পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
বাংলা ব্যাকরণঃ ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ এবং প্রত্যয় ও সন্ধি। সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, যেকোনো একাডেমিক ব্যক্তির বই এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
বাংলা ভাষায় সাধারণত কয়ভাবে সংযুক্ত ব্যঞ্জন গঠিত হতে পারে?
  1. ক) ২ ভাবে
  2. খ) ৩ ভাবে
  3. গ) ৪ ভাবে
  4. ঘ) ৫ ভাবে
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাবে
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় সাধারণত তিনভাবে সংযুক্ত ব্যঞ্জন গঠিত হতে পারে।
যথা-
- কার সহযোগে- কৃতী, বৈশাখ, গৌতম, চূর্ণ।
- ফলা সহযোগে- কৃষ্ণ, অপরাহ্ণ, নিতম্ব, তন্ময়।
- ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ব্যঞ্জন (ফলা ব্যতীত) সহযোগে- ব্রাহ্মণ, বন্ধন, অভ্যুত্থান, গড্ডালিকা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ -নবম দশম শ্রেণী।

.
ম্ + অন্তঃস্থ ব্যঞ্জন / উষ্মধ্বনি - এই সূত্রের প্রয়োগ কোনটিতে হয়েছে?
  1. ক) কিঞ্চিত
  2. খ) গন্তব্য
  3. গ) সংযম
  4. ঘ) শঙ্কা
সঠিক উত্তর:
গ) সংযম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংযম
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে উল্লেখিত উদাহরণগুলো ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ। ব্যঞ্জনধ্বনির একটি নিয়ম হলো:
প্রথম শব্দে ম্ + দ্বিতীয় শব্দে ক্ থেকে ম্ পর্যন্ত যে কোন শব্দ = ম্ স্থানে ঐ বর্গের পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিত
গম্ + তব্য = গন্তব্য
শম্ + কা = শঙ্কা

অন্যদিকে,
সম্ + যম = সংযম এ প্রথম শব্দে ম্ এবং দ্বিতীয় শব্দে অন্তঃস্থ ব্যঞ্জন রয়েছে। তাই এটি সঠিক উত্তর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী

.
কোন ধরনের শব্দাবলি ভাষার মূল উপকরণ?
  1. ক) মৌলিক শব্দ
  2. খ) যৌগিক শব্দ
  3. গ) রূঢ় শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
ক) মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা

যেসব শব্দসমূহকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
মৌলিক শব্দগুলোই হচ্ছে ভাষার প্রাণ।
যেমন: গোলাপ, নাক, তিন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী

.
‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটিতে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা

অক্ষরঃ বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)

'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

বাংলা অক্ষরের প্রথম নকশা তৈরি করেন - চার্লস উইলকিনস।

.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি কোনটি?
  1. ক) দিব্ + লোক = দ্যুলোক
  2. খ) গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর
  3. গ) শার + অঙ্গ = শারঙ্গ
  4. ঘ) অন্য + অন্য = অন্যান্য
সঠিক উত্তর:
ক) দিব্ + লোক = দ্যুলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দিব্ + লোক = দ্যুলোক
ব্যাখ্যা

যে সন্ধিগুলো কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি :
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি ; বনস্পতি = বন + পতি।
পরস্পর = পর + পর ; তস্কর = তৎ + কর।
গোস্পদ = গো + পদ ; একাদশ = এক + দশ।
ষোড়শ = ষট্ + দশ ; মনীষা = মনস্ + ঈষা।
আশ্চর্য = আ + চর্য ; পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি ।
দ্যুলোক = দিব্ + লোক।

উৎস: সৌমিত্র শেখর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
‘র’ কোন জাতীয় ধ্বনি?
  1. ক) পার্শ্বিক
  2. খ) তাড়নজাত
  3. গ) কম্পনজাত
  4. ঘ) স্পর্শ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
গ) কম্পনজাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কম্পনজাত
ব্যাখ্যা

তাড়নজাত বর্ণ - ২টি। যথা- ড়, ঢ়।
কম্পতজাত বর্ণ - ১টি। যথা- র।
অযোগবাহ বর্ণ - ২টি। যথা- ং, ঃ।
বাংলা অভিধানে ক্ষ এর অবস্থান - ক-বর্গের অন্তর্গতভুক্তি হিসাবে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ -নবম দশম শ্রেণী।

