পরীক্ষা আর্কাইভ

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট

পরীক্ষাফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্টতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins১৮৫ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৮৭
সিলেবাস
Live MCQ ফ্রি সাপ্তাহিক ফুল মডেল টেস্ট: বিসিএসের সম্পূর্ণ সিলেবাসের উপর ২০০ নাম্বারের ফুল মডেল টেস্ট। [Live MCQ - তে প্রতি শুক্রবার সবার জন্য ফ্রি একটি ফুল মডেল টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮৭ প্রশ্ন

.
নিচের কোন উপন্যাসে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনি উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. খোঁয়ারি
  4. ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 

অন্যদিকে,
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- 'চিলেকোঠার সেপাই'” বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।

• 'খোঁয়ারি' ছোটগল্প:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত ছোটগল্প 'খোঁয়ারি' (১৯৮২) মূলত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং হতাশাগ্রস্ত মধ্যবিত্তের মনস্তত্ত্ব তুলে ধরেছে। চার বন্ধুর আড্ডার মাধ্যমে পতিত হিন্দু-বাড়ির প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া শূন্যতা ও রুক্ষ বাস্তবতার ছবি এতে ফুটে উঠেছে

এই সংকলনের "খোঁয়ারি" নামগল্পের পটভূমি পুরান ঢাকা। কাহিনীর কেন্দ্রস্থলে রয়েছে বৃদ্ধ অমৃতলালের শতাব্দী প্রাচীন জরাজীর্ণ বসতবাড়ি এবং অমৃতলালের স্মৃতিমন্থন। দেশভাগে তার পূর্বপুরুষেরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পূর্বে ঐশ্বর্য ও দাপটের সঙ্গে অমৃতলালের পূর্বপুরুষেরা ঢাকায় বাস করত। কিন্তু দেশভাগের ফলে তারা রাতারাতি সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। একান্নবর্তী পরিবারের অনেকেই কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। এরপর ১৯৬৪-এর পূর্ব পাকিস্তান দাঙ্গা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘটনায় বিশাল ঝাঁকুনি সহ্য করেছে বাড়িটি। দেশ স্বাধীন হবার পরে অমৃতলালের ছেলে সমরজিতের বন্ধুরা বাড়িটির কিছু অংশ ভাড়া বাবদ দখল চায়। অমৃতলালের বাড়িতে নতুন সংকট সামনে দাঁড়ায়। মুক্তিযুদ্ধ ও বাম রাজনীতি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা অমৃতলালের বাড়ি দলীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। প্রকৃতপক্ষে ভাড়ার অজুহাতে বাড়ি দখল নেয়ার উদ্দেশে প্রতিয়মান হতে দেখা যায় তাদেরকে। অমৃতলাল একসময় প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। গল্পে ঢাকা শহরের সাতচল্লিশ পূর্ব হিন্দু-মুসলমানের আর্থ-সামাজিক অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। 

• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

.
মণীন্দ্রমোহন বসু 'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশ করেন?
  1. ব্রাহ্মণ
  2. ভারতী
  3. নারায়ণ
  4. কায়স্থ
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগ্‌ধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. নীলদর্পণ
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মৌলিক ও পাশ্চাত্য শৈলীতে লেখা নাটক। মহাভারতের পৌরাণিক কাহিনির ওপর ভিত্তি করে রচিত এই নাটকটি ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া নাট্যশালায় প্রথম অভিনীত হয়। 

• 'নীলদর্পণ' নাটকের রচয়িতা হলেন দীনবন্ধু মিত্র। এটি ১৮৫৮-১৮৫৯ সালের মধ্যে রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা সামাজিক নাটক, যা নীলচাষীদের ওপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন তুলে ধরেছে।

• 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর  শৈলবাসে রচিত। তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী। ১৩৩১ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী। মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।

------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ বাক্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. পুঁই ডালিমের কাব্য
  2. কাঞ্চনগ্রাম
  3. আলমনগরের উপকথা
  4. অনেক দিনের আশা
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ক) পুঁই ডালিমের কাব্য; ঘ) অনেক দিনের আশা। 
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

----------------------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম ছিলেন একজন বাঙালী কথাসাহিত্যিক ও উপন্যাসিক। তিনি ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’।
- ষাটের দশকে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি এবং রোমের এক্সপেরিমেন্টাল সেন্টার অব সিনেমাটোগ্রাফি থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ক ডিপ্লোমা লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন।

• তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- পুঁই ডালিমের কাব্য,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা; 'অনেক দিনের আশা' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাসে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ 
  2. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  3. ডোম সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনি
  4. ভাগলপুরের বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন
ব্যাখ্যা

• 'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাস:
- অরণ্যবহ্নি হলো প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে৷
- উপন্যাসটি ১৮৫৪-১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে, যেখানে সিধু ও কানুর নেতৃত্বে সাঁওতালদের ব্রিটিশ ও মহাজনদের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করে না, বরং সাঁওতালদের জীবন, সংস্কৃতি এবং তাদের বিদ্রোহের পেছনের কারণ ও ফলাফলও তুলে ধরে।

-----------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসসমুহ: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কবি' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

.
একটানা এগারো বছর সার্থকতার সঙ্গে 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন- 
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হিরণ্ময়ী দেবী
  4. সরলা দেবী
ব্যাখ্যা

• 'ভারতী' পত্রিকা:
'ভারতী' জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)। ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)। তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর পরবর্তী সময়ে স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত টানা এগারো বছর পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিয়মিত প্রকাশনা, সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল ভাষা রক্ষা এবং পত্রিকার গুণগত মান বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তাঁর দক্ষ সম্পাদনার ফলে ‘ভারতী’ পত্রিকাটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে তিনি আবার ১৩১৫–১৩২১ বঙ্গাব্দে ৭ বছর সম্পাদনা করেন (মোট ১৮ বছর)।

১৩০২-১৩০৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত সময়ে হিরণ্ময়ী দেবী ও সরলা দেবী যৌথভাবে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এক বছর (১৩০৫ বঙ্গাব্দ) ভারতী-র সম্পাদক ছিলেন।

সরলা দেবী ১৩০৬-১৩১৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত নয় বছর পত্রিকাটির একক-সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তী ১৩৩১ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক পর্যন্ত সরলা দেবীকে পুনরায় তিন বছর পত্রিকাটির দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়েছিল। 

১৩৩৩ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ভারতী পত্রিকাটি প্রকাশনার সর্বমোট পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ত্রিশ বছরেরও অধিক নারী কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

.
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত কত সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4.  ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কারের পর থেকে অনেক পণ্ডিত এ বিষয়ে আলোচনা করে এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। চর্যাপদের আবিষ্কর্তা হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নাম এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে স্মরণীয়। ১৯১৬ সালে চর্যাগীতি প্রকাশ করে তিনি একে বাংলা ভাষার প্রথম অবস্থার রচনা বলে যে ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন তা পরবর্তী কালের গবেষকগণ মেনে নিয়েছেন।

• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• চর্যাগীতির বৈয়াকরণ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে দেখালেন চর্যাপদ 'বাংলা নিশ্চয়ই, বাংলার প্রায় মূর্তি—অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ।' 

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার এবং ১৯৩৮ সালে তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন। 
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯২৭ সালে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন এবং ১৯৪২ সালে চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় করে আলোচনার পথ আরও সহজ করেন। 

ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন। বিহারের প্রখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেছেন। 
• ড. তারাপদ মুখোপাধ্যায় চর্যাপদ থেকে বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপ এবং বাক্যগঠনরীতির স্বরূপ দৃষ্টান্তযোগে দেখিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. এখনও ক্রীতদাস
  2. সভ্যতার সংকট 
  3. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
  4. একাত্তরের ঢাকা 
ব্যাখ্যা

• 'এখনও ক্রীতদাস' নাটক: 
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এই নাটকে ঢাকা শহরে ‘গলাচিপা’ বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক, সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

-------------------------
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা। তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ‘সভ্যতার সংকট’ রবীন্দ্রনাথের শেষ ভাষণ যা তার আশি বৎসরের জন্মোৎসবের অনুষ্ঠানে ১৯৪১ সালের ১৪ই এপ্রিল (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ) প্রবন্ধ বই আকারে শান্তিনিকেতনে বিতরিত হয়। এই ভাষণ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মুদ্রিত হবার পর, রবীন্দ্রনাথ এর ঈষৎ সংশোধন করেন। পরে এর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় ‘প্রবাসী’ পত্রিকায়। পরে ৮ই মে , ১৯৪১ সালে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়।

• 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' প্রখ্যাত লেখক আহমদ ছফা রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যেখানে তিনি নিজের জীবনের প্রেম ও নারীর সম্পর্কের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। 

• সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' একটি প্রবন্ধ সংকলন। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে। একাত্তরের নয় মাসে কত কি ঘটেছে তার নানা ধরণের বিবরণ আছে এ বইয়ে। ২২টি শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

.
পঞ্চপাণ্ডবের কোন কবি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী 
  4. বিষ্ণু দে 
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

 উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

 কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

অন্যদিকে,
• জীবনানন্দ দাশ ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 

• অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। 
• বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
কোনটি কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. সাড়ে তিন হাত ভূমি
  2. জীবন আমার বোন
  3. একটি কালো মেয়ের কথা
  4. উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

• 'উপমহাদেশ' উপন্যাস: 
- 'উপমহাদেশ’ কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন লেখক।

-----------------------
• কবি আল মাহমুদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

অন্যদিকে, 
• 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।
• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে -কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টকে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'উপমহাদেশ' উপন্যাস।

১১.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস 
  2. চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দদাস 
  4. বলরামদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

- চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতন্ময় কৃষ্ণপ্রেম- সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে। তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। কবি রাধার মনের বিচিত্র অনুভূতিকে আশ্চর্য সুন্দর ভাষায় রূপদান করে বাঙালির চিরদিনের সমাদর লাভের উপযোগী করে গেছেন। তাঁর পদাবলিতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমানুভূতির রূপকের মাধ্যমে সে ধর্মীয় চেতনা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি এর রূপকের বাইরে একটা সর্বজনীন ও সার্বভূমিক আবেদন বিদ্যমান। বেদনা আর ব্যাকুলতা এসব পদের মূল সুর বলে নিখিল মানবের হৃদয় এতে খুব সহজেই সাড়া দেয়। সচেতন শিল্পসৃষ্টির প্রয়াস না দেখিয়ে নিরাভরণ বৈরাগ্যের মধ্যেও যে কাব্যগুণ চমৎকার প্রতিফলিত হতে পারে তা চণ্ডীদাসের পদে সহজেই লক্ষ করা যায়।

- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারা চিত্রিত করেছেন। দেহগত কামনা-বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১২.
'তিতাস একটি নদীর নাম' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. আত্মজৈবনিক উপন্যাস
  2. রূপক উপন্যাস
  3. আঞ্চলিক উপন্যাস
  4. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন। 

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
• 'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক। 
• 'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি। 

------------------
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ ছিলেন সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক। তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ। 

১৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আলেয়া' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কবিতা 
  2. গল্প 
  3. প্রবন্ধ 
  4. গীতিনাট্য 
ব্যাখ্যা

• 'আলেয়া' গীতিনাট্য:
- 'আলেয়া' হলো কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রতীকী গীতিনাট্য।
- আলেয়া কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দ্বিতীয় নাটক। এটি ১৯৩১ সালে মঞ্চস্থ ও প্রকাশিত হয়। 'মরুতৃষা' শিরোনামে লিখলেও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে 'আলেয়া' করা হয়।
- ত্রিভুজ প্রেম ও তার পরিণয় এই নাটকের প্রধান বিষয়বস্তু। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়ন্তীর প্রেমের ব্যাকুলতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আবেগের তীব্রতা নাটকটিকে ট্র্যাজিক পরিণয়ের দিকে নিয়ে গেছে।
- মূল চরিত্র জয়ন্তীর প্রেম ব্যাকুলতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আবেগের তীব্রতা শেষ পর্যন্ত ঘটনায় বিষদময় আবহ তৈরি করেছে। জয়ন্তী, মীনকেতু এবং উগ্রাদিত্যের ত্রিভুজ প্রণয়কাহিনি নাটকের মূলস্তম্ভ। 

উৎস: 'আলেয়া' গীতিনাট্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
চর্যাপদের কাকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয়?
  1. লুইপা 
  2. ভুসুকুপা 
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা 
ব্যাখ্যা

• 'কাহ্নপা':
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী কাহ্ন পাদ। তাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এই সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।

- কানু পা কৃষ্ণপাদ ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত । বিভিন্ন পদে কাহ্ন, কাহ্নু, কাহ্নু, কাহ্, কাহ্নি, কাহ্নিলা, কাহিল প্রভৃতি ভণিতা লক্ষ করা যায়। - খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কানু পার আবির্ভাব হয়েছিল বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন। কানু পার বাড়ি ছিল উড়িষ্যায়, তিনি সোমপুর বিহারে বাস করতেন।

- রাহুল সংকৃত্যায়ন কাহ্ন পা বা কৃষ্ণ পাদ বা কৃষ্ণাচার্য পাদ বা কৃষ্ণবজ্র পাদকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করেন। তিনি দেব পালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জীবৎকালের ঊর্ধ্বসীমা ৮৪০ সাল সিদ্ধ।

- তিনি পণ্ডিত-ভিক্ষু নামে খ্যাত ছিলেন। চর্যাপদ ছাড়াও তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। বিষয়বস্তুর বিচারে কাহ্ন পা সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের যোগী ছিলেন বলে অনুমিত হয়। ড সুকুমার সেনের মতে, 'কাহ্নপা চর্যাগীতির রচনারীতিতে অস্পষ্টতা নাই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প?
  1. অনধিকার প্রবেশ
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. দেনাপাওনা
  4. ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা

• ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ একটি রহস্যময় ও প্রতীকধর্মী অতিপ্রাকৃতিক ছোটোগল্প।
- ১৮৯৫ সালে সাধনা পত্রিকায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ আহমেদাবাদের শাহীবাগে সবরমতী নদীর নিকটে অবস্থিত মোতি শাহী মহলে অবস্থানকালে এই গল্পটি লেখার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

গল্পের সারসক্ষেপ:
গল্পকথক ও তাঁর এক থিওসফিস্ট আত্মীয় পূজার ছুটিতে ভ্রমণ শেষে ট্রেনে কলকাতায় ফিরছিলেন। পথে এক রেলস্টেশনে তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয় এক রহস্যময় ট্যাক্স কালেক্টারের। অপেক্ষার সময় তিনি তাঁর জীবনের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করেন—এভাবেই গল্পের মধ্যে গল্পের সূচনা হয়।

ট্যাক্স কালেক্টার কর্মসূত্রে শুস্তা নদীর কাছে এক মফস্‌সল শহরে গিয়ে আড়াইশো বছরের পুরনো একটি শ্বেতপাথরের প্রাসাদে উঠেছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে সেখানে রাত কাটাতে নিষেধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। ধীরে ধীরে প্রাসাদের এক অদ্ভুত মোহ তাঁকে গ্রাস করতে থাকে। রাতে তিনি রহস্যময় শব্দ, ছায়ামূর্তি, সংগীত, নারীকণ্ঠের হাসি ও কান্না অনুভব করেন। স্বপ্ন ও বাস্তবের সীমারেখা তাঁর কাছে ক্রমে অস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রাসাদের পুরোনো কর্মচারী করিম খাঁ জানায়, অতীতের অতৃপ্ত বাসনা ও ভোগবিলাসের অভিশাপে প্রাসাদের প্রতিটি পাথর যেন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছে। মানুষ সেখানে থাকলে প্রাসাদ তাকে গ্রাস করতে চায়। বহু মানুষ সেখানে রাত কাটিয়ে নিখোঁজ হয়েছে; কেবল পাগল মেহের আলিই প্রাণে বেঁচে ফিরেছে।

এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনিয়ে ট্যাক্স কালেক্টার তাঁর গল্প শেষ করেন। গল্পটি অতীতের ভোগলালসা, মানবচেতনার দুর্বলতা ও অশুভ আকর্ষণের প্রতীক হিসেবে রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক আবহে পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

 ---------------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্প।

১৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. প্রতিনিধিত্ব
  2. প্রতিপত্ত্বিশীল
  3. প্রতিনিবৃত্ত 
  4. প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান: প্রতিপত্ত্বিশীল।

• শুদ্ধরূপ: প্রতিপত্তিশীল।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: (প্রতিপত্তি + √শীল্ + অ),
- যার অর্থ: প্রভাব বা প্রতিপত্তি আছে এমন।

অপশনে প্রদত্ত প্রতিনিধিত্ব, প্রতিনিবৃত্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বী শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৭.
'ঢাকেশ্বরী' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ঢাক + ঈশ্বরী
  2. ঢাকে + ঈশ্বরী
  3. ঢাকা + ঈশ্বরী
  4. ঢাকা + ঈশ্বরি
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।
 
আবার, 
- ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী।  

এরূপ- ঢাকেশ্বরী, পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, সেচ্ছা, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১৮.
ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কমা
  2. কোলন 
  3. হাইফেন 
  4. সেমিকোলন 
ব্যাখ্যা

• কমা ( , ):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- কমা- এর অপর নাম হচ্ছে পাদচ্ছেদ।

কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোনো বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
৮) ডিগ্রি পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯.
‘রেস্টুরেন্ট' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ইংরেজি 
  2. ফরাসি 
  3. ফারসি 
  4. তুর্কি 
ব্যাখ্যা

‘রেস্টুরেন্ট' ফরাসি ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু ফরাসি শব্দ হলো:
কার্নিশ, কার্টিজ, এস্টেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২০.
'বাগদত্তা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. অলুক কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পর পূর্বপদে বিদ্যমান দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতু্র্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় এবং সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রাধান্য লাভ করে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- কলাকে বেচা = কলাবেচা।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত। 
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ।
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত।
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা।
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য।
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন।
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত।
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা।
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
'প্রীতি > পিরীতি' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. অপনিহিতি
  3. সমীভবন
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি। 

এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২.
যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. ত্‌ + ত = ক্ত 
  2. ক্‌ + ন = ক্ম
  3. ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম 
  4. ঞ্‌ + জ = জ্ঞ 
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন- ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম। 

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত (ক্ + ত), 
ক্ম (ক্ + ম), 
ক্ষ (ক্ + ষ), 
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স), 
গু (গ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ), 
ঙ্গ (ঙ্ + গ), 
জ্ঞ (জ্ + ঞ), 
ঞ্চ (ঞ্ + চ), 
ঞ্জ (ঞ্ + জ), 
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ), 
হৃ (হ্ + ঋ), 
হ্ন (হ্ + ন), 
হ্ণ (হ্ + ণ),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৩.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মসাধিত উপায়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চিক্কণ
  2. লাবণ্য
  3. কঙ্কণ
  4. রুক্মিণী
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ্)। এরূপ– রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি৷

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, চিক্কণ, গুণ গণনা, পিণাক, পণ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৪.
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
  1. অকিঞ্চন
  2. অকাল্পনিক
  3. অকার্যক্ষম
  4. অকালে
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শব্দগুলো বর্ণানুক্রমিক (অর্থাৎ অ-আ-ই-ঈ-উ-ঊ... এই ক্রমে) সাজানো হয়। বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।

দেওয়া চারটি শব্দের প্রথম অক্ষর সবই অ, তাই পরের অক্ষর দেখতে হবে:
অকার্যক্ষম → অ + ক + া + র + ্য + ক + ্ষ + ম। 
অকালে → অ + ক + া + ল + ে। 
অকাল্পনিক → অ + ক + া + ল + ্প + ন + ি + ক। 
অকিঞ্চন → অ + ক + ি + ঞ + ্চ + ন। 

দ্বিতীয় অক্ষর সবারই ক (সমান)। তৃতীয় অক্ষরে (মাত্রা/স্বর সহ):
অকার্যক্ষম → া (কা)
অকালে → া (কা)
অকাল্পনিক → া (কা)
অকিঞ্চন → ি (কি)

বাংলায় স্বরচিহ্নের ক্রম সাধারণত: া > ি > ী > ু > ূ > ৃ > ে > ৈ > ো > ৌ (অর্থাৎ আ-কার আগে আসে ই-কার এর চেয়ে)। সুতরাং অকিঞ্চন (কি) অন্য তিনটি শব্দের পরে বসবে। 

তৃতীয় থেকে চতুর্থ অক্ষরে: র্য / ল / ল্প বাংলা বর্ণক্রমে র আসে ল-এর আগে। তাই অকার্যক্ষম আগে বসবে। তারপর অকালে, অকাল্পনিক ও অকিঞ্চন শব্দগুলো বসবে। 

সুতরাং সঠিক ক্রম হবে: ১. অকার্যক্ষম ২. অকালে ৩. অকাল্পনিক ৪. অকিঞ্চন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫.
'Tax exemption' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি? 
  1. কর মউকুফ
  2. কর অবকাশ
  3. করমুক্ত
  4. কর-উপশম
ব্যাখ্যা

• 'Tax exemption' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - কর মউকুফ। 

অন্যদিকে,
• 'Tax holiday' বাংলা পারিভাষিক শব্দ - কর অবকাশ। 
• 'Tax-free' বাংলা পারিভাষিক শব্দ - করমুক্ত।  
• 'Tax relief' বাংলা পারিভাষিক শব্দ - কর-উপশম।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

২৬.
'বেঙ্গমা' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বেঙ্গমিনী 
  2. বেঙ্গমী
  3. বেঙ্গমাইন 
  4. বেঙ্গমনী 
ব্যাখ্যা

বাংলা স্ত্রী প্রত্যয়:
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। এগুলো হলো : ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন ।
• ঈ-প্রত্যয়: বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, ভাগনা/ভাগনে—ভাগনী ৷
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ ই হয়। যেমন: ভিখারি- ভিখারিনী, অভিসারী-অভিসারিণী ।
• আনী-প্রত্যয়: ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয়: কাঙাল - কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি ।
• উন-প্রত্যয়: ঠাকুর-ঠাকরুন / ঠাকুরানী।
• আইন-প্রত্যয়: নতুন নতুন প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন : ঠাকুর-ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৭.
'মাত্র' এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মনুষ্যমাত্র
  2. একমাত্র
  3. বলামাত্র
  4. কেবলমাত্র
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 

----------------------
• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার: 
মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র ইত্যাদি।

লক্ষণীয়,  মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
'নিন্দিত' অর্থে উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কুসঙ্গ
  2. কুনজর
  3. কদাকার
  4. কুকথা
ব্যাখ্যা

• বাংলা 'কদ্' উপসর্গ যোগে নিন্দিত অর্থে গঠিত শব্দ- কদবেল, কদর্য, কদাকার

অন্যদিকে, 
• বাংলা 'কু' উপসর্গ যোগে কুৎসিত/অপকর্ষ অর্থে গঠিত শব্দ- কুঅভ্যাস, কুকথা, কুনজর, কুসঙ্গ। 

------------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৯.
বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. পটুত্ব
  2. চৌকশ 
  3. পাথুরে
  4. খোঁড়া
ব্যাখ্যা

• বিশেষণজাত (গুণবাচক) বিশেষ্য: 
বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্যকারী অন্ত্যপ্রত্যয় যোগ করে এ ধরনের বিশেষ্য গঠিত হয়।
যেমন: ধীর+তা = ধীরতা; এরকম- দ্রুততা, চালাকি, পটুত্ব, শৌখিনতা, নষ্টামি ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• গুণবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন: চৌকশ লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• উপাদানবাচক বিশেষণ:  বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩০.
নিচের কোনটি বৈকল্পিক যোজক?
  1. যেহেতু
  2. অথচ
  3. তবু
  4. কিন্তু
ব্যাখ্যা

• যোজক শব্দের কাজ একাধিক পদ, খণ্ডবাক্য কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। অর্থ ও সংযোজনের ধরন অনুযায়ী যোজক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে।
যেমন:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের শব্দশ্রেণি দুটি শব্দ কিংবা বাক্যকল্পকে জুড়ে দেয়। সাধারণ যোজক শব্দ হলো- এবং, ও, আর। যেমন : মিমিয়া আর আলিয়া দু বোন। সুখ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে না। স্কুলে যাও এবং পঠ মন দাও।

• বৈকল্পিক যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ। যেমন- সাদা বা কালো। তিনি হয় রিকশায় না হয় হেঁটে যাবেন। সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।

• বিরোধমূলক যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে। বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু। যেমন: তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। এই বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।

• কারণবাচক যোজক: এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। কারণবাচক যোজক হলো– কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব। যেমন: জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট। যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপুরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সাপেক্ষ যোজক হলে যথা... তথা, যত .... তত, যখন ... তখন, যেমন তেমন, যেরূপ সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১.
What was Pride and Prejudice originally titled?
  1. Lady Susan
  2. First Impressions
  3. Love and Friendship
  4. Men and Women
ব্যাখ্যা

• Jane Austen’s novel Pride and Prejudice was originally titled First Impressions.

• Pride and Prejudice:
- Romantic period -এর উপন্যাসিক Jane Austen -এর লেখা novel.
- উপন্যাসটি ১৮১৩ সালে তিনটি ভলিউমে প্রকাশিত হয় এবং এই উপন্যাসের মূল নামকরণ করা হয়েছিল: First Impressions.
- বুদ্ধিদীপ্ত উপমা এবং চরিত্রগুলোর চমৎকার উপস্থাপনা ও বর্ননার কারনে ইংরেজি সাহিত্যে এই উপন্যাসটি একটি classic হিসেবে বিবেচিত।
- কাহিনির শুরু হয় Bennet পরিবারের সদস্য বিশেষ করে পরিবারের বড় মেয়ে Elizabeth Bennet এর সাথে Fitzwilliam Darcy নামক একজন জমিদারের সম্পর্কে নিয়ে।
- Elizabeth Bennet এবং Fitzwilliam Darcy একে অপরের প্রেমে পড়তে চায়, কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় যুক্তিহীন কিছু পূর্ব ধারণার কারণে।
- উপন্যাসে Bennet প্রথমে Mr. Darcy–কে অহংকারী ও গর্বিত মনে করলেও ধীরে ধীরে ভুল ধারণা ভেঙে যায়। এলিজাবেথের চরিত্রের মাধ্যমে জেন অস্টেন নারীর বুদ্ধিমত্তা, নৈতিক দৃঢ়তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

• Main characters:
- Mr. Bennet,
- Mrs. Bennet,
- Elizabeth Bennet,
- Fitzwilliam Darcy,
- Mary Bennet,
- Jane Bennet,
- Catherine Bennet,
- Charles Bingley,
- George Wickham, etc.

• এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি-
- 'It is a truth universally acknowledged, that a single man in possession of a good fortune, must be in want of a wife'.'

• Jane Austen (1775-1817):
- Jane Austen ছিলেন একজন ইংরেজ উপন্যাসিক।
- তিনি একজন English novelist from the Romantic Period and known as an anti romantic novelist.
- যিনি সামাজিক আচরণ, নারীদের জীবন, এবং তাঁর চরিত্রগুলোর রোম্যান্টিক জটিলতা নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণের জন্য পরিচিত।
- তাঁর লেখা উপন্যাসগুলো সাধারণত ১৮শ শতকের শেষ ও ১৯শ শতকের প্রাথমিক সময়ের ব্রিটিশ জমিদার শ্রেণির সমালোচনা করে।
- She first gave the novel its distinctly modern character through her treatment of ordinary people in everyday life.

• Notable works:
- Emma,
- Pride and Prejudice,
- Persuasion,
- Lady Susan,
- Mansfield Park,
- Northanger Abbey,
- Sense and Sensibility, etc.

Source:
1. Britannica.
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.

৩২.
The Narrative poem, "The Spanish Gypsy" is composed by-
  1. T.S. Eliot
  2. George Eliot
  3. Matthew Arnold
  4. Robert Browning
ব্যাখ্যা

• The Narrative poem, "The Spanish Gypsy" is composed by George Eliot.

• The Spanish Gypsy:
- It is a dramatic poem written by George Eliot. 
- এটিকে Tragi-comedy ও বলা হয়। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৮ সালে। 
- The Spanish Gypsy portrays the conflict between personal love and moral duty, emphasizing self-sacrifice and identity.

- কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র Fedalma—একজন সুন্দরী তরুণী, যিনি স্পেনে খ্রিস্টান হিসেবে বড় হলেও পরে জানতে পারেন তিনি আসলে Gypsy (Roma) জাতিগোষ্ঠীর সন্তান। তার প্রকৃত পিতা Zarca, Gypsy জাতির নেতা।

- Fedalma একদিকে একজন স্প্যানিশ অভিজাত যুবক Don Silva-র সঙ্গে প্রেমে আবদ্ধ; অন্যদিকে পিতার আহ্বানে তাকে নিজের জাতির দায়িত্ব ও ঐতিহ্য গ্রহণ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত Fedalma ব্যক্তিগত প্রেম ত্যাগ করে জাতির কল্যাণ ও কর্তব্যকে বেছে নেয়।
- কবিতাটিতে নারীচরিত্র Fedalma-র মাধ্যমে নৈতিক শক্তি ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা যায়।

• Central Ideas:
- কর্তব্য বনাম ব্যক্তিগত সুখ (Fedalma-র জীবনে প্রেম ও দায়িত্বের দ্বন্দ্বই কবিতার মূল চালিকাশক্তি)।
- ত্যাগ ও নৈতিক মহানতা (Fedalma-র সিদ্ধান্ত দেখায়—উচ্চতর আদর্শের জন্য আত্মত্যাগই প্রকৃত মহত্ত্ব)।

• Main characters:
- Fedalma,
- Zarca,
- Don Silva.

• George Eliot (1819–1880):
- George Eliot ছিলেন একজন ইংরেজ ভিক্টোরিয়ান যুগের ঔপন্যাসিক।
- তিনি আধুনিক উপন্যাসে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পদ্ধতি বিকাশ করেন।
- তাঁর রচনায় চরিত্রগুলোর মানসিক জগৎ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, যা তাঁকে আধুনিক ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
- মূলত ঔপন্যাসিক হলেও বেশ কয়েকটি কবিতা লিখেছেন, The Spanish Gypsy তার মধ্যে অন্যতম।

• Notable Works (Novel):
- Adam Bede,
- Silas Marner,
- Middlemarch,
- Daniel Deronda,
- The Mill on the Floss, etc

Source:
1. Britannica.
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.

