পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - আধুনিক বিজ্ঞান ও অন্যান্য ১. মানবদেহ ও এর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, রোগের কারণ ও প্রতিকার, সংক্রামক রোগ, রোগ জীবাণুর জীবনধারণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, মাইক্রোবায়োলজি, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাকসিনেশন, এইচআইভি, এইডস, টিবি, পোলিও, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি - এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার, হর্টিকালচার ইত্যাদি। ২. ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শক্তির উৎস ও প্রয়োগ, শক্তির রূপান্তর, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস ও জীবাশ্ম ইত্যাদি। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ---------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
শিশু যখন ৯ মাস বয়সে পৌঁছায়, তখন কোন টিকা দেওয়ার সুপারিশ থাকে?
  1. Diphtheria and Tetanus Vaccine
  2. BCG Vaccine
  3. Measles Vaccine
  4. Oral Polio Vaccine
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
ব্যাখ্যা

• ৯ মাস বয়সে শিশুকে সাধারণত Measles Vaccine (গ) দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এটি শিশুদের ক measles রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়, যা খুব সংক্রামক এবং জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। Diphtheria, Tetanus, এবং Pertussis এর জন্য শিশুকে আগেই DTP টিকা দেওয়া হয়, আর BCG টিকা জন্মের সময় দেওয়া হয় যা যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষা দেয়। Oral Polio Vaccine বিভিন্ন ডোজে জন্মের পর থেকে প্রদান করা হয়, তবে ৯ মাস বয়সে মূল লক্ষ্য থাকে measles প্রতিরোধ। তাই ৯ মাস বয়সে শিশুর টিকাকরণে Measles Vaccine প্রধান এবং অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ইলেকট্রিক ঘণ্টার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর কোন শক্তিতে ঘটে?
  1. শব্দশক্তি
  2. আলোক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. তাপ শক্তি
সঠিক উত্তর:
শব্দশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দশক্তি
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রিক ঘণ্টার ক্ষেত্রে মূলত বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে যন্ত্রটি কাজ করে। বৈদ্যুতিক শক্তি সরাসরি ঘণ্টার মেকানিজমকে ঘূর্ণন করায়, যা শব্দ উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের সময় জানানোর কাজ করে। অর্থাৎ, ঘণ্টা বাজানোর সময় যে “টিক-টক” শব্দ শোনা যায়, তা বৈদ্যুতিক শক্তির পরিবর্তন হয়ে তৈরি হয় শব্দশক্তিতে। এখানে কোন আলোক শক্তি বা রাসায়নিক শক্তি সরাসরি যুক্ত থাকে না, কারণ এটি আলো বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে না। তাপ শক্তি কিছুটা নিঃসৃত হতে পারে যন্ত্রের চলার সময়, কিন্তু ঘণ্টার মূল কাজের জন্য তা প্রাথমিক শক্তি নয়। সুতরাং ইলেকট্রিক ঘণ্টায় বিদ্যুৎ শক্তি রূপান্তরিত হয় শব্দশক্তিতে।

• বৈদ্যুতিক ঘণ্টা: 
- বৈদ্যুতিক ঘণ্টা (Electric Bell) হচ্ছে এমন একটি যন্ত্র, যা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

• বৈদ্যুতিক ঘণ্টার কার্যপ্রণালী:
- বৈদ্যুতিক সংকেত প্রবাহিত হলে ইলেক্ট্রোম্যাগনেট সক্রিয় হয়। 
- ইলেক্ট্রোম্যাগনেট একটি হাতুড়িকে আকর্ষণ করে। 
- হাতুড়ি ঘণ্টার উপর আঘাত করে শব্দ সৃষ্টি করে। 
- স্প্রিংয়ের সাহায্যে হাতুড়ি ফিরে আসে এবং প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্ত হয়। 

• শক্তি রূপান্তরের ধারা:
বিদ্যুৎ শক্তি → চৌম্বক শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি → শব্দ শক্তি

তথ্যসূত্র:
- University of Cambridge. (2020). GCSE Physics: Electromagnetic Devices.

.
ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য কোন মশা দায়ী?
  1. স্যান্ড ফ্লাই
  2. অ্যানোফিলিস
  3. কিউলেক্স
  4. এডিস
সঠিক উত্তর:
অ্যানোফিলিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানোফিলিস
ব্যাখ্যা

• ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য প্রধানভাবে অ্যানোফিলিস মশা দায়ী। এটি একটি প্রজাতির মশা যা ম্যালেরিয়ার পারাসাইট Plasmodium বহন করে এবং মানুষকে কামড় দিয়ে সংক্রমণ ছড়ায়। অ্যানোফিলিস মশা সাধারণত সন্ধ্যা ও রাতের দিকে সক্রিয় থাকে এবং পরিষ্কার জলাশয় বা পুকুরে ডিম দেয়। কামড়ের সময়, এই মশা শরীরে থাকা Plasmodium স্পোরোজয়াইট রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করায়, যা পরবর্তীতে লিভার ও রক্তকোষে আক্রমণ চালায়। অন্য মশা প্রজাতি যেমন কিউলেক্স, এডিস বা স্যান্ড ফ্লাই বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে, কিন্তু ম্যালেরিয়ার জন্য অ্যানোফিলিসই প্রধান বাহক। তাই ম্যালেরিয়ার নিয়ন্ত্রণে অ্যানোফিলিস মশার বৃদ্ধির স্থান ও কামড় প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, 
- ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী মশার প্রজাতি হলো- এডিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স। 
- কালাজ্বরের জীবাণুবাহী মশা- স্যান্ড ফ্লাই। 
- Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

