পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫ সিরাতুন নবি: হিজরতের কারণ, ইসলামি ভ্রাতৃত্ব, মদিনা সনদ: বিশ্বের ১ম ম্যাগনাকার্টা, কুরাইশদের সাথে দ্বন্দ্ব ও ফলাফল: বদর, উহুদ, আহযাব ইত্যাদি যুদ্ধ। [উৎস: লেকচার-৩, ৪ ও সংশ্লিষ্ট বই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন

.
“إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ” এই আয়াতটি কোন সুরায় অবস্থিত?
  1. সুরা নুর
  2. সুরা আহযাব
  3. সুরা হুজরাত
  4. সুরা তাওবা
ব্যাখ্যা

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ
অর্থাৎ সকল ঈমানদাররা তো পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা দুই ভাই-এর মধ্যে সন্ধি স্থাপন কর। (সুরা হুজুরাত আয়াত- ১০)
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তোমরা পরস্পর সম্পর্ক-ছেদ করো না, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

.
হিজরতের সময় রাসুল (সা) সঙ্গী হযরত আবু বকর (রা)-এর সঙ্গে কোন পর্বতের গুহায় আশ্রয় নেন? 
  1. জাবালে উহুদ
  2. জাবালে তুর
  3. জাবালে নুর
  4. জাবালে সাওর
ব্যাখ্যা

জাবালে সাওর বা গারে সাওর। এই সাওর পর্বতের একটি গুহায় হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরতের সময় আত্মগোপন করেছিলেন এবং ৩ দিন এখানে অবস্থান করেছিলেন।

.
নিচের কোন কারণে রাসুল (সা) হিজরত করেন?
  1. অর্থনৈতিক কারণ
  2. ধর্মীয় স্বাধীনতা না থাকা
  3. বংশীয় নিরাপত্তা না থাকা
  4. মদীনায় নানার বাড়ী হওয়া
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ (সা) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন মূলত ধর্মীয় স্বাধীনতা না থাকায়। এছাড়া কুরাইশদের ক্রমবর্ধমান নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে এবং মদিনায় একটি নিরাপদ আশ্রয় ও ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করার উদ্দেশ্যে। মক্কায় মুসলিমরা কাফেরদের অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলেন, তাই আল্লাহর নির্দেশে এবং মদিনাবাসীর আমন্ত্রণে তিনি মদিনায় হিজরত করেন।

.
খন্দকের যুদ্ধে মুসলিম শহিদদের সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৮ জন
  2. ৭০জন
  3. ২৩ জন
  4. ১৪ জন
ব্যাখ্যা

খন্দকের যুদ্ধ, যা আহযাব বা পরিখার যুদ্ধ নামেও পরিচিত, ৫ম হিজরীর শাওয়াল ও যুলক্বা'দাহ মাসে (মার্চ-এপ্রিল ৬২৭ খ্রিষ্টাব্দ) সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে মদিনা অবরোধ করা হয়েছিল এবং মুসলিমরা পরিখা খনন করে আত্মরক্ষা করেছিল। যুদ্ধে ৮ জন মুসলিম সৈন্য শহীদ হন। অপর বর্ণনা মতে সংখ্যাটি ৬ জন।

.
মদিনা সনদ কতটি ধারার সমন্বয়ে গঠিত ছিল বলে ইবনে হিশাম মত প্রদান করেন?
  1. ৪৭টি
  2. ৫৩টি
  3. ৬২টি
  4. ৪০টি
ব্যাখ্যা

ইবনে হিশাম এর মতে, মদিনা সনদ মোট ৫৩টি ধারার সমন্বয়ে গঠিত ছিল। অন্যদিকে, কিছু সূত্রে মদিনা সনদের ধারা সংখ্যা ৪৭ বা ৫২ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, ইবনে হিশাম এর মত অনুযায়ী এর ধারা সংখ্যা ছিল ৫৩। মদিনা সনদ ছিল মদিনার বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শান্তি ও সুশাসনের জন্য প্রণীত একটি চুক্তিপত্র। এটি মদিনার প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবেও পরিচিত।

.
বনু মুস্তালিকের যুদ্ধ হয় কত হিজরিতে সংঘটিত হয়?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৩য়
  4. ৬ষ্ঠ
ব্যাখ্যা

বনু মুস্তালিক যুদ্ধ পঞ্চম হিজরীর শাবান মাসে সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধ, যা "গাযওয়ায়ে মুরাইসী" নামেও পরিচিত, মদীনার পূর্বে মুরাইসী নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল। মুসলমানরা এই যুদ্ধে জয়লাভ করে এবং এই যুদ্ধের ফলেই হযরত জুওয়াইরিয়া (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। 