৩৩.
Who is most inclined towards feminism?
  1. Cordelia
  2. Desdemona
  3. Ophelia
  4. Lady Macbeth
ব্যাখ্যা

→ (49th Special BCS Education Preli)
• Lady Macbeth is most inclined towards feminism.


• Macbeth:
- এই tragedy টি William Shakespeare রচিত Tragedy গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত।
- এটি ১৬০৭-০৭ সালের দিকে লেখা এবং ১৬২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির মূল বিষয়বস্তু হলো King Duncan এর হত্যা ও তার ফলে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি।
- এই Tragedy টি হচ্ছে William Shakespeare এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ tragedy এবং Macbeth হলো এর মূল চরিত্র/tragic hero.
- William Shakespeare -এর Macbeth নাটকটির মূল সেটিং বা প্রেক্ষাপট হলো স্কটল্যান্ড।
- নাটকটির প্রধান চরিত্র Macbeth ছিলেন স্কটল্যান্ডের রাজা Duncan এর একজন বিশ্বস্ত General, যিনি স্কটল্যান্ডের রাজা হওয়ার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে ওঠেন।
- নাটকটির বেশিরভাগ ঘটনাই স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন রাজপ্রাসাদ, যুদ্ধক্ষেত্র এবং প্রাসাদে ঘটে।

• Main characters:
- Macbeth,
- Lady Macbeth,
- Duncan,
- Banquo,
- Three Witches.

• Lady Macbeth:
- প্রচলিত নারীসুলভ দুর্বলতার ধারণাকে অস্বীকার করেন। তিনি ক্ষমতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেন এবং Macbeth-কে রাজহত্যার জন্য প্ররোচিত করেন।
- তাই নারীবাদী মনোভাবের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝোঁক দেখা যায় Lady Macbeth-এর মধ্যে।

অন্যদিকে,
- King Lear নাটকের চরিত্র Cordelia ছিল নিষ্ঠাবান ও নীতিবান।

- Othello তে Desdemona ছিল প্রেমময় ও অনুগত।

- Hamlet -এ Ophelia ছিল দুর্বল ও করুণ চরিত্র।

• William Shakespeare (1564-1616):
- William Shakespeare একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে 'English National Poet' বলা হয়।
- Stratford-upon-Avon -এ জন্মগ্রহণ করেছেন বলে তাকে Bard of Avon বা Swan of Avon বলা হয়।
- তাকে অনেকেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে বিবেচনা করেন।
- Shakespeare occupies a unique position in world literature.
- William Shakespeare মূলত তাঁর Drama and Sonnet -এর জন্য পরিচিত।
- তিনি মোট ১৫৪ টি sonnet এবং ৩৭ টি play লিখেছেন।
- এছাড়া তিনি Long narrative poem ও লিখেছেন।

• Famous Tragedy:
- Hamlet,
- Othello,
- Macbeth,
- King Lear,
- Julius Caesar,
- Coriolanus,
- Antony and Cleopatra,
- Timon of Athens (Unfinished Tragedy), etc.

Source:
1. Britannica.
2. SparkNotes.

৩৪.
“Beauty is truth, truth beauty,”—that is all
Ye know on earth, and all ye need to know."
-This quotation is taken from-
  1. Ode on a Grecian Urn
  2. Ode to a Nightingale
  3. Dejection: An Ode
  4. Isabella
ব্যাখ্যা

• “Beauty is truth, truth beauty,”—that is all
Ye know on earth, and all ye need to know."
-This quotation is taken from Ode on a Grecian Urn.

• Ode on a Grecian Urn:

- John Keats এর লেখা এটি 5 stanza বিশিষ্ট বিখ্যাত কবিতা যা ১৮২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি Romantic Period এর উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- একটি Grecian urn ("গ্রীক সুগন্ধি পাত্র" বা "গ্রীক চিতাভস্মাধার") এর উপর অঙ্কিত শিল্পকর্মের কথা উঠে এসেছে এই কবিতায়।
- যার মাধ্যমে কবি, শিল্প, সৌন্দর্য আর সত্যের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।
- এই কবিতার শেষ দুই লাইন হচ্ছে- 
- “Beauty is truth, truth beauty,”—that is all
Ye know on earth, and all ye need to know."

• কবিতার আরও একটি বিখ্যাত উক্তি হলো-
- "Heard melodies are sweet, but those unheard are sweeter."
- "Beauty is truth, truth beauty."

• John Keats (1795-1821):
- তিনি একজন British Poet এবং Romantic period এর লেখক।
- তার সাহিত্য কর্মের মধ্যে আছে: Sonnets, Odes, and Epics.
- তিনি খুব অল্প সময় বেঁচে ছিলেন, কিন্তু এই স্বল্প সময়েই তিনি সুন্দর কল্পনা, অনুভূতি ও চিত্রধর্মী ভাষায় কবিতা লিখে সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখেন।
- তিনি প্রাচীন গল্প বা উপাখ্যানের মাধ্যমে জীবনের গভীর অর্থ বোঝাতে চেষ্টা করতেন।

• Some Famous Quotations of John Keats:
- "A thing of beauty is a joy forever:
Its loveliness increases; it will never
Pass into nothingness." (Endymion)
- "Where are the songs of spring? Aye, where are they?" (To Autumn)

• Famous poems:
- To Autumn,
- Bright Star,
- Lamia,
- Isabella,
- Hyperion,
- Ode to Psyche,
- Ode on Melancholy,
- Ode to a Nightingale,
- Ode on a Grecian Urn,
- The Eve of St.,
- On First Looking into Chapman's Homer,
- La Belle Dame Sans Merci, etc.

Source:
1. Britannica.
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.

৩৫.
The wall in Robert Frost’s poem “Mending Wall” symbolizes-
  1. Agricultural necessity
  2. Political borders
  3. Unnecessary barriers between people
  4. Family heritage
ব্যাখ্যা

• The wall in Robert Frost’s poem “Mending Wall” symbolizes- Unnecessary barriers between people.

- Robert Frost-এর কবিতা Mending Wall-এ দেয়ালটি মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব ও মানসিক বিভাজনের প্রতীক।
- কবিতায় দুই প্রতিবেশী প্রতি বছর দেয়াল মেরামত করে, যদিও বাস্তবে তার প্রয়োজন নেই। এতে বোঝানো হয়েছে—মানুষ অনেক সময় অকারণে সম্পর্কের মাঝে বাধা সৃষ্টি করে।

• Mending Wall:
- Robert Frost -এর বিখ্যাত কবিতা।
- এটি Blank verse (অমিত্রাক্ষর ছন্দ) এ রচিত।
- কবিতাটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এতে দুই প্রতিবেশী একে অপরের সঙ্গে দেয়াল মেরামত করতে গিয়ে তাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
- কবি মনে করেন, দেয়ালের প্রয়োজন নেই, কারণ প্রকৃতি স্বাভাবিকভাবেই সীমানা ভাঙতে চায়।
- তবে প্রতিবেশী বিশ্বাস করেন, "Good fences make good neighbors".
- কবি সমাজে সীমানা ও বাধার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, এবং এই কবিতার মাধ্যমে তিনি মানবিক সম্পর্ক ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা করেছেন।

• Robert Frost (1874-1963):
- Robert Frost একজন আমেরিকান কবি। তাকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়।
- তিনি ‘Nature poet’, ‘Regional poet’ নামে পরিচিত।
- তিনি চারবার Pulitzer পুরস্কার লাভ করেন।
- তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছেঃ A Boy’s Will, North of Boston, From Mountain Interval etc.
- Mending Wall কবিতাটি তার ‘North of Boston’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• Poems:
- Fire and Ice,
- Mending Wall,
- Birches,
- Out Out,
- Home Burial, 
- Nothing Gold Can Stay, etc.

Source: Britannica.

৩৬.
"Ah, love, let us be true
To one another! for the world, which seems
To lie before us like a land of dreams..."
-This quote is taken from a poem of _____.
  1. P. B. Shelley
  2. Matthew Arnold
  3. Lord Byron
  4. Robert Graves
ব্যাখ্যা

• "Ah, love, let us be true
To one another! for the world, which seems
To lie before us like a land of dreams."
-This quote is taken from a poem of Matthew Arnold.

- এটি Matthew Arnold -এর Dover Beach কবিতার বিখ্যাত লাইন।

• সবচেয়ে বিখ্যাত লাইনগুলোতে তিনি বলেন:
- "Ah, love, let us be true
To one another! for the world, which seems
To lie before us like a land of dreams,
So various, so beautiful, so new,
Hath really neither joy, nor love, nor light,
Nor certitude, nor peace, nor help for pain;
And we are here as on a darkling plain
Swept with confused alarms of struggle and flight,
Where ignorant armies clash by night."

• ভাবার্থ:
- এখানে কবি তার প্রিয়জনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন-
- "হে প্রিয়, আমরা যেন একে অপরের প্রতি সত্য ও বিশ্বস্ত থাকি। কারণ এই পৃথিবী বাইরে থেকে যতই স্বপ্নের দেশের মতো সুন্দর ও আকর্ষণীয় মনে হোক, বাস্তবে তা এতটা শান্ত ও সুখময় নয়।"
- অর্থাৎ, কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে পৃথিবীতে অনিশ্চয়তা, দুঃখ ও হতাশা রয়েছে। তাই এই অনিশ্চিত জগতে একমাত্র ভরসা হলো পরস্পরের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা।

• Dover Beach:
- "Dover Beach" কবিতাটি Matthew Arnold রচিত।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬৭ সালে তাঁর New Poems সংকলনে।
- এটি Arnold-এর সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রশংসিত কবিতা।
- মোট ৩৭ লাইনের এই কবিতায় আধুনিক পৃথিবীতে ধর্মীয় বিশ্বাসের পতনের কথা বলা হয়েছে।
- কবি বিশ্বাস করেন, এই ধর্মীয় শূন্যতার পরিবর্তে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা হতে পারে মানুষের একমাত্র আশ্রয়।
- Matthew Arnold রচিত Dover Beach কবিতায় তাঁর নিরাশাবাদী (pessimistic) দৃষ্টিভঙ্গি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতায় তিনি ভিক্টোরিয়ান যুগের আধ্যাত্মিক সংকট, ধর্মবিশ্বাসের অবক্ষয় এবং আধুনিক জীবনের অন্ধকার দিকগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• Matthew Arnold (1822-1888):
- তিনি একজন ভিক্টোরিয়ান যুগের ইংরেজ কবি ছিলেন, এবং সাহিত্য ও সামাজিক critic হিসেবে পরিচিত।
- তিনি সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির রুচি ও আচরণের সমালোচনার জন্য পরিচিত।
- তিনি সংস্কৃতির একজন প্রচারক হিসেবে খ্যাত, বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত রচনা Culture and Anarchy (1869)-এর জন্য।

• Notable Works:
Famous elegies:
- Thyrsis,
- Rugby Chapel.

Famous poems:
- Dover Beach,
- The scholar gypsy,
- Sohrab and Rustom,
- Cromwell.

Famous books:
- Culture and Anarchy,
- The Study of Poetry,
- Literature and Dogma,
- Essays in Criticism.

Source:
1. Britannica.
2. Poetry Foundation.

৩৭.
Who wrote the prose "The Advancement of Learning”?
  1. Samuel Johnson
  2. Ben Jonson
  3. John Milton
  4. Francis Bacon
ব্যাখ্যা

• The prose "The Advancement of Learning” was written by Francis Bacon.
 
• The Advancement of Learning:
- এটি হলো Francis Bacon-এর একটি Prose treatise (দার্শনিক গদ্য)।
- The Advancement of Learning-এ Francis Bacon মানুষের জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব, জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
- তিনি প্রাচীন, অন্ধ বিশ্বাসভিত্তিক জ্ঞানের পরিবর্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক জ্ঞান প্রচার করেন।
- The Advancement of Learning advocates empirical knowledge and scientific inquiry for the progress of humanity.

• মূল ভাব (Central Ideas):
- জ্ঞানই শক্তি (Knowledge is Power) Bacon-এর মতে, জ্ঞান মানুষের জীবন উন্নত করে, প্রকৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণ দেয় এবং সমাজকে এগিয়ে নেয়।
- জ্ঞানের শ্রেণিবিভাগ, তিনি মানব জ্ঞানকে তিন ভাগে ভাগ করেন— History → স্মৃতি (Memory), Poetry → কল্পনা (Imagination), Philosophy → যুক্তি (Reason)।

• Francis Bacon (1561-1626):
- Francis Bacon ছিলেন একজন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষ ব্যবহারকারী।
- সাহিত্যিকভাবে, তিনি মূলত তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর জ্ঞানসমৃদ্ধ প্রবন্ধগুলোর জন্য স্মরণীয়।
- Francis Bacon কে father of English Essay এবং natural philosopher বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখা নীতিগর্ভ প্রবন্ধসংকলন Essays (যেমন Of Studies, Of Truth, Of Love, Of Friendship) আজও জনপ্রিয়।

• Notable essays:
- Of Truth,
- Of Love,
- Of Friendship,
- Of Studies,
- Of Marriage and Single Life,
- The Advancement of Learning,
- Of Great Place, etc.

Source: Britannica.

৩৮.
In The Merchant of Venice, the courtroom speech “The quality of mercy is not strained” is spoken by-
  1. Portia
  2. Shylock
  3. Bassanio
  4. Antonio
ব্যাখ্যা

• In The Merchant of Venice, the courtroom speech “The quality of mercy is not strained” is spoken by Portia.

- William Shakespeare-এর comedy 'The Merchant of Venice'-এ বিখ্যাত courtroom দৃশ্যে 'Portia' আইনজ্ঞের ছদ্মবেশে এই ভাষণ (speech) দেন।
- তিনি বলেন, “The quality of mercy is not strained”, যেখানে তিনি দয়া ও ক্ষমার মহত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন এবং Shylock-কে অনুকম্পা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

• The Merchant of Venice:
- William Shakespeare রচিত একটি five acts বিশিষ্ট comedy play.
- ১৫৯৬-৯৭ সালের দিকে এই comedy টি লেখা হয়েছিল।
- একজন ইহুদি (Jew) সুদখোর 'Shylock' এবং একজন merchant - Antonio এর কাহিনি নিয়ে এটি রচিত। 
- Shylock ছিলেন একজন moneylender.

• Main characters:
- Shylock (Jewish moneylender),
- Antonio (A merchant in Venice),
- Portia (Heroine),
- Bassanio,
- Jessica,
- Gratiano,
- Lorenzo, etc.

• Some quotation from The Merchant of Venice:
- "All that glisters is not gold."
- "The devil can cite Scripture for his purpose."
- "It is a wise father that knows his own child."
- "Love is blind, and lovers cannot see the pretty follies that themselves commit."

• William Shakespeare (1564-1616):
- 'Shakespeare' England -এর Stratford Avon -এ জন্মগ্রহণ করেন।
- এজন্য তাকে 'Bard of Avon' or 'Swan of Avon' বলা হয়।
- যেখানে তিনি ১৫৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যেখানে তিনি তার শৈশবকাল কাটিয়েছিলেন।
- তিনি একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor,
- তাঁকে English national poet বলা হয়।
- He is considered by many to be the greatest dramatist of all time.
- তিনি 154 টি সনেট, 37 টি play লিখেন।
- 1599 সালে তিনি এবং অন্যরা মিলে লন্ডনে প্রতিষ্ঠা করেন "Globe Theatre".

• Notable Comedies:
- All’s Well That Ends Well,
- As You Like It,
- Twelfth Night,
- The Merchant of Venice (Tragi-comedy),
- A Midsummer Night's Dream,
- The Tempest, etc.

Source:
1. Britannica.
2. SparkNotes.

৩৯.
The central idea of Thomas Hardy’s novel 'Under the Greenwood Tree' is-
  1. The tragic consequences of fate
  2. The conflict between tradition and change
  3. The inevitability of death
  4. The destructive impact of industrialization on rural life
ব্যাখ্যা

• The central idea of Thomas Hardy’s novel 'Under the Greenwood Tree' is- the conflict between tradition and change.

- Thomas Hardy-এর উপন্যাস Under the Greenwood Tree-তে গ্রামীণ ইংল্যান্ডের জীবন ও পুরনো চার্চ কায়ারের (choir) পরিবর্তনের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- গল্পে দেখা যায়, পুরনো সংগীতশিল্পীদের দলকে আধুনিক অর্গান মিউজিক দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়—যা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংঘাতকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে।
- তাই উপন্যাসটির মূল ভাব হলো tradition ও change-এর দ্বন্দ্ব।

• Under the Greenwood Tree:
​- Thomas Hardy এর জনপ্রিয় উপন্যাসের মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য।
- বিয়ে, সামাজিক বিভিন্ন পরিবর্তন হচ্ছে এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- এই Novel টিকে Hardy's most gentle and pastoral novel হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ​এই উপন্যাসে ইংল্যান্ডের গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য ও সরলতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে দুটি সমান্তরাল কাহিনী আছে:
১. গ্রামীণ যুবক Dick Dewy ও স্কুলশিক্ষিকা Fancy Day-এর প্রেমকাহিনী।
২. Mellstock-এর পুরনো গির্জার choir (দল) ও তার ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতকে নতুন organ দিয়ে প্রতিস্থাপন করার ঘটনা।

​• Main ​characters:
- Dick Dewy,
- Reuben Dewy,
- William Dewey
- Fancy Day,
- Mr. Maybold,
- Robert Penny,
- Geoffrey Day,
- Frederic Shiner, etc.

​• Thomas Hardy (1840-1928):
- Thomas Hardy ছিলেন একজন ইংরেজ ঔপন্যাসিক এবং কবি।
- তিনি প্রধানত Pessimistic (নিরাশাবাদী) ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিত।
- Hardy একজন আঞ্চলিক ঔপন্যাসিকও ছিলেন, কারণ তার সাহিত্যকর্মগুলো প্রধানত একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীবন এবং পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- তিনি Victorian যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার।
- তার অধিকাংশ উপন্যাস Victorian যুগে রচিত হলেও, তিনি আধুনিক যুগেও ছোটগল্প লিখেছেন।
- পাশাপাশি, তিনি কবিতাও রচনা করেছেন।

​• Notable works (Novels):
- Tess of the d'Urbervilles,
- Far from the Madding Crowd,
- The Return of the Native,
- The Poor Man and the Lady,
- The Mayor of Casterbridge,
- Jude the Obscure,
- A Pair of Blue Eyes,
- Under the Greenwood Tree, etc.

- ​উল্লেখ্য যে, 'Under the Greenwood Tree' শিরোনামে William Shakespeare এর একটি গান রয়েছে, যেটি তাঁর কমেডি As You Like It এর অন্তর্ভুক্ত।

Source: Britannica.

৪০.
Charles Dickens is generally considered the greatest of the _____.
  1. Neoclassical era
  2. Modern era
  3. Victorian era
  4. Post-modern era
ব্যাখ্যা

• Charles Dickens is generally considered the greatest of the Victorian era.

• Charles Dickens (1812-1870):
- তার পুরো নাম Charles John Huffam Dickens.
- He was an English novelist and generally considered the greatest of the Victorian era.
- Charles Dickens ছিলেন Victorian যুগের অন্যতম বিখ্যাত ঔপন্যাসিক। 
- তিনি মূলত তাঁর A Christmas Carol, David Copperfield, Bleak House, A Tale of Two Cities, Great Expectations, Our Mutual Friend ইতাদি উপন্যাসের জন্য তাঁর জীবদ্দশায়ই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন।

• ​Notable Works (novel):
- A Tale of Two Cities,
- Great Expectations,
- A Christmas Carol,
- David Copperfield,
- The Pickwick Papers,
- Oliver Twist,
- Bleak House,
- Little Dorrit,
​- Hard Times,
- Our Mutual Friend, etc.

Source:
1. Britannica.
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.

৪১.
In Hamlet, the iconic soliloquy, “To be or not to be” showcases-
  1. exploration of the human psyche
  2. desire for revenge
  3. hatred for the antagonist
  4. pursuit of justice
ব্যাখ্যা

• In Hamlet, the iconic soliloquy, “To be or not to be” showcases- ক) exploration of the human psyche.

- William Shakespeare-এর নাটক Hamlet-এ “To be or not to be” স্বগতোক্তিতে হ্যামলেট জীবনের অর্থ, মৃত্যু, দুঃখ ও আত্মহত্যা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।
- এখানে তার অন্তর্দ্বন্দ্ব, মানসিক সংকট ও অস্তিত্ববাদী ভাবনা প্রকাশ পায়।
- তাই এটি মানুষের মনের গভীর অনুসন্ধান (exploration of the human psyche) প্রদর্শন করে।
- The iconic soliloquies, such as “To be or not to be,” showcase Shakespeare's masterful exploration of the human psyche.

- এই উক্তিটি দ্বারা অন্যান্য অপশনের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ করে না।

• Hamlet:
- Shakespeare রচিত tragedy গুলোর মধ্যে Hamlet is one of the most celebrated tragedies in English literature.
- তাঁর অন্যান্য tragedy গুলোর মত এটিও 5acts বিশিষ্ট।
- ১৫৯৯-১৬০১ সালের মধ্যে লেখা এই tragedy টি প্রকাশিত হয় ১৬০৩ সালে।
- এর কেন্দ্রীয় চরিত্র Hamlet ছিলেন prince of Denmark যিনি  জার্মানি থেকে নিজ দেশে ফিরে আসে তাঁর বাবার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ করতে এবং জানতে পারে যে তার চাচা Claudius তার মাকে বিয়ে করেছে এবং এই চাচাই তার বাবার খুনী।
- সত্য উদঘাটনের পর বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের মধ্যে দিয়ে tragedy এর কাহিনী সামনে এগিয়ে যায় এবং শেষাংশে Hamlet এর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটে।
- এই tragedy -এর বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসিক দ্বন্দ্ব (Psychological Conflict), প্রতিশোধ (Theme of Revenge), দার্শনিকতা ও অস্তিত্ববাদী ভাবনা, অতিপ্রাকৃত উপাদান (Supernatural Element), ইত্যাদি।

• Famous quotations from Hamlet:
- "To be or not to be that is the question."
- "Frailty, thy name is woman."
- "Brevity is the soul of wit."
- "There is nothing either good or bad, but thinking makes it so."
- "Listen to many, speak to a few."
- "One may smile, and smile, and be a villain."
- "Though this be madness, yet there is method in't."
- "Conscience does make cowards of us all."
- "There's a divinity that shapes our ends,
Rough-hew them how we will."
- "There are more things in heaven and earth, Horatio,
Than are dreamt of in your philosophy."

Source:
1. Britannica.
2. SparkNotes.

৪২.
An Absurd drama, “The Caretaker” was written by-
  1. Tom Stoppard
  2. Harold Pinter
  3. Samuel Beckett
  4. Henrik Ibsen
ব্যাখ্যা

• An Absurd drama, “The Caretaker” was written by Harold Pinter.

• The Caretaker:
- এটি একটি three-act play.
- ১৯৬০ সালে প্রথম প্রকাশিত এবং মঞ্চস্থ হয়।
- The Caretaker is an Absurd drama (Theatre of the Absurd) with elements of Comedy of Menace.
- "The Caretaker" হলো পারিবারিক সম্পর্কে বিশ্বাস ও বিশ্বাসঘাতকতার জটিল সম্পর্কের উপর কেন্দ্র করে রচিত।
- The action of the play occurs in the flat of Aston and Mick, two brothers. Aston, who is slow-witted, befriends a wheedling, garrulous tramp named Davies. 

• Harold Pinter (1930-2008):
- তিনি একজন ইংরেজ নাট্যকার ছিলেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং নাট্যকারদের একজন হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- ২০০৫ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• Pinter's notable plays:
- Moonlight,
- The Homecoming,
- The Birthday Party,
- The Caretaker,
- The Dumb Waiter,
- The Room,
- No Man’s Land,
- Betrayal, etc.

Source: Britannica.

৪৩.
Which of the following tells the story of an aging Cuban fisherman facing a run of bad luck?
  1. Robinson Crusoe
  2. For Whom the Bell Tolls
  3. The Old Man and the Sea
  4. Moby Dick
ব্যাখ্যা

• The Old Man and the Sea tells the story of Santiago, an aging Cuban fisherman facing a run of bad luck. 
- "The Old Man and the Sea" কিউবার এক বৃদ্ধ জেলে Santiago-র জীবন ও সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

• The Old Man and the Sea:
- এটি  ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হওয়া 'Ernest Hemingway' রচিত একটি short heroic novel.
- এটি তাঁর রচিত শেষ major work of fiction.
- গল্পটি একজন কিউবার বয়স্ক জেলেকে (fisherman Santiago) কেন্দ্র করে যিনি একটি giant Marlin কে ধরার জন্য একটি epic battle এ নিযুক্ত হন।
- তিনি একজন old Cuban fisherman, যিনি 84 দিন ধরে একটি মাছও ধরেননি।
- এই উপন্যাসটির জন্য তিনি ১৯৫৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পান; পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তিতেও এটি ভূমিকা রাখে।

• Main Characters:
- Santiago,
- The Marlin,
- Manolin,
- Joe DiMaggio,
- Perico,
- Martin, etc.

• Ernest Hemingway (1899-1961):
- Ernest Hemingway ছিলেন একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্প লেখক।
- তার পুরো নাম Ernest Miller Hemingway.
- তার লেখার সহজ ও সংক্ষিপ্ত গদ্যশৈলী এবং বাস্তবধর্মী চরিত্রচিত্রণ তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- The Sun Also Rises তার প্রথম novel যা Novelist হিসেবে ইংরেজি সাহিত্যে তাকে প্রতিষ্ঠিত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
- সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি 1954 সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- এছাড়া The Old Man and the Sea উপন্যাসের জন্য 1953 সালে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন।

• Notable works:
- For Whom the Bell Tolls,
- The Sun Also Rises,
- The Old Man and the Sea,
- A Farewell to Arms,
- Green Hills of Africa,
- The Fifth Column,
- In Our Time, etc.

অন্যদিকে,
ক) Robinson Crusoe:
- Daniel Defoe রচিত এই উপন্যাসের নায়ক Robinson Crusoe এক জাহাজডুবির পরে এক নির্জন দ্বীপে আটকা পড়েন।
- এটি বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও সভ্যতা গড়ার কাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত।

খ) For Whom the Bell Tolls:
- Ernest Hemingway রচিত আরেকটি উপন্যাস, যা স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময়কার একটি আন্তর্জাতিক ব্রিগেডের সদস্য Robert Jordan-এর গল্প বলে।

ঘ) Moby Dick:
- Herman Melville -এর এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্যাপ্টেন আহাব, যিনি এক সাদা তিমি (Moby Dick)-শিকার করতে চান।
- উপন্যাসটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একটি তিমি শিকারকে কেন্দ্র করে।

Source:
1. Britannica.
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.

৪৪.
“....So long as men can breathe or eyes can see,
So long lives this, and this gives life to thee.”
Lines taken from a sonnet by _____.
  1. Donne
  2. Shakespeare
  3. Spencer
  4. E.B. Browning
ব্যাখ্যা

• “....So long as men can breathe or eyes can see,
So long lives this, and this gives life to thee.”
- Lines taken from a sonnet by Shakespeare.

- William Shakespeare -এর Sonnet 18: Shall I compare thee to a summer’s day? কবিতার শেষ লাইন।

• Sonnet 18: Shall I compare thee to a summer’s day?:
- এটি William Shakespeare -এর অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রেমময় সনেট।
- Shakespeare এই সনেটে প্রিয়জনকে গ্রীষ্মের দিনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন— "তোমাকে কি গ্রীষ্মের দিনের সঙ্গে তুলনা করব? না, তুমি তার চেয়েও সুন্দর এবং শান্ত।"
- এই কবিতার মূলভাব হলো- প্রকৃতি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু প্রেম ও সৌন্দর্য কবিতার মাধ্যমে অমর হয়ে উঠতে পারে।

• William Shakespeare (1564-1616):
- William Shakespeare একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে 'English National Poet' বলা হয়।
- Stratford-upon-Avon -এ জন্মগ্রহণ করেছেন বলে তাকে Bard of Avon বা Swan of Avon বলা হয়।
- তাকে অনেকেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে বিবেচনা করেন।
- Shakespeare occupies a unique position in world literature.
- William Shakespeare মূলত তাঁর Drama and Sonnet -এর জন্য পরিচিত।
- তিনি মোট ১৫৪ টি sonnet এবং ৩৭ টি play লিখেছেন।
- এছাড়া তিনি Long narrative poem ও লিখেছেন।

• Famous Sonnets:
- Sonnet 18 – "Shall I compare thee to a summer’s day?",
- Sonnet 29 – "When in disgrace with fortune and men’s eyes",
- Sonnet 73 – “That time of year thou mayst in me behold”,
- Sonnet 116 – “Let me not to the marriage of true minds”,
- Sonnet 130 – "My mistress’ eyes are nothing like the sun".

• Narrative Poems:
- The Rape of Lucrece,
- A Lover's Complaint,
- Venus and Adonis, etc.

Source:
1. Britannica.
2. Poetry Foundation.

৪৫.
"The tide is full, the moon lies fair"
-This is an example of-
  1. Personification
  2. Metaphor
  3. Imagery
  4. Allusion
ব্যাখ্যা

→ (49th Special BCS Education Preli)
• "The tide is full, the moon lies fair."

- This is an example of Imagery.

- লাইনটি Matthew Arnold-এর কবিতা Dover Beach থেকে নেওয়া।

- “The tide is full, the moon lies fair”—এই পংক্তিতে সমুদ্রের জোয়ার ও চাঁদের সুন্দর দৃশ্য এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে পাঠকের চোখে একটি স্পষ্ট চিত্র ভেসে ওঠে। তাই এটি Imagery (চিত্রকল্প)–এর উদাহরণ।

• Imagery (চিত্রকল্প):
- Imagery is the use of vivid or figurative language to represent objects, actions, or ideas in such a way that it appeals to our physical senses.
- Imagery is language used by poets, novelists and other writers to create images in the mind of the reader.
- Imagery includes figurative and metaphorical language to improve the reader’s experience through their senses.
- Imagery হলো এমন অলংকার বা সাহিত্যিক কৌশল, যার মাধ্যমে লেখক/ কবি শব্দের সাহায্যে পাঠকের মনে জীবন্ত চিত্র, অনুভূতি বা ইন্দ্রিয়গত অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেন।
- অর্থাৎ, Imagery তে চিত্রকল্পের ব্যবহার এবং সেটিকে প্রতিফলিত করা হয়।

• বিভিন্ন ধরনের Imagery রয়েছে। যেমন:
- Visual imagery (দৃষ্টিগত),
- Auditory imagery (শ্রুতিগত),
- Olfactory imagery (ঘ্রাণগত),
- Gustatory imagery (স্বাদগত),
- Tactile Imagery (স্পর্শগত), etc.

