যে সকল সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসরণ করে না তাদের কে বলে-
ক
ক) স্বরসন্ধি
খ
খ) বিসর্গসন্ধি
গ
গ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ঘ
ঘ) ব্যাঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। • কিছু স্বরসন্ধি ও কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি কোনো সূত্র বা নিয়ম অনুসরণ করে না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিপাতনে সিদ্ধ কিছু স্বরসন্ধি হলো: কুল+অটা = কুলটা গো+অক্ষ = গবাক্ষ ইত্যাদি।
নিপাতনে সিদ্ধ কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি হলো: গো+পদ = গোষ্পদ এক+দশ = একাদশ বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২.
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে- এ বাক্যে ‘টিপটিপ’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
ক
ক) ধরণবাচক
খ
খ) কালবাচক
গ
গ) স্থানবাচক
ঘ
ঘ) নেতিবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। য়েমন : টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।
অন্যদিকে, কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন: আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। যেমন: মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।
নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে। যেমন: সে এখন যাবে না।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩.
কোনটি ঘোষ ধ্বনির উদাহরণ?
ক
ক) জ
খ
খ) চ
গ
গ) ছ
ঘ
ঘ) শ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।
১. ঘােষ ব্যঞ্জন যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ ।
২. অঘোষ ব্যঞ্জন যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি। যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৪.
নারীবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
ক
ক) ষোড়শী
খ
খ) চতুর্থ
গ
গ) অষ্টাদশ
ঘ
ঘ) অষ্টম
ব্যাখ্যা
বাংলা সংখ্যাবাচক শব্দের "পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ" ৩ প্রকার। যথা - ১. সাধারণ পূরণবাচক ২. তারিখ পূরণবাচক ৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক ----------- সাধারণ পূরণবাচক শব্দ: ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি। - এগুলো আবার সংক্ষিপ্তরূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা, দ্বিতীয়া, অষ্টমী, দশমী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫.
ক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
ক
ক) √ক্রে + তৃ
খ
খ) √ক্রী+তৃ
গ
গ) √ক্রে + তৃচ্
ঘ
ঘ) ক্রী + তৃচ
ব্যাখ্যা
• ক্রেতা (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃতি-প্রত্যয় = [√ক্রী+তৃ] অর্থ: যে ক্রয় করে, ক্রয়কারী।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬.
'কিছু না খেলে আর পারছি না'- এখানে ‘কিছু’ কোন পদ?
ক
ক) বিশেষ্য
খ
খ) সর্বনাম
গ
গ) বিশেষণ
ঘ
ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• যে সর্বনাম দ্বারা অনির্দিষ্ট ও পরিচয়হীন কোন কিছুকে বুঝায় তাকে অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম বলে। এ ধরনের সর্বনাম হলো: কেউ, কেউ কেউ, কিছু। যেমন: কোথাও কেউ নেই। কেউ কেউ ঘটনাটা জানবেন। কোন কিছু আমার জানা নেই। কিছু না খেলে আর পারছি না। যে কেউ এর নিন্দা করেবে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭.
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ নয় কোনটি?
ক
ক) নায়ক
খ
খ) গায়ক
গ
গ) করণীয়
ঘ
ঘ) দোলনা
ব্যাখ্যা
• ‘দোলনা’ বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: ১.কৃৎ প্রত্যয় এবং ২.তদ্ধিত প্রত্যয়।
কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা : বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √দুল্+অনা = দোলনা, √খেল্+অনা = খেলনা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: √ণী+ণক ˃ নৈ+অক = নায়ক, √গৈ+ণক = গায়ক, √কৃ+অনীয় = করণীয়, √রক্ষ+অনীয় = রক্ষণীয়
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ
৮.
“মণ্ডলী” যুক্ত সঠিক বহুবচন কোনটি?
