পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
Exam - 10 The Code of Civil Procedure, 1909 - 2 Topic: Order 1-51
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ আদেশ ৪৩ এর বিধান কি?
  1. নিঃস্ব ব্যক্তির আপীল
  2. আদেশ বিরুদ্ধে আপীল
  3. আপীলের ডিক্রী থেকে আপীল
  4. মূল ডিক্রী থেকে আপীল
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধান হলো আদেশের বিরুদ্ধে আপীল
⇒ সাধারনত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলে না তবে আদেশটি যদি আপিল যোগ্য আদেশ হয় তাহলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।
আদেশ ৪৩ এবং ধারা ১০৪ এর মধ্যে আপীল যোগ্য আদেশ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কত আদেশে “মামলার খরচের জন্য জামানত” আদালতে জমা দেওয়ার বিধান আছে?
  1. আদেশ ২২ ক
  2. আদেশ ৩২
  3. আদেশ ২৪
  4. আদেশ ২৫
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ২৫ বিধি ১ এর বিধান হলো মামলা খরচের জন্য জামানত জমা দেওয়া বা মোকদ্দমার খরচের জন্য জামানত
⇒ বাদী দেশের বাহিরে অবস্থান করলে এবং বাদীর যদি মোকদ্দমার সম্পত্তি ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন স্থাবর সম্পত্তি না থাকে সেই ক্ষেত্রে আদালত বিবাদীর আবেদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মোকদ্দমার দায়েরের বা ব্যয়ের যাবতীয় খরচ এবং বিবাদীর সম্ভাব্য খরচের জন্য জামানত প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।
.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলে উল্লেখিত আদেশ ও বিধি সমূহ সংশোধন করতে পারে কে?
  1. পার্লামেন্ট
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. সুপ্রীম কোর্ট
  4. পার্লামেন্ট ও সুগ্রীম কোর্ট
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাসমূহ শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ সংশোধন করতে পারে।
⇒ প্রথম তফসিলে উল্লেখিত আদেশ এবং বিধিসমূহ সংসদ এবং সুপ্রীম কোর্ট উভয় সংশোধন করতে পারে।
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সকল আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা রাখে।
⇒ অন্যদিকে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারা অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়নসহ বিধিসমূহ বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারে।
⇒১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি।
⇒কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন। জাতীয় সংসদ যে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদেশ ও বিধিসমূহ সংশোধন করতে পারে তার বড় উদাহরণ হলো ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধির সংশোধন।
⇒ The Code of Civil Procedure (Amendment) Act, 2012 এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫ এর ১(১) বিধি, ৯ বিধি ও ৯ক বিধি প্রতিস্থাপন করে।
⇒আবার আদেশ ৮ এর ১(১) বিধি সংশোধন করে লিখিত জবাব দাখিলের মেয়াদ সমন জারি হতে ৩০ কার্যদিবস নির্ধারণ করে।
⇒ আবার ৯ আদেশের ৫ বিধি সংশোধন করে ৩ মাসের পরিবর্তে ১ মাস নির্ধারণ করে।
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর প্রথম তফসীলে উল্লেখিত আদেশ এবং বিধিসমূহ সুপ্রিম কোর্ট সংশোধন করতে পারলেও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কখনো এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি।
.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ২৪ আদেশের বিধান কি?
  1. মামলা প্রত্যাহার
  2. মিমাংসা
  3. মামলার দাবি পরিতোষটির টাকা আদালতে জমা দেওয়া
  4. জামানত জমা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ২৪ আদেশ অনুযায়ী মামলার খরচের টাকা আদালতে জমা দেওয়ার বিধান আছে।
⇒ আদেশ ২৪ বিধি ১ অনুযায়ী ঋণ বা ক্ষতিপূরনের মামলায় বিবাদী মামলার যে কোন পর্যায়ে বাদীর দাবীকৃত সম্পূর্ন অর্থ আদালতে জমা দিলে দায় মুক্ত হতে পারবে।
⇒ শুধুমাত্র ঋণ বা ক্ষতিপূরনের মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য।
.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কত আদেশে রিভিউ সম্পর্কে বিধান আছে?
  1. ৪১ আদেশ
  2. ৪৩ আদেশ
  3. ৪৭ আদেশ
  4. ৪৫ আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৪৭ এর মাঝে রিভিউ বিধান আছে।  এই আদেশ অনুযায়ী রিভিউ হলো ডিক্রী প্রদানকারী আদালত কর্তৃক নিজের ভুল সংশোধনের জন্য বিচারিক পর্যালোচনা।
⇒ যে পক্ষ সংক্ষুব্ধ হবে সে পক্ষ রিভিউ করবে।
৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ করতে হবে। (ধারা ১১৪)
.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশের কোথায় অপসংযোগ ও অসংযোগ (Mis-joinder, Non-joinder) বিষয়ে বিধান আছে?
  1. আদেশ ১ বিধি ০২
  2. আদেশ ১ বিধি ০৮
  3. আদেশ ১ বিধি ০৯
  4. আদেশ ১ বিধি ০৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ১ এবং বিধি ৯ এর মাঝে অপসংযোগ ও অসংযোগ (Mis-joinder, Non-joinder) বিষয়ে বিধান আছে।
অপসংযোগ (Mis-joinder) হল প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত পক্ষ ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি যার প্রয়োজন নেই তাকে পক্ষভূক্ত করা।
অসংযোগ (Non-joinder) হল মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত পক্ষকে মোকদ্দমার পক্ষ হিসেবে অন্তুর্ভূক্ত না করা।
⇒ কোন মামলায় পক্ষ সমূহের অপসংযোগ ও অসংযোগ এর কারনে আদালাত মামলা খারিজ করবেন না।
.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ২৬ অনুযায়ী কয়টি বিষয়ে কমিশন নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ২৬ অনুযায়ী ৪টি বিষয় তদন্ত করার জন্য কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়।
১) কোন ব্যক্তি জবানবন্দি গ্রহণ।
২) স্থানীয় তদন্তের জন্য।
৩) হিসাব পরীক্ষ...
