পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বাংলাবিদ সাহিত্য পরীক্ষা - ১৫: টপিক: বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ শওকত আলী, শওকত ওসমান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সেলিনা হোসেন, সেলিম আল দীন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদুল্লা কায়সার, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, সিকান্দার আবু জাফর, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্বর্ণকুমারী দেবী, সোমেন চন্দ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকুমার রায়, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] [এই টপিকের উপর কোন ভিডিও লেকচার নাই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
‘আমলার মামলা’ শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক 
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
নাটক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক 
ব্যাখ্যা

‘আমলার মামলা’ শওকত ওসমান রচিত নাটক।
- তার এই নাটকটি তৎকালীন সমাজব্যবস্থার একটি বাস্তব ও নির্মম প্রতিফলন।
-------------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।
--------------------------------------------------
• ‘আমলার মামলা’:
- শওকত ওসমানের বিখ্যাত নাটক ‘আমলার মামলা’।
- এই নাটকটি মূলত আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষের শোষণের চিত্র তুলে ধরে।
- নাটকটিতে দেখানো হয়েছে—কীভাবে সরকারি আমলারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে নিপীড়ন করে এবং আইনি জটিলতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে।
- নাটকের কাহিনিতে একটি দরিদ্র পরিবারের পাঁচজন মেধাবী ছেলের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। 
- বিশেষ করে বড় ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দারিদ্র্য ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির কারণে ভেঙে যায়। 
- তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে।
- ‘আমলার মামলা’ শুধু শোষণের কাহিনি নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথাও বলে।
- নাটকে দেখা যায়, অন্যায়ের শিকার মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হয় এবং প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য এর রচনা।
-----------------------------------------------
ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে রচনা করেছিলেন।
- গ্রন্থটি মূলত মার্কসবাদী চেতনা দ্বারা প্রভাবিত এবং গণমানুষের দুঃখ-কষ্ট, শোষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটায়।
- এছাড়াও এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রতিফলনও দেখা যায়।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্তকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
---------------------------------------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল ভাবনা কী? 
  1. ধর্মীয় শিক্ষায় অনুৎসাহিত করা
  2. ধর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো
  3. ধর্মীয় সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা
  4. কুসংস্কারকে প্রাধান্য দেয়া 
সঠিক উত্তর:
ধর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল ভাবনা হচ্ছে- ধর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো।
------------------------------------------------
• 'লালসালু':
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস।
- 'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয় এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক, যে এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে  তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
-------------------------------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাস রাজনীতির বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা?  
  1. রমা
  2. দেনা-পাওনা 
  3. পথের দাবি
  4. শেষের পরিচয় 
সঠিক উত্তর:
পথের দাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবি
ব্যাখ্যা

