পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৩২ বাংলা টপিক: ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ/প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, লিঙ্গ পরিবর্তন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. চাতুর্যতা
  2. দীনতা
  3. কৃপণতা
  4. অলসতা
সঠিক উত্তর:
চাতুর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্যতা
ব্যাখ্যা
• চাতুর্যতা শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: চাতুর্য বা চতুরতা।

⇒ ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ মব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কত চালে কত ধান।
  2. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।
  3. শকুনের দোয়ায় হাতি মরে না।
  4. কাকের মাংস কাকে খায় না।
সঠিক উত্তর:
কাকের মাংস কাকে খায় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাকের মাংস কাকে খায় না।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: কাকের মাংস কাকে খায় না।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ।

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• কত ধানে কত চাল।
• সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম।
• শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
পুংলিঙ্গের সাথে কী যোগ করে লিঙ্গান্তর করা যায়-
  1. উপসর্গ
  2. প্রকৃতি
  3. অনুসর্গ
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
⇒ লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন। এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ + অ = লিঙ্গ। লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণিবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- লিঙ্গের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায় তাকে লিঙ্গ বলে ।

• লিঙ্গ পরিবর্তন বা লিঙ্গান্তরের নিয়ম:
বাংলা ভাষার লিঙ্গান্তর নিম্নলিখিতভাবে হয়ে থাকে-
১) পুংলিঙ্গবাচক শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে।
২) স্ত্রীবাচক শব্দ আগে বা পরে বসিয়ে এবং
৩) ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোন শব্দের দুটি স্ত্রী-বাচক শব্দ রয়েছে?
  1. শূক
  2. গায়ক
  3. বর
  4. খোকা
সঠিক উত্তর:
বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর
ব্যাখ্যা
⇒ বর এর দুটি স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে: 'বধু' ও 'কনে'।

এছাড়া অপশনের অন্যান্য শব্দ:
• শূক এর স্ত্রীবাচক শব্দ - শারি।
• খোকা এর স্ত্রীবাচক শব্দ - খুকি।
• গায়ক এর স্ত্রীবাচক শব্দ - গায়িকা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  2. তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
  3. তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
  4. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
• শুদ্ধ বাক্য: তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।

• নিয়ম:
⇒ বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
⇒ তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ষ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. কষাকষি
  2. ষ্টেশন
  3. ষাণ্মাসিক
  4. বিষয়ী
সঠিক উত্তর:
ষ্টেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্টেশন
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান অনুসারে, বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।

⇒ তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে।
- সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও বিষয়ী শব্দগুলোতে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘কামিন’ শব্দের পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. চাকর
  2. গোলাম
  3. কুলি
  4. গোয়ালা
সঠিক উত্তর:
কুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলি
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়। যেমন:
- কুলি = কামিন,
- খানসামা = আয়া,
- চাকর = ঝি,
- দেবর = ননদ/জা,
- শুক = শারি,
- গোলাম = বাঁদী,
- সাধু = সাধবী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কিছু শব্দ ‘ইনী’ প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করা হয়। যথা:
- কাঙাল - কাঙালিনী;
- গোয়ালা - গোয়ালিনী;
- বাঘ - বাঘিনী ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  2. ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়াতে পারব না।
  3. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছি।
  4. এক অগ্রহায়ণে শীত য়ায় না।
সঠিক উত্তর:
দশচক্রে ভগবান ভূত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দশচক্রে ভগবান ভূত।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

⇒ সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন:
• অশুদ্ধ: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছি।
• শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছি।

• অশুদ্ধ: ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়াতে পারব না।
• শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

• অশুদ্ধ: এক অগ্রহায়ণে শীত য়ায় না।
• শুদ্ধ প্রয়োগ: এক মাঘে শীত য়ায় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘জেলেনি’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত হয়েছে?
  1. নি
  2. ইনী
  3. ইনি
সঠিক উত্তর:
নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নি
ব্যাখ্যা
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। যেমন:
⇒ ‘নি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• জেলে - জেলেনি;
• বেদে - বেদেনি;
• ধোপা - ধোপানি।

⇒ ‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কাঙাল - কাঙালিনি;
• বাঘ - বাঘিনি।

⇒ ‘ই’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• দাদা - দাদি;
• জেঠা - জেঠি।

