পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৭৫
সিলেবাস
Exam- 11 • Full Model Test - 05 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৭৫ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর বিধান অনুসারে, যদি নির্ধারিত শুনানির দিনে বাদী ও বিবাদী উভয়েই অনুপস্থিত থাকে, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. নতুন সমন জারি করতে পারে
  2. মামলা স্থগিত রাখতে পারে
  3. একতরফা রায় দিতে পারে
  4. মামলা খারিজ করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order IX, Rule 3 অনুযায়ী, যদি নির্ধারিত শুনানির দিনে বাদী এবং বিবাদী উভয়ই অনুপস্থিত থাকে, তাহলে আদালত মামলাটি খারিজ করতে পারে।

তবে, Order IX, Rule 4 অনুযায়ী, বাদী পরবর্তীতে নতুনভাবে মামলা দায়ের করতে পারেন অথবা আদালতের নিকট খারিজ আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এটি Limitation Act, 1908 অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে করতে হবে।

অর্থাৎ, শুনানির দিনে কোনো পক্ষই উপস্থিত না হলে আদালত একতরফা রায় দিতে পারে না বা নতুন সমনও জারি করতে পারে না—এটি মামলার কার্যধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং, আদালতের এখতিয়ার থাকবে মামলা খারিজ করার।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে, রুল কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের কতজন বিচারক থাকবেন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩(২) ধারায় বলা হয়েছে যে, রুল কমিটিতে ৩ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক থাকতে হবে, এবং তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে ৩ বছর জেলা জজ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

রুল কমিটির গঠন:
দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩(২) ধারা অনুসারে, রুল কমিটি গঠিত হয়—
- ৩ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, যাদের মধ্যে অন্তত একজন ৩ বছর জেলা জজ হিসেবে কাজ করেছেন।
- ২ জন আইনজীবী, যারা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।
- ১ জন দেওয়ানি আদালতের বিচারক, যিনি উচ্চ আদালতের অধীনস্থ।
এই সমস্ত সদস্য প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং তিনি নিজেও চাইলে কমিটির সদস্য হতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তিনি কমিটির সভাপতি হবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 123. Constitution of Rule Committees.
(1) A Committee, to be called the Rule Committee, shall be constituted for the purpose referred to in section 122. 
(2) Such Committee shall consist of the following persons, namely:- 
(a) three Judges of the Supreme Court, one of whom at least has served as a District Judge for three years; 
(b) two advocates parctising in that Court; and 
(c) a Judge of a Civil Court subordinate to the High Court Division.
(3) The members of such Committee shall be appointed by the Chief Justice, who shall also nominate one of their number to be president: 
Provided that, if the Chief Justice elects to be himself a member of the Committee, the number of other Judges appointed to be members shall be two, and the Chief Justice shall be the President of the Committee.
(4) Each member of such committee shall hold office for such period as may be prescribed by the Chief Justice in this behalf; and whenever any member retires, resigns, dies or becomes incapable of acting as a member of the Committee, the said Chief Justice may appoint another person to be a member in his stead. 
(5) There shall be a Secretary to such Committee, who shall be appointed by the Chief Justice and shall receive such remuneration as may be provided in this behalf by the Government.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১১, বিধি-১ অনুসারে, প্রশ্নমালা (Interrogatories) প্রদানের সময়সীমা গণনা শুরু হয় কোন তারিখ থেকে?
  1. প্রথম শুনানির তারিখ থেকে
  2. ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে
  3. মামলা দায়েরের তারিখ থেকে
  4. উত্তর দাখিলের তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১১, বিধি ১ অনুযায়ী, মামলার পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতের অনুমতি নিয়ে, ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিপক্ষের কাছে লিখিত প্রশ্নমালা (Interrogatories) পাঠাতে পারে।
- এর উদ্দেশ্য হলো, পক্ষগুলো পরস্পরকে প্রাসঙ্গিক তথ্য জানতে বাধ্য করতে পারে এবং মামলার বিচার কার্যক্রম সহজতর হয়।

প্রয়োগের মূল শর্ত:
- ১০ দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হবে ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে।
- আদালতের অনুমতি ছাড়া কেউ একাধিকবার প্রশ্নমালা পাঠাতে পারবে না।
- প্রশ্নমালা মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়ের মধ্যে থাকতে হবে, তা না হলে তা অপ্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-11 Rule-1: Discovery by Interrogatories:
- In any suit, the plaintiff or defendant, by leave of the Court, may, [within ten days from the date of framing of issues,] deliver interrogatories in writing for the examination of the opposite parties or any one or more of such parties, and such interrogatories, when delivered, shall have a note at the foot thereof stating which of such interrogatories each of such persons is required to answer:
Provided that no party shall deliver more than one set of interrogatories to the same party without an order for that purpose:
Provided also that interrogatories which do not relate to any matters in question in the suit shall be deemed irrelevant, notwithstanding that they might be admissible on the oral cross-examination of a witness.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ এর ______  অনুযায়ী একাধিক কমিশনার যদি একমত না হন, তবে তারা পৃথক প্রতিবেদন জমা দেবেন।
  1. বিধি-৪
  2. বিধি-১২
  3. বিধি-১৩
  4. বিধি-১৪
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১৪(২) অনুযায়ী, যদি একাধিক কমিশনার নিযুক্ত হন এবং তারা একমত না হন, তবে তারা পৃথক প্রতিবেদন প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করবেন। প্রতিটি পৃথক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট পক্ষের অংশ এবং (যদি আদেশে উল্লেখ থাকে) প্রত্যেক অংশের পরিমাণ ও সীমানা নির্ধারণ করবে এবং পরে এই প্রতিবেদনসমূহ আদালতে দাখিল করতে হবে।

এতে বলা হয়েছে যে, একাধিক কমিশনারের মধ্যে একমত না হলে, তারা পৃথক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন এবং আদালতে তা দাখিল করবেন।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-26, Rule-14: -Procedure of Commissioner-
(1) Dividing Property and Allotting Shares:
The Commissioner, after conducting the necessary inquiry, will divide the property into as many shares as directed by the order under which the commission was issued. The Commissioner will allot these shares to the parties involved and may, if authorized by the order, award sums to equalize the value of the shares.

(2) Preparation of Report:
The Commissioner (or Commissioners, if the commission was issued to multiple persons and they cannot agree) will prepare and sign a report. The report will detail the share of each party, distinguishing each share with specific boundaries (if directed by the order). If multiple reports are prepared, they will be annexed to the commission and transmitted to the Court within the time fixed by the Court, not exceeding three months. After receiving the report(s), the Court will hear any objections from the parties and may confirm, vary, or set aside the report(s).
Provision for Extension of Time: The Court may extend the time upon a request from the Commissioner and upon sufficient cause being shown.

(3) Court's Action on the Report:
If the Court confirms or varies the report(s), it will pass a decree based on the report as confirmed or varied. However, if the Court sets aside the report(s), it may either issue a new commission or make any other order it deems fit.
.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর বিধান অনুযায়ী, সমন ফেরত আসলে বাদীকে কত দিনের মধ্যে নতুন সমন জারির আবেদন করতে হবে?
  1. ২ মাসের মধ্যে
  2. ১ মাসের মধ্যে
  3. ১০ দিনের মধ্যে
  4. ৭ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order IX, Rule 5(1) অনুযায়ী, যদি সমন ফেরত আসে (returned unserved), তবে বাদীকে ১ মাসের মধ্যে নতুন সমন জারির জন্য আবেদন করতে হবে।
- যদি বাদী এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন না করে, তবে আদালত মামলাটি খারিজ করতে পারেন।
- তবে Rule 5(2) অনুযায়ী, বাদী চাইলে তামাদি আইনের সীমার মধ্যে নতুন করে মামলা দায়ের করতে পারে।
- আদালত যথাযথ কারণ দেখালে সময়সীমা বাড়াতেও পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order IX, Rule 5 অনুসারে, যদি সমন ফেরত আসে এবং বাদী ১ মাসের মধ্যে নতুন সমন জারির জন্য আবেদন না করে, তবে আদালত সেই বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা খারিজের আদেশ দিতে পারে। তবে বাদী যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে তার যথাসাধ্য চেষ্টা সত্ত্বেও সমন জারি করা সম্ভব হয়নি, অথবা অন্য কোনো বৈধ কারণ ছিল, তবে আদালত সময় বৃদ্ধি করতে পারে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে কোন বিষয়টির নিয়ম নির্ধারণ করা হয়নি?
  1. সমন জারির নিয়ম
  2. আপিল করার নিয়ম
  3. ফৌজদারি মামলার বিচার
  4. মামলা দায়ের করার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908) একটি পদ্ধতিগত আইন, যা দেওয়ানি (সিভিল) মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে। তবে এটি ফৌজদারি (অপরাধমূলক) মামলার বিচার সংক্রান্ত কোনো বিধান নির্ধারণ করে না।

অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
- ক) সমন জারির নিয়ম → দেওয়ানি কার্যবিধিতে কীভাবে মামলার পক্ষগুলোর কাছে সমন পাঠানো হবে, তার বিস্তারিত নিয়ম দেওয়া আছে (Order V of CPC)।
- খ) আপিল করার নিয়ম → দেওয়ানি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা (যেমন Section 96-112) আপিল, রিভিশন ও রিভিউ করার বিধান নির্ধারণ করে।
- ঘ) মামলা দায়ের করার পদ্ধতি → দেওয়ানি কার্যবিধির Order IV-এ কীভাবে দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে হবে, তা উল্লেখ আছে।

তবে,
- গ) ফৌজদারি মামলার বিচার → এটি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (Code of Criminal Procedure, 1898) বা সংক্ষেপে CrPC দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ, দেওয়ানি কার্যবিধি শাস্তিমূলক বা অপরাধমূলক (criminal) বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে রায় ঘোষণা করতে আদালতকে সর্বোচ্চ কত দিন সময় দেওয়া আছে?
  1. শুনানি শেষে তৎক্ষণাৎ
  2. শুনানি শেষে ৭ দিনের মধ্যে
  3. শুনানি শেষে ১৫ দিনের মধ্যে
  4. শুনানি শেষে ৩০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার XX, রুল ১ অনুযায়ী, মামলার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালত তৎক্ষণাৎ বা অনধিক সাত (৭) দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করবেন।
- এটি বিচারিক কার্যক্রমকে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত একটি সময়সীমা, যাতে পক্ষগণ অযথা বিলম্বের সম্মুখীন না হন। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত কিছু ব্যতিক্রম করতে পারেন।

→ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার-২০, বিধি-১ (Order XX, Rule 1) অনুযায়ী: আদালতকে মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর অনধিক ৭ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে হবে।
এই সময়সীমা বাধ্যতামূলক, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে আদালত এটি বাড়াতে পারেন।
- রায় প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করতে হবে। পক্ষদের বা তাদের আইনজীবীকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে (যদি রায় পরবর্তী কোনো দিনে ঘোষণা করা হয়)।

- পূর্ববর্তী বিচারক লিখিত রায় না দিয়ে থাকলে, নতুন বিচারক তা ঘোষণা করতে পারেন (বিধি-২)। 
- তবে জটিল মামলায় আদালত লিখিত কারণ দর্শিয়ে সময় বাড়াতে পারেন।
- রায়ে স্বাক্ষর ও তারিখ দিতে হবে (বিধি-৩)।
- ৭ দিনের বেশি বিলম্ব করলে বিলম্বের কারণ রেকর্ড করতে হবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) শুনানি শেষে ৭ দিনের মধ্যে।
.
“অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা” (mesne profits) এর দাবিতে মামলা করলে বাদী অভিযোগে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. সঠিক পরিমাণ
  2. আনুমানিক পরিমাণ
  3. সর্বোচ্চ সম্ভাব্য পরিমাণ
  4. পূর্ববর্তী বছরের পরিমাণ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: খ) আনুমানিক পরিমাণ।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-৭, বিধি-২ অনুসারে, "অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা" (mesne profits) বা অপরিষ্কৃত হিসাবের ভিত্তিতে টাকা আদায়ের মামলা করলে, বাদী লিখনে আনুমানিক পরিমাণ উল্লেখ করাই যথেষ্ট।
অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা: এটি সম্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে অর্জিত আয় বা লাভ, যা প্রকৃত মালিক পেতে পারতেন যদি সম্পত্তি তার দখলে থাকত।
উদাহরণ: জমি দখলদার কর্তৃক ভাড়া আদায় করা।

- আদেশ-৭, বিধি-২-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে:
"where the plaintiff sues for mesne profits... the plaint shall state approximately the amount sued for."
("অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা" (mesne profits) এর দাবিতে আনুমানিক পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে)।

