পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০: নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিক: সম্পূর্ণ সিলেবাস উৎস: অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির পৌরনীতি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
কোন সংস্থার এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. আইএমএফ 
  3. ইউএনডিপি 
  4. জাতিসংঘ 
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ কোনটি?
  1. নির্বাচনী সভা
  2. জনমত
  3. আমলাতন্ত্র
  4. লালফিতার দৌরাত্ম্য
ব্যাখ্যা
জনমতের ধারণা ও সংজ্ঞা: 
- সাধারণ অর্থে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে জনমত' বলা হয়।
- এ অর্থে যে কোনো বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের সমষ্টিকে জনমত বলা যেতে পারে।
- কিন্তু পৌরনীতিতে সকল মতামতই জনমত নয়।
- পৌরনীতিতে কেবল প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত বলা হয়।
- 'জনমত' শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় রুশোর লেখনীতে।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণাও বিকশিত হতে থাকে।
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হলো জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল - এই অভিমত কোন সংস্থা ঘোষণা করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি 
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এডিবি 
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের স্তম্ভ:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা,
ii) স্বচ্ছতা,
iii) আইনী কাঠামো,
iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
আধুনিক গণতন্ত্র হলো - 
  1. প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র
  2. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
  3. পরোক্ষ গণতন্ত্র
  4. ক ও গ উভয়ই 
ব্যাখ্যা
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- বর্তমান সময়ের বিশালায়তন রাষ্ট্রগুলোর বিপুল জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে তাই জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- এই নির্বাচনকার্য সম্পন্ন হয় দলীয় ভিত্তিতে। বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে তাই দলীয় সরকার বলা হয়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
সুনাগরিকের অন্যতম গুণ হচ্ছে -
  1. সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড 
  2. সহনশীলতা
  3. বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি
  4. উসকানি দেওয়া
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও কিাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মত সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামতকে কী বলা হয়?
  1. প্রচারণা
  2. জনমত
  3. সিদ্ধান্ত
  4. আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনমত: 
- যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে সাথে জনমতের ধারণাও বিকশিত হতে থাকে।
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জনমতের ওপর নির্ভরশীল।
- গণতন্ত্র ও জনমত প্রায় সমার্থক শব্দ।
- গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন।
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনমত ও সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে কোন মূল্যবোধ বলা যেতে পারে?
  1. আধুনিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. পারিবারিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের মুখপাত্র?
  1. স্পিকার
  2. সরকার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
সরকার: 
- রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সরকার।
- রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, বিধি-নিষেধসমূহ সরকারের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি এজন্যই বলেছেন যে, সরকার হলো রাষ্ট্রের মুখপাত্র'। 
- সংকীর্ণ অর্থে সরকার বলতে আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বোঝায়।
- কিন্তু ব্যাপক অর্থে সরকার গঠিত হয় সকল নাগরিকের সম্মতিক্রমে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন ও পরিবর্তন করে থাকে।
- রাষ্ট্রভেদে সরকারের রূপ, কাঠামো ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের সরকার ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রের সেবা করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান
  3. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- একজন নাগরিক যখনই কোনো অধিকার ভোগ করতে চায় তখনই এর সাথে কিছু কিছু কর্তব্য পালনের বিষয়ও চলে আসে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিম্নরূপ:
১. সামাজিক দায়িত্ব পালন
২. রাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন
৩. আইন মান্য করা
৪. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
৫. নিয়মিত কর প্রদান
৬. রাষ্ট্রের সেবা করা
৭. সন্তানদের শিক্ষাদান
৮. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ণ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
৯. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
১০. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা
১১. সচেতন ও সজাগ হতে হবে
১২. সংবিধান মেনে চলা
১৩. সুশাসনের আগ্রহ
১৪. উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০.
N.G.O শব্দটির পূর্ণরূপ কী?
  1. National Governmental Organisation
  2. Non-Governmental Organisation
  3. New Governmental Organisation
  4. Non-Governing Organisation
ব্যাখ্যা
এন.জি.ও (N.G.O): 
- এন.জি.ও (N.G.O) শব্দটির পূর্ণরূপ হলো Non-Governmental Organisation.
- এন.জি.ও বলতে বেসরকারি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বোঝায়।
- এন.জি.ও.-গুলো উন্নয়ন সহযোগী। এ কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বে এর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলছে।
- অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহে এন.জি.ও. সমূহ অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
- এসব রাষ্ট্রে এন.জি.ও.গুলো মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানবসম্ভাবনাকে জাগ্রত করে।
- স্থানীয় ও গ্রামীণ জনগণের দারিদ্র্য দূরীকরণে, সম্পদ সমাবেশ ও ক্ষুদ্র পুঁজি সংগ্রহ ও সমাবেশ উন্নয়নমূলক কাজে জনগণের বিশেষ করে গ্রামীণ জনগণের বিনিয়োগ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নে এন.জি.ও.-গুলো প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেই চলেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১.
আইনের শাসনের কয়টি মৌলিক শর্ত রয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
আইনের শাসনের অভাব:
- আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে।
ক. আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান,
খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা,
গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
- এই শর্ত তিনটি মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর রয়েছে।
- কিন্তু অধিকাংশ রাষ্ট্রেই আইনের শাসন কার্যকর থাকে না।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।
- কিন্তু অনেক রাষ্ট্রই এরূপ অবস্থা বিদ্যমান নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২.
কোন পদ্ধতি অনুসারে রাজা বা রানি নামমাত্র শাসক হয়ে থাকেন?
  1. নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে
  2. অভিজাততন্ত্রে 
  3. নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে
  4. একনায়কতন্ত্রে 
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা লাভের পদ্ধতি অনুসারে সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy) এবং প্রজাতন্ত্র (Republic) এই দুভাগে বিভক্ত করা হয়। 
- নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন উত্তরাধিকারসূত্রে। রাজা বা রানি নামমাত্র শাসক।
- প্রকৃত শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের হাতে।
- গ্রেট ব্রিটেন, জাপান প্রভৃতি রাষ্ট্রে এরূপ সরকার প্রচলিত রয়েছে।
- কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন রাষ্ট্রপ্রধান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত বা নির্বাচিত হন তখন তাকে প্রজাতন্ত্র বলে।
- আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, বাংলাদেশ প্রভৃতি রাষ্ট্রে প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রচলিত রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৩.
সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ (social values):
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবস্থা ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টুয়ার্ট সি. ডডএর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড কুখোন-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- নিকোলাস রেসার-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব গুণাবলি যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪.
"গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা” - কথাটি কে বলেছেন?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. আব্রাহাম লিঙ্কন
  3. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  4. জর্জ ওয়াশিংটন 
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র: 
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা'।
- গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের (Abraham Lincoln) সংজ্ঞা খুবই জনপ্রিয়।
- তার মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫.
নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে কোন শাস্ত্র?
  1. নীতিশাস্ত্র
  2. ন্যায়শাস্ত্র
  3. পৌরনীতি ও সুশাসন
  4. অর্থশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক:
- পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- অন্যদিকে, নীতিশাস্ত্র নাগরিকের নৈতিকতা সম্বন্ধীয় বিষয়াবলি আলোচনা করে থাকে।
- উভয় শাস্ত্রের উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
- সেক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
মূল্যবোধের উপাদান নয় কোনটি?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. অসহনশীলতা
  4. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
- অসহনশীলতা মূল্যবোধের উপাদান নয়।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজে কারও ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেয়া, কটুক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।
- নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- এর ফলে সে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করে তার নিজের ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