ক
ক) সদস্যমণ্ডলী
খ
খ) পণ্ডিতমণ্ডলী
গ
গ) সম্পাদকমণ্ডলী
ঘ
ঘ) মন্ত্রীমণ্ডলী
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’, ‘বৃন্দ’, ‘মণ্ডলী’, ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। যেমন: গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ। বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
অন্যান্য শব্দের সমার্থক হচ্ছে: “অশ্ব” এর সমর্থক শব্দ - বাহ, ঘোড়া, ঘোটক, বাজী, তুরঙ্গম, তুরগ, বাহনশ্রেষ্ঠ, হ্রেষী, বামী। “অল্প” এর সমর্থক শব্দ - নগণ্য, কম, সামান্য, কিয়ৎ, একটু, অনধিক, অবহুল। “অজ্ঞ” এর সমর্থক শব্দ - মূঢ়, মুর্খ, নির্বোধ, অশিক্ষিত, জ্ঞানহীন, বেকুব, নিরক্ষর, অবিদ্বান, অপ্রজ্ঞা। ‘অচেতন” এর সমর্থক শব্দ - মূর্ছিত, আচ্ছন্ন, অসাড়, চেতনাশূন্য, সংজ্ঞাহীন, হেহুঁশ। “অক্ষয়” এর সমর্থক শব্দ - চিরন্তন, অলয়, অনশ্বর, ক্ষয়হীন, অমর, চিরায়ু, স্থায়ী, নাশহীন, অব্যয়। “অঙ্গ” এর সমর্থক শব্দ - বপু, দেহ, শরীর, অবয়ব, তনু, গতর, কাঠামো।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
“পরের ভালো যে দেখতে পারে না” তাকে এক কথায় কি বলে?
ক
ক) অপেয়
খ
খ) পরশ্রীকাতর
গ
গ) পুরাতাত্ত্বিক
ঘ
ঘ) পঙ্কজ
ব্যাখ্যা
• “পরের ভালো যে দেখতে পারে না” এক কথায় - পরশ্রীকাতর
কিছু এক কথায় প্রকাশ: - পান করার যোগ্য নয় - অপেয় - পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ - পুরাকালের বিষয় যিনি জানেন - পুরাতাত্ত্বিক - পড়ার উপযুক্ত -পঠিতব্য
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
‘ধূর্ত’ শব্দের বিপরীতার্থক নিচের কোনটি?
ক
ক) সরল
খ
খ) বিনয়ী
গ
গ) ভোঁতা
ঘ
ঘ) কচি
ব্যাখ্যা
• ‘ধূর্ত’ শব্দের বিপরীতার্থক হলো - সরল/বোকা।
• অপশনে দেয়া অন্যান্য শব্দের বিপরীতার্থক হলো: - ধৃষ্ট = নম্র/বিনয়ী। - ধারালো = ভোঁতা। - ধেড়ে = কচি।
• গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীতার্থক শব্দ হলো: - নরম = শক্ত - প্রকাশ্যে = নেপথ্যে - প্রফুল্ল = ম্লান - পারত্রিক = ঐহিক
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
ক
ক) ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল
খ
খ) কালো কালো চেহারা
গ
গ) আমি জ্বর জ্বর অনুভব করছি
ঘ
ঘ) তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ
ব্যাখ্যা
ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল - আধিক্য বোঝাতে ‘ধামা ধামা’ দ্বিরুক্ত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
কয়েকটি দ্বিরুত্ব শব্দের অর্থ: - আমি জ্বর জ্বর অনুভব করছি, এইখানে সামান্য অর্থে ‘জ্বর জ্বর’ দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। - তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ, এইখানে ধারাবাহিকতা বোঝাতে ‘দিন দিন’ দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। - ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল, এইখানে ‘ছোট ছোট’ দ্বিরুক্ত শব্দটি তীব্রতা অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)।
১৩.
“ফুলকুমারী” কোন ধরণের সমাস
ক
ক) কর্মধারয় সমাস
খ
খ) বহুব্রীহি সমাস
গ
গ) দ্বিগু সমাস
ঘ
ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে প্রথম পদটি দ্বিতীয় সমাসের বিশেষণরূপে অবস্থান করে ( এমনকি বিশেষণ পদ না হয়েও) এবং সমস্তপদে দ্বিতীয় বা পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। ব্যাসবাক্যের মাঝে ‘যে’ থাকবে।
যেমন: ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা যা মিঠা তা-ই কড়া = মিঠাকড়া
[ যে, সে, যেই, সেই, যিনি, তিনি, যা, তা, ইত্যাদি ব্যাসবাক্য কর্মধারয় সমাসে ব্যবহৃত হয়]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৪.
