পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়11 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৮: সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক: রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সরকার ও রাজনীতি, সরকারি ও বেসরকারি লক্ষ্য, নীতি, পরিকল্পনা (অর্থনৈতিক, সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা), কর্মসূচি, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্র নীতি। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
রাষ্ট্র একটি -
  1. ক) পারিবারিক প্রতিষ্ঠান
  2. খ) সামাজিক প্রতিষ্ঠান
  3. গ) রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান
  4. ঘ) অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। 

- পৃথিবীর সকল মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘কতিপয় গ্রাম ও পরিবারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনই রাষ্ট্র’।
- অধ্যাপক গার্নারের সংঙ্গায় রাষ্ট্রের প্রকৃত রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত, স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।

রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয় উপাদান গুলি হল নিম্নরূপ:- 
১) জনসমষ্টি: রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য উপাদান হলো জনসমষ্টি। কারণ জনসমষ্টি ছাড়া রাষ্ট্রের কোন অস্তিত্ব থাকে না। তবে জনসমষ্টি কত হতে হবে তা নির্দিষ্ট করে কোথাও বলা হয়নি। চীন ও ভারতের মতো বহু জনসমষ্টি ব্রিটিশ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব যেমন লক্ষ্য করা যায় তেমনি ভাটিকান সিটির মতো অল্প সংখ্যা বিশিষ্ট রাষ্ট্রেরও উল্লেখ পাওয়া যায়। 

২) নির্দিষ্ট ভূখন্ড:  রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় উপাদান হলো নির্দিষ্ট ভূখন্ড। ভৌগলিক সীমারেখা দ্বারা আবদ্ধ একটি অঞ্চল কে নির্দিষ্ট ভূখন্ড বলা হয়। নির্দিষ্ট ভূখন্ড ছাড়া একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য ইহুদিদের যতদিন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ড ছিলনা, ততদিন পর্যন্ত তারা নিজেদের রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারেনি। ভূখন্ড বলতে জল, স্থল ও আকাশ তিনটি সীমাকেই একত্রে বোঝায়।

৩) সরকার: রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য উপাদান হলো সরকার। সরকার হল রাষ্ট্রের মস্তিষ্ক। কারণ সরকার ছাড়া কোনো রাষ্ট্র তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনা। আবার মানব শরীরকে যেমন মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে তেমনি রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। সরকার বলতে বোঝায় শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে। সরকারের বিভিন্ন রূপ হতে পারে। যথা-

ক) গণতান্ত্রিক সরকার, 

খ) প্রজাতান্ত্রিক সরকার, 

গ)সমাজতান্ত্রিক সরকার।

৪) সার্বভৌমিকতা: সরকারকে যদি রাষ্ট্রের মস্তিষ্ক বলে উল্লেখ করা হয় তাহলে সার্বভৌমিকতা হল রাষ্ট্রের প্রাণ। সার্বভৌমিকতা বলতে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা কে বোঝায়। এই সার্বভৌমিকতার নির্দেশে-ই হলো আইন। যাকে আমরা অমান্য করতে পারবোনা। সার্বভৌমিকতা হল রাষ্ট্রের চরম অসীম অবিভাজ্য ও অহস্তান্তরযোগ্য ক্ষমতা।

সূত্র- রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
.
রাষ্ট্র গঠনে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান উপাদান কোনটি?
  1. ক) সরকার
  2. খ) নির্দিষ্ট ভূখন্ড
  3. গ) জনসমষ্টি
  4. ঘ) সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র গঠনে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান উপাদান হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। 

- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচ্য বিষয়সমূহের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
- যে চারটি উপাদানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র গঠিত, তাদের মধ্যে সার্বভৌমত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযােগ্য উপাদান।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও স্বরূপ বহুলাংশে সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকৃতি ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।
- সরকারকে যদি রাষ্ট্রের মস্তিষ্ক বলে উল্লেখ করা হয় তাহলে সার্বভৌমিকতা হল রাষ্ট্রের প্রাণ।
- সার্বভৌমিকতা বলতে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা কে বোঝায়।
- এই সার্বভৌমিকতার নির্দেশে-ই হলো আইন, যাকে আমরা অমান্য করতে পারবোনা।
- সার্বভৌমিকতা হল রাষ্ট্রের চরম অসীম অবিভাজ্য ও অহস্তান্তরযোগ্য ক্ষমতা।

