পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ii) বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি' শীর্ষক ইশতেহার প্রচার করা হয় কবে? 
  1. ১ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২ মার্চ, ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ, ১৯৭১
  4. ৭ মার্চ, ১৯৭১ 
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি:

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ৩ মার্চ, ১৯৭১ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করে। 
৩ মার্চ, ১৯৭১  ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি' শীর্ষক একটি ইশতেহার প্রচার করা হয়। 

• ইশতেহারে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের তিনটি লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়। যেমন:
১. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে পৃথিবীর বুকে একটি বলিষ্ঠ বাঙালি জাতি সৃষ্টি করা হবে,
২. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করা হবে এবং
৩. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে ব্যক্তি, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ নির্ভেজাল গণতন্ত্র কায়েম করা হবে।

• ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
১৯৭১ সালের রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে মূলত কয়টি দাবি  উপস্থাপন করেন? 
  1. ৩টি 
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি 
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: 

• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সামরিক সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতা সমাবেশের জন্য জড়ো হয়। 
এ সমাবেশে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দেন তাতে প্রধানত চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো:
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

• এর বাইরে আরও বেশ কিছু দাবি বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উত্থাপন করা হয়।
• তিনি বাংলাদেশের সকল অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
• এই শর্তগুলো মানলেই যে বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন এমন নিশ্চয়তা ভাষণে দেননি।
• ৭ মার্চের ভাষণে আন্দোলন চলতেই থাকবে বলে ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কী নামে প্রচারিত হয়? 
  1. চরমপত্র
  2. গণকণ্ঠ
  3. মুক্তি সংগ্রাম
  4. বজ্রকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:

• জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে প্রত্যেক গ্রাম, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলোর আহ্বান জানান।
• তিনি বলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম; জয় বাংলা।” 
• তিনি মুক্তি সংগ্রামের জন্য সকলকে প্রস্তুত হওয়ার আদেশ দেন। 
• তাঁর এ ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হয়। 
• তাঁর এই ভাষণে তিনি প্রধানত চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো:
- চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
- গণহত্যার তদন্ত করা এবং
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
.
আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে? 
  1. UNESCO
  2. OIC
  3. UNDP
  4. UNICEF
ব্যাখ্যা
৭-ই মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

• ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে  বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। 
• UNESCO ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে  “বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে। 
• ভাষণটি UNESCO বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য 'Memory of the World International Heritage Register'-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। 
• এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকেই প্রথম পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
• ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা প্যারিসে সংস্থাটির সদর দপ্তরে জাতির জনকের ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বিবিসি নিউজ বাংলা (৩১ অক্টোবর, ২০১৭) । 
.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৩নং সেক্টর
  3. ৪নং সেক্টর 
  4. ৬নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান: 

• সিপাহী হামিদুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।
• সাতজন শ্রেষ্ঠ বীরদের অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।
• তিনি ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
• জন্ম:  ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুর গ্রামে।
• মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১ সাল।
• তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ।
• মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
• সমাধি: ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
.
মুক্তিযুদ্ধের ছয় নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর সি.আর. দত্ত
  2. মেজর কাজী নুরুজ্জামান
  3. মেজর মীর শওকত 
  4. উইং কমান্ডার এম কে বাশার
ব্যাখ্যা
ছয় নম্বর সেক্টর:

• মুক্তিযুদ্ধের ছয় নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম কে বাশার।
• মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার জুন মাস থেকে মুক্তিবাহিনীর ৬ নম্বর সেক্টরে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
• এ সেক্টরের অধীনে ছিল সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা। 
• জন্ম: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৫, নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘি
• মৃত্যু: ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬
• খেতাব: বীর উত্তম। 
• তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 
• মেজর কাজী নুরুজ্জামান ৩ নং সেক্টরের সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। 
• মেজর সি.আর. দত্ত ৪ নং সেক্টরের সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।
• মেজর মীর শওকত ৫নং সেক্টরের সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম কী? 
  1. মাইক
  2. ওরা ১১ জন
  3. রেডিও
  4. স্টপ জেনোসাইড
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র: 

• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম রেডিও। 
• ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে এর আগে কোনো সিনেমা নির্মিত হয়নি।
• ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ দেশজুড়ে মুক্তি পায় ‘রেডিও’।
• মুক্তিযুদ্ধের সময় নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত একটি গ্রামে রেডিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তা নিয়ে এই সিনেমার গল্প। 
• পরিচালক: অনন্য মামুন। 
• অভিনয়শিল্পী: রিয়াজ, জাকিয়া বারী মম, লুৎফর রহমান জর্জ, নাদের চৌধুরী, প্রাণ রায় এবং এলিনা শাম্মীসহ অনেকেই। 
• একটি গ্রামে ঐতিহাসিক সেই ৭ মার্চের ভাষণ শোনাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির গল্প।

• উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ কিভাবে জন্ম থেকে প্রজন্মে কেমন প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘তর্জনী’।
- এর পরিচালক সোহেল রানা।

• অন্যদিকে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’। 
- এটি সরকারি অনুদানে নির্মিত হয়েছে। 
- এতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, ফেরদৌস আহমেদ ও তানভীন সুইটি।

তথ্যসূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩ এবং ঢাকা টাইমস , ০৭ মার্চ, ২০২৪। 
.
'অপারেশন সার্চলাইট' এর নীলনকশার সার্বিক তত্ত্বাবধান করে কে?
  1. টিক্কা খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট: 

• ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে এই দেশের মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করা শুরু করে। 
অপারেশন সার্চ লাইট এর সার্বিক তত্ত্বাবধান করে গভর্নর লে. জে টিক্কা খান।
• ১৮ মার্চ, ১৯৭১ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী ও মেজর খাদিম হোসেন নীলনকশা তৈরি করে। 
• ঢাকা শহরের দায়িত্বে ছিল: মেজর রাও ফরমান আলী।
• ঢাকার বাইরে দায়িত্বে ছিল: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
• ১৬ মার্চ, ১৯৭১: ইয়াহিয়া সরকার পূর্ব পাকিস্তানে গোলাবারুদ ও অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে। 
• ১৯ মার্চ, ১৯৭১: বাঙালি সেনাদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু এবং সার্চ লাইটের নীল নকশা অনুমোদন।
• ২৪ মার্চ, ১৯৭১: চট্টগ্রাম বন্দরে এমভি সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাস শুরু করে।
• ২৫ মার্চ, ১৯৭১: গণহত্যা চালাতে পাকিস্তান সেনাদের উদ্দেশ্যে টিক্কা খান বলে, “এদেশের মানুষ চাই না, মাটি চাই।"

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ছিলেন -
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান
  3. খন্দকার মোশতাক
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠন: 

• মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
• এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। 
• এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায়। 

• এ সরকারের বিভিন্রান পদে যারা দায়িত্বে ছিলেন:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ);
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী: এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ;
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব;
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। 
• তাজউদ্দিন আহমেদ ১২ এপ্রিল মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন।
• বাংলাদেশের এই অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের ১২ টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১০.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জেড ব্রিগেড ফোর্সের সদর দপ্তর কোথায় ছিল?
  1. তেলঢালা
  2. আগরতলা
  3. ত্রিপুরা
  4. হেজামারা
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স (Brigade Forces): 

• মুক্তিযুদ্ধে ১১ টি সেক্টর ও অনেকগুলো সাব সেক্টর ছিল।
• মে ও জুন মাসে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
• ফোর্সের নামকরণ করা হয় অধিনায়কদের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে।

• জেড ফোর্স 
- গঠন: ৭ জুলাই ১৯৭১);
- অধিনায়ক : মেজর জিয়াউর রহমান;
- সদর দপ্তর: তেলঢালা; ভারত
- এটাই ছিল তৎকালীন স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রথম একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড। 

এস ফোর্স:
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

কে ফোর্স:
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
দেশের বাহিরে নিচের কোন শহরে মুজিবনগর সরকার মিশন স্থাপন করেছিল? 
  1. স্টকহোম
  2. দিল্লি
  3. ওয়াশিংটন
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
দেশের বাহিরে মুজিবনগর সরকারের মিশন স্থাপন:

• ১৯৭১ সালের ১০ মার্চ মুজিবনগর সরকার গঠনের পর কাজের সুবিধার্থে ১২ টি মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। 
• মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে। শহরগুলো হলোঃ
- কলকাতা
- দিল্লি
- লন্ডন
- ওয়াশিংটন
- নিউইয়র্ক
- স্টকহোম
• এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। 
• সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়। 
• তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতসৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। 
• উল্লেখ্য, বিদেশে কলকাতাতেই প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে। 
• মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে ছিল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১২.
১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সুইডেনের স্টকহোমে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন -
  1. হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
  2. এম আর সিদ্দিকী
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
দেশের বাহিরে মুজিবনগর সরকারের মিশন:

• পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  যুদ্ধের সময় বিদেশের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের মিশন স্থাপন করে।
• বহির্বিশ্বের সরকার ও জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে মিশনের প্রতিনিধিদল। 
• কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম প্রভৃতি স্থানে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করা হয়। 
• জাতিসংঘ, আফগানিস্তান, সিরিয়া-লেবানন, নেপাল, শ্রীলংকা, বার্মা, থাইল্যান্ড, জাপান প্রভৃতি দেশের সমর্থন আদায়ের জন্য কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে।

• বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রধান ছিলেন- 
- কলকাতায় হোসেন আলী,
- দিল্লিতে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, 
- ওয়াশিংটনে এম আর সিদ্দিকী,
- স্টকহোমে আবদুর রাজ্জাক, 
• ইউরোপে বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। 
• উল্লেখ্য, বিদেশে কলকাতাতে প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করা হয়েছিল। 
• মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে ছিল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
'অপারেশন জ্যাকপট' কবে পরিচালিত হয়? 
  1. ১৮ অক্টোবর, ১৯৭১ 
  2. ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
  3. ১৫ আগস্ট, ১৯৭১
  4. ১৬ জুলাই, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
'অপারেশন জ্যাকপট':

• ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত। 
• এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে।
• পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয় নৌ-কমান্ডো বাহিনী।
• ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোকে চারটি দলে ভাগ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়। 
• চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য ৬০ জন কমান্ডো গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন সাবমেরিনার আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (বীরউত্তম)।
• চট্টগ্রামে নৌ-কমান্ডো অপারেশন পরিচালিত হয় সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে। 
• মংলা বন্দরে অভিযান করেন সাবমেরিনার আহসানউল্লাহর (বীরপ্রতীক) নেতৃত্বে ৪৮ জন নৌ-কমান্ডো।
• চাঁদপুর নদীবন্দর অভিযান পরিচালনা করেন সাবমেরিনার বদিউল আলমের (বীরউত্তম) নেতৃত্বে ২০ জন নৌ-কমান্ডো ।
• সাবমেরিনার আবদুর রহমান (বীরবিক্রম) ও শাহজাহান সিদ্দিকের (বীরবিক্রম) নেতৃত্বে ২০ জনের কমান্ডো দল নারায়ণগঞ্জ ও দাউদকান্দি নদীবন্দরে সফল অভিযান পরিচালনা করে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটিতে আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি ছিলেন-  
  1. খন্দকার মোশতাক আহমদ 
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি:

• সদস্য সংখ্যা: ৮ জন।
• কাজ: মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করা।
• গঠনের সময়: ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। 
• কমিটির নেতা: মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
• আহবায়ক: তাজউদ্দীন আহমেদ।

• অন্যান্য সদস্যরা হলেন- 
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি);
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি);
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা);
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি);
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি);
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল কোন পত্রিকা?
  1. সাপ্তাহিক চরমপত্র
  2. সাপ্তাহিক গণকন্ঠ
  3. সাপ্তাহিক জয়বাংলা
  4. সাপ্তাহিক বজ্রকন্ঠ
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা:

• ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল “সাপ্তাহিক জয়বাংলা”। 
•প্রথম প্রকাশ: ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
• অফিস দপ্তর: কলকাতার পার্ক সার্কাসের ২১/১ বালু হাক্কাক লেন।
• পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম। 
• লক্ষ্য: মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
• পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব ছিল- আবদুল মান্নান এমএন-এর উপর।  

• সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ছিলেন-
- আবদুল গাফফার চৌধুরী, 
- ইবনে গোলাম সামাদ, 
- মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী, 
- আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, 
- মোঃ সলিমুল্লাহ, আসাদ চৌধুরী, 
- আবুল মঞ্জুর, 
- মোহাম্মদ খালেদ, 
- অনু ইসলাম। 
- সম্পাদক মন্ডলীর উপদেষ্টা: মো. জিল্লুর রহমান এমপি। 
• পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন বাঙালি শিল্পপতি পত্রিকাটির প্রকাশনায় আর্থিক সহায়তা দান করেন। 
• পত্রিকার জন্য নিউজপ্রিন্ট কাগজের যোগান দিতেন কলকাতার আনন্দবাজার গ্রুপ।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. খুলনা
  2. মেহেরপুর
  3. ফরিদপুর
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর:

• ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামেই বেশি পরিচিত।
• মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
• মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল।
• মুজিবনগর মেহেরপুর জেলার ভবের পাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় অবস্থিত। 
• বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর। 
• ১০ এপ্রিল ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মুজিবনগর প্রশাসনের সকল কর্মকান্ডের বৈধকরণ করা হয়।
• মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে ছিল।  

