পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১২ পার্ট-১) বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ শব্দপ্রকরণ (লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ; সংখ্যাবাচক শব্দ; দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব; বচন; পদাশ্রিত নির্দেশক, শব্দের শ্রেণিবিভাগ; শব্দের উৎসমূল; ধাতু, প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ) পার্ট-২) ১) কম্পিউটার পেরিফেরালস: কি-বোর্ড, মাউস, ওসিআর ইত্যাদি। ২) কম্পিউটারের অঙ্গসংগঠন: সিপিইউ, হার্ড ডিস্ক, এএলইউ ইত্যাদি। ৩) কম্পিউটারের পারঙ্গমতা। ৪) দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার: কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা ইত্যাদি। ৫) কম্পিউটারের নম্বর ব্যবস্থা। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
কোনটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ?
  1. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
  2. খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
  3. বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
  4. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
সঠিক উত্তর:
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
ব্যাখ্যা
• ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

-------------------
• সাধারণ অতীত:

অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন:
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
.
প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. বর্গ
  4. সব
সঠিক উত্তর:
সব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব: ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ: গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি: নিয়মাবলি, রচনাবলি
- মালা: মেঘমালা, পর্বতমালা।

অন্যদিকে, 
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', '-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন-
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ। 
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। 
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
'-খানি, -জন, -টুকু' কে বলা হয়-
  1. নির্দেশক
  2. বচন
  3. বিভক্তি
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা নয় কোনটি?
  1. ২য়
  2. উনিশে
  3. পনেরোতম
  4. অষ্টাদশী
সঠিক উত্তর:
উনিশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশে
ব্যাখ্যা
• সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা নয়- উনিশে। 
- তারিখ পূরণবাচক শব্দ- উনিশে (১৯শে)। 

--------------------
• সাধারণ পূরণবাচক:

ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন- ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম), ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম (১৬তম), সপ্তদশ (১৭শ) ও সতেরোতম (১৭তম), অষ্টাদশ (১৮শ) ও আঠারোতম (১৮তম)।

• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়।
যথা:
উনিশতম বা উনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা ঊনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম), নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন:
প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
পত্নীবাচক শব্দযুগল নয় কোনটি?
  1. পাগল-পাগলি
  2. পিতা-মাতা
  3. জেলে-জেলেনি
  4. দাদা-দাদি
সঠিক উত্তর:
পাগল-পাগলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাগল-পাগলি
ব্যাখ্যা
• পত্নীবাচক শব্দযুগল নয়- পাগল-পাগলি। 

--------------
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক: স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন- পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে
• অপত্নীবাচক: স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
সংস্কৃত ধাতুদ্বারা গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কহন
  2. আঁকা
  3. কথিত
  4. করা
সঠিক উত্তর:
কথিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথিত
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে। যেমন- কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতুদ্বারা গঠিত শব্দ-
অক্- অঙ্কন, অঙ্কিত। 
কথ- কথ্য, কথিত। 
কৃৎ- কর্তন, কর্তিত। 
কৃ- কৃত, কর্তব্য। 

-----------------
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু। যেমন কাট্, কাঁদ, জান, নাচ্ ইত্যাদি।

বাংলা ধাতুদ্বারা গঠিত শব্দ-
আঁক্- আঁকা। 
কহ্- কওয়া, কহন। 
কর্- করা, করে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
.
'চশমা' শব্দের উৎসমূল কী?
  1. তুর্কি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'চশমা' ফারসি ভাষার শব্দ। 

• 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. বর্তমান কাল 
  2. ভবিষ্যৎ কাল
  3. অতীত কাল 
  4. নিত্যবিত্ত কাল 
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ কাল
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লাজুক
  2. মুনশিয়ানা
  3. বোমারু
  4. জমকালো
সঠিক উত্তর:
মুনশিয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনশিয়ানা
ব্যাখ্যা
• আনা>আনি (হিন্দি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- মুনশি + আনা - মুনশিয়ানা,
- বিবি + আনা - বিবিআনা,
- হিন্দু + আনি -হিন্দুয়ানি।

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
৮. উক-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে-  লাজ + উক - লাজুক।
১. আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: বোমা + আরু - বোমারু।
১০. আলো-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: জমক + আলো -জমকালো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১০.
বহুবচন শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
  2. বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
  3. মাঝিরা নৌকা চালায়।
  4. সে এলো।
সঠিক উত্তর:
মাঝিরা নৌকা চালায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাঝিরা নৌকা চালায়।
ব্যাখ্যা
• বচন:
বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• একবচন শব্দের উদাহরণ:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
- সে এলো।
- মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

[এখানে প্রথম বাক্যের 'শিক্ষক' শব্দের সঙ্গে কোনো লগ্নক যুক্ত হয়নি। দ্বিতীয় বাক্যে 'বই' শব্দের সঙ্গে যুক্ত 'টা' একটি নির্দেশক। এর সঙ্গেও কোনো বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয়নি।]

