পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৯ টপিক: - পরমাণুর শক্তিস্তরের ইলেক্ট্রন বিন্যাস ও উপ শক্তিস্তরের ধারণা নিয়ে আলোচনা। - ইলেক্ট্রন বিন্যাসের নিয়ম ও কিছু ব্যতিক্রম। - পর্যায় সারণির ইতিহাস, আধুনিক পর্যায় সারণি। - পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা। - ইলেক্ট্রন বিন্যাস থেকে পর্যায় সারণিতে মৌলের অবস্থান নির্ণয়, ব্যতিক্রম। - মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম, মৌলের বিশেষ গ্রুপের প্রথাগত নাম। - বিগত সালের প্রশ্ন। - যোজ্যতা ইলেক্ট্রন, যোজনী ও যোজ্যতা নিয়ে আলোচনা। - সংকেত, আণবিক সংকেত, স্থূল সংকেত। - যৌগের রাসায়নিক সংকেত, লিখার নিয়ম, গাঠনিক সংকেত। - যৌগমূলক ও তার যোজনী। - বিগত সালের প্রশ্ন। [ক্লাস – ১৮, ১৯] (২য় রাউন্ড)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
মেন্ডেলিভের সারণি কোন ভিত্তিতে সাজানো ছিল?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ইলেক্ট্রন সংখ্যা
  4. রাসায়নিক ধর্ম
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
ব্যাখ্যা

• মেন্ডেলিভের সারণি মূলত পারমাণবিক ভরের ক্রমে সাজানো হয়েছিল।

• মেন্ডেলিভের অবদান:
- দিমিত্রি মেন্ডেলিভ (Dmitri Mendeleev) ১৮৬৯ সালে প্রথম পর্যায়িক সারণি তৈরি করেন।
- তিনি রসায়নের রাসায়নিক ধর্ম এবং পারমাণবিক ভরের ভিত্তিতে মৌলগুলো সাজান।
- মেন্ডেলিভ মৌলগুলোকে উর্ধ্বক্রমে পারমাণবিক ভরের ভিত্তিতে সাজান।
- একই ধরনের রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট মৌলগুলো একই কলামে (গ্রুপ) রাখা হয়।
- সারণিতে কিছু খালি ঘর রাখার মাধ্যমে তিনি নতুন আবিষ্কৃত বা অজানা মৌলগুলো পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হন। যেমন: গ্যালিয়াম (Ga), জার্মেনিয়াম (Ge) ইত্যাদির পূর্বাভাস মেন্ডেলিভ করেছিলেন।

• সীমাবদ্ধতা:
- পারমাণবিক ভর ব্যবহার করার কারণে কিছু মৌল গ্রুপ ক্রমে পুরোপুরি সঠিক ছিল না।
- পরে হেনরি মোসলে (Henry Moseley) পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সারণি সাজিয়ে সমস্যার সমাধান করেন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

.
গ্রুপ-১৭ এর প্রথাগত নাম কি?
  1. লবণউৎপাদক পরিবার
  2. বৈদ্যুতিক পরিবার
  3. হ্যালোজেন
  4. ধাতব পরিবার
সঠিক উত্তর:
হ্যালোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা

• গ্রুপের প্রথাগত নাম হলো “হ্যালোজেন”, যা লবণ তৈরি করার ক্ষমতার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে।
- এটি পিরিয়ডিক টেবিলের অত্যন্ত সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ।
- এই গ্রুপের মৌলগুলো হলো: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At)।
- “হ্যালোজেন” শব্দের অর্থ লবণ উৎপাদনকারী। কারণ এই মৌলগুলো ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণত লবণ (salt) তৈরি করে।

• বৈশিষ্ট্য:
- অক্সিডাইজার হিসেবে শক্তিশালী: অন্যান্য উপাদানের ইলেকট্রন আকারে গ্রহণ করতে সক্ষম।
- এটি একটি অ-ধাতু শ্রেণি, যার বৈদ্যুতিক এবং রাসায়নিক ক্রিয়াশীলতা খুব বেশি।
- সহজে একে অপরের সাথে এবং ধাতুর সঙ্গে যৌগ গঠন করে।