More examples:
- She smelled the scent of sweet hibiscus wafting through the air, its tropical smell a reminder that she was on vacation in a beautiful place.
- The scent of hibiscus helps describe a scene which is relaxing, warm, and welcoming.

Source:
1. Glossary of Literary Terms.
2. Literary terms.net

৪৬.
It's no use crying over spilled milk.
Here, the word "crying" is a/an -
  1. Gerund
  2. Participle
  3. Infinitive
  4. Preposition
ব্যাখ্যা

• It's no use crying over spilled milk.
- Here, the word "crying" is a Gerund.

- এখানে "crying" হলো Gerund কারণ, কোনো লাভ নেই অর্থে It's no use/It's no good (doing something) ব্যবহৃত হয় এবং এরপরের verb + ing টি সবসময় Gerund হয়।
- Here, crying is the subject complement after "It's no use" – meaning "the act of crying over spilled milk is useless."
- Structure: It is no good/use + gerund (verb-ing).
- "crying" adjective (participle) নয়, কারণ এটি এখানে কোনো noun/pronoun-কে modify করছে না।

• Gerund:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি noun -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও noun -এর কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলে।
- সহজে → Gerund = Verb + ing = noun = Verb + noun -এর কাজ করে।
- Gerunds don’t describe action—they act as nouns.

• Functions of the Gerund:
1. As a subject of a verb: Rising early is a good habit.
2. As an object of a verb: I like gardening.
3. As an object of a preposition: I am tired of waiting.
4. As a complement of a verb: Seeing is believing.
5. As absolutely (part of a compound noun): This is my writing-table.

অন্যদিকে,
• Present participle:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি adjective -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও adjective -এর কাজ করে, তাহলে তাকে present participle বলে।
- সহজ ভাষায় → present participle হলো Verb + ing = adjective = Verb + adjective কাজ করে।
- Present participle দ্বারা চলমান sense বোঝায়।
- যেমন: The crying baby (adjective - modifies "baby").

Source: 
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S M Zakir Hussain.

৪৭.
Which one has the identical singular and plural form?
  1. Oasis
  2. Leaf
  3. Trout
  4. Criterion
ব্যাখ্যা

• 'Trout' has the identical singular and plural form.

• Trout (noun) [plural trout or trouts]
- English Meaning: a fish found in both rivers and the sea that is a very popular food.
- Bangla Meaning: (plural অপরিবর্তিত) মিঠাজলের মাছবিশেষ।

- অর্থাৎ, 'Trout' এর plural সাধারণত 'Trout' -ই হয়।

অন্যদিকে,
ক) Oasis (মরূদ্যান) → singular: oasis; plural: oases.
খ) Leaf ((গাছের) পাতা; পত্র; পল্লব; পাপড়ি (কথ্য)) → singular: leaf; plural: leaves/leafs.
ঘ) Criterion (মানদণ্ড) → singular: criterion; plural: criteria/criterions.

- কিছু কিছু noun আছে যাদের singular এবং plural form একই। যেমন:
- trout, salmon, deer, sheep, fish (in most general contexts), aircraft, series, species, etc.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.
3. Merriam-Webster Dictionary.

৪৮.
Fill in the blank: I didn't have any money ______ me. 
  1. over
  2. in
  3. to
  4. on
ব্যাখ্যা

• Complete sentence: I didn't have any money on me. 
- Bangla Meaning: আমার সাথে কোন টাকা ছিল না।

• Have something on you (Phrase):
- English Meaning: to be carrying something, for example, in a pocket or bag.
- Bangla Meaning: (পকেট বা ব্যাগে) কোনো কিছু থাকা।

- The phrase "have something on you" means to have something with you (usually in your pockets, bag, etc.) at that moment.
- অর্থাৎ, কারো সাথে (To have something physically with you) কোনো কিছু থাকা অর্থে এই phrase টি ব্যবহৃত হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হবে- ঘ) on.

 More Examples:
- Do you have a pen on you?
- Do you have any money on you?

আবার,
• Have (got) something on someone (Phrase):
- English Meaning: to know secret or damaging information about someone.
- Bangla Meaning: কারো সম্পর্কে গোপন বা ক্ষতিকর তথ্য জানা।
- যেমন: She threatened to go to the newspapers, but she hasn’t got anything on me.

Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. MacMillan Dictionary.

৪৯.
A synonym of the word 'incandescent' is-
  1. Impassive
  2. Luminous
  3. Somber
  4. Dark
ব্যাখ্যা

• A synonym of the word 'incandescent' is- Luminous.

• Incandescent (Adjective)
- English Meaning: producing a bright light from a heated filament or other part; characterized by glowing zeal: ardent.
- Bangla Meaning:  উত্তপ্ত হলে আলো দেয় বা দিতে পারে এমন; ভাস্বর।

• Given options:
ক) Impassive (adjective) 
- নির্বিকার; নিরাবেগ।

খ) Luminous (adjective) 
- আলোকোজ্জ্বল; উজ্জ্বল।

গ) Somber (adjective) 
- কৃষ্ণবর্ণ; অন্ধকারময়; বিষণ্ণ; নিরানন্দ; মলিন।

ঘ) Dark (adjective) 
- আঁধার; অন্ধকার।

- সুতরাং, অপশনের অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায় যে, A synonym of the word 'incandescent' is- Luminous.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

৫০.
He suggested ______ the matter to the committee.
  1. put
  2. to put
  3. putting
  4. puts
ব্যাখ্যা

• Complete sentence: He suggested putting the matter to the committee.
- Bangla meaning: তিনি বিষয়টি কমিটির কাছে উত্থাপনের পরামর্শ দেন।

- The verb "suggest" is followed by gerund (suggest + gerund → "suggested putting").
- অর্থাৎ, কোনো পরামর্শ দেওয়া অর্থে 'suggest' এর পরে verb হিসেব gerund (verb+ing) বসে।

• কিছু কিছু verb এর পরে সাধারণত gerund (verb + ing) ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: enjoy, mind, suggest, stop, delay, fancy, consider, admit, miss, involve, finish, postpone, imagine, avoid, deny, risk, practise, etc.

Source: 
1. A Text Book of Higher English Grammar by P. K. De Sarkar. 
2. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.

৫১.
Identify the correct spelling:
  1. Endaevor
  2. Endaever
  3. Endevar
  4. Endeavour
ব্যাখ্যা

• The correct spelling: ঘ) Endeavour.

• Endeavour [UK]: [US Endeavor]
- English Meaning: to seriously or continually try (to do something).
- Bangla Meaning: প্রচেষ্টা; (আনুষ্ঠানিক) প্রচেষ্টা নেওয়া।

• Ex. Sentence: He became successful in his endeavours.
- Bangla Meaning: তিনি তার প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন।

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

৫২.
Which of the following verbs is used intransitively?
  1. My mother loves me too much.
  2. He burnt with shame.
  3. Take this pen and write your number.
  4. The boys fly their kites.
ব্যাখ্যা

• The correct answer is - খ) He burnt with shame.

- এই বাক্যে 'burnt' verb টি intransitively ব্যবহৃত হয়েছে।
- কারণ, এর পরে কোনো direct object নেই।
- এই বাক্যে "with shame" হলো adverbial phrase.

• Other options:
ক) My mother loves me too much.
→ "loves" verb এর object "me" আছে, তাই এটি transitive verb.

গ) Take this pen and write your number.
→ "Take" এর object "this pen" এবং "write" এর object "your number" আছে, তাই এটি transitive verb.

ঘ) The boys fly their kites.
→ "fly" verb এর object "their kites" আছে, তাই এটি transitive verb.

• Intransitive verb: 
- যেসকল verb এর object বা কর্ম থাকে না তাকে Intransitive verb বলে।
- সাধারণত Intransitive verb এর পর adverb অথবা preposition ব্যবহৃত হয়।
- বাক্যে ব্যবহৃত Intransitive verb -কে - কি (what?) বা কাকে (whom?) দ্বারা প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। 
- উল্লেখ্য Intransitive Verb এর ক্ষেত্রে কখন( when) বা কোথায়( where) দ্বারা প্রশ্ন করতে হয়। 
- Intransitive verb যুক্ত sentence -এর সাধারণ Structure হচ্ছে: Subject + verb.
- যেমন: We should not hate but we should love.

• More Examples:
- Fariya looked upset – do you know what happened?
- Suddenly, Rasel appeared in the doorway.

অন্যদিকে,
• Transitive verb:
- বাক্যের অর্থ সম্পন্ন করতে যে verb এর object দরকার হয় তাকে transitive verb বলে৷
- Object সর্বদাই Noun অথবা Pronoun হয়।
- তাই বাক্যে verb এর পরে Noun/Pronoun থাকলে verb টি সাধারণত transitive verb হবে।
- Transitive verb যুক্ত sentence -এর সাধারণ Structure হচ্ছে: Subject + verb + object.

• Examples:
- Take this book.
- He reads a book.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. Cambridge Dictionary.

৫৩.
The indirect form of: He said to me, "I shall go, but you will stay."
  1. He said to me that he would go, but I will stay.
  2. He told me that he will go, but I should stay.
  3. He told me that he would go, but I should stay.
  4. He told me that I would go, but he would stay.
ব্যাখ্যা

- Direct: He said to me, "I shall go, but you will stay."
- Indirect: He told me that he would go, but I should stay.

• Assertive sentence -এর Direct narration থেকে Indirect narration -এ পরিবর্তন করার নিয়ম:
- প্রথমে Reporting verb -এর subject বসে।
- তারপর Reporting verb - 'said to + object' থাকলে Indirect -এ 'told + object' বসে।
- Inverted comma উঠে গিয়ে that বসে।
- তারপর Reported speech -এর 1st person (I) সবসময় Reporting verb -এর subject -এর number, person, ও gender অনুসারে পরিবর্তিত হয়। (I→ he).
- Reported speech -এর 2nd person (you) সবসময় Reporting verb -এর object -এর number, person, ও gender অনুসারে পরিবর্তিত হয়। (you→ I).
- Reporting verb past tense হওয়ায়, person অনুযায়ী shall → would, এবং will → should হবে।
- এবং বাকি অংশ বসবে।

More examples:
- Direct: He said to me, “I shall come, but you will wait.”
- Indirect: He told me that he would come, but I should wait.

Other options:
ক) He said to me that he would go, but I will stay.
- "said to" should be "told"; "will stay" wrong tense.

খ) He told me that he will go, but I should stay.
- "will go" wrong tense.

ঘ) He told me that I would go, but he would stay.
- meaning পরিবর্তন হয়ে যায়।

Source: 
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Text Book of Higher English Grammar by P. K. De Sarkar.

৫৪.
Lunch excluding drinks ____ tk 200 per person.
  1. costs
  2. cost
  3. have cost
  4. have costed
ব্যাখ্যা

• Complete sentence: Lunch excluding drinks costs tk 200 per person.

• Subject-Verb Agreement অনুযায়ী,
- With, together with, along with, as well as, in addition to, accompanied with/by, and not, including, excluding, but, except ইত্যাদি দ্বারা কোনো noun বা pronoun যুক্ত হলে, verb সর্বদা প্রথম subject (noun/ pronoun) অনুযায়ী হবে।
- অর্থাৎ, প্রথম noun/ pronoun টি singular হলে verb টি singular হবে।
- আবার প্রথম noun/ pronoun টি plural হলে  verb টি plural হবে।

- প্রদত্ত বাক্যে Subject "Lunch" হলো singular noun তাই singular verb ব্যবহৃত হবে।
- "Excluding drinks" একটি prepositional phrase, যা subject-কে modify করে কিন্তু verb-এর agreement-এ প্রভাব ফেলে না।
- আবার এটি একটি general fact বা price statement (menu/bill-এর মতো), তাই present simple tense ব্যবহার করতে হবে।
- আর Singular subject-এর জন্য third person singular verb: "costs" হয়।

অন্যদিকে,
খ) cost → plural verb, কিন্তু subject singular, (past tense -এ cost ব্যবহৃত হয়।)

গ) have cost → plural present perfect, তাই ভুল।

ঘ) have costed → "costed" ভুল form (cost-এর past/past participle হলো "cost")।

৫৫.
If someone believes in one God, he or she is a-
  1. Atheist
  2. Monotheist
  3. Pantheist
  4. Theologist
ব্যাখ্যা

• If someone believes in one God, he or she is a Monotheist.

• Monotheist (noun)
- English Meaning: someone who believes that there is only one god.
- Bangla Meaning: একেশ্বরবাদী; এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করে যে।

অন্যদিকে,
ক) Atheist (noun) 
- English Meaning: someone who does not believe in any god or gods.
- Bangla Meaning: নিরীশ্বরবাদী; নাস্তিক।

গ) Pantheist (noun) 
- English Meaning: someone who believes in many or all gods.
- Bangla Meaning: সর্বেশ্বরবাদী।

ঘ) Theologist (noun) 
- English Meaning: a person who studies or is a specialist in religion.
- Bangla Meaning: ধর্মতত্ত্ববিদ।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

৫৬.
Choose the antonym of 'apprehensive'.
  1. Vigilant
  2. Anxious 
  3. Confident
  4. Sensible
ব্যাখ্যা

• The antonym of 'apprehensive' is Confident.

• Apprehensive (Adjective):
- English Meaning: Anxious or fearful that something bad or unpleasant will happen.
- Bangla Meaning: উদ্বিগ্ন; উৎকণ্ঠিত; শঙ্কিত।

• Given options:
ক) Vigilant - সতর্ক; হুঁশিয়ার।

খ) Anxious  - উদ্বিগ্ন; চিন্তিত।

গ) Confident - আত্মবিশ্বাসী; আস্থাশীল; নিশ্চিত।

ঘ) Sensible - বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন; সুবুদ্ধিসম্পন্ন; কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন।

- সুতরাং, অপশনের অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায় যে, The antonym of 'apprehensive' is Confident.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

৫৭.
Identify the sentence where 'like' functions as a preposition-
  1. She responded in like manner.
  2. He's very like his father.
  3. She acts like she owns the place.
  4. She is very cosmopolitan in her likes and attitudes.
ব্যাখ্যা

• The correct answer is- খ) He's very like his father.

- এই বাক্যে 'like' Preposition হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- কারণ "একই রকম/মত" অর্থে 'like' শব্দটি noun / pronoun / noun phrase / gerund ইত্যাদির পূর্বে বসে বাক্যের অন্যান্য অংশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।
- এখানে 'like' noun phrase (“his father”) -এর পূর্বে বসে preposition এর কাজ করছে।

• Like (preposition)
- English Meaning: similar to somebody/something.
- Bangla Meaning: কারো মতো; ন্যায় ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশন: 
ক) She responded in like manner.
 → like [only before noun] এখানে adjective (having similar qualities to another person or thing).
- অর্থাৎ, 'manner' noun এর পূর্বে বসে এটিকে modify করছে, তাই এই বাক্যে এটি adjective.

গ) She acts like she owns the place.
→ like-এর পরে full clause (“she owns the place”).
- অর্থাৎ, (as if- যেন) অর্থে conjunction হিসেবে দুইটি clause কে যুক্ত করছে।

ঘ) She is very cosmopolitan in her likes and attitudes.
→ likes = noun (পছন্দসমূহ), possessive pronoun 'her' এর পরে likes এবং attitudes দুটোই noun.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Oxford Learners Dictionary.

৫৮.
"To have one’s hands full" means-
  1. To be in a lot of troubles
  2. To be fully occupied
  3. To lead an easy life
  4. To be rich
ব্যাখ্যা

• "To have one’s hands full" means- খ) To be fully occupied.

• Have one's hands full (idiom)
- English Meaning: to be very busy; to be so busy that you do not have time to do anything else
- Bangla Meaning: খুব ব্যস্ত থাকা; এত ব্যস্ত থাকা যে অন্য কিছু করার সময়ই নেই।

অন্যদিকে,
ক) To be in a lot of troubles
- অনেক সমস্যায়/ঝামেলায় থাকা।

গ) To lead an easy life
- সহজ জীবনযাপন।

ঘ) To be rich
- ধনী হওয়া।

Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. Merriam-Webster Dictionary.

৫৯.
Which of the following sentences is correct?
  1. I would rather you would helped me with this problem.
  2. I would rather you help me with this problem.
  3. I would rather you helped me with this problem.
  4. I would rather you didn't helped me with this problem.
ব্যাখ্যা

• Correct sentence: I would rather you helped me with this problem.
- Bangla: বরং তুমি যদি এই সমস্যায় আমাকে সাহায্য করতে।

- would rather -এর পরে different subject বসে বর্তমান/ ভবিষ্যতের কথা নির্দেশ করতে verb এর past simple form ব্যবহৃত হয়।
- প্রদত্ত বাক্যে, I would rather এরপর দ্বিতীয় subject হিসাবে you এসেছে এবং ভবিষ্যতের কথা নির্দেশ করছে তাই verb এর simple past form হবে।

Structure:
• Would rather + same subject + base form of verb.
• Would rather + different subject + past simple/ past perfect form of verb.
-----------------------
• সাধারণত Would rather/ Had better এর পরে Verb এর Present form হয়।
- যেমন
- I would rather die than let you go.
- You had better finish your homework.
- I’d rather stay at home than go out tonight.
 
• কিন্তু subject + would rather এবং এরপর যদি আরেকটি subject আসে, তাহলে verb এর past indefinite অথবা past perfect tense হয়।
• I would rather you + the simple past - is a sentence structure you can use to express your preference about what somebody does in a specific present or future event.
- যেমন -
- I’d rather you stayed at home tonight.
- I’d rather you didn’t go out tonight.

• আবার, 
•  I would rather you + the past perfect - is a sentence structure that allows you to express your preference over a situation that occurred in the past.
- Example: I would rather you hadn’t called him and told him I was late.

Source: Cambridge Dictionary.

৬০.
The passive form of: I saw him carrying a basket.
  1. He was seen carried a basket by me.
  2. He was being seen to carry a basket by me.
  3. He was seen carrying a basket by me.
  4. He had been seen carrying a basket by me.
ব্যাখ্যা

- Active: I saw him carrying a basket.
- Passive: He was seen carrying a basket by me.

• Object + present participle যুক্ত active voice কে passive voice এ পরিবর্তনের সময়-
- Object টি Subject হয়।
- Tense ও Person অনুযায়ী Auxiliary verb বসে।
- মূল verb-এর past participle বসে।
- present participle যুক্ত অংশটি বসে।
- by + Subject টির objective form বসে।

অর্থাৎ, 
- Present participle থেকে বাক্যের বাকি অংশ অপরিবর্তিত থাকে।
- এক্ষেত্রে শুধু present participle এর পূর্ববর্তী বাক্যাংশের passive form হয়ে থাকে।
- আর, By+ object যুক্ত অংশ বাক্যের শেষে বসে।

অন্যান্য অপশন,
ক) He was seen carried a basket by me.
- "Carried" ব্যবহার হয়েছে, যা past participle কিন্তু এখানে -ing form দরকার।

খ) He was being seen to carry a basket by me.
- "Being seen" + "to carry" → continuous এবং এর পরে infinitive form ভুল।

ঘ) He had been seen carrying a basket by me.
- "Had been seen" → past perfect passive, কিন্তু original sentence past indefinite.

৬১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে প্রেরিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’-এর বিষয় কী ছিল?
  1. Crisis in South Asia
  2. Human Rights in East Pakistan
  3. Dissent From U.S. Policy Toward East Pakistan
  4. U.S. Foreign Policy Review
ব্যাখ্যা

• 'ব্লাড টেলিগ্রাম'/The Blood Telegram:
- আর্চার কেন্ট ব্লাড (Archer Kent Blood) ছিলেন একজন মার্কিন কূটনীতিক, যিনি ১৯৭১ সালে ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তানের মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- ২৫ মার্চের ভয়ংকর গণহত্যার সাক্ষী ছিলেন ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কনসাল জেনারেল আরচার ব্লাড ও তার সহকর্মীরা।
- তারা মার্চ মাসজুড়ে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে ক্যাবল পাঠান, জানান এই ভয়াবহ গণহত্যার খবর।
- ব্লাড ও তার সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে তাদের নৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে ৬ এপ্রিল একটি টেলিগ্রাম করেন, যা ইতিহাসে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিত। 
- এই টেলিগ্রাম ছিল একটি প্রতিবাদ, যা এখনো আমেরিকান ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে নবীশদের পড়ানো হয়। 
- এটির শিরোনাম বা বিষয় ছিল "Dissent From U.S. Policy Toward East Pakistan" / ''পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কিত মার্কিন নীতির বিরোধিতা'' । 
- এই তারবার্তাটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমনমূলক অভিযানের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিল।
 - এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন সরকারের নৈতিক দেউলিয়াত্বের (moral bankruptcy) অভিযোগ তুলেছিল এবং পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত নৃশংসতাকে 'জেনোসাইড' বা 'গণহত্যা' হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকান অধ্যাপক গ্যারি জে বাসের  'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড' নামে একটি বই রয়েছে। 

তথ্যসূত্র:
i) Department of State, United States of America. (Link) (Link) 
ii) Daily Star. (Link) (Link) 
iii) Washington Post. (Link)
iv) Prothom Alo. (Link) 

৬২.
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা নয় কোনটি?  
  1. সরকারি সেবার মান
  2. ইউটিলিটি সেবার অপ্রতুলতা
  3. শ্রম শক্তির অপ্রতুলতা
  4. রাজনৈতিক অস্থিরতা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা নয়: শ্রম শক্তির অপ্রতুলতা। 
- বরং, বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগের  সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সস্তা ও প্রচুর শ্রমশক্তি। 


• বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা: 

- বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) হলো এমন এক ধরনের বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়িক স্বার্থে অন্য দেশে বিনিয়োগ করে। 
- বিনিয়োগ ব্যয় বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত অনেকগুলো উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনায় প্রতিযোগী দেশগুলোর থেকে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।  
- বাংলাদেশে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধির পথে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, যা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং অবকাঠামোগত কারণে উদ্ভূত।

- বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগে চারটি প্রধান বাধার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। যথা: 
১. সরকারি সেবার মান,
২. ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন) সেবার অপ্রতুলতা, 
৩. দুর্নীতি,
৪. বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর বোঝাপড়ায় ঘাটতি।

এছাড়াও,
• বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সমূহ: 
১. প্রশাসনিক লাল ফিতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থা,
২. স্বচ্ছতার অভাব,
৩. অপর্যাপ্ত অবকাঠামো,
৪. রাজনৈতিক অস্থিরতা,
৫. আইনি ও বিচারিক দুর্বলতা,
৬. জমি অধিগ্রহণ ও সম্পত্তি অধিকারের সমস্যা,
৭. কর ব্যবস্থা ও নীতিগত অস্থিরতা। 

তথ্যসূত্র: সমকাল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও সামষ্টিক অর্থনীতি, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। (Link) 

৬৩.
হাইকোর্ট কর্তৃক Quo Warranto জারি করা হয় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে?  
  1. অনুচ্ছেদ ১০৫
  2. অনুচ্ছেদ ১০৮ 
  3. অনুচ্ছেদ ১০২  
  4. অনুচ্ছেদ ১০৬  
ব্যাখ্যা

- হাইকোর্ট কর্তৃক Quo Warranto জারি করা হয় সংবিধানের ১০২(২)(খ)(আ)- অনুচ্ছেদের আলোকে। 
- কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কোনো দায়িত্বে অবৈধভাবে অধিষ্ঠিত থাকলে বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(আ)-এর অধীনে হাইকোর্ট কর্তৃক Quo Warranto জারি করা হয়।   

• Quo Warranto বা কারণ দর্শাও রিট: 
- Quo Warranto একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ "By what authority?" বা "কোন অধিকারে?"। 
- এটি একটি রিট যা সরকারি বা সর্বজনীন পদ অবৈধভাবে দখল বা দাবি করার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। 
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(আ)-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- এর মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে যে সে 'কোন আইনি অধিকার' বা warrant-এর ভিত্তিতে সেই পদ ধারণ করছে। 
- যদি অধিকার অবৈধ প্রমাণিত হয়, তাহলে আদালত তাকে পদ থেকে অপসারণ করতে পারে।
- সাধারণত নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনবিরোধী হলে এটি করা হয়। 


• সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২: সুপ্রীম কোর্ট কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা।

১০২।(১) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগের দ্বারা অর্পিত অধিকারসমূহের যে কোন একটি বলবৎ করিবার জন্য প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সহিত সম্পর্কিত কোন দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত নির্দেশাবলী বা আদেশাবলী দান করিতে পারিবেন।

 (২) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফলপ্রদ বিধান করা হয় নাই, তাহা হইলে
(ক) যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে-
(অ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য কিংবা আইনের দ্বারা তাঁহার করণীয় কার্য করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা

(আ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হইয়াছে বা গৃহীত হইয়াছে ও তাঁহার কোন আইনগত কার্যকরতা নাই বলিয়া ঘোষণা করিয়া  উক্ত বিভাগ আদেশদান করিতে পারিবেন; অথবা

 (খ) যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে-

 (অ) আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে কোন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা হয় নাই বলিয়া যাহাতে উক্ত বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইতে পারে, সেইজন্য প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা

(আ) কোন সরকারি পদে আসীন বা আসীন বলিয়া বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন্ কর্তৃত্ববলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠানের দাবী করিতেছেন, তাহা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশদান করিতে পারিবেন।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ১০৫: আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা।
- অনুচ্ছেদ ১০৬: সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০৮: কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের সংবিধান। 
ii) JURISDICTION OF WRITS AND IT'S EXECUTION IN BANGLADESH. (Link) 
iii) Bangladesh Legal Research Platform (Link) 

৬৪.
বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশের কোন গার্মেন্টস? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]
  1. ওরিয়েন্ট গার্মেন্টস লিমিটেড
  2. হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড
  3. গ্রিনলিফ গার্মেন্টস লিমিটেড
  4. ফেয়ারটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেড
ব্যাখ্যা

• বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানা: 
- বাংলাদেশের গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
- হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) লিড প্লাটিনাম সনদে ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর পেয়েছে। 
- এটি বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর।
- হ্যামস গার্মেন্টস হা-মিম গ্রুপের অংশ, যা বাংলাদেশের অন্যতম বড় গার্মেন্টস রপ্তানিকারক।
- বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম ও ১৩৯টি গোল্ড মানের।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত।   [ব্যাখ্যা আপডেট - ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]

তথ্যসূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলো। (Link) 

৬৫.
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত জেবুন নেসা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা 
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. টঙ্গী
  4. সাভার
ব্যাখ্যা

• জেবুন নেসা মসজিদ: 
- সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ার দরগার পাড় এলাকায় অবস্থিত জেবুন নেসা মসজিদ।
- এটি নকশা করেছেন স্থপতি সায়কা ইকবাল।
- ২০২৩ সালে স্টুডিও মরফোজেনেসিস-এর মাধ্যমে নির্মিত মসজিদটি ৬০৬০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃৃত।
- মসজিদটি মূলত আইডিএস গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মীর নামাজের জন্য বানানো।
- তবে অন্যরাও সেখানে নামাজ পড়তে পারেন।
- জেবুন নেসা মসজিদে নারী-পুরুষ উভয়েরই প্রবেশাধিকার আছে।
- নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আছে আলাদা স্থান।

উল্লেখ্য,
- টাইম ম্যাগাজিনের ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট প্লেসেস অব ২০২৫’– এ স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের জেবুন নেসা মসজিদ। 
- ২০১৮ সাল থেকে টাইম ম্যাগাজিন প্রতিবছর বিশ্বের ১০০টি স্থাপনাকে ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট প্লেসেস’ হিসেবে ঘোষণা করছে।
- প্রথমবারের মতো এই বছর কোনো বাংলাদেশি স্থাপনা তালিকায় স্থান পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৬৬.
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, কোনো আসনে নির্ধারিত কত শতাংশ ভোট না পড়লে সংশ্লিষ্ট আসনে পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে?  
  1. ৩৫ শতাংশ
  2. ৪০ শতাংশ
  3. ৪৫ শতাংশ
  4. ৪৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন:
- গঠন:  ৩ অক্টোবর; ২০২৪ সাল। 
- প্রধান: ড. বদিউল আলম মজুমদার

• প্রধান সুপারিশসমূহ:  
১) নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গঠন:
- নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন (রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত)
- কমিশনের আর্থিক, প্রশাসনিক ও কর্মী নিয়োগের স্বাধীনতা নিশ্চিত।
- রিটার্নিং অফিসার হিসেবে জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ।

২) ভোটার তালিকা ও যাচাই:
- সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও বায়োমেট্রিক-ভিত্তিক ভোটার তালিকা।
- নিয়মিত আপডেট, মৃত বা ভুয়া ভোটার অপসারণ।
- ভোটার যাচাইয়ে কঠোর ব্যবস্থা।

৩) নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা:
- 'না' ভোট (No Vote) বিধান পুনঃপ্রবর্তন।
- কোনো আসনে ৪০% ভোট না পড়লে নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচন।
- প্রার্থীদের হলফনামা, সম্পদ বিবরণী ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক

৪) তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

৫) প্রবাসী পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা। 


 তথ্যসূত্র: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও বিবিসি। 

৬৭.
প্রাচীন ‘সমতট’ অঞ্চলটি বর্তমান বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বরিশাল
  2. নোয়াখালী 
  3. চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

• সমতট : 
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি প্রাচীন জনপদ।
- সমতট নামটি বর্ণনামূলক, অর্থ “তটের সমান্তরাল”।
- চতুর্থ শতকে সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে সমতটের উল্লেখ আছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে হিউয়েন সাঙ সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙের বর্ণনা অনুযায়ী, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট হিসেবে পরিচিত ছিল।
- এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী লালমাই এলাকা।
- প্রাচীন সমতট অন্তর্ভুক্ত ছিল ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চল।