• বহুবচন শব্দের উদাহরণ:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

[এখানে প্রথম বাক্যের একবচন 'মাঝি' শব্দের সঙ্গে '-রা' লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন 'মাঝিরা' হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় বাক্যে '-গুলো' লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন 'কলমগুলো' হয়েছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১১.
'-টুকু' নির্দেশকের রূপভেদ কোনটি?
  1. টে
  2. টো
  3. টুক
  4. টকু
সঠিক উত্তর:
টুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুক
ব্যাখ্যা
• -টুকু নির্দেশক:
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে
নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: -টু বা-টুক।
যেমন-
সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১২.
কোনটি বিদেশাগত ধাতু?
  1. ফির্
  2. খাদ্‌
  3. দৃশ্‌
  4. পঠ্‌
সঠিক উত্তর:
ফির্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফির্
ব্যাখ্যা
• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং কৃক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়। যেমন ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মা' থেকে আগত। এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু। যেমন- 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

এখানে কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো:
আঁট, খাট্, চেঁচ্‌, জম্, ঝুল্, টান্‌, টুট্‌, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্।  

অন্যদিকে, 
খাদ্‌, দৃশ্‌, পঠ্‌  সংস্কৃত ধাতু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
১৩.
কোনটি বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. হঠাৎ হঠাৎ
  2. ভালো ভালো
  3. মজার মজার
  4. উড়ু উড়ু
সঠিক উত্তর:
মজার মজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজার মজার
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪.
'দ্বি', 'দু' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক্রমবাচক
  2. সাধারণ পূরণবাচক
  3. তারিখ পূরণবাচক
  4. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
যেমন-
  ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চোদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।

- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।

- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'। 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫.
কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মিশাল
  2. ঢাকাই
  3. পাগলামি
  4. উমেদারি
সঠিক উত্তর:
মিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশাল
ব্যাখ্যা
আল-কৃৎ প্রত্যয়:
- মাত্ + আল = মাতাল,
- মিশ্ + আল = মিশাল।

অন্যদিকে, 
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
• ঢাকা+আই = ঢাকাই। 
• পাগল+আমি = পাগলামি। 
• উমেদার + ই = উমেদারি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৬.
'রাঁধুনি' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. রাঁধু + অনি
  2. রাঁধ্‌ + নি
  3. রাঁধু + ঊনি
  4. রাঁধ্‌ + উনি
সঠিক উত্তর:
রাঁধ্‌ + উনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঁধ্‌ + উনি
ব্যাখ্যা
• রাঁধুনি। 
- এটি তৎসম বা সংস্কৃত।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [√রাঁধ + উনি বা অনি]

অর্থ:
১ পাচক; পাচিকা।
২ যে রান্না বা পাক করে; পাচক; রন্ধনকারী; রান্ধনকারিণী; পাকানি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান
১৭.
'সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. নিত্য অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান: এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• অনুজ্ঞা বর্তমান: যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৮.
'বেদে' এর সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বেদইনি
  2. বেদিনী
  3. বেদেনি
  4. বেদীনি
সঠিক উত্তর:
বেদেনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদেনি
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো:

- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
- ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৯.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. নিকর
  2. দাম
  3. সমূহ
  4. গুচ্ছ
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক-
• কুল- কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
• সকল- পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব- ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ- বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

--------------
অন্যদিকে, 
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ-
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২০.
পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়?
  1. সাধারণ পূরণবাচক
  2. ক্রমবাচক 
  3. তারিখবাচক 
  4. ভগ্নাংশ বাচক 
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ বাচক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ বাচক 
ব্যাখ্যা
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২১.
'মন্ত্রী' শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. মন্ত্রীদেব
  2. মন্ত্রীবর্গ
  3. মন্ত্রীমণ্ডলী
  4. মন্ত্রীপক্ষ
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রীবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রীবর্গ
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', '-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২২.
নিচের কোনটি মৌলিক ধাতু?
  1. বলা
  2. হারা 
  3. দেখা
  4. পড়
সঠিক উত্তর:
পড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পড়
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

অন্যদিকে, 
• সাধিত ধাতু:
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম - শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে। যেমন দেখ্ + আ = দেখা, পড় + আ = পড়া, বল + আ = বলা। সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' দেখায়)।

এরূপ-শোনায়, বসায়, হারা ইত্যাদি।

- গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত: ক. নাম ধাতু, খ. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু, (গ) কর্মবাচ্যের ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
২৩.
কোনটি ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার উদাহরণ?
  1. অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
  2. সকলের মঙ্গল হোক।
  3. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  4. তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
সঠিক উত্তর:
ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

অন্যদিকে, 
• অনুজ্ঞা বর্তমান: 
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।
- আমার কাজটা এখন কর।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২৪.
স্বরের পরিবর্তন ঘটেছে কোন অনুকার দ্বিত্বে?
  1. লুচিফুচি
  2. জোগাড়-জাগাড়
  3. ছাগল-টাগল
  4. এলোমেলো
সঠিক উত্তর:
জোগাড়-জাগাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোগাড়-জাগাড়
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫.
নিচের কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. কিশোরী
  2. যোগিনী
  3. কনে
  4. গুণবতী
সঠিক উত্তর:
কনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনে
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন-
• ভাই-বোন,
• পিতা-মাতা,
• ছেলে-মেয়ে,
• বর-কনে,
• বাদশা-বেগম।

অন্যদিকে, 
• নী প্রত্যয় যোগে: যোগী-যোগিনী। 
• ই প্রত্যয় যোগে: কিশোর-কিশোরী।
• তী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬.
কোনটি তারিখ পূরণবাচক শব্দ?
  1. দ্বাদশী
  2. আঠারোই
  3. ষোড়শ
  4. একাদশ
সঠিক উত্তর:
আঠারোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠারোই
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।

