পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৫২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪: বাংলা সাহিত্য - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর] উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া, লাল নীল দীপাবলি, যেকোনো গাইড বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫২ প্রশ্ন

.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘dog Sanskrit’ বলেছেন কোনটিকে?
  1. ক) নিরঞ্জনের উষ্মা
  2. খ) সেক শুভোদয়া
  3. গ) শূন্যপুরান
  4. ঘ) প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'সেক শুভোদয়া' অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রিত একটি গ্রন্থ।
- অনেকে একে হলায়ুধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- এর রচনা কাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫ টি অধ্যায় আছে।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এই সাহিত্য কর্মকে ‘dog sanskrit’ বলেছেন।
- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ‘কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছদ অনুবাদ সহ প্রকাশ করেন।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মীর মোশাররফ হোসেন
  4. ঘ) বদরুদ্দিন উমর
ব্যাখ্যা
• বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ও সাহিত্যিক নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।
- লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি এবং ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ গঠিত হলে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির গুরুত্ব হ্রাস পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. ক) আশরাফ আলী
  2. খ) সুবির নন্দী
  3. গ) আলতাফ আলী
  4. ঘ) সুরজিত নন্দী
ব্যাখ্যা
- 'নেমেসিস' নাটকটির রচয়িতা - নুরুল মোমেন।
- এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক নেমেসিস।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
- এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী।
- এ নাটকে নুরুল মোমেন দেখিয়েছেন যে, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সুরজিত নন্দী সাধারণ মানুষের জীবনে যে দুঃখ-দুর্দশার বয়ে এনেছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দেবী নেমেসিস (প্রতিহিংসার দেবী) তাঁর জীবন কেড়ে নিয়েছে।

নুরুল মোমেনের অন্যান্য নাটক হলো :
- রূপান্তর
- যদি এমন হতো
- নয়া খান্দান
- আলোছায়া
- শতকরা আশি
- আইনের অন্তরালে
- যেমন ইচ্ছা তেমন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিতে কোন দেশের শহর এর কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) মিশর
  2. খ) নেপাল
  3. গ) পাকিস্তান
  4. ঘ) আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙ্গায়' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস--
  1. ক) শঙ্খনীল কারাগার
  2. খ) নন্দিত নরকে
  3. গ) এই সব দিনরাত্রি
  4. ঘ) জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২):
কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।

- হুমায়ুন আহমেদের প্রথম রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার।
- তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - নন্দিত নরকে (১৯৭২)।
- শঙ্খনীল কারাগার প্রকাশিত হয় - ১৯৭৩ সালে।

উৎস: ‘বলবয়েন্ট’ - হুমায়ুন আহমেদের আত্মজীবনী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) স্মৃতিস্তম্ভ
  4. ঘ) স্মৃতিশৌধ
ব্যাখ্যা
 
আলোচ্য পঙক্তিটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতার অন্তর্ভূক্ত। 
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।

লেখকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১)
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২)

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'বড়দিদি' উপন্যাসে বড়দিদির নাম কী ছিলো?
  1. ক) পার্বতী
  2. খ) মাধবী
  3. গ) ষোড়শী
  4. ঘ) রাজলক্ষ্মী
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি'
- সরলা দেবী সম্পাদিত 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এর নাম ছিল 'শিশু'। 
- চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। 
- বড়দিদি মাধবী'র নাম। 

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কিশোর পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) সন্দেশ
  2. খ) আঙুর
  3. গ) উত্তরাধিকার
  4. ঘ) ধানশালিকের দেশ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী থেকে বর্তমানে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে।
এগুলো হলো:
- বাংলা একাডেমি পত্রিকা (গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক)
- উত্তরাধিকার (মাসিক সাহিত্য পত্রিকা)
- ধানশালিকের দেশ (ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা)
- বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা (বিজ্ঞান বিষয়ক ষাণ্মাসিক)
- বাংলা একাডেমি জার্নাল (ইংরেজি ষাণ্মাসিক পত্রিকা)
- বার্তা (অনিয়মিত পত্রিকা)।

