পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ii) সত্তরের নির্বাচন iii) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে মোট কত শতাংশ ভোট  লাভ করে?  
  1. ৭৪.৬০%
  2. ৭৪.৮০%
  3. ৭৫.১০%
  4. ৭৫.৮০%
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল:

• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
• সংরক্ষিত ৭ টি মহিলা আসন বাদে জাতীয় পরিষদে ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসন লাভ করে আওয়ামী লীগ।  
• অপরদিকে সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৯ আসনের মধ্যে মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
• বাকি ২টি আসনের ১টি পায় পিডিপি (পাকিস্তান ডেমোক্রাটিক পার্টির নূরুল আমিন), তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 
অপরটি পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় (স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে)।
• আবার পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পায়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান-এ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ কত দফা দাবি ঘোষণা করে?
  1. ৬ দফা
  2. ১১ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ১৯ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:

• ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
• ১১ দফার তৃতীয় দফায় ছিল- ছয় দফা দাবির প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
• ১১ তম দফা ছিল- আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তি ও অন্যান্যদের উপর থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করা। 
• ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
• গণঅভ্যুত্থান এর ফলাফল:
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 
.
আগরতলা মামলায় সরকার পক্ষের সাক্ষীর সংখ্যা কত ছিল?  
  1. ১০ জন 
  2. ১১ জন
  3. ১২ জন
  4. ১৩ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:

• ২১ এপ্রিল, ১৯৬৮ সালে আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।  
• মামলাটি পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে ছিল । 
মামলায় সরকার পক্ষে সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন।
• রাজসাক্ষীসহ মোট ছিল ২২৭ জন। 
• আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়। 
• যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী প্রেরণ করেন।
• প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে বিশেষ ট্রাইবুনালে রিট করেন। 
• তিনি ৫ আগস্ট, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইবুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।
• তিনি ব্রিটেনের বাসিন্দা ছিলেন। 
• তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। 
• পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান আইনজীবী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান। 
• ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ. রহমান। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম। 

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রিট করেন? 
  1. আব্দুস সাত্তার
  2. এস.এ. রহমান
  3. ডব্লিউ এস ওডারল্যান্ড 
  4. টমাস উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী:

• যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী প্রেরণ করেন।
• প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রিট করেন। 
• তিনি ৫ আগস্ট, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।
• তিনি ব্রিটেনের বাসিন্দা ছিলেন। 
• তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। 
• পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান আইনজীবী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান। 
• ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ. রহমান। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম। 
• প্রথম শুনানি শুরু হয় ১৯ জুন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের পর ২৯ জুলাই পুনরায় শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে কতজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিহত হোন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন 
  3. ৩ জন 
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ:

• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন।
• এর মধ্যে শিল্প-কারখানার শ্রমিক ৩৪ জন, ছাত্র ২০ জন, সরকারি কর্মচারী ৭ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫ জন, স্কুল শিক্ষক ১ জন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ১ শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন।   
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলিতে ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
• তিনি ছিলেন দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। 
• তাঁর স্মরনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে “স্ফুলিঙ্গ” নামে একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হয়।  

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. ড: শামসুজ্জোহা
  3. মতিউর রহমান
  4. জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ:

• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন।
• এর মধ্যে শিল্প-কারখানার শ্রমিক ৩৪ জন, ছাত্র ২০ জন, সরকারি কর্মচারী ৭ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫ জন, স্কুল শিক্ষক ১ জন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ১ শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন। 
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হোন। 
• তিনি গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
• আসাদ দিবস: ২০ জানুয়ারি।
• তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর নামানুসারে আইয়ুব গেইটের নামকরণ করা হয় আসাদ গেইট । 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি ঘোষণা দেন -
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. আ.স.ম আব্দুর রউফ
  3. তোফায়েল আহমেদ
  4. মোনায়েম খান 
ব্যাখ্যা
শেখ মুজিবুর রহমানের 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি:

• শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯।
• ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের  এক সভায় লাখো জনতার সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়।  
এই উপাধি ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। 
• এ সভায় রাখা বক্তৃতায় শেখ মুজিব ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগার দফা দাবির পক্ষে তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
• ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অভিযুক্ত অন্যান্যদের সঙ্গে আগরতলা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে মুক্তি লাভ করেন।
• ১৯৬৮-৬৯ মেয়াদের ডাকসু ভিপি তোফায়েল বলেছেন, - “ঐতিহাসিক ১১-দফা আন্দোলনের ভিত্তিতে এক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত করেছিলাম। কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ জাতির পক্ষ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে।” 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ।  
.
‘সত্য মামলা আগরতলা' বইটির লেখক -
  1. তোফায়েল আহমেদ 
  2. শওকত ওসমান
  3. শামসুল আলম
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
সত্য মামলা আগরতলা:

• আগরতলা মামলাটির প্রকৃত শিরোনাম ছিল ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’।
১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের দায়ের করা এই মামলা সম্পর্কে কর্নেল শওকত আলী ‘সত্য মামলা আগরতলা'  বইটি রচনা করেন।
• প্রকাশনী : প্রথমা প্রকাশন
• বিষয় : রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও হত্যাকাণ্ড।
• অধ্যায়: মোট নয়টি অধ্যায়

• বইটির সূচিপত্র:
- বঙ্গবন্ধুও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িত।
- উর্দু এবং শুধুই উর্দু।
- বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি।
- আমরা সেনাবাহিনীতে যোগদান।
- পাকিস্তানি সশস্ত্রও বাহিনীতে বাঙালির অবস্থান।
- আইয়ুব খানের দশক।
- বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচি।
- গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ।
- বিচারকার্য।
- শেখ মুজিবু বঙ্গবন্ধু হলেন।
- পরিশিষ্ট (ক-ছ)।

তথ্যসূত্র: প্রথমা প্রকাশনী ও মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ।
.
আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষের আইনজীবী কবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন?
  1. ১৯ জুন, ১৯৬৮ 
  2. ৫ জুলাই, ১৯৬৯
  3. ১৮ জুলাই, ১৯৬৮
  4. ৫ আগস্ট, ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলায় হাইকোর্টে রিট আবেদন: 

• কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়। 
• ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় মামলার শুনানি শুরু হয়। 
• মামলাটি পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে ছিল । 
• মামলায় সরকার পক্ষে সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন।
• রাজসাক্ষীসহ মোট ছিল ২২৭ জন। 
• যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী প্রেরণ করেন।
• প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রিট করেন। 
• তিনি ৫ আগস্ট, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।
• তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। 
• প্রথম শুনানি শুরু হয় ১৯ জুন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের পর ২৯ জুলাই পুনরায় শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
১৯৭০ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য 'আইন কাঠামো আদেশ' (Legal Framework Order, LFO) ঘোষণা করেন কে? 
  1. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. ইস্কান্দার মীর্জা
ব্যাখ্যা
'আইন কাঠামো আদেশ' (Legal Framework Order, LFO):

• ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ২৮শে মার্চ জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো আদেশ ঘোষণা করেন। 

• আইন কাঠামো আদেশের বিশেষ কিছু দিক:
১. পশ্চিম পাকিস্তানে এক ইউনিট ভেঙে দিয়ে সাবেক প্রদেশগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে যা ১লা জুলাই ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হবে।
২. ১৩ জন মহিলা প্রতিনিধি নিয়ে ৩১৩ আসনের জাতীয় পরিষদ হবে, আর ৬২১ জন সদস্য নিয়ে হবে পাঁচটি প্রাদেশিক পরিষদ।
৩. নির্বাচনে এক ব্যক্তি এক ভোট নীতি গ্রহণ করা হয়।
৪. পাকিস্তানের দুই অংশের আইন ও অর্থনীতি বিষয়ক দায়িত্ব এবং ক্ষমতা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নির্ধারণ করবেন।
৫. ভোটার তালিকা ১৯৭০ সালের জুনের মধ্যে তৈরি হবে।
৬. সংবিধান রচনার জন্য পরিষদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১২০ দিনের সময় ধার্য করে দেন। এ সময়ের মধ্যে কাজ সমাধা করতে ব্যর্থ হলে পরিষদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, সংবিধান রচনা এবং সংবিধানকে সত্যায়িতকরণ পর্যন্ত সামরিক শাসন বহাল থাকবে। নির্বাচনের নির্দেশনাবলির পাশাপাশি সংবিধানের ভিত্তি সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

