পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৫ টপিক: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ [লাইভ ক্লাস – ২৭, ২৮ ও ২৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মূলসহ
  2. আয়ত্তাধীন
  3. অদ্যাপি
  4. বুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ভ্রাতৃবৃন্দ
  2. মহিমামণ্ডিত
  3. মাতাজাতি
  4. অহোরাত্র
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

অপশন অনুসারে খ) মহিমামণ্ডিত ও ঘ) মাতাজাতি দুইটিই সঠিক উত্তর।
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। 

সমাস-ঘাটিত অশুদ্ধি:

অশুদ্ধ - শুদ্ধ:

নিরপরাধী - নিরপরাধ। 
নিরভিমানী - নিরভিমান। 
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র। 
মাতাজাতি - মাতৃজাতি। 
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত। 
ভ্রাতাবৃন্দ - ভ্রাতৃবৃন্দ। 
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার। 
অহোরাত্রি - অহোরাত্র। 
নির্দোষী - নির্দোষ। 
দিবারাত্রি - দিবারাত্র। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1.  বিন্যস্ত
  2. বিধ্বস্ত
  3. দ্বারস্ত
  4. অস্ত
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ- দ্বারস্ত। 
শুদ্ধরূপ- দ্বারস্থ। 

• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:

স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।

উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।

• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।

উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।

.
'উদ্দেশ্য' শব্দের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আমার কাছে এসব কেন বল? তোমার উদ্দেশ্য কী খুলে বল।
  2. তিনি যখন এ-কথা বলেছেন, তখন বুঝতে হবে-এর কোনো উদ্দেশ্য আছে।
  3. লোকটা সুবিধের নয়, উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কাজ করে না।
  4. নদী ধায় সাগর উদ্দেশ্য।
ব্যাখ্যা

• নদী ধায় সাগর উদ্দেশ্য।- বাক্যে উদ্দেশ্য শব্দটির অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
শুদ্ধ বাক্য: নদী ধায় সাগর উদ্দেশে। (এখানে 'উদ্দেশে' শব্দটি খোঁজ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।) 

• উদ্দেশ শব্দে বোঝায় হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য। 
যেমন:
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা, হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. নদী ধায় সাগর উদ্দেশে।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।

আবার, 
• উদ্দেশ্য শব্দের অর্থ: অভিপ্রায় বা মতলব, তাৎপর্য, প্রয়োজন। 
যেমন:
ক. আমার কাছে এসব কেন বল? তোমার উদ্দেশ্য কী খুলে বল।
খ. সাবধানে থেকো। লোকটা সুবিধের নয়, উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কাজ করে না।
গ. ভদ্রলোক ফালতু কথা একেবারেই বলেন না। তিনি যখন এ-কথা বলেছেন, তখন বুঝতে হবে-এর কোনো উদ্দেশ্য আছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ। 

.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. কৃষক
  2. কষাই 
  3. বর্ষণ
  4. সুষমা 
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- কষাই।  
• শুদ্ধরূপ: 'কসাই' আরবি ভাষার শব্দ। সেকারণে 'কসাই' শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ। 

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে, ষ্টেশন, স্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. উপমার অপপ্রয়োগ
  2. বানানের অপপ্রয়োগ
  3. বিশেষ্যের অপপ্রয়োগ
  4. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহু বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে প্রশান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ। 

.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষই করে না। 
  2. নিজের ঘরসংসারের দিকে তার কোনো লক্ষ্য নেই। 
  3. আমার লক্ষ দেশের উন্নতি করা।
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- আমার লক্ষ দেশের উন্নতি করা।
শুদ্ধ: আমার লক্ষ্য দেশের উন্নতি করা। 

লক্ষ/লক্ষ্য এর ব্যবহার: 

আমরা সকলেই জানি যে, 'লক্ষ' শব্দের অর্থ ১০০ হাজার এবং 'লক্ষ্য' মানে উদ্দেশ্য বা দেখা। আমরা যা জানি না তা হলো, উদ্দেশ্য বা দেখা অর্থে লক্ষ্য ও লক্ষ দুটো বানানই ঠিক, তবে বাক্যে এদের প্রয়োগ করার মধ্যে ভিন্নতা আছে।