যথা:
পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরোই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে), বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।

অন্যদিকে, 
দ্বাদশী, ষোড়শ ও একাদশ  সাধারণ পূরণবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭.
কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে সিপিইউ কোন অংশে সংযুক্ত থাকে?
  1. RAM স্লট
  2. সকেট
  3. SMPS
  4. গ্রাফিক্স কার্ড স্লট
সঠিক উত্তর:
সকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকেট
ব্যাখ্যা

◉ সকেট হলো মাদারবোর্ডের বিশেষ অংশ যেখানে সিপিইউ (প্রসেসর) সংযুক্ত থাকে। এটি প্রসেসরের ধরন অনুযায়ী ডিজাইন করা হয় (যেমন: Intel-এর LGA বা AMD-এর PGA সকেট)।

মাদারবোর্ড:
- মাদারবোর্ড একটি কম্পিউটারের মূল ও কেন্দ্রীয় অংশ, যা সিস্টেম ইউনিটের ভেতরে সংযুক্ত থাকে।
- এটি সিস্টেমের সমস্ত যন্ত্রাংশের সংযোগ স্থল হিসেবে কাজ করে এবং একে সিস্টেম বোর্ড বা মেইনবোর্ডও বলা হয়।
- কম্পিউটারের প্রধান প্রসেসর বা CPU মাদারবোর্ডেই স্থাপিত থাকে, যা কম্পিউটারের "মস্তিষ্ক" হিসেবে পরিচিত।
- মাদারবোর্ডে কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, হার্ড ড্রাইভ, ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভ, পেনড্রাইভ ইত্যাদি সংযুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পোর্ট ও সংযোগ ব্যবস্থা থাকে।
- কম্পিউটারের প্রতিটি যন্ত্রাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে, যা মাদারবোর্ডকে কেন্দ্রীয় সার্কিট বোর্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
- বর্তমানে বাজারে Intel, GIGABYTE, ASUS, MSI ইত্যাদি ব্র্যান্ডের মাদারবোর্ড জনপ্রিয়।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
2 বিটে সর্বোচ্চ কতটি ভিন্ন সংখ্যা প্রকাশ করা যায়?
  1. 2
  2. 3
  3. 4
  4. 8
সঠিক উত্তর:
4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4
ব্যাখ্যা

◉ বিট (Bit) হল বাইনারি ডিজিট (0 বা 1)।
2 বিট দিয়ে তৈরি সম্ভাব্য সংখ্যা: 
00 (দশমিকে 0)
01 (দশমিকে 1)
10 (দশমিকে 2)
11 (দশমিকে 3)

মোট 4টি ভিন্ন সংখ্যা (0 থেকে 3 পর্যন্ত) প্রকাশ করা যায়।

বিট ও বাইট:
- ১ বাইট =৮ বিট।
- বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে ০ অথবা ১ অংককে বিট বলে।
- বিট ডেটা কমিউনিকেশনের মৌলিক একক।
- ডেটা ও তথ্য পরিমাপের জন্য বিট একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ১ কিলোবিট = ১০০০ বিট।
- ১ মেগাবিট = ১০০০ কিলোবিট।
- ১ গিগাবিট = ১০০০ মেগাবিট।
- ১ টেরাবিট = ১০০০ গিগাবিট।
- ৮ টি বিট নিয়ে ১ টি বাইট গঠিত হয়।
- ১ কিলোবাইট = ১০২৪ বাইট।
- ১ মেগাবাইট = ১০২৪ কিলোবাইট।
- ১ গিগাবাইট = ১০২৪ মেগাবাইট।
- ১ টেরাবাইট = ১০২৪ গিগাবাইট।
- ১ পেটাবাইট = ১০২৪ টেরাবাইট।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবর রহমান)।

২৯.
শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি হচ্ছে-
  1. কণ্ঠস্বর যাচাইকরণ
  2. হাতে করা স্বাক্ষর যাচাইকরণ
  3. কিবোর্ড টাইপিং গতি যাচাইকরণ
  4. ডিএনএ পর্যবেক্ষণ
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ পর্যবেক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ পর্যবেক্ষণ
ব্যাখ্যা

◉ সঠিক উত্তর খ) ডিএনএ পর্যবেক্ষণ, কারণ এটি সরাসরি জৈবিক ও অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে।

• বায়োমেট্রিক্স:
- গ্রীক শব্দ metron অর্থ পরিমাপ এবং "bio" অর্থ জীবন, এ দু'টি শব্দ থেকে Biometrics শব্দের উৎপত্তি।
- বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কোন ব্যক্তির দেহের গঠন এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা সনাক্ত করা যায়।
- কম্পিউটার বিজ্ঞানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিকে ব্যক্তি সনাক্তকরণ এবং কোন সিস্টেমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- দেহের গঠন এবং আচরণগহত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যথা:

১. শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি:
- আঙ্গুলের ছাপ শনাক্তকরণ,
- হাতের রেখা শনাক্তকরণ,
- আইরিশ শনাক্তকরণ,
- মুখমন্ডলের অবয়ব শনাক্তকরণ,
- ডিএনএ পর্যবেক্ষণ।

২. আচরণগত বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি:
- কিবোর্ড টাইপিং গতি যাচাইকরণ,
- হাতে করা স্বাক্ষর যাচাইকরণ,
- কণ্ঠস্বর যাচাইকরণ।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