৪) সম্পত্তি বাটোয়ারা করার জন্য।
⇒ কমিশনের সামাজিক মর্যাদা উপর নির্ভর করে আদালত খরচের টাকা নির্ধারন করবেন (ধারা-৭৫)
.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৪১ এর বিধান কি?
  1. রিসিভার
  2. মূল ডিক্রী হতে আপীল
  3. আদেশ হতে আপীল
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১  এর মাঝে মূল ডিক্রী হতে আপীল বিষয় বিধান আছে।
আদেশ ৪১-৪৫ এবং ধারা ৯৬-১১২ পর্যন্ত আপীল সংক্রান্ত বিধান আছে।
.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশে “সাময়িক, নৌ-বাহিনী বা বিমান বাহিনী কর্তৃক বা তাদের বিরুদ্ধে মামলার” বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ ২৪
  2. আদেশ ৩২
  3. আদেশ ২৭
  4. আদেশ ২৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ২৮ অনুযায়ী “সাময়িক, নৌ-বাহিনী বা বিমান বাহিনী কর্তৃক বা তাদের বিরুদ্ধে মামলারবিধান আছে।
 আদেশ ২৮ বিধি ১ অনুযায়ী অফিসার, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক কর্মকর্তারা যদি ছুটি না পায় তাহলে তাদের পক্ষে যে কোন লোককে মামলা পরিচালনার ক্ষমতা  দিতে পারবে।
১০.
অপ্রয়োজনীয় পক্ষ কর্তন (Striking out)  করে প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত পক্ষ সংযুক্ত করার জন্য আবেদন করতে হবে?
  1. আদেশ ১ বিধি ০৯ (১)
  2. আদেশ ১ বিধি ১০ (১)
  3. আদেশ ১ বিধি ১০ (৪)
  4. আদেশ ১ বিধি ১০ (২)
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১  এবং বিধি ১০ (২) অনুযায়ী আদালাত পক্ষসমূহকে বাদ দিতে বা যোগ করতে পারবে।
অপ্রয়োজনীয় পক্ষ কর্তন (Striking out)  বলতে বুঝায় যে, মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে যে কোন পক্ষের আবেদন অনুযায়ী বা বিনা আবেদনে এবং আদালতের নিকট সংগত মনে হলে, অসঙ্গতভাবে পক্ষভূক্ত বাদী বা বিবাদী কে বাদ দিতে এবং যে ব্যক্তিকে সংযুক্ত করা প্রয়োজন, তাকে যুক্ত করতে আদেশ দিতে পারেন।
১১.
রায় ঘোষনার কত দিনের মধ্যে ডিক্রী প্রনয়ন করবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ২০ বিধি ৫ (ক)  অনুযায়ী রায় ঘোষনার তারিখ হতে ০৭ দিনের মধ্যে আদালত ডিক্রী প্রণয়ন করবেন।
আদেশ ২০ বিধি ৭ অনুযায়ী যে তারিখে রায় ঘোষনা করবে ডিক্রিতে  সে তারিখ উলে­খ থাকবে এবং স্বাক্ষর থাকবে।
১২.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ১৫ অনুযায়ী পক্ষগণের মধ্যে কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে প্রথম শুনানীর দিন মামলা?
  1. মামলা স্থগিত
  2. রায় ঘোষণা
  3. খারিজ
  4. ক ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ১৫ বিধি-১ অনুযায়ী মোকদ্দমার প্রথম শুনানির সময় আদালত মোকদ্দমা নিষ্পত্তি বা রায় ঘোষণা করতে পারেন,
⇒ যদি দেখেন যে পক্ষগণের মধ্যে ঘটনা বা আইন বিষয়ক কোন বিরোধ নেই (Parties not at issue)।
⇒ অর্থাৎ পক্ষগণের মধ্যে যদি কোন বিচার্য্য বিষয় না থাকে তাহলে আদালত ১ম শুনানীর দিন রায় ঘোষণা দিতে পারেন। 
⇒ তবে বিধি ২ অনুযায়ী কতিপয় বিবাদীর মধ্যে যদি ১ জন সম্পর্কে কোন বিচার্য্য বিষয় না থাকে তাহলে ঐ বিবাদী পক্ষে বা বিপক্ষে রায় ঘোষনা করে অন্যান্য বিবাদীগণের বিরুদ্ধে মামলা চলবে।
১৩.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশে সোলে বা আপস ডিক্রীর বিষয় বিধান আছে?
  1. আদেশ ২৩ বিধি ৩
  2. আদেশ ২৩ বিধি ৪
  3. আদেশ ২৩ বিধি ৭
  4. আদেশ ২৩ বিধি ৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ২৩ বিধি ৩ অনুযায়ী সোলে বা মোকদ্দমা আপস বা আপস ডিক্রী এর বিধান রয়েছে।
⇒ এই বিধির অধীন আদালতকে পক্ষগণের মধ্যকার কোন আইনগত চুক্তি /আপস মিমাংসার মাধ্যমে সম্পূর্ন বা আংশিক সমন্বয় করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
⇒ সোলে ডিক্রীতে কোন আপীল চলবে না। তবে রিভিশন করা যাবে।
১৪.
