পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০ পার্ট-১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। পার্ট-২) পদার্থের অবস্থা, ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ এবং শব্দ, তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক যন্ত্রপাতি, তড়িৎ চৌম্বক, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান উয়ারী বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নরসিংদী
  2. নাটোর
  3. কুমিল্লা
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করা হয় কত সালে?
  1. ১৭০০ সালে
  2. ১৭০৫ সালে
  3. ১৭১০ সালে
  4. ১৭১৫ সালে
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
.
'কণিষ্ক' কোন বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন?
  1. পাল
  2. মৌর্য
  3. গুপ্ত
  4. কুষাণ
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলা কত সনে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ঘটে?
  1. ১৭৭০ সনে
  2. ১৭৭৬ সনে
  3. ১১৭০ সনে
  4. ১১৭৬ সনে
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন কোন শাসক?
  1. শশাংক
  2. কেশব সেন
  3. অশোক
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা
অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন মুঘল সম্রাট ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট হুমায়ূন
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বেঙ্গল মুভমেন্টের প্রবক্তা ছিলেন -
  1. ক্ষুদিরাম
  2. ডিরোজিও
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'কর্ণসুবর্ণ' কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. সমতট
  2. গৌড়
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
⇒ গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।

গৌড়:

- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ঢাকার শেষ নবাব কে ছিলেন?
  1. নবাব খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
  2. নবাব খাজা আয়াতুল্লাহ বাহাদুর
  3. নবাব খাজা সিরাজুল্লাহ বাহাদুর
  4. নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা
নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:
- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতা ছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।
১০.
বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক কে ছিলেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ
  2. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  3. জালালউদ্দিন মাহমুদ
  4. সিরাজউদ্দিন মাহমুদ
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
নিচের কোন অঞ্চলটি পুণ্ড্র জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বগুড়া
  2. রংপুর
  3. রাজশাহী
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১২.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  2. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ফরাসউদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩.
'ঐতরেয় আরণ্যক' গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে কোন জনপদের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  2. আজহারউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  3. জলিলউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  4. মহিউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
ব্যাখ্যা
বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ওমর মির্জা ফারগনার শাসনকর্তা ছিলেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কোন জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে?
  1. ব্যারাকপুরে
  2. পুরুলিয়া
  3. বর্ধমানে
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. সিরিয়া
  2. ইরান
  3. ইরাক
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
'ফতেহপুর সিক্রি' কোন মুঘল সম্রাটের সময় কালের স্থাপত্য?
  1. বাবর
  2. আকবর
  3. হুমায়ুন
  4. শাহজাহান
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন কে?
  1. ড. রবার্ট
  2. ড. স্মিথ
  3. ড. হেনরি
  4. ড. এডওয়ার্ড
ব্যাখ্যা
সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত সম্ভাব্য ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৩৮০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে সকল সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন, সমুদ্রগুপ্ত তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন।
- উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাঙ্গেয় উপত্যকার স্থানীয় একটি রাজ্যকে তিনি সর্বভারতীয় এক সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
- প্রাচীন ভারতের তৃতীয় সাম্রাজ্যবাদী পুরুষ হিসাবে সমুদ্রগুপ্ত বিখ্যাত।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
- আর্যাবর্তের সকল রাজাকে পরাজিত করে তিনি 'সর্বরাজোচ্ছেত্তা' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য ছিল প্রভুত্ব ও স্বায়ত্ত্বশাসনের এক অপূর্ব সমন্বয়।
- দিগ্বিজয় সম্পন্ন করে তিনি 'অশ্বমেধযজ্ঞ' অনুষ্ঠান করেন এবং এই যজ্ঞের স্মৃতিরক্ষায় স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন।
- তিনি ছিলেন প্রচন্ড সাম্রাজ্যবাদী।
- ড. স্মিথ সম্ভবত এ কারণেই সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন।
- ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত ভারতভূমিকে এক শাসনে আবদ্ধ করাই ছিল সমুদ্রগুপ্তের লক্ষ।
- কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতের রাজনীতিতে যে শক্তিশূন্যতা দেখা দেয় গুপ্ত সাম্রাজ্য তা দূর করে।
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন সাধুব্যক্তিদের আশাস্বরূপ, আর অসাধুদের জন্য প্রলয়। হরিষেণ সমুদ্রগুপ্তকে মানুষের আকৃতিতে দেবতা তুল্য 'অচিন্ত্যপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
মৌলিক রাশির একক কোনটি?
  1. মিটার
  2. কেলভিন
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে। 
- মৌলিক রাশি সাতটি। 
যেমন- 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা ও পদার্থের পরিমাণ। 

মৌলিক একক: 
- মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। 
যেমন- 
দৈর্ঘ্যের একক- মিটার
• ভরের একক- কিলোগ্রাম, 
• সময়ের একক- সেকেন্ড, 
তাপমাত্রা/উষ্ণতার একক- কেলভিন
তড়িৎ প্রবাহের একক- অ্যাম্পিয়ার
• দীপন তীব্রতার একক- ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক- মোল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
একটি ক্লাস রুমের শব্দের তীব্রতার লেভেল কত? 
  1. 30 dB
  2. 40 dB
  3. 50 dB
  4. 60 dB
ব্যাখ্যা
- ক্লাস রুমের শব্দের তীব্রতার লেভেল- 50 dB .

