অ্যালগরিদম এবং ফ্লোচার্ট উভয়ই একটি সমস্যাকে সম্পূর্ণ এবংস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে সাহায্য করে।
অ্যালগরিদম (Algorithm):
কম্পিউটারের সাহায্যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সমস্যাটিকে ছোট ছোট ধাপে বিভক্ত করে যুক্তিসম্মতভাবে পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করাকে অ্যালগরিদম বলে। অর্থাৎ অ্যালগরিদম হচ্ছে প্রোগ্রাম রচনা ও নির্বাহের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে লিপিবদ্ধ করা। কম্পিউটারের সাহায্যে কোনো সমস্যা সমাধানে প্রোগ্রামিংয়ের ক্ষেত্রে অ্যালগরিদমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালগরিদম তৈরির শর্ত বা নিয়মসমূহ হলো
১. অ্যালগরিদমটি সহজবোধ্য হবে।
২. প্রতিটি ধাপ স্পষ্ট হতে হবে, যাতে সহজে বোঝা যায়।
৩. সসীমসংখ্যক ধাপে সমস্যার সমাধান হতে হবে।
৪. অ্যালগরিদম ব্যাপকভাবে প্রয়োগ উপযোগী হতে হবে।
অ্যালগরিদমের সুবিধা :
১। সহজে প্রোগ্রামের উদ্দেশে বোঝা যায়।
২। সহজে প্রোগ্রামের ভুল নির্ণয় করা যায়।
৩। প্রোগ্রামের প্রবাহের দিক বোঝা যায়।
৪। জটিল প্রোগ্রাম সহজে রচনা করা যায়।
৫। প্রোগ্রাম পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে সহায়তা করে ।
ফ্লোচার্ট বা প্রবাহ চিত্র (Flowchart) :
প্রোগ্রাম বা কোনো উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতিকে সহজে চিত্রের সাহায্যে তুলে ধরার জন্য সাংকেতিক চিহ্ন, বর্ণনাভিত্তিক এবং পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাকে ফ্লোচার্ট বা প্রবাহ চিত্র বলা হয়। ফ্লোচার্ট হচ্ছে অ্যালগরিদমের চিত্ররূপ। অর্থাৎ অ্যালগরিদমের ধাপসমূহ চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করাকে ফ্লোচার্ট বলে।
ফ্লোচার্টের সুবিধা :
১। সহজে প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করে।
২। প্রোগ্রামের ভুল নির্ণয়ে সাহায্যে করে।
৩। প্রোগ্রাম প্রক্রিয়াকরণের উদ্দেশ্য বুঝতে সহায়তা করে।
৪। সহজে ও সংক্ষেপে জটিল প্রোগ্রাম লেখা সম্ভব হয়।
৫। প্রোগ্রামের পদ্ধতির পরিবর্তন ও ভুল সংশোধনে সাহায্যে করে।
উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।