সূত্র- রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি চারটি। যথা- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। 

- বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত রয়েছে। 
- রাষ্ট্রীয় মূলনীতি বাংলাদেশ সংবিধানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো : জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- এই মূলনীতির কথা এককভাবে ৮ম অনুচ্ছেদেও বর্ণিত হয়েছে। 

১. জাতীয়তাবাদ : একই ধরনের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি করেছে। তাই সংবিধানে বলা হয়েছে, একই ভাষা ও সংস্কৃতিতে আবদ্ধ বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে সেই ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।

২. সমাজতন্ত্র : অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা আনার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই হলো সমাজতন্ত্রের মূল্য লক্ষ্য। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. গণতন্ত্র : রাষ্ট্রের সব কাজে নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূলনীতি। এর মাধ্যমে নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে; মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে।

৪. ধর্মনিরপেক্ষতা : রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং ধর্ম পালনে কেউ কাউকে বাধা প্রদান করবে না- এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লিখিত মূলনীতিগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়। প্রতিটি নাগরিকের উচিত এগুলো মেনে চলা। এ ছাড়া সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দলিল। অতএব সংবিধান সম্মান করা ও তা মেলে চলা প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।

সূত্র- বাংলাদেশ সংবিধান।
.
বাংলাদেশের নাগরিকতা নির্ণয়ের প্রধান উপায় কোনটি?
  1. ক) জন্মসূত্রে
  2. খ) অনুমোদনসূত্রে
  3. গ) উভয়টি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়। 

- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। 
- নাগরিকত্ব  সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর  সংবিধান বলবৎ হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ১৪৯ নং আদেশ) জারি করেন এবং এই আদেশ দ্বারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে দেশের নাগরিকত্ব নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

- আদেশটির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয় যে, এমন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে গণ্য হবেন:
(১) যিনি বা যার পিতা বা পিতামহ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এ এলাকার কোনো স্থানের স্থায়ী বাশিন্দা ছিলেন এবং এখনও বাশিন্দা আছেন;
অথবা (২) যিনি বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্ভুক্ত এলাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্থায়ী বাশিন্দা ছিলেন, এখনও আছেন এবং দেশে বলবৎ কোনো আইনের দ্বারা নাগরিক হওয়ার অযোগ্য ঘোষিত হন নি।

সূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
সুনাগরিকের প্রধান গুণ-
  1. ক) বিবেক
  2. খ) সুশিক্ষা
  3. গ) অর্থ
  4. ঘ) দায়িত্ববোধ
ব্যাখ্যা
সুনাগরিকের প্রধান গুণ তিনটি। যথা- বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম। 

- বুদ্ধি- একজন সুনাগরিকের অন্যতম মৌলিক গুণ হচ্ছে বুদ্ধি। বুদ্ধির পর্যাপ্ত ব্যবহারের মাধ্যমে সে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহযোগিতা করতে পারে।
- বিচার- একজন সুনাগরিকের শুধু বুদ্ধিমানও আত্মসংযমী হলেই হয় না তাকে অবশ্যই বিচারের সঠিক ব্যবহার জানতে হয়। বিবেক বিচার হলো ভালো-মন্দের জ্ঞান ও দায়িত্ব কর্তব্যের জ্ঞান।
- আত্মসংযম: একজন সুনাগরিকের আরেকটি অন্যতম গুণ হচ্ছে আত্মসংযম। ‌ নাগরিককে অসৎ কার্যাবলী যেমন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বার্থপরতা, পক্ষপাতিত্ব ইত্যাদি ও অনৈতিক কাজ থেকে বিরত রাখে।

- রাষ্ট্রের যে নাগরিক সকল সমস্যা অতি সহজে সমাধান করে, যার বিবেক আছে সে ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে, আর যে আত্মসংযমী সে বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে। এসব গুণসম্পন্ন নাগরিকদের বলা হয় সুনাগরিক।

সূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
.
কোন ধরণের শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিনষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে?
  1. ক) গণতন্ত্রে
  2. খ) একনায়কতন্ত্রে
  3. গ) সমাজতন্ত্র
  4. ঘ) অভিজাততন্ত্র
ব্যাখ্যা
একনায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিনষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে। 

