পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৪: বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ভাষা আন্দোলন, ii) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন, iii) ৫৬ - এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন iv) পাকিস্তানে সামরিক শাসন ও শাসন বিরোধী আন্দোলন v) ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
ইস্কান্দার মির্জা কবে পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন?
  1. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
  2. ২৭ মার্চ, ১৯৫৬
  3. ৭ অক্টোবর, ১৯৫৮
  4. ২৭ অক্টোবর, ১৯৫৮
ব্যাখ্যা

সামরিক শাসন জারি:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়। সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়। মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. তমিজুদ্দিন খান
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি সদস্যদের বাংলায় বক্তৃতা প্রদান এবং সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ইংরেজিতে প্রদত্ত বক্তৃতায় বাংলাকে অধিকাংশ জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে ধীরেন্দ্রনাথ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি তোলেন। এ ছাড়া সরকারি কাগজে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তিনি।

- সংসদ সদস্য প্রেমহরি বর্মণ, ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ও শ্রীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তাঁরা পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তাঁদের এ সমর্থনের মাধ্যমে মূলত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাভাবিক মতামতই প্রতিফলিত হয়েছিল।

- তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে পরিষদের সব মুসলমান সদস্য (সবাই মুসলিম লীগের) একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। খাজা নাজিমুদ্দিন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ‘পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষ চায় রাষ্ট্রভাষা উর্দু হোক।’

- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবকে পাকিস্তানে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। উর্দুকে লাখো-কোটি মুসলমানের ভাষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কেবল উর্দুই হতে পারে।’ অনেক বিতর্কের পর সংশোধনীটি ভোটে বাতিল হয়ে যায়। সংসদীয় দলের আপত্তির কারণে অনেক বাঙালি মুসলমান সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উত্থাপিত সংশোধনীটিকে সমর্থন করতে পারেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
iii) NDTV পত্রিকা।

.
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. মওলানা ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. সৈয়দ আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
- মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
- বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
- শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
- কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: শেখ মুজিবুর রহমান।

• যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।  ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।  যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।  ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। 
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট। যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ হিসেবে ধর্মঘট পালিত হয় কবে?
  1. ১১ মার্চ, ১৯৪৮
  2. ১৮ মার্চ, ১৯৪৮
  3. ২১ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ২৩ মার্চ, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে পরিষদ সদস্যদের ইংরেজি অথবা উর্দুতে বক্তৃতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।
- এ অবস্থায় পূর্ব-পাকিস্তান কংগ্রেস দলের সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষারূপে স্বীকৃতি দানের দাবি জানান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পূর্ব বাংলার ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীমহল প্রতিবাদ মুখর হয়ে পড়ে।
- মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২ মার্চ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন মিলিতভাবে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- ১১ মার্চ, ১৯৪৮ ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ হিসেবে ধর্মঘট পালিত হয়। ভাষার দাবিতে এটাই ছিল প্রথম ধর্মঘট। সেদিন পিকেটিং ও বিক্ষোভে শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার হন। 'রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। এসময় পুলিশী আক্রমণে বহু ছাত্র আহত হয় এবং বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১২-১৫ মার্চ ঢাকাসহ সকল জেলায় ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়। পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন সংগ্রাম পরিষদের সাথে একটি ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে তিনি সংগ্রাম পরিষদের অনেকগুলো শর্ত মেনে নিলেও বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষার দাবি মানেন নি।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 

.
আইয়ুব খান PODO এবং EBDO আদেশের মাধ্যমে কী নিষিদ্ধ করেন?
  1. সামরিক বাহিনীর কার্যকলাপ
  2. সংবাদপত্র প্রকাশনা 
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা
  4. রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।

