উত্তর
ব্যাখ্যা
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা হুজরাত এর ১ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন
আনাস (রা) বলেন: যখন সুরা ফাতহ অবতীর্ণ হয় তখন সাহাবিরা চিন্তিত ও ভারাক্রান্ত অবস্থায় হুদায়বিয়া হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন। তারা হুদায়বিয়াতে কুরবানির পশসমূহ জবাই করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : আমার কাছে এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যা সমস্ত দুনিয়া হতে উত্তম। (সহি মুসলিম হা. ১৭৮৬)
সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা ফাতহের ১-৩ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
খায়বার যুদ্ধের গনিমতের সম্পদ শুধু তাদের মধ্যেই বন্টিত হয় যারা হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা ফাতহের ১ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
مَغَانِم (মাগানিম) শব্দের অর্থ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা গনিমতের সম্পদ।
সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা ফাতহের ১৮-১৯ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
نَصْرًاعَزِيزًا (নাসরান আঝিঝা) অর্থ প্রবল সাহায্য। এটি সুরা ফাতহের ৩য় আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা ফাতহের ১-৩ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, অলিদ বিন উকবা (রা) সম্পর্কে সুরা হুজরাতের ৬ নং আয়াত নাযিল হয়েছে। তাঁকে নাবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু মুসতালিক গোত্রের যাকাত আদায় করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। তিনি রাস্তা থেকে ফিরে এসেই জানান যে, তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাকে হত্যা করার মনন্থ করেছে (উল্লেখ্য যে, অলিদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে উক্ত গোত্রের পূর্ব শত্রতা ছিল)। এ সংবাদের ভিত্তিতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে তাদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করলেন। কিন্ত পরক্ষণে জানতে পারলেন যে, সংবাদটি ভুল ছিল। তবে ঘটনাকে অনেকে সনদ ও বাস্তবতার দিক দিয়ে দুর্বল বলেছেন। আবার অনেকে হাসান বলেছেন। তাই এ ধরনের কথা সাহাবিদের ব্যাপারে বলা ঠিক নয়। তবে আয়াতের শানে নুযুলের প্রতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে, এতে অতি গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি নীতি বর্ণনা করা হয়েছে যা বৈষয়িক ও সামাজিক জীবনে বড় গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক সাংবাদিক ও শাসকের উচিত যে-কোন সংবাদ গ্রহণের পূর্বে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়া। অন্যথায় পরবর্তীতে কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে।
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা হুজরাত এর ৬ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : বনু তামীম গোত্রের একটি কাফিলা (তাদের নেতা নির্বাচনে) নবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে আগমন করে। আবু বাকর (রা) বললেন : কাকা বিন মাবাদকে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিন। উমার (রা) বললেন : আকরা বিন হাবেসকে নিযুক্ত করে দিন। আবু বকর (রাঃ) বললেন : (হে উমার) তুমি আমার বিরোধিতা করতে চাচ্ছ! উমার (রাঃ) বললেন : আমি আপনার বিরোধিতা করতে চাইনি। এভাবে কথা কাটাকাটি করতে করতে একপর্যায়ে তাদের আওয়াজ উঁচু হয়ে যায়। তখন আয়াতটি অবতীর্ণ করে মুমিনদেরকে সতর্ক করা হয় তারা যেন রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে উঁচু আওয়াজে কথা না বলে। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৪৭) এ ছাড়াও উক্ত আয়াতের কয়েকটি শানে নুযুল পাওয়া যায়। (ইবনু কাসির, লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবে নুযূল)
সূত্র: তাফসির ফাতহুলি মাজিদ (সুরা হুজরাত এর ১-৩ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : বনু তামীম গোত্রের একটি কাফিলা (তাদের নেতা নির্বাচনে) নবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে আগমন করে। আবু বাকর (রা) বললেন : কাকা বিন মাবাদকে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিন। উমার (রা) বললেন : আকরা বিন হাবেসকে নিযুক্ত করে দিন। আবু বকর (রাঃ) বললেন : (হে উমার) তুমি আমার বিরোধিতা করতে চাচ্ছ! উমার (রাঃ) বললেন : আমি আপনার বিরোধিতা করতে চাইনি। এভাবে কথা কাটাকাটি করতে করতে একপর্যায়ে তাদের আওয়াজ উঁচু হয়ে যায়। তখন আয়াতটি অবতীর্ণ করে মুমিনদেরকে সতর্ক করা হয় তারা যেন রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে উঁচু আওয়াজে কথা না বলে। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৪৭) এ ছাড়াও উক্ত আয়াতের কয়েকটি শানে নুযুল পাওয়া যায়। (ইবনু কাসির, লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবে নুযুল)
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা হুজরাত এর ১-৩ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
الْأَعْرَابُ অর্থ বেদুঈন, মরুবাসী, যারা গ্রামে বসবাস করে। কোন কোন মুফাস্সিরের মতে, এ বেদুঈন লোকগুলো হলো, মদীনার বনু আসাদ ও খুযাইমাহ্ গোত্রের মুনাফিক। তারা দুর্ভিক্ষের সময় কেবল সাদকা লাভের উদ্দেশ্যে অথবা হত্যা ও বন্দী হওয়া থেকে বাঁচার জন্য মৌখিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করার কথা ব্যক্ত করেছিল। কিন্তু তাদের ঈমান, ‘আক্বীদাহ্ এবং ইসলামের আন্তরিকতা মুক্ত ছিল।
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা হুজরাত এর ১৪-১৮ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
আল্লাহ তায়ালা সুরা হুজরাতের ১২ নং আয়াতে ৩টি নির্দেশনা দিয়েছেন:
১। অহেতুক অনুমান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা;
২। গোপন বিষয় অনুসন্ধান থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা;
৩। পারস্পরিক গিবত/পরনিন্দা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা।
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা হুজরাত এর ১২ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)