পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩: বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক ইতিহাস। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালিত হয় কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ২১শে মার্চ
  2. ১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ
  3. ১৯৭২ সালের ২৫শে মার্চ
  4. ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট: 
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম এবং একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
- সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা চালায়।
- পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চলাইট'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
বাংলাদেশের প্রথম সরকার কোথায় শপথ গ্রহণ করে?
  1. মেহেরপুরে 
  2. কলকাতায় 
  3. ঢাকায় 
  4. আগরতলায় 
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুরে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুরে 
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠন: 
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা শুরু হলে বিচ্ছিন্নভাবে বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায়।
- শপথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
সঠিক উত্তর:
কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার): 
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ
- অর্থমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী: এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
জেনারেল এরশাদের শাসনব্যবস্থা কী ধরনের ছিল?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. সমাজতান্ত্রিক
  3. সাম্যবাদী
  4. একনায়কতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
একনায়কতান্ত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একনায়কতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
জেনারেল এরশাদের শাসনব্যবস্থা: 
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশে তার সামরিক শাসনের সূচনা করেন।
- তখন থেকে দীর্ঘ নয় বছর এরশাদের সামরিক একনায়কত্বের আওতায় বাংলাদেশ শাসিত হয়।
- এরশাদের শাসনকালে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়।
- এরশাদের সামরিক শাসন অবসানের জন্য এ দেশের মানুষকে ক্রমাগত আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বহু মানুষ প্রাণদান করেছেন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনসমূহের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং জেড, কে এবং এস নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল। এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
১৯৪৮ সালের ২১শে মার্চ কে ঘোষণা করেন, 'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।
- ১৯৪৮ সালের ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'।
- ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনেও তিনি অনুরূপ ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে এবং আবদুল মতিনকে অনুসরণ করে সবাই 'না, না' বলে তাঁর উক্তির প্রতিবাদ জানায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ'র ঘোষণারও তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
- পরে একপর্যায়ে পাকিস্তান সরকার আরবি হরফে বাংলা প্রচলনের উদ্যোগ নিয়েছিল।
- পূর্ববাংলার মানুষ এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করে।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে পূর্ববাংলার জনগণ জাতীয়ভাবে নিজেদের বিকাশের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনী কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. টাঙ্গাইলে
  2. নড়াইলে
  3. বরিশালে
  4. চট্টগ্রামে
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী: 
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।
- এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
- যেমন: টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী, মাগুরার আকবর বাহিনী ইত্যাদির কথা স্মরণীয় হয়ে আছে।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
১৯৯১ সালে কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা সূচিত হয়?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. অষ্টম
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা: 
- ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থায় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা সূচিত হয়।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের কৃতিত্ব অর্জন করে।
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় প্রথম কোন সংগঠনের জন্ম হয়?
  1. তমদ্দুন মজলিশ 
  2. শান্তি কমিটি
  3. কাদেরিয়া বাহিনী 
  4. মুক্তিবাহিনী 
সঠিক উত্তর:
শান্তি কমিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তি কমিটি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পক্ষের সহযোগী বাহিনী: 
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে লে. জেনারেল টিক্কা খান 'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স' জারি করেন।
- শুরুতে আনসার, মুজাহিদদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। পরে পাকিস্তানপন্থি অনেকে এই বাহিনীতে যোগ দেয়।
- এই বাহিনী গঠনে জেনারেল নিয়াজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- রাজাকারদের প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছিল এক সপ্তাহ। রাজাকারদের ট্রেনিং দিত পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
- দখলদার বাহিনীর দোসর হিসেবে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।
- রাজাকার বাহিনী ছাড়াও আলবদর এবং আলশামস নামে আরও দুটি বাহিনী ছিল।
- এরাও বিভিন্নভাবে হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে।
- মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় প্রথম যে সংগঠনের জন্ম হয় তা হলো 'শান্তি কমিটি'।
- রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ কতজন নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব অর্জন করেন?
  1. ২ জন 
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৬ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন 
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা: 
- ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।
- দেশকে স্বাধীন করতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
- নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মিছিল, মিটিং ও গণসমাবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দুইজন নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব অর্জন করেন
- একজন তারামন বিবি, অন্যজন ডাক্তার সিতারা বেগম।
- সারা দেশে আরও অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১.
নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না কোন সেক্টরে?
  1. ১১নং সেক্টর
  2. ১০নং সেক্টর
  3. ১নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১০নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১০ নং সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রপথে পাকিস্তানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ছিল নৌ-কমান্ডো আক্রমণের উদ্দেশ্য।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
- অপারেশনের সময় কমান্ডোদের কাজের নিয়ন্ত্রণ থাকত যে এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হবে সে এলাকার সেক্টর কমান্ডারের ওপর।
- এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  2. মেজর রফিকুল ইসলাম
  3. মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
  4. ক্যাপ্টেন এ রব
সঠিক উত্তর:
মেজর এ.টি.এম হায়দার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর এ.টি.এম হায়দার
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর: 
- ২ নং সেক্টর ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।
- শহরাঞ্চলের গেরিলারা ঢাকা শহরে কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
ভুটান ও ভারত কবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ভারতের জনগণ ও সরকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়।
- পাকিস্তানের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করে।
- ভুটান ও ভারত ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৪.
১নং সেক্টর কোন এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
১নং সেক্টর: 
- ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
পাকিস্তান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় কত সালে? 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
ওআইসি’র লাহোর সম্মেলন ও বাংলাদেশের স্বীকৃতি:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো শুরুতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
- তবে দুই বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রতিনিধি দল ওআইসি’র (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স) দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে লাহোর যান।
- লাহোর বিমানবন্দরে শেখ মুজিবকে ২১ বার তোপধ্বনি, গার্ড অব অনার, এবং বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত বাজিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের পর এটি ছিল শেখ মুজিবের প্রথম পাকিস্তান সফর।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে ভুট্টো একাধিক দেশের সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
- তবে ১৯৭৪ সালে মুসলিম দেশগুলোর চাপ এবং যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কারণে ভুট্টো এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
- লাহোর সম্মেলনে শেখ মুজিবের অংশগ্রহণ এবং পাকিস্তানের স্বীকৃতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করে।

উৎস: বিবিসি বাংলা (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)
১৬.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' কোথায় আয়োজন করা হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্রে
  2. যুক্তরাজ্যে 
  3. জাপানে 
  4. রাশিয়াতে 
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রে
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- ব্রিটিশ নাগরিক বিখ্যাত সংগীত শিল্পী জর্জ হ্যারিসন পণ্ডিত রবি শংকর ও আলী আকবর খান মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও দানসহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' ৪০,০০০ লোকের সমাগমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডভিত্তিক গান পরিবেশন করেন।
- রবি শংকর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের সমর্থনে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।
- তাঁকে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শরণার্থী শিবিরগুলোয় মানুষের মানবেতর জীবন যাপনের চিত্র তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে।
- অনাহার-অর্ধাহারে থাকা শরণার্থীদের জন্য কিছু করার তাগিদ গভীরভাবে অনুভব করেন।
- তিনি তাঁর বন্ধু ও শিষ্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বাংলাদেশে গণহত্যা ও ভারতের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন-যাপনরত নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষের সাহায্যার্থে হাত বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
- এভাবে তাঁরা উভয় মিলে ১লা আগস্ট ১৯৭১ তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বেনিফিট কনসার্ট আয়োজন করেন।
- এই কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ তারা মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থীদের কল্যাণের জন্য ইউনিসেফের হাতে তুলে দেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
ii) বাংলাপিডিয়া।