অন্যদিকে,
- বঙ্গ জনপদ: বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮.
কৃষিভিত্তিক রপ্তানি বহুমুখীকরণে বাংলাদেশের জন্য কোন পণ্যটি সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে? 
  1. পাটজাত দ্রব্য
  2. চামড়াজাত পণ্য
  3. প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য
  4. চা রপ্তানি 
ব্যাখ্যা

• রপ্তানি বহুমুখীকরণে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য: 
- প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য বলতে মূলত কাঁচা কৃষিজাত পণ্যকে (যেমন: ফল, সবজি, মশলা, মাছ, মাংস ইত্যাদি) প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী, মূল্যবৃদ্ধিকর এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যে রূপান্তরিত করা বোঝায়।
- বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে কৃষি খাতে অসাধারণ অগ্রগতি করেছে।
- দেশের উর্বর ভূমি, অনুকূল জলবায়ু এবং সরকারের যথাযথ নীতি সহায়তার কারণে কৃষি-ব্যবসায় বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমানের কৃষিপণ্যের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানি আয় বাড়ানোর বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে।
- ৪ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের গ্লোবাল কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ বাজারের একটি অংশও খুলে দিলেও আমাদের রপ্তানিকে বৈচিত্র্যময় করবে এবং হাজার হাজার গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
- কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখছে।
- স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা এবং নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা রাখে।
- এটি বিদেশি মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের স্থানীয় বাজারের আকার প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
- বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ১৪৫টি দেশে ১৭২ ধরনের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি করে। 
- এর মধ্যে ১০৬টি দেশে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়। 
- এ খাতের প্রধান পাঁচ রপ্তানি পণ্যের বাজার হলো: 
১. সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)
২. সৌদি আরব
৩. ভারত
৪. যুক্তরাজ্য
৫. যুক্তরাষ্ট্র

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ পাটজাত দ্রব্য ও চামড়াজাত পণ্য  বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। 
- চা উৎপাদনে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও রপ্তানিতে অবস্থান অনেক নিচে, কারণ অধিকাংশ উৎপাদন দেশীয় বাজারে খরচ হয়।

তথ্যসূত্র: 
i) The Financial Express. (Link)
ii) The Business Standard. (Link)
iii) Bangladesh Investment Development Authority. (Link) 
iv) প্রথম আলো। (Link)

৬৯.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট সংসদ সদস্যদের মধ্যে নারী সদস্য কত শতাংশ? 
  1. ৭ শতাংশ
  2. ১৩ শতাংশ
  3. ১৬ শতাংশ
  4. ১৯ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ নারী প্রার্থী: 
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে মোট ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি সিট রয়েছে — যার মধ্যে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
- এবার নির্বাচনে ৭ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ছয়জনই বিএনপির। একজন স্বতন্ত্র। 
- সে হিসাবে সংসদে মোট নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা হবে ৫৭।
- অর্থাৎ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব হবে ১৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, 
- এবার ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন।
-  যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৪ শতাংশ।
- এবার নারীর তুলনায় পুরুষেরা মনোনয়ন পেয়েছেন ২২ গুণ বেশি।
- মনোনয়নের তুলনায় জয় পেয়েছেন ৮ শতাংশের বেশি নারী।
-  পুরুষেরা যত মনোনয়ন পেয়েছেন, তার তুলনায় জয় পেয়েছেন ১৫ শতাংশ। 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link) (Link) 

৭০.
'বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স' কোথায় অবস্থিত? 
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. ময়মনসিংহ
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

• দেশের প্রথম অলিম্পিক কমপ্লেক্সে:
- দেশের প্রথম অলিম্পিক কমপ্লেক্স 'বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স' একটি মেগা প্রকল্প, যা ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলায় নির্মাণাধীন। 
-  ১৭৩.৫৯ একর জায়গা নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স।
- ত্রিশাল মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়াতে হতে যাচ্ছে এই কমপ্লেক্স।
- পুরো জায়গাটিই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর।  
- প্রাথমিক নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে মোট ৩৩টি খেলার অবকাঠামো তৈরি হবে। 
- বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
- 'বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স' এর ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
- এটি দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টি-স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যতে 'অলিম্পিক ভিলেজ' হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠ। (Link)

৭১.
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বাধিক ব্যবহার কোন খাতে হয়?  [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন
  2. গৃহস্থালি
  3. শিল্প
  4. সার উৎপাদন
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার:
-  বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে।

- জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহারের কয়েকটি খাত হচ্ছে –
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার: ৩৭২.৩ বিলিয়ন ঘনফুট (৪১.০০%),
- শিল্পখাতে ব্যবহার: ১৭০.৪ বিলিয়ন ঘনফুট (১৯.০০%),
- ক্যাপটিভ: ১৪৯.৮ বিলিয়ন ঘনফুট (১৭%),
- গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার: ৯৭.৮ বিলিয়ন ঘনফুট। (১১.০০%)।

উল্লেখ্য,
- পেট্রোবাংলার তথ্যমতে দেশে গ্যাসক্ষেত্র ২৯টি।
- উত্তোলনরত ২০টি, উৎপাদনে যায়নি ৪টি, এবং উৎপাদন স্থগিত রয়েছে ৫টি।
- উত্তোলনযোগ্য, প্রমাণিত ও সম্ভাব্য (2P) গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা।
- প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস।

তথ্যসূত্র:  i) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।
ii) প্রথম আলো।

৭২.
সম্প্রতি, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সঙ্গে কোন ধরনের বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে? 
  1. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
  2. অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি
  3. অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি
  4. শুল্ক সহযোগিতা চুক্তি
ব্যাখ্যা

• অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (Economic Partnership Agreement - EPA): 
- বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে এই প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (Economic Partnership Agreement - EPA) স্বাক্ষরিত হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে টোকিওতে।
- এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি।
- ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) ছাড়া আর কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় কোনো অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যচুক্তি নেই।
- চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা তৈরি পোশাকসহ প্রায় ৭,৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবেন, যা মোট রপ্তানি পণ্যের ৯৭ শতাংশ।
- বিনিময়ে জাপান বাংলাদেশের বাজারে ১,০৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
- তবে টয়োটা, হোন্ডা ও সুবারুর মতো গাড়ি ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশ এশিয়ার অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি পণ্য জাপানে রপ্তানি করে।
- বর্তমানে সেখানে বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার, যার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক।
- অন্যদিকে জাপান থেকে আমদানির পরিমাণ ১ দশমিক ৮ থেকে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।

• একনজরে জাপানের সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি: 
- চুক্তির নাম: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি/ Economic Partnership Agreement - EPA
- বাংলাদেশের পক্ষে: বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ।
- জাপানের পক্ষে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও।
- স্থান: জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, টোকিও।
- বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা: ৭,৩৭৯টি পণ্যে। 
- জাপানের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা: ১,০৩৯টি পণ্যে। (পর্যায়ক্রমে)

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো। (Link) 

৭৩.
বাংলা ভাষাকে দেশের সর্বস্তরে ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইন পাশ করা হয় কোন সালে? 
  1. ১৯৭৩ সালে 
  2. ১৯৮০ সালে 
  3. ১৯৮৭ সালে 
  4. ১৯৯০ সালে 
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাশ: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা'।
বাংলাদেশে বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে (সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনানুগ কার্যক্রম ইত্যাদি) ব্যবহারের জন্য "বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭" পাস করা হয়েছে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ।
- এই আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এ আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সোয়াল- জওয়াব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হবে।
- ' ৩(২) ধারায় আরও বলা হয়েছে, উল্লেখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।'
- ধারা ৩ ( বলছে, ‘যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং প্রথম আলো ।

৭৪.
নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৫ সালে বেগম রোকেয়া পদক কে পেয়েছেন? 
  1.  ড. শিরীন আখতার
  2. ড. নীলা চৌধুরী
  3. ড. রুভানা রাকিব
  4. ড. ফারজানা ইসলাম
ব্যাখ্যা

- নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৫ সালে বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন-    ড. রুভানা রাকিব। 

• বেগম রোকেয়া পদক ২০২৫:
-  ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে রোকেয়া দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারজনের হাতে রোকেয়া পদক তুলে দেওয়া হয়। 
পদক প্রাপ্তরা হলেন-
- নারীশিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) - রুভানা রাকিব, 
- নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) - কল্পনা আক্তার, 
- মানবাধিকার শ্রেণিতে - নাবিলা ইদ্রিস, 
- নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) - ঋতুপর্ণা চাকমা।

তথ্যসূত্র: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

৭৫.
বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৭১ সালে 
  2. ১৯৭২ সালে 
  3. ১৯৭৫ সালে 
  4. ১৯৮০ সালে 
ব্যাখ্যা

-  বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে প্রথম রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার গঠিত হয়।

• বাংলাদেশের প্রথম  রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রথম মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।
- শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
- শেখ মুজিবর রহমান পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার কারণে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁরা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। 
- পরবর্তীতে, ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সংবিধান আদেশের দ্বারা রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। 

উল্লেখ্য, 
-  রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান। 
- রাষ্ট্রপতিই প্রকৃত শাসক এবং আইনগত দিক থেকে তিনি প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৭৬.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোন ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা সর্বাধিক? 
  1. বৌদ্ধ
  2. হিন্দু
  3. খ্রিষ্টান
  4. ইসলাম
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ধর্ম: 
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী সবচেয়ে বেশি।

- ২০২২ সালের জনশুমারি অনুসারে, দেশের মোট বৌদ্ধ জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ (০.৬১%), যার অধিকাংশই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- খ্রিস্টান ধর্মানুসারী প্রায় ৪ লাখ (০.৩০%), এবং হিন্দু ধর্মানুসারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে কম, কারণ হিন্দু জনসংখ্যা (৭.৯৫%) মূলত বাঙালি সম্প্রদায় থেকে আসে।

» তুলনামূলক অন্যান্য ধর্ম:
• খ্রিস্টান: 
- বাংলাদেশে মোট খ্রিস্টান ধর্মানুসারী প্রায় ৪ লাখ (০.৩০%)।  যার অধিকাংশই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত। 
- এদের মধ্যে গারো (প্রধানত খ্রিস্টান), সাঁওতালের একটি অংশ, ওরাওঁ, খাসিয়া, লুসাই, বম ইত্যাদি অন্যতম।
- এদের সংখ্যা বৌদ্ধদের তুলনায় কম।
• হিন্দু: 
- বাংলাদেশে মোট হিন্দু ধর্মানুসারী প্রায় ১৩ মিলিয়ন (৭.৯৫% )।
- কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে হিন্দু অনুসারী কম (যেমন ত্রিপুরা, সাঁওতালের একটি অংশ, মণিপুরী)।
- এর মূল কারণ মোট হিন্দু জনসংখ্যার অধিকাংশ বাঙালি হিন্দু।

• অন্যান্য: 
- কিছু গোষ্ঠী (যেমন ম্রো, কিছু খুমিঐতিহ্যবাহী প্রকৃতি-উপাসনা করে।

তথ্যসূত্র: 
i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) US State Department. (Link)
iii) IWGIA - International Work Group for Indigenous Affairs. (Link) 

৭৭.
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট কয়টি কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬] 
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• কৃষি শুমারি/ Agriculture Census:
বাংলাদেশে কৃষি শুমারি হলো দেশের কৃষি খাতের (শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, বন ও পরিবেশ সহ) বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংগ্রহের জাতীয় প্রক্রিয়া।
- স্বাধীন বাংলাদেশে মোট কৃষিশুমারি হয় ৫টি।  
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- তার আগে বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্ব প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ট্যাবলেট ব্যবহার করে) তথ্য সংগ্রহ, যা সময় কমিয়েছে এবং নির্ভুলতা বাড়িয়েছে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
-  ২০০৮ সালে সমগ্র দেশে শহর ও পল্লি এলাকায় সকল সাধারণ খানায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ৪র্থ কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়। 
- এটিই দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষি শুমারি।

তথ্যসূত্র:
i) বিবিএস ওয়েবসাইট।
ii) কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৭৮.
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে গৃহীত হয়?   
  1. অনুচ্ছেদ ১৪
  2. অনুচ্ছেদ ১৫
  3. অনুচ্ছেদ ১৬
  4. অনুচ্ছেদ ১৯ 
ব্যাখ্যা

• সংবিধানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: 
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি  সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ঘ)  এর আলোকে গৃহীত ও বাস্তবায়ন হয়। 
- এই অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) নিশ্চিত করবে। 
- অনুচ্ছেদটি সামাজিক নিরাপত্তাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ইত্যাদি) চালু ও সম্প্রসারণের ভিত্তি প্রদান করেছে।
- 'জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল' এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সকল কার্যক্রম এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

• অনুচ্ছেদ ১৫: রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:

(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
(খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷


অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ১৪ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি। 
- অনুচ্ছেদ ১৬ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব। 
- অনুচ্ছেদ ১৯ : সুযোগের সমতা। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

৭৯.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ধানমন্ডি
  2. শাহবাগ
  3. শেরে বাংলা নগর
  4. আগারগাঁও 
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর/ July Memorial Museum:  
- অবস্থান: শেরে বাংলা নগর, ঢাকা। 
- ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গণভবন জনতার দখলে চলে যায়।
- এরপর সরকারি বাসভবন 'গণভবন' -কে রূপান্তর করে তৈরি করা হয়েছে।
- এটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের সংগ্রাম, দলিল-দস্তাবেজ এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

- ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এটির নির্মাণকাজ চলে।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর মাধ্যমে এটিকে আইনগত ভিত্তি প্রদান করে। 

উল্লেখ্য, 
- জাদুঘরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো সেখানে সংরক্ষিত একটি রেড টেলিফোন, যেখানে শেখ হাসিনার ফোনালাপের অডিও রেকর্ড রাখা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: 
i) ডেইলি স্টার। 
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। 
iiii) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
iv) প্রথম আলো। 

৮০.
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত 'বয়স্ক ভাতা' জনপ্রতি কত টাকা? 
  1. ৫৫০ টাকা
  2. ৬০০ টাকা
  3. ৬৫০ টাকা
  4. ৭০০ টাকা
ব্যাখ্যা

• 'বয়স্ক ভাতা' কর্মসূচি:
- 'বয়স্ক ভাতা' বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ, দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম বা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছে।
- এর মূল লক্ষ্য হলো বয়স্কদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবার ও সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা, চিকিৎসা ও পুষ্টির সুবিধা বাড়ানো এবং মনোবল জোরদার করা।
- দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ও পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে 'বয়স্কভাতা' কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়।
- পরবর্তীতে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশনকে এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপকারভোগী ৬১ লক্ষ জন, জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা এবং বাজেট ৪৭৯১.৩১ কোটি টাকা।
- এটি আগের অর্থবছরের ৬০০ টাকা থেকে বাড়ানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র:
i) সমাজসেবা অধিদপ্তর। 
ii) বাসস। 
iii) প্রথম আলো। 

৮১.
আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, জোটগত নির্বাচনে একজন প্রার্থী কোন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে?
  1. জোটের সাধারণ প্রতীক 
  2. নিজ দলের প্রতীক
  3. স্বতন্ত্র প্রতীক
  4. যেকোনো প্রতীক 
ব্যাখ্যা

• গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর গেজেট জারি করেছে সরকার।
- এতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করাসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
- নভেম্বর ৪, ২০২৫ তারিখে আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে।
- ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।


• মূল সংশোধনীসমূহ:
- জোটগত নির্বাচনে প্রতীক: নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হলেও প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। জোটের কমন প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ সীমিত/বাতিল।
- ‘না ভোট’ পুনরায় চালু: একক প্রার্থীর আসনে ভোটাররা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন, যাতে অবাধ/অপ্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন এড়ানো যায়।
- আদালত কর্তৃক ঘোষিত পলাতক বা ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবেন না।
- সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান, কোস্ট গার্ড) কে নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হয়েছে।
- সমান ভোটের ক্ষেত্রে: লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- নির্বাচনী জামানত: ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 
- আচরণবিধি লঙ্ঘন: সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অপব্যবহার (যেমন ফেক নিউজ/ডিপফেক)-কে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য; প্রার্থীর আয়-সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশ বাধ্যতামূলক; ইভিএম ব্যবহার বাতিল; প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের বিধান (পরবর্তী সংশোধনীতে আরও স্পষ্ট)।


তথ্যসূত্র: i) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।  

৮২.
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী কে? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]
  1. তাইজুল ইসলাম
  2. সাকিব আল হাসান 
  3. মুস্তাফিজুর রহমান
  4. তাসকিন আহমেদ 
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী: 
- আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হলেন মুস্তাফিজুর রাহমান।
- সাকিব আল হাসানকে সরিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েছেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। 
- ১১৮ ম্যাচে মুস্তাফিজের শিকার এখন ১৫০ উইকেট। ১২৯ ম্যাচে সাকিব নিয়েছেন ১৪৯ উইকেট।
- বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি বিশ্বের চতুর্থ বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ উইকেট পূর্ণ করেছেন মুস্তাফিজ। 

• আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শীর্ষ ১০ উইকেট শিকারীদের তালিকা: 
১. রশিদ খান (AFG) → ১৮৮ উইকেট
২. টিম সাউদি (NZ) → ১৬৪ উইকেট
৩. ইশ সোধি (NZ) → ১৬২ উইকেট
৪. মুস্তাফিজুর রাহমান (BAN) → ১৫৮ উইকেট         [ব্যাখ্যা আপডেট - ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]
৫. আদিল রশিদ (ENG) → ১৩৫ উইকেট
৬. ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (SL) → ১৩১ উইকেট
৭. সাকিব আল হাসান (BAN) → ১৪৯ উইকেট
৮. অ্যাডাম জাম্পা (AUS) → ১৩০ উইকেট
৯. মিচেল স্যান্টনার (NZ) → ১১৭ উইকেট
১০. ক্রিস জর্ডান (ENG) → ১০৬ উইকেট

তথ্যসূত্র: 
i) ESPNcricinfo. (Link) 
ii) HOWSTAT. (Link) 
iii) BSS. (Link) 

৮৩.
উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন কে?
  1. আলাউদ্দিন খিলজি
  2. শাহ সুজা 
  3. শেরশাহ
  4. মীর জুমলা 
ব্যাখ্যা

• শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
-  তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ। 
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ডাক ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তিনি ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন। 
- গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা স্থাপন করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮৪.
অলিম্পিক গেমসে স্থান পাওয়া ‘স্টেপস’ নামের ভাস্কর্যটি নির্মান করেন কে? 
  1. নভেরা আহমেদ
  2. হামিদুর রহমান খান
  3. হামিদুজ্জামান খান
  4. রশিদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ‘স্টেপস’ ভাস্কর্য: 
- ‘স্টেপস’ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন হামিদুজ্জামান খান। 
- এর থিম হলো স্বাধীনতা ও অগ্রগতির ধাপ / steps to freedom and progress।
- ভাস্কর্যটি ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে Olympic Sculpture Park-এ স্থাপিত হয়েছে, যা ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।

• হামিদুজ্জামান খান: 
- হামিদুজ্জামান খান বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎদের একজন। 
- তিনি ১৯৮১ সালে বঙ্গভবনে 'পাখি পরিবার',
- ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমিতে 'মুক্তিযোদ্ধা',
- ১৯৮৮ সালে আশুগঞ্জ জিয়া সারকারখানায় 'জাগ্রত বাংলা'এবং
- ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল অলিম্পিক পার্কে 'স্টেপস' (সিঁড়ি) নির্মাণ করেন। 
- ২০০৬ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। 
- ২০২৫ সালের ২০ জুলাই মারা যান।
 
তথ্যসূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলো।  

৮৫.
কত তম কপ সম্মেলনে 'Loss and Damage Fund' গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়?
  1. ১৫তম
  2. ১৭তম
  3. ২১তম
  4. ২৭তম
ব্যাখ্যা

• Loss and Damage Fund:
- ২০২২ সালে মিশরে অনুষ্ঠিত কপ-২৭ সম্মেলনে 'Loss and Damage Fund গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
- পরবর্তীতে ২০২৩ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ সম্মেলনে এই তহবিলের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষতি হয়, তার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

⇒ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্বের উন্নত দেশগুলো।
- ২০০৯ সালে উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
- শেষ পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত তহবিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০২২ সালে মিশরের শার্ম এল-শেখ-এ অনুষ্ঠিত কপ-২৭ শীর্ষ সম্মেলনে একটি চুক্তি হয়।
- আর এটিই হচ্ছে Loss and Damage Fund (লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল)।
- Loss and Damage Fund-এর লক্ষ্য: উন্নয়নশীল ও দুর্বল দেশগুলোকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৮৬.
ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগের প্রধান কারণ কী?
  1.  রাশিয়ার বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করে
  2. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য ক্ষতিকর
  3. নিরাপত্তা হুমকি এবং প্রভাব বলয় হারানোর ভয়
  4. রাশিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস
ব্যাখ্যা

ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগের প্রধান কারণসমূহ:
- নিরাপত্তা ঝুঁকি: রাশিয়ার সীমান্তে ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো এবং বাহিনী মোতায়েনকে মস্কো তাদের কৌশলগত গভীরতা (Strategic Depth) এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখে।
- প্রভাববলয় রক্ষা: সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পশ্চিমা প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়াকে রাশিয়া তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর বড় আঘাত মনে করে।
- প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন: রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমারা ন্যাটো সম্প্রসারণ না করার যে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার লঙ্ঘন।
- ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: পূর্ব ইউরোপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করে।

উৎস:
i)সমকাল পত্রিকা Link
ii)The Eastern Perspective: Russia Towards NATO Enlargement. A Case Study of 1999 and 2004 NATO Enlargements

৮৭.
'IPEF' (Indo-Pacific Economic Framework)-এর যাত্রা শুরু হয় কত সালে?
  1. ২০১৯ সালে
  2. ২০২০ সালে
  3. ২০২১ সালে
  4. ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা

• মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২২ সালের মে মাসে জাপানের টোকিওতে এক সম্মেলনের মাধ্যমে এই ফ্রেমওয়ার্কের সূচনা করেন।

IPEF:
IPEF এর পূর্ণরুপ Indo-Pacific Economic Framework.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এশিয়া নীতির অংশ হিসাবে ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্কে ১৪টি দেশ যোগদান করে। এ অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী প্রভাবের পালটা হিসাবে নতুন এই বাণিজ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য বাইডেনের এ উদ্যোগ থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছে। 
আইপিইএফে যে ১৪টি দেশ প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সেগুলো হলো :

- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, 
- ভারত, 
- জাপান, 
- দক্ষিণ কোরিয়া, 
- অস্ট্রেলিয়া, 
- ব্রুনাই, 
- ইন্দোনেশিয়া, 
- মালয়েশিয়া, 
- নিউজিল্যান্ড, 
- ফিলিপাইন, 
- সিঙ্গাপুর, 
- থাইল্যান্ড ,
- ভিয়েতনাম, 
- ফিজি ।
 
উৎস: যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট।

৮৮.
'ডমিনো তত্ত্ব' এর মূল ধারণাটি কী ছিল?
  1. একটি দেশে গণতন্ত্র আসলে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও গণতন্ত্র আসবে।
  2. একটি দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে অন্য দেশেও তা ছড়িয়ে পড়বে।
  3. একটি দেশে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠিত হলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও ধারাবাহিকভাবে কমিউনিজমের অধীনে চলে যাবে।
  4. পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো কখনো একে অপরের সাথে যুদ্ধে জড়াবে না।
ব্যাখ্যা

 • ডমিনো তত্ত্ব (Domino Theory):
- ডমিনো তত্ত্ব-এর মূল কথা হচ্ছে কোনো একটি দেশে যদি সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তার পাশের এবং আশেপাশের দেশগুলোও এই মতাদেশে উদ্বুদ্ধ হবে এবং এক সময় রাষ্ট্রগুলো সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।
- তবে প্রেসিডেন আইসেনহাওয়ার এর ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো পরোক্ষভাবে ডমিনো তত্ত্ব-এর কথা বলেছিলেন।
- মূল বিষয় ছিল কোনো অবস্থাতেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যত্র সমাজতন্ত্রের প্রসারকে এগিয়ে নিজে যেতে দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে সেইসব দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ কর হবে।

উৎস: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।

৮৯.
'সফট পাওয়ার' (Soft Power) শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেছিলেন?
  1.  হ্যান্স মরগ্যানথো
  2. জোসেফ নাই
  3. স্যামুয়েল হান্টিংটন
  4. ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা
ব্যাখ্যা

• সফট পাওয়ার (Soft Power):
- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ নাই ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে এই ধারণাটি প্রবর্তন করেন।
তার মতে, একটি দেশ অন্য কোনো দেশকে সামরিক শক্তি (Hard Power) বা ভয় দেখিয়ে নয়, বরং সংস্কৃতি, রাজনৈতিক আদর্শ এবং পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার যে ক্ষমতা রাখে, তাকেই 'সফট পাওয়ার' বলা হয়।

উদাহরণ: হলিউড সিনেমা, গুগল-ফেসবুকের মতো টেকনোলজি, উচ্চশিক্ষা (যেমন হার্ভার্ড বা অক্সফোর্ড), এমনকি জাপানিজ অ্যানিমে বা কোরিয়ান কে-পপ (K-pop) হলো সফট পাওয়ারের চমৎকার উদাহরণ। এগুলো সারা বিশ্বের মানুষকে ওই দেশগুলোর প্রতি ইতিবাচক করে তোলে।

অন্যদিকে,
হার্ড পাওয়ার (Hard Power):
- এটি হলো শক্তির প্রাচীন ও চিরাচরিত রূপ। যখন একটি দেশ অন্য দেশকে কোনো কাজ করতে বাধ্য করে, তখন তাকে হার্ড পাওয়ার বলে। এর মূল হাতিয়ার দুটি:
- সামরিক শক্তি (Carrot and Stick): যুদ্ধ, হামলার হুমকি বা সামরিক জোট।
- অর্থনৈতিক চাপ: অর্থনৈতিক অবরোধ (Sanctions) বা বাণিজ্যে বাধা দেওয়া।

- উদাহরণ: ১৯৯১ সালে কুয়েত থেকে ইরাকি সৈন্য সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বা বর্তমানে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
 
স্মার্ট পাওয়ার (Smart Power):
- এটি একটি আধুনিক কৌশল। জোসেফ নাই-এর মতে, শুধু হার্ড পাওয়ার দিয়ে বর্তমান বিশ্বে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। তাই হার্ড পাওয়ার এবং সফট পাওয়ারের নিখুঁত সমন্বয়কে বলা হয় 'স্মার্ট পাওয়ার'।
অর্থাৎ যেখানে সামরিক শক্তি প্রয়োজন সেখানে তা ব্যবহার করা, আবার যেখানে কূটনীতি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কাজ হাসিল সম্ভব সেখানে তা প্রয়োগ করা।
 
উৎস:
i) Soft power: the origins and political progress of a concept লিংক।
ii) The Future of Power by JOSEPH S. NYE।
iii) ব্রিটানিকা।

৯০.
'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' (World Economic Outlook) প্রতিবেদনটি কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. আইএমএফ
  3. জাতিসংঘ
  4. ডব্লিউটিও
ব্যাখ্যা

 • IMF:
- IMF এর পূর্ণরূপ The International Monetary Fund.
- IMF গঠনের সিদ্ধান্ত: ১৯৪৪ সালের ৪ জুলাই Bretton Woods Conference এর মাধ্যমে IMF গঠিত হয়।
- আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সাল।
- কার্যক্রম শুরু: মার্চ, ১৯৪৭ সাল।
- সদর দপ্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১৯১টি।(ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- সর্বশেষ সদস্য: লিনচেইনস্টাইন।ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক: ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)

• IMF পর্যবেক্ষণ থেকে বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে।
- World Economic Outlook,
- Global Financial Stability Report,
- Fiscal Monitor ইত্যাদি।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।

৯১.
অলিম্পিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পদক বিজয়ী ক্রীড়াবিদ কে?
  1. উসাইন বোল্ট
  2. মাইকেল ফেলপস
  3. ল্যারিসা লাতিনিনা
  4. সেরেনা উইলিয়ামস
ব্যাখ্যা

মাইকেল ফেলপস:
- অলিম্পিকের কথা বলতে গেলে , একজন ক্রীড়াবিদই সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন।
- আমেরিকান সাঁতারু মাইকেল ফেলপস সর্বকালের সবচেয়ে সেরা অলিম্পিয়ান, যার ২৮টি পদক রয়েছে, যার মধ্যে ২৩টি স্বর্ণ।
- তিনিই প্রথম ক্রীড়াবিদ যিনি এক অলিম্পিকে ৮টি স্বর্ণপদক জিতেছেন।

উল্লেখ্য,
- ক্যারিয়ার পদকের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সোভিয়েত জিমন্যাস্ট লারিসা ল্যাটিনিনা , যিনি ১৮টি পদক জয়ী।
- এরপর আছেন নরওয়ের মেরিট বিয়োর্গেন ।
- বিভিন্ন ক্রস-কান্ট্রি স্কিইং ইভেন্টে ১৫টি পদক জয়ী, তিনি সবচেয়ে সফল শীতকালীন অলিম্পিয়ান।

 আধুনিক অলিম্পিক গেমস: 
- অলিম্পিক গেমস হলো একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
- যেখানে গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা বিভিন্ন ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ করেন।
- দুই শতাধিক দেশের অংশগ্রহণে মুখরিত এই অলিম্পিক গেমস।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ সম্মানজনক প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
- অলিম্পিক গেমস প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়।
- গ্রীষ্ম এবং শীতকালীন দুটো প্রকরণ, প্রতিটি দুই বছর পরপর হয়ে থাকে।
- প্রথম আধুনিক অলিম্পিকের আসর বসে ১৮৯৬ সালে।
- সে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন ১৪টি দেশের ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ।
- তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাথলেটিকস, জিমন্যাস্টিকস, ভারোত্তোলন আর রেসলিংয়ের বিভিন্ন ইভেন্টে।
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের প্রথম এ আসরের ভেন্যু ছিল গ্রিসের রাজধানী অ্যাথেন্সের প্যানাথেনিক স্টেডিয়াম।
- বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে লস অ্যাাঞ্জেলস,যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ তম অলিম্পিকে প্রথম অংশগ্রহন করে।

উৎস: অলিম্পিক গেমস অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৯২.
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর তালিবান কত সালে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়?
  1. সেপ্টেম্বর, ২০২০
  2. আগস্ট, ২০২১
  3. জুলাই, ২০২২
  4. জানুয়ারি, ২০২৩
ব্যাখ্যা

• তালিবান কর্তৃক  আফগানিস্তান পুনর্দখল:
- ১৪ এপ্রিল, ২০২১ (সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা):

- মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা করেন যে, ১ মে থেকে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হবে এবং ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।
- ১৫ আগস্ট, ২০২১ (কাবুলের পতন):
- তালিবান যোদ্ধারা কাবুলে প্রবেশ করে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশত্যাগ করেন এবং সরকারি বাহিনীর পতনের মাধ্যমে তালিবান পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়।
- ৩০ আগস্ট, ২০২১ (চূড়ান্ত প্রস্থান):
- দিবাগত রাতে শেষ মার্কিন সামরিক বিমানটি কাবুল ত্যাগ করে। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ (তত্ত্বাবধায়ক সরকার):
- তালিবান তাদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বিবিসি।

৯৩.
কততম কপ সম্মেলনে কিয়োটো প্রোটোকল গৃহীত হয়?
  1. COP- 01
  2. COP- 03
  3. COP- 10
  4. COP- 15
ব্যাখ্যা

• কিয়োটো প্রোটোকল:
- কিয়োটো প্রোটোকল একটি বহুরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত।
- এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলিকে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য দায়বদ্ধ করে।
- ১৯৯৭ সালের ১১ই ডিসেম্বর কপ-৩ সম্মেলনে জাপানের কিয়োটো শহরে এই চুক্তি প্রথম গৃহীত হয়।
- ২০০৫ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি কার্যকরী হয়।

উৎস: Britannica.com

৯৪.
AIIB কোন দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা প্রদান করে?
  1. ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর
  2. এশিয়া এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর
  3. আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর
  4. ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলোর
ব্যাখ্যা

• AIIB:
- AIIB-এর পূর্ণরূপ: Asian Infrastructure Investment Bank বা এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক।
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো এশিয়া এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলির অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা প্রদান করা।
- এই ব্যাংকটি চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং চীন AIIB-এর প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
- এই ব্যাংকটি জানুয়ারি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর বেইজিং, চীন-এ অবস্থিত।
- প্রতিষ্ঠার সময় এর সদস্য দেশ ছিল ৫৭টি, কিন্তু বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১১০টি। [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]

উৎস: AIIB ওয়েবসাইট।

৯৫.
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) কোনটির সাথে UNIDO সরাসরি যুক্ত?
  1. লক্ষ্য ৭
  2. লক্ষ্য ৯
  3. লক্ষ্য ১০
  4. লক্ষ্য ১২
ব্যাখ্যা

- UNIDO-এর প্রধান কাজ হলো বিশ্বজুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই শিল্পায়ন (ISID) নিশ্চিত করা।
- SDG ৯-এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়: স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো তৈরি করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়নকে উৎসাহিত করা এবং উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করা। 
 
UNIDO: 
- এর পূর্ণ নাম: United Nations Industrial Development Organization (UNIDO).
- এটির প্রতিষ্ঠা সাল: ১৯৬৬ (জাতিসংঘ মহাসভা দ্বারা);
- ১৯৮৫ সালে বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে কার্যকর।
- প্রতিষ্ঠাতা: জাতিসংঘ মহাসভার রেজোলিউশন দ্বারা গৃহীত।
- ধরন: জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা; শিল্প উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট ম্যান্ডেট।
- সদর দপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- সদস্য সংখ্যা: ১৭৩টি। [ফেব্রুয়ারি,২০৬]
- মোটো: "Inclusive and Sustainable Industrial Development".