- "অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা" (mesne profits) এর সঠিক হিসাব মামলার প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় (হিসাব নিরূপণের মাধ্যমে)। আদালত হিসাব রিপোর্ট (Commission for Accounts) নির্দেশ দিতে পারে।
- আনুমানিক পরিমাণ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে (মূল দাবির সাথে সাংঘর্ষিক না হলে)। আদালত স্টাম্প ফি আনুমানিক মূল্য অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) আনুমানিক পরিমাণ।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, আদালতে কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে উপস্থিতি, আবেদন বা কার্যক্রম কীভাবে করা যেতে পারে?
  1. ব্যক্তিগতভাবে
  2. আইনজীবীর মাধ্যমে
  3. স্বীকৃত এজেন্টের মাধ্যমে
  4. উল্লিখিত সকল ভাবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩, বিধি-১.  উপস্থিতি ইত্যাদি ব্যক্তিগতভাবে, স্বীকৃত এজেন্ট বা আইনজীবীর মাধ্যমে হতে পারে:
→ আদালতে কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে যে কোনো উপস্থিতি, আবেদন বা কার্যক্রম, যা আইনের দ্বারা অনুমোদিত বা প্রয়োজনীয়, তা করা যেতে পারে—
- সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে, অথবা
- তার স্বীকৃত এজেন্টের মাধ্যমে, অথবা
- আইনজীবীর মাধ্যমে, যিনি তার পক্ষে উপস্থিত থাকবেন, আবেদন করবেন বা কার্য পরিচালনা করবেন।
তবে আদালত যদি নির্দেশ দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার-৩, রুল-১ অনুযায়ী, কোনো পক্ষ আদালতে—
- নিজে (ব্যক্তিগতভাবে) উপস্থিত হতে পারেন,
- আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতে পারেন, এবং
- স্বীকৃত এজেন্টের মাধ্যমে আদালতে কার্য সম্পাদন করতে পারেন।
তবে, আদালত চাইলে ব্যক্তিগত উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে পারে।
- তাই সঠিক উত্তর "ঘ"।
১০.
আদেশ ১০, বিধি ৪(১) অনুসারে আদালত কখন পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. মামলার শুনানি দীর্ঘায়িত হলে
  2. পক্ষ আদালতকে অসম্মান করলে
  3. উকিল মামলা পরিচালনায় অক্ষম হলে
  4. পক্ষের উকিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করলে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১০, বিধি ৪(১) অনুযায়ী, যদি আদালত মনে করে যে পক্ষের উকিল মামলার গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারছে না বা অস্বীকার করছে, তখন আদালত সেই পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১০, বিধি ৪(১) অনুসারে, যদি কোন পক্ষের উকিল বা তার সঙ্গী আদালতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে বা অসমর্থ হয়, এবং আদালতের মতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে উত্তর দিতে সক্ষম, তাহলে আদালত শুনানি স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
- বিধি ৪(২) অনুসারে, যদি পক্ষ বিনা বৈধ কারণে ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়, তাহলে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় দান করতে পারেন বা অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ দিতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১০, বিধি-৪ অনুসারে, যদি কোনো পক্ষের উকিল বা সঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে বা অসমর্থ হয়, তবে আদালত মামলার শুনানি ভবিষ্যতের কোন তারিখ পর্যন্ত স্থগিত রাখবে এবং সে তারিখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেবে।
এছাড়া, যদি নির্ধারিত তারিখে পক্ষ কোনো আইনসঙ্গত কারণে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়, তখন আদালত ওই পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারেন বা অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারেন।
১১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৭৪ অনুযায়ী, যদি নিলামে সঠিক মূল্য প্রস্তাবিত না হয়, তবে আদালত কী করতে পারে?
  1. বিক্রি বাতিল করতে পারে
  2. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে
  3. নিলাম স্থগিত রেখে পরবর্তী দিনে পরিচালনা করতে পারে
  4. বাধ্যতামূলকভাবে সর্বনিম্ন দরদাতাকে সম্পত্তি দিতে পারে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) নিলাম স্থগিত রেখে পরবর্তী দিনে পরিচালনা করতে পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-২১, বিধি-৭৪(২) অনুসারে, কৃষিজাত দ্রব্যের নিলামে যদি ন্যায্য মূল্য প্রস্তাবিত না হয়, তবে আদালত নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে পারে:
(ক) নিলামকারী কর্মকর্তার মতে ন্যায্য মূল্য প্রস্তাবিত না হলে, এবং
(খ) মালিক বা তার আইনানুগ প্রতিনিধি পরবর্তী দিন বা হাটবার পর্যন্ত নিলাম স্থগিতের আবেদন করলে,
আদালত নিলাম স্থগিত করে নির্ধারিত দিনে পুনরায় নিলাম পরিচালনা করবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-২১, বিধি-৭৪(২) এ বলা হয়েছে: 
(২) যখন ফসল বিক্রয়ের জন্য তোলা হবে, তখন−
(ক) যদি বিক্রির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মনে করেন যে ন্যায্য মূল্য প্রস্তাবিত হয়নি, এবং
(খ) মালিক বা তার প্রতিনিধির অনুরোধে বিক্রয় পরবর্তী দিন বা বাজারের দিনে স্থগিত করার আবেদন করা হয়,
তাহলে বিক্রয় স্থগিত থাকবে এবং পরবর্তী নির্ধারিত দিনে যে মূল্যই হোক, তা অনুসারে বিক্রয় সম্পন্ন হবে।

⇒Order-21,Rule-74 (2) Where, on the produce being put up for sale,−
(a) a fair price, in the estimation of the person holding the sale, is not offered for it, and
(b) the owner of the produce or a person authorized to act in his behalf applies to have the sale postponed till the next day or, if a market is held at the place of sale, the next market-day,
the sale shall be postponed accordingly and shall be then completed, whatever price may be offered for the produce.
১২.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, দাখিলের পর লিখিত জবাবে নতুন তথ্য যোগ করতে হলে কী করতে হবে?
  1. আদালতের অনুমতি নিতে হবে
  2. বাদীর আইনজীবীর স্বাক্ষর নিতে হবে
  3. বাদীকে শুধুমাত্র অবহিত করতে হবে
  4. শুনানির সময় মৌখিকভাবে উল্লেখ করলেই চলবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order VIII, Rule 9 অনুসারে, লিখিত জবাব (Written Statement) দাখিলের পর যদি বিবাদী নতুন কোনো তথ্য বা যুক্তি যোগ করতে চান, তবে তাকে আদালতের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

→ Order VIII, Rule 9 of the Code of Civil Procedure (CPC), 1908:
"No pleading subsequent to the written statement of a defendant shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit."
অর্থাৎ, প্রাথমিক লিখিত জবাব দাখিলের পর কোনো অতিরিক্ত বিবৃতি (Subsequent Pleading) দাখিল করতে হলে আদালতের অনুমতি আবশ্যক। আদালত প্রয়োজন মনে করলে অনুমতি দিতে পারেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত আরোপ করতে পারেন।

প্রক্রিয়া:
আবেদন দাখিল: বিবাদীকে আদালতে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন (Application) দাখিল করতে হবে, যেখানে ব্যাখ্যা করা হবে কেন নতুন তথ্য যুক্ত করা জরুরি।
কারণ দর্শানো: আদালত বিবেচনা করবেন যে নতুন তথ্য বা যুক্তি যুক্ত করা ন্যায়সঙ্গত কিনা।
বিপক্ষ পক্ষের সুযোগ: প্রয়োজনে আদালত বাদীকে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দিতে পারেন।
আদালতের অনুমতি: আদালত যথাযথ মনে করলে নতুন তথ্য বা দাবি যুক্ত করার অনুমতি দেবেন।
১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, নাবালক বাদী কী কারণে তার নেক্সট ফ্রেন্ডের মাধ্যমে রুজুকৃত মোকদ্দমা খারিজ করতে পারে?
  1. মামলার শিরোনাম ভুল
  2. কোনো কারণ ছাড়াই
  3. অযৌক্তিক বা অসংগত
  4. অত্যধিক সময় নেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, একটি নাবালক বাদী সাবালক হওয়ার পর আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত কারণে খারিজ করা হোক। এর মানে হল, যদি নাবালক বাদী মনে করে যে, তার নামে রুজুকৃত মামলা যুক্তিসংগত বা আইনি কারণে সঠিক নয়, তবে সে আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করতে পারে।

- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-৩২, বিধি-১৪(১) অনুসারে, নাবালক বাদী সাবালকত্ব প্রাপ্তির পর তার নামে নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend) দ্বারা রুজুকৃত মোকদ্দমা খারিজের আবেদন করতে পারবে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত কারণে: মোকদ্দমাটি অযৌক্তিক (Unreasonable) বা অনুচিত (Improper) হলে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি-১৪: অযৌক্তিক বা অনুচিত মোকদ্দমা:
১) কোন নাবালক একমাত্র বাদি হলে সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয়ে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত হওয়ার কারণে খারিজ হবে।
২) সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপর আবেদনের নোটিশ জারি করতে হবে এবং উক্ত অসংগত কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়ে আদালত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে এবং আবেদনপত্র ও মোকদ্দমার ব্যাপারে কোন কিছু সম্পর্কে সকল পক্ষ বরাবর খরচাদি পরিশোধের জন্য নেক্সট ফ্রেন্ডকে আদেশ দিতে পারে বা আদালত উপযুক্ত মনে করে অন্য কোন উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-32 Rule-14:
(1)A minor, upon attaining majority, may, if he is the sole plaintiff, apply for the dismissal of a suit instituted in his name by his next friend on the grounds that it was unreasonable or improper.
(2)Notice of the application shall be served on all the parties concerned. Upon being satisfied of the unreasonableness or impropriety of the suit, the Court may grant the application and order the next friend to pay the costs of all parties regarding the application and anything done in the suit, or make such other order as it deems appropriate.
১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩, বিধি-৪ অনুযায়ী আইনজীবী (Pleader) নিযুক্ত করার জন্য কী প্রয়োজন?
  1. মৌখিক অনুমতি
  2. লিখিত নিযুক্তিপত্র
  3. শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি
  4. কোনো ফরমালিটি নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩, বিধি-৪(১) অনুযায়ী, কোনো আইনজীবী (Pleader) আদালতে কারো পক্ষে কাজ করার জন্য লিখিত নিযুক্তিপত্র (Written Document of Appointment) আবশ্যক।
আইনজীবীর (Pleader) নিয়োগ: 
→ কোনো আইনজীবী আদালতে কারো পক্ষে কাজ করতে পারবেন না, যদি না তিনি লিখিতভাবে নিযুক্ত হন। এই নিযুক্তি হতে হবে— সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত দলিলের মাধ্যমে, অথবা স্বীকৃত এজেন্ট কর্তৃক, অথবা পাওয়ার-অফ-অ্যাটর্নির মাধ্যমে অনুমোদিত অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক।

দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, আদালতে কোনো আইনজীবী (pleader) তখনই কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করতে পারবেন, যদি তাকে লিখিতভাবে নিযুক্ত করা হয়।
এই নিযুক্তিপত্র হতে হবে—
- মক্কেল স্বাক্ষরিত লিখিত দলিল, অথবা
- স্বীকৃত এজেন্টের মাধ্যমে অনুমোদিত নিযুক্তিপত্র, অথবা
- পাওয়ার-অফ-অ্যাটর্নির মাধ্যমে অনুমোদিত দলিল।
এটি আদালতে দাখিল করতে হবে এবং যতক্ষণ না তা প্রত্যাহার করা হয় বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ মারা যায়, ততক্ষণ কার্যকর থাকবে।
তাই সঠিক উত্তর "খ"।
১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৯ অনুযায়ী, নতুন ডিক্রি-ধারী নিম্নলিখিত কোনটি দাবি করতে পারবে না?
  1. ডিক্রির অর্থ আদায়
  2. মূল ডিক্রি-ধারীর সমস্ত অধিকার
  3. আদালতে আবেদন করার অধিকার
  4. দায়ীকের বিরুদ্ধে নতুন শর্ত আরোপ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, নতুন ডিক্রি-ধারী (Transferee) মূল ডিক্রি-ধারীর অধিকার ও শর্তেই ডিক্রি কার্যকর করবে। তবে, সে নতুন কোনো শর্ত আরোপ করতে পারবে না বা বিচার-দেনাদারের (দায়ীক) বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করতে পারবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, ডিক্রি হস্তান্তর (Transfer of Decree) সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধারার মূল বক্তব্য হলো—
যদি কোনো ডিক্রি হস্তান্তর করা হয়, তাহলে নতুন ডিক্রি-ধারী সেই ডিক্রিটি সেইসব শর্ত ও সীমাবদ্ধতার অধীনে গ্রহণ করবে, যেসব শর্ত দায়ীকের (Judgment Debtor) মূল ডিক্রি-ধারীর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারত।
অর্থাৎ, নতুন ডিক্রি-ধারী (Transferee) কোনো নতুন সুবিধা দাবি করতে পারবে না এবং পূর্ববর্তী ডিক্রি-ধারীর শর্তেই ডিক্রি কার্যকর করতে পারবে।
-----------------
→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-49. Transferee: 
 Every transferee of a decree shall hold the same subject to the equities (if any) which the judgment-debtor might have enforced against the original decree-holder.
১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারা সংক্রান্ত মামলা কোথায় দায়ের করতে হবে?
  1. যেখানে আদালতের নির্দেশ দেয়
  2. যেখানে সম্পত্তি অবস্থিত
  3. যেখানে বাদী বাস করে
  4. যেখানে বিবাদী বাস করে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ১৬ ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারা সংক্রান্ত মামলা যেখানে সম্পত্তি অবস্থিত, সেই আদালতে দায়ের করতে হবে। এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো মামলার বিষয়বস্তুর সাথে সম্পত্তির অবস্থানের সরাসরি সম্পর্ক থাকায়, মামলার সুবিধাজনক স্থান নির্ধারণ করা।
- এই ধারায় উল্লেখিত মামলাগুলির মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, বাটোয়ারা, বন্ধক, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের মামলাগুলি সম্পত্তির অবস্থান অনুযায়ী নির্দিষ্ট আদালতে দায়ের করতে হয়, কারণ সম্পত্তির অবস্থান মামলার বিষয়বস্তুর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) যেখানে সম্পত্তি অবস্থিত।
১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, বাদীর অভিযোগ (Plaint) এর মাঝে নিম্নের কোনটি উল্লেখ্য নয়?
  1. আদালতের নাম
  2. বিবাদীর মাসিক আয়
  3. বাদী-বিবাদীর নাম ও ঠিকানা
  4. মামলার কারণ গঠনকারী ঘটনাবলি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-৭, বিধি-১ অনুসারে, বাদীর অভিযোগ (Plaint)-এ নিম্নলিখিত তথ্য অবশ্যই উল্লেখ্য করতে হবে:, যেমন—
- আদালতের নাম
- বাদী ও বিবাদীর নাম, বিবরণ ও ঠিকানা
- মামলার কারণ গঠনকারী ঘটনাবলি এবং কখন তা সংঘটিত হয়েছে
- আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত তথ্য
- বাদীর দাবি ও চাওয়া প্রতিকার
তবে, "বিবাদীর মাসিক আয়" দেওয়ানি মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক নয়, কারণ এটি মামলার বিচারিক এখতিয়ার বা মূল দাবির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়। তাই এটি বাদীর অভিযোগের আবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে গণ্য হয় না।