• ব্যবহার:
- ফ্লোরিন (F): টুথপেস্টে ফ্লুরাইড হিসেবে।
- ক্লোরিন (Cl): পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে।
- ব্রমিন (Br) ও আয়োডিন (I): চিকিৎসা এবং রসায়ন শিল্পে ব্যবহৃত।
- এই মৌলগুলো দৈনন্দিন জীবনের অনেক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

.
স্থূল সংকেত কী নির্দেশ করে?
  1. মৌলের আকার ও পরিমাণ
  2. মৌলের রাসায়নিক সূত্র
  3. মৌলের আয়নিক সংখ্যা
  4. মৌলের ভর
সঠিক উত্তর:
মৌলের আকার ও পরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলের আকার ও পরিমাণ
ব্যাখ্যা

• স্থূল সংকেত মূলত মৌলের আকার ও পরিমাণ বা ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে, যেমন কঠিন, তরল বা গ্যাস।

• সংজ্ঞা:
- স্থূল সংকেত হলো একটি রাসায়নিক প্রতীক বা চিহ্ন, যা মৌলের ভৌত অবস্থার (physical state) তথ্য প্রদর্শন করে।
- এটি মূলত দেখায় যে কোনো মৌল কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় অবস্থায় আছে।
- স্থূল সংকেত রাসায়নিক সূত্রের অংশ নয়, বরং ভৌত বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

• বৈশিষ্ট্য:
- মৌলের আকার, পরিমাণ ও অবস্থার পরিবর্তন বোঝায়।
- এটি রাসায়নিক ধর্ম বা আয়নিক সংখ্যা নয়, শুধুমাত্র ভৌত অবস্থার তথ্য দেয়।
- ব্যবহারকারীরা সহজে বুঝতে পারে মৌল কোন অবস্থায় রয়েছে।

• উদাহরণ:
- H2O(l) → l নির্দেশ করে জল তরল অবস্থায় আছে।
- Na(s) → s নির্দেশ করে সোডিয়াম কঠিন অবস্থায় আছে।
- O2(g) → g নির্দেশ করে অক্সিজেন গ্যাসীয় অবস্থায় আছে।
- Hg(l) → l নির্দেশ করে পারদ তরল অবস্থায় আছে।

• ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে রসায়নী সঠিকভাবে কাজ করার জন্য।
- রিপোর্ট, বই বা সূত্রে স্পষ্ট নির্দেশনার জন্য।
- ভৌত অবস্থার চিহ্ন না থাকলে, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোনটি সমযোজী বন্ধনের উদাহরণ?
  1. NaCl
  2. Cl2
  3. KBr
  4. KCl
সঠিক উত্তর:
Cl2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cl2
ব্যাখ্যা

• সমযোজী বন্ধনের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হলো Cl2, যেখানে দুটি সমজাতীয় অণু এক জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে বন্ধন গঠন করে।
- এটি একটি সরল আণবিক যৌগ।
- দুটি ক্লোরিন পরমাণু একটি জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে সমযোজী বন্ধন তৈরি করে।

• সমযোজী বন্ধন:
- সমযোজী বন্ধন হলো এমন একটি রাসায়নিক বন্ধন যেখানে দুটি বা তার বেশি অ-ধাতব পরমাণু তাদের ইলেকট্রন শেয়ার করে শক্তিশালী সংযুক্তি তৈরি করে।
- এই বন্ধনে ইলেকট্রন এক বা একাধিক জোড়ায় ভাগ করা হয়।

• আয়নিক বন্ধন:
- আয়নিক বন্ধন হলো এমন একটি রাসায়নিক বন্ধন যেখানে একটি ধাতু তার ইলেকট্রন সম্পূর্ণভাবে একটি অ-ধাতুর কাছে স্থানান্তর করে।
- এর ফলে ধাতু একটি ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু একটি ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই আয়নগুলো পারস্পরিক বৈদ্যুতিক আকর্ষণে শক্তভাবে যুক্ত থাকে।