• আইনগত কাঠামো আদেশের ২০ নং ধারায় সংবিধানের মূল ছয়টি নীতি বেঁধে দেয়া হয় । যথা :
- ফেডারেল পদ্ধতির সরকার;
- ইসলামি আদর্শ হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি;
- প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে প্রত্যক্ষ নির্বাচনে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন;
- মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে;
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বৈষম্য দূর করতে হবে;
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১১.
১৯৭০ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল -
  1. হারিকেন
  2. নৌকা
  3. হাতপাখা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল:

• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো পৃথক পৃথকভাবে প্রার্থী মনোনীত করে।
মোট ৭৮১ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। 
• জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল ১৬২ জন 
• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'। 
• নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে ছিল যথাক্রমে: 
- নিখিল পাকিস্তান কেন্দ্রীয় জমিয়াতুল উলেমা ও নেজামে ইসলাম (৪৫),
- ইসলামী গণতন্ত্রী দল (৫), 
- জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান (৬৯), 
- পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (৮১), 
- পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কনভেনশন- ৯৩), 
- পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাউন্সিল- ৫০), 
- পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাইয়ুম- ৬৫) প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
সত্তরের নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসন বাদে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে মোট কতটি আসন লাভ করে? 
  1. ১৬০টি
  2. ১৬২টি 
  3. ১৬৭টি 
  4. ১৬৯টি 
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল:

• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
সংরক্ষিত ৭ টি মহিলা আসন বাদে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসন লাভ করে। 
• সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
• বাকি ২টি আসনের ১টি পায় পিডিপি (পাকিস্তান ডেমোক্রাটিক পার্টির নূরুল আমিন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 
অপরটি পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় (স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে)।
• পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
• মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পায়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
সত্তরের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ আওয়ামী লীগ মোট কতটি আসন লাভ করে? 
  1. ১৬৭
  2. ২৯৮
  3. ৩১০
  4. ৩১৩
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল:

• প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালে। 
• পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন: ৩১০ টি।
• সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
• অন্যদিকে, ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
• মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% ভোট পায়
• অপরদিকে প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পায়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
বঙ্গবন্ধু কবে 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন? 
  1. ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ 
  2. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭১
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা: 
 
• ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। 
• ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন। 
• এর মাধ্যমে তিনি দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। 
• ১২ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। 
• একই দিনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
• সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর গভীর আস্থার পরিচয় বহন করে। 
• ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত হয়। 
• এই সরকার মাত্র তিন বছর সাত মাস তিন দিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পায়। 
• এই স্বল্পতম সময়ে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে সম্মানজনক ভাবমূর্তি নির্মাণে অনন্যসাধারণ অবদান রাখেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
স্বাধীনতার পর কৃষির উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু কত বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেন? 
  1. ২০ বিঘা
  2. ১৫ বিঘা
  3. ১০ বিঘা
  4. ২৫ বিঘা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার পর কৃষির উন্নয়ন: 

• স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ জনগণের জীবিকা ছিল কৃষির ওপর নির্ভরশীল। 
• জাতীয় আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসত কৃষি খাত থেকে। 
• বঙ্গবন্ধু কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন। যেমন-
- ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফসহ পূর্বের সমস্ত বকেয়া খাজনা মওকুফ করে দেন। 
- একটি পরিবারের সর্বাধিক ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা নির্ধারণ করেন।
- বাইশ লাখের অধিক কৃষক পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
বঙ্গবন্ধু কবে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন? 
  1. ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫
  2. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৭৫
  4. ২০ জুন, ১৯৭৫ 
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) গঠন: 

• ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়।
• এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি সকল ক্ষমতার অধিকারী হোন। 
• এই ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদের কোনো ক্ষমতা ছিল না। 
• সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। 
• এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। 
• এই সংশোধনী অনুযায়ী জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠনের পর অন্যান্য রাজনৈতিক দল বাতিল ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে। 
• ১৯৭৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। 
• এই দলের চেয়ারম্যান হলেন বঙ্গবন্ধু এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন এম. মনসুর আলী।
• ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।