কারখানা কোন ভাষার শব্দ?
ক
ক) তুর্কি
খ
খ) বাংলা
গ
গ) ফারসি
ঘ
ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
- কারখান ফারসি শব্দ।
এছাড়াও আরো কিছু ফারসি শব্দ হলো: অন্দর, কানুন, আবহাওয়া, আমদানি-রপ্তানি, দরবার, আমল, শরবত, বরফ, সাহেব, সবজি, জমিদার, গোয়েন্দা, গোলাম, জিনিস, কাগজ, ইস্তফা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১৫.
কোন বিরামের থামার সময়ের অনুপাত 'কমা'র দ্বিগুণ?
ক
ক) দড়ি
খ
খ) কোলন
গ
গ) সেমিকোলন
ঘ
ঘ) ড্যাশ
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন: সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। - মনের ভাব প্রকাশের সময় একটি বাক্য শেষ করে সন্নিহিত নতুন বাক্যটি শুরু করতে চাইলে একটু বেশি থামতে হয়। - সেমিকোলন বিরামের থামার সময়ের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
‘মা শিশুকে চাঁদ দেখায়’- এখানে ‘দেখা’ কোন ধাতু?
ক
ক) মৌলিক ধাতু
খ
খ) সাধিত ধাতু
গ
গ) যৌগিক ধাতু
ঘ
ঘ) বাংলা ধাতু
ব্যাখ্যা
• ‘মা শিশুকে চাঁদ দেখায়’- এখানে ‘দেখা’ সাধিত ধাতু।
সাধিত ধাতু : যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে অন্য একটি ধাতু বা নাম শব্দ এবং এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সাধিত ধাতু। যেমন: দেখ্+আ = দেখা, পড়্ +আ = পড়া, বল্ + আ = বলা ইত্যাদি।
• সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষবাচক বিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। - যেমন: ‘মা শিশুকে চাঁদ দেখায়।’ এখানে দেখ্ +আ + বর্তমান কালের সাধারণ নাম পুরুষের ক্রিয়াবিভক্তি য় = দেখায়। এরূপ শোনায়, বসায়, শেখায় ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
ক
ক) দুঃখপ্রাপ্ত
খ
খ) মধুমাখা
গ
গ) ছেলে-ভুলানাে
ঘ
ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: - দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত - ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে
⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: - মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা - চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন – - গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি - তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮.
ক্রমবাচক সংখ্যাবাচক শব্দ কোনটি?
ক
ক) দ্বিতীয়, তৃতীয়
খ
খ) দুই, তিন
গ
গ) সাড়ে, পোয়া
ঘ
ঘ) দোসরা, তেসরা
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার। যথা - - ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি। - পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয় ইত্যাদি। পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার। যথা - - সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি। - তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি। - ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় কোন ভাষায়?
ক
ক) বাংলা
খ
খ) ইংরেজি
গ
গ) পর্তুগিজ
ঘ
ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।
•১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। - বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
ক
ক) অশ্রুজলে ভেসে যায় দুইটি নয়ন।
খ
খ) তারা একত্রে গমন করলো।
গ
গ) আবাল্য হতে তিনি কাব্য প্রিয়।
ঘ
ঘ) এ মামলায় আমি সাক্ষ্যি দেব না।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: অশ্রুজলে ভেসে যায় দুইটি নয়ন।
বাক্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যেতে নাহি দিব' কবিতা থেকে চয়নকৃত। "একটি নিশ্বাসে তার আদরের ধন,— অশ্রুজলে ভেসে যায় দুইটি নয়ন,"
অশ্রু/অশ্রুজল/অশ্রুবারি: তিনটি শব্দই শুদ্ধ। অশ্রু শব্দের অর্থ চোখের জল বা চোখের বারি। বাংলা একাডেমি বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত অশ্রুজল (অশ্রু + জল) ও সংস্কৃত অশ্রুবারি (অশ্রু + বারি) শব্দের অর্থ নয়নবারি। শব্দ দুটি অশ্রুর সমার্থক।
অনেকে মনে করেন ‘অশ্রুবারি’ ও ‘অশ্রুজল’ বাহুল্য। তাদের যুক্তি, যেখানে অশ্রু অর্থ চোখের জল, সেখানে অশ্রুর সঙ্গে পুনরায় জল ও বারি লেখা হলে ‘অশ্রুজল/অশ্রুবারি' শব্দের অর্থ হয়ে যায় : চোখের জল জল। এ যুক্তি ঠিক নয়, ঠিক হতো যদি ‘অশ্রু ও বারি’ এবং ‘অশ্রু ও জল' পরস্পর ফাঁক রেখে যথাক্রমে ‘অশ্রু জল', ‘অশ্রু বারি’ লেখা হতো ।
------------------------- অন্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ - - তারা একত্র গমন করলো। - বাল্য হতেই তিনি কাব্য প্রিয়। - এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
[বি.দ্র. আমাদের আর্কাইভে অনেকবার "অশ্রুজল" শব্দটি অপপ্রয়োগ হিসেবে দেয়া আছে, যা সঠিক নয়। ‘অশ্রুজল’ বাংলা একাডেমির অভিধানে প্রমিত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অতএব, অশ্রুজল অশুদ্ধ নয়।]
সূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি।
২১.