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবি' রাজনীতির বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা।
---------------------------------------------
'পথের দাবী':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের দাবি' ব্রিটিশ শাসনামলে লেখা একটি বিপ্লবী উপন্যাস।
- এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই উপন্যাসটি সব্যসাচী মল্লিক নামক এক বিপ্লবী নেতার নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গোপন বিপ্লবী দলের সংগ্রাম নিয়ে রচিত।
- এর বিপ্লবী বিষয়বস্তুর কারণে এটি ব্রিটিশ ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। 
----------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘বাঙালি ব্যাথার নিকটতম প্রতিবেশী’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- 'মন্দির' (১ম ছোটগল্প), 
- ' মহেশ',
- 'রামের সুমতি',
- 'অভাগীর স্বর্গ',
- 'বিলাশী', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ', 
- 'দত্তা',
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- 'রমা';
- 'ষোড়শী'।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত বড়গল্প: মেঝদিদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি-
  1. যে দেশে মানুষ বড় 
  2. অবিশ্বাস্য
  3. দেশে বিদেশে
  4. চলে মুসাফির 
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি- দেশে বিদেশে। 
----------------------------------------------
‘দেশে বিদেশে’:
- ‘দেশে বিদেশে’ সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ এবং বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের এক অসাধারণ উদাহরণ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনীটি মূলত ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে তার আফগানিস্তানের কাবুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ওপর লেখা।
- এই গ্রন্থে তিনি আফগান সমাজের দৈনন্দিন জীবন, মানুষের চলাফেরা, ভাষা, পোশাক, খাদ্য ও সংস্কৃতির নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেছেন।
- লেখক তার সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে কাবুলের জীবন এবং মানুষের চিন্তাভাবনা বর্ণনা করেছেন।
- গ্রন্থটিতে রাজা আমানুল্লাহ খানের আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা যেমন—নারী শিক্ষা, বোরকা প্রথা বাতিল ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।।
- এবং এর কারণে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াও স্থান পেয়েছে; যা পরবর্তীতে তার ক্ষমতাচ্যুতির কারণ হয়। 
- লেখক কেবল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেননি;
- বরং তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, রসবোধ এবং ভাষার জাদুর মাধ্যমে গ্রন্থটিকে সাহিত্যিক মানও দিয়েছেন। 
-------------------------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।
----------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- যে দেশে মানুষ বড় ও চলে মুসাফির- গ্রন্থ দুইটি জসীমউদ্দীনের রচিত ভ্রমনকাহিনি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
শামসুদ্দিন আবুল কালামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি? 
  1. পুঁই ডালিমের কাব্য
  2. ঢেউ
  3. আলমনগরের উপকথা
  4. কাশবনের কন্যা
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

• ‘পুঁই ডালিমের কাব্য’ শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
প্রশ্নের ভাষায় অপ্রত্যাশিত ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। ধন্যবাদ

----------------------------------------
পুঁই ডালিমের কাব্য:
- শামসুদ্দিন আবুল কালামের ‘পুঁই ডালিমের কাব্য’ মূলত মুক্তিযুদ্ধকালীন গ্রামীণ জীবন ও সাধারণ মানুষের সংগ্রাম নিয়ে লেখা একটি গ্রন্থ।
- এতে গ্রাম বাংলার জীবন-মৃত্যুর টানাপোড়েন, আদর্শের সংঘাত এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চিত্রিত হয়েছে।
- এ গ্রন্থে দেখানো হয়েছে কীভাবে শান্তিপ্রিয় মানুষও যুদ্ধের নির্মমতার শিকার হয়।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের অত্যাচারও এতে বর্ণিত হয়েছে।
- অত্যাচারের মধ্যেও মানুষ মুক্তির স্বপ্ন দেখে এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়। 
- এটি শুধু যুদ্ধের গল্প নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি এবং সংগ্রাম ও সাহসের কাব্যিক আখ্যান।
-------------------------------------------------
শামসুদ্দিন আবুল কালাম:
-  শামসুদ্দিন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭) বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- কাশবনের কন্যা,
- ভাওয়াল গড়ের উপকথা,
- আলমনগরের উপকথা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শওকত আলী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান 
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা

'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাসের শেষ কাহিনী।
---------------------------------------
ত্রয়ী উপন্যাস:
- শওকত আলীর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো:
• দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫): ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
• কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬): দ্বিতীয় কাহিনী, ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬): শেষ কাহিনী, গল্পের সমাপ্তি।
- এই তিনটি উপন্যাস মূলত রাজনৈতিক জীবন ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এই ত্রয়ী উপন্যাস শওকত আলীর সৃষ্টিশীলতার শীর্ষকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
- এই ত্রয়ী যেন একটি বড় কাহিনীর তিনটি অংশ, যা সময়ের আবর্তে মানুষের জীবন, সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখায়।
- এখানে সময়কে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দেখা যায়।
-----------------------------------------------
শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।

- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• যাত্রা;
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকার সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থা এবং অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার মর্মস্পর্শী বর্ণনা ডায়েরির আকারে তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
যাত্রা উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া।

.
'বেণের মেয়ে’ ও ‘কাঞ্চনমালা’ উপন্যাসদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  2. বিদ্যাপতি 
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. বিহারীলাল 
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
ব্যাখ্যা