শব্দের তীব্রতার লেভেল: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- এর মূল একক W/m2 । 
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্ব নিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্ব নিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। 
- এর মান 10-12 Wm-2 বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000 Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
ভেক্টর রাশির ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? 
  1. ভেক্টর রাশির মান ও দিক নেই।
  2. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
  3. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায় না।
  4. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে।
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশির ধর্ম: 
- ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। 
যেমন- 
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে। 
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি। 
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি। 
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না। 
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়। 

২। স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
ক্যাসেটের ফিতার শব্দ কী হিসেবে রক্ষিত থাকে? 
  1. কার্বন ক্ষেত্র হিসেবে
  2. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হিসেবে
  3. চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
  4. মেমোরি চিপ হিসেবে
ব্যাখ্যা
- কম্পিউটার ও টেপ-রেকর্ডার বা ক্যাসেটের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক থাকে। 
- এক্ষেত্রে স্মৃতির ফিতা বা টেপে ব্যবহৃত ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড (CrO2) পদার্থের বহি:চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও আবিষ্ট চৌম্বকত্বের বেশিরভাগই অটুট থাকে অর্থাৎ, এর আবিষ্ট চুম্বকত্ব স্থায়ী হয়। 
- ১৯৩০ সালের দিকে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয় শব্দ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি। 
চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই ক্যাসেটের ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়। যথা- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২৩.
তরঙ্গের উপরে অবস্থিত পর পর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার দূরত্বকে কী বলে? 
  1. তরঙ্গমুখ
  2. কম্পাঙ্ক
  3. বিস্তার
  4. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
তরঙ্গমুখ: 
- পানির মধ্যে আন্দোলন সৃষ্টি করে তরঙ্গ উৎপন্ন হলে তরঙ্গ বৃত্তের আকারে পানির উপর বিস্তৃত হয়। 
- একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বৃত্তের উপরস্থ পানি কণাগুলাে একবার উপরে উঠছে ও একবার নিচে নামছে বা তরঙ্গচূড়া (crest) ও তরঙ্গখাজ (trough) উৎপন্ন হচ্ছে। 
- তরঙ্গচূড়ায় অবস্থিত সকল কণার দশা একই আবার তেমনি তরঙ্গখাজে অবস্থিত সকল কণার দশা সমান। 
অর্থাৎ, কোনাে তরঙ্গের উপর অবস্থিত সমদশা সম্পন্ন কণাগুলাের গতিপথ (locus)-কে তরঙ্গমুখ বলে। 

তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কোনো কম্পনশীল কণার বা তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণার একটি কম্পন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে
তাকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। 
তরঙ্গের উপরে অবস্থিত পর পর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার দূরত্বই তরঙ্গদৈর্ঘ্য। 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনো কম্পনশীল কণা একক সময়ে যতগুলো পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে তাকে ঐ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক f বলে। 
- কোনো কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক f = N/t . 
- কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- কোনো কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনো কম্পনশীল কণা স্থির বা সাম্যাবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
২৪.
কোনটি মডারেটর হিসাবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. সীসা
  2. কয়লা
  3. গ্রাফাইট
  4. লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
মডারেটর: 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হল: 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
বর্তনীতে কত প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়?
  1. দুই
  2. চার
  3. তিন
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
আলোক রশ্মি বহনের কাজে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. ফাইবার গ্লাস
  2. ফ্লোট গ্লাস
  3. অপটিক্যাল ফাইবার
  4. ম্যাগনিফাইং গ্লাস
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু। 
- এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচ অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৭.
কোনটির সাহায্যে ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়? 
  1. টেলিস্কোপ
  2. পেরিস্কোপ
  3. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২৮.
সরু চোঙের ব্যাসার্ধ নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. মিটার স্কেল
  2. স্ক্রু গজ
  3. তুলা যন্ত্র
  4. স্লাইড ক্যালিপার্স
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. নিয়ন
  2. আর্গন
  3. রেডন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা
আর্গন গ্যাস: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?  
  1. - 100°C
  2. 0°C
  3. - 273°C
  4. 273°K
ব্যাখ্যা
পরমশূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C । 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।