• অপশন আলোচনা:
NaCl:
- এটি একটি আয়নিক যৌগ।
- এখানে ইলেকট্রন সম্পূর্ণভাবে সোডিয়াম থেকে ক্লোরে স্থানান্তরিত হয়, সমযোজী বন্ধন নয়।
KCl / KBr:
- এটিও একটি আয়নিক যৌগ।
- পটাসিয়াম ও ক্লোরাইড / ব্রোমাইড আয়নের মধ্যে ইলেকট্রন স্থানান্তর ঘটে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

.
ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় পরস্পরের ___।
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার 
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
ব্যাখ্যা

• ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন পরমাণুগুলোকে বলা হয় আইসোবার। 

আইসোবার:
- এটি হলো সেই পরমাণু বা নিউক্লিয়াস, যেগুলোর ভর সংখ্যা (A) সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা (Z) এবং নিউট্রন সংখ্যা (N) ভিন্ন।
- অর্থাৎ, এগুলোতে মোট নিউক্লিয়ন সংখ্যা একই থাকলেও, মৌলিক পরিচয় বা পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা।
- এই কারণে সমপরমাণুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে।
উদাহরণ:
- 14C (কার্বন-14) এবং 14​N (নাইট্রোজেন-14)।
- উভয়ের ভর সংখ্যা 14 সমান।
- কার্বনের প্রোটন সংখ্যা 6 এবং নিউট্রন সংখ্যা 8।
- নাইট্রোজেনের প্রোটন সংখ্যা 7 এবং নিউট্রন সংখ্যা 7।
- তাই এগুলো আইসোবার।

• অপশন আলোচনা:
আইসোটোপ: প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন। উদাহরণ: 12C ও 14C.
আইসোটোন: নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন। উদাহরণ: 14C ও 15N.
আইসোমার: একই নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন উত্তেজিত বা স্থিতিশীল অবস্থার পার্থক্য।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
ক্ষার ধাতু নয় কোনটি?
  1. Na
  2. K
  3. Li
  4. Ca
সঠিক উত্তর:
Ca
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ca
ব্যাখ্যা

• গ্রুপ ১ এর ধাতুগুলোকে (Li, Na, K) ক্ষার ধাতু বলা হয়, কিন্তু Ca গ্রুপ ২ এর ধাতু হওয়ায় এটি ক্ষার ধাতু নয়।
- Ca কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। 


• ক্ষার ধাতু:
- ক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ১ এর ধাতব মৌল, যেমন লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম।
- খুব প্রতিক্রিয়াশীল, বিশেষত পানি ও বাতাসের সঙ্গে।
- একমাত্র ভ্যালেন্স ইলেকট্রন থাকে, যা সহজেই হারায়।
- হালকা, নরম এবং কম ঘনত্বযুক্ত।
- সাধারণত ধাতব চকচকে এবং সাদা-হলকা রঙের।

• মৃৎক্ষার ধাতু:
- মৃৎক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ২ এর সেই ধাতু যা মূল্যবান, কম প্রতিক্রিয়াশীল এবং রসায়নে স্থিতিশীল।
- অক্সিজেন বা জল দ্বারা সহজে প্রতিক্রিয়াশীল নয়।
- সাধারণ পরিবেশে দাগ বা জং ধরে না।
- ধাতু হিসেবে চিরস্থায়ী চকচকে রূপ বজায় রাখে।
- শিল্প, গহনা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
ক্রোমিয়াম এর ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের থেকে ভিন্ন কেন?
  1. s উপ-স্তর অর্ধপূর্ণ থাকা সুবিধাজনক
  2. অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল
  3. সব ইলেকট্রন সমানভাবে স্থিতিশীল হয়
  4. p উপ-স্তর পূর্ণ হওয়া সহজ
সঠিক উত্তর:
অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল
ব্যাখ্যা

• ক্রোমিয়াম ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের থেকে ভিন্ন, কারণ অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল, যা তাদের স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