সুতরাং, আদেশ-৭, বিধি-১ অনুযায়ী বিবাদীর আয়ের উল্লেখ বাদী লিখনে আবশ্যক নয়।
১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারা অনুসারে আদালত কী খতিয়ে দেখে?
  1. দলিলের ভাষাগত ত্রুটি
  2. দলিলের লেখার ধরন
  3. দলিলের প্রকৃত আইনি পরিণতি
  4. দলিলের ন্যায্যতা ও বৈধতা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারা অনুসারে, যখন আদালত কোনো লিখিত দলিল সংশোধনের (rectification) বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আদালত শুধু দলিলের ভাষা বা লেখার ধরন বিশ্লেষণ করে না। বরং, আদালত খতিয়ে দেখে—
- দলিলটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল
- পক্ষগণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী দলিলটির কী আইনি পরিণতি হওয়া উচিত
অর্থাৎ, আদালত শুধু দলিলের শব্দ বা ভাষাগত ত্রুটির দিকে তাকিয়ে থাকে না, বরং দলিল প্রণয়নের সময় পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর আইনি প্রভাব যাচাই করে।
- অতএব,  ধারা ৩৩ অনুযায়ী, আদালত দলিলের ভাষাগত গঠন বা লেখার ধরন নয়, বরং এর প্রকৃত আইনি পরিণতি এবং পক্ষগণের উদ্দেশ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
- লিখিত দলিল সংশোধন করার সময় আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন, কি অর্থ বহন করা দলিলের অভিপ্রেত ছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল সম্পর্কে অভিপ্রায় কি ছিল, কেবল মাত্র সে ব্যাপারেই অনুসন্ধান সীমিত থাকবে না।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 33. Principles of rectification:
- In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.
১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের সিদ্ধান্ত কে নিতে পারেন?
  1. আদালত
  2. সরকারি কর্মকর্তা
  3. বাদীর আইনজীবী
  4. বিবাদীর আইনজীবী
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক (রিসিভার) নিয়োগের সিদ্ধান্ত আদালত নিতে পারেন। আদালত যদি মনে করেন যে বিরোধীয় সম্পত্তির সুরক্ষা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রিসিভার নিয়োগ করা প্রয়োজন, তাহলে তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রিসিভার নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন এবং আদালতের বিচারিক ক্ষমতার মধ্যে পড়ে।
- অতএব, রিসিভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত আদালত নিতে পারেন।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে। অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন। রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধান তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক: -প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।

⇒ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কিন্তু কখন কী প্রয়োজনে আদালত রিসিভার নিয়োগ করবেন বা রিসিভারের দায়িত্ব কর্তব্য বা অধিকার কী হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 44 Appointment of receivers discretionary: The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
Reference to Code of Civil Procedure: The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.
২০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনটি কোন ধরনের আইন?
  1. Penal Law
  2. Punitive Law
  3. Procedural Law
  4. Substantive Law
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ একটি Substantive Law (মৌলিক আইন) কারণ এটি ব্যক্তির অধিকার এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা নির্ধারণ করে।
- Substantive Law হল এমন আইন যা ব্যক্তির অধিকার, কর্তব্য এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে। এটি বলে দেয় যে, কোন পরিস্থিতিতে কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে বা যাবে না।

- অপরদিকে, Procedural Law (প্রক্রিয়াগত আইন) নির্ধারণ করে কীভাবে অধিকার বা প্রতিকার বাস্তবায়ন করা হবে, অর্থাৎ মামলার পরিচালনা পদ্ধতি। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোনও প্রক্রিয়াগত নিয়ম নির্ধারণ করে না, বরং কোন কোন পরিস্থিতিতে প্রতিকার পাওয়া যাবে তা নির্ধারণ করে।
- Penal Law (দণ্ডবিধি) বা Punitive Law (শাস্তিমূলক আইন) মূলত অপরাধ ও তার শাস্তি সম্পর্কিত আইন, যা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

উদাহরণ:
- যদি কোনও ব্যক্তি বেআইনিভাবে সম্পত্তি থেকে অপসারিত হয়, তাহলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন তার জন্য পুনরুদ্ধারের প্রতিকার (Relief) নির্ধারণ করে। এটি অপরাধমূলক শাস্তি দেয় না, বরং বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করে।

সুতরাং, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন একটি Substantive Law, কারণ এটি নাগরিক অধিকার ও প্রতিকার নির্ধারণ করে, অপরাধের শাস্তি নয়।
২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কীভাবে প্রদান করা হয়?
  1. ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে
  2. নির্দিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে
  3. অপরাধের জন্য দণ্ড প্রদানের মাধ্যমে
  4. আদালতের আদেশ ছাড়া ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) নির্দিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (Specific Relief) হল এমন একটি আইনি প্রতিকার, যেখানে আদালত কোনো পক্ষকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করে বা একটি নির্দিষ্ট বাধা আরোপ করে।
- এটি সাধারণত প্রতিকারমূলক আইন (Remedial Law) হিসাবে বিবেচিত হয়, যেখানে ক্ষতিপূরণ (Damages) প্রদানের পরিবর্তে বাস্তব প্রতিকার (Actual Performance) প্রদান করা হয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নিম্নলিখিত উপায়ে প্রদান করা হয়:
১) নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল প্রদান করা – আদালত কোনো পক্ষকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট সম্পত্তি ফেরত দিতে বাধ্য করতে পারে।
২) কোনো ব্যক্তিকে চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা – যদি কোনো পক্ষ চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আদালত তাকে বাধ্য করতে পারে।
৩) কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখা – প্রতিষেধক আদেশ (Injunction) দ্বারা আদালত কোনো পক্ষকে কোনো বিশেষ কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে।
৪) পক্ষগুলোর অধিকার নির্ধারণ ও ঘোষণা করা – আদালত কোনো পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, যা প্রতিকারমূলক হতে পারে।
৫) রিসিভার নিয়োগ করা – আদালত কোনো সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য একজন রিসিভার (Receiver) নিয়োগ করতে পারে।

অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
(ক) ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে – এটি একটি সাধারণ দেওয়ানি প্রতিকার (Civil Remedy), কিন্তু এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে পড়ে না।
(গ) অপরাধের জন্য দণ্ড প্রদানের মাধ্যমে – এটি ফৌজদারি আইন (Criminal Law) সংক্রান্ত বিষয়, যা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(ঘ) আদালতের আদেশ ছাড়া ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে – সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আদালতের মাধ্যমে প্রদত্ত প্রতিকার, ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা যায় না।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সাধারণত সম্পত্তি হস্তান্তর, বাধ্যতামূলক কর্মসম্পাদন (Specific Performance), প্রতিষেধক আদেশ (Injunction) ইত্যাদির মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এটি ক্ষতিপূরণের বিকল্প হিসেবে আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। 
২২.
নিম্নের কোন পরিস্থিতিতে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না?
  1. যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়
  2. যেখানে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে বাদী সম্পূর্ণ প্রতিকার পেতে পারেন
  3. যেখানে বিচারিক কার্যধারার জটিলতা কমানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন
  4. যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের মানদণ্ড নেই
ব্যাখ্যা
⇒ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) সাধারণত তখনই আদালত মঞ্জুর করেন যখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিকার (adequate relief) পান না। এটি Specific Relief Act, 1877-এর ধারা 54 অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

 যদি আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হয়:
- আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সাধারণত তখনই দেন যখন বাদীর অধিকার লঙ্ঘনের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কেবল অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
- যদি বাদী সম্পূর্ণ প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমেই পেতে পারেন, তবে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন হয় না।

অন্যান্য  অপশন বিশ্লেষণ:
-(ক) যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয় – এই পরিস্থিতিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যেতে পারে, কারণ ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়।
- (গ) যেখানে বিচারিক কার্যধারার জটিলতা কমানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন – আদালত বিচারিক জটিলতা কমানোর স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন, যদি এটি ন্যায়সঙ্গত হয়।
-(ঘ) যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের মানদণ্ড নেই – যদি ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, তবে আদালত নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।

অর্থাৎ যদি আর্থিক ক্ষতিপূরণই বাদীর জন্য যথেষ্ট প্রতিকার হয়, তবে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না। তাই (খ) সঠিক উত্তর।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা অনুসারে, যখন বিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকার অথবা সম্পত্তির ভোগ করার অধিকারে অন্যায় ভাবে হস্তক্ষেপ করে অথবা হস্তক্ষেপ করার হুমকি প্রদান করে তখন আদালত নিম্ন বর্ণিত পাঁচটি ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
১। যেখানে বিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার।
২। যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের কারণে সংঘটিত বাস্তব সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই।
৩। যেখানে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত অধিকার পাওয়া যাবে না।
৪। যেখানে এমন সম্ভাবনা থাকে যে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
৫। যেখানে বিচার বিভাগীয় কার্যধারায় জটিলতা নিবারণের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয়।

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 54 Perpetual injunctions when granted:
Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):-
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.

Explanation - For the purpose of this section a trademark is property.
২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় কী রেকর্ড করতে হবে?
  1. তদন্ত প্রতিবেদন
  2. অব্যাহতির কারণ
  3. ফরিয়াদির জবানবন্দি
  4. অভিযুক্তের জবানবন্দি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: খ) অব্যাহতির কারণ।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারা অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে অভিযোগ ভিত্তিহীন, তাহলে তিনি চার্জ গঠনের আগে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারেন। তবে, এই আদেশ দেওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেটকে অব্যাহতির কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে।
- ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথিপত্র ও দাখিলকৃত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।
- আদালত তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য বিবেচনায় নিয়ে যদি দেখেন যে অভিযোগ ভিত্তিহীন, তখন অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
- এক্ষেত্রে অব্যাহতির কারণ লিখিত আকারে রেকর্ড করতে হয়।
অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারা অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট যদি কোনো আসামিকে অব্যাহতি দেন, তাহলে তাকে অব্যাহতির কারণ স্পষ্টভাবে রেকর্ড করতে হবে। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার কার্যক্রম সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- ধারা ২৪১(ক)-ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামির অব্যাহতি [Discharge of Accused by Magistrate):
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে ২৪১ক ধারায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিবে। পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে মামলার এফআইআর, চার্জশিট, পুলিশের নিকট দেয়া বা সংগ্রহকৃত তথ্য বা প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং নালিশি কেসের ক্ষেত্রে মামলার অভিযোগ, বিচারিক অনুসন্ধান ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি কাগজপত্র আমলে নিবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-241A: When accused shall be discharged:
- When the accused appears or is brought before the Magistrate, and if the Magistrate, upon consideration of the record of the case and the documents submitted therewith and making such examination, if any, of the accused as the Magistrate thinks necessary and after giving the prosecution and the accused an opportunity of being heard, considers the charge to be groundless, he shall discharge the accused and record his reasons for so doing.
২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, “Magistrate” শব্দটি যদি আলাদাভাবে ব্যাখ্যা না করা হয়, তাহলে এর মানে কী?
  1. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  2. বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট
  3. বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট
  4. সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪ক(১)(a) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
"In this Code, unless the context otherwise requires, any reference, without any qualifying word, to a Magistrate, shall be construed as a reference to a Judicial Magistrate."
অর্থাৎ, যদি “Magistrate” শব্দটি কোনো বিশেষণ বা ব্যাখ্যা ছাড়া ব্যবহার করা হয়, তাহলে তার অর্থ হবে “Judicial Magistrate” (বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট)।
২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, যদি কোনো অভিযুক্ত আদালতে হাজির না হয় এবং তার বিরুদ্ধে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান অনুসরণ করা হয়, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না
  2. তাকে আজীবন কারাদণ্ড দিতে পারে
  3. তার বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার চালাতে পারে
  4. তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দোষ ঘোষণা করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: গ) তার বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার চালাতে পারে
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ(১) ধারা অনুসারে, যদি কোনো অভিযুক্ত আদালতে হাজির না হয় এবং তার বিরুদ্ধে ৮৭ (পলাতক ঘোষণার আদেশ) ও ৮৮ (সম্পত্তি ক্রোক) ধারার বিধান অনুসরণ করা হয়, তবে আদালত কমপক্ষে দুইটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অভিযুক্তকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।
যদি অভিযুক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হয়, তাহলে আদালত তার অনুপস্থিতিতেই বিচার চালাতে পারে, যা "Trial in absentia" বা "অনুপস্থিতিতে বিচার" নামে পরিচিত।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশি অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।

(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.