⇒ ‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১০.
অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

অন্যদিকে,
⇒ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
⇒ তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
⇒ অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

বাক্যে শব্দের গঠন অনুসারে উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. রজক
  2. ঢাকি
  3. কৃতদার
  4. বিপত্নীক
সঠিক উত্তর:
রজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রজক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• রজক (বিশেষ্য), 
- এটি বাংলা শব্দ। 
- যার অর্থ: ধোপা।
- ‘রজক’ এর স্ত্রীবাচক শব্দ: রজকিনী।

 • নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকি, ঢুলি, রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ হিসেবে পরিচিত।
যেমন: এয়ো, ললনা, সতীন, সৎমা, সধবা, বিমাতা, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, লক্ষী, ডাইনি, গর্ভিণী ইত্যাদি। 
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. আমায় একা রেখে যেওনা। 
  2. বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
  3. তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।
  4. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
সঠিক উত্তর:
আমায় একা রেখে যেওনা। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমায় একা রেখে যেওনা। 
ব্যাখ্যা
⇒ (না, নেই, নয়) ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• অশুদ্ধ বাক্য: আমায় একা রেখে যেওনা। 
• শুদ্ধরূপ: আমায় একা রেখে যেও না। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বেঙ্গমী
  2. লক্ষী
  3. কলুনি
  4. বেদেনি
সঠিক উত্তর:
লক্ষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ হিসেবে পরিচিত।
যেমন- এয়ো, ললনা, সতীন, সৎমা, সধবা, বিমাতা, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, লক্ষী, ডাইনি, গর্ভিণী ইত্যাদি। 

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকি, ঢুলি, রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক,  ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশনগুলোর পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
• বেঙ্গমা = বেঙ্গমী;
• কলু = কলুনি;
• বেদে = বেদেনি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৪.
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে কোন কারবর্ণটি ব্যবহৃত হয়?
  1. উ-কার
  2. এ-কার
  3. ঊ-কার
  4. ই-কার
সঠিক উত্তর:
ই-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-কার
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী → কৃতিত্ব,
দায়ী → দায়িত্ব,
প্রতিযোগী → প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী → মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী → সহযোগিতা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
‘মাতুল’ কোন লিঙ্গ?
  1. ক্লীবলিঙ্গ
  2. উভয়লিঙ্গ
  3. পুংলিঙ্গ
  4. স্ত্রীলিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• মাতুল পুংলিঙ্গ।

⇒ ‘আনী/আনি’ প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ হলো:
• শূদ্র = শূদ্রাণী,
• মাতুল = মাতুলানী,
• মেথর = মেথরানি,
• নাপিত = নাপিতানি ইত্যাদি।

============
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
ক) পুংলিঙ্গ
খ) স্ত্রীলিঙ্গ
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ

পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

 স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

 ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

 উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
উ-কারের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নূর
  2. নূপুর
  3. নূরানি
  4. নূড়ি
সঠিক উত্তর:
নূপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূপুর
ব্যাখ্যা
⇒ নিয়ম:
• নূতন, নূপুর, ন্যূন এই তিনটি বানান ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ‘ন’ এর নিচে উ-কার হবে। 
যেমন- নুর, নুড়ি, নুরানি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭.
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  2. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
  3. অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
‘উল্লেখিত’ শব্দটিতে কী ধরণের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সমাসজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সন্ধিজনিত
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
সন্ধিজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা
• ‘উল্লেখিত’ শব্দটিতে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত।

⇒ নিয়ম:

 - ত্ ও দ্‌, এর পর ল্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ -এর স্থলে ল উচ্চারিত হয়।
- উল্লিখিত এর সন্ধি বিচ্ছেদ উৎ + লিখিত। তাই উল্লেখিত শব্দটি অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আবশ্যকীয়
  2. পূজ্য
  3. একত্র
  4. বাহ্য
সঠিক উত্তর:
আবশ্যকীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবশ্যকীয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ ⇒ শুদ্ধ
- আবশ্যকীয় ⇒ আবশ্যক;
- একত্রিত ⇒ একত্র;
- পুজ্য ⇒ পূজ্য;
- বাহ্যিক ⇒ বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অর্ধরাত্র
  2. পিতৃহারা
  3. নিরপরাধী
  4. নীরোগ
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নিরপরাধী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরপরাধ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।