.
নীচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) সন্ধির মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়
  2. খ) সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন
  3. গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
  4. ঘ) বিসর্গ সন্ধি খাঁটি বাংলায় হয় না
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
ব্যাখ্যা

'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

.
উৎসগতভাবে শব্দ কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুই প্রকার।
যথা- মৌলিক ও সাধিত শব্দ।

উৎসগত দিক থেকে শব্দ ৪ প্রকার।
যথা- তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ।
(অর্ধ-তৎসম শ্রেণিটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে)

অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (নতুন সংস্করণ - ২০২১)।

.
কোনটি অল্পপ্রাণ + নাসিক্য বর্ণ?
  1. ক) ব
  2. খ) চ
  3. গ) ঞ
  4. ঘ) ঢ
সঠিক উত্তর:
গ) ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঞ
ব্যাখ্যা

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- প্রতি বর্গের ৫ম বর্ণকে বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি।
- প্রতি জোড়ার ১ম, ৩য় ও ৫ম বর্ণ হচ্ছে অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
সুতরাং, এখানে 'ঞ' একটি অল্পপ্রাণ + নাসিক্য বর্ণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।

১০.
‘চৌঠা’ কোন ধরণের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক) অঙ্কবাচক
  2. খ) গণনাবাচক
  3. গ) তারিখবাচক
  4. ঘ) পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
গ) তারিখবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তারিখবাচক
ব্যাখ্যা

সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা - 
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

আবার,
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী (২০২০ সংস্করণ) অনুসারে,
সংখ্যা বাচক শব্দ ৪ প্রকার।
যথা-
- অঙ্কবাচক শব্দ- কোন কিছুর সংখ্যা বা পরিমাণ অঙ্কে বা সংখ্যায় লিখলে তাকে অঙ্কবাচক শব্দ বলে। যেমন- ১,৩৪, ৫৬৪
- পরিমাণ বা গণনা বাচক - একাধিকবার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায়, তা-ই পরিমাণ বা গণনা বাচক শব্দ। যেমন- সপ্তাহ, দ্বিগুণ, ১/৪
- ক্রম বা পূরণ বাচক- একই সারি, দল বা শ্রেণীতে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সংখ্যার ক্রম বা পর্যায় বোঝাতে যে সংখ্যা ব্যবহার হয়। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, নবম।
- তারিখ বাচক- বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। যেমন- পহেলা, চৌঠা, একুশে। (১ম চারটি হিন্দি নিয়ম সাধিত)

১১.
স্বরসন্ধির উদাহরণ নীচের কোনটি?
  1. ক) বিপজ্জনক
  2. খ) অধোগতি
  3. গ) বাগ্‌যন্ত্র
  4. ঘ) পরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

স্বরসন্ধির সঙ্গে স্বরসন্ধি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে। অর্থাৎ প্রথম শব্দের শেষে এবং দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে স্বরধ্বনি থাকতে হবে।
স্বরসন্ধির একটি নিয়ম: প্রথম শব্দের শেষে ই / ঈ কার + দ্বিতীয় শব্দের শুরু ই / ঈ কার = উভয়ে মিলে ঈ কার হয়।
কতিপয় স্বরসন্ধির উদাহরণ:
পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা
রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র
অতি + ইত = অতীত
অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর
পরীক্ষা শব্দে নিয়মটি পাওয়া যাওয়ায় সঠিক উত্তর এটি।

অন্যদিকে,
বিপজ্জনক, অধোগতি, বাগ্যন্ত্র শব্দগুলো ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। এগুলোর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো:
বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক
অধঃ + গতি = অধোগতি
বাক্ + যন্ত্র =  বাগ্‌যন্ত্র

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী, ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ

 
১২.
বাংলা বর্ণমালায় শিশ/ উষ্ম বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

শিশ/উষ্ম বর্ণ ধ্বনি - ৪টি - হ, শ, স, ষ।
নাসিক্য ধ্বনি- ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং, ঁ এর মধ্যে অনুনাসিক বর্ণ - ঁ ।
অর্ধস্বর বর্ণ - ৪টি। যথা- ই্, উ্, এ্, ও্ ।
পার্শ্বিক বর্ণ - ১টি। যথা- ল।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