• ক্ষমতাদখলের পর আইয়ুব খান কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করেন। ১৯৫৯ সালে 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থায় শাসনকাঠামোকে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছিল। ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা ছিল সর্বনিম্ন স্তর এবং এর সদস্যদের বলা হতো ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’। ১৯৬৫ সালে পরোক্ষ নির্বাচনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগে নির্বাচিত ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী এ নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে কাজ করেন। এ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহকে পরাজিত করে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কে বাতিল করেছিলেন?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. গোলাম মোহাম্মদ
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও ছুটি পালন, শহীদ মিনার নির্মাণ, বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হবে।
- সে সময় 'নিউ ইয়র্ক টাইমস্' পত্রিকার সংবাদদাতা কালাহানকে দেওয়া ফজলুল হকের তথাকথিত সাক্ষাৎকার কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচলিত করে তোলে। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক নানা চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
- কেন্দ্রীয় সরকারের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন। এভাবে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিলের প্রধান কারণসমূহ:
- কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র: মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ও ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এই জনপ্রিয় সরকারকে সরানোর ষড়যন্ত্র করে।
- আদমজী জুট মিল দাঙ্গা: ১৫ মে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর, ১৬ মে আদমজী জুট মিলে বাঙালি ও অ-বাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা বেধে যায়, যা সরকারকে দুর্বল করে দেয়।
- ফজলুল হকের বক্তব্য: ফজলুল হককে দাঙ্গার জন্য দায়ী করা হয় এবং তিনি দেশভাগের বিরোধী বলে গুজব ছড়ানো হয়।
- ৯২(ক) ধারা: ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মালিক গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে প্রদেশে ৯২(ক) ধারা বা গভর্নরের শাসন জারি করেন।
- গ্রেপ্তার: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এ. কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দী করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায় -
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য:
- ১৯৫৬ সাল পাকিস্তানের জন্য যে সংবিধান প্রণীত এবং গৃহীত হয় তার মূল সুর বোঝানোর জন্য একটি প্রস্তাবনা লিখিতভাবে যুক্ত করা হয়েছিল। এই সংবিধানে ৬টি তফসিল, ১৩টি অনুচ্ছেদ এবং ২৩৪টি ধারা ছিল।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. ইসলামী প্রজাতন্ত্র: '৫৬ সালের সংবিধান অনুসারে পাকিস্তানকে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়ন নিষিদ্ধ হয় এবং রাষ্ট্রপতি মুসলমান হবেন- এ শর্ত যুক্ত করা হয়।
২. যুক্তরাষ্ট্র: পাকিস্তান হবে একটি যুক্তরাষ্ট্র এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের ভেতর ক্ষমতা ভাগ করে দেয়া হয়। ক্ষমতার ক্ষেত্রে তিনটি ভাগ দেখা যায়- একটি কেন্দ্রীয় সরকারের, একটি প্রাদেশিক সরকারের এবং একটি ছিল যুগ্ম তালিকাভুক্ত।
৩. সংসদীয় সরকার: কেন্দ্রে এবং প্রদেশে সংসদীয় প্রকৃতির বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। এই পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রধানে পরিণত করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী ছিলেন।
৪. এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা: পাকিস্তানে গোড়া থেকেই যদিও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা নিয়ে আলোচনা চলছিল, শেষপর্যন্ত দেশে এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তিত হয়। ১০ জন মহিলা সদস্য সহ মোট ৩১০ সদস্যের পার্লামেন্ট গঠনের কথা বলা হয়। সংখ্যাসাম্য নীতির ভিত্তিতে এই আসন বণ্টন করা হয়।
৫. রাষ্ট্রভাষা: বাংলা এবং উর্দু উভয় ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়।
৬. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: ১৯৫৬ সালের সংবিধানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানে পরিষ্কার ভাষায় প্রাদেশিক কার্যাবলী নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রদেশ পরিচালনার জন্য প্রাদেশিক মন্ত্রিপরিষদ, আইন পরিষদ প্রভৃতির বিষয়ে স্পষ্ট বিধান ছিল।
৭. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে সংবিধানের রক্ষকের দায়িত্বও দেয়া হয়। একটি সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রদেশগুলির জন্য আলাদা হাইকোর্টের বিধান রাখা হয়।
৮. মৌলিক অধিকার: সংবিধানে নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। মৌলিক অধিকারসমূহ বিধিবদ্ধ করে সাংবিধানিক নিশ্চয়তা এবং এর জন্য আদালতের দ্বারস্থ হবার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়।
৯. স্বাধীন নির্বাচন কমিশন: পাকিস্তান যেহেতু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার দ্বারা শাসিত হবে সেহেতু সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা রাখা হয়।
১০. সংবিধান সংশোধন: ১৯৫৬ সালের সংবিধানে সংশোধনের যে ব্যবস্থা রাখা হয় তাকে নমনীয় বলা যায়। সাধারণ সংশোধনীসমূহ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন করার ব্যবস্থা ছিল। তবে উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতির সম্মতি নেবার প্রয়োজন ছিল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানটি কত সালে প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই:
- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তমদ্দুন মজলিস-এর মাধ্যমে প্রথম উচ্চারিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস"। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে রশীদ ভবনে ছিল এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়।
- "ভাষা আন্দোলনের সাংগঠনিক প্রয়াসের প্রাথমিক কৃতিত্ব গণ আজাদী লীগের। এর পর এ আন্দোলন বেগবান করতে সবচেয়ে অবদান রেখেছে অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তমদ্দুন মজলিস। 
- ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর মানে, অর্গানাইজেশনটা প্রতিষ্ঠার দুই সপ্তাহের মধ্যে একটা বই বের করলে 'পাকিস্তানের রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা—না উর্দু?’ শীর্ষক পুস্তিকা। এখানে লিখেছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ। এই পুস্তিকার প্রথম অংশ সংযোজিত ছিল তমদ্দুন মজলিসের পক্ষে ভাষা বিষয়ক প্রস্তাব, তার প্রথম দফাই ছিল—‘বাংলা ভাষাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন; পূর্ব পাকিস্তানের আদালতের ভাষা; পূর্ব পাকিস্তানের অফিসাদির ভাষা’।
- ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর পূর্ব বাংলার তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সরকারি বাসভবন বর্ধমান হাউজে (বর্তমান বাংলা একাডেমি) বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে কি হবে না এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই এ সভার আয়োজন। বৈঠক চলাকালে বুদ্ধিজীবী সংস্কৃতিকর্মী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বর্ধমান হাউজে মিছিল সহকারে উপস্থিত হয়। মিছিলে একটাই মাত্র স্লোগান উচ্চারিত হয়েছে—‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।

• পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম সভায় ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। 
- ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন করাচি থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন যে, প্রদেশের সরকারি কাজকর্মে কোন ভাষা ব্যবহূত হবে তা প্রদেশের জনগণই ঠিক করবে। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে কেবল উর্দু। সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় এবং ‘রাষ্টভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেন।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) BBC.
iii) প্রথম আলো।
iv) বণিক বার্তা।

.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিলের পর পূর্ব বাংলায় কোন ধরনের শাসন জারি হয়?
  1. সামরিক শাসন
  2. প্রেসিডেন্ট শাসন
  3. গভর্নরের শাসন
  4. জরুরি অবস্থা
ব্যাখ্যা

পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকার:
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বা  গভর্নরের শাসন জারী করেন।
- পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
আইয়ুব খানের 'মৌলিক গণতন্ত্র' রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কতজন মৌলিক গণতন্ত্রী ছিল?
  1. ৫০ হাজার 
  2. ৮০ হাজার
  3. ১ লক্ষ
  4. ১.৫ লক্ষ
ব্যাখ্যা

মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ' ব্যবস্থাটি জারি করেন আইয়ুব খান।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য,
- উচ্চ বিলাসী আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন। অতঃপর তিনি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
- ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ - হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

[উল্লেখ্য যে, [শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে 'উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা' সম্পর্কে ভাষণ দেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ:
- ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে 'উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা' সম্পর্কে ভাষণ দেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 

• ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ১০ দিনের সফরে পূর্ব পাকিস্তানে আসেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনি বেশ কয়েকটি জনসমাবেশে ভাষণ রাখেন। 
- ২১ মার্চ ১৯৪৮ রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর পূর্ব পাকিস্তান সফর উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশাল সমাবেশে জিন্নাহ বলেন, ‘উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হইবে, অন্য কোনো ভাষা নহে। যে কেহ অন্য পথে চালিত হইবে সেই পাকিস্তানের শত্রু’।
- ২৪ মার্চ তারিখে কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ঢাবি’র সমাবর্তনে তিনি পুনরায় ঘোষণা করেন ‘Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan’. জিন্নাহ যখন বলেন, উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা, তখন হলের মধ্যে বহু ছাত্র ‘না,না’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। জিন্নাহ কঠোর ভাষায় তাদেরকে শাসিয়ে দেন, ‘যে কোন অসাংবিধানিক আন্দোলন কঠোর হস্তে দাবিয়ে রাখা হবে’। ২৮শে মার্চ জিন্নাহ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় রেডিওতে তার দেয়া বক্তব্যে তার অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। 

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) মুক্তিযুদ্ধ-ই-আর্কাইভ। 

১২.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র কবে গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়?
  1. ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৬
  2. ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
  3. ২ মার্চ, ১৯৫৬
  4. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন: 
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র। এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে। সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়। এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়। এ বিলের উপর আলোচনা-সমালোচনা চলে। আলোচনার পর ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে। অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট মূলত কোন শাসনামলে গঠিত হয়?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
ব্যাখ্যা