(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য প্রদত্ত consecutive sentences-এর সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. ১০ বছর
  2. ১৪ বছর
  3. ২০ বছর
  4. যেকোনো মেয়াদ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫(২)(ক) অনুসারে, একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য প্রদত্ত consecutive sentences (ধারাবাহিক কারাদণ্ড)-এর সর্বোচ্চ সীমা ১৪ বছর। অর্থাৎ, বিভিন্ন অপরাধের জন্য পৃথক কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সেগুলোর সমষ্টি ১৪ বছরের বেশি হতে পারবে না।

- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৫(২) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি একটিমাত্র বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হন, তাহলে আদালত consecutive sentences প্রদান করতে পারে। 
"তিনটি বা তার অধিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি একটিমাত্র বিচারে দণ্ডিত হন, তবে আদালত তার বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক সাজা প্রদান করতে পারে। এই সাজাগুলো ধারাবাহিকভাবে চলবে, অর্থাৎ একে অপরের পরে কার্যকর হবে। তবে, এই সাজাগুলোর মোট মেয়াদ একসাথে ১৪ বছর ছাড়িয়ে যাবে না।"

(2) In the case of consecutive sentences, it shall not be necessary for the Court, by reason only of the aggregate punishment for the several offences being in excess of the punishment which it is competent to inflict on conviction of a single offence, to send the offender for trial before a higher Court:
Provided as follows:-
(a) in no case shall such person be sentenced to imprisonment for a longer period than fourteen years;
(b) if the case is tried by a Magistrate, the aggregate punishment shall not exceed twice the amount of punishment which he is, in the exercise of his ordinary jurisdiction, competent to inflict.
২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় Time for disposal of appeals and Revision এর বিধান আছে?
  1. ৪৪১ক
  2. ৪৪২
  3. ৪৪২ক
  4. ৪৩৯ক
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure) অনুযায়ী, ধারা ৪৪২ক (Section 442A) এ "Time for disposal of appeals and revisions" সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪২ক ধারার বিধান:- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপিল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপিল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 442A- Time for disposal of appeals and Revision:
(1) An Appellate Court shall dispose of an appeal filed before it within ninety days from the date of service of notice upon respondents.
(2) A Court having power of revision shall dispose of a proceeding in revision within ninety days from the date of service of notice upon the parties.
(3) In this section, in determining the time, only the working days shall be counted.

২৮.
সমন জারির জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. ধারা ৬৬
  2. ধারা ৬৮
  3. ধার ৭৬
  4. ধার ৭৮
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৮-এ সমন জারির প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে, আদালত যখন কাউকে সমন জারি করবে, তখন তা লিখিত আকারে, আদালতের বিচারক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সীলমোহর ও স্বাক্ষরযুক্ত হবে
- এছাড়া, সমন পরিবেশন করার জন্য এটি পুলিশ কর্মকর্তা, আদালতের কর্মকর্তা, বা সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক পরিবেশন করা যেতে পারে, এবং ব্যক্তিগতভাবে বা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে তা পরিবেশন করা হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারার বিধান সমনের ফরম:
(১) কোন আদালত কর্তৃক এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে প্রদত্ত প্রত্যেকটি সমন লিখিতভাবে ও দুই কপিতে দিতে হবে এবং উক্ত আদালতের বিচারক বা সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রণীত বিধি কর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোন অফিসার দ্বারা স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরকৃত হবে।
(২) সমন জারিকারক : এরূপ সমন কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক অথবা এতদ্দুদ্দেশ্যে সরকার দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে সমন প্রদানকারী আদালতের কোন অফিসার কর্তৃক অথবা কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক জারী হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section- 68. Form of summons:
1) Every summons issued by a Court under this Code shall be in writing in duplicate, signed and sealed by the presiding officer of such Court, or by such other officer as the 78[Supreme Court] may, from time to time, by rule, direct.

Summons by whom served:
2) Such summons shall be served by a police-officer, or subject to such rules as the Government may prescribe in this behalf, by an officer of the Court issuing it or other public servant.
২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ক(১) অনুযায়ী, কোন অবস্থায় সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে সাজা সংক্রান্ত আপিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. যখন সাজা ঠিক থাকে
  2. যখন সাজা অপর্যাপ্ত হয়
  3. যখন সাজা অত্যন্ত বেশি
  4. উল্লিখিত সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ক(১) এর বিধান অনুযায়ী:
- সরকার যে কোনো দণ্ডাদেশের (conviction) ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটরকে সাজা অপর্যাপ্ত (inadequacy of sentence) হওয়ার ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে।
- আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সাজা (যেমন: কারাদণ্ড বা জরিমানা) অপরাধের গুরুত্ব ও প্রকৃতির তুলনায় কম মনে হলে সরকার এ আপিল করতে পারে।
- আপিলে শুধুমাত্র সাজা বাড়ানোর (enhancement of sentence) আবেদন করা যায়।
- তবে, আপিল আদালত সাজা বাড়ানোর আগে আসামীকে শুনানির সুযোগ দিতে বাধ্য (ধারা ৪১৭ক(৩))।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ক(১) (Section 417A(1)) অনুসারে, সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে সাজা সংক্রান্ত আপিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে যখন সাজা অপর্যাপ্ত হয়।
অর্থাৎ, যদি কোনো আসামীর অপরাধের জন্য দেওয়া সাজা অপর্যাপ্ত বা অপ্রতুল মনে হয়, তখন সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে আপিল দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারে যাতে সাজার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়।
তবে, যখন সাজা অত্যন্ত বেশি বা ঠিক থাকে, তখন এ ধরনের আপিল দাখিল করার জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিতে পারে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ক ধারার বিধান অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল:-
(১) কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল দায়েরের জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) আদালতে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ফরিয়াদী দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততাহেতু আপিল আদালতে আপিল দায়ের করতে পারবেনঃ
শর্ত থাকে যে, দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর এই উপ-ধারার অধীন আপিল আদালত কর্তৃক কোন আপিল গৃহীত হবে না।
(৩) দণ্ডের অপর্যাপ্ততা হেতু কোন আপিল রুজু করা হলে আপিল আদালত দণ্ড বাড়ানোর বিরুদ্ধে কারণ দর্শাবার জন্য আসামীকে যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে দণ্ড বাড়াবেন না এবং কারণ দর্শাবার সময় আসামী তার খালাস প্রাপ্তি বা দণ্ড কমানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417A: Appeal against inadequacy of sentence:
(1) The Government may, in any case of conviction on a trial held by any court, direct the Public Prosecutor to present an appeal to the High Court Division against the sentence on the ground of its inadequacy.
(2) A complainant may, in any case of conviction on a trial held by any Court, present an appeal to the Appellate Court against the sentence on the ground of its inadequacy:
Provided that no appeal under this sub-section shall be entertained by the Appellate Court after the expiry of sixty days from the date of conviction.
(3) When an appeal has been filed against the sentence on the ground of its inadequacy, the Appellate Court shall not enhance the sentence except after giving to the accused a reasonable opportunity of showing cause against such enhancement and while showing cause, the accused may plead for his acquittal or for the reduction of the sentence.
৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭ ধারা অনুসারে Judicial Magistrate বা Executive Magistrate-কে "additional powers" (অতিরিক্ত ক্ষমতা) কে প্রদান করতে পারে?
  1. Government
  2. District Magistrate
  3. Chief Judicial Magistrate
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭ অনুসারে Judicial Magistrate বা Executive Magistrate-কে "additional powers" (অতিরিক্ত ক্ষমতা) প্রদান করতে পারেন:
১) Government (সরকার)
২) Chief Judicial Magistrate (Judicial Magistrate-এর ক্ষেত্রে)
৩) District Magistrate (Executive Magistrate-এর ক্ষেত্রে)
- প্রথম proviso অনুযায়ী, সরকার District Magistrate-কে Executive Magistrate-দের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানের অধিকার দিতে পারে।
- দ্বিতীয় proviso অনুযায়ী, Judicial Magistrate-দের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানের ক্ষেত্রে High Court Division-এর সাথে পরামর্শ আবশ্যক।
- এই অতিরিক্ত ক্ষমতাগুলো চতুর্থ তফসিলে উল্লেখ থাকে।
অতএব, সঠিক উত্তর ঘ) উল্লিখিত সকলে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 37. Additional powers conferrable on Magistrates.
In addition to his ordinary powers, any Judicial or Executive Magistrate may be invested by the Government or the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate, as the case may be, with any powers specified in the schedule IV: 
Provided that, the Government may authorize a District Magistrate to invest any Executive Magistrate subordinate to him with any of its powers specified in the schedule IV: 
Provided further that any Judicial Magistrate may be invested with such additional powers in consultation with the High Court Division.
৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৩ অনুযায়ী, তল্লাশি কার্যক্রমে সাক্ষী কে হতে হবে?
  1. সংশ্লিষ্ট থানার ওসি
  2. আসামির আত্মীয়
  3. যেকোনো ব্যক্তিকে
  4. সংশ্লিষ্ট এলাকার গণ্যমান্য বাসিন্দা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৩ অনুযায়ী, তল্লাশী কার্যক্রমের আগে তল্লাশি করার স্থান সম্পর্কিত এলাকার দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে তল্লাশীর সাক্ষী হবার জন্য আহ্বান করতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা- সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশী কার্যক্রম চালাতে হবে:
(১) এই অধ্যায় মোতাবেক তল্লাশী করার পূর্বে যে অফিসার বা ব্যক্তি তা করতে গিয়েছেন, তিনি যে এলাকার মধ্যে, যে স্থান তল্লাশী করতে হবে তা অবস্থিত, সেই এলাকার দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে তল্লাশীর সাক্ষী হবার জন্য আহ্বান করবেন এবং এরূপ করার জন্য তাদেরকে বা তাদের যে কোন একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন।
(২) তাদের সমক্ষে তল্লাশী করতে হবে, এবং ঐরূপ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি ঐরূপ তল্লাশী করার সময় যেসব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং যেসব স্থানে ঐগুলি যথাক্রমে পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৈয়ারী করবেন এবং ঐরূপ সাক্ষীগণ তাতে সহি দিবেন; কিন্তু আদালত বিশেষভাবে সমন না দিলে এই ধারায় সম্পাদিত তল্লাশী দর্শনকারী ব্যক্তিকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 103- Search to be made in presence of witnesses:
(1) Before making a search under this Chapter, the officer or other person about to make it shall call upon two or more respectable inhabitants of the locality in which the place to be searched is situate to attend and witness the search and may issue an order in writing to them or any of them so to do.
(2) The search shall be made in their presence, and a list of all things seized in the course of such search and of the places in which they are respectively found shall be prepared by such officer or other person and signed by such witnesses; but no person witnessing a search under this section shall be required to attend the Court as a witness of the search unless specially summoned by it.

৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী সাধারণ অনুসন্ধান বা পরিদর্শনের জন্য পরোয়ানা জারি করা যায়?
  1. ৯৬ ধারা
  2. ৯৭ ধারা
  3. ৯৮ ধারা
  4. ৯৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯৬ অনুযায়ী, আদালত সাধারণ অনুসন্ধান বা পরিদর্শন (search) করার জন্য পরোয়ানা (search warrant) জারি করতে পারে। এটি তখন জারি করা হয় যখন আদালত বিশ্বাস করে যে কোনো ব্যক্তি আদেশ বা সমন অনুসারে নির্দিষ্ট দলিল বা জিনিস প্রদান করবে না, অথবা ওই দলিল বা জিনিস কোনো ব্যক্তির কাছে নেই। এই পরোয়ানা অনুসারে নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তি থেকে অনুসন্ধান করা হতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারার বিধান:
(১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারী করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।
অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই।
অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশি বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশি বা পরিদর্শন করতে পারবেন।

(২) এই ধারায় বিধৃত কোন কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশী করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-96: When search-warrant may be issued:
-(1) Where any Court has reason to believe that a person to whom a summons or order under section 94 or a requisition under section 95, sub-section (1), has been or might be addressed, will not or would not produce the document or thing as required by such summons or requisition,
or where such document or thing is not known to the Court to be in the possession of any person,
or where the Court considers that the purposes of any inquiry, trial or other proceeding under this Code will be served by a general search or inspection,
it may issue a search-warrant; and the person to whom such warrant is directed, may search or inspect in accordance therewith and the provisions hereinafter contained.