.
টিবি রোগের জন্য সাধারণত কোন জীবাণু দায়ী? 
  1. প্রোটোজোয়া
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

• টিবি রোগের জন্য সাধারণত ব্যাকটেরিয়া দায়ী। বিশেষভাবে, এটি Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এই ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ফুসফুসে সংক্রমণ সৃষ্টি করে, কিন্তু শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তি খাঁচা, কাশির ফোঁটা বা স্পর্শের মাধ্যমে অন্যের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে। টিবি রোগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিকভাবে হালকা লক্ষণ যেমন হাঁপানি, কাশি, জ্বর, ওজন কমা দেখা দেয়। ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং রোগের প্রকৃতির কারণে টিবি রোগের চিকিৎসায় সাধারণভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। সুতরাং, টিবি রোগের মূল দায়ী জীবাণু হলো ব্যাকটেরিয়া।

- সঠিক উত্তর: গ) ব্যাকটেরিয়া।

• যক্ষ্মা: 
- যক্ষ্মা একটি পরিচিত বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।

- যেকোনো লোক, যেকোনো সময়ে এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
- যারা অধিক পরিশ্রম করে, দুর্বল, স্যাঁতসেঁতে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে, অপুষ্টিতে ভোগে অথবা যক্ষ্মা রোগীর সাথে বসবাস করে, তারা এ রোগে সহজে আক্রান্ত হয়। 
- যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ নয়। যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো স্থানে হতে পারে।
- দেহে এ রোগের আক্রমণ ঘটলে সহজে এর লক্ষণ প্রকাশ পায় না। যখন জীবাণুগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকাকে পরাস্ত করে দেহকে দুর্বল করে, তখনই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

• রোগের কারণ:
- সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
- তবে Mycobacterium গণভুক্ত আরও কিছু ব্যাকটেরিয়া যক্ষ্মা সৃষ্টি করতে পারে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

.
ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাস শুরু হয় কোন উদ্ভাবনের মাধ্যমে?
  1. টেলিভিশন
  2. কম্পিউটার
  3. রোবট
  4. ট্রানজিস্টর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়। 
- ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাস মূলত ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার থেকে শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করেন। এটি একটি ছোট, শক্তিশালী এবং কম শক্তি ব্যবহারকারী ডিভাইস যা বিদ্যুৎ সংকেত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ট্রানজিস্টরের আগমনের আগে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি প্রধানত ভ্যাকুয়াম টিউবের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা বড়, ভারী এবং অকার্যকর ছিল। ট্রানজিস্টরের কারণে কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র দ্রুত, ছোট এবং সাশ্রয়ী হয়। এটি আধুনিক ইলেকট্রনিক্স যুগের ভিত্তি স্থাপন করেছে। সুতরাং, ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাস শুরু হয় ট্রানজিস্টরের উদ্ভাবনের মাধ্যমে।

- সঠিক উত্তর: ঘ) ট্রানজিস্টর।

• ট্রানজিস্টর:

- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- এটি ভ্যাকুয়াম টিউবের বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়। 

- ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories–এ John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
- এটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর-এর বিকাশের পথ তৈরি করে, যা আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের মূল ভিত্তি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 

.
কোন যন্ত্র বা উপকরণ তাড়িতচৌম্বক আবেশের সাহায্যে কাজ করে?
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ট্রানজিস্টর
  3. অ্যামপ্লিফায়ার
  4. ডায়োড
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• যন্ত্র বা উপকরণগুলোর মধ্যে তাড়িতচৌম্বক (ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক) আবেশের সাহায্যে কাজ করে ট্রান্সফরমার। ট্রান্সফরমার মূলত একটি যন্ত্র যা এক ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক প্রবাহকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে। এটি কাজ করে চৌম্বকীয় আবেশের উপর ভিত্তি করে। যখন প্রাথমিক কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক ধারা প্রবাহিত হয়, তখন এটি একটি পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। এই চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে সেকেন্ডারি কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। ট্রান্সফরমার সাধারণত বিদ্যুৎ বিতরণ, যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎ সংকোচনে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ট্রানজিস্টর, অ্যামপ্লিফায়ার এবং ডায়োড প্রধানত সেমিকন্ডাক্টর তত্ত্বের ওপর কাজ করে, তারা সরাসরি চৌম্বক আবেশের মাধ্যমে কার্যকর হয় না।