- সাধারণ ইলেকট্রন বিন্যাস নিয়ম অনুসারে: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d4 4s2.
- Cr এর ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d5 4s1.
- সাধারণভাবে, কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে প্রথমে s উপ-স্তর পূর্ণ হয় তারপর d উপ-স্তর পূর্ণ হয়।
- নিয়ম অনুযায়ী হবে 3d4 4s2। 
- তবে 3d উপ-স্তর অর্ধপূর্ণ (5 ইলেকট্রন) হলে এটি অধিক স্থিতিশীল হয়। 
- তাই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে গিয়ে 3d5 4s1 ভাবে অনস্থান করে। 

একইভাবে Cu এর জন্যও, 
- নিয়ম অনুযায়ী হবে 3d9 4s2
- Cu এর ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d10 4s1.
- সাধারণভাবে, কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে প্রথমে s উপ-স্তর পূর্ণ হয় তারপর d উপ-স্তর পূর্ণ হয়।
- 3d উপ-স্তর পূর্ণ (10 ইলেকট্রন) হলে এটি সবচেয়ে স্থিতিশীল।
- তাই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে গিয়ে 3d10 4s1 ভাবে অনস্থান করে। 

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোন উপ-স্তরে সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. s
  2. p
  3. d
  4. f
সঠিক উত্তর:
d
উত্তর
সঠিক উত্তর:
d
ব্যাখ্যা

• s, p, d, f উপ-স্তরের মধ্যে d-উপ-স্তর সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে।

- কোনো অণুতে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট শক্তি স্তর বা শেল (n) অনুযায়ী বিভক্ত থাকে।
- d-উপ-স্তরের 10 ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা transition metals এবং তাদের রাসায়নিক ও চৌম্বক বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- d-উপ-স্তরের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, মৌলের রং, প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং চৌম্বকীয়তা প্রভাবিত হয়।
- প্রতিটি শেলের ভিতরে থাকে বিভিন্ন উপ-স্তর (s, p, d, f)।
- প্রতিটি উপ-স্তরের ইলেকট্রনের ধারণক্ষমতা নির্ধারিত হয় 2(2l + 1) সূত্র অনুযায়ী, যেখানে ( l )হলো উপ-স্তরের কোয়ান্টাম সংখ্যা।

প্রত্যেক উপ-স্তরের সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা:
⇒ s-উপ-স্তর: l = 0 → 2(2×0 + 1) = 2 ইলেকট্রন,
⇒ p-উপ-স্তর: l = 1 → 2(2×1 + 1) = 6 ইলেকট্রন,
⇒ d-উপ-স্তর: l = 2 → 2(2×2 + 1) = 10 ইলেকট্রন,
⇒ f-উপ-স্তর: l = 3 → 2(2×3 + 1) = 14 ইলেকট্রন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
অক্সিজেনের যোজ্যতা কত?
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা

• অক্সিজেনের যোজ্যতা হলো 2। অর্থাৎ, এটি সর্বাধিক দুটি একক বা সমমানের বন্ধন তৈরি করতে পারে।

• যোজ্যতা:
- যোজ্যতা হলো একটি মৌলের ক্ষমতা কতটি হাইড্রোজেন বা অন্যান্য এক-ভ্যালেন্সি পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন তৈরি করতে পারে তা নির্দেশ করে।
- এটি মৌলের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াশীলতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- পারমাণবিক সংখ্যা 8 → ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p4.
- সর্বশেষ কক্ষপথে ৬টি ইলেকট্রন আছে। 
- সর্বশেষ কক্ষপথে (৮ ইলেকট্রন) পেতে আরও ২টি ইলেকট্রন দরকার। 
- তাই অক্সিজেন সর্বাধিক ২টি বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম।

উদাহরণ:
- H2O: প্রতিটি হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে একটি একক বন্ধন তৈরি করেছে → মোট ২টি বন্ধন।
- O2: দুটি অক্সিজেন পরমাণুর মধ্যে দ্বিগুণ বন্ধন (double bond) আছে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
Al এ উপস্থিত নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 12
  2. 13
  3. 14
  4. 11
সঠিক উত্তর:
14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
14
ব্যাখ্যা