'বেণের মেয়ে’ ও ‘কাঞ্চনমালা’ উপন্যাসদ্বয়ের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
--------------------------------------------
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত পণ্ডিত, সংরক্ষণবিদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৮৫৩ সালে খুলনার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।
- সাহিত্যচর্চায় অবদানের জন্য তাঁকে মহামহোপাধ্যায় উপাধি প্রদান করা হয়।
- এছাড়াও তিনি বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের বহু লুপ্তপ্রায় পুঁথি উদ্ধার, পাঠোদ্ধার ও সম্পাদনার মাধ্যমে ভাষা ও সাহিত্যে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

তাঁর প্রধান অবদান:
- ১৯০৭ সালে নেপাল থেকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লিখিত নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। 
- ১৯১৬ সালে এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বেণের মেয়ে,
- কাঞ্চনমালা।

• তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- রামচরিতম্, 
- ভারত মহিলা,
- তৈল।

• তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ:
 বৌদ্ধধর্ম,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ,
- আমাদের ইতিহাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক কে ছিলেন?
  1. মৈত্রেয়ী দেবী
  2. আশাপূর্ণা দেবী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী 
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
--------------------------------------
 স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘
- ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তিনি সাহিত্য ও নারী জাগরণে অবদান রেখেছেন।
- ১৮৮৬ সালে তিনি ‘সখী সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলার প্রথম নারী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে বিধবা ও অনাথ মহিলাদের সাহায্য এবং নারী অধিকারের জন্য কাজ করেছেন।
 -তাঁর প্রসিদ্ধ উপন্যাস হুগলীর ইমামবাড়ি রচিত হয়েছে হাজী মুহম্মদ মহসিনকে নিয়ে।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
- মৈত্রেয়ী দেবী -‘মঙ্গলা’ উপন্যাসের রচয়িতা।
- আশাপূর্ণা দেবী - ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুল কথা’-র লেখিকা।
- কুসুমকুমারী দাশ - তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১০.
শামসুর রাহমান কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক পূর্বদেশ
  2. দৈনিক বাংলা
  3. দৈনিক ইত্তেফাক
  4. দৈনিক আজকাল
সঠিক উত্তর:
দৈনিক বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক বাংলা
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
-----------------------------------------
শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। 
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
• রৌদ্র করোটিতে;
• বিধ্বস্ত নীলিমা;
• বন্দী শিবির থেকে;
• নিজ বাসভূমে;
• বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
• এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

এছাড়া তাঁর বিখ্যাত শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

তাঁর উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১.
‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত-
  1. বেগম রোকেয়া
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামালকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
--------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর গল্প ও স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘কেয়ার কাঁটা’ ও
- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১২.
“নিষিদ্ধ লোবান" উপন্যাসটি কার লিখা?
  1. অরুণ বসু
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. অসীম সাহা
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• “নিষিদ্ধ লোবান"- উপন্যাসটি সৈয়দ শামসুল হক এর লিখা।
-----------------------------------
 সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সৈয়দ শামসুল হকের প্রধান রচনা: 
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলদে দে।

কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
-------------------------------------------- 
“নিষিদ্ধ লোবান” নিয়ে কিছু কথা: 
- সৈয়দ শামসুল হকের “নিষিদ্ধ লোবান” উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
- উপন্যাসে লেখক “নিষিদ্ধ লোবান” নামের মাধ্যমে মৃত্যুর বাস্তবতা ও যুদ্ধের বিভীষিকাকে প্রকাশ করেছেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বিলকিস একজন বীরাঙ্গনা।

- যুদ্ধকালে বিলকিস তার পরিবার ও স্বামীকে হারিয়ে ফেলে।
- যুদ্ধের ভয়াবহতা ও পরিবার-স্বজনকে হারানোর পরেও বিলকিস সাহস হারাননি।
- বরং, যুদ্ধকালে বিলকিস তার পরিবার ও স্বামীকে হারিয়ে নবগ্রামে ফিরে আসে।
- নবগ্রামে ফেরার কারণ হলো- বিলকিস তার যুদ্ধে শহীদ হওয়া ভাইয়ের লাশ খুজে পেতে বদ্ধপরিকর ছিল।