৩০.
কম্পিউটারের কর্মদক্ষতা ও গতি প্রধানত কোন উপাদানের দ্বারা প্রভাবিত হয়?
  1. এএলইউ
  2. সিপিইউ
  3. রেজিস্টার 
  4. মেমরি 
সঠিক উত্তর:
সিপিইউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপিইউ
ব্যাখ্যা

◉ কম্পিউটারের গতি ও কর্মদক্ষতা নির্ভর করে সিপিইউ (Central Processing Unit)-এর ওপর, কারণ এটি সমগ্র সিস্টেমের "মস্তিষ্ক" হিসেবে কাজ করে। সিপিইউ-এর ডিজাইন, ক্লক স্পিড, কোর সংখ্যা এবং ক্যাশে মেমরি সরাসরি প্রসেসিং গতিকে প্রভাবিত করে।

সিপিইউ (CPU - Central Processing Unit):
- কম্পিউটার ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য ও নির্দেশের ভিত্তিতে ডেটাকে প্রক্রিয়াজাত করে ফলাফল বা আউটপুট প্রদান করে থাকে।
- প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদন করার জন্য কম্পিউটারের ভেতর থাকে প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট।
- কম্পিউটারের যে অংশ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করে তাকে সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউ বলে।
- সিপিইউ কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইনস্বরূপ।
- কম্পিউটারের কাজ করার গতি ও ক্ষমতা প্রধানত সিপিইউ-এর ওপর নির্ভরশীল।

সিপিইউ নিম্নলিখিত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
১. গাণিতিক যুক্তি অংশ (Arithmetic Logic Unit),
২. নিয়ন্ত্রণ অংশ (Control Unit) ও
৩. স্মৃতি অংশ (Memory Unit)।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
অক্টাল সংখ্যা (5535)8 কে হেক্সাডেসিমাল সংখ্যায় রূপান্তর করলে পাওয়া যায় - 
  1. A6D
  2. B5D
  3. C5E
  4. D4A
সঠিক উত্তর:
B5D
উত্তর
সঠিক উত্তর:
B5D
ব্যাখ্যা

◉ অক্টাল সংখ্যা (5535)8 কে হেক্সাডেসিমাল সংখ্যায় রূপান্তর করলে পাওয়া যায় - B5D.

অক্টাল (৮-ভিত্তিক) সংখ্যা (5535)₈ কে হেক্সাডেসিমাল (১৬-ভিত্তিক) সংখ্যায় রূপান্তর করতে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করা হলো:

ধাপ ১: অক্টাল থেকে বাইনারি (২-ভিত্তিক) রূপান্তর
প্রতিটি অক্টাল ডিজিটকে ৩-বিট বাইনারিতে রূপান্তর করা হয়:
5 → 101
5 → 101
3 → 011
5 → 101

সুতরাং, (5535)8 = (101 101 011 101)2

ধাপ ২: বাইনারি থেকে হেক্সাডেসিমাল রূপান্তর
বাইনারি সংখ্যাকে ডান থেকে শুরু করে ৪-বিটের গ্রুপে ভাগ করে হেক্সাডেসিমালে রূপান্তর:
1011 0101 1101

প্রতিটি গ্রুপের হেক্সাডেসিমাল মান:
1011 → B
0101 → 5
1101 → D

সুতরাং, (101101011101)2 = (B5D)16

৩২.
মাইক্রোপ্রসেসর এবং প্রধান স্মৃতি (RAM/ROM) এর মধ্যে ব্যবহৃত মেমরিকে কী বলা হয়?
  1. রম (ROM)
  2. র‍্যাম (RAM)
  3. ক্যাশ মেমরি (Cache Memory)
  4. হার্ড ডিস্ক (Hard Disk)
সঠিক উত্তর:
ক্যাশ মেমরি (Cache Memory)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাশ মেমরি (Cache Memory)
ব্যাখ্যা

◉ মাইক্রোপ্রসেসর (CPU) এবং প্রধান স্মৃতি (RAM/ROM) এর মধ্যবর্তী অস্থায়ী ডেটা স্টোরেজ হিসেবে ক্যাশ মেমরি ব্যবহৃত হয়। 

ক্যাশ মেমরি (Cache Memory):
- এটি এক ধরনের বিশেষ উচ্চগতির মেমরিব্যবস্থা।
- মাইক্রোপ্রসেসর ও প্রধান স্মৃতির মাঝে অতি উচ্চগতির এবং কম ধারণক্ষমতাসম্পন্ন যে মেমরি ব্যবহার করা হয় তাকে ক্যাশ মেমরি বলা হয়।
- কম্পিউটারের ডেটা স্থানান্তরের গতি বৃদ্ধি তথা মাইক্রোপ্রসেসরের প্রক্রিয়াকরণের গতি বৃদ্ধির জন্য ক্যাশ মেমরি ব্যবহৃত হয়।
- এটি এক ধরনের স্ট্যাটিক স্মৃতি, যা উচ্চগতি সম্পূর্ণ ও তুলনামূলক দামি মেমরি। যেসব নির্দেশ ও ডেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদেরকে ক্যাশ মেমরিতে রাখা হয়। - এর ধারণক্ষমতা ২৫৬ কিলোবাইট হতে কয়েক মেগাবাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- এ ধরনের পদ্ধতিতে সিপিইউয়ের কোনো নির্দেশ প্রয়োজন হলে প্রথমে ক্যাশ মেমরি পরীক্ষা করে, সেখানে না পেলে পরে প্রধান মেমরিতে খোঁজ করে। সেখানেও না পেলে সহায়ক মেমরিতে খোঁজ করে।
- ক্যাশ মেমরি SRAM (Static RAM) দিয়ে তৈরি, যা DRAM (RAM-এ ব্যবহৃত) এর চেয়ে দ্রুত কিন্তু ব্যয়বহুল।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
মেমোরি এবং ALU (Arithmetic Logic Unit)-এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কোনটি?
  1. র‍্যাম
  2. কী-বোর্ড
  3. মাউস
  4. কন্ট্রোল ইউনিট
সঠিক উত্তর:
কন্ট্রোল ইউনিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্ট্রোল ইউনিট
ব্যাখ্যা

