পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২ টপিক মধ্যযুগের প্রাথমিক ধারণা ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য [Live Class - 3 & 4]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
মঙ্গলকাব্যের কয়টি ধারা?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা: মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা হলো দুটি।

• লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কৃষ্ণ
  2. পাটানী
  3. বড়ায়ি
  4. রাধা
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয়- পাটানী। 

------------------
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:

- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে-  কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে কোন মঙ্গলকাব্যে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়-বণিক খণ্ড। অন্যান্য মঙ্গলকাব্যে একটি মাত্র কাহিনি রয়েছে। 

• প্রথম খণ্ড: আক্ষেটিক খণ্ড বা ব্যাধ কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান'।প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
• দ্বিতীয় খণ্ড: বণিক খণ্ড বা ধনপতি সওদাগরের কাহিনি।দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
নাট্যরসাশ্রিত কাব্য কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মহাভারত
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন":
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে-  কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা , রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

অন্যদিকে, 
• “সেক শুভোদয়া" ও "শূন্যপুরাণ" গদ্যপদ্যে মিশ্রিত চম্পুবাক্য।
• 'মহাভারত' একটি জাত মহাকাব্য। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় কাকে?
  1. মানিক দত্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. বিজয়গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। শুধু মঙ্গলকাব্যেরই শ্রেষ্ঠ কবি নন, মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম ষোড়শ শতকের কবি।
- তিনি বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রামে ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দের জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান।
- তাঁর রচিত চণ্ডীমঙ্গলের নাম 'শ্রী শ্রী চণ্ডীমঙ্গল'। তিনি দুঃখ বর্ণনার কবি হিসেবে পরিচিত। তার কবিকৃতির জন্য জমিদার রঘুনাথ রায় 'কবি কঙ্কন' উপাধি প্রদান করেন।

অন্যদিকে, 
• চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি: মানিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
• বিজয়গুপ্ত তিনি বরিশালের কবি। বিজয়গুপ্তের কাব্যের নাম পদ্মপুরাণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মনসামঙ্গল কাব্যের বিদ্রোহী চরিত্র কোনটি?
  1. সনকা
  2. চাঁদ সওদাগর
  3. ধনপতি সওদাগর
  4. লখিন্দর
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল কাব্য:
সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে যে কাব্যগুলো রচিত হয়েছে তাই মনসামঙ্গল। মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা। তাই মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ। মনসামঙ্গলকাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা। এখানের মানুষের সংগ্রামের কাহিনি দেখানো হয়।

কাব্যের চরিত্র:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- সনকা,
- বেহুলা,
- লখিন্দর। 

• মনসামঙ্গলের কাহিনির মাধ্যমে চাঁদ সদাগরের চরিত্রটি গতানুগতিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। নিগৃহীত মানবতার জীবনবাণী রূপে মঙ্গলকাব্যের যে বৈশিষ্ট্য তা এই চরিত্রে রথার্থই প্রতিফলিত হয়েছে। মানবিকতার পরাভব ও আত্মগ্লানিতে পূর্ণ সে যুগে চাঁদ সুজার্গর শক্তিমান বিদ্রোহী হিসেবে অনন্য পরিচয় দান করেছেন। নিগৃহীত জাতির মর্মগত বঞ্চনা, আর্তনাদ ও বিক্ষোভ চাঁদ সদাগরের বিদ্রোহী স্বভাবের মাধ্যমে রূপ লাভ করেছে।

• বেহুলা চরিত্রের মধ্যে বাঙালি নারীত্বের যে প্রতিচ্ছবি আঁকা হয়েছে, তা কেবল ত্যাগ-তিতিক্ষায় সমুজ্জ্বলই নয়, অতন্ত্র আত্মবিশ্বাস ও অমিত বীর্যে ভাস্বর। বেহুলার নারীশক্তি চাঁদ সদাগরের পৌরুষের সমগোত্রীয় বিদ্রোহী। যে আত্মশক্তির প্রাচুর্যে চাঁদ সদাগর বারবার ব্যর্থতার পরেও ভেঙে পড়েন নি, ক্ষুব্ধ আক্রোশে কেবল উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন, সেই মানবী শক্তির সার্থক পরিণামরূপে দেবপুরী-প্রত্যাগতা বেহুলার আবির্ভাব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্যের বিষয়বস্তু ছিল-
  1. শিব পার্বতীর মিলন
  2. রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা
  3. রাম ও সীতার প্রণয়লীলা
  4. রাম ও রাবণের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে-  কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা , রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বিদ্যাসুন্দর কাহিনি নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কালিকামঙ্গল কাব্য:
- কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে
'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে।

- কালিকামঙ্গল নামে পরিচিত কাব্যধারা মঙ্গলকাব্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যথার্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কালিকামঙ্গলের নামে এ কাব্যে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি পরিবেশিত হয়েছে। এটা বিদ্যাসুন্দর কাহিনি নামে পরিচিত।

- তন্ত্রশাস্ত্রে কালী শক্তিদেবতা চণ্ডীরই রূপভেদ মাত্র। কিন্তু পরবর্তী কালে নিম্নস্তরের অনার্য সমাজ থেকে কালিকাদেবীর আবির্ভাব ঘটেছে। চণ্ডীর সঙ্গে কালিকার মিল থাকলেও কাব্যরচনায় কোন সামঞ্জস্য নেই। কালিকামঙ্গলের কালিকার মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা করা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, বরং বিদ্যা ও সুন্দরের গোপন প্রণয়কাহিনি এ কাব্যের প্রধান উপজীব্য।