 
১৩.
উচ্চকিত শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) উৎ + চকিত
  2. খ) উচ্চ + কিত
  3. গ) উচ + চকিত
  4. ঘ) উত + চকিত
সঠিক উত্তর:
ক) উৎ + চকিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উৎ + চকিত
ব্যাখ্যা

উচ্চকিত হলো একটি ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
নিয়ম হলো :
প্রথম শব্দের শেষে ত [ৎ} বা দ্ আর পরের শব্দের প্রথমে চ্ বা ছ্ থাকলে ত্ বা দ্ এর স্থানে চ্ হয়।
যেমন:
শরৎ + চন্দ্র = শরচ্চন্দ্র
উৎ + চারণ = উচ্চারণ
তদ্ + চিত্র = তচ্চিত্র
অপশন ‘ক’ তে ৎ পরিবর্তন হয়ে চ এ পরিবর্তন হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী, ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

১৪.
‘পরোপকার‘ শব্দের সন্ধির নিয়ম নীচের কোনটি?
  1. ক) অ-কার + উ
  2. খ) আ-কার + ঊ
  3. গ) আ-কার + উ
  4. ঘ) অ-কার + ঊ
সঠিক উত্তর:
ক) অ-কার + উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ-কার + উ
ব্যাখ্যা

পরোপকার শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ: পর + উপকার
প্রথম শব্দের শেষে অ-কার + দ্বিতীয় শব্দে উ-কার। তাই এটি সঠিক উত্তর।

আ-কার + ঊ এর উদাহরণ:
গঙ্গোমির্ = গঙ্গা + ঊর্মি, মহা + ঊর্মি = মহোর্মি
আ-কার + উ এর উদাহরণ:
যথোচিত = যথা + উচিত
মহোৎসব = মহা + উৎসব
অ-কার + ঊ-কার এর উদাহরণ:
চলোর্মি = চল + ঊর্মি
এক + ঊন = একোন

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

১৫.
ঞ্‌ + চ এর সমন্বয়ে গঠিত যুক্ত বর্ণের শব্দ হলো-
  1. ক) ব্যঞ্জন
  2. খ) তৃষ্ণা
  3. গ) অঞ্চল
  4. ঘ) যজ্ঞ
সঠিক উত্তর:
গ) অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অঞ্চল
ব্যাখ্যা

ঞ্জ = ঞ্ + জ (ব্যঞ্জন)
ষ্ণ = ষ্ + ণ (তৃষ্ণা)
ঞ্চ = ঞ্ + চ (অঞ্চল)
জ্ঞ = জ্ + ঞ (যজ্ঞ)

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী

১৬.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ‘বৃদ্ধি’ হয়?
  1. ক) ‘অ’ স্থলে ‘আ’ হয়
  2. খ) ই, ঈ স্থলে ‘এ’ হয়
  3. গ) উ, ঊ স্থলে ‘ও’ হয়
  4. ঘ) ঋ স্থলে ‘র্অ’ হয়
সঠিক উত্তর:
ক) ‘অ’ স্থলে ‘আ’ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ‘অ’ স্থলে ‘আ’ হয়
ব্যাখ্যা

গুণ ও বৃদ্ধিঃ অনেক সময় কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর আদিস্বর অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
এই পরিবর্তন যথেচ্ছভাবে হয় না, কিছু নিয়ম অনুসরণ করে হয়। কৃৎ প্রত্যয় ব্যবহৃত হওয়ার সময় পরিবর্তন হওয়ার নিয়ম ২টি- গুণ ও বৃদ্ধি।
বৃদ্ধি:
অ-স্থলে আ ; √পচ + ণক = পাচক
ই/ঈ-স্থলে ঐ ; √শিশু + ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ ; √যুব + অন = যৌবন
ঋ-স্থলে আর ; √কৃ + ঘ্যণ(য-ফলা) = কার্য

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী, ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

১৭.
‘অ, ই, উ, ঋ’ - কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. ক) দীর্ঘ স্বরধ্বনি
  2. খ) যৌগিক স্বরধ্বনি
  3. গ) মৌলিক স্বরধ্বনি
  4. ঘ) হ্রস্ব স্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হ্রস্ব স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হ্রস্ব স্বর
ব্যাখ্যা

