পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৯
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ২১ টপিক: রিভিশন পরীক্ষা সম্পূর্ণ সিলেবাস [লাইভ ক্লাস - ১ থেকে ৩৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন

.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত?
  1. উৎকৃষ্ট
  2. আষাঢ়
  3. রোষ
  4. পাষাণ
সঠিক উত্তর:
উৎকৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• 'উৎকৃষ্ট' শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।

সূত্র: 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. লে + অন = লবণ
  2. পো + অন = পবন
  3. ভো + উক = ভাবুক
  4. পৌ + ইত্র = পবিত্র
সঠিক উত্তর:
পো + অন = পবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পো + অন = পবন
ব্যাখ্যা

• পো + অন = পবন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক।

সূত্র:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
- নে + অন = নয়ন,
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- ভৌ + উক = ভাবুক
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
'মনঃপীড়া' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. মনোপিড়া
  2. মোনপ্‌পিড়া
  3. মোনোপিড়া
  4. মোনোপ্‌পিড়া
সঠিক উত্তর:
মোনোপ্‌পিড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোনোপ্‌পিড়া
ব্যাখ্যা

• 'মনঃপীড়া' শব্দের সঠিক উচ্চারণ 'মোনোপ্‌পিড়া'।



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'লাপাত্তা' শব্দের 'লা' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

- 'লাপাত্তা' শব্দের 'লা' উপসর্গটি একটি আরবি উপসর্গ।
- 'লাপাত্তা' শব্দের 'লা' উপসর্গটি 'নাই' অর্থ প্রকাশ করেছে।

• 'লা' উপসর্গ দিয়ে 'নাই' অর্থে কিছু গঠিত শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।

• আরোকিছু আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, বাজে, গর ইত্যাদি।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
'নির্ভুল' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• 'নির্ভুল' - নি (নাই) ভুল যার - নঞ্‌ বহুব্রীহি।

• নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্জ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার - অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার - বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার - নাচার।
- নি (নাই) ভুল যার - নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা - নাজানা, অজানা ইত্যাদি।
এরকম-নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকেজো, বে-পরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
বাংলা লিপির উদ্ভব কোন লিপি থেকে?
  1. গৌড়ী লিপি
  2. সিদ্ধং লিপি
  3. ব্রাহ্মী লিপি
  4. খরোষ্ঠী লিপি
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী লিপি
ব্যাখ্যা

• বাংলা লিপির উদ্ভব 'ব্রাহ্মী লিপি' থেকে।

ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

বাংলা লিপির ইতিবৃত্ত:
- জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর একটি হস্তলিখিত পুথি আছে যেখানে প্রাচ্যলিপির নমুনা পাওয়া যায়।
- ৭ম শতাব্দীর লিপির প্রমাণ মেলে আদিত্য সেন নামক এক মগধরাজের অনুশাসনকালে।
- পরে এ অঞ্চলের পালরাজাদের সময় লিপি ক্রমবিবর্তিত হয়ে বাংলা লিপির রূপ পরিগ্রহ করে।
- ৯ম শতাব্দীতে বাংলাদেশের পালবংশীয় রাজা নারায়ণ পালের তাম্রশাসনে বাংলা লিপির সুস্পষ্টরূপ পরিলক্ষিত হয়। আজকের বাংলা লিপি সেই ধারার পরবর্তী রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'কহ্‌' কোন প্রকার ধাতু?
  1. নাম ধাতু
  2. বিদেশি ধাতু
  3. বাংলা ধাতু
  4. সংস্কৃত ধাতু
সঠিক উত্তর:
বাংলা ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ধাতু
ব্যাখ্যা

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• 'কহ্' ধাতু যোগে সাধিত শব্দ- কওয়া, কহন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
'বাগধারা' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
'মাধব' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. মনু + ষ্ণ
  2. মধু + অব
  3. মা + অব
  4. মধু + ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
মধু + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়। ও + অ সন্ধিতে 'অব' হয়।
যথা:
- গুরু + ষ্ণ (অ) = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ = মানব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? 
  1. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  2. মনমোহন
  3. মনঃক্ষুণ্ন
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
মনমোহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনমোহন
ব্যাখ্যা

• মনমোহন বানানটি অশুদ্ধ।
• 'মনোমোহন' শুদ্ধ বানান ।

অর্থ: মনকে মোহিত করে এমন; মনোহর চিত্তাকর্ষক।
স্ত্রী. মনোমোহিনী/মনোমোহিনি ।।

অন্যদিকে,
- শ্রদ্ধাঞ্জলি, মনঃক্ষুণ্ন, দুর্নীতি বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
পঁসুরি কোন সমাস?
  1. প্রাদি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
ভাষার মূল উপকরণ কোনটি?
  1. বর্ণ
  2. বাক্য
  3. শব্দ
  4. ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা

• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
• ভাষার মূল উপকরণ:
- বাক্য।
- উপকরণ বলতে বোঝায় বৃহত্তম একক।
- ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে বড়ো/বৃহত্তম/ একক/বৃহত্তম একক বা অংশ হিসেবে পাওয়া যায় বাক্য; সুতরাং ভাষার উপকরণ বাক্য।
• ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে। মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উল্লেখ্য,
• ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
• ভাষার মূল উপাদান / ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি।
• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
• ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।
• শব্দের গঠনগত একক - বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩.
'মেয়েটি বড় লাজুক।' বাক্যে 'লাজুক' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• 'মেয়েটি বড় লাজুক।' বাক্যে 'লাজুক' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 
- লাজ + উক = লাজুক।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়। বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
যেমন:
- লাজ + উক = লাজুক,
- বড় + আই = বড়াই,
- ঘর + আমি = ঘরামি।

বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
১. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
২. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
৩. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪.
জিভের উচ্চতা অনুযায়ী উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি কোনগুলো?
  1. ই, উ
  2. এ, ও
  3. অ, আ
  4. অ্যা, অ
সঠিক উত্তর:
এ, ও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ, ও
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫.
"ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।" - এই বাক্যে ‘দ্রুত’ কোন বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:

যেমন:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৬.
'বিশ্রী' কোন সমাস?
  1. প্রাদি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়। তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

• অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
ঘৃষ্ট ধ্বনি কোনটি?
  1. ণ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ঘৃষ্ট ধ্বনি:
এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের-বাতাস প্রথমে স্পৃষ্ট ধ্বনির মতো মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয় কিন্তু দ্রুত বের না হয়ে কিছুটা বিলম্বে ঘর্ষণ ধ্বনি তৈরি করে বের হয়।

সে-হিসাবে এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য হলো: স্পৃষ্ট + ঘর্ষণজাত = ঘৃষ্ট। ইংরেজি child, jam শব্দের ch, j এ জাতীয় ধ্বনি। বাংলা কাচ, মাছ, কাজ, মাঝ, শব্দের [চ্, ছ্, জ্, ঝ্ ] ঘৃষ্ট ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- শ উষ্ম ধ্বনি।
- ত দন্ত্য ধ্বনি।
- ণ নাসিক্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।

১৮.
সাকুল্যবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. ঐসব
  2. সমুদয়
  3. অপর
  4. স্বয়ং
সঠিক উত্তর:
সমুদয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদয়
ব্যাখ্যা

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৯.
নিচের কোন শব্দটিতে নিত্য মূর্ধন্য 'ণ' হয়নি?
  1. পুণ্য
  2. কণিকা
  3. পাণি
  4. ভীষণ
সঠিক উত্তর:
ভীষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীষণ
ব্যাখ্যা

• 'ভীষণ' শব্দে ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী মূর্ধন্য-ণ বসেছে। এখানে, নিত্য মুর্ধন্য 'ণ' হয়নি।

ণ-ত্ব বিধান সূত্র:
- ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।  

• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু বিপণি, গণিকা।
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২০.
'সংখ্যালঘু' কোন সমাস? 
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

'সংখ্যালঘু' = সংখ্যায় লঘু - সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন -
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
- পূর্বে অশ্ৰুত = অশ্রুতপূর্ব,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২১.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়?
  1. অথবা
  2. নিশ্চয়ই
  3. অধিকন্তু
  4. নয়তো
সঠিক উত্তর:
নিশ্চয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশ্চয়ই
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

অন্যদিকে,
- সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - নয়তো, অধিকন্তু, অথবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২২.
সমাস সাধিত শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নিরহঙ্কারী
  2. নিরভিমান
  3. নীরোগী
  4. পিতাহারা
সঠিক উত্তর:
নিরভিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমান
ব্যাখ্যা

• 'নিরভিমান' - শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩.
'বর্ণচোরা' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• 'বর্ণচোরা'= বর্ণ চুরি করে যে - উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
• এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. সরলতা
  2. গুরুত্ব
  3. দীনতা
  4. শয়ন
সঠিক উত্তর:
শয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শয়ন
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৫.
'বাচস্পতি' কোন ধরনের সন্ধি?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ
  4. বিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা

• 'বাচস্পতি' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - বাচঃ + পতি ।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।
এরূপ পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৬.
'আভাস' শব্দে 'আ' উপসর্গ কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ঈষৎ
  2. পর্যন্ত
  3. বিপরীত
  4. আগমন
সঠিক উত্তর:
ঈষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈষৎ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো:
- পর্যন্ত অর্থে = আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র।
- ঈষৎ অর্থে = আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে = আদান, আগমন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৭.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. দোষ দেওয়া
  3. বুঝে নেওয়া
  4. কথা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বুঝে নেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৮.
'কথায় কথা বাড়ে।'- বাক্যে 'কথায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা

- কথায় কথা বাড়ে।
[বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'কথায়'। সুতরাং 'কথায়' য়-বিভক্তি যুক্ত হয়ে করণে ৭মী কারক।]

• করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।(উপকরণ = কলম)।
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায় (উপায় = সাধনা)।
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।(উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৯.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. প্রগাঢ় 
  2. অপনোদন
  3. সমাদর
  4. ঊনপাঁজুরে
সঠিক উত্তর:
ঊনপাঁজুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনপাঁজুরে
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - ঊনপাঁজুরে।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - সমাদর, অপনোদন, প্রগাঢ়।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।