.
হুনাইন যুদ্ধের ঘটনা কোন সুরায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. সুরা তাওবা
  2. সুরা মায়েদা
  3. সুরা আনফাল
  4. সুরা ইসরা
ব্যাখ্যা

হুনাইন যুদ্ধের ঘটনা সূরা আত-তাওবার (৯ম সুরা) কয়েকটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। এই যুদ্ধ, যা মক্কা বিজয়ের পর ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল। মুসলিম, হাওয়াজিন এবং সাকিফ গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হয় এটি। যুদ্ধের শুরুতে মুসলিম বাহিনী কিছুটা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলেও, শেষ পর্যন্ত তারা বিজয় লাভ করে এবং প্রচুর গনীমতের মাল লাভ করে। 

.
নবি মুহাম্মদ (সা)-এর স্ত্রীর নাম ‘আয়েশা’র অর্থ কী? 
  1. জীবনদাত্রী
  2. প্রিয়তমা
  3. বেঁচে থাকা
  4. শান্তিপূর্ণ
ব্যাখ্যা

নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী আয়েশার নামের অর্থ "জীবন যাপনকারী" বা "সমৃদ্ধিশালী" বা “বেঁচে থাকা”। এটি আরবি শব্দ "عائشة" থেকে এসেছে, যার অর্থ "জীবিত" বা "সুখী জীবন যাপনকারী"। তিনি ছিলেন হযরত আবু বকর (রা.) এর কন্যা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.) এর অন্যতম প্রিয় এবং একমাত্র কুমারি স্ত্রী। 

.
খায়বার যুদ্ধে  জয়নব রাসুলে কারিম (সা) কে হত্যা করতে কোন উপায় বেছে নিয়েছিল? 
  1. যুদ্ধ আয়োজন
  2. ছুরিকাঘাত
  3. গুপ্ত হত্যা
  4. বিষ প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

খায়বার যুদ্ধের সময় জয়নব বিনতে আল-হারিস নামক এক ইহুদি নারী বিষাক্ত মাংস দিয়ে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি বিষ মেশানো ভেড়ার মাংস নবীজির জন্য রান্না করে পাঠিয়েছিলেন। তবে আল্লাহ তাঁর রাসুলকে রক্ষা করেন এবং রাসুল (সা) সে বিষাক্ত মাংস খাননি। 

১০.
মদিনা সনদে কোন কোন সম্প্রদায়কে সমান নাগরিক অধিকার দেওয়া হয়?
  1. খ্রিস্টান ও মুসলিম
  2. মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিক
  3. শুধুমাত্র মুসলিম
  4. ইহুদি ও মুসলিম
ব্যাখ্যা

মদিনা সনদে মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিক সম্প্রদায়ের সকল নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া হয়। এই সনদে মদিনার সকল সম্প্রদায়কে একই রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ রাখা হয়নি।

১১.
বীরে মাউনার ঘটনায় ইসলাম প্রচারকদের একটি দলকে কোন অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল?
  1. নজদ
  2. তায়েফ
  3. ইয়েমেন
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

বীরে মাওনার ঘটনায় ইসলাম প্রচারকদের নজদ অঞ্চলের দিকে পাঠানো হয়েছিল। চতুর্থ হিজরীর সফর মাসে এই ঘটনা ঘটে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নজদ অঞ্চলের কিছু গোত্রের অনুরোধে ৭০ জন সাহাবীকে সেখানে ইসলাম প্রচারের জন্য পাঠান, কিন্তু তারা বনু সুলাইম গোত্রের হাতে নির্মমভাবে শহিদ হন। 

১২.
বদরের যুদ্ধে শহিদ প্রথম সাহাবী কে?
  1. উমায়ের ইবনে হামাম (রা)
  2. উবায়দা ইবনে হারিস (রা)
  3. মুসআব ইবনে উমায়ের (রা)
  4. মাহজা ইবনে সালেহ (রা)
ব্যাখ্যা

বদরের যুদ্ধে মোট ১৪ জন মুসলিম শহীদ হয়েছিলেন, এবং তাদের মধ্যে মাহজা ইবনে সালেহ (রা.) প্রথম শহীদ হন। বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বড় যুদ্ধ ছিল, যা ২য় হিজরীর ১৭ই রমজান তারিখে সংঘটিত হয়। 

