পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৯ টপিক: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ সমূহ; প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরণ ও প্রকৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা [Live Class – 14 & 15]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
জলবায়ুর তথ্য সাধারণত কত বছরের গড় আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়?
  1. ১০-১৫ বছর
  2. ২০-২৫ বছর
  3. ৩০-৪০ বছর
  4. ৫০-৬০ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু:
- কোনো দেশের ভৌগোলিক অবস্থান বলতে তার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশভিত্তিক অবস্থানকে বোঝায়।
- বাংলাদেশ ৮৮° ০১′ থেকে ৯২° ৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- তাই বাংলাদেশ ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি’ জলবায়ুর দেশ।
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলসীমান্ত ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।

জলবায়ু ও আবহাওয়া:
- জলবায়ু বলতে কোনো অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের গড় আবহাওয়া বোঝায়, সাধারণত এটি ৩০ থেকে ৪০ বছরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
- অন্যদিকে, আবহাওয়া হলো স্বল্পমেয়াদি বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিবর্তনশীল হতে পারে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
SPARRSO বর্তমানে কোন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে?
  1. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  2. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  3. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  4. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
SPARRSO:
- SPARRSO, যা সম্পূর্ণরূপে Bangladesh Space Research and Remote Sensing Organization হিসেবে পরিচিত, একটি প্রযুক্তিভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৮০ সালে এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানান্তরিত হয়।
- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা এটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পারসোকে দেশ এবং বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য "ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট" হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
- SPARRSO ঢাকা শহরের আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য, SPARRSO বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: SPARRSO এর ওয়েবসাইট।
.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এর অধীনে কোন নীতিমালা তৈরি হয়?
  1. দুর্যোগ মোকাবেলা নীতিমালা ২০১৫
  2. জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫
  3. দুর্যোগ পরিকল্পনা নীতিমালা ২০১৪
  4. জাতীয় দুর্যোগ পরিকল্পনা নীতিমালা ২০১৫
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ (৩৪ নং আইন)
- আইন প্রণীত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২।
- এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
- এর অধীনে তৈরি হয়: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫।

গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও পরিকল্পনা:
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০
- দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি-২০১৯
- পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০)

উল্লেখ্য যে,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ প্রণীত হওয়ার পর, এর আওতায় দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি কার্যকর কাঠামো এবং সুসংগঠিত পদ্ধতি গড়ে তোলার জন্য জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫ তৈরি করা হয়।
- এই নীতিমালার মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- এটি দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সুসংগঠিত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সহায়ক।

তথ্যসূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন- ২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০১৫ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে খরার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি?
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

খরার কারণগুলো:
স্বল্প বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায়।
তীব্র গ্রীষ্মকাল: গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মাটির আর্দ্রতা কমে।
জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়ায়।
নদীপ্রবাহের হ্রাস: নদীপ্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়।
আবহাওয়ার চক্র: বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম হওয়ায় ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম শ্রেণি ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
.
বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কতটি ঝুঁকির দিক চিহ্নিত করে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক চিহ্নিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান ঝুঁকিসমূহ:
- বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সৃষ্ট পাঁচটি প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে:
১) মরুকরণ
২) বন্যা
৩) ঝড়
৪) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
৫) কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা

• বাংলাদেশের অবস্থান ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা:
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, উষ্ণায়নের এই পাঁচটি ঝুঁকির মধ্যে তিনটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রয়েছে, যা দেশটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে।

বিভিন্ন ঝুঁকিতে থাকা দেশসমূহ:
• বন্যা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
• ঝড়ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
• মরুকরণ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, ইরাক, কেনিয়া, ইরান।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- সব নীচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিশর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

- এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. সাড়াদান
  2. পুনরুদ্ধার
  3. প্রতিরোধ
  4. উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রথম ধাপ হল প্রতিরোধ (Prevention)।
- এই ধাপের উদ্দেশ্য হল দুর্যোগের আগমনের পূর্বে তার প্রভাব কমানো এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা।
- যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত: বন্যা বা সমুদ্রের পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য।
মজবুত ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ: দুর্যোগের সময় কম ক্ষতি সৃষ্টির জন্য ঘরবাড়ি ও স্কুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নদী খনন: বন্যা বা অন্যান্য জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানোর জন্য।



তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. মার্চ
  3. এপ্রিল
  4. মে
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকাল:
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল চলে মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত।
- এই সময় সূর্যের উত্তরায়নের কারণে উত্তাপের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং তাপমাত্রা দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরের দিকে বাড়তে থাকে।
- গ্রীষ্মকালকে বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু হিসেবে পরিচিত।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াস থাকে।
- এপ্রিল মাস হল উষ্ণতম মাস, যেখানে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস থাকে।
- সমুদ্র উপকূল থেকে দেশের অভ্যন্তরে, বিশেষত উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
- গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে।
- এ সময় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে শুষ্ক এবং আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সাধারণত কোথায় ঘটে?
  1. উত্তরাঞ্চল
  2. পার্বত্য অঞ্চল
  3. সুন্দরবন অঞ্চল
  4. উপকূলীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা
আকস্মিক বন্যা:
- পার্বত্য অঞ্চলে অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।
- বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সাধারণত পার্বত্য এলাকায় ঘটে, যেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে দ্রুত পানি জমে যায় এবং উঁচু জায়গা থেকে নিচে নামতে থাকে, ফলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।
- বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে এ ধরনের বন্যা প্রায়ই দেখা যায়।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুন ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়ে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোরিওলিস প্রভাব কোন দিকে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে?
  1. পৃথিবীর অক্ষের দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধে বাম দিকে
  3. দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
ব্যাখ্যা
কোরিওলিস প্রভাব:
- ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী, বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনকারী শক্তিকেই কোরিওলিস প্রভাব বা কোরিওলিস শক্তি বলা হয়।
- এটি পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের কারণে কোনো চলমান বস্তুর ওপর সৃষ্ট দিক পরিবর্তন, যা গোলার্ধভিত্তিক পরিবর্তন ঘটে।
- কোরিওলিস প্রভাবের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
১. এটি বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে এবং সর্বদা লম্বভাবে কার্যকর।
২. কোরিওলিস শক্তি বায়ুর গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. কোরিওলিস প্রভাব মেরুতে সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় এলাকায় অস্তিত্ব লোপ পায়।

পৃথিবীর আবর্তন:
- পৃথিবী তার আহ্নিক গতি অনুযায়ী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এই ঘূর্ণনের ফলে সমুদ্রের পানিরাশি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোত তৈরি হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী, সমুদ্র স্রোতও পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাবে:
- উত্তর গোলার্ধে স্রোত ডান দিকে (ঘড়ির কাঁটার দিকে) বেঁকে প্রবাহিত হয়, যেমন উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে স্রোত বাম দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে) প্রবাহিত হয়, যেমন ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. রাসায়নিক দূষণ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ (Disaster):
- দুর্যোগ হলো এমন একটি বিপর্যয়, যা নির্দিষ্ট এলাকার অধিকাংশ জনগণকে বিপদাপন্ন করে তোলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।
- এটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

বিশ্বের যেকোনো দেশে সাধারণত দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়:
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক শক্তির কারণে সংঘটিত দুর্যোগকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে। উদাহরণ— অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়।
২. মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব কর্মকাণ্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে। উদাহরণ— জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।

সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে 'রাসায়নিক দূষণ' প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশের জন্য কোন তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  2. ঝড়, বন্যা, কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
  3. বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, ঝড়, মরুকরণ
ব্যাখ্যা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বাংলাদেশের ঝুঁকি:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- যার মধ্যে ৩টি দিক বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
- এই তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক হলো: বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো:
১. মরুকরণ
২. বন্যা
৩. ঝড়
৪. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
৫. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা দেশের তালিকা:
১. বন্যা ঝুঁকি:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
২. ঝড় ঝুঁকি:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
৩. মরুকরণ ঝুঁকি:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, ইরাক, কেনিয়া, ইরান।
৪. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ঝুঁকি:
- সব নীচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিশর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
৫. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ঝুঁকি:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]