পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান: টপিক: ১৯৭১ এর অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়াবলি। -------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
পাকিস্তান বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' কবে পরিচালনা করে?
  1. ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
  3. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ
  4. ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তান বাহিনীর মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- পাঁচ পৃষ্ঠার এই পরিকল্পনাটি রাও ফরমান আলী নিজ হাতে লিখেন।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম রাজা।
- লে. জেনারেল টিক্কা খান ৩১ ফিল্ড কমান্ডে উপস্থিত থেকে অপারেশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
- পাকিস্তান বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এর এই অপারেশনের নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইটে' অংশ গ্রহণ করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাতের অভিযানে প্রকৃত হতাহতের হিসাব পাওয়া যায় না।
- বিদেশি সাংবাদিকদের ২৫ মার্চ অভিযানের আগেই দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
- দেশি সংবাদপত্রের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ সম্পর্কে তেমন বিশেষ কিছু জানা যায় না।
- জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লুকিয়ে থাকা তিন বিদেশি সাংবাদিক আর্নল্ড জেটলিন, মাইকেল লরেন্ট, সাইমন ড্রিং-এর লেখনী থেকে সে রাতের ভয়াবহ নৃশংসতা সম্পর্কে জানা যায়।
- সাইমন ড্রিং ‘ডেটলাইন ঢাকা’ শিরোনামে ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তাতে ইকবাল হলের ২০০ ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় শিক্ষক ও তাদের পরিবারের ১২ জন নিহত হওয়ার সংবাদ পরিবেশিত হয়।
- পুরনো ঢাকায় পুড়িয়ে মারা হয় ৭০০ লোককে।
- দেশি বিদেশি বিভিন্ন সূত্র থেকে যে বিবরণ পাওয়া যায় তাতে ওই রাতে শুধু ঢাকায় ৭ হাজার বাঙালি নিহত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া।
.
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় কবে?
  1. ১৯৭২ সালের ১লা মার্চ
  2. ১৯৭০ সালের ২রা মার্চ
  3. ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ
  4. ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ: 
- পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ১লা মার্চ স্থগিত ঘোষণা করেন।
- এ ঘোষণার প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র, শ্রমিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- বিভিন্ন স্থানে জনতা পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ করে।
- সারাদেশে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে বহু লোক নিহত ও আহত হয়।
- ঐদিন (১৯৭১ সালের ১লা মার্চ) 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- এ সংগঠনের উদ্যোগে ২রা মার্চ দেশব্যাপী ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
- এদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  2. এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায়।
- এ সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান। 

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার
পদবি নাম
রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ
অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ৯টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
২ নং সেক্টরের প্রথম সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর:   
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল। 
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো বেলোনিয়া সূচিবুূ্যহ প্রতিরক্ষা।
- ১ নং ও ২ নং সেক্টরের বাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলে ২১ জুন পর্যন্ত বেলোনিয়া সূচিব্যুহের প্রবেশপথ সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল।
- ২ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি নিয়মিত কোম্পানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
ময়মনসিংহ কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ৫ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৯ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১১ নং সেক্টর:  
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের।
- মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।
- এই সেক্টরে প্রায় ২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছে।
- এই সেক্টরে আটটি সাব-সেক্টর।  
- এই সেক্টরে ব্যাপক গেরিলা অপারেশন পরিচালিত হয়।
- টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী তার জেলায় ১৬০০০ গেরিলা যোদ্ধা সংগঠিত করেন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
কোন সেক্টরে নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না?
  1. ৭ নং সেক্টর
  2. ৯ নং সেক্টর
  3. ১০ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১০ নং সেক্টর:   
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রপথে পাকিস্তানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ছিল নৌ-কমান্ডো আক্রমণের উদ্দেশ্য।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
- অপারেশনের সময় কমান্ডোদের কাজের নিয়ন্ত্রণ থাকত যে এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হবে সে এলাকার সেক্টর কমান্ডারের ওপর।
- এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।
- এই আটজন বাঙালি নাবিককে ভারতীয় নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় দিল্লির পার্শ্ববর্তী যমুনা নদীতে বিশেষ নৌ-প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
- এর পর পাকিস্তান নৌবাহিনীর কিছুসংখ্যক নৌ-সেনা এদের সঙ্গে এসে যোগ দেন।
- বিভিন্ন সেক্টর থেকে এমন ১৫০ জন ছাত্র ভলান্টিয়ারকে বাছাই করা হয় যারা দক্ষ সাতারু হিসেবে পরিচিত এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য এই ক্যাম্পে পাঠানো হয়।
- তাদের বোমা নিক্ষেপ এবং জাহাজ ধ্বংসের জন্য লিম্পেট মাইন ব্যবহারের কৌশল শিক্ষা দেয়া হয়।
- প্রশিক্ষণ শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এদের চারটি দল চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, দাউদকান্দি ও মংলা বন্দরে পাঠানো হয়।
- এদের দায়িত্ব ছিল উপকূলে নোঙ্গর করা জাহাজ ধ্বংস করা।
- পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে (১৪ আগস্ট) এই চারটি দল একযোগে আক্রমণ চালিয়ে বেশ কিছুসংখ্যক পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস করে।
- এ ডব্লিউ চৌধুরীর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োজিত দলটি পাকিস্তানি কার্গো জাহাজ এমডি ওহ্রমাজ্দ ও এমভি আল-আববাস সহ সাতটি জাহাজ ধ্বংস করে।
- এর পর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশের সকল বন্দরে অনুরূপ আরো কয়েকটি অপারেশন চালানো হয় এবং বেশ কিছুসংখ্যক সমুদ্রগামী ও উপকূলীয় জাহাজ বন্দরে ডুবিয়ে দেয়া হয়।
- পরে ভারতীয় কমান্ডার এম.এন সুমন্ত এ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল প্রণয়ন করা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল কী নামে পরিচিত হয়?