‘ক’ এর নিকট প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয় বস্তু ছাড়া কত টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে ‘ক’ কে নিঃস্ব ব্যক্তি বলে গণ্য হবে?
  1. ৫,০০০ টাকা
  2. ৫০,০০০ টাকা
  3. ১০,০০০ টাকা
  4. ১,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৩ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা  দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারন থাকে না সেক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয়বস্তু ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে উক্ত ব্যক্তি নিঃস্ব হিসেবে গণ্য হবে।
⇒ নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মামলা করার অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে।
⇒ তবে আবেদন প্রত্যাখ্যান হবে যদি আবেদনের ২ মাস পূর্বে প্রতারনামূলক সম্পত্তি হস্তান্তর করে।
১৫.
ক’ একটি মামলার আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়েছে। তাই ‘ক’ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করতে চায়। এই ক্ষেত্রে আদালতের রিভিউ দায়ের করলে আদালত রিভিউ না-মঞ্জুর করে। পরবর্তীতে ‘ক’ কি পদক্ষেপ নিতে পারবে?
  1. রিভিউ
  2. আপীল
  3. রেফারেন্স
  4. রিভিশন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৪৭  অনুযায়ী রিভিউ করতে হয়।
⇒ যদি রিভিউ আবেদন নামঞ্জুর হয় তাহলে বাদী উক্ত না-মঞ্জুরের বিরুদ্ধে রিভিশন করবে ১১৫ ধারা অনুযায়ী। 
⇒ উলে­খ যে, রিভিউ মঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপীল করবে কেননা এটি একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
⇒ কিন্তু রিভিউ না-মঞ্জুরের বিরুদ্ধে রিভিশন করতে হয়। কারন এটি আপীল অযোগ্য আদেশ।
 ⇒ পরবর্তীতে ‘ক’ রিভিশন করতে পারবে।
১৬.
দেনাদার কয়টি উপায়ে ডিক্রীর অর্থ পরিশোধ করতে পারে?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ২১ বিধি ১ অনুযায়ী ৩টি উপায়ে দেনাদার ডিক্রীর অর্থ পরিশোধ করতে পারে ।
১) ডিক্রী জারিকারী আদালতে অর্থ জমা দিয়ে,
২) আদালতের বাহিরে ডিক্রীদারকে পাওনা টাকা প্রদানের মাধ্যমে,
৩) আদালতের নির্দেশিত অন্য কোন উপায়ে।
১৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ১৭ অনুযায়ী আদালত সাধারনত মূলতবী কয়টি পর্যায়ে করে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ১৭ বিধি ১ অনুযায়ী সাধারনত ২টি পর্যয়ে আদালত মূলতবী হয় ।
(১) চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে। 
(২) চূড়ান্ত শুনানীর পর্যায়ে।
⇒ আদালত চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে প্রত্যেক পক্ষকে খরচ বাদে ৬ বার মূলতবী মঞ্জুর করবে এবং খরচসহ ৩ বার মূলতবী করবে।
⇒তবে চূড়ান্ত শুনানীর পর্যায়ে খরচবাদে কোন সময় মঞ্জুর করবে না, তবে খরচ সহ প্রত্যেক পক্ষগণকে ৩ বার মূলতবীর আবেদন মঞ্জুর করবে।
⇒ তবে যে পক্ষ আবেদন করবে তাকে সর্বনিম্ন খরচ ২০০ টকা এবং সর্বোচ্চ খরচ ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে।
১৮.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মামলার বিবদাী থাকবে কমপক্ষে-
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।
⇒ স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।
⇒ বিবাদীগণ পৃথক পৃথক ভাবে তাদের দাবী উলে­খ করে, বাদী ও বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ ষড়যন্ত্র থাকবেনা (ধারা-৮৮)
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।
⇒ তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবদাী থাকবে কমপক্ষে ২ জন।
Example: কোন একটা সম্পত্তি কামাল সাহেবের দখলে আছে কিন্তু কামাল সাহেব তার প্রকৃত মালিক না। তিনি প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে চায় কিন্তু রফিক ও সফিক নামের দুইজন ব্যক্তি ঐ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে। 
⇒ এক্ষেত্রে কামাল সাহেব স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits করে প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিবেন।
⇒ এই মামলায় শুধু মাত্র মামলার খরচ ব্যতীত অন্য কোনো স্বার্থ থাকে না কামাল সাহেবের।
১৯.
মূলতুবি খরচ প্রদানে ব্যর্থতার কারনে আদালত মোকদ্দমা খারিজ বা এক তরফা নিস্পত্তি করে। সংক্ষুব্ধ পক্ষ মোকদ্দমাটি পুনরায় চালু বা পুনঃবহালের আবেদন করতে চায়। এই ক্ষেত্রে সে?
  1. ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করবে
  2. ২,০০০ টাকা খরচ সহ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করবে
  3. ১০০০ টাকা খরচ সহ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করবে
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ১৭  অনুযায়ী বাদী মূলতবির খরচ দিতে ব্যর্থ হলে মামলা খারিজ, অন্যদিকে বিবাদী খরচ দিতে ব্যর্থ হলে মামলাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হবে।  
⇒ যে পক্ষের ত্রুটির কারণে মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হয় সেই পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে ২০০০ টাকা ব্যয়সহ খরচ জমা দিয়ে মামলাটি পুনর্বহালের আবেদন করতে পারে।
২০.