১৩.
তাবুক অভিযানে নবী কারীম (সা) কাকে মদীনায় আমীর হিসাবে রেখে গিয়েছিলেন? 
  1. মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রা)
  2. হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা)
  3. মুয়াজ বিন জাবাল (রা)
  4. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা)
ব্যাখ্যা

তাবুক অভিযানে নবী কারীম (সা.) হযরত আলী (রা.)-কে মদীনার আমির হিসাবে রেখে গিয়েছিলেন। তাবুক যুদ্ধ ছিল নবী কারীম (সা.)-এর জীবনের সর্বশেষ সামরিক অভিযান। এই অভিযানে তিনি মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার সময়, তিনি হযরত আলীকে (রা.) মদীনার দায়িত্ব দিয়ে যান এবং পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্বও তাঁকে দেন।

১৪.
উহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের পাহাড়ী তীরন্দাজ দলে কতজন সৈন্য ছিল? 
  1. ৩০ জন
  2. ৪০ জন
  3. ৫০ জন
  4. ২৫ জন
ব্যাখ্যা

উহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের পাহাড়ী তীরন্দাজ দলে ৫০ জন সদস্য ছিল। উহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের তীরন্দাজ দল, যাদের নেতা ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা)। এই দলের মূল দায়িত্ব ছিল উহুদ পর্বত সংলগ্ন স্থানে অবস্থান করে শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করা। যদিও যুদ্ধের এক পর্যায়ে এই দলের কিছু সদস্য নিজেদের দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন, যার ফলে যুদ্ধের ফলাফল মুসলিমদের প্রতিকূলে যায়। 

১৫.
তাবুক যুদ্ধ ইসলামী ইতিহাসে পরিচিত—
  1. গাজওয়াতুল উসরাহ হিসেবে
  2. গাজওয়াতুল আরব হিসেবে
  3. গাজওয়াতুল ইসলাম হিসেবে
  4. ঠাণ্ডা যুদ্ধ হিসেবে
ব্যাখ্যা

তাবুক যুদ্ধ ইসলামী ইতিহাসে "গাজওয়াতুল উসরা" (غَزْوَة الْعُسْرَة) বা কষ্টের যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। এটি ছিল নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনের সর্বশেষ যুদ্ধাভিযান এবং এটি ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল। তাবুক নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কারণে এটি তাবুক যুদ্ধ নামেও পরিচিত।
এই যুদ্ধ "গাজওয়াতুল উসরা" বা কষ্টের যুদ্ধ নামে পরিচিত হওয়ার কারণ হলো, মুসলিম বাহিনী এই অভিযানে যাওয়ার সময় বেশ কিছু প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল। মদিনা থেকে তাবুকের দূরত্ব অনেক বেশি ছিল এবং সে সময় মুসলিমদের মধ্যে অভাব ও সংকট ছিল। এছাড়া, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন ছিল।

১৬.
মদিনা সনদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. বিশ্বব্যাপি ইসলাম প্রচার করা
  2. কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা
  3. সকল গোত্রকে একতাবদ্ধ করা
  4. রাসুল (সা) মদীনার রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া
ব্যাখ্যা

মদিনা সনদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম, ইহুদি এবং অন্যান্য গোত্রের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এটি ছিল একটি চুক্তি যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং একটি সাধারণ রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করার জন্য প্রণীত হয়েছিল। এর প্রধান ২টি দিক ছিল-
শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা: গোত্রীয় সংঘাত ও অস্থিরতা দূর করে মদিনায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক ঐক্য: বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে একটি সাধারণ রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা। 

১৭.
খাইবারের দুর্গ জয় করেন কে? 
  1. খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা)
  2. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ (রা)
  3. হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের (রা)
  4. হযরত আলী (রা)
ব্যাখ্যা

খাইবারের দুর্গ জয় করেন হযরত আলী (রাঃ)। তিনি "আসাদুল্লাহ" বা "আল্লাহর সিংহ" উপাধিতে পরিচিত ছিলেন এবং একাই এই দুর্গ জয় করেন। খাইবার ছিল ইহুদিদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি এবং সেখানে অনেক দুর্গ ছিল. খাইবার যুদ্ধের এক পর্যায়ে হযরত আলী (রাঃ) ইহুদি সেনাপতি মারহাবকে পরাজিত ও নিহত করেন, যা দুর্গ বিজয়ের পথ সুগম করে।