উৎস: UNIDO ওয়েবসাইট।

৯৬.
QUAD (কোয়াড) জোটের সদস্য দেশগুলো কোনটি?
  1. যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া
  2. চীন, রাশিয়া, ভারত ও ব্রাজিল
  3. যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি
  4. ভারত, পাকিস্তান, চীন ও নেপাল
ব্যাখ্যা

• কোয়াড (Quad):
- Quadrilateral Security Dialogue যা সংক্ষেপে কোয়াড।
- যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত এই চারটি দেশের জোট হচ্ছে কোয়াড।
- ২০০৭ সালে কোয়াড গঠনের পর দীর্ঘদিন এর কোন তৎপরতা না থাকলেও ১২ নভেম্বর ২০১৭ এক বৈঠকের মাধ্যমে কোয়াড আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠে।
- ২০২৫ সালে কোয়াডের পররাষ্ট্র পর্যায়ের সামিট ভারতে অনুষ্ঠিত হয়। 
- মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত ‘ভারত মহাসাগর’ ও ‘প্রশান্ত মহাসাগরে’ নৌপথে অবাধ চলাচল বা স্বাধীন চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই জোট গঠিত হয়।

উৎস: অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ওয়েবসাইট

৯৭.
BRIC-এর সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হয়ে 'BRICS' গঠিত হয় কত সালে?
  1. ২০০৯
  2. ২০১০
  3. ২০১১
  4. ২০১২
ব্যাখ্যা

• BRICS:
- ব্রিকস (BRICS) হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা এই ৫ টি দেশ নিয়ে গঠিত জোট।
- ১৬ মে ২০০৮ সালে গঠিত হয়।
- পূর্বনাম- ব্রিক (BRIC).
- পূর্বনাম BRIC ছিলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এর নাম অনুযায়ী।
- ২০১০ সালে আফ্রিকা যুক্ত হওয়ার পর এর নতুন নাম হয়।
- BRICS এর উদ্দোগে ২০১৪ সালে New Development Bank গঠন করা হয় যার সদর দপ্তর চীনের সাংহাই শহরে।
- বর্তমানে মোট সদস্য: ১০ টি।
- ব্রাজিল, চীন, ভারত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

উৎস: BRICS ওয়েবসাইট।

৯৮.
Islamic Development Bank এর সদর দপ্তর কোথায়?
  1. জেদ্দা
  2. রিয়াদ
  3. কায়রো
  4. দুবাই
ব্যাখ্যা

Islamic Development Bank (IDB):
- IDB -এর পূর্ণরূপ - Islamic Development Bank বা ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক।
- সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত মুসলিম দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের প্রথম সম্মেলনে IDB গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- IDB আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে ১৯৭৫ সালের ২০ অক্টোবর।
- প্রধান কার্যালয়/সচিবালয়: জেদ্দা।
- ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক বিনা সুদে ঋণ প্রদান করে।
- ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ তার কার্যক্রম শুরু করে।
- ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের বর্তমান প্রধান/প্রেসিডেন্ট: Dr. Muhammad Al Jasser. [ব্যাখ্যা আপডেট - ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]

উৎস: ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক ওয়েবসাইট।

৯৯.
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কোন প্রতিষ্ঠান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগ জনিত বিরোধ নিষ্পত্তি করে?
  1. IDA
  2. IFC
  3. MIGA
  4. ICSID
ব্যাখ্যা

ICSID:
- এটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।
- ICSID এর পূর্ণরূপ International Centre for Settlement of Investment Disputes.
- এটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগ জনিত বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ অক্টোবর, ১৯৬৬ সালে।
- সদর দপ্তর: ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান সদস্য: ১৫৮টি দেশ। (ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- বাংলাদেশ ICSID এর সদস্য পদ লাভ করে ১৯৮০ সালে।

উৎস: WB ওয়েবসাইট।

১০০.
কোন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক শক্তির সংহতি হিসেবে "Will for Peace 2026" মহড়াকে দেখা হচ্ছে?
  1. BRICS
  2. QUAD
  3. AUKUS
  4. NATO
ব্যাখ্যা

• Will for Peace 2026:
- ২০২৬ সালের জানুয়ারি ১০ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের সাইমনস টাউনে “Will for Peace 2026” নামের যৌথ নৌ মহড়া শুরু হয়। 
- এতে অংশগ্রহণ করেছে BRICS সদস্য দেশগুলো: চীন, রাশিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।
- এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক নৌপথ ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অংশগ্রহণকারী দেশের নৌসেনাদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

উৎস: চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

১০১.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় কত ডিগ্রির নিচে রাখার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে?
  1. ০.৫ থেকে ১ ডিগ্রি
  2. ১ থেকে ১.৫ ডিগ্রি
  3. ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি
  4. ২ থেকে ২.৫ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা

 প্যারিস জলবায়ু চুক্তি:
• গৃহীত: ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২১তম UNFCCC Conference of Parties (COP-21) সম্মেলনে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গৃহীত হয়।
• বর্তমান পর্যন্ত ১৯৫টি দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
• ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এটি স্বাক্ষরের জন্যে উন্মুক্ত করা হয় 
•  কার্যকর: ৪ নভেম্বর ২০১৬ থেকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর হয়।
• প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে একুশ শতকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট। 

১০২.
ভারত মহাসাগরে চীনের 'মুক্তামালা' নীতিকে প্রতিহত করতে ভারত কোন নীতি গ্রহণ করেছে?
  1. নেকলেস অফ ডায়মন্ডস
  2. লুক ইস্ট পলিসি
  3. পঞ্চশীল নীতি
  4. আইপিএস
ব্যাখ্যা

• নেকলেস অফ ডায়মন্ডস:
- "নেকলেস অফ ডায়মন্ডস" কৌশলটি ২০১১ সালের আগস্টে একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কে বক্তৃতার সময় ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব ললিত মানসিংহ প্রথম ব্যবহার করেছিলেন।
- চীনের 'স্ট্রিং অফ পার্লস' (মুক্তামালা) কৌশলের জবাবে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো বোঝাতে তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেন। 

- চীনের এই কৌশলের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারত 'নেকলেস অফ ডায়মন্ডস' বা 'পাল্টা ঘেরাও কৌশল' শুরু করেছে।
- এর লক্ষ্য হলো চীনকে চারপাশ থেকে মালার মতো ঘিরে ফেলা।
- এই কৌশলের অংশ হিসেবে ভারত তার নৌ-ঘাঁটি সম্প্রসারণ করছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাচ্ছে। 
এই কৌশলের মধ্যে আরও যা যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- নতুন বন্দর নির্মাণ করা।
- চীনা যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন ট্র্যাক করার জন্য ব্যাপক বিস্তৃত কোস্টাল সারভেইল্যান্স রাডার (CSR) সিস্টেম স্থাপন করা।
- অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান আমদানি করা যা চীনা সাবমেরিন শনাক্ত করতে পারে।
- চীনের তৈরি বন্দরের ওপর নজর রাখতে প্রতিবেশী দেশে বিমানবন্দর পরিচালনা করা।
- প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গভীর করা এবং দক্ষিণ এশীয় দেশ, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করা ও যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর সাথে নিয়মিত সামরিক মহড়া পরিচালনা করা। 

উৎস:Necklace of Diamond: The Indian Strategy to Counter China by Naoshin Tasnim Rishti।[link]

১০৩.
রটারডাম কনভেনশনের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. বন উজাড় রোধ
  2. গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস
  3. পারমাণবিক বর্জ্য নিষ্পত্তি
  4. বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

• রটারডাম কনভেনশন:
- রটারডাম কনভেনশন হলো একটি বহুপাক্ষিক পরিবেশগত চুক্তি।
- এটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছিল।
- কনভেনশনটি গৃহীত হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও কীটনাশকের ব্যবহার দূর করতে।
- গৃহীত হয়েছিল: ১০ ​​সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮।
- স্থান: নেদারল্যান্ডের রটারডামে।
- কার্যকর হয়: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪।
- কনভেনশনের উদ্দেশ্য হলো মানব স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পক্ষগুলির মধ্যে ভাগ করা দায়িত্ব এবং সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার প্রচার করা।
- এটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৬-এ বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: Rotterdam Convention ওয়েবসাইট

১০৪.
জাতিসংঘ দিবস কবে?
  1. ২৮ শে জুন
  2. ২৪ শে অক্টোবর
  3. ২৫ শে সেপ্টেম্বর
  4. ১০ শে ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘ:
- বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘ (United Nations Organization).
- এটি জাতিপুঞ্জের (League of Nations) উত্তরসূরী।
- ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ গঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠার তারিখ হিসেবে প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস পালিত হয়।
- ২৬ জুন ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য ১৯৩টি।  
- জাতিসংঘের সর্বশেষ সদস্য: দক্ষিণ সুদান।
- বর্তমান মহাসচিব: আন্তোনিও গুতেরেস। 
- সদর দপ্তর: ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।  
- দাপ্তরিক ভাষা ৬টি: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, চীনা, রুশ, স্প্যানিশ এবং আরবি।  

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১০৫.
মালাক্কা প্রণালী সংযুক্ত করেছে -
  1. উত্তর সাগর ও বেরিং সাগর
  2. ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর
  3. ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  4. বঙ্গোপসাগর ও জাভা সাগর
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

- মালাক্কা প্রণালী মূলত আন্দামান সাগর (ভারত মহাসাগর) এবং দক্ষিণ চীন সাগর (প্রশান্ত মহাসাগর) এর মধ্যে সংযোগকারী জলপথ।
- তবে ভৌগোলিক অবস্থানে আন্দামান সাগর বঙ্গোপসাগরের অংশ এবং মালাক্কা প্রণালীর দক্ষিণ-পূর্ব দিকটি সিঙ্গাপুর প্রণালীর মাধ্যমে জাভা সাগরের প্রবেশপথের সাথে যুক্ত থাকায় অনেক সময় একে বঙ্গোপসাগর ও জাভা সাগরের সংযোগকারী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
- এই বিবেচনায় অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

• মালাক্কা প্রণালী:

- মালাক্কা প্রণালী ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- উত্তরে ভারত মহাসাগরের আন্দামান সাগরকে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- বঙ্গোপসাগর ও জাভা সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- প্রণালীটির দক্ষিণ প্রান্তে অনেকগুলি দ্বীপ আছে ।
- মালাক্কা প্রণালীর উপকূলে অবস্থিত প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে আছে মালয় উপদ্বীপের পেনাং, পোর্ট সোয়েটেনহাম ও মালাক্কা, এবং সুমাত্রা দ্বীপের বেলাওয়ান বন্দর।
- সিঙ্গাপুর এই প্রণালীর দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত।

অন্যদিকে -
- বেরিং প্রণালী এশিয়া এ আমেরিকাকে পৃথক করেছে এবং উত্তর সাগর ও বেরিং সাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- জিব্রাল্টার প্রণালি আফ্রিকা থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছ এবং ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।

উৎস: Britannica.

১০৬.
'ডেটন চুক্তি' আনুষ্ঠানিকভাবে কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. তুরস্ক
  2. যুক্তরাজ্য
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4.  ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

ডেটন চুক্তি (Dayton Agreement):
- এই চুক্তির পূর্ণরূপ: The General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina.
- এটি একটি শান্তিচুক্তি।
- প্রক্রিয়াটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান মার্কিন শান্তি আলোচনাকারী রিচার্ড হলব্রুক।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫।
- আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- পক্ষসমূহ: বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া।
- স্বাক্ষরকারী: ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রানজো তুজমান, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ (যাঁকে পরে হেগে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল) এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট এলিজা আইজেবগোভিচ।
- মধ্যস্থতাকারী: তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
- উদ্দেশ্য: সার্বিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা সমস্যার সমাধান।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১০৭.
যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন কোন প্রেসিডেন্ট?
  1. জর্জ ওয়াশিংটন
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. রোনাল্ড রিগ্যান
  4. মার্টিন লুথার কিং
ব্যাখ্যা

• যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত:
- ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- আব্রাহাম লিংকন, এই ত্রয়োদশ সংশোধনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করে।

উল্লেখ্য,
- ১৮৬০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসাবে আব্রাহাম লিংকন ইউনাইটেড স্টেটের ১৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৮৬০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই লিংকন দাস প্রথা বিলুপ্তির পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেন।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর লিংকন পেনসালভেনিয়ার গেটিসবার্গের যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এক হৃদয়স্পর্শী ভাষণে বলেন, ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’
- তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়।

উৎস: History Channel.

১০৮.
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ?
  1. আফ্রিকা
  2. এশিয়া
  3. ইউরোপ
  4. দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া মহাদেশ। 

• এশিয়া মহাদেশ:
- এশিয়া মহাদেশ পৃথিবীর মোট ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮.৭% (অথবা মোট ভূমি এলাকার ২৯.৫%) জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ।
- এশিয়া মহাদেশ ৪৮টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- এশিয়ার আয়তনে বৃহত্তম দেশ রাশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম দেশ মালদ্বীপ।
- এশিয়ার বৃহত্তম সাগর: দক্ষিণ চীন সাগর,
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংজি,
- এশিয়ার গভীরতম হ্রদ: বৈকাল হ্রদ,
- সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেষ্ট (৮,৮৫০ মিটার),
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।

উৎস: World Atlas.

১০৯.
কোন সংখ্যাটি বৃহত্তম?
  1. (1/3)2
  2. (1/0.03)
  3. (1/0.3)2
  4. 1/3
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন সংখ্যাটি বৃহত্তম?

সমাধান:
ক) (1/3)2= 1/9 ≈ 0.111

খ) 1/0.03 = 1/(3/100) = 100/3 ≈ 33.333

গ) (1/0.3)2 = (10/3)2 = 100/9 ≈ 11.111

ঘ) 1/3 ≈ 0.333

তুলনা: 0.111 < 0.333 < 11.111 < 33.333

সুতরাং সবচেয়ে বড় হলো খ) 1/0.03 যার মান প্রায় 33.33

১১০.
A = {x ∈ N : x, 10 এর গুণনীয়কসমূহ} এবং B = {x ∈ N : x, 2 এর গুণিতক এবং x ≤ 10} হলে A - B = কত?
  1. {1, 5}
  2. {1, 2, 5}
  3. {5, 10}
  4. {1}
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: A = {x ∈ N : x, 10 এর গুণনীয়কসমূহ} এবং B = {x ∈ N : x, 2 এর গুণিতক এবং x ≤ 10} হলে A - B = কত?

সমাধান:
দেয়া আছে,
A = {x ∈ N : x, 10 এর গুণনীয়কসমূহ}
10 এর গুণনীয়কসমূহ হলো 1, 2, 5, 10
∴ A = {1, 2, 5, 10}

এবং,
B = {x ∈ N : x, 2 এর গুণিতক এবং x ≤ 10}
10 পর্যন্ত 2 এর গুণিতকসমূহ হলো 2, 4, 6, 8, 10
∴ B = {2, 4, 6, 8, 10}

এখন,
A - B = {1, 2, 5, 10} - {2, 4, 6, 8, 10}
= {1, 5}
∴ A - B = {1, 5}

১১১.
একটি ধারার প্রথম সংখ্যাটি ২ এবং এর পরের প্রতিটি সংখ্যা ঠিক আগের সংখ্যা থেকে ৫ বেশি হলে ধারাটির ১৫১ তম সংখ্যাটি কত?
  1. ৭৫২
  2. ৭৫৫
  3. ৭২১
  4. ৭৬২
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ধারার প্রথম সংখ্যাটি ২ এবং এর পরের প্রতিটি সংখ্যা ঠিক আগের সংখ্যা থেকে ৫ বেশি হলে ধারাটির ১৫১ তম সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
এটি একটি সমান্তর ধারা।
এখানে, ধারার প্রথম পদ, a = ২
সাধারণ অন্তর, d = ৫
পদসংখ্যা, n = ১৫১

আমরা জানি, n তম পদ = a + (n - ১)d
∴ ১৫১ তম পদ = ২ + (১৫১ - ১)৫
= ২ + (১৫০)৫
= ২ + ৭৫০
= ৭৫২

১১২.
|2x + 3| < 7 এর সমাধান সেট হবে:
  1. (- 5, 2)
  2. (- 5, 5)
  3. (- ∞, 2)
  4. [- 2, 5]
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: |2x + 3| < 7 এর সমাধান সেট হবে:

সমাধান:
দেওয়া আছে,
|2x + 3| < 7
⇒ - 7 < 2x + 3 < 7
⇒ - 7 - 3 < 2x + 3 - 3 < 7 - 3
⇒ - 10 < 2x < 4
⇒ - 10/2 < 2x/2 < 4/2
∴ - 5 < x < 2

নির্ণেয় সমাধান সেট: S = {x ∈ R : - 5 < x < 2}
ব্যবধি আকারে: (- 5, 2)

১১৩.
সরল সুদের হার ৭% থেকে কমে ৫% হলে এক ব্যক্তির আয় ৫ বছরে ৭০০০ টাকা কমে যায়, তার মূলধন কত টাকা?
  1. ৯০,০০০ টাকা
  2. ৬০,০০০ টাকা
  3. ৭০,০০০ টাকা
  4. ৮০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: সরল সুদের হার ৭% থেকে কমে ৫% হলে এক ব্যক্তির আয় ৫ বছরে ৭০০০ টাকা কমে যায়, তার মূলধন কত টাকা?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
সুদের হারের পার্থক্য = (৭% - ৫%) = ২%

৫ বছরে আয় কমে যায় = ৭০০০ টাকা
∴ ১ বছরে আয় কমে যায় = (৭০০০ / ৫) টাকা = ১৪০০ টাকা

অর্থাৎ, মূলধনের ২% সমান ১৪০০ টাকা।

মনে করি, মূলধন P টাকা।

প্রশ্নমতে,
P এর ২% = ১৪০০
⇒ P × (২/১০০) = ১৪০০
⇒ P = (১৪০০ × ১০০)/২
⇒ P = ৭০০ × ১০০
∴ P = ৭০,০০০ টাকা

সুতরাং, ওই ব্যক্তির মূলধন ৭০,০০০ টাকা।

১১৪.
x4 + 2x2 + 1 = 8x2 এবং x > 0 হলে, x + (1/x) এর মান কত?
  1. 3√2
  2. 0
  3. 2√2
  4. 8
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x4 + 2x2 + 1 = 8x2 এবং x > 0 হলে, x + (1/x) এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
x4 + 2x2 + 1 = 8x2
⇒ (x2)2 + 2 . x2 . 1 + 12 = 8x2
⇒ (x2 + 1)2 = 8x2
⇒ x2 + 1 = √(8x2)
⇒ x2 + 1 = 2√2 . x
⇒ (x2 + 1)/x = 2√2   [উভয় পক্ষকে x দ্বারা ভাগ করে]
⇒ x2/x + 1/x = 2√2
∴ x + (1/x) =  2√2

১১৫.
একটি নির্দিষ্ট পণ্যের উপর ক্রমাগত প্রথমে ১০% ও দুই মাস পর ২০% মূল্যহ্রাস দেওয়া হলে, পণ্যটির উপর প্রকৃত মূল্যহ্রাসের পরিমাণ কত?
  1. ২০%
  2. ২৮%
  3. ৩৫%
  4. ৩০%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি নির্দিষ্ট পণ্যের উপর ক্রমাগত প্রথমে ১০% ও দুই মাস পর ২০% মূল্যহ্রাস দেওয়া হলে, পণ্যটির উপর প্রকৃত মূল্যহ্রাসের পরিমাণ কত?

সমাধান:
মনে করি, পণ্যটির প্রাথমিক মূল্য ১০০ টাকা।

প্রথমে ১০% মূল্যহ্রাসের পর নতুন মূল্য = ১০০ - (১০০ এর ১০%) = ৯০ টাকা।

দুই মাস পর আবার ২০% মূল্যহ্রাস দেওয়া হলো (বর্তমান মূল্য ৯০ টাকার ওপর)।

∴ দ্বিতীয়বার মূল্যহ্রাস = ৯০ এর ২০% = (৯০ × ২০)/১০০ = ১৮ টাকা।

∴ পণ্যটির বর্তমান বিক্রয় মূল্য = ৯০ - ১৮ = ৭২ টাকা।

প্রকৃত বা মোট মূল্যহ্রাসের পরিমাণ = ১০০ - ৭২ = ২৮ টাকা।

∴ শতকরা মূল্যহ্রাস = (২৮/১০০) × ১০০%
= ২৮%

১১৬.
a এর কোন মানের জন্য 2x + 4y - 5 = 0 এবং 3x + ay - 9 = 0 সরলরেখা দুটি সমান্তরাল?
  1. 9
  2. 2/3
  3. 6
  4. 5/8
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: a এর কোন মানের জন্য 2x + 4y - 5 = 0 এবং 3x + ay - 9 = 0 সরলরেখা দুটি সমান্তরাল?

সমাধান:
দুটি সরলরেখা সমান্তরাল হওয়ার শর্ত হলো তাদের ঢাল সমান হতে হবে।

প্রথম সরলরেখা, 2x + 4y - 5 = 0
⇒ 4y = - 2x + 5
⇒ y = (- 2/4)x + (5/4)
⇒ y = (- 1/2)x + (5/4)
∴ ঢাল m1 = - 1/2  [y = mx + c এর সাথে তুলনা করে পাই] 

দ্বিতীয় সরলরেখা, 3x + ay - 9 = 0
⇒ ay = - 3x + 9
⇒ y = (- 3/a)x + 9/a ; (যদি a ≠ 0 হয়)
∴ ঢাল m2 = - 3/a  [y = mx + c এর সাথে তুলনা করে পাই] 

সমান্তরাল হওয়ার শর্ত, m1 = m2
⇒ - 1/2 = - 3/a
⇒ 1/2 = 3/a
⇒ a = 2 × 3
∴ a = 6

সুতরাং, a-এর মান 6 হলে সরলরেখা দুটি সমান্তরাল হবে।

১১৭.
যদি logx144 = 4 হয়, তবে x এর মান কত?
  1. 2√3
  2. 3√2
  3. 4
  4. 2√5
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি logx144 = 4 হয়, তবে x এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
logx144 = 4
⇒ x4 = 144 [logaM =n হলে, an = M]
⇒ x4 = 16 × 9
⇒ x4 = 24 × 32
⇒ x4 = 24 × (√3)4
⇒ x4 = (2√3)4
∴ x = 2√3

১১৮.
(x/4) + (1/y) = 3 এবং (x/5) - (2/y) = 1 হলে (x, y) = কত?
  1. (2, 12)
  2. (10, 2)
  3. (12, 1)
  4. (8, 3)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: (x/4) + (1/y) = 3 এবং (x/5) - (2/y) = 1 হলে (x, y) = কত?

সমাধান:
দেয়া আছে,
(x/4) + (1/y) = 3 ........ (1)
(x/5) - (2/y) = 1 ........ (2)

(1) নং সমীকরণকে 2 দ্বারা এবং (2) নং সমীকরণকে 1 দ্বারা গুণ করি,
(1) × 2 ⇒ x/2 + 2/y = 6 ........ (3)
(2) × 1 ⇒ x/5 - 2/y = 1 ........ (4)

(3) ও (4) নং সমীকরণ যোগ করি,
(x/2 + x/5) = 6 + 1
⇒ (5x + 2x)/10 = 7
⇒ 7x/10 = 7
⇒ 7x = 70
∴ x = 10

এখন x-এর মান (1) নং সমীকরণে বসিয়ে পাই,
(10/4) + (1/y) = 3
⇒ (5/2) + (1/y) = 3
⇒ 1/y = 3 - (5/2)
⇒ 1/y = (6 - 5)/2
⇒ 1/y = 1/2
∴ y = 2

∴ (x, y) = (10, 2)

১১৯.
যদি (x/y) = (y/z) = (3/4) হয়, তবে x : z এর মান কত হবে?
  1. 4 : 9
  2. 9 : 16
  3. 16 : 25
  4. 9 : 12
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি (x/y) = (y/z) = (3/4) হয়, তবে x : z এর মান কত হবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
x/y = 3/4
এবং y/z = 3/4

ধারাবাহিক অনুপাতের নিয়ম অনুযায়ী,
x/z = (x/y) × (y/z)
⇒ x/z = (3/4) × (3/4) [মান বসিয়ে পাই]
⇒ x/z = (3 × 3)/(4 × 4)
⇒ x/z = 9/16
∴ x : z = 9 : 16

১২০.
5, 7, 9 এবং 15 সংখ্যাগুলোর গড় বিচ্যুতি কত?
  1. 3/2
  2. 3
  3. 2/3
  4. 4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 5, 7, 9 এবং 15 সংখ্যাগুলোর গড় বিচ্যুতি কত?

সমাধান:
গড়, x̄ = (5 + 7 + 9 + 15)/4
= 36 / 4
= 9

গড় বিচ্যুতি, MD = Σ|xi - x̄|/n
= (|5 - 9| + |7 - 9| + |9 - 9| + |15 - 9|)/4
= (4 + 2 + 0 + 6)/4
= 12/4
= 3

∴ নির্ণেয় গড় বিচ্যুতি = 3

১২১.
f(x) = x3 - 8x2 + 6x + 60 বহুপদীকে x + 2 দ্বারা ভাগ করলে ভাগশেষ কত হবে?
  1. 6
  2. 8
  3. - 10
  4. 5
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: f(x) = x3 - 8x2 + 6x + 60 বহুপদীকে x + 2 দ্বারা ভাগ করলে ভাগশেষ কত হবে?

সমাধান:
ভাগশেষ উপপাদ্য অনুসারে,
যদি কোনো বহুপদী f(x) কে (x - a) দ্বারা ভাগ করা হয়, তবে ভাগশেষ হবে f(a)
এখানে (x + 2) দ্বারা ভাগ করা হচ্ছে, তাই a = - 2

দেওয়া আছে,
f(x) = x3 - 8x2 + 6x + 60
∴ f(- 2)= (- 2)3 - 8(- 2)2 + 6(- 2) + 60
= - 8 - 8(4) - 12 + 60
= - 8 - 32 - 12 + 60
= - 52 + 60
= 8

সুতরাং, নির্ণেয় ভাগশেষ = 8

১২২.
একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদ 3√3 এবং অষ্টম পদ - 27 হলে, ধারাটির 10 তম পদ কোনটি?
  1. - 81 
  2. - 27√3
  3. 27
  4. - 243√3
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদ 3√3 এবং অষ্টম পদ - 27 হলে, ধারাটির 10 তম পদ কোনটি?