কালিকামঙ্গলের কবিগণ:
বিদ্যাসুন্দরের এই প্রেমকাহিনি অবলম্বনেই কালিকামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে। মূল কাহিনি কাশ্মিরের বিখ্যাত কবি বিলহন কর্তৃক তাঁর 'চৌরপঞ্চাশিকা' কাব্যে বার শতকে সংস্কৃতে বিধৃত হয়েছিল। ক্রমে চৌরপঞ্চাশিকার কাহিনি বাংলায় এসে প্রণয়কাহিনিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে কালিকামঙ্গলে স্থান পেয়েছে।
কালিকামঙ্গল বা বিদ্যাসুন্দর কাব্যের আদি কবি হিসেবে কবি কঙ্ককে মনে করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলার রাজ্যেশ্বরী নদীর তীরে বিপ্রগ্রামে কবির জন্ম। তাঁর জীবনের করুণ ও বিচিত্র কাহিনি অবলম্বনে রচিত লোকগাঁথা 'কঙ্ক ও লীলা' নামে ময়মনসিংহ গীতিকায় স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।'- বক্তব্যটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
• চণ্ডীর বহু নামের মধ্যে একটি হলো ‘অন্নদা’। মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র এ নামেই তাঁর বিখ্যাত কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' রচনা করেছেন।

• ভারতচন্দ্র ছিলেন আঠারো শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং তাঁর অন্নদামঙ্গল এ সময়ের শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি তিন তিনটি স্বতন্ত্র কাহিনিতে পূর্ণতা লাভ করেছে।

• প্রথম খণ্ডে শিবায়ন-অন্নদামঙ্গল, দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দর-কালিকামঙ্গল এবং তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহ-অন্নপূর্ণামঙ্গল কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• প্রথম উপাখ্যানের মূল ঘটনা পৌরাণিক। এতে সতীর দেহত্যাগ, পার্বতীর বিবাহ, শিবের সংসার ও কাশীতে দেবীর অন্নপূর্ণামূর্তি ধারণের বর্ণনা আছে। সেসঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরিহোড়কে ছেড়ে দেবী কিভাবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দের পিতৃগৃহে উপস্থিত হন সেই লৌকিক কাহিনি।

• দ্বিতীয়টি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি। কালিকার কৃপায় কিভাবে সুন্দর বিদ্যার পাণিগ্রহণ করেছিলেন এবং মশান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন সে কাহিনি বর্ণিত হয়েছে এখানে।

• তৃতীয় অংশটি অনেকটা তিহাসিক। মানসিংহ কর্তৃক প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত ও বন্দিকরণ এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে ভবানন্দের ‘রাজা-ই-ফরমান’ লাভের ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল থেকে তৎকালীন বাঙালি সমাজের অনেক তথ্যই পাওয়া যায়। দেবী ও ঈশ্বরী পাটনীর ঘটনা থেকে দেব-মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানা যায়। ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ দেবীর নিকট পাটনীর এই বর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় যে, তখন ন্যূনপক্ষে দুধভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল বাঙালি জীবন-যাত্রার নিম্নতম মান

কবির বাগ্বিদগ্ধতায় সমৃদ্ধ অনেক বক্তব্য সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে। যেমন:
• মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
• যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
• নীচ যদি উচ্চ ভাষে সুবুদ্ধি উড়ায় হেসে।
• বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সন্তাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া।
• হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়
• কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০.
মঙ্গলকাব্যে কবি নন কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. জয়দেব
  3. দ্বিজমাধম
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যে কবি নন- জয়দেব। 
- 'জয়দেব' ছিলেন বৈষ্ণব পদাবলী কবি। 

---------------
• মঙ্গলকাব্য:

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য। ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।

- মঙ্গলকাব্য কাব্যের প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে এই কাব্যগুলো রচনা করেছেন। এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।
                                                                                                                    
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের পুথি কত সালে মুদ্রিত হয়?
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯১৫ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন":
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।

- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।

- পুথিটির মাঝখানের এবং শেষের কয়েকটি পত্র না থাকায় এর নাম জানা যায়নি। তাই এর বিষয়বস্ত্ত কৃষ্ণলীলাবিষয়ক বলে নাম রাখা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

- ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬) এই নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে পুথিটি মুদ্রিত হলে গবেষক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয় এবং বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। পুথিটি থেকে বাংলা লিপির বিবর্তন সম্পর্কেও অনেক ধারণা পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
মঙ্গলকাব্যে কয় জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৬০ জন
  2. ৬২ জন
  3. ৫২ জন
  4. ৫৩ জন
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য। ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।

- মঙ্গলকাব্য কাব্যের প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে এই কাব্যগুলো রচনা করেছেন। এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কত শতকের রচনা?
  1. ১২শ শতক
  2. ১৩শ শতক
  3. ১৬শ শতক
  4. ১৪শ শতক
ব্যাখ্যা
• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন":
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।

- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।

- পুথিটির মাঝখানের এবং শেষের কয়েকটি পত্র না থাকায় এর নাম জানা যায়নি। তাই এর বিষয়বস্ত্ত কৃষ্ণলীলাবিষয়ক বলে নাম রাখা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

- ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬) এই নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে পুথিটি মুদ্রিত হলে গবেষক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয় এবং বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। পুথিটি থেকে বাংলা লিপির বিবর্তন সম্পর্কেও অনেক ধারণা পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।