◉ কন্ট্রোল ইউনিট (Control Unit) হলো সিপিইউ'র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা মেমোরি এবং ALU (Arithmetic Logic Unit)-এর মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করে। এটি মূলত কম্পিউটারের সমস্ত অপারেশনকে সমন্বিত করে এবং নির্দেশনা নির্বাহের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে।

নিয়ন্ত্রণ অংশ (Control Unit):
- কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট কম্পিউটারের সকল অংশকে নিয়ন্ত্রণের ও পরিচালনার কাজে নিয়োজিত থাকে।
- এটি কম্পিউটারের প্রতিটি নির্দেশ পরীক্ষা করে এবং কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংকেত তৈরি করে।
- মেমরিতে তথ্যের প্রয়োজনীয়তা, সহায়ক মেমরি হতে প্রধান মেমরিতে তথ্য নেয়া, ইনপুট হতে উপাত্ত নেয়া, ফলাফল প্রদর্শন এ সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাজই হলো মেমরি হতে ইনস্ট্রাকশন কোড পড়া ও ডিকোড করা এবং মাইক্রোপ্রসেসরের অন্য অংশসমূহকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় কন্ট্রোল সিগন্যাল তৈরি করা।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
ইন্টারনেটের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বা চাকরির সুযোগ সৃষ্টিকে কী বলা হয়?
  1. আউটসোর্সিং
  2. ই-বিজনেস
  3. ই-কমার্স
  4. ই-গভর্নেন্স
সঠিক উত্তর:
আউটসোর্সিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউটসোর্সিং
ব্যাখ্যা

◉ আউটসোর্সিং হলো একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের (Freelancers বা অন্য কোম্পানি) সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে। এটি ইন্টারনেট-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের একটি জনপ্রিয় মডেল।

আউটসোর্সিং:
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক দেশে বসেই অন্য দেশের কোনো কাজ করা যায়।
- আউটসোর্সিং হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে তৃতীয় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করিয়ে নেওয়া।
- অর্থাৎ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপি এ ধরনের কাজ করে অর্থ অর্জন করার প্রক্রিয়াই হল আউটসোর্সিং।
- ওয়েবসাইট উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, মাসিক বেতন-ভাতার বিল প্রস্তুতকরণ, ওয়েবসাইটে তথ্য যোগ করা, সফ্টওয়্যার তৈরি, বিভিন্ন কাজের জন্য ডিজাইন তৈরি, লোগো ডিজাইন, আর্টিকেল লেখা, অনুবাদ, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি কাজ আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে করা যায়।
- আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এখন অনেকেই ঘরে বসে তার মেধা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজে অর্থ উপার্জন করছে এবং অন্যদের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
- যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে তাদেরকে বলা হয় ফ্রি-ল্যান্সার।
- বাংলাদেশ প্রতি বছর আউটসোর্সিং হতে কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করে।
- বিশ্বব্যাপি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে payoneer.com, freelancer.com, upwork.com, peopleperhour.com ইত্যাদি খুবই জনপ্রিয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ই-বিজনেস: ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম (অনলাইন ব্যাংকিং, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট)।
ই-গভর্নেন্স: সরকারি সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদান (যেমন: ই-নথি, অনলাইন ট্যাক্স পেমেন্ট)।
ই-কমার্স: পণ্য কেনাবেচার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (যেমন: Amazon, Daraz)।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
VESA-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Video Electronics Standards Architecture
  2. Video Electronics Standard Architecture
  3. Video Electric Standard Architecture
  4. Video Electronics Standards Association
সঠিক উত্তর:
Video Electronics Standards Association
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Video Electronics Standards Association
ব্যাখ্যা

◉ VESA-এর সঠিক পূর্ণরূপ হলো "Video Electronics Standards Association" (ভিডিও ইলেকট্রনিক্স স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাসোসিয়েশন)।
VESA একটি প্রযুক্তি স্ট্যান্ডার্ড সংস্থা যা ডিসপ্লে, ভিডিও এবং মাল্টিমিডিয়া সম্পর্কিত হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে। এটি মূলত মনিটর, গ্রাফিক্স কার্ড এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল ডিভাইসের জন্য কম্প্যাটিবিলিটি নিশ্চিত করে।