‘ক’ একজন নাবালক ব্যক্তি। ‘ক’ এর অভিভাবক হিসাবে কোন ব্যক্তি উপযুক্ত না হলে বা অভিভাবক হিসাবে কোন কাজ করতে ইচ্ছুক না হলে, আদালত কাকে ‘ক’/ বিবাদীর অভিভাবক নিয়োগ করবে?
  1. সরকারী উকিলকে
  2. জি.পি কে
  3. রাষ্ট্র পক্ষের উকিলকে
  4. আদালতের কোন কর্মচারীকে
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩২ অনুযায়ী নাবালকের পক্ষে মোকদ্দমা পরিচালনার বিষয়ে বলা আছে।
আদেশ ৩২ এর বিধি ৪ (৪) অনুযায়ী নাবালক যদি বিবাদী হয় এবং তার পক্ষে কোন অভিভাবক পাওয়া না গেলে আদালতের কোন কর্মচারীকে অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ করবেন।
⇒ আদেশ ৩২ এর বিধি ৪ (৪) তে বলা হয়েছে , যেক্ষেত্রে অন্য কোন ব্যক্তি মামলার অভিভাবক হিসাবে কাজ করার জন্য যোগ্য এবং ইচ্ছুক নাই, সেক্ষেত্রে আদালত তার কোন কর্মচারীকে অনুরূপ অভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন এবং নির্দেশ দিতে পারেন যে, উক্ত কর্মচারীকে বা কোন এক বা একাধিক পক্ষ কর্তৃক বহন করতে হবে, অথবা নাবালকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন তহবিল আদালতে থাকলে তা হতে খরচ হবে এবং ন্যায় বিচার ও অবস্থার পয়োজনে অনুরূপ খরচার পরিশোধ বা মেনে নেয়া সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারেন।
২১.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোথায় বিকল্প/লটকাইয়া সমন জারির বিধান আছে?
  1. আদেশ ৫ বিধি ১৫
  2. আদেশ ৫ বিধি ২০
  3. আদেশ ৫ বিধি ১৬
  4. আদেশ ৫ বিধি ২৬
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ৫ এর বিধি ২০ অনুযায়ী বিকল্প বা লটকাইয়া সমন জারির বিষয়ে বিধান আছে।
⇒ আদালত যদি যুক্তি সঙ্গত কারনে বিশ্বাস করে যে, বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে আছে বা অন্য কোন কারনে সমন জারি করা যাচ্ছে না তাহলে আদালত সমন লটকাইয়া /বিকল্প জারির আদেশ দিতে পারেন।
⇒ বিবাদীর বাসগৃহে বা সর্বশেষ বসবাস স্থানে/ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে লটকাইয়া সমন জারি করা যায়।
⇒ যখন আদালত উপ-বিধি (১) অনুযায়ী সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমন জারির আদেশ দান করে, তখন উক্ত সংবাদপত্রটি হতে হবে দৈনিক সংবাদপত্র, যার প্রচার অনুরূপ স্থানে থাকতে হবে সেখানে বিবাদি সর্বশেষ জ্ঞাত ঠিকানায় প্রকৃতপক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বসবাস করে বা ব্যবসা পরিচালনা করে বা ব্যক্তিগত লাভের নিমিত্তে কাজ করে বলে জানা যায়।
⇒ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সমন বিকল্পভাবে জারি করলে তা বিবাদির উপর ব্যক্তিগতভাবে জারি করার মতই কার্যকরী হবে।
⇒ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সমন বিকল্পভাবে জারি করলে সেক্ষেত্রে আদালত ক্ষেত্রবিশেষে বিবাদির হাজিরার জন্য আদালত যথোপযুক্ত সময় নির্ধারিত করবে।
২২.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৮ এর বিধান কি?
  1. কমিশন নিয়োগ
  2. ট্রাস্টি কর্তৃক মামলা
  3. রিসিভার
  4. রায়ের পূর্বে সম্পত্তি ক্রোক ও আটক
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৮ এর বিধান হলো রায়ের পূর্বে সম্পত্তির ক্রোক ও আটক করা।
⇒ অনেক সময় রায় প্রদানের পূর্বেই বিবাদীকে গ্রেফতার করার প্রয়োজন হতে পারে এবং সম্পত্তি ক্রোক করার প্রয়োজন হতে পারে যেন বাদীর প্রতিকারে কোন বিলম্ব না হয়।
⇒  আদেশ ৩৮ অনুযায়ী ধরনের আদেশ হতে পারে- ১) রায়ের পূর্বে গ্রেফতার, ২) রায়ের পূর্বে সম্পত্তির ক্রোক।
২৩.
আদালত দৈনিক কার্য তালিকায় মোকদ্দমার চূড়ান্ত পর্যায়ে সর্বাধিক কয়টি মোকদ্দমা ধার্য্য করবেন?
  1. ১০০ টি
  2. ৭ টি
  3. ৭০ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ১৮ বিধি ২০ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানীর জন্য আদালত দৈনিক কার্যতালিকায় ৫টির বেশি মোকদ্দমা ধার্য্য করবেন না।
⇒ তবে আদালত দৈনিক কার্য তালিকায় মোকদ্দমার চূড়ান্ত পর্যায়ে ১০০ টির অধিক মোকদ্দমা ধার্য্য করবে না।
⇒ যদি চূড়ান্ত পর্যায়ে মোকদ্দমার সংখ্যা ৭০ টির নীচে আসে তাহলে আবার চূড়ান্ত পর্যায়ে আরো মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করবেন।
২৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোথায় প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে?