যেমন:
(ক) আমার লক্ষ্য দেশের উন্নতি করা। (উদ্দেশ্য অর্থে)
(খ) নিজের ঘরসংসারের দিকে তার কোনো লক্ষ্য নেই। (দৃষ্টি, নজর অর্থে।
(গ) নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষই করে না। (দৃষ্টি, নজর অর্থে।

অর্থাৎ, দৃষ্টিপাত করা, মনোযোগ দেওয়া অর্থে এই শব্দের বানান দু রকম হচ্ছে: বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করলে য-ফলা দিতে হবে (ক সংখ্যক এবং খ সংখ্যক উদাহরণ)। আর ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করলে য-ফলা লাগবে না (গ-সংখ্যক উদাহরণ)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ। 

.
'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।' বাক্যে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাচ্যজনিত ভুল 
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
  3. লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
  4. বানানের অশুদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে শেষরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল। 

অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

অশুদ্ধ: অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
শুদ্ধ: অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।

অশুদ্ধ: অশুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
শুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ।

.
প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
  2. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
  3. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
  4. এক মাঘে শীত যায় না।
ব্যাখ্যা

বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি:
সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন:
অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছ।
শুদ্ধ: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।

অশুদ্ধ: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
শুদ্ধ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অশুদ্ধ: এক অগ্রহায়ণে শীত যায় না।
শুদ্ধ: এক মাঘে শীত যায় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ? 
  1. বহুলপরিমাণ
  2. ব্যয়বহুল
  3. বিলাসবহুল
  4. কর্মবহুল
ব্যাখ্যা

• বহুল শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে 'বহুলপরিমাণ' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ-  বহুল পরিমাণ।

'বহুল' শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল প্রয়োগ,
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্যাখ্যা

যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল:

অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

অশুদ্ধ: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
শুদ্ধ: আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।

অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ।

১২.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. আবিষ্কার
  2. পুরষ্কার
  3. নিষ্কলঙ্ক
  4. নিষ্পাপ
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান: পুরষ্কার। 
শুদ্ধরূপ-  পুরস্কার। 

• বানানের নিয়ম:

বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার= বহিষ্কার)।

তবে স্ক/ স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প/ স্ত/ স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ /নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
'বাবা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।' - বাক্যটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বানান জনিত 
  2. বাহুল্য জনিত
  3. পদক্রম জনিত
  4. যোগ্যতা জনিত
ব্যাখ্যা

• 'বাবা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।' বাক্যটিতে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
শুদ্ধ রূপ: বাবা শিরঃপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।

• বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কণিকা
  2. বাণিজ্য
  3. দুর্ণিবার 
  4. রুক্মিণী
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- দুর্ণিবার শব্দে।  
শুদ্ধরূপ- দুর্নিবার। 

-----------------
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং  এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কৃপণতা
  2. বহুলতা
  3. স্বতন্ত্রতা
  4. বৈশিষ্ট্যতা
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অধৈর্যতা-  অধৈর্য, ধীরতা। 
আলস্যতা-  আলস্য, অলসতা।
ঐক্যতা-  ঐক্য, একতা। 
দৈন্যতা-  দৈন্য, দীনতা। 
কার্পণ্যতা-  কার্পন্য, কৃপণতা।
বাহুল্যতা - বাহুল্য, বহুলতা। 
বৈচিত্র্যতা - বৈচিত্র্য, বিচিত্রতা। 
বৈশিষ্ট্যতা - বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা। 
বৈষম্যতা- বৈষম্য, বিষমতা। 
ভারসাম্যতা - ভারসাম্য, ভারসমতা। 
সারল্যতা - সারল্য, সরলতা। 
সৌজন্যতা - সৌজন্য, সুজনতা। 
স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্রতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬.
'মাত্র' এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একটিমাত্র
  2. কেবলমাত্র 
  3. প্রাণিমাত্র
  4. মনুষ্যমাত্র
ব্যাখ্যা