- নবগ্রামে বিলকিস কিশোর সিরাজ-এর সঙ্গে পরিচিত হয়।
- একসাথে তাঁরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
- শেষ পর্যন্ত বিলকিস তার ভাইয়ের লাশ খুঁজে বের করে সৎকার করেন;
- যা তার দৃঢ় চেতনা ও স্বাধীনতার প্রয়াসকে প্রতিফলিত করে। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৩.
সেলিম আল দীন কোন উপজাতিদের নিয়ে নাটক লিখেছিল?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. সাঁওতাল  
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
মারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারমা
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন মারমাদের নিয়ে নাটক লিখেছিল।
-----------------------------------------
• "একটি মারমা রূপকথা":
- একটি মারমা রূপকথা নাট্যকার সেলিম আল দীনের লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক।
- এটি মারমা জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে রচিত।
- এটি বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়েছিলো
- নাটকটিতে রূপকথার চরিত্র ও ঘটনা বাস্তবতার সাথে মিশে এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক আখ্যান তৈরি করে।
- এটি সেলিম আল দীনের নৃগোষ্ঠী নাট্য ধারার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
----------------------------------------
সেলিম আল দীন:
-  সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস এবং অসংখ্য নাটক।

তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- একটি মারমা রূপকথা,
 গঙ্গাবতী,
- জন্ডিস, বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র, ইত্যাদি।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৪.
“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জয় গোস্বামী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

→ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি তার প্রতিবাদী চেতনা ও প্রেমিকাভঙ্গির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ রূপে গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাবেড়হাট গ্রামে।
 মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’,
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫.
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ কী ধরনের উপন্যাস?
  1. দেশভাগ নিয়ে রচিত
  2. প্রতিবাদমূলক
  3. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
ব্যাখ্যা

‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------------------------
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’:
- সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জীবনের চিত্র তুলে ধরে।
- উপন্যাসে একটি মায়ের দেশপ্রেম এবং সন্তানের জন্য ত্যাগের গল্প বলা হয়েছে;
- যেখানে মা তার সন্তানকে বাঁচাতে নিজের একমাত্র সন্তানকে উৎসর্গ করেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। 
-------------------------------------------
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। 
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে কোন উপাধিতে অভিহিত করা হয়?
  1. বাঙালি কবি
  2. ছন্দের জাদুকর
  3. নাট্যকার
  4. ছান্দসিক কবি
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর
ব্যাখ্যা

• “সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করা হয়"। 
----------------------------------------
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রসিদ্ধ বাঙালি কবি ও ছড়াকার।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার কাছে নিমতা গ্রামে।
- পেশায় তিনি কবি, ছড়াকার এবং অনুবাদক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক শক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দের অসাধারণ দক্ষতা, ভাষার গভীর বোঝাপড়া এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঐতিহ্য বিষয়ক পাণ্ডিত্য।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ছন্দের জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি তাঁর কবিতায় ছন্দের কারুকার্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘কুহু ও কেকা’,
- ‘বেণু ও বীণা’,
- ‘পালকির গান',
- ‘ফুলের ফসল’।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৭.
‘সারেং বৌ’ উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র কোনটি?
  1. নবিতুন
  2. নীলা
  3. কদমী
  4. পরিনী
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
ব্যাখ্যা