  1. আদেশ ৬ বিধি ৪
  2. আদেশ ৬ বিধি ১৭
  3. আদেশ ৬ বিধি ১৬
  4. আদেশ ৬ বিধি ১৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে।
আদেশর ৬ বিধি ১ অনুযায়ী প্রিডিং বলতে আরজি বা লিখিত জৰাৰ বুঝাবে। 
⇒ মামর্লা যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধণ হতে পারে।
⇒  প্লিডিংস সংশোধন করা বা না করা আদালতের বিবেচনা মূলক ক্ষমতা।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী আরজি জবাব সংশোধন বা প্লিডিংস সংশোধন বলতে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে ন্যায় সঙ্গত পদ্ধতিতে ও শর্তে তার আরজি জবাবে পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এরূপ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যাবে।
⇒ তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর , সংশোধনের কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
⇒ যদি  আদালত অভিমত পোষণ করেন যে, পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পার্টি  বিচারকার্য শুরু হওয়ার পূর্বে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেননি সেক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে।
⇒ আরো শর্ত থাকে যে, বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর যদি সংশোধনের আবেদন করা হয় এবং আদালত এই মত পোষণ করেন যে, বিচারকার্য পরিচালনাকে বিলম্ব করার জন্য এটি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত আপত্তিকারীকে যেরূপ উপযুক্ত মনে তদ্রুপ ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে আদেশ দিবেন।
⇒ আদেশের বিরুদ্ধে ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন করা যাবে।
২৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশে রায় ও ডিক্রী বিষয়ে বিধান আছে?
  1. ১৭ আদেশ
  2. ১৮ আদেশ
  3. ১৯ আদেশ
  4. ২০ আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ২০ অনুযায়ী রায়, ডিক্রী ও আদেশ বিষয়ে বলা আছে।
⇒ মোকদ্দমার শুনানী শেষে পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীগণকে বিজ্ঞপ্তির পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে আদালতে রায় ঘোষনা করতে হবে।
২৬.
বর্তমানে নিম্নে লিখিত কোন পদ্ধতিতে সমন জারি করা যায়?
  1. পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে
  2. কুরিয়ার সার্ভিস
  3. বার্তা /ই-মেইল
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  ( সংশোধন ২০১২) অনুযায়ী আদেশ ৫ এর বিধি ৯ মতে আদালত তার অধঃস্তন অফিসার বা জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভূক্ত ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে, বার্তা বা ই মেইল এর মাধ্যমে ডকুমেন্ট প্রেরণ করে সমন জারি করার আদেশ দিতে পারে।
⇒ উলে­খ্য যে, কোন কুরিয়ার সার্ভিস সমন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে বিবাদীর নিকট তা প্রেরণ করতে হবে।
⇒ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে তার অসদাচরনের জন্য তালিকা থেকে উক্ত কোরিয়ার সার্ভিসের নাম বাদ দিবে।
২৭.
ক’ এর দায়ের করা মামলায় ‘খ’ এর প্রতি সমন দেওয়া হলে সমন বিনা জারিতে ফেরত আসে। ‘ক’ সমন ফেরত আসার ৪৫ দিন পর তদবীর করে এই ক্ষেত্রে?
  1. পুনরায় সময় দেওয়ার আদেশ করবে
  2. মামলা খারিজ হবে
  3. পূর্বের দেওয়া সমন জারি বলে গণ্য হবে।
  4. কোনটি না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ৯ এর বিধি ৫ অনুযায়ী বিবাদীর প্রতি যথাযথভাবে সমন জারি না হয়ে ফেরত আসলে এবং বাদী যদি ৩০দিন বা ১ মাসের মধ্যে পুনরায় নতুন করে সমন দেওয়ার আবেদন না করে, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিতে পারে।
⇒ যেহেতু ‘ক’ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন না করে ৪৫ দিন পর তদবীর করে তাই মামলা খারিজ হবে।
⇒ বিবাদীর প্রতি যথাযথভাবে সমনজারি না হওয়ার কারণে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ প্রদান করলে, বাদী তামাদি আইন সাপেক্ষে নতুন ভাবে মামলা দায়ের করতে পারে।
২৮.
বাদী হিসাবে ‘ক’ ঢাকার আদালতে ‘খ’ এর বিরুদ্ধে স্বত্ব ঘোষনা পূর্বক খাস দখলের প্রার্থনার মামলা করে যে, কিছুদিন পূর্বে বিবাদী ‘খ’ এর লোকজন জোরপূর্বক ‘ক’ কে ভূমি থেকে বেদখল করে। মামলা চূড়ান্ত শুনানীর দিন ‘খ’ অসুস্থ থাকায় কোন পদক্ষেপ নেয় নাই ফলে একতরফা সূত্রে ‘ক’ ডিক্রী পায়। এক তরফা ডিক্রী বাতিলের জন্য আপনি ‘খ’ এর আইনজীবী হিসেবে কি পদক্ষেপ নিবেন?
  1. ৩০ দিনের মধ্যে এক তরফা ডিক্রী রদের আবেদন
  2. আপীল দায়ের
  3. ৯০ দিনের মধ্যে এক তরফা ডিক্রী রদের আবেদন
  4. কোনটি না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ১৩ অনুযায়ী বিবাদীর বিরুদ্ধে যদি একতরফা ডিক্রী দেওয়া হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে ডিক্রী রদের আবেদন করার বিষয় বলা আছে।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে , যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি।
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারেনি।
⇒বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
১) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
২) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।
⇒ ঐ সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ একবারের বেশি হবে না।

২৯.
