পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - শব্দপ্রকরণ [লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ; সংখ্যাবাচক শব্দ; দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব; বচন; পদাশ্রিত নির্দেশক।] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) ------------------------ [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
নিম্নোক্ত কোন উপায়ে বাংলা ভাষায় শব্দ সাধন হয় না?
  1. উপসর্গ যোগে
  2. সমাস দ্বারা
  3. প্রত্যয় যোগে
  4. লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
সঠিক উত্তর:
লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় শব্দ সাধন হয় বা গঠন হয় না — লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা।

শব্দ গঠনের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে।
এগুলো হচ্ছে:
• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• সমাস:
শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: ‘হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় ‘হাটবাজার’।

• শব্দদ্বিত্ব:
এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
.
বাংলা ভাষায় সংখ্যার মৌলিক একক হিসেবে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
  1. শূন্য
  2. দশ
  3. এক
  4. একশো
সঠিক উত্তর:
এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক
ব্যাখ্যা
• অঙ্কবাচক শব্দ:
যে শব্দ দ্বারা অঙ্কবাচক শব্দ নির্দেশ করা হয় তাকে বলা হয় অঙ্কবাচক শব্দ। আমাদের ভাষায় সংখ্যার একক হলো  — 'এক'।

সুতরাং কোনো শব্দকে ভাঙতে হলে এক সংখ্যাকে একক হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন- তিন টাকা বলতে এক টাকার তিনটি একক বা এককের সমষ্টি বোঝায়। অতএব 'তিন' সংখ্যাকে আমরা ভাঙতে পারি এভাবে এক+এক+এক। এভাবে এক থেকে একশ পর্যন্ত গণনা করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
দ্বিরুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
  2. দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
  3. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
  4. সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
সঠিক উত্তর:
সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

উল্লেখ্য,
• তালাচাবি হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি একবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. গুলি
  2. রা
  3. টা
  4. এরা
সঠিক উত্তর:
টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টা
ব্যাখ্যা
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক- 'টা'।

• একবচনে- টা, টি, খানা, খানি, গাছা ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
যেমন: টাকাটা, বাড়িটা, বইখানি ইত্যাদি।

• বহুবচনে- গুলি, গুলা, গুলো, রা, দিগ, এরা, দের ইত্যাদি নির্দেশক সংযুক্ত হয়।
যেমন: মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন পুরুষবাচক শব্দটির দুটি স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. গুপ্ত
  2. যশস্বী
  3. দেবর
  4. মাননীয়
সঠিক উত্তর:
দেবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবর
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন -
- দেবর - ননদ (দেবরের বোন) এবং জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী)।
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী)
- বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)
- দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গুপ্ত - গুপ্তা;
• যশস্বী - যশস্বিনী।
• মাননীয় - মাননীয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'জ্বর' শব্দটির সাথে 'জ্বর' যুক্ত হয়ে কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. আধিক্য
  2. সামান্য
  3. ধারাবাহিকতা
  4. তীব্রতা
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন,
- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থ্যাৎ সামান্য অর্থে এই প্রয়োগ।

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
.
"বার বার সে কামান গর্জে উঠল।" - এ বাক্যে কোন ধরনের দ্বিরুক্তি রয়েছে?
  1. ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি
  2. অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
  3. বিশেষ্য শব্দের দ্বিরুক্তি
  4. বিশেষণ শব্দের দ্বিরুক্তি
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• পদাত্মক দ্বিরুক্তির প্রয়োগ:

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি -
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি কোন ভাষার নিয়মে সাধিত হয়?
  1. তৎসম
  2. বাংলা
  3. আরবি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• তারিখবাচক শব্দ:
- বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে তারিখবাচক শব্দ বলে।
যেমন,
পয়লা বৈশাখ, বাইশে শ্রাবণ ইত্যাদি।

• তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাঙলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'গোয়াল' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গোয়ালীনি
  2. গোয়ালী
  3. গোয়ালিনি
  4. মহিলা গোয়ালা
সঠিক উত্তর:
গোয়ালিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালিনি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'গোয়াল' শব্দের অর্থ - গোপ, দুধ-ব্যবসায়ী।
এর স্ত্রীবাচক শব্দ - গোয়ালিনি।

কতগুলো পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়।
যেমন:
• গোয়ালা - গোয়ালিনি, 
• বিহঙ্গ - বিহঙ্গিনী, 
• সন্ন্যাস - সন্ন্যাসিনী, 
• রজক - রজকিনী, 
• কাঙাল - কাঙালিনী, 
• সাপ - সাপিনী, 
• বাঘ - বাঘিনী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, মাধ্যমিক বাংলার দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. কুট কুট
  2. আম টাম
  3. খক খক
  4. পর পর
সঠিক উত্তর:
আম টাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম টাম
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস। 

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১১.
কোন শব্দটির শেষে 'বতী' যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করা হয়?
  1. বেঙ্গমা
  2. ঠাকুর
  3. গুণবান
  4. কাঙাল
সঠিক উত্তর:
গুণবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবান
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'অত', 'বান', 'মান', 'ঈয়ান' থাকলে 'অতী', 'বতী', 'মতী', 'ঈয়সী' হয়:

