পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫: বিষয়: বাংলা টপিক: ভাষা, লিঙ্গ ও বচন, যতিচিহ্ন। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
'আবলি' লগ্নক যোগে শুদ্ধ বহুবচন বোধক শব্দ কোনটি?
  1. পর্বতবলি
  2. পুস্তকাবলি
  3. মেঘবলি
  4. তারাবলি
সঠিক উত্তর:
পুস্তকাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুস্তকাবলি
ব্যাখ্যা
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
• মালা- পর্বতমালা।
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মেধাবী
  2. দুঃখী
  3. শিশু
  4. শ্রোতা
সঠিক উত্তর:
শিশু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশু
ব্যাখ্যা
• 'শিশু' শব্দটির সাহায্যে মেয়ে ও ছেলে উভয় শিশুকে বোঝায়। সুতরাং 'শিশু' উভয়লিঙ্গ।

• উভয় লিঙ্গ:
যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলো- শিশু, সন্তান, মানুষ ইত্যাদি।

-----------
অন্যদিকে,
• 'মেধাবী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - মেধাবী।
• 'দুঃখী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - দুঃখিনী।
• 'শ্রোতা' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - শ্রোতী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে?
  1. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে 
  2. ৫৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে 
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি। খ্রিষ্টপূর্ব আটাশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি।

• জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

• কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড় অপভ্রংশ থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় পাঁচশ অব্দে বঙ্গ কামরূপী ভাষার তৈরী। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. বিস্ময়
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নবোধক
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে-
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন-সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয় কোন পুরুষবাচক শব্দের?
  1. যোগী
  2. সাধু
  3. রজক
  4. অজ
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়।
যেমন:
কুলি - কামিন,
খানসামা - আয়া,
চাকর - ঝি,
শুক - শারি,
গোলাম - বাঁদী,
সাধু - সাধবী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• যোগী - যোগীনী। 
• রজক - রজকী। 
• অজ - অজা ইত্যাদি।
[শব্দগুলোতে শুধু প্রত্যয় পরিবর্তীত হয়ে নর থেকে নারীবাচক শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
.
অন্ত্যযতি নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. দুই দাঁড়ি
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো-

• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (-),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
.
বাংলা লিপির জন্ম হয় কোন লিপি থেকে?
  1. বোড়ো থেকে
  2. ব্রাহ্মী থেকে
  3. মণিপুরি থেকে
  4. অহমিয়া থেকে
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী থেকে
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি। বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।

- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

- বাংলাদেশের জীবনযাত্রার প্রায় সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা।।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক নয় কোনটি?
  1. সঙ্ঘ
  2. ব্রজ
  3. ব্রাত
  4. গণ
সঠিক উত্তর:
ব্রজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক নয়- ব্রজ। 

-------------
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ: ব্রতিসঙ্ঘ, বিদ্বাৎসঙ্ঘ।
- যূথ: গজযূথ, মৃগযূথ।
- ব্রাত: মধূকরব্রাত।
- বৃন্দ: বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ।
- পাল: মৃগপাল।
- গণ: বন্ধুগণ।
- কুল: জীবকুল, অলিকুল।

অন্যদিকে,
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
সংযোগ চিহ্ন বলা হয় কোনটিকে?
  1. কোলন
  2. ত্রিবিন্দু
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
হাইফেন সবসময় দুই ততোধিক শব্দের মধ্যে বসে। বাংলা লেখার সময় এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

এর ব্যবহার ক্ষেত্র হলো-
- সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন হাট-বাজার, সাত-পাঁচ।
- একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাদের মাঝে হাইফেন বসে। যেমন চলতে-চলতে কোথায় চলে যায়। যেতে-যেতে হয়রান হয়ে পড়েছি।
- দিক বা স্থান বা সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় হাইফেন বসে। যেমন: উত্তর-পশ্চিম কোণে মেঘ জমেছে।
- কোনো কোনো উপসর্গের পরে হাইফেন বসে। যেমন: অ-তৎসম, কু-অভ্যাস, বে-আঙ্কেল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
'কুহক' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কুহকী 
  2. কুহকিনী 
  3. কুহকনী 
  4. কুহকইনী 
সঠিক উত্তর:
কুহকিনী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহকিনী 
ব্যাখ্যা
• ঈনী, নী, যোগে গঠিত শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী,
- মেধাবী - মেধাবিনী,
- দুঃখী - দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১১.
কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত লগ্নক-
  1. গুলা
  2. গুলি
  3. রা 
  4. গুলো
সঠিক উত্তর:
রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রা 
ব্যাখ্যা
• রা-কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে 'রা' বিভক্তির ব্যবহার পাওয়া যায়।
যেমন:
- ছাত্ররা খেলা দেখতে গেছে।
- তারা সকলেই লেখাপড়া করে।
- শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করেন।

অন্যদিকে, 
• গুলা, গুলি, গুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অতগুলো কুমড়া দিয়ে কী হবে?
- আমগুলো টক।
- টাকাগুলো দিয়ে দাও।
- ময়ূরগুলো পুচ্ছ নাড়িয়ে নাচছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।