পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
[ATEO - নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ১] বাংলা পরীক্ষা - ২ (ব্যাকরণ) টপিক: ১. ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়, ২. প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, ৩. ধ্বনি ও ধ্বনির পরিবর্তন, ৪. ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
  2. খ) বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য ষ লেখার প্রয়োজন হয়না।
  3. গ) ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
  4. ঘ) সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) অঘ্রান
  2. খ) ঝরনা
  3. গ) কল্যাণ
  4. ঘ) গভর্ণর
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন। 

এখানে 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) শব্দতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য' ব্যাকরণের 'ধ্বনিতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়। 

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)। 
.
'ভূষণ' শব্দটিতে মূর্ধন্য 'ষ' হয়েছে কোন রীতিতে?
  1. ক) উ- কারান্ত ধাতুতে ষ হয়।
  2. খ) প- বর্গের পরে 'ষ' হয়।
  3. গ) অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়।
  4. ঘ) স্বাভাবিক নিয়মে 'ষ' হয়।
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) বর্ণালি
  2. খ) রুপালি
  3. গ) কার্য্য
  4. ঘ) পিশাচী
ব্যাখ্যা
• বিশেষণবাচক 'আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন- বর্ণালি, রুপালি, সোনালি। 

• রেফ এর পর কোথাও (তৎসম, অতৎসম সকল শব্দে) ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন- কার্য, কর্ম, পূর্ব। 

• কয়েকটি স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে ঈ- কার হবে।  
যেমন- কিংকরী, পিশাচী, হরিণী। 

• উপরের আলোচনা অনুসারে, কার্য্য এর শুদ্ধ বানান হবে- 'কার্য'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
.
শ, ষ, স- এ তিনটির মধ্যে তদ্ভব শব্দের বানানে কোনটির ব্যবহার নেই?
  1. ক) শ
  2. খ) ষ
  3. গ) স
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ষত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মুর্ধন্য- ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। 
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য- ষ লেখার প্রয়োজন হয়না। 
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ' ব্যবহার রয়েছে। 
- যে সব শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। 
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।

• ণত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই বাংলা, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না৷। 
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মুর্ধ্ন্য- ণ এবং দন্ত্য- ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলা অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ‘ণ’  এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
তৎসম শব্দের নিয়মানুযায়ী কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) প্রণব
  2. খ) প্রণয়
  3. গ) প্রণাম
  4. ঘ) প্রয়ান
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দে 'প্র, পরি, নির' প্রভৃতি উপসর্গের পর কতকগুলো শব্দের 'দন্ত্য- ন' পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন- প্রণব, প্রণয়, প্রণাম, প্রয়াণ, প্রাণ, প্রণোদন ইত্যাদি।  

• সে অনুসারে, 'প্রয়ান' এর শুদ্ধ বানান হবে- 'প্রয়াণ'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
.
'রত্ন > রতন' কোন ধরণের ধ্বনির পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) স্বরভক্তি
  2. খ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. গ) বিষমীভবন
  4. ঘ) আদি স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন-
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্ৰূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোন কোন সময় ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ইত্যাদি।

• বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

• আদি স্বরাগম:
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন – স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন। এরূপ – আস্তাবল, আস্পর্ধা।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ ?
  1. ক) পোষাক
  2. খ) স্মার্ট
  3. গ) স্টেশন
  4. ঘ) কিশমিশ
ব্যাখ্যা
• বিদেশি শব্দের বানানে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োগ নেই।
যেমন- স্টেশন, স্মার্ট, কিশমিশ, পোশাক, আপস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১০.
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) সকল অতৎসম শব্দে কেবল ই বা উ কারচিহ্ন ব্যবহৃত হবে।
  2. খ) পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ঈ-কার হবে।
  3. গ) সর্বনাম পদরূপে কী শব্দটি ঈ- কার দিয়ে লেখা হবে।
  4. ঘ) অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা যাবেনা।
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ই-কার হবে।   
যেমন- ছেলেটি, বইটি, লোকটি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) পুরষ্কার
  2. খ) বহিষ্কার
  3. গ) রেজিষ্ট্রেশন
  4. ঘ) লজ্জাস্কর
ব্যাখ্যা
• পুরষ্কার, রেজিষ্ট্রেশন, লজ্জাস্কর  বানান গুলো সঠিক নয়। 
- এর সঠিক বানানগুলো হলো যথাক্রমে- পুরস্কার, রেজিস্ট্রেশন, লজ্জাকর। 