যেমন:
→ সৎ-সতী, 
→ গুণবান-গুণবতী, 
→ শ্রীমান-শ্রীমতী, 
→ গরীয়ান-গরীয়সী,

অন্যদিকে,
• ঈ-প্রত্যয় যোগ:
- বেঙ্গমা - বেঙ্গমী,
- ভাগনা/ভাগনে - ভাগনী।

• আনী-প্রত্যয় যোগ:
- ঠাকুর - ঠাকুরানী,
- নাপিত - নাপিতানী,
- মেথর - মেথরানী,
- চাকর - চাকরানী ইত্যাদি।

• ‘ইনি’ প্রত্যয় যোগে লীঙ্গান্তরিত শব্দ:
- কাঙাল-কাঙালিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১২.
বহুবচনবোধক বাক্য কোনটি?
  1. শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
  2. বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
  3. কলমগুলোর দাম অনেক।
  4. পাখিটি আকাশে উড়ে গেল।
সঠিক উত্তর:
কলমগুলোর দাম অনেক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলমগুলোর দাম অনেক।
ব্যাখ্যা
একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
- পাখিটি আকাশে উড়ে গেল।

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো।
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

- কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।
যেমন -
একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা
একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা
একবচন- সে, বহুবচন - তারা
একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. ব্রাত
  2. রাজি
  3. গণ
  4. পাল
সঠিক উত্তর:
রাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজি
ব্যাখ্যা
• ‘রাজি’ বহুবচন লগ্নকটি অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
উচ্চয় - পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি।

• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত (মধুকরব্রাত),
- বৃন্দ (বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ),
- পাল,
- গণ (বন্ধুগণ),
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
"থেকে থেকে ছেলেটি কাঁদছে।" - বাক্যটিতে দ্বিরুক্তি শব্দটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. আধিক্য
  2. সতর্কতা
  3. ভাবের প্রগাঢ়তা
  4. কালের বিস্তার
সঠিক উত্তর:
কালের বিস্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালের বিস্তার
ব্যাখ্যা
• "থেকে থেকে ছেলেটি কাঁদছে।" - 
উক্ত বাক্যে "থেকে থেকে" দ্বিরুক্তি দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে ক্রিয়াটি কালের বিস্তার বা ধারাবাহিক সময়ের মধ্যে ঘটছে। অর্থাৎ, ছেলেটি একবারে নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ক্রমান্বয়ে কাঁদছে।

সুতরাং সঠিক উত্তর: ঘ) কালের বিস্তার।
----------------
• বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা),
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা),
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার),
- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।(আধিক্য)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
"বাজারে লোক কম।" - এখানে "লোক" -
  1. একবচন
  2. বহবচন
  3. দ্বিবচন
  4. একবচন ও বহুবচন
সঠিক উত্তর:
বহবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহবচন
ব্যাখ্যা
• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লোক কম। 
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
নিম্নের কোন পদাশ্রিত নির্দেশকটি সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
  1. টা
  2. টি
  3. টো
  4. খানা
সঠিক উত্তর:
টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টো
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় 'টো' পদাশ্রিত নির্দেশকটি সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, 'দুটো ভাত' বলতে অল্প পরিমাণ ভাত বোঝায়।
---------------
• পদাশ্রিত নির্দেশক:

কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।

- বাংলা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The' এর স্থানীয়।
- বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়।

• টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক যা একবচনে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:
কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কোনো সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক:
- টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
'কুলটা' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. পুংলিঙ্গবাচক
  2. স্ত্রীলিঙ্গবাচক
  3. ক্লীবলিঙ্গবাচক
  4. উভলিঙ্গবাচক
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীলিঙ্গবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীলিঙ্গবাচক
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই।
যেমন,
- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
"বাগানের প্রতিটি ডালে ডালে কুসুমভার ফুটে উঠেছে।" এখানে ‘ভার’ কোন অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. গুরুত্ব
  2. চাপ
  3. সমূহ
  4. বোঝা
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা
• "বাগানের প্রতিটি ডালে ডালে কুসুমভার ফুটে উঠেছে।" এখানে ‘ভার’ - সমূহ' অর্থ প্রকাশ করেছে।
--------------
• ভার (বিশেষ্য):

- দায়িত্ব (গুরুভার)।
- বোঝা (ভারবাহী পশু)।
- চাপ (ঋণের ভার)
- সমূহ; রাশি (কুসুমভার, কেশভার)
- বাঁক (ভারযষ্টি)।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৯.
"সারাটি দিন সে তার প্রিয় বইতে নিমগ্ন ছিল।" — এখানে ‘টি’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. দ্ব্যর্থহীনভাবে
  2. অর্থপূর্ণভাবে
  3. সার্থকভাবে
  4. নিরর্থকভাবে
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকভাবে
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
যেমন:
- টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি।

• নিরর্থকভাবেও টা টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
যেমন:
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছে।
- সারাটি দিন সে তার প্রিয় বইতে নিমগ্ন ছিল।

এখানে,
বাক্যটিতে "সারাটি" শব্দে "টি" একটি পদাশ্রিত নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা "সারা" শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে একবচন নির্দিষ্টতা প্রকাশ করে। তবে, এখানে "টি" যোগ না করলেও বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকে; অর্থাৎ, "সারা দিন সে তার প্রিয় বইতে নিমগ্ন ছিল" বললেও একই অর্থ প্রকাশ পায়। এই ক্ষেত্রে "টি" নিরর্থকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।