• অ্যালুমিনিয়ামে উপস্থিত নিউট্রন সংখ্যা 14টি। 

- অ্যালুমিনিয়ামের রাসায়নিক সংকেত Al এবং এটি এক ধাতব মৌল।
- এর পারমাণবিক সংখ্যা 13, যার অর্থ নিউক্লিয়াসে 13টি প্রোটন থাকে।
- এর পারমানবিক ভর 27। 
- নিউট্রন সংখ্যা বাড়লে নিউক্লিয়াস স্থিতিশীল থাকে।
- অ্যালুমিনিয়াম একমাত্র প্রাকৃতিক আইসোটোপ 27Al নিয়ে গঠিত, যার নিউট্রন সংখ্যা 14 হওয়াই এটির স্থিতিশীলতার মূল কারণ।
- যদি নিউট্রন সংখ্যা বেশি বা কম হতো, তবে মৌলটি তেজস্ক্রিয় (Radioactive) হয়ে যেতে পারত।

নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা 
= 27 - 13  
= 14 

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১১.
একই গ্রুপের মৌলগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. সমান শক্তি
  2. সমান রাসায়নিক ধর্ম
  3. সমান ইলেক্ট্রন সংখ্যা
  4. সমান আয়নিক ব্যাসার্ধ
সঠিক উত্তর:
সমান রাসায়নিক ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমান রাসায়নিক ধর্ম
ব্যাখ্যা

• একই গ্রুপের মৌলগুলোর রাসায়নিক ধর্ম একই রকম কারণ তাদের বহিঃস্থ শক্তিস্তরে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে, যা তাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা ও যৌগগঠন প্রক্রিয়াকে অভিন্ন করে।

• পর্যায় সারণির গ্রুপ:
- পর্যায় সারণিতে উল্লম্বভাবে সাজানো প্রতিটি কলামকে গ্রুপ বলা হয়।
- একই গ্রুপে থাকা মৌলগুলোর বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা একই থাকে।
- এই ইলেকট্রন বিন্যাসের মিলই তাদের রাসায়নিক ধর্মকে প্রায় অভিন্ন করে তোলে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে বহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রন। 
- গ্রুপের মৌলগুলোর ভ্যালেন্স ইলেকট্রন সংখ্যা একই হওয়ায় তারা একই ধরনের আয়ন তৈরি করে এবং একই ধরনের যোজ্যতা প্রদর্শন করে।

উদাহরণ:
- গ্রুপ-১ (ক্ষার ধাতু): Li, Na, K → সবার বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন = 1 → সবার যৌবসায়নিক ধর্ম প্রায় এক।
- গ্রুপ-১৭ (হ্যালোজেন): F, Cl, Br → সবার বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন = 7 → সহজেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে লবণ তৈরি করে।

অপশন আলোচনা: 
- সমান শক্তি: শক্তিস্তরের সংখ্যা গ্রুপে নেমে আসার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। তাই এটি সঠিক নয়।
- সমান ইলেক্ট্রন সংখ্যা: মোট ইলেকট্রন সংখ্যা মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার ওপর নির্ভর করে; গ্রুপে ভিন্ন হয়।
- সমান আয়নিক ব্যাসার্ধ: গ্রুপে নিচের দিকে গেলে আয়নিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পায়; একই নয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১২.
কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ অল্পমাত্রায় মানবদেহের জন্য নিরাপদ?
  1. রেডিয়াম-২২৬
  2. ইউরেনিয়াম-২৩৮
  3. টেকনিশিয়াম-৯৯ 
  4. প্লুটোনিয়াম-২৩৯ 
সঠিক উত্তর:
টেকনিশিয়াম-৯৯ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকনিশিয়াম-৯৯ 
ব্যাখ্যা

  তেজস্ক্রিয় মৌলগুলোর মধ্যে টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99) তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
- এটি কম শক্তির বিকিরণ উৎপন্ন করে, গবেষণা এবং চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এর লাইফটাইম ৬ ঘণ্টা।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- তেজস্ক্রিয় মৌল বা ইসোটোপ তার নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ (অ্যালফা, বেটা, গামা) নির্গত করে।
- এতে শক্তি মুক্ত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- তেজস্ক্রিয়তা হালকা বা শক্তিশালী হলে বিপদজনক, তাই নিরাপদ ব্যবহার নির্ভর করে বিকিরণের ধরণ ও শক্তির ওপর।

• টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99):
- তেজস্ক্রিয়, তবে কম শক্তির বেটা বিকিরণ করে।
- চিকিৎসা ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
- নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহৃত হলে মানবদেহে ক্ষতি করে না।

অপশন আলোচনা:
• রেডিয়াম-২২৬ (Ra-226):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়।
- শক্তিশালী অ্যালফা বিকিরণ করে।
- সরাসরি মানবদেহে বিপজ্জনক; নিরাপদ নয়।

• ইউরেনিয়াম-২৩৮ (U-238):
- ভারী তেজস্ক্রিয় ধাতু, দীর্ঘ জীবনকাল থাকা সত্ত্বেও বিপজ্জনক।
- পারমাণবিক শক্তি ও অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত।

• প্লুটোনিয়াম-২৩৯ (Pu-239):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ও ভারী।
- পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহৃত।
- মানবদেহে খুবই বিপজ্জনক।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৩.
মৌলিক পদার্থ সনাক্তকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কোনটি? 
  1. IUPC
  2. IUPAC
  3. NASA
  4. UN
সঠিক উত্তর:
IUPAC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IUPAC
ব্যাখ্যা

• মৌলের নাম, সংকেত এবং সনাক্তকরণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সর্বাধিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো IUPAC।

• পূর্ণরূপ ও পরিচয়:
- IUPAC এর পূর্ণরূপ International Union of Pure and Applied Chemistry।
- এটি বিশ্বব্যাপী রসায়ন বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও মান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- রসায়ন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গবেষক সবার জন্য মৌল, রাসায়নিক যৌগ, প্রতিক্রিয়া ও পরিমাপের মানক রূপ স্থির করে IUPAC।

• IUPAC এর কাজ:
- নতুন কোনো মৌল আবিষ্কৃত হলে সেটি বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য কিনা তা যাচাই করে IUPAC।
- গবেষণা, প্রমাণ, বিকিরণ বৈশিষ্ট্য, স্থিতিশীলতা এবং নিউক্লিয়ার বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করে মৌলটি সনাক্ত করা হয়।
- IUPAC মৌলের নাম, প্রতীক (Symbol), পারমাণবিক সংখ্যা ইত্যাদি আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদন করে। যেমন: Og → Oganesson (নতুন মৌল)
- নতুন মৌল যুক্ত হলে IUPAC Periodic Table আপডেট করে এবং বিশ্বব্যাপী একীকরণ নিশ্চিত করে।
- বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা একই পরিভাষা ব্যবহার করে যেন গবেষণায় বিভ্রান্তি না ঘটে, সে জন্য শব্দভাণ্ডার ও নিয়ম তৈরি করে।

• IUPAC এর গুরুত্ব:
- একই মৌল বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- IUPAC এই বিশৃঙ্খলা দূর করে একক আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে।
- নতুন মৌলের পরমাণু গঠন, ভর সংখ্যা, ব্যবহারযোগ্যতা ও প্রয়োগক্ষেত্র নির্ধারিত নিয়মে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়।
- গবেষণা ও শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় থাকে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৪.
কে আধুনিক পর্যায় সারণির তত্ত্ব দেন? 
  1. জন ডাল্টন
  2. দিমিত্রি মেন্ডেলিভ
  3. হেনরি মোসলে
  4. নীলস বোর
সঠিক উত্তর:
হেনরি মোসলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি মোসলে
ব্যাখ্যা

• আধুনিক পর্যায় সারণি পারমাণবিক সংখ্যা ভিত্তিক, যার তত্ত্ব প্রমাণ করেন হেনরি মোসলে (Henry Moseley)।
- তিনি দেখান, মৌলের রাসায়নিক ধর্মের প্রকৃত কারণ ইলেকট্রন বিন্যাস, যা নির্ধারিত হয় পারমাণবিক সংখ্যা দ্বারা।
- তার তত্ত্ব ছাড়া আধুনিক পর্যায় সারণিতে ৭ম পর্যায় সম্পূর্ণ করা বা নতুন মৌলের স্থান নির্ধারণ অসম্ভব হতো।