হ্রস্ব স্বর - ৪টি।
যথা- অ, ই, উ, ঋ।
দীর্ঘ স্বর - ৭টি।
যথা- আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।
যৌগিক বর্ণ/ যৌগিক স্বরবর্ণ/ যৌগিক স্বরধ্বনি/যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ - ২টি।
যথা-
১. ঐ = অ + ই
২. ঔ = অ + উ

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।

১৮.
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’- বাক্যে ‘টাপুর টুপুর’ কোন ধরনের দ্বিরুক্তি পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি শব্দ-
১.ভাবের গভীরতা বোঝাতে : ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিট মিট।
৫. ধ্বনি ব্যঞ্জনা : বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।

১৯.
‘চৌ-হদ্দি’ কীরূপ শব্দ?
  1. ক) দেশি
  2. খ) বিদেশি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র
ব্যাখ্যা

কতিপয় মিশ্র শব্দ-
খ্রিস্টাব্দ = ইংরেজি + তৎসম
চৌ-হদ্দি = ফারসি + আরবি
হাট-বাজার = বাংলা + ফারসি
কালি-কলম = সংস্কৃত + আরবি
পকেট-মার = ইংরেজি + বাংলা
ডাক্তার-খানা = ইংরেজি + ফারসি
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

২০.
ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়?
  1. ক) স্ত্রী প্রত্যয়
  2. খ) কৃৎ প্রত্যয়
  3. গ) বচন প্রত্যয়
  4. ঘ) তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) কৃৎ প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় প্রত্যয় ২ প্রকার।
যথা -
১. কৃৎ প্রত্যয় - ক্রিয়ার সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
২. তদ্ধিত প্রত্যয় - নাম বা শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
বি: দ্র: লিঙ্গভেদে ও বচনভেদে প্রত্যয়ের কোন প্রকার নাই।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী, ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

২১.
‘ঙ’ এর উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নাম -
  1. ক) কন্ঠ্য
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) তালু
  4. ঘ) মূর্ধা
সঠিক উত্তর:
ক) কন্ঠ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কন্ঠ্য
ব্যাখ্যা

ক, খ, গ, ঘ, ঙ - কন্ঠ্য বা জিহবামূলীয় বর্ণ
চ, ছ, জ, ঝ, শ, য - তালব্য বর্ণ
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ় - মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ
ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স - দন্ত বর্ণ
প, ফ, ব, ভ, ম - ওষ্ঠ বর্ণ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী

২২.
কোনটি শূণ্য প্রত্যয়ের শব্দ?
  1. ক) হত
  2. খ) ভয়
  3. গ) জয়
  4. ঘ) ঘুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘুর
ব্যাখ্যা

ঘুর শব্দটির সাথে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়নি। বরং এটি মূলধাতু। তাই সঠিক উত্তর ঘুর।
‘হন’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √হন্ + ক্ত
‘জয়’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √জি + অল
‘ভয়’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √ভী + অল
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী

২৩.
বহি:সন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) পো + ইত্র = পবিত্র
  2. খ) ভজ্ + ত = ভক্ত
  3. গ) দুহ্ + ত = দুগ্ধ
  4. ঘ) বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

অন্ত:সন্ধি: যে সন্ধি অর্থজ্ঞাপনকারী কোনো শব্দ নয়, কোনো ধ্বনি, অব্যয়, উপসর্গ বা ওই জাতীয় শব্দাংশ বা ধ্বনিসমষ্টির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়।
যেমন: পো + ইত্র > পবিত্র। এখানে পো বা ইত্র-র কোন পৃথক অর্থ নেই।
বহি:সন্ধি : দুটি প্রথক অর্থ বিশিষ্ট শব্দ একত্র বসে যে সন্ধি তাকে বহি:সন্ধি বলে।
যেমন : বিদ্যা + আলয় > বিদ্যালয়, বৃহৎ + ধর্ম > বৃহদ্ধর্ম।