শরিফ শিক্ষা কমিশন:
- আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পর ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শরিফ শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষাবিভাগের সচিব এস এম শরিফ।
- উক্ত কমিশনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ৪ জন ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৬ জন সদস্য নিযুক্ত করা হয়। শিক্ষাকমিশনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোনাজাতউদ্দিন, ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আতোয়ার হোসেন ও ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ রশীদ।
- পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক প্রশাসক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালের ৫ জানুয়ারি শিক্ষা কমিশনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষনা করেন। 
- কমিশন ১৯৬২ সালের ২৬ আগষ্টের মধ্যেই অন্তবর্তীকালীন এক প্রতিবেদন প্রেসিডেন্ট বরাবর পেশ করে। পরে ১৯৬২ সালে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট গন্থাকারে মুদ্রিত করা হয়। 

• এই শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়।
- পাকিস্তানে যে সকল ভাষা রয়েছে সেসকল ভাষার জন্য অভিন্ন বর্ণমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়। অর্থাৎ, বাংলা ভাষা বাংলা বর্ণমালায় না লিখে আরবি অথবা রোমান বা উর্দু বর্ণমালায় লেখার সুপারিশ করা হয়। একইসাথে বাংলা বর্ণামালার সংস্কারের সুপারিশও করা হয়।
- কমিশনের রিপোর্টে ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষাকোর্সের মেয়াদ তিন বছর করার সুপারিশ করা হয়।
- এই রিপোর্টে শিক্ষাকে 'অধিকার' হিসেবে না দেখে শিক্ষাকে 'বাণিজ্য' হিসেবে দেখা হয়েছিল, অর্থাৎ রিপোর্টে 'অবৈতনিক শিক্ষার ধারণা'কে অসম্ভব বলা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

১৪.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে কত দফা ছিল?
  1. ৬ দফা
  2. ১১ দফা
  3. ১৮ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের পাকিস্তানের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে গঠিত বিরোধী দলগুলোর একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনী জোট হলো যুক্তফ্রন্ট। 
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দলগুলো ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল। 
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা। ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে এটি 'একুশ দফা' কর্মসূচির ভিত্তিতে বিশাল জয় লাভ করে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন কে?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. আইয়ুব খান
  3. ওমরাও খান
  4. ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়। পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৮ সালেই এ শাসনতন্ত্রের সমাধি রচিত হয়। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা আইয়ুব খানের চাপের কারণে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন। এটি ছিল আসলে সামরিক অভ্যুত্থান।
- সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা এক ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারকে তিনি বরখাস্ত করেন। সাথে সাথে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদগুলো ভেঙে দেন। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেও বাতিল করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
ভাষা আন্দোলনের সূচনার সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত সংগঠন -
  1. ছাত্রলীগ
  2. গণতান্ত্রিক যুবলীগ
  3. তমদ্দুন মজলিস
  4. পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়ন বিজ্ঞানের অধ্যাপকদ্বয় আবুল কাসেম ও নুরুল হক ভূঁইয়া ধূমায়িত অসন্তোষকে সাংগঠনিক রূপদানের প্রচেষ্টায় ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস গঠন করেন। নবগঠিত তমদ্দুন মজলিসই ভাষা আন্দোলনের গোড়াপত্তন করে।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রশ্নটিকে অধ্যাপক আবুল কাসেম তার দিবারাত্রির স্বপ্ন করে তুলেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের নির্ভীক মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিকেরও তিনি প্রতিষ্ঠাতা।
- ‘তমদ্দুন মজলিসের প্রথম গঠনতন্ত্র রচিত হয়েছিল ১৯৪৮ সালে, আর তা ছাপা হয় ১৯৫০ সালে। এরপর ১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তখনকার কেন্দ্রীয় পরিষদের কয়েকটি বৈঠকে মূল গঠনতন্ত্রের কয়েকটি ধারা সংশোধিত হয়। বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত এ গঠনতন্ত্র প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- তমদ্দুন মজলিসের প্রথম গঠনতন্ত্রে চারটি উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়। ক) কুসংস্কার গতানুগতিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা দূর করে সুস্থ ও সুন্দর তমদ্দুন গড়ে তোলা। খ) যুক্তিবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত সর্বাঙ্গ সুন্দর ধর্মভিত্তিক সাম্যবাদের দিকে মানবসমাজকে এগিয়ে নেয়া। গ) মানবিক মূল্যবোধের ওপর সাহিত্য ও শিল্পের মারফত নতুন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা এবং ঘ) নিখুঁত চরিত্র গঠন করে গণজীবনের উন্নয়নে সহায়তা করা।
- তমদ্দুন মজলিস গঠন সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ও তমদ্দুন মজলিসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শামসুল আলম বলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে তমদ্দুন মজলিস ছিল একটি চমকে দেয়া বিপ্লবী নাম। ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিস এবং এর মুখপত্র সৈনিকের এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাসেমের উদ্যোগে সাপ্তাহিক সৈনিকের যাত্রা হয়। এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট কথাশিল্পী শাহেদ আলী। অন্যতম সম্পাদক ছিলেন এনামুল হক। সৈনিক একই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধ চালাত। সাপ্তাহিক সৈনিক বিভিন্ন সময়ে যেসব বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে তাতেও সৈনিকের আদর্শ সম্পর্কে একটা বক্তব্য উঠে আসত। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) বণিকবার্তা। 