উৎস: বাংলা একাডেমী ওয়েবসাইট
.
'একটি পতাকা পেলে' কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) হেলাল হাফিজ
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
'একটি পতাকা পেলে' কবিতাটি হেলাল হাফিজ রচিত 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা। 

একটি পতাকা পেলে
- হেলাল হাফিজ---যে জলে আগুন জ্বলে 

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমি আর লিখবো না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস
ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন,–’পেয়েছি, পেয়েছি’।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে
ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,
বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসন্মানে সাদা দুতে-ভাতে।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমাদের সব দুঃখ জমা দেবো যৌথ-খামারে,
সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদে সমান সুখের ভাগ
সকলেই নিয়ে যাবো নিজের সংসারে।

তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে
- কবিতা ৭১
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা 

উৎস: যে জলে আগুন জ্বলে, হেলাল হাফিজ।
১০.
দশারথি রায় কিসের জন্য বিখ্যাত ছিলেন?
  1. ক) শাক্তসঙ্গীত
  2. খ) পাঁচালী গান
  3. গ) ভক্তিগীতি
  4. ঘ) টপ্পা গান
ব্যাখ্যা
কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরনের গান প্রচলিত ছিল এবং এই ধারায় দশারথি রায় শক্তিশালী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। 
- 'দাশু রায়' নামে তিনি খ্যাত ছিলেন। 
- তিনি নিজেই পাঁচালী দল বেঁধে গান গাইতেন। 
- তাঁর পাঁচালী-পালা ১০ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। 

রামনিধি গুপ্ত ছিলেন - টপ্পা গানের পথিকৃৎ।
শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১১.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয় কোনটি?
  1. ক) ঠানদিদির থলে
  2. খ) ঠাকুরমার থলে
  3. গ) ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ঘ) ঠাকুরদাদার ঝুলি
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
• তাঁর শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা।

• তাঁর সংগৃহীত রূপকথার সংকলনটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা:
১. ঠাকুরমার ঝুলি,
২. ঠাকুরদাদার ঝুলি,
৩. ঠানদিদির থলে ও
৪. দাদামাশয়ের থলে।

• রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্য আছে, কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
- এই গল্পগুলি বলার গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ  রেখে দক্ষিণারঞ্জন বইটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করে চির স্মরণীয় হয়েছেন। 
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' এর পরবর্তী খণ্ড 'ঠাকুরদাদার ঝুলি'(১৯০৯)। 
- ময়মনসিংহে অবস্থানকালে লোকসাহিত্যের প্রতি দক্ষিণারঞ্জনের অনুরাগ জন্মে। তিনি নানা ধরনের  রূপকথা, ব্রতকথা, গীতিকথা, রসকথা ইত্যাদি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। এ কাজে  দীনেশচন্দ্র সেন তাঁকে অনুপ্রেরণা দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
বাংলা একাডেমির প্রথম নারী সভাপতি -
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রথম নারী সভাপতি হলেন ঔপন্যাসিক ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
- গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ প্রথম নারী হিসেবে সেলিনা হোসেন বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৩.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) মনন্ত্বর
  3. গ) গণ অভ্যুত্থান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'(১৯৬৭) হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্টঙ্কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'।
- বাংলাদেশের ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এতে আছে ৮ টি গল্প -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
"হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো" কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) পূর্বাভাস
  2. খ) হরতাল
  3. গ) অভিযান
  4. ঘ) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য
১৫.
বাংলা সাহিত্যে গৌরচন্দ্রিকা বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) গৌরাঙ্গের সম্পূর্ণ জীবনী
  2. খ) গৌরলীলার পদ
  3. গ) রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগান
  4. ঘ) কৃষ্ণের জীবনী
ব্যাখ্যা
 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারাটির অর্থ ভূমিকা, সূচনা, অনুবন্ধ, প্রবর্তনা, প্রারম্ভ।
বাংলা সাহিত্যে-
রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা। 
গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা গোবিন্দ দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বাংলা ভাষার কথা
  2. খ) ব্যাকরণ মঞ্জুষা
  3. গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. ঘ) বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে বাংলা প্রথম ব্যাকরণ (গৌড়ীয় ব্যাকরণ) গ্রন্থ রচনা করেন ।
এটি কোন বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ ।

• রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

• তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ
- বেদান্তসার
- পথ্য প্রদান
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)
১৭.
"যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।" পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা -
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলপঠিত, শ্রুত ও উদ্ধৃত কবিতাটি লিখেছেন লেখক ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২)।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে গঙ্গা থেকে 'বুড়িগঙ্গা' নামে কাব্যসংকলনে এ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন শিশির ভট্টাচার্য এবং অন্যদিন, ৫৮/১২৮ লেক গার্ডেনস, কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

এতে কবিতাটি ছিল নিম্নরূপে:
যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।

উৎস: দৈনিক সমকাল।
১৮.
মার্ক্সসিস্ট কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন-
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) বিষ্ণুদে
ব্যাখ্যা
মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট" - বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন-এর। 
- সমর সেনের জন্ম কলকাতায়। 
- সাম্যবাদী কবি সমর সেন মাত্র দেড় দশক কবিতা রচনা করেন 
- তিনি কবিতা লেখা ক্ষান্ত দিলেন এই বলে যে- 'এখন আর কবিতা লিখে হবে না; তরবারি চাই, যুদ্ধ করতে হবে। "

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা 
- গ্রহণ
- নানা কথা
- খোলা চিঠি
- তিনপুরুষ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৯.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।' - উক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলো:
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
কালোত্তীর্ণ উপন্যাস 'লালসালু' এর ইংরেজি অনুবাদ কোনটি?
  1. ক) Red rose
  2. খ) Crocodiles tear
  3. গ) believer's sign
  4. ঘ) Tree Without Roots
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু।' 
- এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক কে?
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) আশাপূর্ণা দেবী
  3. গ) অনুরুপা দেবী
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ।
- তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো জন্মগ্রহণ করেন। সম্পর্কে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন।
- তিনি ১৮৭২ সালে প্রকাশিত ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ
- মেবার রাজ
- মালতী
- বিদ্রোহ
- বিচিত্রা
- স্বপ্নবাণী
- মিলনরাত্রি

- বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) ফজলল করিম
  3. গ) ভানুসিংহ
  4. ঘ) বীরবল
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
‘সব্যসাচী’ চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) অচলায়তন
  2. খ) পথের দাবী
  3. গ) গোরা
  4. ঘ) চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পথের দাবী' (১৯২৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে 'সব্যসাচী' চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবানী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড: সৌমিত্র শেখর।
২৪.
‘সাহিত্যবিশারদ’ উপাধিতে খ্যাত কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল হোসেন
  3. গ) আবদুল করিম
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ(১৮৭১-১৯৫৩):
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখন্ডে প্রকাশ করে। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫.
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  2. খ) মৈত্রেয়ী দেবী
  3. গ) কমলকুমার মজুমদার
  4. ঘ) আশালতা দেবী
ব্যাখ্যা
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা মৈত্রেয়ী দেবী। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সানিধ্য লাভের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। 
- তাঁর সবচেয়ে খ্যাতিমান উপন্যাস। 
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'ন হন্যতে' উপন্যাসে বাস্তবধর্মী  এবং সময়কালীন অনেক ব্যাক্তিত্বের প্রসঙ্গে এতে তুলে ধরা হয়েছে। 
- এ উপন্যাসের অমৃতা চরিত্রের মধ্য দিয়ে মৈত্রেয়ী দেবীর জীবন খুঁজে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২৬.
কে সর্বপ্রথম লালনগীতি সংগ্রহ করেন?
  1. ক) দ্বীনেশ্চন্দ্র দেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) গঙ্গাকিশোর চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম লালন সাঁই এর গান সংগ্রহ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  রবীন্দ্রনাথ লালন শাহর ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি থেকে ২০টি গান তিনি  'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