- একনায়কতন্ত্র হচ্ছে একটি স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। 
- একনায়কতন্ত্র হল একটি অতি প্রাচীন রাষ্ট্রনৈতিক মতবাদ।
- তত্ত্বগতভাবে একনায়কতন্ত্র হল গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত শাসনব্যবস্থা।
- প্রাচীনকালে গ্রীস ও রোমের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মধ্যে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।
- তবে একনায়কতন্ত্র সম্বন্ধে বর্তমান ধারণা ভিন্ন ধরনের।
- সাধারণত একনায়কতন্ত্রকে সামরিক, সাম্যবাদী এবং ফ্যাসিবাদী বা নাৎসীবাদী—মূলত এই তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়ে থাকে।

সূত্র- গণতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্র অধ্যায়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
সর্বশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কোন অর্থবছরকে ভিত্তি করে জিডিপি, প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, মাথাপিছু আয় গণনা শুরু করে?
  1. ক) ২০২১ - ২২
  2. খ) ২০১৩ - ১৪
  3. গ) ২০১৫ - ১৬
  4. ঘ) ২০১৭ - ১৮
ব্যাখ্যা
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে জিডিপি প্রকাশ শুরু করে।
- তখন ১১ টি খাতের উপর ভিত্তি করে জিডিপি প্রকাশ করা হতো।
- এরপর কয়েকবার ভিত্তি বছর পাল্টানো হয় এবং জিডিপি খাত ১১ থেকে ১৫ টি তে উন্নীত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তি করে জিডিপি, প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, মাথাপিছু আয় গণনা শুরু করে।
- নতুন ভিত্তি বছরে জিডিপি খাত ২৪টি তে উন্নীত করা হয়।
- নতুন খাতসমূহ: মোবাইল ব্যাংকিং; এজেন্ট ব্যাংকিং; গরু ও হাঁস-মুরগি; নার্সারি; লটকন, ড্রাগন, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম, মাশরুম; আবাসন; কেব্‌ল টেলিভিশন; ইন্টারনেট; হেলিকপ্টার।

উৎস: বিবিএস, পত্রিকা রিপোর্ট
.
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে -
  1. ক) সিঙ্গাপুরে
  2. খ) ভারতে
  3. গ) চীনে
  4. ঘ) জাপানে
ব্যাখ্যা
• এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে – জাপানে; রপ্তানির পরিমাণ – ৮৯৫.০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা মোট - রপ্তানির ২.৬৪%।
• অঞ্চল হিসাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে - ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে। 
• ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা রাষ্ট্র জার্মানি।
• ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।    

তথ্যসূত্র:- পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২।
.
অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে সর্বমোট কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে -
  1. ক) ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৩০ হাজার।
  2. খ) ১ কোটি ৩০ লক্ষ ১৩ হাজার।
  3. গ) ১ কোটি ১০ লক্ষ ৬০হাজার।
  4. ঘ) ১ কোটি ২০ লক্ষ ৩০ হাজার।
ব্যাখ্যা
অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে সর্বমোট কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে- ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৩০ হাজার।

- জাতীয় পর্যায়ে মোট কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে - ৮.০৮ মিলিয়ন বা, ৮০ লক্ষ ৮০ হাজার। 
- প্রবাসী বা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান হবে - ৩.২৫ মিলিয়ন বা, ৩২ লক্ষ ৫০ হাজার। 
- ভিশন- ২০৪১ বাস্তবায়নে ৫টি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রথমটি হচ্ছে ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জন করেছে। ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৪ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরন ও এসডিসি বাস্তবায়নের জন্য সহায়ক হবে।  

- অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়া হবে- 
১. কর্মসংস্থান তৈরিতে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করা। 
২. জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবিলা করা। 
৩. সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সাম্য ও সমতা নিশ্চিত করা।

সূত্র- অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২। 
  
১০.
বর্তমানে কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে?
  1. ক) ভারত
  2. খ) চীন
  3. গ) ভুটান
  4. ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা
বর্তমানে ভুটানের সাথে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। 

- অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ভুটানের ১৮টি এবং ভুটানে বাংলাদেশের ৯০টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
- এছাড়া ভুটানকে আরও ১৬টি ও বাংলাদেশেকে ১০টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের জন্য সম্মত হয়েছে। 
- ভুটান ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের সাথে PTA স্বাক্ষরের বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