১৮.
বদরের যুদ্ধে ফেরেশতাদের অবতরণ প্রসঙ্গে কুরআনের কোন সুরায় উল্লেখ আছে? 
  1. সুরা বাকারা
  2. সুরা আনফাল
  3. সুরা তাওবা
  4. সুরা মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা

বদরের যুদ্ধে ফেরেশতাদের অবতরণ প্রসঙ্গে কুরআনের সুরা আল-আনফাল (Surah Al-Anfal) এর ৯ নম্বর আয়াতে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে, "যখন তোমরা তোমাদের রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'আমি তোমাদের সাহায্য করার জন্য এক হাজার ফেরেশতা পাঠাচ্ছি, যারা একের পর এক আসবে'"। 

১৯.
‘বাইতুল মাকদিস’ প্রথম কিবলা হিসেবে কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. ১৬ মাস
  2. ১২ মাস
  3. ১৯ মাস
  4. ২০ মাস
ব্যাখ্যা

বাইতুল মাকদিস (মসজিদুল আকসা) মুসলমানদের প্রথম কিবলা হিসেবে প্রায় ১৬ মাস স্থায়ী ছিল। মদিনায় হিজরতের পর কিছুকাল পর্যন্ত মুসলমানরা মসজিদুল আকসার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন, এরপর কিবলা পরিবর্তন করে কাবার দিকে ফিরে আসে। 

২০.
খন্দক যুদ্ধের সময় পরিখা খননের প্রস্তাব দেন কে?
  1. আলী ইবনে আবি তালিব (রা)
  2. আবু হুরাইরা (রা)
  3. সাদ ইবনে মুআয (রা)
  4. সালমান ফারসি (রা)
ব্যাখ্যা

খন্দক যুদ্ধের সময় পরিখা খননের প্রস্তাব দেন সালমান ফারসি (রা)। তিনি পারস্যের যুদ্ধের কৌশল সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে মুসলমানদের পরিখা খননের পরামর্শ দেন, মদিনা নগরীর চারপাশে পরিখা খনন করে শত্রুদের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল।

২১.
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম খুতবা প্রদান করা হয় কোন মসজিদে?
  1. মসজিদে কুবা
  2. মসজিদে নববি
  3. মসজিদে জুমআ
  4. বায়তুল মাকদাস
ব্যাখ্যা

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম রাষ্ট্রীয় খুতবা প্রদান করা হয় মদিনার বনি সালেম গোত্রের মসজিদে। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর প্রথম জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে জুমার নামাজ পড়ান এবং খুতবা দেন। হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার উপকণ্ঠে কুবায় কিছু দিন অবস্থান করেন এবং সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এরপর তিনি মদিনার দিকে যাত্রা করেন এবং বনি সালেম গোত্রের এলাকায় জুমার নামাজের সময় হলে, সেখানেই তিনি প্রথম জুমার নামাজ পড়ান এবং খুতবা দেন। এই মসজিদটি পরবর্তীতে "মসজিদে জুমআ" নামে পরিচিতি লাভ করে।

২২.
বদর যুদ্ধে মুসলমানরা কতটি ঘোড়া ব্যবহার করেছিলেন? 
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৭০টি
ব্যাখ্যা

বদরের যুদ্ধে মুসলমানরা মোট ২টি ঘোড়া ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়াও তাদের সাথে ৭০টি উট ছিল এবং যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে ৬টি বর্ম ও ৮টি তলোয়ার ছিল। 

২৩.
উহুদ যুদ্ধে শহিদ কোন সাহাবিকে ‘সায়্যিদুশ শুহাদা’ বলা হয়? 
  1. হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের (রা)
  2. হযরত আনাস (রা)
  3. হযরত হামজা (রা)
  4. হযরত মুআজ বিন জাবাল (রা)
ব্যাখ্যা

উহুদ যুদ্ধে শহীদ হযরত হামযা (রা)-কে 'সাইয়্যেদুশ শুহাদা' বা শহীদদের নেতা বলা হয়। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম যুগের একজন অন্যতম বীর শহীদ এবং মহানবী (সা.) এর চাচা। ওহুদ যুদ্ধের স্মৃতিস্বরূপ এই উপাধি তাঁকে দেওয়া হয়। বদর যুদ্ধেও তিনি অত্যন্ত বীরত্ব প্রদর্শন করেন।

২৪.
কোন বছরে রোজা ফরজ হয়?
  1. ১ম হিজরি
  2. ২য় হিজরি
  3. ৩য় হিজরি
  4. ৪র্থ হিজরি
ব্যাখ্যা