সমাধান:
মনে করি, গুণোত্তর ধারার প্রথম পদ = a এবং সাধারণ অনুপাত = r
আমরা জানি,
n-তম পদ = arn - 1

প্রশ্নমতে,
পঞ্চম পদ, ar4 = 3√3 ......... (i)
অষ্টম পদ, ar7 = - 27 ......... (ii)

এখন, (ii) নং সমীকরণকে (i) নং দ্বারা ভাগ করলে পাই,
ar7/ar4 = - 27/(3√3)
⇒ r3 = - 9/√3
⇒ r3 = - (3 × 3)/√3 
⇒ r3 = - 3√3
⇒ r3 = (- √3)3
∴ r = - √3

এখন,
10 তম পদ = ar9 = ar7 × r2
= (- 27) × ( - √3 )[যেহেতু ar7 = - 27]
= (- 27) × 3 
= - 81

∴ ধারাটির 10ম পদ = - 81

১২৩.
64 × (√2)6x = 1 হলে, x এর মান কত?
  1. 4
  2. - 2
  3. 3
  4. - 6
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 64 × (√2)6x = 1 হলে, x এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
64 × (√2)6x = 1
⇒ 26 × (21/2)6x = 1
⇒ 26 × 23x = 1 
⇒ 26 + 3x = 1
⇒ 26 + 3x = 2[যেহেতু a0 = 1]
⇒ 6 + 3x = 0
⇒ 3x = - 6
⇒ x = - 6/3
∴ x = - 2

১২৪.
10 জন বালক ও 4 জন বালিকা থেকে 2 জন বালক ও 2 জন বালিকা কত উপায়ে বেছে নেওয়া যায়?
  1. 270
  2. 420
  3. 1260
  4. 560
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 10 জন বালক ও 4 জন বালিকা থেকে 2 জন বালক ও 2 জন বালিকা কত উপায়ে বেছে নেওয়া যায়?

সমাধান:
10 জন বালক থেকে 2 জন বালক বেছে নেওয়ার উপায় = 10C2
= 10!/{2!(10 - 2)!}
= 10!/(2! × 8!)
= (10 × 9 × 8!)/(2 × 1 × 8!)
= (10 × 9)/2
= 45

4 জন বালিকা থেকে 2 জন বালিকা বেছে নেওয়ার উপায় = 4C2
= 4!/{2!(4 - 2)!}
= 4!/(2! × 2!)
= (4 × 3 × 2!)/(2 × 1 × 2!)
= (4 × 3)/2
= 6

∴ মোট উপায় = 45 × 6 = 270

১২৫.
6 সেমি বাহুবিশিষ্ট বর্গক্ষেত্রে পরিলিখিত বৃত্তের ক্ষেত্রফল কত?
  1. 12π বর্গসেমি
  2. 18π বর্গসেমি
  3. 12√2π বর্গসেমি
  4. 36π বর্গসেমি
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 6 সেমি বাহুবিশিষ্ট বর্গক্ষেত্রে পরিলিখিত বৃত্তের ক্ষেত্রফল কত?

সমাধান:

বর্গক্ষেত্রের বাহুর দৈর্ঘ্য, a = 6 সেমি

আমরা জানি, বর্গের কর্ণের দৈর্ঘ্য = √2 × বাহু = 6√2 সেমি

যেহেতু বৃত্তটি বর্গক্ষেত্রের বাইরে পরিলিখিত, তাই বর্গের কর্ণই হবে বৃত্তের ব্যাস।

∴ বৃত্তের ব্যাস = 6√2 সেমি
বৃত্তের ব্যাসার্ধ, r = (6√2 / 2) সেমি = 3√2 সেমি

আমরা জানি, বৃত্তের ক্ষেত্রফল = πr2
= π(3√2)2
= π(9 × 2)
= 18π বর্গসেমি

∴ পরিলিখিত বৃত্তের ক্ষেত্রফল 18π বর্গসেমি।

১২৬.
১ থেকে ৩০ পর্যন্ত নম্বর দেওয়া ৩০টি টিকেট একটি বাক্সে রাখা আছে। নিরপেক্ষভাবে একটি টিকেট টানা হলে সেটি ৪ অথবা ৭ এর গুণিতক হওয়ার সম্ভাবনা কত?
  1. ১/৩
  2. ৩/৫
  3. ২/৩
  4. ১/৪
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত নম্বর দেওয়া ৩০টি টিকেট একটি বাক্সে রাখা আছে। নিরপেক্ষভাবে একটি টিকেট টানা হলে সেটি ৪ অথবা ৭ এর গুণিতক হওয়ার সম্ভাবনা কত?

সমাধান:
এখানে মোট নমুনাবিন্দু (Total outcomes), n(S) = ৩০
১ থেকে ৩০ পর্যন্ত ৪ এর গুণিতকসমূহ হলো: ৪, ৮, ১২, ১৬, ২০, ২৪, ২৮ (মোট ৭টি)
১ থেকে ৩০ পর্যন্ত ৭ এর গুণিতকসমূহ হলো: ৭, ১৪, ২১, ২৮ (মোট ৪টি)

৪ এবং ৭ উভয় দ্বারা বিভাজ্য সংখ্যা (সাধারণ উপাদান) হলো: ২৮ (১টি)

৪ অথবা ৭ দ্বারা বিভাজ্য সংখ্যাগুলো হলো: {৪, ৭, ৮, ১২, ১৪, ১৬, ২০, ২১, ২৪, ২৮}

অর্থাৎ, অনুকূল ফলাফল সংখ্যা, n(A ∪ B) = ৭ + ৪ - ১ = ১০

আমরা জানি, সম্ভাবনা P(A ∪ B) = n(A ∪ B)/n(S)
∴ নির্ণেয় সম্ভাবনা = ১০/৩০
= ১/৩

১২৭.
ঙ- এর মাতা ঘ। ঙ- ঘ এর কন্যা  নয়। অতএব, ঙ ও ঘ- এর মধ্যকার সম্পর্ক কী?
  1. ঙ, ঘ এর ছেলে
  2. ঙ ও ঘ ভাই
  3. ঙ, ঘ এর দাদা
  4. কোনো সম্পর্ক নেই 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ঙ- এর মাতা ঘ। ঙ- ঘ এর কন্যা  নয়। অতএব, ঙ ও ঘ- এর মধ্যকার সম্পর্ক কী?

সমাধান:
ঙ-এর মাতা ঘ → ঘ হলো ঙ-এর মা
ঙ, ঘ-এর কন্যা নয় → ঙ মেয়ে নয়
অর্থাৎ, ঙ যদি মেয়ে না হয় এবং ঘ যদি তার মা হন, তাহলে ঙ অবশ্যই ঘ-এর ছেলে।

১২৮.
As the wildfire encircled the village, the mayor's __________ instructions through the megaphone kept families from descending into chaos.
  1. Tortuous
  2. Trenchant
  3. Obsequious
  4. Equivocal
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: (খ) Trenchant
• এখানে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (wildfire) জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা হয়েছে। এমন মুহূর্তে বিশৃঙ্খলা (chaos) এড়ানোর জন্য নির্দেশনার ধরণটি অত্যন্ত জোরালো এবং সরাসরি হওয়া প্রয়োজন।
- Trenchant শব্দটির অর্থ হলো প্রবল, তীক্ষ্ণ, সরাসরি এবং অত্যন্ত কার্যকর। এটি এমন নির্দেশনাকে বোঝায় যা কোনো দ্বিধা ছাড়াই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।

অন্যান্য অপশন:
- Tortuous → অত্যন্ত প্যাঁচানো বা জটিল কিছু বোঝায় যা জরুরি অবস্থায় মানুষের মধ্যে আরও বেশি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
- Equivocal → অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক কথা যা মানুষকে সিদ্ধান্তহীনতায় ফেলে এবং বিশৃঙ্খলা আরও বাড়িয়ে দেয়।
- Obsequious → অতিশয় অনুগত বা তোষামোদপূর্ণ আচরণ বোঝায় যা এই গম্ভীর পরিস্থিতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

১২৯.
একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে নকল করার সময় মনে মনে বলে, "আমি এমন কি দোষ করেছি, আমার আশে-পাশের সবাইতো নকল করছে।" এখানে শিক্ষার্থীর এই মানসিক প্রক্রিয়াটি কোন ধরণের আত্মরক্ষামূলক কৌশল (Defense Mechanism) নির্দেশ করে?
  1. অবদমন (Repression)
  2. প্রত্যাবৃত্তি (Regression)
  3. অপস্থাপন (Displacement)
  4. প্রতিক্ষেপণ (Projection)
ব্যাখ্যা

• এখানে শিক্ষার্থীর মানসিক প্রক্রিয়াটি হলো প্রতিক্ষেপণ বা প্রক্ষেপণ (Projection)।
- মনোবিজ্ঞানে যখন কোনো ব্যক্তি তার নিজের নেতিবাচক আচরণ বা দোষকে স্বীকার না করে বরং দাবি করে যে এই দোষটি অন্যদের মাঝেও রয়েছে, তখন তাকে প্রক্ষেপণ বা প্রতিক্ষেপণ বলা হয়। এখানে শিক্ষার্থী নিজে নকল করার অপরাধবোধ বা লজ্জা থেকে বাঁচতে ভাবছে যে অন্য সবাইও একই কাজ করছে, ফলে সে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার একটি মানসিক ঢাল তৈরি করছে।

• আত্মরক্ষামূলক কৌশল:
- প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে কিছু কৌশল প্রয়োগ করে মানসিক চাপের কবল থেকে ব্যক্তি আত্মরক্ষা করার যে প্রচেষ্টা তাকেই আত্মরক্ষামূলক কৌশল (ego defense mechanism) বা প্রতিরক্ষণ কৌশল (defense mechanism) বলে।
- নিম্নে বিভিন্ন রকম আত্মরক্ষামূলক কৌশল উল্লেখ করা হলো:
১. অবদমন (Repression): এটি কোনো কষ্টদায়ক বা নীতিবিরোধী ইচ্ছাকে জোরপূর্বক ভুলে থাকা বা অচেতন মনে দাবিয়ে রাখার প্রক্রিয়া। প্রকৃতির দিক দিয়ে অবদমন হলো সঙ্গতিবিধানের চরমতম এবং নিকৃষ্টতম কৌশল।

২. অপব্যাখ্যান বা যুক্তিসিদ্ধকরণ (Rationalization): নিজের ব্যর্থতা বা অক্ষমতাকে ঢাকতে মিথ্যা কিন্তু গ্রহণযোগ্য যুক্তি দেওয়া। যেমন: আঙুর ফল টক বলা বা বয়স হয়েছে বলে খেলায় অংশ না নেওয়ার অজুহাত দেওয়া।

৩. প্রতিক্রিয়া সংগঠন (Reaction formation): মনের আসল (নেতিবাচক) ইচ্ছাকে লুকিয়ে রাখতে ঠিক তার বিপরীত আচরণ করা। যেমন: অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা প্রদর্শন করা।

৪. প্রত্যাবৃত্তি (Regression): বর্তমানের চাপ সহ্য করতে না পেরে শৈশবের শিশুসুলভ আচরণে ফিরে যাওয়া।

৫. প্রতিক্ষেপণ/প্রক্ষেপণ (Projection): নিজের দোষ বা ব্যর্থতা অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে নির্দোষ ভাবা।

৬. ক্ষতিপূরণ (Compensation): এক ক্ষেত্রের ব্যর্থতাকে অন্য ক্ষেত্রের সাফল্য দিয়ে ঢেকে দেওয়া (যেমন: পড়াশোনায় খারাপ কিন্তু খেলায় ভালো)।

৭. উদগতি (Sublimation): অসামাজিক ইচ্ছাকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য কাজে রূপান্তর করা (যেমন: প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কবি হওয়া)।

৮. একাত্মভাবন (Identification): অন্যের কৃতিত্বকে নিজের ভেবে আনন্দ পাওয়া (যেমন: সিনেমার নায়কের সাথে নিজেকে কল্পনা করা)।

৯. অপস্থাপন (Displacement): শক্তিশালী কারো ওপর রাগ ঝাড়তে না পেরে দুর্বল নিরপরাধ কারো ওপর তা প্রকাশ করা।

১০. দিবাস্বপ্ন (Daydreaming): অপূর্ণ ইচ্ছাকে কল্পনার জগতে পূরণ করে সাময়িক তৃপ্তি পাওয়া।

উৎস: মানসিক চাপ ও মোকাবেলা, পঞ্চম অধ্যায়, মনোবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, প্রফেসর যোগেন্দ্র কুমার মন্ডল।

১৩০.
একটি সংখ্যার ৩০% বাদ দিলে যা থাকে তার ৪০% এর মান ১১২ হলে, সংখ্যাটি কত?
  1. ৩৬০
  2. ৪০০
  3. ৪৮০
  4. ৫০০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সংখ্যার ৩০% বাদ দিলে যা থাকে তার ৪০% এর মান ১১২ হলে, সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
ধরি, সংখ্যাটি = ক
ক-এর ৩০% বাদ দিলে থাকে = ক - ক এর ৩০%
= ক - (৩০ক/১০০)
= (১০০ক - ৩০ক)/১০০
= ৭০ক/১০০
= ৭ক/১০

প্রশ্নমতে,
⇒ (৭ক/১০) এর ৪০% = ১১২
⇒ (৭ক/১০) × (৪০/১০০) = ১১২
⇒ ২৮ক/১০০ = ১১২
⇒ ক = (১১২ × ১০০)/২৮
⇒ ক = ৪ × ১০০
∴ ক = ৪০০

∴ নির্ণেয় সংখ্যাটি হলো ৪০০

১৩১.
যদি BLACK দিয়ে 58301 এবং WHITE দিয়ে 42697 বোঝায়, তাহলে CHALK দিয়ে কোনটি বোঝাবে?
  1. 03285
  2. 02761
  3. 02381
  4. 02924
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি BLACK দিয়ে 58301 এবং WHITE দিয়ে 42697 বোঝায়, তাহলে CHALK দিয়ে কোনটি বোঝাবে?

সমাধান:
প্রথমে প্রতিটি অক্ষরের সংখ্যা কোড বের করি:
B = 5
L = 8
A = 3
C = 0
K = 1

এবং,
W = 4
H = 2
I = 6
T = 9
E = 7

এখন, CHALK কোডটি সাজালে পাই:
C = 0
H = 2
A = 3
L = 8
K = 1

∴ CHALK দিয়ে 02381 বোঝায়।

১৩২.
একজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে 9 কি.মি. উত্তরে, তারপর 8 কি.মি. পূর্বে এবং সবশেষে আরও 6 কি.মি. উত্তর দিকে অগ্রসর হলেন। যাত্রা শুরুর স্থান থেকে তার বর্তমান অবস্থানের সরাসরি দূরত্ব কত?
  1. 15 কি.মি.
  2. 17 কি.মি.
  3. 13 কি.মি.
  4. 25 কি.মি.
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে 9 কি.মি. উত্তরে, তারপর 8 কি.মি. পূর্বে এবং সবশেষে আরও 6 কি.মি. উত্তর দিকে অগ্রসর হলেন। যাত্রা শুরুর স্থান থেকে তার বর্তমান অবস্থানের সরাসরি দূরত্ব কত?

সমাধান:

উত্তরদিকে E থেকে D বিন্দুতে গেলেন 9 কি.মি.
পূর্বদিকে D থেকে B বিন্দুতে গেলেন 8 কি.মি.
উত্তরদিকে B থেকে A বিন্দুতে গেলেন 6 কি.মি.

ব্যক্তিটির মোট লম্ব দূরত্ব (উত্তর দিকে) = 9 + 6 = 15 কি.মি.
ব্যক্তিটির মোট ভূমি দূরত্ব (পূর্ব দিকে) = 8 কি.মি.

এখন সরাসরি দূরত্ব, AE (অতিভুজ) হলে,
দূরত্ব2 = লম্ব2 + ভূমি2
⇒ দূরত্ব2 = 152 + 82
⇒ দূরত্ব2 = 225 + 64
⇒ দূরত্ব2 = 289
⇒ দূরত্ব = √289
∴ দূরত্ব = 17 কি.মি.

∴ শুরুর স্থান থেকে তার সরাসরি দূরত্ব 17 কি.মি.

১৩৩.
নিচের চিত্রানুযায়ী লিভার দিয়ে 200 পাউন্ডের একটি বক্স সরাতে লিভারের ডানদিকে কত পাউন্ড বল প্রয়োগ করতে হবে?
  1. 125 pounds
  2. 100 pounds
  3. 320 pounds
  4. 150 pounds
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের চিত্রানুযায়ী লিভার দিয়ে 200 পাউন্ডের একটি বক্স সরাতে লিভারের ডানদিকে কত পাউন্ড বল প্রয়োগ করতে হবে?


সমাধান:
দেওয়া আছে,
ভার (Load), W = 200 পাউন্ড
ভারের বাহুর দৈর্ঘ্য (Load Arm), d1 = 10 ফুট
বলের বাহুর দৈর্ঘ্য (Effort Arm), d2 = 16 ফুট
প্রয়োজনীয় বল (Force/Effort), F = ?

লিভারের ভারসাম্য নীতি অনুসারে,
⇒ বল × বলের বাহু = ভার × ভারের বাহু
F × 16 = 200 × 10
⇒ 16F = 2000
⇒ F = 2000 / 16
⇒ F = 125 পাউন্ড

সুতরাং, বক্সটি সরাতে 125 পাউন্ড বল প্রয়োগ করতে হবে।

১৩৪.
কোন গুচ্ছের সবগুলো বানানই শুদ্ধ? 
  1. জ্যেষ্ঠ, কন্টক, দূষণীয়
  2. সৌজন্য, সত্ব, ইতিপূর্বে
  3. মূমুর্ষ , পিপীলিকা, বিভীষিকা 
  4. কুলঘ্ন, প্রতীতি, ভস্মসাৎ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন গুচ্ছের সবগুলো বানানই শুদ্ধ? 

সমাধান:
সঠিক উত্তর: ঘ) কুলঘ্ন, প্রতীতি, ভস্মসাৎ

• বাংলা একাডেমি বানান অভিধান অনুসারে, কুলঘ্ন, প্রতীতি, ভস্মসাৎ বানানগুলো শুদ্ধ।
- কুলঘ্ন: বংশের গৌরব হানি করে এমন।
- প্রতীতি: উপলব্ধি; জ্ঞান। বিশ্বাস, প্রত্যয়।
- ভস্মসাৎ: ভস্মে পরিণত, ভস্মীভূত।

অন্যান্য অপশন:
অপশন 'ক' এর অশুদ্ধ বানান হলো: কন্টক
- শুদ্ধ বানানগুলো হলো: জ্যেষ্ঠ, কণ্টক, দূষণীয়

অপশন 'খ' এর অশুদ্ধ বানান হলো: সত্ব
- শুদ্ধ বানানগুলো হলো: সৌজন্য, সত্ত্ব, ইতিপূর্বে

অপশন 'গ' এর অশুদ্ধ বানান হলো: মূমুর্ষ
- শুদ্ধ বানানগুলো হলো: মুমূর্ষু , পিপীলিকা, বিভীষিকা 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৩৫.
প্রদত্ত চিত্রটির AB অবস্থানে আয়না ধরলে কোন প্রতিবিম্বটি পাওয়া যাবে?
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: প্রদত্ত চিত্রটির AB অবস্থানে আয়না ধরলে কোন প্রতিবিম্বটি পাওয়া যাবে?


সমাধান:
সঠিক উত্তর: খ) 2

১৩৬.
০.৪ × ০.০৪ × ০.০০৪ = ?
  1. ০.০০০০৬৪
  2. ০.০৬৪
  3. ০.০০০৬৪
  4. ০.০০০০০৬৪
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ০.৪ × ০.০৪ × ০.০০৪ = ?

সমাধান:
০.৪ × ০.০৪ × ০.০০৪ = ০.০০০০৬৪

যে সংখ্যাগুলো গুণ করতে হবে সেসব সংখ্যায় দশমিকের পর মোট যত ঘর আছে গুণফলেও দশমিকের পর ঠিক তত ঘর থাকবে।

১৩৭.
একটি এনালগ ঘড়ি প্রতিদিন 12 মিনিট দ্রুত চলে। ঘড়িটি পুনরায় সঠিক সময় দেখাতে কত দিন সময় লাগবে?
  1. 36 দিন
  2. 48 দিন
  3. 60 দিন
  4. 72 দিন
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি এনালগ ঘড়ি প্রতিদিন 12 মিনিট দ্রুত চলে। ঘড়িটি পুনরায় সঠিক সময় দেখাতে কত দিন সময় লাগবে?

সমাধান:
আমরা জানি,
12 ঘণ্টা = (12 × 60) মিনিট = 720 মিনিট।
একটি এনালগ ঘড়ি পুনরায় সঠিক সময় দেখাবে, যখন সেটি 12 ঘণ্টা বা 720 মিনিট ব্যবধান তৈরি করবে।

ঘড়িটি 12 মিনিট এগিয়ে যায় 1 দিনে
∴ ঘড়িটি 1 মিনিট এগিয়ে যায় = 1/12 দিনে।
∴ ঘড়িটি 720 মিনিট এগিয়ে যায় = (1 × 720)/12 দিনে = 60 দিনে।

∴ পুনরায় সঠিক সময়ে ফিরে আসতে ঘড়িটির 60 দিন সময় লাগবে।

১৩৮.
ABD, EFH, IJL, MNP, …....
প্রদত্ত ধারার পরবর্তী পদটি কী হবে?
  1. QRS
  2. QST
  3. PQN
  4. QRT
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ABD, EFH, IJL, MNP, …....
প্রদত্ত ধারার পরবর্তী পদটি কী হবে?

সমাধান:
এখানে প্রতিটি পদ গঠিত হয়েছে ইংরেজি বর্ণমালার স্বাভাবিক ক্রম থেকে তৃতীয় অবস্থানে থাকা অক্ষরটি বাদ দিয়ে।

নিচে প্রক্রিয়াটি দেখানো হলো:
১ম পদ: AB (C বাদ) D

২য় পদ: EF (G বাদ) H

৩য় পদ: IJ (K বাদ) L

৪র্থ পদ: MN (O বাদ) P

∴ ৫ম পদ: QR (S বাদ) T

∴ পরবর্তী পদটি হবে QRT

১৩৯.
1/2, 3/4, 5/6, 7/8, ….......... এর সাধারণ পদ কোনটি? 
  1. n/(2n)
  2. (2n - 1)/2n
  3. (2n + 1)/(2n)
  4. (n - 1)/n
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 1/2, 3/4, 5/6, 7/8, ….......... এর সাধারণ পদ কোনটি?

সমাধান:
লবগুলোর অনুক্রম: 1, 3, 5, 7, … (বিজোড় সংখ্যা)।
এর সাধারণ পদ: (2n - 1)

হরগুলোর অনুক্রম: 2, 4, 6, 8, … (জোড় সংখ্যা)।
 এর সাধারণ পদ: 2n

∴ অনুক্রমটির সাধারণ পদ = (2n - 1)/2n

১৪০.
নিচের অনুক্রমটিতে কতটি 'K' আছে যার ঠিক আগে 'N' এবং ঠিক পরে 'M' রয়েছে?
N M K N K M M K K N N M K N K M K K M N K M K K N N K K M K
  1. 2
  2. 1
  3. 4
  4. 3
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) 3

N M K N K M M K K N N M K N K M K K M N K M K K N N K K M K

অনুক্রমটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, 'NKM' বিন্যাসটি মোট 3 বার রয়েছে।

১৪১.
একটি সারিতে রহিমের অবস্থান সামনে থেকে একাদশ এবং পিছন থেকে বিশতম হলে, ঐ সারিতে মোট কতজন লোক আছে?
  1. ৩০ জন
  2. ৩১ জন
  3. ২৯ জন
  4. ৩২ জন
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সারিতে রহিমের অবস্থান সামনে থেকে একাদশ এবং পিছন থেকে বিশতম হলে, ঐ সারিতে মোট কতজন লোক আছে?

সমাধান:
রহিমের অবস্থান সামনে থেকে ১১তম এবং পিছন থেকে ২০তম।

আমরা জানি,
মোট লোক সংখ্যা = (সামনে থেকে অবস্থান + পিছন থেকে অবস্থান) - ১
= (১১ + ২০) - ১
= ৩১ - ১
= ৩০ জন।

১৪২.
কোন প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে?
  1. শ্বসন
  2. সালোকসংশ্লেষণ
  3. বাষ্পীভবন
  4. ট্রান্সলোকেশন
ব্যাখ্যা

- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজের খাদ্য (শর্করা বা গ্লুকোজ) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পাতার ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করে। 

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১৪৩.
গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর নিম্নচাপ প্রধানত কোথায় সৃষ্টি হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত
  2. আর্কটিক মহাসাগর 
  3. উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর
  4. দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয়
ব্যাখ্যা

- গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর নিম্নচাপ মূলত উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর (ভারতের উত্তর ও মধ্যভাগ) সৃষ্টি হয়। তীব্র সূর্যতাপে স্থলভাগ প্রচণ্ড গরম হওয়ায় সেখানে এই নিম্নচাপ তৈরি হয়, যার ফলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্থলভাগের দিকে ছুটে আসে। 

মৌসুমি জলবায়ু: 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু। 
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। 
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু। 

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।  
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুএশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। 
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়, কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৪.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী শক্তির ক্ষুদ্রতম প্যাকেটকে কী বলা হয়?
  1. নিউট্রন
  2. পজিট্রন 
  3. ফোটন
  4. মেসন 
ব্যাখ্যা

- কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, আলো বা অন্যান্য তড়িৎচ্চুম্বকীয় বিকিরণ শক্তির অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ হিসেবে না এসে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের আকারে নির্গত বা শোষিত হয়, এই ক্ষুদ্রতম শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছকে কোয়ান্টাম বলা হয়। যখন বিশেষভাবে আলোক শক্তির কথা বলা হয়, তখন এই কোয়ান্টামকে ফোটন নামে অভিহিত করা হয়। 

প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়। প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। 
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৫.
কোন তাপ সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না?
  1. পরিচলন
  2. বিকিরণ
  3. পরিবহন
  4. সংবহন
ব্যাখ্যা

- তাপ সঞ্চালনের বিকিরণ পদ্ধতিতে কোনো জড় মাধ্যমের (কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) প্রয়োজন হয় না, এই প্রক্রিয়ায় তাপ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের আকারে সঞ্চালিত হয়, যা শূন্যস্থানের মধ্য দিয়েও ভ্রমণ করতে পারে। 

তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

অন্যদিকে, 
- পরিচলন বা সংবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনের জন্য তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় এবং মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরের মাধ্যমে তাপ বহন করে। 
- পরিবহন মূলত কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলোর সরাসরি সংযোগ বা কম্পনের প্রয়োজন হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৬.
প্রাকৃতিকভাবে স্টার্চ কোন মনোমারের পলিমার?
  1. ইউরিক অ্যাসিড
  2. ফ্যাটি অ্যাসিড
  3. গ্লুকোজ
  4. অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

- স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো উদ্ভিদের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য, যা হাজার হাজার গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি পলিস্যাকারাইড। এটি মূলত দুই ধরণের (অ্যামাইলোজ এবং অ্যামাইলোপেক্টিন) পলিমারের মিশ্রণ। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অতিরিক্ত গ্লুকোজ উদ্ভিদদেহে স্টার্চ হিসেবে জমা থাকে। 

পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়।
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়।
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার।
যথা- 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব, গোল আলু এসব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস, ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন, নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৭.
ডায়োডের কোন অংশকে ফরোয়ার্ড টার্মিনাল বলা হয়?
  1. গেট 
  2. সোর্স 
  3. ক্যাথোড
  4. অ্যানোড 
ব্যাখ্যা

- ডায়োডের অ্যানোড অংশকে ফরোয়ার্ড টার্মিনাল বা ধনাত্মক টার্মিনাল বলা হয়। ডায়োডের কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী, যখন অ্যানোডকে ব্যাটারির পজিটিভ (+) প্রান্তের সাথে এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ (-) প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন ডায়োডটি 'ফরোয়ার্ড বায়াস' অবস্থায় থাকে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয়। 

ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৮.
চোখের কোন স্তরটি আলোক সংবেদী?
  1. রেটিনা
  2. স্ক্লেরা
  3. কর্নিয়া 
  4. লেন্স
ব্যাখ্যা

- রেটিনা হলো মানুষের চোখের সবচেয়ে ভেতরের আলোক সংবেদী স্তর। এতে রড ও কোণ নামক দুই ধরনের বিশেষ আলোক সংবেদী কোষ থাকে, যা আলোকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায় এবং আমাদের দেখতে সাহায্য করে। 

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

১৪৯.
ব্লু ভিট্রিওল যৌগে কত অণু পানি যুক্ত থাকে?
  1. ৩ অণু
  2. ৫ অণু
  3. ৭ অণু
  4. ১০ অণু
ব্যাখ্যা

- তুঁতে বা ব্লু ভিট্রিওল (Blue Vitriol) হলো আর্দ্র কপার সালফেট, এর রাসায়নিক সংকেত হলো  CuSO4.5H2O । এই সংকেত থেকে দেখা যায় যে, প্রতি অণু কপার সালফেটের সাথে ৫ অণু স্ফটিক পানি (Water of crystallization) যুক্ত থাকে। 

রাসায়নিক যৌগ ও তাদের সংকেত: 

- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH. 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতে বা ব্লু ভিট্রিওল যৌগের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫০.
পৃথিবীর মোট পানির মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎস কোনটি?
  1. পুকুর
  2. হিমবাহ 
  3. নদী
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭ শতাংশ জলরাশি সমুদ্রে (মহাসাগর) অবস্থিত, যা একে পৃথিবীর বৃহত্তম পানির উৎসে পরিণত করেছে। তবে সমুদ্রের পানি লবণাক্ত হওয়ায় এটি সরাসরি পানযোগ্য নয়। 

