পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - শব্দ প্রকরণ [প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
নতুন শব্দ গঠনে কিসের পরে অর্থহীন শব্দাংশ যুক্ত হয়?
  1. ধাতুর পরে
  2. শব্দের পরে
  3. বিভক্তির পরে
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন-
- বাঘ + আ = বাঘা;
- দিন + ইক = দৈনিক;
- দুল্ + অনা = দোলনা;
- কৃ + তব্য = কর্তব্য।

• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।
• প্রত্যয় দুই প্রকার। যথা:
১. কৃৎ-প্রত্যয়,
২. তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
মালিক অর্থে 'ই' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে কোনটিতে?
  1. উমেদারি
  2. জমিদারি
  3. পোদ্দারি
  4. সরকারি
ব্যাখ্যা
• মালিক অর্থে 'ই' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে - জমিদারি তে।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ই / ঈ - প্রত্যয়:
(ক) ভাব অর্থে: বাহাদুর + ই = বাহাদুরি, উমেদার - উমেদারি।
(খ) বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ডাক্তার - ডাক্তারি, মোক্তার - মোক্তারি, পোদ্দার - পোদ্দারি, ব্যাপার - ব্যাপারি, চাষ - চাষি।
(গ) মালিক অর্থে: জমিদার - জমিদারি, দোকান - দোকানি।
(ঘ) জাত, আগত বা সম্বন্ধ বোঝাতে: ভাগলপুর - ভাগলপুরি, মাদ্রাজ - মাদ্রাজি, রেশম - রেশমি, সরকার - সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। - বাক্যটির ঘটনা অতীতের কিন্তু ক্রিয়া কোন কালের?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। - বাক্যটির ঘটনা অতীতের কিন্তু ক্রিয়া সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের।

ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ -
  1. ঘাটাল
  2. বেতানো
  3. মাতাল
  4. রসালো
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মাতাল (√মাত্‌ + আল)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঘাটাল (ঘাট + আল)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - রসালো (রস + আলো)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'নিন্দা' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ -
  1. ইতরামি
  2. কুঁজো
  3. চোরা
  4. জেঠামি
ব্যাখ্যা
• 'নিন্দা' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জেঠা - জেঠামি

অন্যদিকে,
• 'ভাব' অর্থে = ইতর - ইতরামি।
• বিশেষণ গঠনে = কুঁজ - কুঁজো।
• 'অবজ্ঞা' অর্থে = চোর - চোরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
.
তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো। - বাক্যটি কোন প্রকার অতীত কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
• তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো। - বাক্যটি নিত্যবৃত্ত অতীত কাল নির্দেশ করে।

নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
(২) অসম্ভব কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
(৩) সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'চোখা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে যে অর্থ প্রকাশ পায় -
  1. অবজ্ঞা
  2. জাত
  3. সদৃশ
  4. স্বার্থ
ব্যাখ্যা
• 'চোখা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে যে অর্থ প্রকাশ পায় - স্বার্থ

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
এরূপ - কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
এরূপ - রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা > লোনা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।
(চ) স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা।
(জ) জাত ও আগত অর্থে: মহিষ > ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা > দখনে (হাওয়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ?
  1. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  2. কে বলবে সে দেশে ফেরে কিনা?
  3. তারা বাড়িতে ফিরেছে।
  4. ভাবতে পারিনি, ওকে আমরা চিরতরে হারাব।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ - ভাবতে পারিনি, ওকে আমরা চিরতরে হারাব

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমরা রংপুরে যাব
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশেষ প্রয়োগ:
- আক্ষেপ প্রকাশে ভবিষ্যতের ক্রিয়ারূপ দিয়ে অতীতের সময়ের ধারণা প্রকাশে: ভাবতে পারিনি, ওকে আমরা চিরতরে হারাব