- উত্তর: ক) ট্রান্সফরমার।
 
• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।

• ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।

- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।

২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- যে যন্ত্র এর অন্তর্গামীতে প্রদত্ত সংকেত বহির্গামীতে বিবর্ধিত করে তাকে অ্যামপ্লিফায়ার বলে।
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব?
  1. বৈদ্যুতিক মোটর
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ডায়নামো
  4. ভোল্ট মিটার
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
ব্যাখ্যা

• ডায়নামো যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
- যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্রকে ডায়নামো বলা হয়। ডায়নামো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা চৌম্বকীয় প্রভাবে কাজ করে। এর মূল অংশ হলো একটি রোটর বা ঘূর্ণনশীল কুণ্ডলী, যা হাত, ইঞ্জিন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক উৎস দ্বারা ঘূর্ণিত করা হয়। যখন কুণ্ডলী চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘোরে, তখন চৌম্বকীয় প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এইভাবে যান্ত্রিক শক্তি সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক মোটর ঠিক উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ট্রান্সফর্মার এবং ভোল্টমিটার শক্তি রূপান্তরের জন্য নয়, বরং বিদ্যুৎ প্রয়োগ ও পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) ডায়নামো।

• ডায়নামো:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় তাকে জেনারেটর বা ডায়নামো বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।
- ডায়নামো দু-প্রকার। যথা:
১. পরিবর্তী প্রবাহ ডায়নামো বা এ.সি. ডায়নামো এবং
২. একমূখী প্রবাহ ডায়নামো বা ডি. সি. ডায়নামো।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

• ভোল্ট মিটার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয় তাকে ভোল্টমিটার বলে।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার।

• বৈদ্যুতিক মটর:
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

.
জিংকের (Zn) খনিজ উৎস হচ্ছে - 
  1. সিন্নাবার
  2. বক্সাইট
  3. গ্যালেনা
  4. ক্যালামাইন
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন
ব্যাখ্যা

• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।
- জিংকের (Zn) প্রধান খনিজ উৎস হলো ক্যালামাইন। জিংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া, ইমিউন সিস্টেম, কোষের বৃদ্ধিসহ নানা শারীরিক কাজের জন্য অপরিহার্য। প্রাকৃতিকভাবে জিংক বিভিন্ন খনিজের মধ্যে পাওয়া যায়। সিন্নাবার সাধারণত পারদ (Hg) সমৃদ্ধ, বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের উৎস, আর গ্যালেনা সীসার (Pb) প্রধান খনিজ। ক্যালামাইন হলো একটি জিংক-অক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ, যা ধাতব জিংক উৎপাদনের মূল উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই জিংকের জন্য কেবল ক্যালামাইনকে প্রধান খনিজ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি শিল্প ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়।

• খনিজ সম্পদ:
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- গ্যালেনা সীসার খনিজ উৎস।
- বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ উৎস।
- সিন্নাবার মার্কারির খনিজ উৎস।

উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

.
মানুষের শরীরে করোটিক নার্ভের মোট সংখ্যা কত?
  1. ২৪ টি
  2. ২৩ টি
  3. ৪৬ টি
  4. ৩১ টি
সঠিক উত্তর:
২৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ টি
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে করোটিড নার্ভ (Carotid nerves) মূলত সিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের অংশ এবং তারা কারোটিড শিরা ও আর্টারি অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই নার্ভগুলি মূলত রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সাধারণভাবে, মানুষের শরীরে প্রত্যেক পাশে ১২টি করে করোটিড নার্ভ থাকে, যার মানে মোট ২৪টি হয়। এই নার্ভগুলো উভয় পাশে সমানভাবে থাকে এবং মূলত হরমোন নিঃসরণ ও রক্তচাপ সংক্রান্ত সংকেত পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রদত্ত অপশন গুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো ক) ২৪ টি।
 
• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।

• নিম্নে করোটিক স্নায়ু গুলোর নাম ও কাজ উল্লেখ করা হলো:
- অলফ্যাক্টরি - ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অপটিক - দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অকুলোমোটর - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
- ট্রকলিয়ার - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)
- ট্রাইজেমিনাল - সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
- অ্যাবডুসেন্স - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
- ফ্যাসিয়াল - স্বাদ গহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
- অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক) - শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
- গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল - স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
- ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক) - সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
- স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি - মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন।
- হাইপোগ্লোসাল - জিহ্বার সঞ্চালন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়।
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক কে ছিলেন?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. রন্টজেন
  3. ভিক্টর হেস
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
ভিক্টর হেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টর হেস
ব্যাখ্যা

• মহাজাগতিক রশ্মি হলো উচ্চ-শক্তির কণা, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এর আবিষ্কারক ছিলেন ভিক্টর হেস। ১৯১২ সালে হেস বেলুনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের উচ্চতার সঙ্গে কণার তীব্রতা পরিমাপ করেন। তিনি দেখেন, উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কণার পরিমাণও বাড়ছে, যা নির্দেশ করে যে এই কণাগুলো পৃথিবীর বাইরে থেকে আসছে। তাই তিনি প্রমাণ করেন যে মহাজাগতিক রশ্মি একটি মহাকাশীয় উৎস থেকে আসে। অন্যান্য অপশন  যেমন স্টিফেন হকিং ছিলেন কালো গহ্বর ও মহাবিশ্ব বিজ্ঞানের গবেষক, রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কারক এবং গ্যালিলিও খগোলীয় পর্যবেক্ষক, তারা এই আবিষ্কারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) ভিক্টর হেস।
 