ভেসা বাস (VESA Bus):
- VESA-এর পূর্ণ অর্থ হচ্ছে Video Electronic Standard Association.
- VESA Bus 32 বিটা সিপিইউ গতিতে তথ্য বহন করতে পারে।
- এটি গ্রাফিক্সের কাজের জন্য বিশেষ প্রয়োজন।
- মনিটরের পর্দায় তাৎক্ষণিকভাবে এবং উন্নতমানের গ্রাফিক্স আউটপুট প্রদর্শনের জন্য কম্পিউটারের সিপিইউ, স্মৃতি এবং ভিডিও টার্মিনালের মধ্যে দ্রুতগতিতে তথ্য বিনিময়ের প্রয়োজন হয়।
- ভেসা বাস সিপিইউ-এর নিয়ন্ত্রণে সিপিইউ-এর সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে কাজ করে।
- IDE (Integrated Drive Electronic), SCSI (Small Computer System Interface), LAN (Local Area Network) ইত্যাদির ক্ষেত্রে VESA Bus ব্যবহার করা হচ্ছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
RAM সাধারণত কম্পিউটারের কোন অংশে থাকে?
  1. মাদারবোর্ড
  2. হার্ডডিস্ক
  3. এক্সপানসন বোর্ড 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
মাদারবোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাদারবোর্ড
ব্যাখ্যা

◉ র‍্যাম (Random Access Memory) মূলত মাদারবোর্ডে লাগানো থাকে, বিশেষভাবে ডিজাইনকৃত RAM স্লটে। এটি CPU-এর সাথে সরাসরি ডেটা আদান-প্রদান করে, তাই মাদারবোর্ডের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়।

মাদারবোর্ড:
- মাদারবোর্ডই হচ্ছে একটি কম্পিউটারের মূল অংশ, যা সিস্টেম ইউনিটের অভ্যন্তরে সংযুক্ত থাকে।
- সাধারণত কম্পিউটারের সমস্ত যন্ত্রাংশের সংযোগস্থানকে বলা হয় মাদারবোর্ড।
- এটি সিস্টেম বোর্ড বা মেইনবোর্ড হিসেবেও পরিচিত।
- কম্পিউটারের প্রসেসর এবং র‍্যাম মাদারবোর্ডের মধ্যেই থাকে।
- মাদারবোর্ডের মধ্যে কম্পিউটারের বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- কি-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, হার্ড ডিস্কড্রাইভ, ফ্লপি ডিস্কড্রাইভ, পেনড্রাইভ ইত্যাদি লাগানোর ব্যবস্থা থাকে।
- কম্পিউটারে যেকোনো যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হোক না কেন প্রতিটি তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদারবোর্ডের সাথে সংযোজিত।
- মাদারবোর্ড হলো কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় সার্কিট বোর্ড।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
53-এর BCD (Binary Coded Decimal) কোড কী?
  1. 01010101
  2. 11010001
  3. 10001100
  4. 01010011
সঠিক উত্তর:
01010011
উত্তর
সঠিক উত্তর:
01010011
ব্যাখ্যা

বিসিডি কোড:
- বিসিডি (BCD) শব্দের পূর্ণরূপ হলো বাইনারি কোডেড ডেসিমেল (Binary Coded Decimal)।
- BCD হলো একটি পদ্ধতি যেখানে প্রতিটি দশমিক (ডেসিমেল) অঙ্ককে ৪-বিট বাইনারিতে রূপান্তর করা হয়।
উদাহরণ:
দশমিক 5 → BCD 0101
দশমিক 3 → BCD 0011

- দশমিক (Decimal) সংখ্যার প্রতিটি অঙ্ককে বাইনারিতে রূপান্তরই হলো বিসিডি কোড।
- এই পদ্ধতিতে দশমিক সংখ্যা 0 থেকে 9 পর্যন্ত মোট দশটি অংককে সমতুল্য 4 বিট বাইনারি সংখ্যায় রূপান্তর করা হয়।
- 4 বিট দ্বারা 24 অর্থাৎ 16 ভিন্ন অবস্থা নির্দেশ করা যায়। তাই 16টি অবস্থা ব্যবহার করে কয়েক প্রকার BCD কোড গঠন করা সম্ভব।
- এর মধ্যে BCD 8421 কোড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং বহুল ব্যবহৃত।

5 এর বিসিডি 0101
3 এর বিসিডি 001

∴ 53 এর বিসিডি 01010011

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
কম্পিউটারের ডাটা প্রসেসিং স্পিডের সাথে কোন ফ্যাক্টর সম্পর্কিত নয়?
  1. প্রসেসর স্পিড
  2. ক্যাশ মেমরি
  3. RAM
  4. মনিটর সাইজ
সঠিক উত্তর:
মনিটর সাইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনিটর সাইজ
ব্যাখ্যা

◉ কম্পিউটারের ডাটা প্রসেসিং স্পিড নির্ভর করে মূলত- 
প্রসেসর স্পিড (ক): যত বেশি GHz, তত দ্রুত কম্পিউটার তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে।
ক্যাশ মেমরি (খ): প্রসেসরের কাছে থাকা এই মেমরি দ্রুত তথ্য আহরণে সহায়তা করে।
RAM (গ): তথ্য অস্থায়ীভাবে ধারণ করে ও দ্রুত অ্যাকসেসে সাহায্য করে।
কোর সংখ্যা: বেশি কোর মানে একসাথে বেশি কাজ (মাল্টিটাস্কিং)।

সিপিইউ:
- কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় অংশ হলো সিপিইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট।
- সিপিইউ বলতে আগের দিনে বোঝাত কম্পিউটারের মধ্যবর্তী কেন্দ্রীয় অংশটিকে।
- এখন সিপিইউ বলতে শুধু মাইক্রোপ্রসেসরকে বোঝানো হয়।
- সিপিইউকে কম্পিউটারের ব্রেইন বা মস্তিষ্ক বলা হয়।