লালন শাহ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭.
ড. সুকুমার সেন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ইসলামি বাংলা সাহিত্য
  2. খ) বাংলা ভাষার পুরাবৃত্ত
  3. গ) ভারতীয় অনার্য সাহিত্য
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যে পদ্য
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন 'ইসলামি বাংলা সাহিত্য' (১৩৫৮) বইটি রচনা করেন।
- বইটিতে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
- ড. সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা' (১৯৩৯) এবং চার খন্ডে 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' (১৯৪০) রচনা করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য রচনা: 
- ভাষার ইতিবৃত্ত
- বাংলা স্থান নাম
- বাংলায় নারীর ভাষা
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য 
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের 
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন
- রামকথার প্রাক ইতিহাস
- বটতলার ছাপা ও ছবি
- বনফুলের ফুলবন 
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২৮.
'এলাটিং বেলাটিং', 'ধান ভানলে কুঁড়ো দেব' ইত্যাদি শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্যঃ
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেব,
- গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে,
- আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'তেল নুন লকড়ি' কী জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলো প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০.
'অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেনো তারে তৃণ সম দহে' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) রজনীকান্ত সেন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
আলোচ্য উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ন্যায়দন্ড কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

ন্যায়দন্ড কবিতা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 তোমার ন্যায়ের দণ্ড প্রত্যেকের করে  
 অর্পণ করেছ নিজে। প্রত্যেকের ’পরে  
 দিয়েছ শাসনভার হে রাজাধিরাজ।  
 সে গুরু সম্মান তব সে দুরূহ কাজ  
 নমিয়া তোমারে যেন শিরোধার্য করি  
 সবিনয়ে। তব কার্যে যেন নাহি ডরি  
 কভু কারে।  

 ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা,  
 হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা  
 তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম  
 সত্যবাক্য ঝলি উঠে খরখড়্গসম  
 তোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মান  
 তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজ স্হান।  

 অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে  
 তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।

উৎস: ন্যায়দন্ড কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩১.
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আবদুল্লাহ
  2. খ) প্রদোষে প্রাকৃতজন
  3. গ) রত্নবতী
  4. ঘ) আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। 

মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।
- এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) প্রকাশের চার বছর পর 'রত্নবতী' উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। 
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প। 

অন্যদিকে, 
- প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস ধারার সূচনা হয়।
- কাজী ইমদাদুল হক রচিত উপন্যাস হলো ‘আবদুল্লাহ’। 
- শওকত আলীর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) পূজা পাঠ
  2. খ) দেবীয় মাহাত্ম বর্ণ্না
  3. গ) সৌন্দর্যধ্যান
  4. ঘ) কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
• কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘আর্যদর্শন’ পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, “সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।”  
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস : সারদামঙ্গলকাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩.
'চোখের চাতক' কোন বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সংগীত
  2. খ) সাহিত্য
  3. গ) ভাষারীতি
  4. ঘ) ভ্রমণ
ব্যাখ্যা
'চোখের চাতক' কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ। 
অন্যান্য সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ -
- নজরুল গীতিকা
- সুর সাকী
- বনগীতি প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’ বিখ্যাত এই উক্তিটি কার?
  1. ক) জসীমউদ্দিন
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’
- মূলত কবি হলেও তিনি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ লিখেছেন। 

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস: 
- মাল্যবান,
- সতীর্থ, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫.
'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত ছিলেন-
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।

- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত কবি। 
- তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতা 'মেথর'।
- দেশাত্মবোধ, শক্তির সাধনা, মানবতাবোধ তাঁর কবিতার ভাববস্তু। 

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্যঃ
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬.
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী মানুষের অসহায় জীবনের চিত্র পাওয়া যায় কোন নাটকে?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) মেরাজ ফকিরের মা
  3. গ) এখনো ক্রীতদাস
  4. ঘ) সুবচন নির্বাসনে
ব্যাখ্যা
• আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
নিম্নের কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) হলদে পরীর দেশে
  3. গ) রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
  4. ঘ) যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা
'রঙ্গিলা নায়ের মাঝি' ব্যাতীত অন্যগুলো জসীমউদ্দিন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 

জসীমউদ্দিন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড় 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি 
- জারিগান 