সূত্র- অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২২।  
১১.
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের সূত্রপাত হয় -
  1. ক) ১৯৭০ সালে
  2. খ) ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৯৭২ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের সূত্রপাত হয় ১৯৭৩ সালে। 

- ২২শে মে, ২০০১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর ব্রাসেলসে ইইউ এবং বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
- ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ হল বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। 
- বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ সম্পন্ন হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে।

সূত্র-  বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি ও বিভিন্ন সংস্থা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২.
সার্ক গঠনে মূল উদ্যোক্তা ছিল -
  1. ক) ভারত
  2. খ) শ্রীলঙ্কা
  3. গ) বাংলাদেশ
  4. ঘ) পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
সার্ক গঠনে মূল উদ্যোগে ছিল বাংলাদেশের। 

- দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)  ১৯৮৫ সালে গঠিত একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট।
- শুরুতে এই জোট দক্ষিণ এশীয় সাতটি রাষ্ট্র বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে গঠিত হয়।
- ২০০৭ সালে ১৪ তম শীর্ষ সার্কসম্মেলনে আফগানিস্তানকে সার্কের সদস্য করা হয়।
- সার্ক ভুক্ত রাষ্ট্র ভারত সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ কম শক্তিধর ছোট রাষ্ট্র। 
- অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলো আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট গঠন করা।

সূত্র- সার্ক ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
১৩.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতদানকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন -
  1. ক) জন এফ কেনেডি
  2. খ) রিচার্ড নিক্সন
  3. গ) বিল ক্লিনটন
  4. ঘ) হ্যারি এস ট্রুম্যান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতদানকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিচার্ড নিক্সন। 

- সেক্রেটারি অব স্টেট উইলিয়াম রজার্সের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল।
- এছাড়া ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মুখ্য কর্মকর্তা হার্বার্ট স্পাইভ্যাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের একটি বার্তা হস্তান্তর করেন এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী।
- শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে ৯ এপ্রিল একটি চিঠি পাঠান যাতে তিনি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
- বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ঢাকায় দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ১৮ই মে। 

সূত্র- যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, বাংলাদেশ [লিঙ্ক]  
১৪.
বাংলাদেশের শরণার্থী এবং অভিবাসী বিষয়ক প্রস্তাবনাটি জাতিসংঘের কততম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়?
  1. ক) ৬৯- তম অধিবেশনে
  2. খ) ৭২- তম অধিবেশনে
  3. গ) ৭১- তম অধিবেশনে
  4. ঘ) ৭০- তম অধিবেশনে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শরণার্থী এবং অভিবাসী বিষয়ক প্রস্তাবনাটি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় ৭১- তম অধিবেশনে।  

- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে বাংলাদেশকে সহসভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে ফিজি।
- ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক থেকে জাতিসংঘের ৭১-তম অধিবেশন শুরু হয়। 
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য: 'পৃথিবী বদলে দেয়ার বৈশ্বিক উদ্যোগ' এই স্লোগানে শুরু হয় এই সম্মেলন। 

সূত্র- Ministry of Foreign Affairs [লিঙ্ক]
 
১৫.
কোন দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে নেই?
  1. ক) ডেনমার্ক
  2. খ) ভারত
  3. গ) তাইওয়ান
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
তাইওয়ানের দূতাবাস বাংলাদেশে নেই। 

- তাইওয়ান সরকার কর্তৃক রাজধানী ঢাকায় "তাইপেই অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অফিস, বাংলাদেশ" ("তাইপেই ইকোনোমিক অ্যান্ড কালচারাল অফিস ইন বাংলাদেশ") প্রতিষ্ঠা করে।
- দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে এটি চালু হয়।
- তাইওয়ান বাংলাদেশে যে সমস্ত পণ্য রপ্তানি করে তার মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়াম, স্টেইন স্টিল, সিন্থেটিক ফাইবার, ভিনাইল ক্লোরাইড, পলিঅ্যাসিটাল, ইপোক্সি, কাপড় এবং সেলাই করবার যন্ত্র ইত্যাদি।
- বাংলাদেশ থেকে তাইওয়ানে রপ্তানিকৃত পণ্যসমূহ হল কাঁকড়া, বাগদা চিংড়ি, তামা, কাপড় এবং জুতা।

সূত্র- Taiwan Immigration Website [লিঙ্ক]