নয়। পৃথিবী অসুখ সেরে

একদিন সুন্দরতর হয়ে উঠবে। আর

তাতে মানুষও সুখী হবে। কারণ, এই

পৃথিবীর আলো-বাতাস-প্রকৃতির কাছে মানুষ ঋণী। একে রক্ষা করতেও মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। পরমআশাবাদের কথা ধ্বনিত হয়েছে এই কাব্যপঙ্ক্তিতে ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৯.
কবর' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. কবিতা
  2. কালি ও কলম
  3. প্রবাসী
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

কবর কবিতাটি প্রথম ‘কল্লোল' পত্রিকায় পত্রিকায় ছাপা

হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪০.
‘কবর'  কবিতা কোন কাব্যভুক্ত ?
  1. ‘নক্সীকাঁথার মাঠ'
  2. 'মা যে জননীকান্দে'

  3. ‘রাখালী'
  4. বালুচর'
ব্যাখ্যা

‘কবর' তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) কাব্যভুক্ত কবিতা ।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলনগুলো ‘রাখালী' (১৯২৭), ‘বালুচর' (১৯৩০),‘ধানক্ষেত’(১৯৩৩), রূপবতী' (১৯৪৬), 'মাটির কান্না' (১৯৫৮) ও সুচয়নী' (১৯৬১)।

তাঁর বিখ্যাত গাথাকাব্যগুলো  ‘নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯), ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট' (১৯৩৪), ‘মা যে জননী কান্দে' (১৯৬৩) ইত্যাদি ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪১.
‘প্রতিদান'  কবিতা কোন কাব্যভুক্ত ?
  1. রাখালী
  2. ‘বালুচর
  3. ধানক্ষেত
  4. মাটির কান্না'
ব্যাখ্যা

‘‘প্রতিদান' ' তাঁর কাব্যগ্রন্থ বালুচর' (১৯৩০) কাব্যভুক্ত কবিতা ।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলনগুলো ‘রাখালী' (১৯২৭), ‘বালুচর' (১৯৩০),‘ধানক্ষেত’(১৯৩৩), রূপবতী' (১৯৪৬), 'মাটির কান্না' (১৯৫৮) ও সুচয়নী' (১৯৬১)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪২.
জসীমউদ্দীন রচিত গানের সংকলন কোনটি?
  1. ডালিম কুমার 
  2. রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
  3. পল্লীবধু
  4. বোবা কাহিনি
ব্যাখ্যা

জসীমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নাম ‘রঙ্গিলা নায়ের মাঝি' (১৯৩৫), ‘গাঙ্গের পাড়' (১৯৬৪), ‘জারিগান' (১৯৬৮)ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো 'হাসু' (১৯৩৮), 'এক পয়সার বাঁশী' (১৩৫৬), 'ডালিমকুমার' (১৯৫১) ।

তাঁর রচিত নাটকগুলো  'পদ্মাপাড়' (১৯৫০), 'বেদের মেয়ে'(১৯৫১), 'মধুমালা' (১৯৫১), 'পল্লীবধু’(১৯৫৬), ‘গ্রামের মায়া' ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাসের নাম 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।