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন কেন?
  1. আইয়ুব খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে
  2. বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে
  3. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন:

• ৩ মার্চ (১৯৭১) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং পরদিন সারাদেশে হরতাল ডাকেন। 
• ২ মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
• ২ এবং ৩ মার্চ হরতালের ফলে সকল সরকারি কর্মকাণ্ড অচল হয়ে পড়ে। 
• পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করে। 
• সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি' শীর্ষক একটি ইশতেহার প্রচার করা হয়। ইশতেহারে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের তিনটি লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়।
• ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলা বাহিনী হিসেবে 'হেমায়েত বাহিনী' কোথায় গঠিত হয়?  
  1. ফরিদপুর
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. টাঙ্গাইল
  4. ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা বাহিনী:

• মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদশেকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
• বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গেরিলা বাহিনী হল: 
- টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী, 
- সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী, 
- ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী, 
- ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী, 
- বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী, 
- ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী প্রভৃতি।
• ভারতের বাহিনীর মেজর জেনারেল ওবানের অধীনে বঙ্গবন্ধুর নামে 'মুজিব বাহিনী' নামে একটি বাহিনী গঠিত হয়। 
• ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ এ.কে. খন্দকারের নেতৃত্বে গঠিত হয় বিমান বাহিনী। 
• পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করা নৌসেনাদের নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী। 
• ৯ নভেম্বর, ১৯৭১ উদ্বোধন করা হয় প্রথম নৌবহর 'বঙ্গবন্ধু নৌবহর'। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিখ্যাত গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. সেক্টর ৪
  2. সেক্টর ৩
  3. সেক্টর ২
  4. সেক্টর ১
ব্যাখ্যা
'ক্র্যাক প্লাটুন':

• মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
• এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
• ভারতের মেলাঘর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে এই বাহিনীর সদস্যরা গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। 
• গ্রেনেড ছোড়া, আত্ম-গোপন করা প্রভৃতি প্রশিক্ষনে শেখানো হতো।
• ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
• ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে। 
• এরা “হিট এন্ড রান” পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো। 
• এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন: শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।  
২০.
ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য কোন সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  3. যুক্তরাজ্য
  4. চীন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও বিশ্বজনমত:

• যুক্তরাজ্য সরকার ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে। 
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সারা বিশ্ব ও পরাশক্তিসমূহ দুভাগে ভাগ হয়েছিল।
• একভাগের নেতৃত্বে পাকিস্তান, চীন, আমেরিকা ও মুসলিম দেশসমূহ।
• অন্যদিকে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জোট নিরপেক্ষ দেশসমূহ।
• সৌদি আরব, ইরান, ইরাক প্রভৃতি দেশসমূহ এবং ওআইসি বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার প্রতিবাদ করেনি বরং পাকিস্তানকে সমর্থন করতে বিশ্বের মুসলমানদের আহ্বান জানিয়েছে।
• সোভিয়েত বলয়ভুক্ত দেশসমূহ সরাসরি বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে। 
• চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। 
• জাতিসংঘে স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে তিন পরাশক্তির বিভাজনের কারণে জাতিসংঘ মুক্তিযুদ্ধে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি।
• জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআর শরণার্থীদের সহায়তা করেছিল।
• মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনলে কোন দেশ তিনবার ভেটো প্রদান করে? 
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. রাশিয়া
  3. যুক্তরাজ্য
  4. চীন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ভেটো প্রদান: 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনলে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বর্তমান রাশিয়া তিন তিনবার ভেটো দেয়। 
• রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান।  
• মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করে। 
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে। 
• ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর প্রেরণ করে। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে কে  উপস্থিত ছিলেন?
  1. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
  4. মেজর জিয়াউর রহমান 
ব্যাখ্যা
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান:

• ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।  
• রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণ করেন জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী।
• আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ৯৩ হাজার সৈন্য উপস্থিত ছিলেন। 
• যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার। 
• ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে ঢাকায় আগত কাদের সিদ্দিকীও ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল? 
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর 
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: 

• মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
• নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। 
• ১০ নং সেক্টরে কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না। 
• চট্টগ্রাম ১নং সেক্টরের অধীনে ছিল। 
• অপরদিকে ঢাকা ২ নং সেক্টর এবং রাজশাহী ৭ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।
• মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব নগর ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।