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন স্টিফেন হকিং।
- গ্যালিলিও মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর জন্য তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা

১১.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় অণুজীবের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়?
  1. মাইক্রোবায়োলজি
  2. ফাইকোলজি
  3. এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. এন্টোমোলজি
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
ব্যাখ্যা

• জীববিজ্ঞানের মাইক্রোবায়োলজি শাখায় অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিজমের বৈশিষ্ট্য, গঠন, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাইক্রোবায়োলজির অন্তর্ভুক্ত অণুজীবের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এবং অ্যালগ রয়েছে। এই শাখা মানুষের স্বাস্থ্য, রোগ এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে অণুজীবের প্রভাব, রোগ সৃষ্টি এবং জীববিজ্ঞানের গবেষণায় তাদের ব্যবহার-যেমন অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বা বায়োপ্রসেস-সবই মাইক্রোবায়োলজির আলোচ্য বিষয়। অন্যদিকে ফাইকোলজি শাখা শৈবাল নিয়ে, এন্ডোক্রাইনোলজি হরমোন নিয়ে এবং এন্টোমোলজি পোকামাকড় নিয়ে কাজ করে। তাই অণুজীব সম্পর্কিত আলোচনা মাইক্রোবায়োলজিতে হয়।

- উত্তর: ক) মাইক্রোবায়োলজি।

• মাইক্রোবায়োলজি:
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো মাইক্রোবায়োলজি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এন্ডোক্রাইনোলজি:
- জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
• এন্টোমোলজি:
কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো এন্টোমোলজি।
• ফাইকোলজি (Phycology) হলো শৈবাল সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থিটি হচ্ছে - 
  1. থাইরয়েড
  2. ত্বক
  3. যকৃত
  4. নিউরন
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত (গ)। এটি আমাদের শরীরের ডান দিকের উপরের অংশে অবস্থান করে এবং ওজন প্রায় ১.৫ কিলোগ্রামের কাছাকাছি হয়। যকৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে, যেমন রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, হজমের জন্য পিত্ত (bile) তৈরি, প্রোটিন ও শর্করা সংরক্ষণ এবং রক্তের বিভিন্ন উপাদান নিয়ন্ত্রণ করা। এটি আমাদের দেহের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য গ্রন্থিগুলো যেমন থাইরয়েড, যা হরমোন উৎপাদন করে, বা নিউরন, যা স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, সেগুলো যকৃতের তুলনায় আকারে ছোট। তাই বৃহত্তম গ্রন্থি হিসেবে যকৃতকে ধরা হয়।
 
• যকৃত:
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ।
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে।
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে।
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে।
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
রক্ত কণিকা উৎপাদনের স্থান কোনটি?
  1. অস্থিমজ্জায়
  2. যকৃত
  3. হৃৎপিণ্ড
  4. ফুসফুস
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা

• রক্ত কণিকা উৎপাদনের প্রধান স্থান অস্থিমজ্জা। অস্থিমজ্জা হাড়ের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত নরম টিস্যু, যা রক্তের সব ধরনের কণিকা-লাল রক্তকণিকা, সাদা রক্তকণিকা এবং রক্তের প্লেটলেট-উৎপাদন করে। শিশুর শরীরে অস্থিমজ্জা প্রাথমিকভাবে বৃহৎ হাড় যেমন পিঠের হাড় এবং বৃহৎ হাড়ের প্রান্তে থাকে, আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি প্রধানত পেরিফেরাল হাড়ে সীমিত থাকে। অন্য অঙ্গ যেমন যকৃত, হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস রক্তকণিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ নয়; তবে যকৃত কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ শর্তে লাল রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে। সুতরাং, রক্তকণিকার জন্মস্থল হিসেবে অস্থিমজ্জাকে প্রধানভাবে চিহ্নিত করা হয়।

- সঠিক উত্তর: ক) অস্থিমজ্জায়।

• রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।

১৪.
নিচের মধ্যে কোনটি বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়?
  1. টাইফয়েড
  2. পোলিও
  3. জন্ডিস
  4. বসন্ত
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
ব্যাখ্যা

•  বসন্ত বায়ুবাহিত রোগ।
- বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ সাধারণত সেই রোগের জন্য হয় যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে টাইফয়েড, পোলিও, এবং জন্ডিস সাধারণত খাদ্য বা পানি দ্বারা সংক্রমিত হয়। অন্যদিকে, বসন্ত বা হালকা জ্বর ও চর্মরোগের সাথে যুক্ত রোগটি প্রধানত শ্বাসনালি বা বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির ফোঁটা বা শ্বাস-প্রশ্বাসে থাকা জীবাণু অন্য ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। তাই বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত রোগের উদাহরণ হিসেবে “বসন্ত” সঠিক উত্তর।
 