অন্যদিকে,
• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল - আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব
• সাধারণ বর্তমান কাল - কে বলবে সে দেশে ফেরে কিনা?
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল - তারা বাড়িতে ফিরেছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'উড়ো' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √উড় + উয়া
  2. √উড়া + উয়া 
  3. √উড় + ও
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'উড়ো' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √উড় + উয়া এবং √উড় + ও (ক ও গ উভয়ই)।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- 'উয়া' বিকল্পে 'ও' - প্রত্যয়:
বিশেষ্য বিশেষণ গঠনে 'উয়া' এবং 'ও' প্রত্যয় হয়।
যথা -
- √পড় + উয়া = পড়ুয়া > পড়ো,
- √উড় + উয়া = উড়ুয়া > উড়ো, √উড় + ও = উড়ো (চিঠি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ?
  1. আমরা ঢাকায় যাব।
  2. এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  3. দু-এক দিনের মধ্যে জুয়েল আসবে।
  4. সদা সত্য কথা বলবে।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ - সদা সত্য কথা বলবে

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
- সদা সত্য কথা বলবে

অন্যদিকে,
- আমরা ঢাকায় যাব। এবং দু-এক দিনের মধ্যে জুয়েল আসবে। = সাধারণ ভবিষ্যৎ।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। = ঘটমান ভবিষ্যৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. চড়ক
  2. ছত্র
  3. নেত্র
  4. ফলক
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ফলক (ফলা + ক)।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চড়ক (√চড়্‌ + অক)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ছত্র (√ছদ্‌ + ত্র)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - নেত্র (√নী + ত্র)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
'যাচ্ছি তাহলে।' - বাক্যটি কোন বর্তমান কালকে নির্দেশ করছে?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
• 'যাচ্ছি তাহলে।' - বাক্যটি ঘটমান বর্তমান কালকে নির্দেশ করছে।
-------------------
ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন,
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• অনুমতি নিতেও বক্তাপক্ষে এ প্রকারটি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- যাচ্ছি তাহলে। 



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'নন্দন' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নন্দ + অন
  2. √নান্দ + অন
  3. √নন্দি + অন
  4. √নন্দী + দন
ব্যাখ্যা
• 'নন্দন' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √নন্দি + অন

সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
ঘঞ - প্রত্যয় [(কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘ্‌ এবং ঞ ইৎ, 'অ' থাকে]:
- √বস্ + ঘঞ্‌ = বাস;
- √যুজ্ + ঘঞ্‌ = যোগ;
- √ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌ = ক্রোধ;
- √খুদ্ + ঘঞ্‌ = খেদ;
- √ভিদ্ + ঘঞ্‌ = ভেদ। 

বিশেষ নিয়ম:
- √ত্যজ্‌ + ঘঞ্‌ = ত্যাগ;
- √পচ্ + ঘঞ্‌ = পাক;
- √শুচ্ + ঘঞ্‌ = শোক;
কিন্তু, √নন্দি + অন = নন্দন
- এক্ষেত্রে 'আ' যোগে 'নন্দনা' হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
বিদেশি প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দটিতে?
  1. খেলনা
  2. মানানো
  3. মুনশিয়ানা
  4. শুনানি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে মুনশিয়ানা শব্দটিতে।
- এটি 'আনা' (হিন্দি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

অন্যদিকে,
 • 'অনা' বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - খেলনা।
• 'আনো' বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - মানানো।
• 'আনি' বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - শুনানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।' বাক্যটি কোন অতীত কালকে নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
• 'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।' বাক্যটি সাধারণ অতীত কালকে নির্দেশ করছে

সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন -
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

সাধারণ অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) পুরাঘটিত বর্তমান স্থলে: 'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।'
(২) বিশেষ ইচ্ছা অর্থে বর্তমান কালের পরিবর্তে: তোমরা যা খুশি কর, আমি বিদায় হলাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'সাংস্কৃতিক' শব্দের ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়টি কোন শব্দশ্রেণিকে নির্দেশ করে?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• 'সাংস্কৃতিক' শব্দের ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়টি বিশেষণ শব্দশ্রেণিকে নির্দেশ করে।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণিক (ইক) - প্রত্যয়:
(ক) দক্ষ বা বেত্তা অর্থে: সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক।
(খ) বিষয়ক অর্থে: সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক, নগর - নাগরিক, মাস - মাসিক, ধর্ম - ধার্মিক, সমর - সামরিক, সমাজ - সামাজিক।
(গ) বিশেষণ গঠনে: হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক, অকস্মাৎ + ষ্ণিক = আকস্মিক, সংস্কৃত + ষ্ণিক = সাংস্কৃতিক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।