 জসীমউদ্দিন রচিত ভ্রমণকাহিনি
- চলে মুসাফির
- হলদে পরীর দেশে
- যে দেশে মানুষ বড়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চন্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ-
  1. ক) রাজাবলি
  2. খ) লিপিমালা
  3. গ) তোতা ইতিহাস
  4. ঘ) পুরুষ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 

অন্যদিকে,
হরপ্রসাদ রায় রচিত গ্রন্থের নাম - পুরুষ পরীক্ষা
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থের নাম - লিপিমালা 
হরপ্রসাদ রায় রচিত গ্রন্থের নাম - পুরুষ পরীক্ষা 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
৩৯.
কবিগানের আদিগুরু হিসেবে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. ক) কেষ্টা মুচি
  2. খ) গোঁজলা গুঁই
  3. গ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  4. ঘ) নিধু বাবু
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
৪০.
নিম্নের কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) সীতারাম
  3. গ) দেবী চৌধুরানী
  4. ঘ) কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• ত্রয়ী উপন্যাস বলতে মূলত স্বাভাবিক যোগসূত্র ও ধারাবাহিকতায় এক সাথে তিনটি উপন্যাসকে বোঝানো হয়।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের লেখা এরূপ ত্রয়ী উপন্যাস হলো- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী এবং সীতারাম।

• 'কপালকুণ্ডলা' সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
 - এ উপন্যাসের একটি বিখ্যাত সংলাপ - "পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ" (নবকুমারের উদ্দেশ্যে কপালকুন্ডলা)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস।
- ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- উপন্যাসের চরিত্র - নবকুমার , কাপালিক, কপালকুণ্ডলা প্রমুখ

তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলির মধ্যে:
- দুর্গেশনন্দিনী
- বিষবৃক্ষ
- রজনী
- রাজসিংহ ইত্যাদি

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪১.
শহীদুল্লাহ কায়সার এর মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) সারেং বউ
  3. গ) হাজার বছর ধরে
  4. ঘ) লালসালু
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- সংশপ্তক কথাটির অর্থ - যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- লেখক এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নত ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন৷
- তাই একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ 
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২.
কোন পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) লাঙ্গল
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) ধূমকেতু
  4. ঘ) নবযুগ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

- 'সাম্যবাদী' (১৯২৩) পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 
- 'সাম্যবাদী' (১৯২৫) কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৪৩.
প্রথম শহিদ দিবসের প্রথম প্রচাতফেরীতে কার লেখা গাওয়া গান হয়েছিলো?
  1. ক) আ. ন. ম. গাজীউল হক
  2. খ) মোশারেফ উদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
১৯৫৩ সালের প্রথম শহিদ দিবসের প্রথম প্রচাতফেরীতে গাওয়া গান হলো- 
"মৃত্যুকে যারা তুচ্ছ করিল
ভাষা বাচাবার তরে
আজিকে স্মরিও তারে"
- গানটির রচয়িতা প্রকৌশলী মোশারেফ উদ্দিন আহমেদ। 

- একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ. ন. ম. গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'।

- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।” - এই গানটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- এটি প্রথমে সুর করেন - আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন - আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪.
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত "সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান" এর রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) নরেন বিশ্বাস
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) জামিল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৫ সালে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে অভিধান চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠান একভাষিক, দ্বিভাষিক, বহুভাষিক, বিষয়ভিত্তিক এবং পারিভাষিক নানা ধরনের অভিধান ও শব্দকোষ প্রণয়ন ও প্রকাশ করে আসছে।
- অভিধান ও শব্দকোষ মিলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাংলা একাডেমী প্রায় সত্তরটি অভিধান প্রকাশ করে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাকৃতি পরিভাষাকোষ যেমন রয়েছে, তেমনি বহুখন্ডে প্রকাশিত অভিধানও রয়েছে।