• বায়ুবাহিত রোগ:
- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ, নিউমোনিয়া, সাধারণ ঠান্ডা জ্বর, বসন্ত, হাম ইত্যাদি।
- প্রতিরোধ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ এবং হামের টিকা নেয়া। এই জাতীয় রুগী থেকে দূরে থাকা। পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে আলাদা রেখে চিকিৎসা করা।

• সংক্রামক রোগ:
- রোগের জীবাণু যখন পরোক্ষভাবে বাতাস, পানি, মশা-মাছি, কীট-পতঙ্গ, জীব-জন্তু ইত্যাদি দ্বারা অথবা সরাসরি পরস্পরের সংস্পর্শে এক দেহ থেকে অন্য দেহে খুব সহজেই বিস্তার লাভ করে তখন তাদেরকে সংক্রামক রোগ বলা হয়।

• পানিবাহিত রোগ:
- জন্ডিস, পোলিও, ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, রক্ত আমাশা (ডিসেন্ট্রি) বিভিন্ন ধরনের কৃমি রোগ ইত্যাদি।
- প্রতিরোধ: পানি ফুটিয়ে পান করা, টিউবওয়েলের পানি পান করা, ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, যেখানে সেখানে মলমূত্র পরিত্যাগ না করা, জুতা স্যান্ডেল পায়ে চলাফেরা করা, পোলিও রোগের টিকা নেয়া।

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
হাড় ভাঙা আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

• হাড় ভাঙা আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য রঞ্জন রশ্মি (X-ray) ব্যবহার করা হয়। রঞ্জন রশ্মি এমন এক ধরনের বিদ্যুৎচুম্বকীয় রশ্মি, যা ঘনত্বের উপর নির্ভর করে পদার্থের মধ্যে দিয়ে ভিন্নভাবে প্রক্ষেপিত হয়। হাড় ঘন ও কঠিন হওয়ায় রঞ্জন রশ্মিকে কম প্রবাহিত করে, আর নরম টিস্যু বা মাংসের মধ্য দিয়ে বেশি প্রবাহিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে রঞ্জন রশ্মি দিয়ে হাড়ের অবস্থান, ভাঙা বা ফাটল সহজেই ধরা যায়। গামা, বিটা বা আলফা রশ্মি মূলত চিকিৎসা বা বিকিরণ সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে হাড় পরীক্ষা করতে এগুলো ব্যবহার করা হয় না। তাই হাড় ভাঙা নির্ণয়ের জন্য রঞ্জন রশ্মিই সঠিক পদ্ধতি।

- উত্তর: ক) রঞ্জন রশ্মি। 

• এক্সরে (রঞ্জন রশ্মি):
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়।
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 8 m থেকে 10- 13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

• এক্সরে এর ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
ডোপামিন উৎপাদনকারী মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হলে কোন রোগের সৃষ্টি হয়?
  1. কোয়াশিওরকর
  2. এপিলেপ্‌সি
  3. পারকিন্‌সন
  4. পক্ষাঘাত
সঠিক উত্তর:
পারকিন্‌সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারকিন্‌সন
ব্যাখ্যা

• ডোপামিন উৎপাদনকারী মস্তিষ্কের কোষ যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে এটি পারকিনসনের রোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডোপামিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার যা মস্তিষ্কের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে সংকেত পাঠায়। যখন এই কোষগুলি ধ্বংস হয়, তখন মস্তিষ্ক সঠিকভাবে নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে শারীরিক নড়াচড়ায় ধীরতা, হাত কাঁপা, শরীরের জোরালো অচলতা এবং চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দেয়। পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিকভাবে হাত বা পায়ে ছোট কাঁপানি বা স্থিরতার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। সময়ে সময়ে রোগটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন কাজকর্মও কঠিন হয়ে যায়। সঠিক চিকিৎসা এবং থেরাপির মাধ্যমে লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

- সঠিক উত্তর: গ) পারকিনসন।

• পারকিন্‌সন রোগ:
- এ রোগ মস্তিষ্কে এমন এক অবস্থা যাতে হাতে ও পায়ের কাঁপুনী হয় এবং আক্রান্ত রোগী নড়াচড়া, হাঁটাহাটি করতে অপারগ হয়।
- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- এছাড়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক বলা হয়। এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• পক্ষাঘাত:
- শরীরের কোনো অংশের মাংস পেশির কার্য ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে পক্ষাঘাত বলে।
- সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
- আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইসিস হতে পারে, যাতে শরীরের এক পাশের কোনো অঙ্গ বা উভয় পাশের অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
যেমন- দু'হাত ও পায়ের পক্ষাঘাত।

• এপিলেপ্‌সি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ। এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে। অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়। অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোনো কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে ৫ থেকে ২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।