ক’ একজন বিবাদী। তাকে আদালত ৪০ টাকা জামানত জমা দেওয়া নির্দেশ দেয় কিন্তু ‘ক’ ৪০ টাকা জামানত দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আদালত ‘ক’ কে কত দিনের জন্য আটক রাখার আদেশ দিবেন?
  1. ৬ মাসের
  2. ৬ সপ্তাহ
  3. ৩০ দিনের
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি ৪ অনুযায়ী আদালত বিবাদীকে জামানত দিতে ব্যর্থ হলে ৫০ টাকার বেশি হলে ৬ মাস এবং ৫০ টাকার কম হলে ৬ সপ্তাহের জন্য দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখার আদেশ দিবেন।
⇒ এই আটক হলো আপিলযোগ্য আদেশ।
⇒ যেহেতু ‘ক’ আদালতের নির্দেশে ৪০ টাকা জামানত জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তাই ৬ সপ্তাহের জন্য আটক হবেন।
৩০.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ১ম তফসিলে কয়টি আদেশ আছে?
  1. ৪৮ টি
  2. ৫১টি
  3. ৫০ টি
  4. ৪৯ টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  মোট ৫ টি তফসিল রয়েছে।
⇒ তবে বর্তমানে বলবৎ তফসিল আছে ৩ টি।
⇒ তার মধ্যে ১ম তফসিলে মোট আদেশ রয়েছে ৫১ টি
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাসমূহ শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ সংশোধন করতে পারে।
⇒ প্রথম তফসিলে উল্লেখিত আদেশ এবং বিধিসমূহ সংসদ এবং সুপ্রীম কোর্ট উভয় সংশোধন করতে পারে। 
৩১.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১ অনুযায়ী আরজিতে কয়টি বিষয় উল্লেখ করতে হয়?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ৭ এর বিধি ১ অনুযায়ী আরজিতে ৯টি বিষয়  উল্লেখ  করতে হয়।
১। আদালতের নাম
২। বাদীর নাম, ঠিকানা,
৩। বিবাদীর নাম ঠিকানা
৪। নাবালক হলে তার বিবরণ
৫। মামলার উৎপত্তি সময় ও কারন
৬। আদালতের এখতিয়ার
৭। বাদীর দাবিকৃত প্রতিকার
৮। আর্থিক মূল্য সংক্রান্ত বিবরণ
৯। যেক্ষেত্রে বাদী তার আংশিক দাবি পারস্পরিক পরিশোধে সম্মত হয়েছে বা বর্জন করেছে সেক্ষেত্রে অনুরূপ পরিশোধ বা বর্জন।
৩২.
‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ৫০,০০০/- টাকার দাবীতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করে। উক্ত মোকদ্দমায় ‘খ’ লিখিত জবাব দিয়ে জবাবে দাবী উত্থাপন করে যে, ‘খ’ ‘ক’ এর নিকট ৪০,০০০/- টাকা পাওয়ান আছে। ‘খ’ এর এই দাবিটি হলো?
  1. পাল্টা দাবী (Counter claim)
  2. পারাস্পরিক দায় শোধ (Set off)
  3. মধ্যস্থতা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি  আদেশ ৮ এর বিধি ৬ অনুযায়ী পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ (Set off) হলো বিবাদীর বিরুদ্ধে বাদী যখন অর্থ আদায়ের মামলা করে তখন বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার দাবী/আবেদন। সহজ ভাষায়, সেট অফ অর্থ হল কোন দাবীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আরেকটি দাবী।
⇒ অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।
⇒সেট অফের আবেদনের সময়- ৮ নং আদেশের ৬ বিধি অনুযায়ী কোন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই (at the first hearing of suit) লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সেট অফের দাবি করতে হয়।
⇒ প্রথম শুনানির পর আদালতে সেট অফের জন্য লিখিত জবাব দাখিল করা যাবে না। তবে আদালত অনুমতি দিলে প্রথম শুনানির পরও Set off এর দাবি করা যায়।
সেট অফের আবেদনের শর্ত- 
i) মোকদ্দমাটি অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা হবে।
ii) দাবীকৃত অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট হবে।
iii) দাবীকৃত অর্থ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও আইনগতভাবে আদায়যোগ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদি সেই পরিমান টাকার দাবি সমন্বয় চাইতে পারবে যার পরিমান ঐ বিচারিক আর্থিক এখতিয়ারের সমপরিমান হবে। বিচারিক আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বেশি হলে সে রকম পরিমাণের টাকার জন্য বিবাদি সেট-অফ দাবি করতে পারবে না।
iv) দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদী উভয়কেই একই চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। অর্থাৎ মামলায় বাদী-বিবাদী একে অন্যের নিকট পাওনাদার বা দেনাদার না হলে সেই মামলায় সেট-অফের দাবি করা যাবে না।
⇒ সেট-অফের মোকদ্দমায় আদালত বাদীর মূল দাবি এবং বিবাদীর সেট অফের ব্যাপারে এক সঙ্গে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে পারেন।
⇒ যদি বাদীর দাবীর চেয়ে বিবাদী দাবী বেশি হয় তাহলে এটি Counter claim


৩৩.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গ করা হলে ভঙ্গকারীকে সর্বোচ্চ কতদিন Civil prison এ রাখার আদেশ দেয়া যেতে পারে?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৪ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ বিধি ২ অনুযায়ী 
⇒ যদি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়, অথবা কোন শর্ত ভঙ্গ করা হয় তবে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারেন, এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাস মেয়াদের জন্য  ( Civil prison ) দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখারও নির্দেশ দিতে পারেন।
⇒ চুক্তিভঙ্গ বা অন্য কোন প্রকার ক্ষতি করা থেকে বিবাদীকে বিরত রাখার জন্য মোকদ্দমা শুরুর পর যেকোন সময়, রায়ের পূর্বে বা পরে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে। 
⇒ এরূপ কোন ক্রোক ১ বছরের অধিক বলবৎ থাকবে না, উক্ত সময়ের পরও যদি অবাধ্যতা বা চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারে। 
৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশে মামলা গঠন বিষয়ে বিধান আছে?