পানির উৎস ও গুরুত্ব: 
- পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই হচ্ছে পানি। 
- মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য, তাই পানির অপর নাম হচ্ছে জীবন। 
- পানির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে সাগর, মহাসাগর বা সমুদ্র। 
- পৃথিবীতে যত পানি আছে, তার প্রায় শতকরা ৯০ ভাগেরই উৎস হচ্ছে সমুদ্র। 
- সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে এজন্য সমুদ্রের পানিকে লোনা পানিও (Marine water) বলে। 
- লবণের কারণে সমুদ্রের পানি পানের অনুপযোগী, এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অন্য কাজেও সমুদ্রের পানি ব্যবহার করা যায় না। 
- পানির আরেকটি বড় উৎস হলো হিমবাহ তুষার স্রোত, যেখানে পানি মূলত বরফ আকারে থাকে, এই উৎসে প্রায় শতকরা ২ ভাগের মতো পানি আছে। 
- পৃথিবীতে ব্যবহারের উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ। 
- ব্যবহার উপযোগী মিঠা পানির উৎস হলো নদ-নদী, খাল-বিল, হ্রদ, পুকুর কিংবা ভূগর্ভস্থ পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫১.
বায়োগ্যাস প্লান্টের মূল অসুবিধা কী?
  1. এটি দুষণমুক্ত জ্বালানী উৎপাদন করে
  2. উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর
  3. পরিবেশ বান্ধব 
  4. রান্নাঘরের ধোঁয়া কমায়
ব্যাখ্যা

- বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের একটি অন্যতম বড় অসুবিধা হলো এর নিম্ন উৎপাদন দক্ষতা। বর্তমানে ব্যবহৃত সিস্টেমগুলো খুব একটা আধুনিক নয় এবং অল্প খরচে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর মতো বড় আকারের উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এছাড়া এর উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট আবহাওয়া ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো বা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টসাধ্য। 

বায়োগ্যাস প্লান্ট: 
- বায়োগ্যাসমূলত বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, যাতে মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, হাইড্রোজেন, বায়োগ্যাস ইত্যাদি মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। গ্যাস মিশ্রনে উপাদানের সম্ভাব্য শতকরা হার নিম্নরূপ- 

- বায়োগ্যাস প্লান্ট একটি অন্যতম নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎপাদন পদ্ধতি। যে সব স্থানে ঘন বসতি এবং অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সে সকল স্থানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করার উপযোগী। জৈব বর্জ, শিল্পবর্জ, পৌর বর্জ্য হতেও এধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী। 
- এ ধরনের প্লান্ট ব্যবস্থাপনা একটু অস্বাস্থ্যকর বিধায় আমাদের দেশে এটি এখনও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু উপযুক্ত ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করা গেলে এ ধরণের প্লান্ট খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা পাবে যদিও খুব অল্পসংখক প্লান্ট প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফলতার মুখ দেখেছে। 
- এধরণের প্লান্টে তিন ধরণের সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জালানীগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কম্পোস্ট সার উৎপাদন। 
- বর্তমানে উন্নত দেশেও এ গ্যাসকে বিশুদ্ধ করে সি.এন.জি. হিসাবে গাড়ী ও অন্যান্য ট্রান্সপোর্টে জ্বালানী হিসবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- নিম্নে বায়োগ্যাস প্লান্টের গঠন প্রণালী দেখানো হলো- 

- এধরণের ট্যাংকে একটি গম্বুজের মত পাত্র থাকে যার নিচের অংশকে ডাইজেষ্টার বলে এবং উপরের অংশকে বলে গ্যাস স্টোরেজ। মিশ্রণ ট্যাংকে গোবর বা গোবাদির মলমূত্র এমনকি মানুষের মলমূত্র পানির সাথে ভালভাবে মিশ্রিত করে ইনলেট ড্রেইন এর মাধ্যমে ডাইজেষ্টারে পাঠানো হয় যেখানে জীবাণুর মাধ্যমে বিক্রিয়ার দ্বারা মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস উৎপন্ন হয়ে গম্বুজ আকৃতির গ্যাস স্টোরেজ অংশে জমা হয়। এর উপরের অংশে একটি নল যুক্ত থাকে যার মাধ্যমে গ্যাস বিভিন্ন যন্ত্রে পাঠানো হয়। এই নলে গ্যাস প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি ভাল্ব লাগানো থাকে। গোবর বা মলমূত্রের মিশ্রন আউটলেট ড্রেইন এর মাধ্যমে বের হয়ে আসে যা পরবর্তিতে কম্পোস্ট সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

বায়ো গ্যাসপ্লান্টের সুবিধা-অসুবিধা: 
সুবিধা: 
১) এটি দুষনমুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানী সরবরাহ করে। 
২) এটি জ্বালানী কাঠ সংগ্রহের কষ্ট হতে মুক্তি দেয়। 
৩) রান্না ঘরের ধুয়া ও ময়লা হতে মুক্তি দেয়। 
৪) এটি থেকে বাইপ্রডাক্ট হিসাবে জৈব সার পাওয়া যায় যা পরিবেশ বান্ধব ও শস্য উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দেয়। 
৫) বর্জ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার মাধ্যমে পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখে। 
৬) বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায় যাতে দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটায়। 
৭) যে কোন পচনশীল বস্তু এতে ফিড হিসাবে ব্যবহার করা যায় ফলে পরিবেশে দূর্গন্ধ ছড়ায় না। 

অসুবিধা: 
১) পদ্ধতিগতভাবে এটি অস্বাস্থ্যকর। 
২) উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর। 
৩) এটির মিশ্রণে কিছু ক্ষয়কর উপাদান থাকে যা ব্যবহার্য ধাতব যন্ত্রে ক্ষতি করে। 
৪) এটি সব জায়গায় স্থাপন করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫২.
সাধারণভাবে কোন ক্যাশ লেভেলটি আকারে সবচেয়ে ছোট ও গতিতে সবচেয়ে দ্রুত?
  1. L1 Cache
  2. L2 Cache
  3. L3 Cache
  4. Main Memory
ব্যাখ্যা

• সাধারণভাবে L1 ক্যাশ আকারে সবচেয়ে ছোট এবং গতিতে সবচেয়ে দ্রুত। এটি প্রসেসরের ভেতরে সরাসরি সংযুক্ত থাকে এবং প্রসেসরের যেকোনো রেজিস্টারের সাথে খুব দ্রুত ডেটা আদান-প্রদানে সক্ষম। L1 ক্যাশ সাধারণত কয়েক দশক কিলোবাইট (KB) সীমার মধ্যে থাকে, তাই এটি সীমিত কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত। L2 এবং L3 ক্যাশ তুলনায় বড় হলেও ধীরগতির হয়, আর মেইন মেমরি (RAM) অনেক বড় হলেও তার এক্সেস টাইম অনেক বেশি। তাই CPU দ্রুততর প্রসেসিংয়ের জন্য L1 ক্যাশকে প্রথম স্তরের (Level 1) ডেটা স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করে, যা প্রোগ্রামের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। L1 ক্যাশের দ্রুততা এবং সরাসরি অ্যাক্সেস ক্ষমতার কারণে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
 
ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory):
- এটি এক ধরনের বিশেষ উচ্চগতির মেমোরি ব্যবস্থা।
- মাইক্রোপ্রসেসর ও প্রধান স্মৃতির মাঝে অতি উচ্চগতির এবং কম ধারণক্ষমতাসম্পন্ন যে মেমোরি ব্যবহার করা হয় তাকে ক্যাশ মেমোরি বলা হয়।
- ক্যাশ মেমোরি র‍্যামের চেয়ে ছোট।
- কম্পিউটারের ডেটা স্থানান্তরের গতি বৃদ্ধি তথা মাইক্রোপ্রসেসরের প্রক্রিয়াকরণের গতি বৃদ্ধির জন্য ক্যাশ মেমোরি ব্যবহৃত হয়।
- এটি এক ধরনের স্ট্যাটিক স্মৃতি, যা উচ্চগতি সম্পূর্ণ ও তুলনামূলক দামি মেমোরি।
- ক্যাশ মেমোরি থাকে EPROM-এ।
- যখন CPU কোনো ডেটা প্রয়োজন করে, তখন এটি প্রথমে ক্যাশ মেমোরিতে খোঁজে। যদি সেখানে ডেটা পাওয়া যায় (যাকে ক্যাশ হিট বলে), CPU-কে ধীরগতির RAM বা অন্যান্য স্টোরেজ থেকে ডেটা আনতে হয় না, ফলে সামগ্রিক প্রসেসিং গতি বৃদ্ধি পায়। 
- ক্যাশ মেমোরি CPU-এর কাছাকাছি অবস্থান করে এবং এটি RAM-এর তুলনায় অনেক দ্রুতগতির হওয়ায় ডেটা অ্যাক্সেসের সময় কমে যায়।

উৎস:
১. মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

১৫৩.
MICR-এ ব্যবহারের জন্য কোন ফন্টটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত?
  1. E-13B
  2. Calibri
  3. Times New Roman
  4. Arial
ব্যাখ্যা

• MICR (Magnetic Ink Character Recognition) প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফন্ট হলো E-13B। এই ফন্টটি ব্যাংকিং এবং চেক প্রক্রিয়াকরণে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক দিয়ে প্রিন্ট করা অক্ষরগুলো সহজে যন্ত্র দ্বারা সনাক্ত করা যায়। E-13B ফন্টের অক্ষরগুলো নির্দিষ্ট আকার ও গঠন অনুসরণ করে, যা চেক, ড্রাফট বা অন্যান্য ব্যাংক ডকুমেন্টের নম্বর এবং তথ্য পড়তে সাহায্য করে। অন্য ফন্ট যেমন Calibri, Times New Roman, বা Arial সাধারণ পাঠ্য প্রয়োগে ব্যবহার হয়, কিন্তু সেগুলোতে ম্যাগনেটিক স্ক্যানিং-এর জন্য যথেষ্ট স্পষ্টতা ও নির্দিষ্টকরণ নেই। তাই ব্যাংকিংয়ে MICR প্রক্রিয়ায় E-13B ফন্টই সবচেয়ে প্রচলিত।

- সঠিক উত্তর: ক) E-13B

⚪ MICR:
- MICR হলো Magnetic Ink Character Recognition.
- চৌম্বক কালি বা ফেরোসোফেরিক অক্সাইডযুক্ত কালীর সাহায্যে MICR লেখা হয়।
- এই কালিতে লেখা কাগজ শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রে রাখলে কালির ফেরোসোফেরিক অক্সাইড চুম্বকে পরিণত হয়।
- ব্যাংকের চেক বইয়ে MICR টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়।
- MICR চেক ব্যাংক লেনদেনের জন্য নিরাপদ এবং সময় সাশ্রয়ী।
- মূলত MICR চেক ব্যাংক আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার অন্যতম একটি অংশ।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

১৫৪.
BIOS কখন থেকে কাজ করতে শুরু করে?
  1. অপারেটিং সিস্টেম লোড হওয়ার পর
  2. অ্যাপ্লিকেশন চালু হলে
  3. কম্পিউটারে পাওয়ার দিলে
  4. লগইন সম্পন্ন হওয়ার পর
ব্যাখ্যা

• BIOS (Basic Input/Output System) কম্পিউটারের একটি মৌলিক সফটওয়্যার যা মাদারবোর্ডে সংরক্ষিত থাকে এবং কম্পিউটার চালু হওয়ার সাথে সাথেই কাজ শুরু করে। যখন কম্পিউটারে পাওয়ার দেওয়া হয়, তখন CPU প্রথমে BIOS কে সক্রিয় করে। BIOS হার্ডওয়্যার ডিভাইস যেমন র‍্যাম, হার্ডডিস্ক, কীবোর্ড এবং অন্যান্য সংযুক্তি পরীক্ষা করে এবং সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা যাচাই করে। এছাড়াও এটি অপারেটিং সিস্টেম লোড করার জন্য প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। সুতরাং, BIOS অপারেটিং সিস্টেম লোড হওয়ার আগে এবং কোন অ্যাপ্লিকেশন চালু হওয়ার বা লগইন করার আগে কাজ শুরু করে। সঠিক উত্তর হলো: গ) কম্পিউটারে পাওয়ার দিলে।
 
BIOS (Basic Input Output System):
- কম্পিউটার তার সব কাজ ধাপে ধাপে নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করে।
- যখন পাওয়ার বাটনে চাপ দেওয়া হয়, তখন প্রথম যে নির্দেশগুলো কম্পিউটার অনুসরণ করে, সেগুলো একটি ইলেকট্রনিক চিপে সংরক্ষিত থাকে।
- এই চিপটিকে বলা হয় BIOS, যা সাধারণত মাদারবোর্ডে অবস্থান করে।
- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগ BIOS-এর মাধ্যমে স্থাপিত হয়।
- BIOS-এ থাকা নির্দেশনা অনুযায়ী প্রসেসর কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫৫.
কোন পাইথন ফ্রেমওয়ার্ক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. PyQt
  2. Django
  3. NumPy
  4. Kivy
ব্যাখ্যা

• ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে পাইথনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রেমওয়ার্ক হলো Django। এটি একটি উচ্চ-স্তরের ওয়েব ফ্রেমওয়ার্ক যা দ্রুত এবং নিরাপদভাবে ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে সাহায্য করে। Django “batteries included” নীতি অনুসরণ করে, যার মানে এটি ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট, ইউজার অথেন্টিকেশন, টেমপ্লেট ইঞ্জিন, এবং অ্যাডমিন ইন্টারফেসসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার দিয়ে আসে। PyQt এবং Kivy মূলত ডেস্কটপ বা মোবাইল অ্যাপ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়, আর NumPy শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গণনা ও ডেটা প্রসেসিং লাইব্রেরি। তাই ওয়েব ডেভেলপমেন্টে Django সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত।
 
• পাইথন:
- পাইথন একটি জনপ্রিয় হাই-লেভেল, অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা।
- এটি ডাইনামিক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, ডেটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং, এবং বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
- ১৯৮৯ সালে নেদারল্যান্ডের বিজ্ঞানী গিডো ভ্যান রসাম (Guido van Rossum) এই ভাষাটি তৈরি করেন।
- পাইথনের কোর সিনট্যাক্স খুবই সহজ ও সংক্ষিপ্ত, তবে এর সমৃদ্ধ স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরি রয়েছে যা প্রোগ্রামিংকে আরও সহজ করে তোলে।
- দ্রুত সফটওয়্যার উন্নয়নের জন্য পাইথন বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- গুগল, নাসা, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামসহ বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো পাইথন ব্যবহার করে।
- ২০১৮ সালে এটি IEEE-এর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- পাইথন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমানভাবে কার্যকর, যেমন ক্লাউড-ভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, ডেটা সায়েন্স, অটোমেশন, এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)।

• ডেটা টাইপ:
- int (ইন্টিজার): পূর্ণসংখ্যা বোঝায়, যেমন 5। এটি কোনো দশমিক বা ভগ্নাংশ ছাড়া সংখ্যা ধারণ করে।
- float (ফ্লোট): দশমিক সংখ্যা বোঝায়, যেমন 5.0।
- str (স্ট্রিং): টেক্সট বা অক্ষরের মান ধারণ করে, যেমন '5' বা "Hello"।
- bool (বুলিয়ান): সত্য (True) বা মিথ্যা (False) মান প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

১৫৬.
MIPS সাধারণত কোন বিষয়টি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. নেটওয়ার্ক ব্যান্ডউইথ
  2. ডিস্কের কর্মক্ষমতা
  3. মেমোরির ধারণক্ষমতা
  4. প্রসেসরের গতি
ব্যাখ্যা

• MIPS হলো “Million Instructions Per Second” বা প্রতি সেকেন্ডে মিলিয়ন নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষমতা। এটি মূলত প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বা গতি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। একটি কম্পিউটার বা মাইক্রোপ্রসেসর কত দ্রুত প্রোগ্রামের নির্দেশনা সম্পন্ন করতে পারে তা MIPS দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এটি নেটওয়ার্ক ব্যান্ডউইথ, ডিস্কের কর্মক্ষমতা বা মেমোরির ধারণক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি প্রসেসর ৫০০ MIPS হয়, তবে তা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ মিলিয়ন নির্দেশনা সম্পন্ন করতে সক্ষম। তাই, প্রসেসরের গতি মাপার ক্ষেত্রে MIPS একটি প্রচলিত একক।

- সঠিক উত্তর: ঘ) প্রসেসরের গতি। 

• MIPS:
- MIPS (Million Instructions Per Second) হল কম্পিউটারের প্রসেসিং গতি পরিমাপের একটি একক, যা দিয়ে একটি কম্পিউটারের প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে কত মিলিয়ন নির্দেশাবলী কার্যকর করতে পারে তা নির্ধারণ করা হয়। 
- এটি বিশেষ করে RISC (Reduced Instruction Set Computer) প্রসেসরগুলোর কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য জনপ্রিয় ছিল। যদিও বর্তমানে প্রসেসরের গতি MHz বা GHz এককে পরিমাপ করা হয়।
- যদিও MIPS সাধারণ কম্পিউটার পারফরম্যান্স নির্দেশ করে, এটি সবসময় নির্ভুল উপায় নয়, কারণ প্রসেসরের কার্যক্ষমতা নির্ভর করে নির্দেশনার ধরন, ক্যাশ মেমোরি, ও সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের ওপর।
- এটি একটি পুরনো কিন্তু কার্যকর পরিমাপ পদ্ধতি যা কম্পিউটারের প্রসেসরের গতিকে সরাসরি নির্দেশ করে।
- একটি প্রসেসরের MIPS রেটিং যত বেশি, তার ডেটা প্রসেসিং ক্ষমতা তত বেশি।

উৎস: IEEE & ACM Digital Library.

১৫৭.
ইথেরিয়াম মূলত কী হিসেবে পরিচিত?
  1. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  2. ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং স্মার্ট কন্ট্র্যাক্ট প্ল্যাটফর্ম 
  3. ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস
  4. ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিস
ব্যাখ্যা

• ইথেরিয়াম মূলত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং স্মার্ট কন্ট্র্যাক্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। এটি ২০১৫ সালে ভিটালিক বুটারিন কর্তৃক তৈরি করা হয়। ইথেরিয়ামের নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সিকে “ইথার” (ETH) বলা হয়, যা লেনদেন ও বিভিন্ন ব্লকচেইন ভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইথেরিয়ামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো স্মার্ট কন্ট্র্যাক্ট, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি সম্পন্ন করে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন নেই। এটি ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাপ্লিকেশন (DApps) তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, ইথেরিয়াম শুধুমাত্র একটি ডিজিটাল মুদ্রা নয়, এটি একটি বহুমুখী ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্ম যা আর্থিক লেনদেন, চুক্তি ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার জন্য বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে।

- সঠিক উত্তর: খ) ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং স্মার্ট কন্ট্র্যাক্ট প্ল্যাটফর্ম।
 
• ব্লকচেইন:
- ব্লকচেইন হলো একটি ডেটাবেজ প্রযুক্তি যা একটি লেজার বা রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং এই লেজারটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বিতরণ করা থাকে। 
- এই রেকর্ডগুলোকে ব্লক বলা হয়। 
- ব্লকচেইন প্রযুক্তি সর্বপ্রথম তৈরি করেন সাতোশি নাকামোতো নামে পরিচিত এক গোপন পরিচয়ের প্রোগ্রামার বা প্রোগ্রামারদের একটি দল। 
- ২০০৯ সালে তারা এই প্রযুক্তিটি বিটকয়েন নামক ক্রিপ্টোকারেন্সির কাঠামোর অংশ হিসেবে উদ্ভাবন করেন।
- লেনদেনগুলো ব্লক নামে পরিচিত গ্রুপে একত্রিত হয়। 
- ব্লকগুলো একটি ক্রমানুসারী সিকোয়েন্সে সাজানো থাকে, যাকে ব্লকচেইন বলা হয়। 
- ব্লকগুলো চেইনে যুক্ত করা হয় একটি গাণিতিক পদ্ধতির মাধ্যমে, যা একক ব্যবহারকারীর জন্য ব্লকচেইন পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।

এছাড়াও,
• বিটকয়েন (Bitcoin)
- বিটকয়েন হলো প্রথম, সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া এবং সবচেয়ে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি।
- বিটকয়েনের মালিকরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এটি অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে, অথবা বাস্তব মুদ্রায় যেমন মার্কিন ডলার বা ইউরোতে বিনিময় করতে পারেন।
- এছাড়া বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য ও সেবা কেনাও সম্ভব।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১৫৮.
ফিনটেকে মোবাইল ওয়ালেটের প্রধান সুবিধা কী?
  1. দ্রুত, ক্যাশবিহীন লেনদেন
  2. উচ্চ সুদের হার
  3. কাগজভিত্তিক রেকর্ড রাখার সুবিধা
  4. অর্থের ফিজিক্যাল নিরাপত্তা
ব্যাখ্যা

• ফিনটেক মোবাইল ওয়ালেটের প্রধান সুবিধা হলো দ্রুত, ক্যাশবিহীন লেনদেন। এটি ব্যবহারকারীদের যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে টাকা পাঠানো, গ্রহণ করা এবং পেমেন্ট করা সহজ করে। নগদ অর্থ বহন করার ঝুঁকি থাকে না এবং লেনদেনের প্রক্রিয়াটি মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন হয়। এছাড়া মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহারকারীর ব্যয় ও লেনদেনের রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করে, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে। এটি বিশেষভাবে শহরাঞ্চল এবং অনলাইন শপিংয়ে সুবিধাজনক, কারণ নগদ নগদ নিয়ে ঘোরার ঝামেলা বা নিরাপত্তার চিন্তা থাকে না। ফলে, দ্রুত এবং নিরাপদ লেনদেনই মোবাইল ওয়ালেটের মূল সুবিধা।

- সঠিক উত্তর: ক) দ্রুত, ক্যাশবিহীন লেনদেন।
 
• ফিনটেক (FinTech):
- আর্থিক (ফাইন্যান্সিয়াল) খাতে প্রযুক্তির (টেকনোলজি) ব্যবহারকে সংক্ষেপে ফিনটেক বলে।
- ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বোর্ডের (এফএসবি) মতে, ফিনটেক হলো প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম আর্থিক উদ্ভাবন। যেমন নতুন ব্যবসায়িক মডেল, মডেলের প্রয়োগ, প্রসেসিং, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদি, যা আর্থিক পরিষেবা খাতকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।
- ফিনটেক এরই মধ্যে পি-টু-পি, চেক জমা, অর্থের লেনদেন, বিল পরিশোধ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ক্রাউড ফান্ডিং ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।

• ফিনটেকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- ডিজিটাল ব্যাংকিং,
- মোবাইল পেমেন্ট (যেমন: bKash, Nagad),
- ব্লকচেইন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন: Bitcoin),
- অনলাইন লেনদেন ও ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম,
- ইন্সুরেন্স টেকনোলজি (InsurTech).

উৎস: IBM. 

১৫৯.
GUI উইজেটের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. ব্যবহারকারীর তথ্য স্থায়ীভাবে রাখা
  2. মেমোরি ব্যবহার উন্নত করা
  3. টেক্সট ইন্টারফেস সরবরাহ করা
  4. ব্যবহারকারীর সাথে অ্যাপ্লিকেশন ইন্টারঅ্যাকশন করা
ব্যাখ্যা

• GUI (Graphical User Interface)-এ উইজেটের (Widget) মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর সাথে অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে ইন্টারঅ্যাকশন সহজ ও কার্যকরভাবে করা। উইজেট হলো গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের ছোট উপাদান, যেমন বাটন, চেকবক্স, টেক্সটফিল্ড, স্লাইডার ইত্যাদি, যা ব্যবহারকারীকে সফটওয়্যার পরিচালনা করতে সাহায্য করে। এগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারী মেনু, ডায়লগ বক্স বা অন্যান্য ফিচারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে, কমান্ড টাইপ না করেও কাজ সম্পন্ন করতে পারে। উইজেট ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করে, সফটওয়্যারকে আরও ব্যবহারবান্ধব করে তোলে, এবং ব্যবহারকারীর ইনপুট গ্রহণ ও প্রদর্শনের প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) ব্যবহারকারীর সাথে অ্যাপ্লিকেশন ইন্টারঅ্যাকশন করা।

 
• চিত্রভিত্তিক বা গ্রাফিক্যাল অপারেটিং সিস্টেম:
- গ্রাফিক্সের বা চিত্রের মাধ্যমে কমান্ড প্রয়োগ করে কম্পিউটার পরিচালনা করা গেলে তাকে চিত্রভিত্তিক বা গ্র্যাফিক্যাল অপারেটিং সিস্টেম বলে।
- এ ধরনের অপারেটিং সিস্টেমে ডিস্ক ফরমেটিং থেকে শুরু করে ফাইল ব্যবস্থাপনা এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের সব কাজ করতে হয় বিভিন্ন প্রকার আইকন এবং পুলডাউন মেন্যু ব্যবহার করে।
- প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামের আইকনের ওপর মাউস দিয়ে ডবল ক্লিক করলে প্রোগ্রামটি চালু হয়।
- Windows 95/98/Xp/2000/7, Mac OS ইত্যাদি চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ।

• এই অপারেটিং সিস্টেমের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
১. চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে কম্পিউটার চালু করার পর ডেস্কটপে বিভিন্ন প্রোগ্রামের আইকন বা প্রতীক থাকে।
২. বিভিন্ন প্রকার আইকন এবং পুল ডাউন মেন্যু কমান্ড ব্যবহার করে কম্পিউটারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করা হয়।
৩. কমান্ডের জন্য মেন্যু এবং প্রতিটি মেন্যুর আওতায় অনেক পুল ডাউন মেনু কমান্ড থাকে।
৪. মাউসের সাহায্যে Icon এবং পুল ডাউন মেনু কমান্ড কার্যকরী করা যায়।
৫. নতুন কোনো হার্ডওয়‍্যার বা সফটওয়্যার সংযোগ করা হলে কম্পিউটার নিজে থেকে বুঝতে পারে কোথায় সংযোগ করা হয়েছে।
৬. নেটওয়ার্কিং, শেয়ারিং ও ইন্টারনেটব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর।
৭. এ ধরনের সিস্টেমের জন্য ব্যবহারকারীকে কোনো ধরনের কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয় না।
৮. মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম কার্যকর।
৯. এ ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য কম্পিউটারে বেশি মেমরির প্রয়োজন হয়।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
0xA কোন দশমিক সংখ্যা নির্দেশ করে?
  1. 9
  2. 10
  3. 11
  4. 12 
ব্যাখ্যা

• “0xA” হলো হেক্সাডেসিমাল (Hexadecimal) সংখ্যা, যা ১৬ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করে লেখা হয়। এখানে 0x একটি উপসর্গ বা প্রেফিক্স, যা নির্দেশ করে যে সংখ্যাটি হেক্সাডেসিমেল বা ১৬-ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতিতে আছে। হেক্সাডেসিমালে সংখ্যা 0–9 এবং অক্ষর A–F ব্যবহার করা হয়, যেখানে A মানে ১০, B মানে ১১, C মানে ১২, D মানে ১৩, E মানে ১৪, এবং F মানে ১৫। তাই 0xA-তে “A” অংশটি ১০ নির্দেশ করছে। যখন এটি দশমিক (Decimal) সংখ্যায় রূপান্তর করা হয়, তখন 0xA মানে সরাসরি ১০। সুতরাং, 0xA এর দশমিক মান হলো ১০। উত্তর হবে খ) 10
 
• হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা:
- হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা হলো এমন সংখ্যা যা ১৬ ভিত্তিতে লেখা হয়।
- এই সংখ্যাগুলোতে ব্যবহার করা হয় ০ থেকে ৯ পর্যন্ত ডিজিট এবং A থেকে F পর্যন্ত অক্ষর।
- এখানে A, B, C, D, E, F যথাক্রমে ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ মানে। তাই হেক্সাডেসিমাল সংখ্যায় G, H, Z অক্ষরগুলো থাকতে পারে না কারণ এগুলো হেক্সাডেসিমাল ভিত্তিতে স্বীকৃত নয়।

• সংখ্যা পদ্ধতি:
- কোন সংখ্যা লেখা বা প্রকাশ করার পদ্ধতিকে সংখ্যা পদ্ধতি বলে।
- সংখ্যা পদ্ধতির বেজ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে চার ধরনের সংখ্যা পদ্ধতির প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। যথা-
১. দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি (Decimal Number System),
২. বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি (Binary Number System),
৩. অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি (Octal Number System) ও
৪. হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতি (Hexadecimal Number System)।

- দশমিক সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি ১০।
- বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি ২।
- অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি ৮।
- হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি ১৬।

উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
- sciencedirect. 

১৬১.
নিচের কোনটি অ্যালগরিদমের সঠিক বিবরণ?
  1. সবসময় সঠিক সমাধান দেয়
  2. এগুলো কেবল কম্পিউটারে ব্যবহার হয়
  3. এগুলো শুধু সংখ্যার জন্যই
  4. সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো: ঘ) সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা।

অ্যালগরিদম হলো একটি সুসংগঠিত এবং ধাপে ধাপে প্রণীত নির্দেশনার সেট, যা কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি করা হয়। এটি কেবল কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য নয়, বরং যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োগ করা যেতে পারে। অ্যালগরিদমকে সংখ্যার সমস্যার সীমানায় সীমাবদ্ধ করা যায় না, কারণ এটি যেকোনো ধরণের ইনপুট বা ডেটার উপর প্রয়োগ করা যেতে পারে। মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত ধাপের মাধ্যমে কাজ করে এবং ফলাফল পাওয়ার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্দেশ করে। সুতরাং, অ্যালগরিদম মানে ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধানের নিয়মিত পদ্ধতি।
 
 • অ্যালগরিদম (Algorithm):
- অ্যালগরিদম হলো সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা।  
- এটি যেকোনো ধরণের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহার করা যায়, শুধুমাত্র সংখ্যার জন্য নয়।  
- অ্যালগরিদম সবসময় সঠিক সমাধান দিতে পারে, তবে নির্ভর করে নির্দেশনার সঠিকতার উপর।  
- এটি কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু কম্পিউটারের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়।  
- মূলত অ্যালগরিদম হলো ধাপে ধাপে পরিকল্পিত সমাধান প্রক্রিয়া।  

সুতরাং, অ্যালগরিদমের সঠিক সংজ্ঞা হল সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা।  
- সঠিক উত্তর: ঘ) সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা।

সূত্র:
- Cormen, Leiserson, Rivest, and Stein – Introduction to Algorithms (CLRS).