• কোয়াশিওরকর:
- প্রোটিন বা আমিষের অভাবে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
- কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত এক রোগ। বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
পিসিকালচার কী উদ্দেশ্য বা বিষয় নির্দেশ করে?
  1. পাখি পালন
  2. মৌমাছি পালন
  3. রেশম পালন
  4. মৎস্য পালন
সঠিক উত্তর:
মৎস্য পালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৎস্য পালন
ব্যাখ্যা

• পিসিকালচার বলতে মূলত মৎস্য পালনকে বোঝায়, অর্থাৎ পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাছ চাষ করা। এই প্রক্রিয়ায় পুকুর, দিঘি, হ্রদ বা নিয়ন্ত্রিত জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হয় মানুষের খাদ্য ও বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণের জন্য। পিসিকালচারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক পরিমাণ মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়, যা প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে পিসিকালচার সঠিকভাবে মৎস্য পালনকেই নির্দেশ করে (ঘ)।

• পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

• অপশন আলোচনা:
• সেরিকালচার (Sericulture):
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

• এভিকালচার (Aviculture):
- পাখি পালন বিষয়াদি বিদ্যাকে এভিকালচার বলে।
- যে বিদ্যায় পাখিদের সমস্ত শ্রেণী ও বাসস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে এভিকালচার বলে।

• এপিকালচার (Apiculture):
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।
- বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

• এছাড়াও
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার,
- উদ্যান বিদ্যা - হর্টিকালচার,
- সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার।

উৎস:
১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

১৮.
ইউরেনিয়াম ভাঙনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরণে কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
  2. হাইড্রোজেন ও ক্রিপ্টন
  3. হিলিয়াম ও ক্রিপ্টন
  4. হিলিয়াম ও বেরিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
ব্যাখ্যা

• ইউরেনিয়াম ভাঙনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা নিউক্লিয়ার ফিশন ঘটে যখন ভারী ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াস একটি নিউট্রন শোষণ করে অস্থিতিশীল হয়ে ভেঙে যায়। এই ভাঙনের ফলে দুটি মাঝারি ভরের মৌল উৎপন্ন হয়, সঙ্গে বের হয় অতিরিক্ত নিউট্রন ও বিপুল পরিমাণ শক্তি। সাধারণত উৎপন্ন মৌল দুটি হলো ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম। এই অতিরিক্ত নিউট্রন আবার অন্য ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে শৃঙ্খল বিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা পারমাণবিক বিস্ফোরণের মূল কারণ। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো ক) ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম।
 
• পারমাণবিক শক্তি:
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস।
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে E = উৎপন্ন শক্তি, m = শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c = আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)।
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

উৎস:
১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।

১৯.
পোলিওর জন্য ব্যবহৃত টিকার নাম কী?
  1. পিভিসি
  2. ডিপিটি
  3. ওপিভি
  4. বিসিজি
সঠিক উত্তর:
ওপিভি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওপিভি
ব্যাখ্যা

• পোলিও রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত টিকার সঠিক নাম হলো ওপিভি (OPV – Oral Polio Vaccine), অর্থাৎ  অপশন গ)। এই টিকা মুখের মাধ্যমে খাওয়ানো হয় এবং শিশুদের শরীরে পোলিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। ওপিভি সহজে প্রয়োগযোগ্য, কম খরচের এবং গণটিকাদান কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল অভিযানে এই টিকার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পিভিসি কোনো টিকা নয়, ডিপিটি ডিপথেরিয়া, পারটুসিস ও টিটেনাসের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বিসিজি যক্ষ্মা প্রতিরোধে দেওয়া হয়।

• ওপিভি (Oral Polio Vaccine):
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন।
- ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- এটি দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা দেহে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

• পোলিও রোগের লক্ষণসমূহ:
- মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
- জ্বর থাকে।
- শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়।
- শিশু দাঁড়াতে চায় না।
- উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে।
- দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না।
- শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- যক্ষা রোগের টিকার নাম বিসিজি।
- ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকার নাম ডিপিটি।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বাংলাপিডিয়া।

২০.
নিম্নলিখিত কোনটি ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ভাইরাস পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
  2. এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
  3. ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে সক্ষম।
  4. ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না।
সঠিক উত্তর:
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
ব্যাখ্যা

• ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয় এমন অপশনটি হলো খ) এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না। কারণ বাস্তবে ভাইরাসে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে পারে, বিশেষ করে যখন একই পোষক কোষে একাধিক ভাইরাস সংক্রমণ করে। ক) বিকল্পটি সঠিক, কারণ ভাইরাস শুধু পোষক কোষের ভেতরেই সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। গ) বিকল্পটিও সঠিক, কারণ ভাইরাসে মিউটেশন খুব দ্রুত ঘটে, যা তাদের অভিযোজনে সাহায্য করে। ঘ) বিকল্পটিও সঠিক, কারণ ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়াসহ কোনো কোষীয় অঙ্গাণু থাকে না। তাই খ) অপশনটি ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। 
• এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রির জন্য কোন ধাতুর তার ব্যবহৃত হয়?
  1. প্লাটিনাম
  2. নাইক্রোম
  3. টাংস্টেন
  4. স্টেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইক্রোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইক্রোম
ব্যাখ্যা

• বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রির জন্য নাইক্রোম ধাতুর তার ব্যবহৃত হয়। নাইক্রোম হলো নিকেল ও ক্রোমিয়ামের সংকর ধাতু, যার বৈদ্যুতিক রোধ খুব বেশি। বেশি রোধের কারণে এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা হিটার ও ইস্ত্রির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া নাইক্রোম উচ্চ তাপমাত্রায় সহজে গলে না এবং বাতাসে জারিত হয়ে নষ্ট হয় না, ফলে এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। প্লাটিনাম ও টাংস্টেন দামি এবং অন্য কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়, আর স্টেনিয়াম তাপ উৎপাদনে উপযুক্ত নয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো খ) নাইক্রোম।


নাইক্রোম তার: 
- বৈদ্যুতিক হিটার এবং ইস্ত্রিসহ আরো অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রে নাইক্রোমের তার ব্যবহার করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক হিটারের মধ্যে অপরিবাহী পদার্থের একটি গোল চাকতি থাকে। 
- চাকতিতে নাইক্রোম তারের কুণ্ডলী সাজিয়ে রাখা হয়। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তারটি গরম হয় এবং উত্তপ্ত হয়ে তাপ বিকিরণ করে। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির নাইক্রোম তারটি ইস্ত্রির নিচের মসৃণ লৌহ নির্মিত তলটিকে উত্তপ্ত করে। 
- এক্ষেত্রে তাপ উৎপাদন বিদ্যুৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল। 
- প্রবাহ বেশি হলে ইস্ত্রি বেশি উত্তপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
ভাইরাসের গঠনে নিচের কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাইবােসােম
  2. নিউক্লিয়াস
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিক অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

• ভাইরাসের গঠনে নিউক্লিক অ্যাসিড অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) নিউক্লিক অ্যাসিড। ভাইরাস কোনো পূর্ণাঙ্গ কোষ নয়, তাই এতে রাইবোসোম, নিউক্লিয়াস বা সাইটোপ্লাজম থাকে না। ভাইরাস মূলত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত- একটি হলো জিনগত উপাদান (DNA বা RNA), যা নিউক্লিক অ্যাসিড, এবং অন্যটি হলো প্রোটিন আবরণ বা ক্যাপসিড। এই নিউক্লিক অ্যাসিডের মাধ্যমেই ভাইরাস বংশবিস্তার ও সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম হয়। জীবকোষের ভেতরে প্রবেশ না করলে ভাইরাস কোনো বিপাকীয় কাজ করতে পারে না, তাই একে জীব ও অজীবের মধ্যবর্তী বলা হয়।
 
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
ফুল-ওয়েভ ব্রিজ রেক্টিফায়ারের জন্য কতগুলো ডায়োড প্রয়োজন?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. দুইটি
  4. একটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

• ফুল-ওয়েভ ব্রিজ রেক্টিফায়ার তৈরির জন্য মোট চারটি ডায়োড প্রয়োজন। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) চারটি। এই রেক্টিফায়ারে চারটি ডায়োড এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যে এসি ইনপুটের উভয় অর্ধচক্রেই (পজিটিভ ও নেগেটিভ) লোডের মধ্যে দিয়ে একই দিকে কারেন্ট প্রবাহিত হয়। পজিটিভ অর্ধচক্রে দুইটি ডায়োড পরিবাহী হয় এবং নেগেটিভ অর্ধচক্রে বাকি দুইটি ডায়োড পরিবাহী হয়। এর ফলে আউটপুটে অপেক্ষাকৃত মসৃণ ডিসি ভোল্টেজ পাওয়া যায় এবং ট্রান্সফরমারের সেন্টার ট্যাপের প্রয়োজন হয় না, যা এটিকে অধিক কার্যকর ও জনপ্রিয় করে তোলে।

রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার: 
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে। 
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়। 
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়। 
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
মানুষের মধ্যে র‍্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণ কোন রোগ ঘটায়?
  1. নিউমোনিয়া
  2. জলাতঙ্ক
  3. ডেঙ্গু
  4. গুটিবসন্ত
সঠিক উত্তর:
জলাতঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাতঙ্ক
ব্যাখ্যা

• মানুষের মধ্যে র‍্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণ জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ ঘটায়। এই রোগ সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা লালা মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। ভাইরাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে, যার ফলে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, এবং অস্বাভাবিক উদ্দীপনা দেখা দেয়। পরে রোগীর মধ্যে জলের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা (hydrophobia), চিৎকার, প্রচণ্ড উদ্দীপনা, এবং বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, জলাতঙ্ক প্রায়শই মারাত্মক হয়ে যায়। তাই আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত টিকা এবং চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