(2) Nothing herein contained shall authorize any Magistrate other than a District Magistrate, Chief Judicial Magistrate, as the case may be or Chief Metropolitan Magistrate to grant a warrant to search for a document, parcel or other thing in the custody of the Postal or Telegraph authorities.
৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী আদালত কক্ষে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার কীসের উপর নির্ভর করে?
  1. মামলার গুরুত্ব
  2. পুলিশের সুপারিশ
  3. শুধুমাত্র বিচারকের ইচ্ছা
  4. আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী, আদালত কক্ষে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার "আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা" এর উপর নির্ভর করে।
এর মানে হল, আদালত কক্ষটি যতটুকু লোক ধারণ করতে সক্ষম, সাধারণ জনগণ ততটুকু সেখানে প্রবেশ করতে পারবে। এই প্রবেশাধিকার সীমিত হবে যদি কক্ষের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যায়।
তবে, বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বসাধারণের উপস্থিতি ক্ষতিকর হতে পারে বা মামলার প্রকৃতির কারণে গোপনীয়তা প্রয়োজন, তাহলে তিনি আদেশ দিতে পারেন যে, সেই particular কক্ষে জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবেন না।

অতএব, সঠিক উত্তর হল: ঘ) আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ
শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 352: Courts to be open-
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.
৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮ অনুসারে প্রবেশের অনুমতি না পেলে গ্রেফতারকারী কী করতে পারবেন?
  1. স্থানটি জব্দ করতে পারবেন
  2. স্থানটি তালাবদ্ধ করে দিতে পারবেন
  3. দরজা-জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে পারবেন
  4. শুধুমাত্র দিনের বেলায় অভিযান চালাতে পারবেন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮ অনুসারে, যদি গ্রেফতারকারী ব্যক্তি প্রবেশের জন্য অনুমতি না পায়, তাহলে তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে দরজা বা জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে এই কাজটি করার আগে তাকে তার কর্তৃপক্ষ এবং উদ্দেশ্য জানিয়ে অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮ অনুযায়ী, যদি গ্রেফতারকারী কর্মকর্তা:
- নিজের কর্তৃত্ব ও উদ্দেশ্য জানানোর পরও প্রবেশের অনুমতি না পান,
- ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করার জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয় (যাতে অভিযুক্ত পলায়নের সুযোগ না পায়),
তাহলে তিনি বাহিরের বা ভিতরের দরজা-জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে পারবেন।

মহিলাদের ব্যক্তিগত স্থানের ক্ষেত্রে:
মহিলাকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে (প্রভিশো ধারা ৪৮)।
শুধুমাত্র গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে এই ক্ষমতা প্রযোজ্য, অন্য কোনো কাজের জন্য নয়।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 48. Procedure where ingress not obtainable:
If ingress to such place cannot be obtained under section 47 it shall be lawful in any case for a person acting under a warrant and in any case in which a warrant may issue, but cannot be obtained without affording the person to be arrested an opportunity of escape, for a police-officer to enter such place and search therein, and in order to effect an entrance into such place, to break open any outer or inner door or window of any house or place, whether that of the person to be arrested or of any other person, if after notification of his authority and purpose, and demand of admittance duly made, he cannot otherwise obtain admittance:

Breaking open zanana: 
Provided that, if any such place is an apartment in the actual occupancy of a woman (not being the person to be arrested) who, according to custom, does not appear in public such person or police-officer shall, before entering such apartment, give notice to such woman that she is at liberty to withdraw and shall afford her every reasonable facility for withdrawing, and may then break open the apartment and enter it.
৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন অধ্যায়ে সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. অধ্যায় ২০
  2. অধ্যায় ২১
  3. অধ্যায় ২২
  4. অধ্যায় ২৩
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ তে সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trials) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই অধ্যায়ে ধারা ২৬০ থেকে ২৬৫ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি এবং শর্তাবলী বর্ণনা করা হয়েছে।
- সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে লঘু শাস্তির অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর হতে পারে।
- গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণ, সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় পড়ে না।

- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর অধ্যায় ২২-এ সংক্ষিপ্ত বিচার (Summary Trial) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই অধ্যায়ের ধারা ২৬০ থেকে ২৬৫ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়েছে।
৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীনে পুলিশ কোন ধরনের রিপোর্ট দাখিল করতে পারে?
  1. First Investigation Report
  2. Further Investigation Report
  3. Final Investigation Report
  4. Complete Investigation Report
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৭৩ (৩খ) ধারা অনুসারে, পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট (১৭৩(১) ধারার অধীনে দাখিলকৃত) জমা দেওয়ার পরও অপরাধের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত (Further Investigation) করতে পারে। এই অধিকতর তদন্তের সময় যদি পুলিশ নতুন মৌখিক বা দালিলিক সাক্ষ্য পায়, তবে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জশীট (Supplementary Charge Sheet) দাখিল করতে পারে। এই রিপোর্টটি "Further Investigation Report" নামে পরিচিত, কারণ এটি প্রাথমিক তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে সংগৃহীত অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।

-ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৮ ধারায় নিয়োগকৃত পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মুলতুবি রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৭৩ (২) ধারায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে [may order further investigation] ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (do further investigation)।
- অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে। ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের (re-investigation) কোন বিধান নেই।

- তথ্য প্রদানকারীর বা থানার ভারপ্রাপ্ত উদ্ধতন কর্মকর্তার আবেদনক্রমে বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজ উদ্যোগে অধিকর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু আসামীর আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে না।

-১৭৩ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পর ম্যাজিস্ট্রেট চার্জশীটভুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে পারে এবং যে সকল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দিতে পারে। যাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট একবার অব্যাহতি দিলো তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারে না। বরং ম্যাজিস্ট্রেট ১৯০ ধারায় অপরাধ আমলে নিতে পারে।
----------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-173: Report of police-officer:
-(3B) Nothing in this section shall be deemed to preclude further investigation in respect of an offence after a report under sub-section (1) has been forwarded to the Magistrate and, whereupon such investigation, the officer in charge of the police-station obtains further evidence, oral or documentary, he shall forward to the Magistrate a further report or reports regarding such evidence in the form prescribed; and the provisions of sub-section (1) to (3A) shall, as far as may be, apply in relation to such report or reports as they apply in relation to a report forwarded under sub-section (1).
৩৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, “complaint” বলতে কী বোঝায়?
  1. পুলিশের নিকট এজাহার
  2. থানায় দেওয়া সাধারণ অভিযোগ
  3. কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতিবেদন
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure), 1898 এর ধারা ৪(১)(h) অনুযায়ী—
“Complaint” অর্থ এমন মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ যা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট করা হয়, যাতে ম্যাজিস্ট্রেট এই বিধি অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এই উদ্দেশ্যে যে,
কোনো ব্যক্তি (পরিচিত বা অজ্ঞাত) অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে “Complaint” এর মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট কখনো “complaint” হিসেবে গণ্য হয় না।

- (h) "complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police-officer:
৩৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩১ অনুসারে, জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল ব্যতীত আসামীর মৃত্যু হলে কী হবে?
  1. আপিল বাতিল হবে না
  2. নতুন একটি আপিল করা যাবে
  3. আপিল পুনঃশুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে
  4. আপিল চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩১ (Abatement of Appeals) এর বিধান অনুযায়ী: আসামীর মৃত্যুতে আপিলের পরিণতি:
→ ৪১৭ ও ৪১৭ক ধারার আপিল (খালাস আদেশ বা অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল):
- আসামীর মৃত্যু ঘটলে আপিল চূড়ান্তভাবে পণ্ড (abate) হয়ে যায়।
- অর্থাৎ, আপিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং আদালত এটিকে খারিজ (dismissed as abated) ঘোষণা করে।

→ ব্যতিক্রম:
জরিমানা (fine) এর বিরুদ্ধে আপিল:
- আসামী বা আপিলকারীর মৃত্যু হলেও আপিল পণ্ড হয় না।
- আপিলকারীর আইনগত প্রতিনিধি (যেমন উত্তরাধিকারী) আপিল চালিয়ে যেতে পারেন এবং আসামীর সম্পত্তি থেকে জরিমানা আদায় করা যায়।

→ অন্যান্য আপিলের ক্ষেত্রে:
- অন্যান্য ধারার আপিল (যেমন: দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামীর আপিল):
- আপিলকারীর মৃত্যুতে আপিল পণ্ড হয়ে যায়।

- পণ্ড (Abatement) এর অর্থ: আপিলের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- আদালতের করণীয়: আপিল রেকর্ডে "আপিল পণ্ড হয়েছে" ঘোষণা করা।
- নতুন আপিলের সুযোগ নেই: একবার আপিল পণ্ড হলে পুনরায় একই বিষয়ে আপিল দায়ের করা যায় না।

→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩১ মতে- ৪১৭ ধারা ও ৪১৭ক ধারা অধীন প্রত্যেকটি আপিলে আসামীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে এবং এই অধ্যায়ের অধীন অন্যান্য প্রত্যেকটি আপিল (জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল ব্যতীত) আপিলকারীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড বা আপিল Abatement হয়ে যাবে।

⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 431- Abatement of appeals-
Every appeal under section 417 or section 417A shall finally abate on the death of the accused, and every other appeal under this Chapter
(except an appeal from a sentence of fine) shall finally abate on the death of the appellant.
৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৫ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট কী করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র দায়রা আদালতকে নির্দেশ দিতে পারে
  2. মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দণ্ড কমাতে পারে
  3. আসামির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে পারে
  4. অধিকতর তদন্ত বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী, হাইকোর্ট নিম্নলিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:
- অধিকতর তদন্ত বা সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দিতে পারে (যদি প্রয়োজন মনে করে)।
- মামলার রেকর্ড পর্যালোচনা করে নতুন সাক্ষ্য বা প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে।
- এটি বিশেষভাবে আপিল চলাকালীন প্রযোজ্য, যখন আদালত মনে করে যে অতিরিক্ত তদন্ত বা সাক্ষ্য প্রয়োজন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৫ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট চাইলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দণ্ড বিষয়ে অধিকতর তদন্ত বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে।

-ধারা ৩৭৫-
কার্যক্রম পেশ হওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন যে, দণ্ডিত ব্যক্তির দোষ বা নির্দোষিতা সম্পর্কিত বিষয় সম্বন্ধে আরও অনুসন্ধান করা বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করা উচিত তাহলে অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন, অথবা দায়রা আদালত কর্তৃক অনুসন্ধানের বা সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারেন।
হাইকোর্ট বিভাগ ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে উক্ত অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণকালে দণ্ডিত ব্যক্তির উপস্থিতি মওকুফ করা যাবে।

⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 375: Power to direct further inquiry to be made or additional evidence to be taken
(1) If when such proceedings, are submitted the High Court Division thinks that a further inquiry should be made into, or additional evidence taken upon, any point bearing upon the guilt or innocence of the convicted person, it may make such inquiry or take such evidence itself, or direct it to be made or taken by the Court of Session.
(2) Unless the High Court Division otherwise directs, the presence of the convicted person may be dispensed with when such inquiry is made or such evidence is taken.
(3) When the inquiry and the evidence (if any) are not made and taken by the High Court Division, the result of such inquiry and the evidence shall be certified to such Court.
৪০.
নিচের কোনটি দণ্ডবিধির ধারা ১০ অনুযায়ী 'woman' শব্দের সংজ্ঞা?
  1. বিবাহিত নারী
  2. কর্মজীবী নারী
  3. কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নারী
  4. যেকোনো বয়সের নারী
ব্যাখ্যা

 সঠিক উত্তর: খ) যেকোনো বয়সের নারী।

⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১০ (Section 10) অনুযায়ী—
“Man denotes a male human being of any age; the word woman denotes a female human being of any age.”
অর্থাৎ, "woman" শব্দটি এমন একজন নারী মানবসন্তান বোঝায়, যার বয়স যেকোনো হতে পারে — তা শিশু, কিশোরী, প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা বৃদ্ধা—সবাই এই সংজ্ঞার আওতাভুক্ত।
-  এখানে বিবাহিত, কর্মজীবী, না-বিবাহিত, অপ্রাপ্তবয়স্ক ইত্যাদি কোনো নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়নি।

৪১.
দণ্ডবিধির ২০৯ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আদালতে মিথ্যা দাবী করে, তাকে কী দণ্ড প্রদান করা হবে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা
  3. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা
  4. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২০৯ ধারা অনুযায়ী, আদালতে মিথ্যা দাবী করার জন্য যে ব্যক্তি অপরাধ করবে, তাকে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।
- এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালতে মিথ্যা দাবী করে এবং এটি জানে যে তার দাবী মিথ্যা, অথবা কোনো ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা দাবী করে, তাহলে তাকে এই দণ্ডের আওতায় আনা হবে।

অতএব, সঠিক উত্তর হবে: গ) ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
-----------
⇒The Penal Code, 1860-Section-209. Dishonestly making false claim in Court:
- Whoever fraudulently or dishonestly, or with intent to injure or annoy any person, makes in a Court of Justice any claim which he knows to be false, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, and shall also be liable to fine.
৪২.
How many types of imprisonment under Section 53 of the Penal Code can there be?
  1. One (only simple)
  2. Two (rigorous and simple)
  3. Three (rigorous, simple, and solitary)
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) Two (rigorous and simple)

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৫৩ অনুযায়ী শাস্তির মধ্যে “Imprisonment” একটি ধরন, যা আবার দুই প্রকার:
- “Imprisonment, which is of two descriptions, namely –
(1) Rigorous, that is, with hard labour;
(2) Simple.”
- Rigorous imprisonment – এখানে কাজ করতে হয়, যেমন কঠোর শ্রম (hard labour)।
- Simple imprisonment – সাধারণ কারাবাস, যেখানে কাজ করার বাধ্যবাধকতা নেই।

- গ) Three (rigorous, simple, and solitary) – এটি ভুল কারণ:
“Solitary confinement” (একাকী আবদ্ধ থাকা) দণ্ডবিধির ধারা ৭৩-এ আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু এটি Section 53-এ কারাদণ্ডের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য নয়।
৪৩.
দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায়, মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি পরিবর্তন করার ক্ষমতা কোন কর্তৃপক্ষের?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. আদালত
  3. সরকার
  4. পুলিশ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, মৃত্যুদণ্ড এর শাস্তি পরিবর্তন করার ক্ষমতা সরকার এর কাছে রয়েছে। সরকার, কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রদান হলে, তার সম্মতি ছাড়া ঐ শাস্তি অন্য কোনো শাস্তিতে পরিবর্তন করতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৫৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ড হ্রাসকরণ:- মৃত্যুদণ্ড দান করা যেতে পারে এইরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধকারীর সম্মতি ব্যতিরেকে উক্ত দণ্ডকে এই বিধি ও আইন বলে ব্যবস্থিত অন্য যেকোনো স্বল্প দণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারবেন।
----------------------------
⇒The Penal Code, 1860-Section 54: Commutation of sentence of death:
- In every case in which sentence of death shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for any other punishment provided by this Code.
৪৪.
দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা অনুসারে, বেপরোয়া বা অসাবধানতাপূর্ণভাবে নৌযান চালানোর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ মাস কারাদণ্ড
  2. ৬ মাস কারাদণ্ড
  3. ১ বছর কারাদণ্ড
  4. ২ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা অনুযায়ী, বেপরোয়া বা অসাবধানতাপূর্ণভাবে নৌযান চালানো এমন একটি অপরাধ, যা মানব জীবনের ক্ষতি বা অন্য কারও আহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ধারা অনুযায়ী, এমন অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে: ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা (১,০০০ টাকা পর্যন্ত) অথবা উভয়ই হতে পারে।
- এটি অপরাধের মাত্রা ও তার প্রভাবের ওপর নির্ভর করে বিচারকের সিদ্ধান্তে শাস্তি প্রদান করা হয়।