এসব অভিধানের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিধানের নাম:
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান (মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ১৯৬৫),
- চরিতাভিধান (শামসুজ্জামান খান প্রমুখ, ১৯৮৫),
- উচ্চারণ অভিধান (নরেন বিশ্বাস, ১৯৮৯),
- সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান (আহমদ শরীফ, ১৯৯২),
- সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, দু-খন্ড (আবু ইসহাক, ১৯৯৩ ও ১৯৯৮),
- বানান অভিধান (জামিল চৌধুরী, ১৯৯৪),
- লেখক অভিধান (আশফাক-উল-আলম প্রমুখ, ১৯৯৮),
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান (মোহাম্মদ আবদুল কাইউম, ২০০৮) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৪৫.
সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার, ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'বহিপীর' বহিপীর নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানাের সুযােগ পান।

- তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পীর প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযােগ পান।
- ফলে তিনি লালসালু উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। 
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে। 
চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, আমেনা, হাশেম। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক -
- উজানে মৃত্যু
- সুড়ঙ্গ 
- তরঙ্গভঙ্গ

বিখ্যাত উপন্যাস সমূহ -
- লালসালু (ধর্ম ব্যাবসা কে কেন্দ্র করে রচিত) 
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো 
- দি আগলি এশিয়ান

গল্পগ্রন্থ -
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬.
'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকা-
  1. ক) রুপা
  2. খ) সাজু
  3. গ) টুনি
  4. ঘ) রুপাই
ব্যাখ্যা
• 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকা - সাজু
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ই. এম. মিলফোর্ড।
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী। এই দুজনই ছিলেন বাস্তব চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪৭.
বরিশাল অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, লোকজীবন চিত্রিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) কর্ণফুলি
  2. খ) আলমগড়ের উপকথা
  3. গ) কাশবনের কন্যা
  4. ঘ) হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪) শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি উপন্যাস। 
- এ উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দু;খ-দারিদ্র থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র - সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮.
নিম্নের কোনটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়?
  1. ক) দেওয়ান ভাবনা
  2. খ) কাসাসুল আম্বিয়া
  3. গ) আমীর হামজা
  4. ঘ) ইউসুফ জোলেখা
ব্যাখ্যা
• ময়মনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
- 'দেওয়ানা ভাবনা' গীতিকার রচয়িতা চন্দ্রাবতী।

• পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়- 
১) প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য: 
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি। 

২) যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য: 
জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি। 

৩) পীর পাঁচালি:
গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি। 

৪) ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য 
কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকিরাতুল আউলিয়া, হাজার মসলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯.
বাংলা সাহিত্যে 'অবক্ষয় যুগের ব্যাপ্তীকাল---
  1. ক) ১৭৩০-১৮৬০
  2. খ) ১৭২০-১৮৫০
  3. গ) ১৭৫০-১৮২০
  4. ঘ) ১৭৬০-১৮৩০
ব্যাখ্যা
 ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত  অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত। 
- মধ্যুযুগের শেষ ও  আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫০.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম কী?
  1. ক) দৈনিক ঢাকা
  2. খ) দৈনিক সমকাল
  3. গ) ঢাকা প্রকাশ
  4. ঘ) আমাদের ঢাকা
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
• ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১.
"একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী" কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) অর্কেস্ট্রা
  2. খ) ক্রন্দসী
  3. গ) শাশ্বতী
  4. ঘ) তন্বী
ব্যাখ্যা
‘অর্কেস্ট্রা’ (১৯৩৫) কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত উক্ত উক্তিটি ব্যক্ত করেছেন।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

একদা এমনই বাদলশেষের রাতে—
মনে হয় যেন শত জনমের আগে—
সে এসে সহসা হাত রেখেছিল হাতে,
চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে ;
সে-দিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া
মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে ;
অনাদি যুগের যত চাওয়া, যত পাওয়া
খুঁজেছিল তার আনত দিঠির মানে |
একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী ; (সংক্ষিপ্ত)

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডবের একজন। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ
- তন্বী (১৯৩০), 
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), 
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০), 
- দশমী (১৯৫৬);
- প্রতিদিন (১৯৫৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২.
বেগম রোকেয়ার প্রথম রচনা কোনটি?
  1. ক) পিপাসা
  2. খ) পদ্মরাগ
  3. গ) মতিচূর
  4. ঘ) পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। 
- সওগাত পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়। 

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর 
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।