১৬২.
কর্মচারী তথ্যের টেবিলে, কোনটি প্রাইমারি কী হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত? 
  1. নাম 
  2. আইডি 
  3. বিভাগ 
  4. ঠিকানা
ব্যাখ্যা

• কর্মচারী তথ্যের টেবিলে প্রাইমারি কী হিসেবে এমন একটি ফিল্ড বেছে নেওয়া উচিত যা প্রতিটি রেকর্ডকে অনন্যভাবে চিহ্নিত করতে পারে এবং কখনোই পুনরাবৃত্তি হবে না। এখানে নাম, বিভাগ বা ঠিকানা অনন্য নাও হতে পারে, কারণ একাধিক কর্মচারীর একই নাম, একই বিভাগ বা একই ঠিকানা থাকতে পারে। তাই এগুলো প্রাইমারি কী হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। অন্যদিকে, আইডি সাধারণত প্রতিটি কর্মচারীর জন্য আলাদা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয়। এটি সব রেকর্ডকে এককভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম।
- তাই আইডি প্রাইমারি কী হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত, কারণ এটি ডেটা ইন্টেগ্রিটি বজায় রাখে এবং রিলেশনাল ডাটাবেসে দ্রুত অনুসন্ধান ও রেফারেন্স করার সুবিধা দেয়।

 
কী (Key) ফিল্ড:
- সাধারণত কোনো একটি ফিল্ডের উপর ভিত্তি করে ফাইলের রেকর্ড শনাক্তকরণ, অনুসন্ধান, সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি কাজগুলো করা হয়। এই ফিল্ডকে কী ফিল্ড বলে।
- কী ফিল্ডের সাহায্যে ডাটাবেজ থেকে রেকর্ড অনুসন্ধান করা, দুই ততোধিক ফাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা, ডাটাবেজের রেকর্ড শনাক্ত করা ইত্যাদি কাজ করা যায়।

কী ফিল্ড প্রধানত তিন ধরনের হতে পারে, যথা:
১. প্রাইমারি কী (Primary Key),
২. কম্পোজিট প্রাইমারি কী (Composite Primary Key),
৩. ফরেন কী (Foreign Key).

প্রাইমারি কী:
- যে ফিল্ড কোনো একটি রেকর্ডকে অদ্বিতীয়ভাবে (Unique) শনাক্ত করে তাকে প্রাইমারি কী বলে।
- কোনো ফাইলে সাধারণত এক বা একাধিক ফিল্ড থাকে।
- এই ফিল্ডগুলোর মধ্যে- একটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর একটিই থাকে।
- কোনো ফাইলে যে সকল ফিল্ডের ডাটাগুলো অদ্বিতীয় হয় সে সকল ফিল্ডই প্রাইমারি কী হওয়ার যোগ্য।

উৎস:
১) কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
২) মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৩.
কোনটি ISDN-এর একটি বৈশিষ্ট্য?
  1. শুধু মোবাইল নেটওয়ার্কে কাজ করে
  2. শুধু ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সমর্থন করে
  3. সবসময় অ্যানালগ সম্প্রচার
  4. একসঙ্গে ভয়েস ও ডেটা 
ব্যাখ্যা

• ISDN (Integrated Services Digital Network) হলো একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি যা একসঙ্গে ভয়েস, ডেটা, এবং ভিডিও ট্রান্সমিশনকে সমর্থন করে। এটি সাধারণ টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে উচ্চগতির এবং নির্ভরযোগ্য সংযোগ প্রদান করতে সক্ষম। ISDN কেবলমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্কে কাজ করে না, বরং স্থির ল্যান্ডলাইন নেটওয়ার্কেও ব্যবহৃত হয়। এটি শুধুমাত্র ইন্টারনেট অ্যাক্সেসের জন্য সীমাবদ্ধ নয় এবং অ্যানালগ সম্প্রচার নয়, বরং সম্পূর্ণ ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবহার করে। ISDN-এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো একসঙ্গে ভয়েস ও ডেটা ট্রান্সমিশন করা, যার ফলে ব্যবহারকারীরা একই লাইনে ফোন কল করার সময় ইন্টারনেট বা ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) একসঙ্গে ভয়েস ও ডেটা।
 
• ইন্টারনেটের সংযোগ পদ্ধতি:
- বর্তমানে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ধরনের পদ্ধতি আছে। বহুল প্রচলিত পদ্ধতিগুলো হলো
১. ডায়াল আপ সিস্টেম (Dial-Up System),
২. আইএসডিএন (ISDN),
৩. ব্রডব্যান্ড (Broadband),
৪. ওয়াই-ফাই (Wi-Fi),
৫. ওয়াইম্যাক্স (WiMax)।
ডায়াল আপ সিস্টেম

• ISDN:
- ISDN-এর পূর্ণ অর্থ হচ্ছে Integrated Service Digital Network.
- এটি নিয়মিত টেলিফোনের বিকল্প এক ধরনের টেলিফোন সার্ভিস।
- ISDN-এর সুবিধা হচ্ছে এটি নিয়মিত টেলিফোন লাইনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দ্রুত ডেটা ট্রান্সমিশন বা আদান-প্রদান করতে পারে।
- এটি ডেটা বহনের জন্য B (Bearer) চ্যানেল এবং সিগন্যালিংয়ের জন্য D (Delta) চ্যানেল ব্যবহার করে।
- তবে এটি সাধারণ টেলিফোন লাইনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।
- বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ ডেটা আদান-প্রদান করেতে হয়, সেখানে এ ধরনের সার্ভিস ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটানিকা।

১৬৪.
ব্লুটুথের কাজ করার পদ্ধতি কোন ধরনের সিগন্যালের মাধ্যমে?
  1. লেজার
  2. আল্ট্রাসাউন্ড
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. ইনফ্রারেড
ব্যাখ্যা

• ব্লুটুথ একটি ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তি যা ডিভাইসের মধ্যে ডেটা স্থানান্তরের জন্য ব্যবহার হয়। এটি মূলত রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে কাজ করে। ব্লুটুথ ডিভাইসগুলো সংক্ষিপ্ত দূরত্বে (সাধারণত ১০ মিটার পর্যন্ত) রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে তথ্য পাঠায় ও গ্রহণ করে। যখন দুটি ডিভাইস সংযোগ স্থাপন করে, তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একে অপরকে খুঁজে বের করে এবং নিরাপদ সংযোগ তৈরি করে। এই প্রযুক্তি আল্ট্রাসাউন্ড, লেজার বা ইনফ্রারেডের চেয়ে সুবিধাজনক, কারণ এটি বাধা পার হতে পারে এবং সরাসরি দৃশ্যের প্রয়োজন হয় না। ফলে ব্লুটুথ মোবাইল ফোন, হেডফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসের মধ্যে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

- সঠিক উত্তর: গ) রেডিও তরঙ্গ।

• ব্লুটুথ (Bluetooth):
- ব্লুটুথ হলো স্বল্প দূরত্বের ভেতর বিনা খরচে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য বহুলপ্রচলিত ওয়্যারলেস প্রযুক্তি।
- ব্লুটুথের সাহায্যে বিনা খরচে স্বল্প দূরত্বে থাকা আধুনিক প্রায় সকল ডিভাইস নিজেদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে বিধায় এটিকে তারবিহীন (Wireless) পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WPAN) প্রটোকল বলা হয়।
- এটি প্রযুক্তিগতভাবে IEEE 802.15 নামে পরিচিত।
- Bluetooth কার্যকরী পাল্লা হচ্ছে ১০ মিটার। তবে বিদ্যুৎ কোষের শক্তি বৃদ্ধি করে এর পাল্লা ১০০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
- বর্তমানে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, গেমিং কনসোল, ডিজিটাল ক্যামেরা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, জিপিএস রিসিভার প্রভৃতি যন্ত্রাদিতে Bluetooth প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।

• Wi-Fi এর IEEE স্ট্যান্ডার্ড IEEE 802.11.
• WiMAX এর IEEE স্ট্যান্ডার্ড IEEE 802.16.

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

১৬৫.
একটি কোম্পানির ওয়েব অ্যাপে হঠাৎ ট্রাফিক বৃদ্ধি ঘটে। কোন ক্লাউড ফিচার নিশ্চিত করে যে অ্যাপ ক্র্যাশ হবে না?
  1. Elasticity 
  2. Multi-tenancy
  3. Cloud bursting
  4. Virtualization
ব্যাখ্যা

• একটি কোম্পানির ওয়েব অ্যাপে হঠাৎ ট্রাফিক বেড়ে গেলে যে ক্লাউড ফিচারটি নিশ্চিত করে অ্যাপ ক্র্যাশ হবে না, তা হলো Elasticity. Elasticity বলতে ক্লাউড সিস্টেমের সেই ক্ষমতাকে বোঝায়, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিসোর্স (যেমন সার্ভার, CPU, RAM) বাড়ানো বা কমানো যায়। ট্রাফিক হঠাৎ বেড়ে গেলে ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম অতিরিক্ত রিসোর্স যুক্ত করে লোড সামলাতে পারে, ফলে অ্যাপের পারফরম্যান্স ঠিক থাকে এবং ব্যবহারকারীরা নির্বিঘ্নে সেবা পায়। অন্যদিকে Multi-tenancy, Cloud bursting বা Virtualization এই পরিস্থিতিতে সরাসরি অ্যাপ ক্র্যাশ প্রতিরোধের মূল ভূমিকা পালন করে না।
 
• ক্লাউড কম্পিউটিং:

- ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স যেমন- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা।
- ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৬০ এর দশ থেকে।
- ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার শুরু করে।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্লাউড স্টোরেজ হলো: মেগা, ড্রপবক্স, ওয়ান ড্রাইভ, গুগল ড্রাইভ ইত্যাদি।

• সেবার ধরন অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিং কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
- অবকাঠামোগত সেবা,
- প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক সেবা ও
- সফটওয়্যার সেবা।

• ক্লাউড কম্পিউটিং এর বৈশিষ্ট্য তিনটি।যথা:
- Resource Scalability,
- On Demand এবং
- Pay as you go.

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

১৬৬.
‘ধরলা ও আত্রাই’ কোন নদীর উপনদী?
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. যমুনা 
  4. কর্ণফুলি 
ব্যাখ্যা

- ‘ধরলা ও আত্রাই’ যমুনা নদীর উপনদী।

যমুনা (ব্রহ্মপুত্র):

- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- তারপর তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রামের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- একটি যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- অপর শাখা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে। জানা যায়, দুইশত বৎসর আগে এটিই ব্রহ্মপুত্রের মূল গতিধারা ছিল।

• উপনদী: তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, কালজানি, তোরসা, জলঢাকা, নাগর, দুপচাপিয়া, যমুনেশ্বরী, রায়ঢাক, ধবলা, ঘাঘট, বাঙালি, বড়াল, গঙ্গা, নারদ নদ, ধবল বা দুধকুমার, তুলসী গঙ্গা, শিব বরনাই।

• শাখা নদী: ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।

উৎস: অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৭.
চীন ও জাপান উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী?
  1. বাগুই
  2. হারিকেন
  3. সাইক্লোন
  4. টাইফুন
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- সকল প্রকার বায়ুমন্ডলীয় গোলযোগের মধ্যে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী গোলযোগ হলো ঘূর্ণিঝড়।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে এদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।
- এদের নাম ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন (cyclone),
- চীন ও জাপান উপকূলে হলো টাইফুন (Typhoon),
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই (Baguio),
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ (willy willies)
- এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হলো হারিকেন (Hurricane)।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৮.
প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. ব্রাজিল
  2. আর্জেন্টিনা
  3. পেরু
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি (Patagonian Desert):
- প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি, যা প্যাটাগোনিয়ান স্টেপ (Patagonian Steppe) নামেও পরিচিত,
- এটি আর্জেন্টিনার বৃহত্তম মরুভূমি।
- আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম মরুভূমি।
- এই মরুভূমিটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত।
- এর সিংহভাগ অংশ আর্জেন্টিনায় অবস্থিত এবং কিছু অংশ চিলিতে পড়েছে।

• বিভিন্ন দেশের কয়েকটি বিখ্যাত মরুভূমি: 
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা (১১টি দেশ জুড়ে)
- আরবীয়ান মরুভূমি: এশিয়া (আরব উপদ্বীপ)
- গোবি মরুভূমি: এশিয়া (মঙ্গোলিয়া, চীন)
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া  মরুভূমি: অস্ট্রেলিয়া
- কালাহারি মরুভূমি: আফ্রিকা (নামিবিয়া, বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা)।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

১৬৯.
নিচের কোনটি পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি?
  1. স্পেনের মেসেটা মালভূমি
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি
  4. আফ্রিকার দক্ষিণ মালভূমি
ব্যাখ্যা

পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি:
- ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হবার সময় পর্বত দ্বারা বেষ্টিত নিম্নস্থান সমূহ উঁচু হয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি করে তাই পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি।
- এ ধরনের মালভূমির উচ্চতা সাধারণত ৩০০০-৫০০০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- উৎপত্তি: সংকোচনজনিত চাপের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের মাঝে এ ধরণের মালভূমি সৃষ্টি হয়।
- এছাড়া পাত সঞ্চালন এবং ভূ-আলোড়নের সময় কখনও কখনও ভূ-পৃষ্ঠের ভঙ্গিল পর্বত শ্রেণী তাদের মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্থানসমূহকে ওপরে তুলে আনে এবং মালভূমিতে পরিণত করে। এভাবে গঠিত মালভূমি পর্বত বেষ্টিত থাকে বলে একে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে।
- উদাহরণ: তিব্বতের মালভূমি।
- উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিনে হিমালয় পর্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চল জুড়ে তিব্বত মালভূমি অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ও উচ্চতম মালভূমি। তিব্বত মালভূমির গড় উচ্চতা ৪০০০ মিটারের বেশি।
- এছাড়া এশিয়ার আল তিতাগ ও তিয়েনশান পর্বতমালার মধ্যে তারিম মালভূমি,
- এলবুর্জ ও জাগ্রোস পর্বত শ্রেণীর মধ্যে ইরানের মালভূমি পর্বত।

অপরদিকে,
- আগ্নেয়জাত মালভূমি: ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।
- ক্ষয়জাত মালভূমি: দক্ষিণ ভারতের মালভূমি, সৌদি আরবের মালভূমি, সাইবেরিয়ার পূর্ব মালভূমি, আফ্রিকার দক্ষিন মালভূমি ক্ষয়জাত মালভূমি।
- চ্যুতি বিশিষ্ট মালভূমি: স্পেনের মেসেটা মালভূমি।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭০.
৪৯তম সমান্তরাল রেখা কোন দুটি দেশের সীমানা হিসেবে পরিচিত? 
  1. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  3. উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
  4. জার্মানি ও পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা

 ৪৯তম সমান্তরাল রেখা:
- ৪৯তম সমান্তরাল রেখা হলো উত্তর গোলার্ধের একটি অক্ষাংশ রেখা যা বিষুবরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে অবস্থিত।
- এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা-র মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
- বিখ্যাত নাম: এটিকে প্রায়ই 'বিশ্বের দীর্ঘতম অরক্ষিত সীমান্ত' (The world's longest undefended border) বলা হয়।
- দৈর্ঘ্য: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার এই সীমান্ত রেখাটি প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার (১,২৩০ মাইল) দীর্ঘ।

• ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ব্রিটিশ এবং মার্কিন সরকারের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্কের পর ওরেগন চুক্তির মাধ্যমে রকি পর্বতমালা থেকে প্রশান্ত মহাসাগর (জর্জিয়া প্রণালী) পর্যন্ত ৪৯তম সমান্তরালকে সীমানা হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

• কয়েকটি সীমারেখা: 
- রেডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line): ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন (McMahon Line): ভারত ও চীনের মধ্যবর্তী সীমারেখা (মূলত অরুণাচল প্রদেশ অংশে)।
- ডুরান্ড লাইন (Durand Line): পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমানা।
- ৩৮তম সমান্তরাল রেখা (38th Parallel): উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার সীমানা।
- ৪৯তম সমান্তরাল রেখা (49th Parallel): যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যবর্তী সীমানা (এটি বিশ্বের দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন সীমানা)।
- হিন্ডেনবার্গ লাইন (Hindenburg Line): জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যবর্তী সীমারেখা।
- ম্যাজিনো লাইন (Maginot Line): ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যবর্তী সীমানা।
-  ১৭তম সমান্তরাল রেখা: উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের মধ্যকার পূর্ববর্তী সীমানা (বর্তমানে এটি কার্যকর নয় কারণ ভিয়েতনাম এখন একীভূত)।
- লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC): ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর অঞ্চলের অঘোষিত সীমানা।
- লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC): ভারত ও চীনের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১৭১.
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় ভূমিকম্প হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. তাপ সংকোচন
  2. বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপ
  3. পাহাড় ধসের কারনে
  4. ভূমিধস
ব্যাখ্যা

- আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপে ভূমিকম্প হয়।

ভূমিকম্পের কারণ:

- সাধারণত: প্রাকৃতিক ভূমিকম্প আভ্যন্তরীন ও কৃত্রিম ভূমিকম্প বাহ্যিক কারণে হয়।
- ভূমিকম্পের নিম্নলিখিত কারণসমূহ নির্ণয় করেছেন-
১. কোন কারণে ভূ-অভ্যন্তরে বড় রকমের শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়। চ্যুতির ফলে কোন অংশ নীচে ধ্বসে যায় বা
উপরে উঠে আসে। নীচের অংশ যতই তলদেশে যায় ততই তাপে গলে শক্তি বের হয়ে ফাটল সৃষ্টি করে বলে উপরের অংশে কম্পণ হয়।
২. ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবল ফ্রিকশান (friction) হয়ে কতক অংশ ধসে পড়ে (land slip), ফলে ভূ-ত্বক কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়।
৩. ভ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত। তাই তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হচ্ছে। ফলে শিলাস্তর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্থান পরিবর্তন করলে ভূ-ত্বক কম্পিত হয়।
৪.ভূ-গর্ভে সঞ্চিত বাষ্প-চাপ বেশী হলে নিম্নভাগে প্রবলভাবে ধাক্কা দেয়, এতে ভূমিকম্প হয়।
৫. ভূ-গর্ভে চাপ হ্রাস পেলে এর অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত কঠিন পদার্থ গলে নিচের দিকে অপসারিত ও আলোড়িত হতে থাকে, এতে ভূ-ত্বক কেঁপে ওঠে।
৬. Elastic Rebound এর কারণে শিলাস্তর নিচের দিকে পতিত হলেও ধাক্কা খেয়ে পূর্বের স্থানে ফিরে ভূত্বক-এ ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
৭. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপে ভূমিকম্প হয়।
৮. পাহাড় পর্বত থেকে বড় রকম শিলাচ্যুতি হলে ভূমিকম্প হয়।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭২.
আফ্রিকার কোন অঞ্চল নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল?
  1. সাহারা মরুভূমি
  2. কালাহারি মরুভূমি
  3. কঙ্গো নদীর অববাহিকা
  4. মাগরেব অঞ্চল
ব্যাখ্যা

- আফ্রিকার  কঙ্গো নদীর অববাহিকা নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:

- নিরক্ষীয় অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল উষ্ণ জলবায়ু।
- এই অঞ্চলের জলবায়ু  সবসময় জলবায়ু একই রকম থাকে।
- দিন রাত্রির মধ্যে তেমন পার্থক্য নাই।
- ঋতুর পরিবর্তন এই অঞ্চলে দেখা যায় না। ফলে সবসময় গ্রীষ্মঋতু পরিলক্ষিত হয়।
- দিনের প্রথমদিকে জলবায়ু আরামদায়ক।

বিশ্বের নিম্নোক্ত অঞ্চলের দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল: 

• দক্ষিণ আমেরিকা:
- দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূল। আমাজান নদীর অববাহিকা, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ার দক্ষিণাংশ এবং পেরুর উত্তর পশ্চিমাঞ্চল।

• মধ্য আমেরিকা:
- মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, নিকারাগুয়া, হুগুরাস, কোষ্টারিকা।

• আফ্রিকা:
- কঙ্গো নদীর অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় অঞ্চল।

• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া:
- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইনের দক্ষিণ দ্বীপ পুঞ্জাঞ্চল।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৩.
পাদদেশীয় পলল সমভূমি দেখা যায় বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে?
  1. খুলনা-বাগেরহাট
  2. রংপুর-দিনাজপুর
  3. চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
  4. কুমিল্লা-নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

পাদদেশীয় পলল সমভূমি:
- পাহাড়ের পাদদেশে নদীবাহিত পানি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গড়ে ওঠে তাকে পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলে।
- বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানই পাদদেশীয় পলল সমভূমি নামে পরিচিত।
- তিস্তা, আত্রাই, যমুনেশ্বরী প্রভৃতি নদী দ্বারা এ অঞ্চল বিধৌত।
- এসব নদী হিমালায় পর্বত হতে উৎপন্ন হয়েছে। ফলে নদীগুলো সহজেই পাহাড় হতে পলল বহন করে এ অঞ্চলে সঞ্চয় করে পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে।
- পাহাড়ের পাদদেশে দুই বা ততোধিক পলল পাখা বা কোণ মিলিত হয়েও পাদদেশীয় পলল সমভূমি গঠন করতে পারে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৪.
গ্রানাইট ও গ্যাব্রো কোন ধরনের শিলা? 
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা 
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আগ্নেয়শিলা (Igneous Rocks):
- আদিম অবস্থায় পৃথিবী উত্তপ্ত গলিত অবস্থায় ছিল।
- সেখান থেকে আস্তে আস্তে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়ে যে শিলার উৎপত্তি তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- অগ্নিময় অবস্থা থেকে এই শিলার সৃষ্টি হয় বলে একে আগ্নেয় শিলা বলা হয়।
- কারণ ইগনিয়াস (Igneous) শব্দের অর্থ আগুন। সকল প্রকার শিলার মধ্যে আগ্নেয়শিলা সর্ব প্রথম সৃষ্টি হওয়ায় একে প্রাথমিক শিলাও (Primary Rock) বলা হয়।
- ইহার মধ্যে স্তর নাই বলে একে অস্তরীভূত শিলাও (Unstratified) বলা হয়।
- উদাহরণ: ব্যাসল্ট, গ্রানাইট, গ্যাব্রো।

অন্যদিকে,
• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks): 
- আগ্নেয় এবং পাললিক এই উভয় প্রকার শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে নুতন এক প্রকার শিলায় পরিণত হয়। 
- উদাহরণ: চুনাপাথর (limestone) পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল (marble)
- বেলেপাথর (sandstone) পরিবর্তিত হয়ে  কোয়ার্টজাইটে (Quartgite)
- কাদা (clay)  পরিবর্তিত হয়ে  স্লেটে (slate)
- গ্রানাইট (granite)  পরিবর্তিত হয়ে নীসে (gneiss)
- কয়লা (coal)পরিবর্তিত হয়ে  গ্রাফাইটে (Graphite) পরিণত হয়।

• পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রাথমিক শিলাগুলো যুগ যুগ ধরে রৌদ্র, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ সাগর তরঙ্গ প্রভৃতির নানা প্রকার ঘাত প্রতিঘাত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খন্ড বিখন্ড ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে বালি, কাঁকর, কাদা প্রভৃতিতে পরিণত হয়।
- পাললিক শিলা: চুনাপাথর, বেলে পাথর, পাথুরিয়া কয়লা, সৈন্ধব লবন, খড়িমাটি প্রভৃতি।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৫.
জবাবদিহিতা মূলত কোন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল?
  1. গণমাধ্যম
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন
  4. প্রশাসনিক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: 
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের প্রধান উপাদান।
- এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের উপর নির্ভর করে।
- জবাবদিহিতার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের জবাবদিহিতাও আবশ্যক।
- দুর্নীতি কমাতে ও রাজনৈতিক উন্নয়নে জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
- আইন ও নীতি মান্য করে যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে স্বচ্ছতা বলে।
- সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে সহজেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
- স্বচছতা প্রতিষ্ঠা পেলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৬.
"আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি”- উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. এরিস্টটল
  3. স্যার হেনরি মেইন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা

আইন: 
- আইন ফার্সি শব্দ। ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।

• আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
- আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"

উল্লেখ্য,
- আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন।
- তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৭.
অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোকে কী বলা হয়?
  1. নাগরিকের কর্তব্য
  2. সামাজিক শৃঙ্খলা
  3. রাজনৈতিক সহনশীলতা
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।
- অন্যদিকে গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।
- বর্তমান সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে হানাহানি, প্রতিহিংসা ও সংঘাত লেগেই থাকে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
- দীর্ঘ সময়ের সামষ্টিক উদ্যোগের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৮.
সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের জীবনে কী নির্ধারণে সাহায্য করে?
  1. সামাজিক স্তর
  2. সামাজিক দ্বন্দ্ব
  3. জীবনের লক্ষ্য ও প্রাপ্তি
  4. সামাজিক শ্রেণি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড কুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৯.
মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্য কোনটি অপরিহার্য?
  1. সম্পদ
  2. ক্ষমতা
  3. স্বাধীনতা
  4. প্রশাসন
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- স্বাধীনতা মানুষের জীবনকে নিরাপদ এবং মর্যাদাসম্পন্ন করে।
- ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং নতুন কিছু সৃষ্টির সুযোগ করে দেয়।
- স্বাধীনতা মানুষের মধ্যে অধিকার বোধ জাগ্রত করে।
- স্বাধীনতা থাকলেই মানুষ তার প্রাপ্য আদায় করতে পারে।
- পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত থেকে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়।
- স্বাধীনতা ব্যক্তির জীবনে শান্তি, উন্নতি ও কল্যাণ বয়ে আনে।
- তাই মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। 
- সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম, কর্ম সকল ক্ষেত্রেই স্বাধীনতার প্রয়োজন।
- স্বাধীনতা জীবনকে নিরাপদ, মহীয়ান, গৌরবময় করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি  প্রোগ্রাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি?
  1. দারিদ্র্য
  2. দুর্নীতি
  3. বেকারত্ব
  4. নিরক্ষরতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

• বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সিপিডি।

১৮১.
‘কর্তব্যমুখী নৈতিকতা’ কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. কর্মের ফলাফল
  2. কর্মের পরিণতি
  3. কর্মের ধরন
  4. ব্যক্তিগত সুখ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানুষকে কোন গুণের শিক্ষা দেয়?
  1. কর্তৃত্ব
  2. সহনশীলতা
  3. প্রতিযোগিতা
  4. শাসন
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে।
- এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যমতে পৌঁছানো জরুরি, যা কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব।
- সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যসম্পাদনকারী ব্যক্তিবর্গের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়া উচিত।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ থেকে বিরত থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৩.
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের কারণ নয় কোনটি?
  1. দুর্বল সংসদ
  2. অনুন্নত রাজনৈতিক দল
  3. শক্তিশালী বিরোধীদল
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব
ব্যাখ্যা

- জবাবদিহিতার অভাবের কারণ নয়- শক্তিশালী বিরোধীদল।
- জবাবদিহিতার অভাবের কারণ বিরোধীদল দুর্বল হলে।

• রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব: 

- বাংলাদেশের সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জবাবদিহিতার অভাব।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে।
- এগুলো হল:
- প্রশাসনিক জটিলতা,
- দুর্বল সংসদ,
- অনুন্নত রাজনৈতিক দল,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব এবং
- দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা। 

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংসদে কোন শক্তিশালী বিরোধীদল ছিল না।
- এ কারণে সংসদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে না। আমলারা অনেক সময় জনগণের সামনে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রচার করতে চায় না।
- শাসক শ্রেণীরও একটি অংশ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।
- এই অস্বচ্ছতা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৪.
‘অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ ১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৮
  3. অনুচ্ছেদ ২১
  4. অনুচ্ছেদ ১১
ব্যাখ্যা

সুশাসন সম্পর্কিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১১: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার,
- অনুচ্ছেদ ১৭: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ,
- অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা,
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ,
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন,
- অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা,
- অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের সমতা,
- অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৮৫.
রাজনৈতিক দুর্বলতার ফলে বাংলাদেশে কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? 
  1. গণতন্ত্র
  2. আমলাদের কর্তৃত্ববাদ
  3. শক্তিশালী সুশীল সমাজ
  4. সামরিক শাসন
ব্যাখ্যা

আমলাতান্ত্রিকতা ও দুর্বল সুশীল সমাজ: 
- রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশে আমলাদের কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- তাঁরা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ক্ষমতা ও নীতিমালা প্রয়োগ করছে।
- দেশের সুশীল সমাজ অত্যন্ত দুর্বল।
- তারা অনেক বিষয়ে রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করে সরকারের বিভিন্ন অন্যায় কার্যক্রমের সমালোচনা না করে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- বাংলাদেশের সুশীল সমাজ কার্যত সরকার ও বিরোধী দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
- ফলত সুশীল সমাজ কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস কোনটি? 
  1. ধর্ম
  2. ন্যায়বিচার
  3. আইনসভা
  4. প্রথা 
ব্যাখ্যা

আইনসভা:
- আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভাই হচ্ছে আইনের প্রধানতম উৎস।
- আইনসভা সমাজের প্রয়োজনের সাথে সংগতি রেখে নতুন নতুন আইন তৈরি করে, আইনের রদবদল ও সংশোধন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ।
- তাই আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে থাকে।
- সুতরাং আইনসভাই হচ্ছে আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এই ছয়টি উৎস ছাড়াও কেউ কেউ জনমতকে আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপেনহেম (Openheim) বলেন, 'জনমত আইনের অন্যতম উৎস'। জনমতের প্রভাবে সরকার অনেক আইন তৈরি করে।

• আইনের উৎসসমূহ:
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আইনের উৎসসমূহ নিম্নরূপ-
১। প্রথা বা রীতিনীতি;
২। ধর্ম;
৩। বিচারকের রায়;
৪। ন্যায়বিচার;
৫। বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬। আইনসভা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৭.
মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- 
  1. গণমাধ্যম
  2. প্রশাসন
  3. আইনের শাসন
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন: 
- সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- প্রশাসনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন থাকা দরকার।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়। আইন হতে হবে অবশ্যই নিরপেক্ষ।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

অপরদিকে,
• অংশগ্রহণ: 
- পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান।
-সুশাসনের মূল ভিত্তি নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ। 
- বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব। 
- অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।