সঠিক উত্তর: খ) ৬ মাস কারাদণ্ড। 

⇒The Penal Code, 1860-Section- 280. Rash navigation of vessel:
Whoever navigates any vessel in a manner so rash or negligent as to endanger human life, or to be likely to cause hurt or injury to any other person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
৪৫.
দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা অনুসারে অবহেলা বা বেপরোয়া আচরণের কারণে কারও মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. মৃত্যুদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি অবহেলা বা বেপরোয়া আচরণের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়, তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। এই ধারার শাস্তির সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ৫ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়ই।
- তবে, এটি নরহত্যা বা শক্তিশালী শাস্তির অপরাধের মধ্যে পড়ে না, কারণ এটি অবহেলা বা বেপরোয়া আচরণের কারণে ঘটে, যা কৃতকর্মের পরিণতির ওপর নির্ভর করে।
এই ধারায়, মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য থাকা না থাকলেও যদি কোনো ব্যক্তির অবহেলা বা বেপরোয়া আচরণের ফলে মৃত্যু ঘটে, তবে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তাহলে, সঠিক উত্তর হল: ক) ৫ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ The Penal Code, 1860, Section- 304A. Causing death by negligence
Whoever causes the death of any person by doing any rash or negligent act not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both.
৪৬.
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের (Criminal Conspiracy) সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া হয়েছে?
  1. ১০৭ ধারায়
  2. ১২০ ধারায়
  3. ১২০ক ধারায়
  4. ১২০খ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১২০ক ধারা-এ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের (Criminal Conspiracy) স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী:
"যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো অবৈধ কাজ করতে অথবা বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করতে সম্মত হয়, তখন তা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে।"

শর্ত:- অপরাধ ছাড়া অন্যান্য ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে শুধু সম্মতি যথেষ্ট নয়, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে অন্তত একটি কাজ প্রমাণ করতে হবে।
উদাহরণ: A ও B চুরি করার পরিকল্পনা করে এবং A চাবি কিনলে তা "কাজ" হিসেবে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অবৈধ কাজটি ষড়যন্ত্রের প্রধান উদ্দেশ্য হোক বা গৌণ উদ্দেশ্য হোক, তা বিবেচ্য নয়।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 120A. Definition of criminal conspiracy. 
 When two or more persons agree to do, or cause to be done,- 
(1) an illegal act, or 
(2) an act which is not illegal by illegal means, such an agreement is designated a criminal conspiracy: 
Provided that no agreement except an agreement to commit an offence shall amount to a criminal conspiracy unless some act besides the agreement is done by one or more parties to such agreement in pursuance thereof.
Explanation.-It is immaterial whether the illegal act is the ultimate object of such agreement, or is merely incidental to that object.

৪৭.
দণ্ডবিধির কত ধারায় "আঘাত" (Hurt) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ধারা ৩১৯
  2. ধারা ৩২০
  3. ধারা ৩২১
  4. ধারা ৩২২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১৯ ধারা অনুসারে "আঘাত" (Hurt) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি অন্য কাউকে শারীরিক ব্যথা, রোগ বা শারীরিক দুর্বলতা সৃষ্টি করে, তাকে "আঘাত" হিসেবে গণ্য করা হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 319. Hurt: - Whoever causes bodily pain, disease or infirmity to any person is said to cause hurt.
৪৮.
দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারা অনুসারে, কোন অবস্থায় সহিংসতা বা বল প্রয়োগ করা হলে তা "Rioting" হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে
  2. অবৈধ সমাবেশের মাধ্যমে
  3. আইনত অনুমোদিত দল
  4. সাধারণ মানুষের প্রতিবাদে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারা অনুযায়ী, Rioting (দাঙ্গা) তখনই সংঘটিত হয় যখন:
- অবৈধ সমাবেশ (Unlawful Assembly) - অর্থাৎ ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি (ধারা ১৪১)
- সম্মিলিত উদ্দেশ্য (Common Object) বাস্তবায়নের জন্য
- বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা ব্যবহার করে।

- দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারায় "Rioting" (দাঙ্গা) গঠনের শর্ত হলো যে, যদি কোনো অবৈধ সমাবেশ বা সমাবেশের কোনো সদস্য সহিংসতা বা বল প্রয়োগ করে, এবং সেটি সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য (common object) বাস্তবায়নের জন্য হয়, তাহলে সেটি "Rioting" হিসেবে গণ্য হবে।
- অর্থাৎ, অবৈধ সমাবেশ যেখানে মানুষ একত্রিত হয় কোনো অপরাধ বা সহিংসতা সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে, সেখানে সহিংসতা বা বল প্রয়োগ হলে তা Rioting হিসেবে গণ্য হবে।
- এখানে অবৈধ সমাবেশ বা লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি বৈধ বা অনুমোদিত সমাবেশে সহিংসতা ঘটলেই তা "Rioting" হবে না, যদি না সেই সহিংসতা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে হয়।
৪৯.
দণ্ডবিধির ৩৪১ ধারা অনুযায়ী, অবৈধ বাধা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. দুই মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৪১ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ অপর কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধা প্রদান করে—অর্থাৎ, সেই ব্যক্তি যে দিক দিয়ে চলাচল করার অধিকার রাখে, সে পথে চলতে বাধা দেয়—তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে: সর্বোচ্চ এক মাস মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪১ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধা প্রদান করে, তাকে এক মাস পর্যন্ত মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 341. Punishment for wrongful restraint:
 Whoever wrongfully restrains any person, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both.
৫০.
দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা অনুযায়ী, কোন ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে?
  1. যদি সে মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে
  2. যদি সে এমন দৈহিক জখম ঘটায় যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানে
  3. যদি সে মৃত্যু ঘটানোর সম্ভাবনা আছে এমন কাজ করে
  4. উপরের সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা অনুযায়ী, "শাস্তিযোগ্য নরহত্যা" ঘটবে যদি কোনো ব্যক্তি: ১) মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে , ২) এমন দৈহিক জখম ঘটায় যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানে , ৩) মৃত্যু ঘটানোর সম্ভাবনা আছে এমন কাজ করে।
- এই তিনটি পরিস্থিতিই শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্য বা অবহেলা সম্পর্কিত কারণ থাকে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা:- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

ব্যাখ্যা ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগছে, তার দৈহিক, জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
ব্যাখ্যা ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভূমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 299: Culpable homicide:
- Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide.

Explanation-1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death.
Explanation-2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented. 
Explanation-3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.
৫১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে চুরি হয়েছে বলে গণ্য হবে?
  1. স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী দান করল
  2. কেউ রাস্তায় পড়ে থাকা রিং তুলে নিল
  3. বই ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বন্ধুর লাইব্রেরি থেকে বই ধার নিল
  4. কেউ গাছ কেটে মালিকের অনুমতি ছাড়া তা নিয়ে গেল
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী, চুরি সংঘটিত হওয়ার জন্য তিনটি মূল উপাদান থাকতে হয়:
অস্থাবর সম্পত্তি (movable property) হতে হবে,
তা কারো দখলে থাকতে হবে,
এবং সেই দখলদারের সম্মতি ব্যতীত অসাধুভাবে গ্রহণ বা স্থানান্তর করতে হবে।

এখন অপশনগুলো বিশ্লেষণ করি:
ক) স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী দান করল:
→ এটি চুরি নয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দান করার ক্ষেত্রে যদি স্ত্রী বিশ্বাস করে যে তিনি অনুমতিসম্পন্ন, তবে এটি চুরি হবে না। এখানে dishonest intention বা অসাধু মনোভাব স্পষ্ট নয়।

খ) কেউ রাস্তায় পড়ে থাকা রিং তুলে নিল:
→ এটা চুরি নয় কারণ রাস্তায় পড়ে থাকা বস্তু কারো দখলে নেই। তবে যদি ব্যক্তি তা আত্মসাৎ করে নেয়, তাহলে criminal misappropriation হতে পারে।

গ) বই ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বন্ধুর লাইব্রেরি থেকে বই ধার নিল:
→ এখানে যদি ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে বন্ধুর পরোক্ষ সম্মতি রয়েছে, তাহলে এটা চুরি নয়। Explanation 5 অনুযায়ী, পরোক্ষ সম্মতির ভিত্তিতে তা বৈধ হতে পারে।

ঘ) কেউ গাছ কেটে মালিকের অনুমতি ছাড়া তা নিয়ে গেল:
→ এখানেই চুরি হয়েছে।
Explanation 1 ও 2 অনুসারে, গাছ যতক্ষণ মাটির সাথে যুক্ত থাকে ততক্ষণ তা চুরির বস্তু নয়। কিন্তু যখনই তা কেটে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং dishonestly নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তা চুরি হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লিখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
----------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.
৫২.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী প্ররোচনার (Abetment) কয়টি উপায় আছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৭ অনুযায়ী "Abetment" বা প্ররোচনা/সহায়তা মূলত ৩টি উপায়ে হয়ে থাকে:
১) প্ররোচনা (Instigation) – কাউকে কোন কাজ করতে উৎসাহ বা প্ররোচনা দেওয়া।
২) ষড়যন্ত্র (Conspiracy) – একজন বা একাধিক ব্যক্তির সাথে মিলে ষড়যন্ত্র করা এবং সে অনুসারে কাজ বা অবৈধ অবহেলা ঘটানো।
৩) ইচ্ছাকৃত সহায়তা (Intentional aid) – কোন কাজ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করা, যেমন: কাজের সুবিধার্থে কিছু করা বা না করা।

⇒ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন জোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়।
-দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে।
(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation)
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement)
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
৫৩.
দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭ কোন ধরনের অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. শারীরিক আঘাত
  2. মানহানি
  3. অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগ
  4. অজ্ঞাতপরিচয়ে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭ মূলত অজ্ঞাতপরিচয়ে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। এই ধারার মাধ্যমে যেসব ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করেন বা তাদের নাম বা অবস্থান গোপন করে এমন কোনো হুমকি দেন, তাদের শাস্তির বিধান রয়েছে।
অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের সাথে যদি অজ্ঞাত পরিচয় যুক্ত হয়, তখন এই ধারা প্রযোজ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 507: Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.
৫৪.
দণ্ডবিধির ২৩৩ ধারা অনুযায়ী, জাল মুদ্রা তৈরির সরঞ্জাম তৈরি বা বিক্রয় করলে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. শুধু জরিমানা
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির ২৩৩ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি: জাল মুদ্রা তৈরির জন্য যন্ত্রপাতি বা ডাই (die) তৈরি বা মেরামত করে, এমন যন্ত্রপাতি ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর করে, জেনে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও যে এসব যন্ত্রপাতি জাল মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হবে, তাহলে তার শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

- দণ্ডবিধির ২৩৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ— জাল মুদ্রা তৈরির যন্ত্র (die or instrument) তৈরি বা মেরামত করে, অথবা সে প্রক্রিয়ার কোনো অংশে অংশগ্রহণ করে, অথবা সে যন্ত্র ক্রয়, বিক্রয়, হস্তান্তর করে
এবং তা জাল মুদ্রা তৈরির উদ্দেশ্যে হয় বা এমন ধারণা থাকে যে তা জাল মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হবে,
- তাহলে তাকে সর্বোচ্চ—  ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।
-----
⇒The Penal Code, 1860-Section- 233. Making or selling instrument for counterfeiting coin:
- Whoever makes or mends, or performs any part of the process of making or mending, or buys, sells or disposes of, any die or instrument, for the purpose of being used, or knowing or having reason to believe that it is intended to be used, for the purpose of counterfeiting coin, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.