২. সামাজিক ন্যায়বিচার:
- সামাজিক ন্যায়বিচারের অর্থ, ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন সকলের প্রতি বিচারের মানদণ্ড এক ও অভিন্ন।
- আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে বসবাসকারী সকলের সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।

৩. শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজজীবনের অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

৪. সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও কিাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মত সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

এছাড়া, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা, সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৭.
লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে কয় ভাগে ভাগ করেন?
  1. ২ ভাগে 
  2. ৩ ভাগে 
  3. ৫ ভাগে 
  4. ৬ ভাগে 
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. স্বচ্ছতা আনয়ন করা
  3. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য:
১. ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
২. সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
৩. প্রশাসনকে গতিশীল করা।
৪. দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌছে দেওয়া।
৫. দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌছানো।
৬. সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।
৭. প্রশাসনের দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো।
৮. জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি।
৯. ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
১০. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
১১. নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
১২ জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
১৩. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
১৪. তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
১৫. গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা।
১৬. ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।
১৭. সুশাসন নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯.
কার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”?
  1. ফ্রাংকেনার
  2. টেইলার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. ডাইসি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- নীতিবিদ্যাকে নীতি-দর্শনও বলা হয়।
- উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা” ।
- পি. ডব্লিউ. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “ নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”
- উইলিয়াম লিলি এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “ সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে”।

উৎস: নীতিবিদ্যা,বিএ /বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।