‘সারেং বৌ’ উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র- নবিতুন।
-------------------------------------------------
'সারেং বৌ’:
- 'সারেং বৌ’ শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি বিখ্যাত উপন্যাস
- এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন তুলে ধরে।
- গল্পের মূল চরিত্র সারেং কদম এবং তার স্ত্রী নবিতুন।
- উপন্যাসে তাদের প্রেম, বিচ্ছেদ, দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলার গল্প বলা হয়েছে।
- এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রেমকাহিনি নয়;
- বরং সমাজের প্রতিকূলতা, ত্যাগ ও নারীর সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলে।
- এখানে নারীর টিকে থাকার এবং লড়াই করার শক্তি ও ধৈর্যের চিত্র বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
--------------------------------------------------
শহীদুল্লাহ কায়সার:
- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
 ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 
- এটি তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন দেশের জীবন, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে তুলে ধরে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সারেং বৌ’,
- ‘সংশপ্তক’,
- ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’,
- ‘তিমির বলয়’,
- ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’,
- ‘সমুদ্র ও তৃষ্ণা’,
- ‘চন্দ্রভানের কন্যা’,
- ‘কবে পোহাবে বিভাবরী’ (এবং অসমাপ্ত রচনা)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৮.
'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2.  সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
 সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থ:
- পাগলা দাশু সুকুমার রায়ের সৃষ্টি একটি কল্পিত ও হাস্যরসাত্মক চরিত্র।
- এই গল্পগ্রন্থটি মূলত শিশুদের জন্য লেখা।
- এই গল্পগুলোতে স্কুলজীবনকে কেন্দ্র করে দাশু নামের এক দুষ্টু, অদ্ভুত কিন্তু অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছেলের নানা কাণ্ডকারখানা তুলে ধরা হয়েছে।
- তার অস্বাভাবিক চিন্তাভাবনা, বিচিত্র পরিকল্পনা ও অবাস্তব আচরণ বন্ধু ও শিক্ষকদের বিস্মিত করে এবং পাঠকের মনে গভীর হাস্যরসের জন্ম দেয়।
- দাশুর এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সুকুমার রায় প্রচলিত সামাজিক নিয়ম ও ভাবনাকে সূক্ষ্ম ব্যঙ্গের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। -
- কল্পনা ও সৃজনশীলতায় ভরপুর এই গল্পগুলো শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভাবনার জগৎকে উন্মুক্ত করে।
- ‘পাগলা দাশু’ বাংলা শিশু সাহিত্যে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায়।
- তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী,
- আর তাঁর পুত্র ছিল সত্যজিৎ রায়- বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা।
- তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যের ইতিহাসে ‘ননসেন্স ছড়া’- এর জনক হিসেবে অমর।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ‘আবোল তাবোল’ ও
- ‘খাই খাই’।

উৎস: 
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯.
‘সিরাজ-উদ-দৌলা’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. শওকত আলী
  3. সেলিম আল দীন 
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

‘সিরাজ-উদ-দৌলা’ নাটকের রচয়িতা- সিকান্দার আবু জাফর।
----------------------------------------------
সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও গীতিকার।
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ষাটের দশকের বাঙালি জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি দেশপ্রেমমূলক কবিতা, নাটক ও গণসংগীত রচনার মাধ্যমে মানুষকে আন্দোলন ও সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
- পেশাগত জীবনে তিনি কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও সাংবাদিকতা—সাহিত্যের নানা শাখায় সক্রিয় ছিলেন।
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সমকাল’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।
- বিশেষ করে ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি এবং সিরাজ-উদ-দৌলা নাটকটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাওল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২০.
ইসমাইল হোসেন সিরাজী কোন কাব্যগ্রন্থ রচনার কারণে কারাবরণ করেছিলেন?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. অনল-প্রবাহ
  3. উচ্ছ্বাস
  4. প্রেমাঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
অনল-প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল-প্রবাহ
ব্যাখ্যা

- ইসমাইল হোসেন সিরাজী কারাবরণ করেছিলেন 'অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের কারণে।
-------------------------------------------
• ‘অনল প্রবাহ’:
- অনল প্রবাহ হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি গীতিকাব্য, যা তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- সাহিত্য ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘অনল-প্রবাহ’ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- এ কারণে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের কবিদের মধ্যে একজন হিসেবে কারাবরণ করেন।
-------------------------------------
• ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০–১৯৩১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি লেখক, কবি, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- তাঁর জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- জন্মস্থানের সঙ্গে পরিচয় বজায় রাখতেই তিনি নিজের নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সমাজে নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি পরিচিত।
- তাকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়।
- সাহিত্যকর্মের দিক থেকেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অনল-প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী ও
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।