  1. আদেশ ১
  2. আদেশ ২
  3. আদেশ ৩
  4. আদেশ ৪
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ০২ অনুযায়ী মামলা গঠন করতে হয়।
আদেশ-২ বিধি-১ অনুযায়ী মামলা যতদুর সম্ভব এমনভাবে গঠন করতে হবে, যাতে বিরোধী পক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সম্ভব হয় এবং সে বিষয়ে ভবিষ্যতে আর কোন মোকদ্দমা হতে না পারে।
আদেশ-২ বিধি-২ অনুযায়ী সমগ্র দাবী অন্তুর্ভূক্ত করতে হবে আংশিক দাবী বর্জন করলে পরে আর মামলা দায়ের করা যাবে না।
আদেশ-২ বিধি-৩ অনুযায়ী  বাদী একই বিবাদী বা সকল বিবাদীগণের বিরুদ্ধে একটি মোকদ্দমায় কতিপয় কারণ একত্রীকরণ করতে পারে যখন কতিপয় বাদী একই বিবাদীর বা বিবাদীগঞ্জে বিরুদ্ধে মোকদ্দমার কারণের সাথে যুগ্মভাবে সম্পর্কিত হয়।
আদেশ-২ বিধি-৬ অনুযায়ী যদি আদালতের নিকট মনে হয় যে, মামলায় যে সমস্ত কারণ একত্রিত করা হয়েছে, একসাথে সেগুলোর বিচার ও নিষ্পত্তি করা যাবে না তাহলে আদালত সে সকল ক্ষেত্রে পৃথক বিচার করার জন্য বা অন্য কোন সুবিধাজনক আদেশ দান করতে পারবেন ।
৩৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৪ এর বিধান হলো?
  1. মামলা দায়ের
  2. আইনজীবী নিয়োগ
  3. সমন
  4. মামলা গঠন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪ এর বিধান হলো আরজি দাখিলের মাধ্যমে মামলা দায়ের
⇒ আদালত কর্তৃক উপযুক্ত বা নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট আরজি উপস্থাপন করতে হয় এবং যতজন বিবাদী থাকবে ততগুলো আরজির নকল দিতে হবে।
⇒ মামলা দায়ের করার পর (আদেশ ৪ বিধি ২ অনুযায়ী নিবন্ধন বই লিপিবদ্ধ ও মামলার ক্রমিক নং দেওয়া হয়)
⇒ ধারা-২৬ তে আরজি পেশ করে মামলা দায়ের করার কথা বলা আছে। 
৩৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ১০ বিধি ৪ (২) অনুসারে আদালত কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষনা করে কোন আদেশ দিলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের প্রতিকার হলো?
  1. আপীল করতে পারবে
  2. রিভিউ করতে পারবে
  3. রিভিশন করতে পারবে
  4. রেফারেন্স পাঠাতে পাারবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি  আদেশ ১০ বিধি ৪ (২) অনুযায়ী শুনানীর নির্ধারিত দিনে পক্ষ হাজির না হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষনা করতে পারে।
⇒ সংক্ষুব্ধ পক্ষ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবে
৩৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ১৪ এর বিধান কি?
  1. দলিল স্বীকার
  2. জবাবন্দী গ্রহণ
  3. দলিল আটক
  4. বিচার্য বিষয় গঠন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধান হল বিচার্য বিষয় নির্ধারণ এবং আইনগত বিচার্য বিষয় বা সম্মতিক্রমে বিচার্য বিষয় মোতাবেক মোকদ্দমার সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
⇒ যখন কোন ঘটনার বা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একপক্ষ  দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে এবং অপরপক্ষ অস্বীকার করে, তখনই বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।
⇒ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে আইনগত বা তথ্যসংক্রান্ত সেই সমস্ত বিষয় বুঝাবে, বাদী কর্তৃক তার মামলা করার অধিকার প্রতিপন্ন করার জন্য যে বিষয়ে অভিযোগ আনয়ন করতে হবে, অথবা বিবাদী কর্তৃক আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যে বিষয়ের উপর নির্ভর করতে হবে।
⇒  একপক্ষ কর্তৃক দৃঢ়ভাবে ঘোষিত এবং অপর পক্ষ কর্তৃক অস্বীকৃত প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক একটি আলাদা বিচার্য বিষয়ের সৃষ্টি করে।
⇒  বিচার্য বিষয় দুই প্রকার : ক) তথ্যগত বা ঘটনা সংক্রান্ত বিচার্য বিষয় খ) আইনগত বিচার্য বিষয় ।
⇒ লিখিত জবাব দাখিলের ১৫ দিনের মধ্যে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং বিচার্য বিষয় প্রণয়নের ১২০ দিনের ভিতর চূড়ান্ত শুনানীর তারিখ নির্ধারন হবে।
৩৮.
মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত কোন দলিল পরিদর্শনের জন্য বিবাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত দলিলটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাখিল করার জন্য বাদীকে নির্দেশ প্রদান করে কিন্তু বাদী আদালতের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয়। এই ক্ষেত্রে-
  1. মামলার ক্ষতি হবে না
  2. মামলা খারিজ হবে
  3. মামলা স্থগিত থাকবে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒  দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ১১ এর বিধি ২১ অনুযায়ী যদি বাদীর কোন দলিল দাখিলের জন্য আদেশ দেয় এবং বাদী যদি আদেশ পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে মামলা খারিজ হবে
⇒  এটি আপীলযোগ্য আদেশ তাই সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপীল করতে পারবে।
⇒ আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুসারে আপীল করতে হবে।
৩৯.
মামলার বাদী উপস্থিত কিন্তু বিবাদী অনুপস্থিত রয়েছে, শুনানীর দিন এই ক্ষেত্রে কি হবে?
  1. যদি সমন যথার্থ জারি হয় তাহলে আদালত একতরফা বিচার করতে পারবেন
  2. যদি সমন যথার্থ জারি না হয় তাহলে আদালত পুনরায় সমন দেওয়ার আদেশ দিবেন
  3. সমন যদি যথার্থ ভাবে জারি হয় কিন্তু বিবাদী হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার যথেষ্ট সময় না পায় তাহলে পরবর্তী দিন নির্ধারন করবে এবং শুনানী মূলতবী করবে।
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ৬ অনুযায়ী যদি শুনানির জন্য ডাকা হয় তখন যদি বাদী উপস্থিত হয় এবং বিবাদী উপস্থিত না হয় তাহলে,
১. সমন যথারীতি জারি হলে, আদালত একতরফা বিচার করতে পারবেন।
২. সমন যথারীতি জারি না হলে, আদালত দ্বিতীয়বার সমন প্রেরণ এবং জারি করার নির্দেশ দান করবেন।
৩. সমন জারি হয় কিন্তু বিবাদীকে হাজির হয়ে জবাব দেয়ার জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করা না হলে, আদালত পরবর্তী কোন তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মুলতুবি রাখবেন এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ দিবেন।
৪০.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশে পক্ষগণের মৃত্যু, বিবাহ ও অস্বচ্ছলতা বিষয়ে বিধান আছে?
  1. ২০ আদেশ
  2. ২১ আদেশ
  3. ২২ আদেশ
  4. ২৪ আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২২ এ পক্ষগণের মৃত্যু, বিবাহ ও অস্বচ্ছলতা বিষয়ে বলা আছে।
বিধি ১ অনুযায়ী বাদী ও বিবাদীর মৃত্যু হলে ৯০ দিনের মধ্যে বৈধ প্রতিনিধিরা পক্ষভূক্তির আবেদন করবে।
বিধি ৭ অনুযায়ী কোন মহিলা বাদী/বিবাদীর বিবাহের ফলে মামলা বিলুপ্ত হবে না
৪১.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ২৬ অনুযায়ী স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন ইস্যু করতে পারে কোন সম্পত্তি?
  1. বাজার দর নির্ধারন করতে
  2. বার্ষিক ক্ষতি বা মূল লাভ নির্ধারন করতে
  3. অন্তবর্তীকালীন মুনাফা নির্ধারনের জন্য
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ৯ অনুযায়ী স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন ইস্যু করতে পারে।
⇒ মোকদ্দমার বিরোধীয় কোন বিষয় ব্যাখ্যা করা বা কোন সম্পত্তির-
১) বাজার মূল্য বা
২) অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা (Mesne Profits )
৩) ক্ষতিপূরণ বা
৪) বাৎসরিক নীট মুনাফা নির্ণয় করা
⇒ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অনধিক ৩ মাসের মধ্যে স্থানীয় তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
⇒ তবে স্থানীয় তদন্তে সম্পত্তির দখলকার আছে তা নির্ধারন হয় না।
৪২.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশ কোন বিধি অনুযায়ী লিখিত জবাব দাখিলের প্রাথমিক সময় ৩০ কর্ম দিবস এবং সর্বোচ্চ সময় ৬০ কর্মদিবস?
  1. আদেশ ৭ বিধি ১
  2. আদেশ ৮ বিধি ১
  3. আদেশ ৮ বিধি ২
  4. আদেশ ৮ বিধি ৪
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ১ অনুযায়ী বাদী কর্তৃক বিবাদীর উপর সমন জারি হওয়ার ৩০ দিনের কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে হয়।
⇒ যদি বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল না করে তাহলে মামলা এক তরফা হবে।
⇒ সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপীল করতে পারে।
৪৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১২ অনুযায়ী স্বীকারোক্তী কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ১২ অনুযায়ী স্বীকারোক্তী ৩ প্রকার
১) আরজি/জবাবের মাধ্যমে স্বীকারোক্তী।
২) দলিল স্বীকারের নোটিশ ।
৩) ঘটনা স্বীকার করতে নোটিশ।
আদেশ ১২ বিধি ২ অনুযায়ী দলিল স্বীকারের জন্য নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে দলিল স্বীকার করার জন্য আহবান করা যায়।
⇒ আর বিধি ৪ অনুযায়ী শুনানীর ৯ দিন পূর্বে ঘটনার স্বীকারের নোটিশ দিবেন।