• 'মাত্র' এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে-  কেবলমাত্র শব্দে। 

• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার: 

মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র, ইত্যাদি।

লক্ষণীয়,  মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।

অন্যদিকে,
-------------- 
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সবকিছু
  2. সবশেষে
  3. সারাগ্রাম
  4. সারাক্ষণ
ব্যাখ্যা

অপপ্রয়োগ- সারাগ্রাম। 
শুদ্ধ প্রয়োগ- সারা গ্রাম। 

• 'সব এবং সারা' এর ব্যবহার:

'সব' এবং 'সারা' উভয়ই সমগ্র। সঙ্গীত। সর্বত্র ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে। দুটি শব্দই সাধারণত পৃথক বসে থাকে।
যেমন:
সব অশান্তি, সব ঘটনা, সব লোক, সব সময়, সব সমস্যা; সারা অঙ্গ, সারা গ্রাম, সারা দিন, সারা দুনিয়া, সারা বাড়ি ইত্যাদি।
[ব্যতিক্রম: সবকিছু, সবশেষে, সারাক্ষণ।] 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ঘটনাবহুল
  2. বহুলকথিত
  3. বহুলপরিচিত
  4. বহুলপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রয়োগ- ঘটনাবহুল। 

'বহুল' এর ব্যবহার:

'বহু'র মতোই 'বহুল' শব্দ অর্থ-তারতম্যে কখনো একসঙ্গে আবার কখনো পৃথক বসে।
যেমন:
ঘটনাবহুল, জনবহুল, বিলাসবহুল, ব্যয়বহুল, সঙ্গীতবহুল ইত্যাদি।

আবার,  বহুল কথিত, বহুল পরিচিত, বহুল পরিমাণে, বহুল প্রয়োগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. তার সঙ্গে দেখা না হলে এখনি ফিরে আসব, তুমি ধৈর্য ধরে আধঘণ্টা বস। 
  2. নাচ না হলে গান- অনুষ্ঠানে কিছু তো একটা হবে। যা হয় তাই দেখব, তাই শুনব।
  3. যোগ-বিয়োগ শেখা না হলে গুণ-ভাগ কেউ করতে পারে?
  4. আপনি আমার পাশে বসতে পারলে বসুন, তা না হলে দাঁড়িয়ে থাকুন।
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগ-  নাচ না হলে গান- অনুষ্ঠানে কিছু তো একটা হবে। যা হয় তাই দেখব, তাই শুনব।

• 'না হলে / নাহলে' এর ব্যবহার:

ক.
- তার সঙ্গে দেখা না হলে এখনি ফিরে আসব, তুমি ধৈর্য ধরে আধঘণ্টা বস।
- যোগ-বিয়োগ শেখা না হলে গুণ-ভাগ কেউ করতে পারে?
- আপনি আমার পাশে বসতে পারলে বসুন, তা না হলে দাঁড়িয়ে থাকুন।

খ.
নাচ নাহলে গান- অনুষ্ঠানে কিছু তো একটা হবে। যা হয় তাই দেখব, তাই শুনব।
যা ঘটনা, সত্যি করে সব বল; নাহলে আমি সব বলে দিলে তোমার গুমোর ফাঁস হয়ে যাবে।
তুমি নাহলে এ কাজটা করবে কে? আমি তো দ্বিতীয় লোক দেখি না।

ক-অংশের উদাহরণ তিনটিতে 'না হলে' অর্থ স্পষ্টতই 'না হয়', অর্থাৎ 'না হয়' ও 'না হলে' পরিপূর্ণভাবে সমার্থক, একটির বিকল্পে অন্যটি বলা চলে। খ-অংশের তিনটি বাক্যের 'নাহলে' কিন্তু 'নাহয়' শব্দের সমার্থক নয়। এক্ষেত্রে 'নাহলে' অর্থ অথবা, নইলে, অন্যথায়, ব্যতীত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আবশ্যক
  2. একত্র
  3. করিতকর্মী
  4. ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা

'করিতকর্মী' শব্দে প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: করিতকর্মা।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- একত্রিত - একত্র;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।