ইসলামে রোজা ফরজ হয় হিজরি দ্বিতীয় সনে, মদিনায়। অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর শাবান মাসের ১০ তারিখ রমজানের রোজা পালন করা মুসলিমদের জন্য ফরজ করা হয়। এর আগে রোজা ঐচ্ছিক ছিল, তবে রমজানের রোজা পালনের নির্দেশ আসার পর তা সকলের জন্য আবশ্যক হয়ে যায়। রমজানে রোজা ফরজ হওয়ার আগে কোনো রোজা ফরজ ছিল কিনা তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

২৫.
বদরের বন্দিদের মুক্তিপণ হিসেবে কতজনকে অক্ষরজ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল?
  1. ৫জন
  2. ১০জন
  3. ২০জন
  4. ১০০জন
ব্যাখ্যা

বদরের বন্দিদের মুক্তির শর্ত হিসেবে ১০ জন মুসলিম শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। বদরের যুদ্ধে বন্দি হওয়া কুরাইশদের মধ্য থেকে যারা অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন ছিল, তাদের মুক্তি লাভের জন্য শর্ত ছিল যে, তারা মদিনার ১০ জন মুসলিম শিশুকে অক্ষরজ্ঞান শেখাবে। এই শর্তে যারা রাজি হয়েছিল, তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

২৬.
মদিনা সনদ অনুযায়ী কোনো সম্প্রদায়ের কারো অপরাধ
  1. রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে
  2. আল্লাহর উপর ন্যস্ত হবে
  3.  গোত্রীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে
  4. ব্যক্তি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে
ব্যাখ্যা

মদিনা সনদ অনুযায়ী, কোনো সম্প্রদায়ের কারো অপরাধ করলে তা ব্যক্তি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, অপরাধীর কৃতকর্মের জন্য তার সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না, বরং অপরাধীকে একাই তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
মদিনা সনদের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা তৎকালীন সমাজের প্রচলিত প্রথা থেকে ভিন্ন ছিল। সনদে আরও বলা হয়েছে যে, কেউ যদি কোনো অন্যায় বা চুক্তি ভঙ্গ করে, তবে তার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার ও প্রতিকার লাভের অধিকারী হবে। 

২৭.
ইসলামে ‘মুখাওয়াত’ শব্দের অর্থ কী? 
  1. হিজরত
  2. ভ্রাতৃত্ব
  3. বিশ্বাস
  4. ঐক্য
ব্যাখ্যা

ইসলামে 'মুখাওয়াত' শব্দের অর্থ হল ভ্রাতৃত্ব বা বন্ধুত্ব স্থাপন করা। বিশেষত, হিজরতের পর মদিনায় মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, তাকে মুখাওয়াত বলা হয়।
আরও স্পষ্ট করে বললে, মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর রাসুলুল্লাহ (সা) সেখানকার সাহায্যকারী আনসারদের সাথে মক্কার মুহাজিরদের মধ্যে একটি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করে দিয়েছিলেন। এই সম্পর্ককেই 'মুখাওয়াত' বলা হয়। এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

২৮.
বদর যুদ্ধে মুসলমানদের পক্ষে কতজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন?
  1. ৫০০
  2. ৭০০
  3. ১০০০
  4. ৩১৩
ব্যাখ্যা

“স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তোমাদেরকে জবাব দিলেন, ‘আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করব যারা পর পর আসবে।” সুরা আনফাল, আয়াত-০৯।
অর্থাৎ বদর যুদ্ধে আল্লাহ তায়ালা ১০০০ ফেরেশতা পাঠিয়ে মুসলিমদের সাহায্য করেছিলেন।

২৯.
ইসলামে ‘মুহাজির’ বলতে কাদের বোঝায়? 
  1. মদিনায় বসবাসকারী
  2. যেসব সাহাবি আল্লাহর নিষেধ মেনে চলেছেন
  3. যারা ইসলামের দাওয়াত প্রচার করেছেন
  4. যারা মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছেন
ব্যাখ্যা

ইসলামে “মুহাজির” বলতে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী মুসলমানদের বোঝায়। বিশেষ করে, যারা মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে এবং ইসলামের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, তাদের মুহাজির বলা হয়। মদিনার আনসারগণ (স্থানীয় মুসলমান) তাদের সাদরে গ্রহণ করে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং সাহায্য করেছিলেন।