৫৫.
দণ্ডবিধির ৩৬৪ক ধারা অনুসারে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুকে অপহরণ বা আটক করার সর্বনিম্ন শাস্তি কী?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ধারা ৩৬৪ক অনুসারে, যদি কেউ ১০ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে অপহরণ বা আটক করে হত্যার উদ্দেশ্যে, গুরুতর আঘাত, দাসত্ব বা যৌন লালসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, তাহলে তার জন্য শাস্তি হতে পারে: মৃত্যুদণ্ড, অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, কিন্তু কমপক্ষে ৭ বছর দণ্ড দেওয়া আবশ্যক।
অতএব, সর্বনিম্ন শাস্তি ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
--------
⇒The Penal Code, 1860-Section- 364A. Kidnapping or abducting a person under the age of ten:
- Whoever kidnaps or abducts any person under the age of ten, in order that such person may be murdered or subjected to grievous hurt, or slavery, or to the lust of any person or may be so disposed of as to be put in danger of being murdered or subjected to grievous hurt, or slavery, or to the lust of any person shall be punished with death or with imprisonment for life or with rigorous imprisonment for a term which may extend to fourteen years and shall not be less than seven years.
৫৬.
দণ্ডবিধির ৩০০ ধারা অনুসারে, নিম্নলিখিত কোন শর্তে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা "খুন" হিসেবে গণ্য হবে?
  1. শুধুমাত্র দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু ঘটলে
  2. শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য মৃত্যু ঘটলে
  3. কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্যে করা হলে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারা অনুসারে, খুনের শাস্তি তখনই প্রযোজ্য হয়, যখন একটি কাজ এমন উদ্দেশ্যে করা হয় যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে, কার্যটি মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে করা হলে, সেটি শাস্তিযোগ্য "খুন" হিসেবে গণ্য হবে।
এই ধারায় ৪টি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে:
১) মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে কাজ করা: যদি কেউ মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে কাজ করে এবং তার কাজের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটে, তবে সেটি খুন হবে।
২) মৃত্যুর আশঙ্কা জানানো: যদি কাজটি এমনভাবে করা হয় যে, অপরাধী জানে বা বুঝতে পারে যে তার কাজটি মৃত্যুর কারণ হবে, তবে সেটি খুনের মধ্যে পড়বে।
৩) দৈহিক আঘাতের অভিপ্রায়: যে কাজটি করা হয়, তা এমন আঘাত সৃষ্টি করবে যা প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম হবে।
৪) বিপজ্জনক কাজ: এমন কোনো কাজ করা, যা এমন বিপজ্জনক এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে, এবং অপরাধী সেই ঝুঁকি গ্রহণ করে।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু বা আত্মরক্ষার জন্য মৃত্যু ঘটানো খুনের আওতায় পড়বে না, কারণ সেখানে মৃত্যুর উদ্দেশ্য ছিল না বা আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে ছিল।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 300: Murder:
-Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or-
Secondly.-If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or –
Thirdly.-If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or –
Fourthly.-f the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.

Illustration:
(a) A shoots Z with the intention of killing him. Z dies in consequence. A commits murder.
৫৭.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী, কোনটি প্রাথমিক সাক্ষ্য নয়?
  1. মূল দলিল
  2. স্বাক্ষরিত নথিপত্র
  3. দলিলের প্রতিলিপি
  4. আদালতে উপস্থাপিত লিখিত চুক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৬১ ও ৬২ ধারার আলোকে, প্রাথমিক সাক্ষ্য বলতে বোঝায় মূল দলিল বা প্রামাণ্য নথি যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
 ৬২ ধারা:
"Primary evidence means the document itself produced for the inspection of the Court."
অর্থাৎ, প্রাথমিক সাক্ষ্য হল সেই মূল দলিল যা আদালতে সরাসরি উপস্থাপিত হয়।

⇒ প্রাথমিক সাক্ষ্যের উদাহরণ:
- মূল দলিল (যেমন: চুক্তিপত্র, উইল, বিক্রয় চুক্তি ইত্যাদি) 
- স্বাক্ষরিত নথিপত্র (যেমন: নিজ হাতে স্বাক্ষরিত চুক্তি বা দলিল) 
- আদালতে উপস্থাপিত লিখিত চুক্তি (মূল নথি যদি আদালতে জমা দেওয়া হয়) 

⇒ মাধ্যমিক সাক্ষ্যের উদাহরণ:
- দলিলের প্রতিলিপি (যেমন: ফটোকপি, টাইপকপি, সার্টিফায়েড কপি) 
- অনুলিপি বা ট্রান্সক্রিপ্ট 

⇒ দলিলের প্রতিলিপি শুধুমাত্র মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়, যা তখনই গ্রহণযোগ্য যখন—
- মূল দলিল হারিয়ে গেছে বা ধ্বংস হয়েছে।
- দলিল আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।
- দলিল এমন ব্যক্তির দখলে আছে, যিনি তা আদালতে আনতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

অর্থাৎ
 - মূল দলিল (Primary Document) → প্রাথমিক সাক্ষ্য।
 - দলিলের প্রতিলিপি (Copy/Photocopy) → মাধ্যমিক সাক্ষ্য।
- তাই, ‘গ) দলিলের প্রতিলিপি’ প্রাথমিক সাক্ষ্য নয়।
৫৮.
অধিকার বা প্রথা প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. ধারা ১৩
  2. ধারা ১০
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩-এ অধিকার বা প্রথা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে।
- এই ধারা অনুযায়ী, যেসকল ক্ষেত্রে কোনো অধিকার বা প্রথা সংক্রান্ত বিষয় প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ প্রাসঙ্গিক হবে:
১) যেকোনো লেনদেন বা কার্যক্রম যা ওই অধিকার বা প্রথার সৃষ্টি, দাবি, পরিবর্তন, স্বীকৃতি বা বিরোধিতা করার সাথে সম্পর্কিত, তা প্রাসঙ্গিক হবে।
২) কোনো অধিকার বা প্রথার প্রয়োগ বা বিরোধিতা সংক্রান্ত বিশেষ ঘটনা, যা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, সেটিও প্রাসঙ্গিক।
এটি মূলত অধিকার বা প্রথার অস্তিত্ব বা তার প্রয়োগের ইতিহাস প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
এবং ধারা ১০, ধারা ৭, বা ধারা ১২ এসবের মধ্যে কোনোটি অধিকার বা প্রথার প্রমাণের জন্য প্রযোজ্য নয়।

⇒The Evidence Act, 1872, Section-13. Facts relevant when right or custom is in question:
Where the question is as to the existence of any right of custom, the following facts are relevant:–
(a) any transaction by which the right or custom in question was created, claimed, modified, recognized, asserted or denied, or which was inconsistent with its existence;
(b) particular instances in which the right or custom was claimed, recognized or exercised, or in which its exercise was disputed, asserted or departed from.
৫৯.
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি কখন প্রাসঙ্গিক?
  1. সবসময় প্রাসঙ্গিক
  2. যখন পুলিশ অনুমোদন করে
  3. যখন আদালত বিশেষ অনুমতি দেয়
  4. যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২২ক অনুযায়ী, সাধারণভাবে ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, এটি তখনই প্রাসঙ্গিক বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে যখন উক্ত ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

- মূল প্রমাণের নীতি: সাধারণত কোনো নথিপত্র বা ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য প্রাথমিক প্রমাণ (primary evidence) প্রয়োজন হয়। ডিজিটাল রেকর্ড নিজেই প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে, মৌখিক স্বীকৃতি নয়।
- গৌণ প্রমাণের ব্যতিক্রম: যদি কোনো পক্ষ আদালতে প্রমাণ করতে চায় যে ডিজিটাল রেকর্ডটি সত্য নয় বা জাল, তাহলে সেই রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
- আদালত যদি মনে করে যে ডিজিটাল রেকর্ডটি সন্দেহজনক বা প্রশ্নবিদ্ধ, তখন মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে এর প্রকৃত অবস্থা নির্ণয়ের চেষ্টা করা যেতে পারে।

→ ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে, তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি আদালতে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
---------- 
⇒The Evidence Act, 1872, Section-22A. When oral admissions as to contents of digital records are relevant:
Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question.
৬০.
"Unless contrary is proved" বলতে সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারায় কী বোঝানো হয়েছে?
  1. শুধু সরকারি সনদই বৈধ
  2. আদালত কোনো অনুমান করবে না
  3. গ্রাহককে সব তথ্য যাচাই করতে হবে
  4. বিপরীত প্রমাণ না করা পর্যন্ত অনুমান কার্যকর থাকবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৮৫গ (Section 85C) অনুযায়ী,
যদি কোনো Digital Signature Certificate গ্রাহক (subscriber) গ্রহণ করেন, তাহলে বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত ধরে নেবে (presume করবে) যে সনদে উল্লিখিত তথ্যগুলো সঠিক, শুধু সেই তথ্য বাদে যেগুলো গ্রাহকের তথ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে কিন্তু যাচাই করা হয়নি।
- এখানে "Unless contrary is proved" অর্থ হলো—
যদি কোনো পক্ষ আদালতে বিপরীত প্রমাণ উপস্থাপন না করে, তাহলে আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনদে উল্লিখিত তথ্যকে সঠিক বলে ধরে নেবে।
অর্থাৎ, এটি একটি rebuttable presumption, যা প্রমাণের মাধ্যমে বাতিল করা যায়।
৬১.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষীর বিধান আছে?
  1. ধারা ১১৪
  2. ধারা ১৩১
  3. ধারা ১৩৩
  4. ধারা ১৩৪
ব্যাখ্যা
⇒  সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ১৩৩ ধারা অনুযায়ী, দুষ্কর্মের সহযোগী (Accomplice) একজন উপযুক্ত সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন।
ধারা ১৩৩:
"An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice."
অর্থাৎ, দুষ্কর্মের সহযোগী একজন স্বীকৃত সাক্ষী, এবং তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে, এমনকি যদি তার সাক্ষ্য অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত না হয়।
- তবে, সাধারণত আদালত সতর্ক থাকে এবং সহযোগীর সাক্ষ্যের সাথে অন্য প্রমাণ থাকা উচিত বলে ধরে নেয় (ধারা ১১৪)।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-133- Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
৬২.
ফৌজদারি মামলায় কোন স্বীকারোক্তি (Confession) গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. কর্তৃপক্ষের প্রভাব থাকলে
  2. সুবিধা বা ক্ষতি এড়ানোর আশায় হলে
  3. ভয়, প্রলোভন বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে হলে
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২৪ অনুযায়ী, একটি স্বীকারোক্তি (Confession) অগ্রহণযোগ্য হবে যদি—
- কর্তৃপক্ষের ব্যক্তি (Person in authority) দ্বারা প্রভাবিত হয় (যেমন: পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট),
- কোনো সুবিধা পাওয়া বা শাস্তি এড়ানোর লোভ/ভয় (Temporal advantage/evil) থাকে,
- প্রলোভন, হুমকি বা প্রতিশ্রুতি (Inducement, threat, promise)-এর ভিত্তিতে দেওয়া হয়।
উপরের তিনটি কারণই স্বীকারোক্তিকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে। তাই সঠিক উত্তর "ঘ) উপরের সবগুলোই"।

সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা - প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা সৃষ্ট স্বীকারোক্তি, যখন ফৌজদারি কার্যবিধিতে অপ্রাসঙ্গিক:
যদি কোনো আসামী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত কোনো প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং আদালত মনে করেন যে, এই স্বীকারোক্তি কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসামীকে লাভ বা ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানোর জন্য প্রদান করা হয়েছে, তবে সেই স্বীকারোক্তি ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রাসঙ্গিক হবে না।
----------
⇒The Evidence Act, 1872, Section- 24. Confession caused by inducement, threat or promise, when irrelevant in criminal proceeding: 
- A confession made by an accused person is irrelevant in a criminal proceeding, if the making of the confession appears to the Court to have been caused by any inducement, threat or promise having reference to the charge against the accused person, proceeding from a person in authority and sufficient, in the opinion of the Court, to give the accused person grounds which would appear to him reasonable for supposing that by making it he would gain any advantage or avoid any evil of a temporal nature in reference to the proceedings against him.
৬৩.
'একই কার্যক্রমের অংশ' (part of same transaction) ধারণাটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬-এ "একই কার্যক্রমের অংশ" (part of same transaction) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, যে সব ঘটনা সরাসরি বিচার্য বিষয় নয়, কিন্তু এগুলি বিচার্য বিষয়ের সাথে এমনভাবে জড়িত, যে দুটি ঘটনাই একত্রে একই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে, সেগুলি প্রাসঙ্গিক হবে।

অর্থাৎ, যদি দুটি ঘটনা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হয় এবং একে অপরের ধারাবাহিকতা বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা হিসেবে ঘটিত হয়, তবে সেগুলি Res Gestae নীতির আওতায় প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে। এটি ঘটতে পারে একই সময়ে বা বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন স্থানে, তবুও সেগুলি একে অপরের সাথে সম্পর্কিত থাকে।

- এই ধারা Res Gestae বা 'একই কার্যক্রমের অংশ' নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং আইনের অনুসারে, এসব সম্পর্কিত ঘটনা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
------------
⇒The Evidence Act, 1872, Section 6. Relevancy of facts forming part of same transaction:
Facts which, though not in issue, are so connected with a fact in issue as to form part of the same transaction, are relevant, whether they occurred at the same time and place or at different times and places.
৬৪.
নিম্নলিখিত কোনটি সাক্ষ্য আইনের অধীনে ‘ডিজিটাল রেকর্ড’ হিসেবে গণ্য হয়?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য
  2. সিসিটিভি রেকর্ড
  3. কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র
  4. কাগজে লেখা চুক্তিপত্র
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৩ (ডিজিটাল রেকর্ডের ব্যাখ্যা) অনুযায়ী, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড এমন কোনো রেকর্ড, তথ্য বা ডেটা যা ম্যাগনেটিক বা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রোফিল্ম, ভিডিও রেকর্ড, সিসিটিভি রেকর্ড ইত্যাদির মাধ্যমে সংরক্ষিত বা ট্রান্সফার করা হয়।
-  সিসিটিভি রেকর্ড ডিজিটাল রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি ভিডিও ডেটা যা ডিজিটাল ফর্মে সংরক্ষিত বা রেকর্ড করা হয়। এটি প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
৬৫.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩০ অনুযায়ী, একাধিক ব্যক্তির যৌথ বিচারে একজনের স্বীকারোক্তি অন্যদের বিরুদ্ধে কখন বিবেচনা করা যায়?
  1. যখন পুলিশ তা নিশ্চিত করে
  2. যখন সবাই একই অপরাধে অভিযুক্ত
  3. যখন স্বীকারোক্তি লিখিতভাবে দেওয়া হয়
  4. যখন স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নেওয়া হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩০ অনুসারে, যদি একাধিক ব্যক্তি একই অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যৌথভাবে বিচারের সম্মুখীন হন, এবং তাদের মধ্যে একজন স্বীকারোক্তি দেন, তবে আদালত সেই স্বীকারোক্তি স্বীকারোক্তিদাতা ব্যক্তি ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও বিবেচনা করতে পারে।
শর্তসমূহ:
যৌথ বিচার হতে হবে: অভিযুক্তরা একই অপরাধের জন্য একসঙ্গে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
স্বীকারোক্তিতে অন্য অভিযুক্তের নাম থাকতে হবে: স্বীকারোক্তি এমন হতে হবে যাতে নিজের পাশাপাশি অন্য অভিযুক্তদেরও সংশ্লিষ্টতা থাকে।
স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছায় ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে: স্বীকারোক্তিটি যদি ভয়, প্রলোভন বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে নেওয়া হয়, তবে এটি অগ্রহণযোগ্য হবে (ধারা ২৪ অনুসারে)।

উদাহরণ:
A এবং B যৌথভাবে C-কে খুনের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন।
বিচার চলাকালে A আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়—
"আমি এবং B একসঙ্গে C-কে হত্যা করেছি।"
এই স্বীকারোক্তি আদালত B-এর বিরুদ্ধেও বিবেচনা করতে পারে, যদিও এটি সরাসরি B-এর দেওয়া স্বীকারোক্তি নয়।
- তবে, শুধুমাত্র এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অন্য অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। এটি কেবল অতিরিক্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অর্থাৎ যখন অভিযুক্তরা একই অপরাধে যৌথ বিচারের সম্মুখীন হন, তখন একজনের স্বীকারোক্তি অন্যদের বিরুদ্ধেও আদালত বিবেচনা করতে পারে।
- সঠিক উত্তর: (খ) যখন সবাই একই অপরাধে অভিযুক্ত।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 30. Consideration of proved confession affecting person making it and others jointly under trial for same offence:
When more persons than one are being tried jointly for the same offence, and a confession made by one of such persons affecting himself and some other of such persons is proved, the Court may take into consideration such confession as against such other persons as well as against the person who makes such confession.