• পর্যায় সারণির বিবর্তন:
- প্রথমদিককার রসায়নবিদেরা মৌলগুলোর বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে তাদের শ্রেণিবিন্যাসের ধারণা দেন, তবে এই শ্রেণিবিন্যাস ছিল অসম্পূর্ণ ও সীমাবদ্ধ।
- মেন্ডেলিভ মৌলগুলোকে পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজিয়ে প্রথম কার্যকর পর্যায় সারণি তৈরি করেন।
- কিন্তু কিছু মৌলের অবস্থান ও ধর্ম তার সূত্রে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।

• আধুনিক পর্যায় সারণির ভিত্তি:
- আধুনিক পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number), যা কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন সংখ্যা নির্দেশ করে।
- পারমাণবিক সংখ্যার এই ধারণা বিশ্বের রসায়নচর্চাকে পরিবর্তন করে দেয়, কারণ মৌলের ধর্ম ও অবস্থান নির্ধারণে এটিই একমাত্র সঠিক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড।

• হেনরি মোসলে অবদান:
- ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হেনরি মোসলে (Henry Moseley) এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে প্রমাণ করেন যে প্রতিটি মৌলের একটি স্বতন্ত্র পারমাণবিক সংখ্যা আছে, এবং মৌলের ধর্ম এই সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল।
- তার গবেষণায় দেখা যায় যে পর্যায় সারণিতে যেসব মৌল ভুল স্থানে ছিল, তাদের সঠিকভাবে সাজালে সব অসঙ্গতি দূর হয়ে যায়।
- এর ফলে মেন্ডেলিভের ভর-ভিত্তিক সারণি আধুনিক রূপ পায় এবং বর্তমানের ইলেকট্রন বিন্যাস ও গ্রুপ-পর্যায়ভিত্তিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৫.
ইলেকট্রন বিন্যাস অনুসারে পর্যায় সারণিতে ব্যতিক্রম অবস্থান কোন মৌলের?
  1. Ca
  2. Na
  3. He
  4. Ar
সঠিক উত্তর:
He
উত্তর
সঠিক উত্তর:
He
ব্যাখ্যা

• হিলিয়ামের 1s2 ইলেকট্রন বিন্যাস থাকায় এটি গ্রুপ-২ এ থাকতে পারতো, কিন্তু রাসায়নিক স্থিতিশীলতা ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি গ্রুপ-১৮ তে স্থান পায়।
- হিলিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2.
- এটি শুধুমাত্র একটি কক্ষপথ পূর্ণ (K-শেল)।

• গ্রুপ অনুযায়ী যুক্তি:
- গ্রুপ ২: এখানে সাধারণত অ্যালকালিন আর্থ ধাতু থাকে, যাদের শেষ কক্ষপথে 1s2 থাকে।
- ইলেকট্রন বিন্যাস অনুযায়ী হিলিয়ামও 1s2 শেল আছে, তাই এটি গ্রুপ-২ তে থাকতে পারতো।
- হিলিয়াম অত্যন্ত অ-প্রতিক্রিয়াশীল।
- রাসায়নিকভাবে হিলিয়াম অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস/নোবেল গ্যাসের মতো আচরণ করে।
- কোনও যৌগ সহজে গঠন করে না, তাই এটিকে গ্রুপ-১৮ (নিষ্ক্রিয় গ্যাস) এ রাখা হয়।
- রাসায়নিক ধর্ম অনুযায়ী: গ্রুপ-১৮ এ রাখা হয়।
- আধুনিক পর্যায় সারণিতে রাসায়নিক ধর্মই প্রাধান্য পায়, তাই হিলিয়াম গ্রুপ-১৮ এ।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৬.
নিচের কোনটি অবস্থান্তর মৌল নয়?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সোডিয়াম
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণির গ্রুপ-৩ থেকে গ্রুপ-১২ এর মৌলগুলোকে অবস্থান্তর মৌল বলে। সোডিয়াম (Na) এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ হওয়ায় এটি অবস্থান্তর মৌল নয়।