  1. মালনীছড়া রণকৌশল
  2. তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
  3. মুজিবনগর রণকৌশল
  4. বৈদ্যনাথপাড়া রণকৌশল
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
- ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া রণকৌশল নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- তেলিয়াপাড়াকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিসাক্ষী হিসেবে পরিচিত করার মূল ভূমিকা পালন করেন ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ।
- ২৭ মার্চ মেজর শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্রোহ শুরু হয়, যেখানে কয়েকজন পাক সেনা অফিসার বন্দী হন।
- এরপর মেজর খালেদ মোশাররফ অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন এবং বিদ্রোহের সংবাদ ছড়িয়ে দেন।
- ২৮ মার্চ সম্ভাব্য বিমান হামলা এড়াতে ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের সদর দপ্তর তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থানান্তরিত হয়।
- ৪ এপ্রিল এখানে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
- ভারতীয় বিএসএফ-এর ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে এবং আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গলসহ বাংলাদেশের বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তা ও কর্নেল ওসমানী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
- এ সভার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক পরিকল্পনা গৃহীত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
অপারেশন সার্চলাইট এর সার্বিক দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
  2. বিগ্রেডিয়ার আরবাব
  3. মেজর জেনারেল খাদিম রাজা
  4. মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট: 
- ২৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাঙালিদের উপর অপারেশন চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি সদরদপ্তর স্থাপন করা হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর তত্ত্বাবধানে প্রথম সদরদপ্তরটি গঠিত হয়। 
- ৫৭তম বিগ্রেডের বিগ্রেডিয়ার আরবাবকে শুধু ঢাকা নগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এবং মেজর জেনারেল খাদিম রাজাকে প্রদেশের অবশিষ্টাংশে অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- অপারেশনের সার্বিক দায়িত্বে থাকেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০.
মুক্তিবাহিনীর চীফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী
  2. লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম.এ রব
  3. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানি সৈন্যদের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার অদম্য বাসনায় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীরা মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করে যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র চালনা ও বিস্ফোরক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
- প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বিভিন্ন সেক্টরে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত করা হয়।
- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে বাংলাদেশ বাহিনীর সদরদপ্তর স্থাপিত হয়।
- ১২ এপ্রিল থেকে এই সদরদপ্তর কার্যক্রম শুরু করে।
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম.এ রব এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকারকে যথাক্রমে চীফ অব স্টাফ এবং ডেপুটি চীফ অব স্টাফ নিয়োগ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
কার অধিনায়কত্বে ‘জেড ফোর্স’ গঠিত হয়
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. সফিউল্লাহ
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত ও অনিয়মিত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
- নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।
- খালেদ মোশাররফের অধিনায়কত্বে ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কোথায় গঠিত হয়?
  1. আগরতলা
  2. কলকাতা
  3. আসাম
  4. নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী: 
- নাগাল্যান্ডের দিমাপুরে ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হয়।
- এর সংগঠক ছিলেন এয়ার কমোডর এ.কে খন্দকার।
- স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম, ক্যাপ্টেন খালেক, সাত্তার, শাহাবুদ্দিন, মুকিত, আকরাম, শরফুদ্দিন এবং ৬৭ জন বিমানসেনা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।
- তাদের সম্বল ছিল মাত্র কয়েকটি ডাকোটা, অটার টাইপ বিমান এবং অ্যালুভেট হেলিকপ্টার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
যৌথ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন কে?
  1. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
  2. কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী
  3. লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  4. মেজর জেনারেল জ্যাকব
ব্যাখ্যা
যৌথ কমান্ড গঠন: 
- ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা যৌথ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।
- অবশ্য ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অমৃতসর, শ্রীনগর ও কাশ্মীর উপত্যকায় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বোমা বর্ষণের পর থেকেই মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে।
- তখনই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উপর নির্দেশ আসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রত্যাঘাত করার।
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ক্রমশ অগ্রসর হতে থাকে।
- ফলে পাকিস্তানি সৈন্যদের পরাজয় ও আত্মসমর্পণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
- বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন এতে ভেটো প্রয়োগ করায় এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪.
অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করে কোন বাহিনী?
  1. মুক্তিবাহিনী
  2. মুক্তিফৌজ
  3. নৌ-কমান্ডো বাহিনী
  4. বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:  
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র লিপিবদ্ধ করেন কে?
  1. এম এ হান্নান
  2. ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে কারা?
  1. রাজাকার
  2. আলবদর
  3. আলশামস
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি: 
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে উঠে।
- তাদের প্রধান লক্ষ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এদেশের ছাত্রসমাজ, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়।
- পাকিস্তানিরা বিশ্বাস করত পূর্ব পাকিস্তানের আন্দোলন সংগ্রামের পেছনে ভারতের ইন্ধনে হিন্দুরা কাজ করছে।
- রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনী পৌঁছে যায়।
- মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে।
- পরিকল্পিতভাবে এদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য পাকিস্তানি বাহিনী বরেণ্য সাহিত্যিক, শিল্পী, কবি, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
- পাকিস্তানি বাহিনীকে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
১নং সেক্টর কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. ময়মনসিংহ
  4. নৌ-সেক্টর
ব্যাখ্যা
১নং সেক্টর:   
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর ছিল। 
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।