উৎস: সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি কোনটি?
  1. ক) পর + পর = পরস্পর
  2. খ) বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
  3. গ) প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
  4. ঘ) তথা + এবচ = তথৈবচ
সঠিক উত্তর:
গ) প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি-
অন্যান্য = অন্য + অন্য ; কুলটা = কুল + অটা
গবাক্ষ = গো + অক্ষ ; প্রৌঢ় = প্র + ঊঢ়
স্বৈর = স্ব + ঈর ; গবেন্দ্র = গো + ইদ্র
গবেশ্বর = গো + ঈশ্বর ; মার্তণ্ড = মার্ত + অণ্ড
শারঙ্গ = শারঙ্গ ; শুদ্ধোধন = শুদ্ধ + ওদন

উৎস: সৌমিত্র শেখর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫.
নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি কোনটি?
  1. ক) প্রাত:কাল = প্রাত: + কাল
  2. খ) দুরবস্থা = দু: + অবস্থা
  3. গ) আশীর্বাদ = আশী: + বাদ
  4. ঘ) শিরচ্ছেদ = শির: + ছেদ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাত:কাল = প্রাত: + কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাত:কাল = প্রাত: + কাল
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি-
আস্পদ = আ: + পদ ; অহরহ = অহ + অহ
ভাস্কর = ভা: + কর ; মন:কষ্ট = মন: + কষ্ট
অহর্নিশ = অহ: + নিশা ; প্রাতকাল = প্রাত: + কাল
শির:পীড়া = শির: + পীড়া ; হরিশ্চন্দ্র = হরি: + চন্দ্র
উৎসঃ সৌমিত্র শেখর - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬.
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃৎ প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ প্রকৃতির আদি স্বর পরিবর্তিত হয়-এই পরিবর্তনকে বলে-
  1. ক) উপধা
  2. খ) ইৎ
  3. গ) টি
  4. ঘ) গুণ ও বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুণ ও বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুণ ও বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

উপধাঃ শব্দে অন্ত্য বর্ণের পূর্ব বর্ণকে উপধা বলে।
ইৎঃ প্রত্যয় প্রাতিপদিক বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় প্রায়ই সম্পূর্ণ বা অখণ্ড অবস্থায় যুক্ত হয় না; এর কিছু অংশ লোপ পায়। যুক্ত হওয়ার সময় প্রত্যয়ের কিছু অংশ লোপ পাওয়াকে বলা হয় ইৎ।
টিঃ ধাতুর আদিস্বরের পরবর্তী সমুদয় ধ্বনিকে ’টি’ বলে। ‘পঠ’ ধাতু ভাঙলে পাই প + অ + ঠ এইখানে ‘অঠ’ হচ্ছে টি।
গুণ ও বৃদ্ধিঃ অনেক সময় কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর আদিস্বর অনেক সময় পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন যথেচ্ছভাবে হয় না, কিছু নিয়ম অনুসরণ করে হয়। কৃৎ প্রত্যয় ব্যবহৃত হওয়ার সময় পরিবর্তন হওয়ার নিয়ম ২টি- গুণ ও বৃদ্ধি।

গুণ :
ই/ঈ-স্থলে এ ; √চিন + আ = চেনা, √নী + আ = নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও ; √ধু + আ = ধোয়া
ঋ-স্থলে অর ; √কৃ + তা = করতা ˃ ক্রেতা

বৃদ্ধি:
অ-স্থলে আ ; √পচ + ণক(অ = পাচক
ই/ঈ-স্থলে ঐ ; √শিশু + ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ ; √যুব + অন = যৌবন
ঋ-স্থলে আর ; √কৃ + ঘ্যণ(য-ফলা) = কার্য

যেমন: রাজা > রাজ + আ এখানে জ উপধা

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ

২৭.
‘সৌর’-এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) সূর্য+ষ্ণ
  2. খ) সুর+ষ্ণ
  3. গ) সৌ+ষ্ণ
  4. ঘ) সৈ+ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) সূর্য+ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সূর্য+ষ্ণ
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণের নিয়মানুসারে যখন কোন কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না অথচ তা সংগঠিত হয় তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ।
যখন এ ব্যতিক্রম সন্ধির ক্ষেত্রে ঘটে তখন তাকে নিপাতনে সিদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় বলে। (এটি মূলত মূখস্ত নির্ভর হয়ে থাকে।)
(সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুর + ষ্ণ = সৌর)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।