- সঠিক উত্তর: খ) জলাতঙ্ক।

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
প্রণকালচার বলতে কী বোঝানো হয়? 
  1. মৎস্য চাষ
  2. সামুদ্রিক মৎস্য চাষ
  3. রেশম চাষ
  4. চিংড়ি চাষ
সঠিক উত্তর:
চিংড়ি চাষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিংড়ি চাষ
ব্যাখ্যা

• প্রণকালচার বলতে সাধারণত জলজ প্রাণীর নিয়ন্ত্রিত চাষকেই বোঝানো হয়, যার মধ্যে চিংড়ি, মাছ, কচ্ছপ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রাকৃতিক জলাশয় বা কৃত্রিম পুকুরে পরিচালিত হয়, যেখানে প্রাণীর বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিশেষ যত্ন ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রণকালচারের প্রধান উদাহরণ হলো চিংড়ি চাষ, যা খাদ্যসামগ্রী ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে মৎস্য চাষ বা রেশম চাষ সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ে।
- সুতরাং, প্রণকালচার বলতে মূলত চিংড়ি চাষকেই বোঝানো হয়। এটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় একটি লাভজনক এবং দায়িত্বশীল জলজ চাষ প্রক্রিয়া।

 
আধুনিক চাষ: 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার। 
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার। 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার। 
- উদ্যান বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার। 
- পাখী পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার। 
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২৬.
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক নয়?
  1. এরা অকোষীয়।
  2. এরা সাধারণত বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
  3. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
  4. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক।
সঠিক উত্তর:
এরা অকোষীয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরা অকোষীয়।
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সঠিক নয় - এরা অকোষীয়।

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 

- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে - 
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
দেহে যথেষ্ট স্নেহ না থাকলে মূলত কী সমস্যা বা রোগ হতে পারে?
  1. রাতকানা
  2. অ্যানিমিয়া
  3. একজিমা
  4. বেরিবেরি
সঠিক উত্তর:
একজিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজিমা
ব্যাখ্যা

• দেহে যথেষ্ট স্নেহ (চর্বি বা ফ্যাট) না থাকলে শরীরের ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর সুরক্ষা কমে যায়। স্নেহ ত্বককে নমনীয় রাখে, আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিকর জৈবিক ও রাসায়নিক পদার্থ থেকে রক্ষা করে। স্নেহের অভাবে ত্বক শুষ্ক, চামড়া ফেটে যাওয়া এবং খসখসে হয়ে যায়, যা একজিমা বা অন্যান্য ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া, স্নেহ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন যেমন A, D, E, K শোষণে সাহায্য করে। তাই স্নেহের অভাব সরাসরি ত্বকের রোগ যেমন একজিমা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত স্নেহ দেহের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

- উত্তর: গ) একজিমা। 

স্নেহ পদার্থের গঠন: 
- তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানকে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট বলা হয়। 
- ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে স্নেহ পদার্থে গঠিত। 
- ফ্যাটি অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যের উপর স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- খাদ্যে প্রায় ২০ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন স্নেহ পদার্থগুলোকে চর্বি বলে। 
যেমন- মাছ ও মাংসের চর্বি। 
- চর্বি হলো সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল স্নেহ পদার্থকে তেল বলে। 
যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি। 
- তেলগুলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 

স্নেহ পদার্থের কাজ: 
১। স্নেহ পদর্থের প্রধান কাজ দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা। 
২। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে। 
৩। দেহে সঞ্চিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
৪। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। 
৫। চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। 
৬। শেহে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে। 

স্নেহ পদার্থের অভাবজনিত অবস্থা: 
- দেহে স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া, একজিমা ইত্যাদি হতে পারে। 
- দীর্ঘদিন স্নেহ পদার্থের ঘাটতি হলে দেহে সঞ্চিত প্রোটিনের ক্ষয় হয়। 
- এতে ওজন হ্রাস হয় ও স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 

অধিক ফ্যাট গ্রহণের কুফল: 
- অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করলে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ইত্যাদি অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
মা ও নবজাতককে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে কোন টিকা প্রয়োজন?
  1. Tetanus toxoid
  2. Measles vaccine
  3. Zero dose
  4. Bacillus Calmette Guerin
সঠিক উত্তর:
Tetanus toxoid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tetanus toxoid
ব্যাখ্যা

• মা ও নবজাতককে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে Tetanus toxoid টিকা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় এই টিকা দেওয়া হলে মা তার শরীরে টিটানাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, যা প্লাসেন্টার মাধ্যমে নবজাতকেও সঞ্চারিত হয়। ফলে শিশুটি জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ধরে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত থাকে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ নবজাতক টিটানাস একটি প্রাণঘাতী সংক্রমণ এবং এটি প্রধানত নোংরা বা অপরিষ্কার কেটে বা জন্মকালীন সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্য টিকাগুলি যেমন Measles vaccine, BCG বা Zero dose টিটানাস প্রতিরোধে কার্যকর নয়। তাই মা ও শিশু দুজনকেই সুরক্ষিত রাখতে Tetanus toxoid অপরিহার্য।

• ভ্যাকসিনেশন:
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।