• 'বহিষ্কার ' বানানটি শুদ্ধ।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
১২.
ণত্ব ও ষত্ব বিধান কোন শ্রেণির শব্দে অনুসৃত হয়?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) দেশি
  3. গ) বিদেশি
  4. ঘ) তৎসম
ব্যাখ্যা
• ণত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই বাংলা, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না৷। 
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মুর্ধ্ন্য- ণ এবং দন্ত্য- ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলা অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ‘ণ’  এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কী হবে?
  1. ক) ন হবে না।
  2. খ) সবসময় 'ণ' হবে।
  3. গ) কখনো 'ণ' হয়না।
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয়না, ন হয়। 
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) মণ্ড
  2. খ) উৎকন্ঠা
  3. গ) লুণ্ঠন
  4. ঘ) বণ্টন
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দে ট- বর্গের (ট, ঠ, ড, ঢ) সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ' হয়ে যায়। 
যেমন- মণ্ড, উৎকণ্ঠা , লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড, ভণ্ড, কাণ্ড ইত্যাদি।

• সে অনুসারে 'উৎকন্ঠা ' বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান হবে- 'উৎকণ্ঠা'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
 

১৫.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুযায়ী কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) মুমূর্ষু
  2. খ) চিকীর্ষা
  3. গ) চকুস্মান
  4. ঘ) রুক্ষ
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
তৎসম শব্দে 'ক', 'র'- এর পরে সাধারণত 'দন্ত্য-স' বসে না, মূর্ষণ্য- ষ বসে।  
যেমন,
ক- এর পর: চক্ষু (ক্ষ= ক্‌ + ষ), চক্ষুষ্মান, রুক্ষ, ভিক্ষুক, ভিক্ষা।
র- এর পরে: মুমূর্ষু, চিকীর্ষা। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী 'চকুস্মান' এর শুদ্ধ বানান হবে- 'চক্ষুষ্মান'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬.
'অভিশ্রুতি' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) শুনিয়া > শুনে
  2. খ) বলিয়া > বলে
  3. গ) ধাইমা > দাইমা
  4. ঘ) মাছুয়া > মেছাে
ব্যাখ্যা
• 'ধাইমা > দাইমা' ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ। 

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন: করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
- এরূপ: শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
দুর্নীতি, দুর্নিবার, ত্রিনয়ন—প্রভৃতি শব্দগুলোতে মূর্ধন্য ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়নি কেন?
  1. ক) দেশি শব্দ বলে
  2. খ) তৎসম শব্দ বলে
  3. গ) সমাসবদ্ধ শব্দ বলে
  4. ঘ) বিদেশি শব্দ বলে
ব্যাখ্যা
• সমাসবদ্ধ শব্দের বানানেও ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান ব্যবহৃত হয় না।
- এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। 
যেমন- দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
ঋ-কার ও র-এর পর ‘ণ’ হয়। - এই বিধানের প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) কৃপণ
  2. খ) লক্ষণ
  3. গ) ব্যাকরণ
  4. ঘ) অর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাকরণ' শব্দে ঋ-কার ও র-এর পর ‘ণ’ হয়' এই বিধান এর ব্যবহার হয়েছে। 

• ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
ঋ, র, ষ -- এই তিন বর্ণের পরে 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, ঘৃণা, ঘূর্ণন, মরণ, ব্যাকরণ, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, য়, ব, হ, ং থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
শব্দের অর্থ ও অর্থবৈচিত্র্য নিয়ে ব্যাকরণের কোন অংশ আলোচনা করে?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) অর্থতত্ত্ব
  4. ঘ) বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'শব্দের অর্থ ও অর্থবৈচিত্র্য' নিয়ে ব্যাকরণের 'অর্থতত্ত্ব' অংশ আলোচনা করে। 

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়। 

• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- শব্দের অর্থবিচার ও বাক্যের অর্থবিচার, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২০.
নিচের কোনটি অসমীকরণ (Dissimilation) ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) ধপ + ধপ > ধপাধপ
  2. খ) রাখিয়া > রাইখ্যা
  3. গ) পোখত্ > পোক্ত
  4. ঘ) বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• অসমীকরণ (Dissimilation):
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
- যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• অন্যদিকে:
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
- যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে।
- এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
- যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
-যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।