সূত্র:
১। কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। এইচপি ওয়েবসাইট। [লিংক]

৩৯.
মাইক্রোপ্রসেসরের কোন ইউনিট নির্দেশাবলী ডিকোড করে?
  1. Arithmetic Logic Unit
  2. Control Unit
  3. Memory Unit
  4. Register
সঠিক উত্তর:
Control Unit
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Control Unit
ব্যাখ্যা

◉ মাইক্রোপ্রসেসরের কন্ট্রোল ইউনিট নির্দেশাবলী (Instructions) ডিকোড করে এবং সেগুলো কার্যকর করার জন্য প্রসেসরের অন্যান্য অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে।

মাইক্রোপ্রসেসর:
- কম্পিউটারের কার্যব্যবস্থাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য কম্পিউটারের যে অংশটি বা হার্ডওয়্যারটি সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে, তাকে মাইক্রোপ্রসেসর বা প্রসেসর হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- মাইক্রোপ্রসেসর হলো সিলিকনের তৈরি এক ধরনের ভিএলএসআই (VLSI-Very Large Scale Integration) চিপ।
- একটি একক ভিএলএসআই সিলিকন চিপের মধ্যে এক মিলিয়নেরও অধিক ডায়োড, ট্রানজিস্টর, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একীভূত থাকে।
- মাইক্রোপ্রসেসর মাইক্রোকম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ হিসেবে কাজ করে।
- মাইক্রোপ্রসেসরকেই মাইক্রোকম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন বলা হয়।

মাইক্রোপ্রসেসর প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
নিয়ন্ত্রণ অংশ (Control Unit):
- কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট কম্পিউটারের সকল অংশকে নিয়ন্ত্রণের ও পরিচালনার কাজে নিয়োজিত থাকে।
- এটি কম্পিউটারের প্রতিটি নির্দেশ পরীক্ষা করে এবং কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংকেত তৈরি করে।
- মেমরিতে কখন তথ্যের প্রয়োজন হবে— সহায়ক মেমরি হতে কখন প্রধান মেমরিতে তথ্য নিতে হবে, কখন ইনপুট হতে উপাত্ত নিতে হবে, কখন ফলাফল দিতে হবে এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে।
- নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাজই হলো মেমরি হতে ইনস্টাকশন কোড পড়া ও ডিকোড করা এবং মাইক্রোপ্রসেসরের অন্য অংশসমূহকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় কন্ট্রোল সিগন্যাল তৈরি করা। যেমন- গাণিতিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের গাণিতিক যুক্তি অংশকে কন্ট্রোল সিগন্যালের মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করা ।

গাণিতিক যুক্তি অংশ (Arithmetic Logic Unit):
- নিয়ন্ত্রণ অংশের তত্ত্বাবধানে গাণিতিক যুক্তি অংশ বা ALU বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক বা লজিক্যাল অপারেশনের কাজ সম্পাদান করে।
- বেশির ভাগ গাণিতিক অপারেশনগুলো হলো যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং লজিক্যাল অপারেশনগুলো হলো তুলনা, সত্য-মিথ্যা যাচাই ইত্যাদি। আবার রেজিস্টার পরিষ্কারকরণ এবং রেজিস্টারে সংরক্ষিত তথ্য বা সংখ্যাকে ডানে-বামে সরানো ইত্যাদি কাজও এ অংশের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক বর্তনীর সহায়তায় গাণিতিক যুক্তি অংশ এসব কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে এবং প্রয়োজনে ফলাফল অস্থায়ীভাবে রেজিস্টারে সংরক্ষিত রাখে।
- বর্তমানের মাইক্রোপ্রসেসরগুলোতে কাজের গতি বাড়ানোর প্রয়োজনে একাধিক গাণিতিক যুক্তি অংশ ব্যবহৃত হয়।

রেজিস্টারসমূহ (Register Set):
- মূলত মাইক্রোপ্রসেসরের অস্থায়ী মেমরি রেজিস্টার হিসেবে কাজ করে। রেজিস্টার তৈরি হয় ফ্লিপ-ফ্লপের সাহায্যে। এগুলোর কাজ করার ক্ষমতা অত্যন্ত দ্রুত।
- মাইক্রোপ্রসেসরের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য এর অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের রেজিস্টার ব্যবহৃত হয়। যেমন- অ্যাকুমুলেটর, ইনস্টাকশন রেজিস্টার, প্রোগ্রাম কাউন্টার ইত্যাদি। 
- মাইক্রোপ্রসেসর যখন হিসাব-নিকাশের কার্যাবলি সম্পাদন করে তখন ডেটাকে সাময়িকভাবে জমা রাখার জন্য রেজিস্টারসমূহ ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
মাল্টিকোর প্রসেসর কীভাবে কম্পিউটারের পারফরম্যান্স বাড়ায়?
  1. বেশি র‍্যাম যোগ করে
  2. বেশি হার্ড ডিস্ক স্পেস যোগ করে
  3. একাধিক মনিটর সাপোর্ট করে
  4. একইসাথে একাধিক টাস্ক প্রসেস করে
সঠিক উত্তর:
একইসাথে একাধিক টাস্ক প্রসেস করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একইসাথে একাধিক টাস্ক প্রসেস করে
ব্যাখ্যা