'কুলা' শব্দটি কোন ভাষার?
ক
ক) হিন্দি
খ
খ) তদ্ভব
গ
গ) তুর্কি
ঘ
ঘ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
কুলা: ➤ মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) অনুসারে - এটি একটি দেশি শব্দ। ➤ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে - শব্দটি তদ্ভব (সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন) শব্দ।
কুলা (বিশেষ্য): - (তদ্ভব শব্দ - কুল্য > কুলা) - অর্থ: ধান চাল প্রভৃতি ঝাড়ার জন্য জন্য ব্যবহৃত বাঁশের চাঁচ দিয়ে তৈরি অর্ধবৃত্তাকার ডালাবিশেষ, কুলো।
# এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অধিক গ্রহণযোগ্য।
রেফারেন্স: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)
[বি. দ্র. শব্দের উৎস সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আমাদের তথ্যকল্পদ্রুম সিরিজের ১২ ও ১৩ নং পোস্ট থেকে বিস্তারিত দেখে নিতে পারেন।]
২২.
'নায়ক' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
ক
ক) ফারসি
খ
খ) সংস্কৃত
গ
গ) হিন্দি
ঘ
ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
নায়ক (সংস্কৃত), বিশেষ্য প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √নী+অক অর্থ: ১. নেতা, ২. পরিচালক, দলপতি; ৩. সেনাপতি, ৪. নায়ক উপন্যাস প্রভৃতির মূল চরিত্র। ৫. প্রণয়ী পুরুষ
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
২৩.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
ক
ক) লাল
খ
খ) বউ
গ
গ) লতা
ঘ
ঘ) নীলাকাশ
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।
মৌলিক শব্দ: যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।
সাধিত শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি। শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪.
"এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না।" - বাক্যটিতে কিসের অভাব রয়েছে?
ক
ক) আকাঙ্ক্ষা
খ
খ) আসত্তি
গ
গ) বাহুল্য
ঘ
ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম যোগ্যতা। বাক্যের যোগ্যতা সাধারণত গদ্যের ক্ষেত্রে বিচার করা হয়, কাব্যের ক্ষেত্রে নয়।
- “হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে” - এ পঙ্ক্তি কবিতায় মান্য হলেও গদ্যে যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত। - একইভাবে, "এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না" - পঙ্ক্তিটিও গদ্যের বিচারে যোগ্যতাহীন।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১
২৬.
ণ-ত্ব বিধান খাটে না কোন শব্দে?
ক
ক) পণ্য
খ
খ) কারণ
গ
গ) ত্রিনয়ণ
ঘ
ঘ) ভূষণ
ব্যাখ্যা
'ত্রিনয়ণ' শব্দে ণ-ত্ব বিধান খাটে না সঠিক শব্দটি হবে -ত্রিনয়ন।
ণ-ত্ব বিধান: বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান। - ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। - বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। - ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযােজ্য নয়:
ক. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন হয়। যেমন-ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
খ. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনাে (ণ) হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।।
গ. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়ােজন হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
‘পরিমল মনকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।’ বাক্যটিতে কী ধরণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?