১৭.
আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে কী বিপ্লব বলে আখ্যা দেন?
  1. মার্চ বিপ্লব
  2. আগস্ট বিপ্লব
  3. সেপ্টেম্ববর বিপ্লব
  4. অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল:
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ছিলেন গণতন্ত্র বিরোধী।
- গণতন্ত্র ধ্বংসে তাঁর অপতৎপরতার অন্যতম সহযোগী ছিলেন প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তাঁর একান্ত পার্শ্বচর আইয়ুব খানের হাতেই তাঁর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে।
- সামরিক শাসন জারির ২১ দিন পরেই আইয়ুব খান ইস্কান্দর মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন।
- ১৯৫৮ সালের ২৭ আক্টোবর আইয়ুব খান নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। একই সংগে তিনি প্রধান সেনাপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে বহাল থাকেন।
- আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে অক্টোবর বিপ্লব বলে আখ্যা দেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূল কারণ ছিল -
  1. হামিদুর রহমান কমিশন
  2. মনায়েম খান কমিশন
  3. শরিফ শিক্ষা কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।

• শরিফ শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ,১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ। এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট, ১৯৫৯।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৯ সালের শেষ দিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কারণ এর কয়েকটি সুপারিশকে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্চশিক্ষা সংকোচনের জন্য উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যেমন ডিগ্রি কোর্স দুই বছর থেকে তিন বছর করা, কলেজ পর্যায়ে বছর শেষে পরীক্ষা ও তার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী বর্ষে উন্নীত হওয়ার শর্ত, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত।
- এগুলোকে ছাত্ররা সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে। 
- তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ নিয়ে। ক্ষমতায় এসেই আইয়ুব খান (অক্টোবর ১৯৫৮) সামরিক শাসন জারি করেছিলেন, এ সময় সব ধরনের রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ।
- ফলে রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

১৯.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কততম দফায় ‘বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা’র কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৫তম
  2. ১৬তম
  3. ১৭তম
  4. ১৮তম
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে। ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
'পলিটিক্যাল পার্টিজ এ্যাক্ট' কে প্রবর্তন করেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী
  2. আইয়ুব খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা 
  4. মোনায়েম খান
ব্যাখ্যা

পলিটিক্যাল পার্টিজ এ্যাক্ট:
- প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ছিলেন রাজনৈতিক উচ্চভিলাসী।
- এজন্য তিনি 'পলিটিক্যাল পার্টিজ এ্যাক্ট' বা রাজনৈতিক দলবিধি প্রবর্তন করে রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবন ঘটান।
- প্রেসিডেন্ট স্বয়ং নিজে 'কনভেনশন মুসলিম লীগ' নামে একটি দল গঠন করেন। এই বিধির মাধ্যমে তিনি গণ ঐক্য ধ্বংস ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।
- সোহরাওয়ার্দীসহ পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। অবশ্য পশ্চিম পাকিস্তানে কাউন্সিল মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টি সক্রিয় হয়।
- এসময় সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ 'জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট' (এন.ডি.এফ) নামে একটি রাজনৈতিক মোর্চা গঠন করেন। এন.ডি.এফ. গঠনের মূল উদ্দেশ্যে গণ ঐক্য সৃষ্টি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সুদৃঢ় করা। এর মূল দাবি ছিল ১৯৫৬ সালের সংবিধান পুনর্বহাল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।