Explanation.-"Offence", as used in this section, includes the abatement of, or attempt to commit, the offence.

Illustrations
(a) A and B are jointly tried for the murder of C. It is proved that A said-"B and I murdered C." The Court may consider the effect of this confession as against B.
৬৬.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী একটি কাজ দুর্ঘটনাক্রমে না ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে তা প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. ধারা ১৫
  2. ধারা ১৪
  3. ধারা ১৭
  4. ধারা ১৬
ব্যাখ্যা
⇒সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৫ বিশেষভাবে নির্দেশ করে যে, যখন প্রশ্ন ওঠে যে একটি কাজ দুর্ঘটনাক্রমে নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত হয়েছে, তখন নিম্নলিখিত তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে:
- যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি একই ধরনের কাজ বারবার করে থাকে,
- তাহলে তা প্রমাণ করে যে কাজটি দুর্ঘটনাজনিত নয়, বরং ইচ্ছাকৃত বা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

⇒ ধারা ১৫ অনুযায়ী, যখন একটি কাজ দুর্ঘটনাক্রমে বা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে, বা কোন বিশেষ জ্ঞান বা উদ্দেশ্য সহ করা হয়েছে কিনা তার প্রশ্ন ওঠে, তখন এমন তথ্য প্রাসঙ্গিক হবে যা একই ধরনের ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে। এর মাধ্যমে এটা প্রমাণ করা যেতে পারে যে, ঐ কাজটি দুর্ঘটনাক্রমে হয়নি বরং ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।

উদাহরণ:
বীমা কেলেঙ্কারি: কেউ যদি একাধিক বীমাকৃত সম্পত্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেয়, তাহলে তা প্রমাণ করে যে ঘটনাগুলো দুর্ঘটনাজনিত নয়।
জালিয়াতি: কেউ যদি একাধিক ব্যক্তিকে জাল নোট দেয়, তাহলে তা ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ।

⇒ ধারা ১৫-ই সঠিক উত্তর, কারণ এটি সরাসরি একটি কাজের ইচ্ছাকৃত বা দুর্ঘটনাজনিত চরিত্র নির্ণয়ের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য নির্ধারণ করে। এটি বিশেষভাবে ফৌজদারি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে অভিপ্রায় বা উদ্দেশ্য প্রমাণ করা প্রয়োজন।
৬৭.
The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে কাজ করে?
  1. ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে
  2. সরকারি আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে
  3. তামাদি আইনের সাধারণ সকল ক্ষেত্রে
  4. অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা একটি বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে কাজ করে এবং এটি শুধুমাত্র অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই ধারা অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ করার মামলায় তামাদি আইনের ৬ ও ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়।
- অর্থাৎ, সাধারণভাবে, ৬ ও ৭ ধারার বিধান অনুযায়ী যদি কেউ নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি গণনা শুরু হবে তখনই, যখন সে এই অপারগতা থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু ৮ ধারা অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেয় না।

- অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি গণনার জন্য ৬ বা ৭ ধারার কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না।
- যদি কেউ অপারগ হয় (যেমন, নাবালক বা উন্মাদ), তাহলেও সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত সময় বাড়ানো যেতে পারে, এর বেশি নয়।

অন্য ক্ষেত্র যেমন ফৌজদারি মামলা, সরকারি আদেশ কার্যকর করা বা তামাদি আইনের সাধারণ ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: ঘ) অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে।
৬৮.
বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কখন থেকে গণনা শুরু হয়?
  1. মামলা দায়েরের তারিখ থেকে
  2. পদটি দখল করার তারিখ থেকে
  3. ক্ষতিপূরণের দাবি জানানোর তারিখ থেকে
  4. পদটি বংশগতভাবে পাওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৪ অনুযায়ী, বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর।
- এই মেয়াদ বিবাদী যখন বাদীর প্রতিকূলে পদটি দখল করে সেই তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
- পদ দখল করার তারিখ বলতে সেই তারিখকে বোঝায় যখন বিবাদী বাদীর অধিকার লঙ্ঘন করে বংশগত পদটি দখল করে।
- এই তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) পদটি দখল করার তারিখ থেকে।
৬৯.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের কোন অনুচ্ছেদে গৃহভৃত্য বা শ্রমিকের মজুরির দাবি সংক্রান্ত মামলা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫
  2. অনুচ্ছেদ ৭
  3. অনুচ্ছেদ ৯
  4. অনুচ্ছেদ ১১
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৭-এ গৃহভৃত্য বা শ্রমিকের মজুরির দাবি সংক্রান্ত মামলা উল্লেখ করা হয়েছে।
- এটি অনুসারে, গৃহভৃত্য বা শ্রমিকের মজুরি বকেয়া হওয়ার পর ১ বছরের মধ্যে মজুরির জন্য মামলা দায়ের করতে হবে।

অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী, গৃহভৃত্য বা শ্রমিকের মজুরি সংক্রান্ত মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর, যা মজুরি বকেয়া হওয়ার তারিখ থেকে শুরু হয়।
৭০.
তামাদি আইনের প্রথম তফশিলের ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকরের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কখন থেকে গণনা শুরু হয়?
  1. বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে
  2. ক্রেতার সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণের তারিখ থেকে
  3. বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে
  4. 'ক' বা 'খ' উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফশিলের ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকর করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১ বছর। এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় নিম্নলিখিত দুটি ক্ষেত্রে:
১. ক্রেতার সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণের তারিখ থেকে: যদি ক্রেতা বিক্রয়কৃত সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে, তাহলে দখল গ্রহণের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
২. বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে: যদি ক্রেতা প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ না করে, তাহলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।

অর্থাৎ, তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয় ক্রেতার দখল গ্রহণের তারিখ বা বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ—এই দুটির যেকোনো একটি থেকে।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে: এটি শুধুমাত্র আংশিক সঠিক, কারণ ক্রেতা যদি প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে, তাহলে দখল গ্রহণের তারিখ থেকেও মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
খ) ক্রেতার সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণের তারিখ থেকে: এটি শুধুমাত্র আংশিক সঠিক, কারণ ক্রেতা যদি প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ না করে, তাহলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
গ) বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে: এটি সঠিক নয়, কারণ তামাদির মেয়াদ চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে গণনা করা হয় না।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) 'ক' এবং 'খ' উভয় ক্ষেত্রে।
৭১.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর কোন ধারা বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর মামলা সংক্রান্ত?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১২
  4. ধারা ১৩
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908)-এর ধারা ১১ (Section 11) হলো:
- "Suits on foreign contracts" অর্থাৎ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলা সংক্রান্ত ধারা।
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
- তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।

(১) উপধারা:
বাংলাদেশে দায়েরকৃত সেই সব মামলা যেগুলি বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে হয়, তাদের তামাদি গণনা হবে বাংলাদেশের তামাদি আইন অনুযায়ী।  অর্থাৎ, বাংলাদেশের আইনই প্রযোজ্য, বিদেশি তামাদি আইন নয়।
(২) উপধারা: কোনো বিদেশি তামাদি বিধান সাধারণভাবে প্রতিরক্ষা (defence) হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, যদি সেই বিদেশি আইন চুক্তিটিকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত (extinguished) করে দেয় এবং চুক্তির উভয় পক্ষ সেই বিদেশি দেশে বসবাসরত (domiciled) থাকে তামাদি মেয়াদের পুরো সময়কাল, তবে সেই ক্ষেত্রে বিদেশি তামাদি আইন গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section-11. Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act. 
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.

৭২.
অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ে তামাদির মেয়াদ গণনার মূল প্রভাব কী?
  1. তামাদির মেয়াদ কমে যায়
  2. তামাদি সময়সীমা পরিবর্তন হয় না
  3. প্রতিটি মুহূর্তে নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়
  4. কেবলমাত্র প্রথমবার চুক্তিভঙ্গ হলে তামাদি গণনা শুরু হয়
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো অবিরাম চুক্তিভঙ্গ (Continuing Breach of Contract) বা অবিরাম অন্যায় (Continuing Wrong) সংঘটিত হয়, তাহলে প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির গণনা শুরু হয়, যতক্ষণ না ওই অন্যায় বা চুক্তিভঙ্গ বন্ধ হয়।

- সাধারণত, মামলার তামাদি গণনা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে শুরু হয়, তবে অবিরাম অন্যায় বা চুক্তিভঙ্গ হলে প্রতিদিনই নতুন করে তামাদির গণনা শুরু হয়।
- এর ফলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পরও মামলা দায়ের করতে পারেন, যদি অন্যায় বা চুক্তিভঙ্গ চলমান থাকে।
- জমির অবৈধ দখল (Trespass), পরিবেশ দূষণ (Pollution), বা চুক্তি লঙ্ঘন (Breach of Contract) সংক্রান্ত মামলায় এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

→ অর্থাৎ যদি অন্যায় বা চুক্তিভঙ্গ একটি নির্দিষ্ট দিনে শেষ না হয়ে চলতে থাকে, তাহলে প্রতিদিন নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়। ফলে, তামাদির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এই যুক্তিতে মামলাটি খারিজ হবে না।
৭৩.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলার তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ১০৩
  2. অনুচ্ছেদ ১০৪
  3. অনুচ্ছেদ ১০৭
  4. অনুচ্ছেদ ১০৯
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৪ অনুযায়ী, বিলম্বিত দেনমোহরের (Deferred Dower) জন্য একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত হয়।
- এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৩ বছর।
- এই মেয়াদ মৃত্যু বা তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

- বিলম্বিত দেনমোহর বলতে ইসলামিক আইনে বিবাহের সময় নির্ধারিত দেনমোহরের যে অংশ পরবর্তীতে পরিশোধের শর্তে স্থগিত রাখা হয় তাকে বোঝায়।
- মৃত্যু বা তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ বলতে স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের মাধ্যমে বিবাহের সম্পর্ক শেষ হওয়াকে বোঝায়।
৭৪.
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ) করার ক্ষমতা সম্পর্কে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর কোন অনুচ্ছেদে বিধান রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৪(১)
  2. অনুচ্ছেদ ৩৪(৪)
  3. অনুচ্ছেদ ৩৪(৬)
  4. অনুচ্ছেদ ৩৪(৮)
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ৩৪(৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে তার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ), পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।

⇒ বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ) করার ক্ষমতা: অনুচ্ছেদ ৩৪(৮) অনুযায়ী: বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে তার পূর্বের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (review), পরিবর্তন (vary) বা বাতিল (rescind) করতে পারে।
------------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 Article-34(8):
The Tribunal may, of its own motion or on application made to it in this behalf, review any order passed under clause (4) or (6) and maintain, vary or rescind the same, as it thinks fit.
৭৫.
বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রাপ্ত সমস্ত এনরোলমেন্ট ফি, অনুদান, দান বা সাবস্ক্রিপশন কীসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. সরকারি তহবিল
  2. বার কাউন্সিল ফান্ড
  3. বিচার বিভাগীয় তহবিল
  4. অ্যাডভোকেট ওয়েলফেয়ার ফান্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বার কাউন্সিল ফান্ড।

⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রাপ্ত সমস্ত এনরোলমেন্ট ফি, অনুদান, দান বা সাবস্ক্রিপশন বার কাউন্সিল ফান্ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই তহবিলটি বার কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায় থাকবে এবং এটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হবে যে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, যা বার কাউন্সিলের দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে।

According to Article 13 of the Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972,
- All sums received by the Bar Council as enrolment fees or as grants, donations or subscriptions shall form part of the Bar Council and that fund shall be managed, administered and utilized in such manner as may be prescribed. 
Explanation - In this Article, the expression, “enrolment fees” includes fees and their families and dependents, group insurance schemes and benevolent funds.