• অবস্থান্তর মৌল:
- অবস্থান্তর মৌল হলো সেই ধাতু যাদের d-অরবিটাল আংশিকভাবে পূর্ণ থাকে।
- সাধারণত এগুলো ডি-ব্লক মৌল হিসেবে পরিচিত, যা পিরিয়ডিক টেবিলের গ্রুপ ৩ থেকে ১২ এ থাকে।
- অবস্থান্তর মৌল বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে থাকতে পারে এবং তাদের যৌগ রঙিন হয়।

• বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ ঘনত্ব এবং উচ্চ গলনাঙ্ক।
- রঙিন যৌগ গঠন এবং ক্যাটালিস্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে প্রবেশ করতে সক্ষম।

• উদাহরণ:
- লোহা (Fe): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d6 4s2 → অবস্থান্তর মৌল।
- তামা (Cu): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d10 4s1 → অবস্থান্তর মৌল।
- ক্রোমিয়াম (Cr): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d5 4s1 → অবস্থান্তর মৌল।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৭.
লোহার যোজনী কত? 
  1. ২ ও ৩
  2. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
২ ও ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ও ৩
ব্যাখ্যা

• লোহা প্রধানত ২ ও ৩ যোজনী প্রদর্শন করে।

• যোজনী:
- যোজনী হলো একটি মৌল কতটি ইলেকট্রন ব্যবহার করে অন্য মৌলের সঙ্গে যৌগ (bond) গঠন করতে পারে তা নির্দেশ করে।
- এটি মূলত মৌলের শেষ কক্ষপথে উপস্থিত ইলেকট্রনের সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত হয়।

• লোহা (Fe) এর যোজনী:
- লোহা একটি অবস্থান্তর মৌল (গ্রুপ - ৮)।
- লোহা বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে থাকতে পারে, যার ফলে এর যোজনীও পরিবর্তিত হয়।

• লোহা প্রধানত দুইটি যোজনী প্রদর্শন করে:
- Fe2+ (Ferrous) → যোজনী ২
- Fe3+ (Ferric) → যোজনী ৩

• বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ:
- FeO (Ferrous oxide) → লোহা ২+ অবস্থায় → যোজনী ২
- Fe2O3 (Ferric oxide) → লোহা ৩+ অবস্থায় → যোজনী ৩
- লোহা উভয় অক্সিডেশন অবস্থায় রাসায়নিক যৌগ তৈরি করতে সক্ষম।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৮.
ইলেকট্রন এর কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কে ধারনা দিতে পারেন নি?
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. মেন্ডেলিভ 
  3. বোর
  4. রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতির ধারণা রাদারফোর্ড দিতে পারেননি।
- পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যার ইতিহাসে বিভিন্ন বিজ্ঞানী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তবে ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার, আকৃতি ও অবস্থান ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রাদারফোর্ডের মডেলে গুরুতর সীমাবদ্ধতা ছিল।
- তার অবদান থাকলেও এই দিকটি তার মডেলে অনুপস্থিত।

• রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল:
রাদারফোর্ড 1911 সালে স্বর্ণপাত (Gold Foil) পরীক্ষা পরিচালনা করে প্রমাণ করেন:
- পরমাণুর অধিকাংশ স্থান ফাঁপা এবং শূন্য।
- কেন্দ্রে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ঘন নিউক্লিয়াস।
- নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জযুক্ত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারদিকে গ্রহের মতো প্রদক্ষিণ করে।

• রাদারফোর্ডের বড় সীমাবদ্ধতা:
- তিনি ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকৃতি, আকার, শক্তিস্তর, ইলেকট্রনের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
- চলন্ত ইলেকট্রন ক্রমাগত শক্তি হারিয়ে নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা, যা বাস্তবে ঘটে না।
- কক্ষপথের বিশেষ আকার (s, p, d, f), শক্তিস্তর, সম্ভাব্য অবস্থান ব্যাখ্যা ছিল অনুপস্থিত।
- ইলেকট্রন কেন ও কীভাবে স্থির থাকে তা ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।