◉ মাল্টিকোর প্রসেসর একইসাথে একাধিক টাস্ক (বা থ্রেড) প্রসেস করতে পারে, যা কম্পিউটারের পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করে। প্রতিটি কোর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাই অ্যাপ্লিকেশনগুলো সমান্তরালভাবে (প্যারালালি) চালানো যায়। এটি বিশেষভাবে উপকারী যখন একাধিক প্রোগ্রাম একসাথে চলছে বা একটি প্রোগ্রাম মাল্টিথ্রেডেড অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে ডিজাইন করা হয়েছে।

CPU:
- CPU এর পূর্বরূপ Central Processing Unit.
- কম্পিউটারের ব্রেইন বা মস্তিষ্ক বলা হয় CPU কে।
- কম্পিউটারের প্রদত্ত সব কমান্ড প্রক্রিয়াকরণ হয় CPU তে।
- CPU ই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক।
- CPU এর তিনটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা-
1. ALU (Arithmetic Logic Unit),
2. Control Unit,
3. Memory/Register.

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৪১.
ফিনটেক (FinTech) কোন ক্ষেত্রে কম্পিউটার ও প্রযুক্তির ব্যবহার নির্দেশ করে?
  1. কৃষি
  2. চিকিৎসা
  3. আর্থিক পরিষেবা
  4. পর্যটন
সঠিক উত্তর:
আর্থিক পরিষেবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্থিক পরিষেবা
ব্যাখ্যা

◉ ফিনটেক (FinTech) হলো Financial Technology-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যা আর্থিক পরিষেবা (financial services) খাতে কম্পিউটার ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে নির্দেশ করে।

ফিনটেক (FinTech): 
- আর্থিক (ফাইন্যান্সিয়াল) খাতে প্রযুক্তির (টেকনোলজি) ব্যবহারকে সংক্ষেপে ফিনটেক বলে।
- ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বোর্ডের (এফএসবি) মতে, ফিনটেক হলো প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম আর্থিক উদ্ভাবন। যেমন নতুন ব্যবসায়িক মডেল, মডেলের প্রয়োগ, প্রসেসিং, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদি, যা আর্থিক পরিষেবা খাতকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।
- ফিনটেক এরই মধ্যে পি-টু-পি, চেক জমা, অর্থের লেনদেন, বিল পরিশোধ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ক্রাউড ফান্ডিং ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। 

ফিনটেকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: 
- ডিজিটাল ব্যাংকিং, 
- মোবাইল পেমেন্ট (যেমন: bKash, Nagad), 
- ব্লকচেইন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন: Bitcoin), 
- অনলাইন লেনদেন ও ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, 
- ইন্সুরেন্স টেকনোলজি (InsurTech)। 

উৎস: 
১। আইবিএম ওয়েবসাইট। 
২। বণিক বার্তা পত্রিকার রিপোর্ট। 

৪২.
যে কোন বেসের নম্বর সিস্টেমে সবচেয়ে ছোট সংখ্যাটি কী?
  1. 0
  2. 1
  3. বেস অনুযায়ী ভিন্ন হয়
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
0
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0
ব্যাখ্যা

◉ যেকোনো বেস (Base) সংখ্যা পদ্ধতিতে শূন্যতম (সবচেয়ে ছোট) সংখ্যাটি হলো 0.
কারণ, সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি (Base) যাই হোক না কেন (যেমন: বাইনারি- Base 2, দশমিক- Base 10, হেক্সাডেসিমেল- Base 16 ইত্যাদি), সব ক্ষেত্রেই সংখ্যা গণনা শুরু হয় 0 থেকে।

সংখ্যা পদ্ধতির প্রকারভেদ:
- সংখ্যা পদ্ধতির বেজ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে চার ধরনের সংখ্যা পদ্ধতির প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। যেমন:
১. দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি (Decimal Number System),
২. বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি (Binary Number System),
৩. অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি (Octal Number System) এবং
৪. হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতি (Hexadecimal Number System)।

• দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি:
- মানুষ দৈনন্দিন জীবনে গণনা কিংবা হিসাব-নিকাশের জন্য যে সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করে তাই দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি।
- এ পদ্ধতির বেজ বা ভিত্তি হচ্ছে 10.
- (101)10, (98.73)10 ইত্যাদি হলো দশমিক সংখ্যার উদাহরণ।

• বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি:
- যে সংখ্যা পদ্ধতিতে 0 এবং 1 এই দু'টিমাত্র সংখ্যা বা অংক ব্যবহার করা হয় তাকে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি বলে।
- মোট দু'টি অংক ব্যবহারের কারণেই এই সংখ্যা পদ্ধতির বেজ বা ভিত্তি হচ্ছে 2.
- (110)2, (1101)2 ইত্যাদি হলো বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির উদাহরণ।

• অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি:
- অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির বেজ বা ভিত্তি হচ্ছে ৮।
- এই পদ্ধতিতে 0, 1, 2, 3, 4, 5, 6 এবং 7 এই ৮টি মৌলিক অংক ব্যবহৃত হয়।
- (101)8, (731)8 ইত্যাদি হলো অক্টাল সংখ্যার উদাহরণ।

• হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতি:
- এই পদ্ধতির ভিত্তি হচ্ছে 16.
- অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে 16 টি মৌলিক অংক রয়েছে। এই সংখ্যাসমূহ 0, 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9 এবং অতঃপর A, B, C, D, E ও F।
- (151)16, (1B)16 ইত্যাদি হলো হেক্সাডেসিমেল সংখ্যার উদাহরণ।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।