পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. আবদুল মতিন
  2. শামসুল আলম
  3. নূরুল হক ভুঁইয়া
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির বিষয়ে শুরু থেকেই যে আন্দোলন ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তা থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন্ম নেয়।

• প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ (১৯৪৭):
- গঠিত: ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে।
- উদ্যোগ: তমদ্দুন মজলিশ।
- উদ্দেশ্য: ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া।
- আহ্বায়ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

• দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ (১৯৪৮):
- গঠিত: ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ।
- উপস্থিত: দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রসমাজ।
- আহ্বায়ক: শামসুল আলম।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রথম আলো।

.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আলী
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. নুরুল আমিন
  4. এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়:
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: নূরুল আমিনকে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। 
- তিনি ১৯৫৪ সালের ২ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তাঁর শাসনামলে পূর্ববাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়। 

উল্লেখ্য,
- ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল: গোলাম মুহাম্মদ।
- পূর্ব বাংলার গভর্নর: ফিরোজ খান নুন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

.
শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. ঢাকা
  3. মহাস্থানগড়
  4. শাহজাদপুর
ব্যাখ্যা

শাহ সুলতান বলখীর মাজার:
- শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ ও বিখ্যাত সাধক ছিলেন।
- উপাধি ও ইতিহাস: বলা হয় তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন, এজন্য তাকে বলখী বলা হয়। তাঁর জীবনের বিস্তারিত ইতিহাস অস্পষ্ট।
- অবস্থান: মাজারটি মহাস্থানগড়, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

ঊল্লেখো, 
- মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এটি করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত এবং বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি উত্তরে।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২–১১২৫) গৌড়ের রাজা ছিলেন, সেই সময় মহাস্থানগড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন নগর কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানে মোট জনসংখ্যার শতকরা কত ভাগ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা?
  1. ৯৮ ভাগ 
  2. ৬২ ভাগ 
  3. ৫৬ ভাগ 
  4. ৪৯ ভাগ 
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ সালের ভাষাগত পরিসংখ্যান:
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার
- ৫৬% বাংলা,
- ২৮.০৪% পাঞ্জাবি, 
- ৫.৮% সিন্ধি, 
- ৭.১% পশতু, 
- ৭.২% উর্দু এবং 
- বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক। 
- এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে। 

উল্লেখ্য, 
- তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যার ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী।
- এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী।
- অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়। - কিন্তু সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতি মাতৃভাষার ওপর এ আঘাতের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
চট্টগ্রামের নাম 'ইসলামাবাদ' কে রাখেন?
  1. ইসলাম খান 
  2. শায়েস্তা খান
  3. ঈশা খাঁ
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খান ছিলেন বাংলার মুঘল সুবাদার।
- তিনি ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা।
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন।
- তাঁর শাসনামলে তিনি কুচবিহার বিদ্রোহ দমন করেন, চট্টগ্রাম জয় ও মগ দস্যুদের বিতাড়িত করেন (১৬৬৬ সালে)।
- শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অঞ্চলের নাম রাখেন ইসলামাবাদ।
- তাঁর শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।

• স্থাপত্য ও নির্মাণকর্ম- 
- লালবাগ কেল্লা,
- শায়েস্তা খান মসজিদ,
- ছোট কাটরা,
- সাত গম্বুজ মসজিদ,
- চক মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরি হতো কোন আমলে?
  1. সুলতানি আমলে
  2. পাল আমলে
  3. মুঘল আমলে
  4. ব্রিটিশ আমলে
ব্যাখ্যা

মসলিন কাপড়:
-মসলিন একটি অতি সূক্ষ্ম মিহি সুতিবস্ত্র, যা বিশ্বব্যাপী “ঢাকাই মসলিন” নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের স্থানীয় কারিগররা ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে তৈরি অতিচিকন সুতা দিয়ে মসলিন প্রস্তুত করতেন।
- মুঘল আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরি হতো।
- মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের পর থেকে ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি বৃদ্ধি পায়।
- মুঘল সম্রাট ও অভিজাত শ্রেণি মসলিন শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।
- সম্রাট, প্রাদেশিক শাসনকর্তা ও পদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ সূক্ষ্ম মসলিন সংগ্রহ করা হতো।
- অভিজাতদের জন্য অতি সূক্ষ্ম ও মিহি কাপড়, আর দরিদ্রদের জন্য মোটা ও ভারী কাপড় বোনা হতো। 

• ঢাকাই মসলিনের প্রকারভেদ
- মলমল
- ঝুনা
- রঙ্গ
- আবিরাওয়ান
- খাস
- শবনম
- আলাবালি
- তনজিব
- নয়ন-সুখ
- জামদানি

উল্লেখ্য, 
- বিভিন্ন ধরনের মসলিনের মধ্যে জামদানি এখনো প্রচলিত।
- কথিত আছে, ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিন কাপড় একটি দিয়াশলাই বাক্সে ভরে রাখা যেত।
- ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে, ১৮৫০ সালে।
- ঢাকাই মসলিন ইতিমধ্যে জিআই (Geographical Indication) স্বত্বের অনুমোদন পেয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
         ii) প্রথম আলো।

.
একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব কোথায় গৃহীত হয়?
  1. নিউইয়র্ক
  2. প্যারিস
  3. জেনেভা
  4. লন্ডন
ব্যাখ্যা

২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয়।
- একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়।

উৎস: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ ঘুরী
  2. বখতিয়ার খলজী
  3. ইলতুৎমিশ
  4. আলাউদ্দিন খলজী
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খলজী:
- বখতিয়ার খলজী ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী।
- তিনি তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তাঁর আদি নিবাস ছিল উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) অঞ্চল।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে তিনি ঝাড়খন্ডের দুর্গম অরণ্যাঞ্চল অতিক্রম করে সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনের অবকাশকালীন রাজধানী নদীয়া আক্রমণ ও জয় করেন।
- নদীয়া জয়ের পর তিনি স্বল্প সময় সেখানে অবস্থান করেন।
- ৬০১ হিজরি (১২০৫ খ্রিস্টাব্দে) তিনি বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন।
- গৌড় জয়ের পর তিনি সেখানে লখনৌতি নামে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- গৌড়ের পূর্ব নাম ছিল লক্ষণাবতী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি) ও বাংলাপিডিয়া।

.
প্রথম শহিদ মিনার কবে নির্মিত হয়?
  1. ১৯৫১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৬৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

শহিদ মিনার
• প্রথম শহিদ মিনার:
- নির্মাণ: ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে।
- উদ্যোগ: ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা।
- অবস্থান: বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে।
- প্রথম উদ্বোধন: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউরের পিতা মাহবুবুর রহমান (অনানুষ্ঠানিক)।
- আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২, দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ শহিদ মিনার ভেঙে ফেলে। 

• বর্তমান শহিদ মিনার:
- নির্মাণ: ১৯৬৩ সালে।
- নকশা: হামিদুর রহমান। 
- উদ্বোধন: শহীদ আবুল বরকতের মা, হাসিনা বেগম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

১০.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলায় কোন বঙ্গাব্দে ঘটে?
  1. ১১৭০
  2. ১১৭৬
  3. ১৭৭০
  4. ১১৭৫
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
- বাংলার তথা ভারতের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- ঘটনার বছর: ১১৭৬ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলার জনসাধারণের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে ওঠে।
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায়।
- সেই সময়ে গভর্ণর: লর্ড কার্টিয়ার। 

• কারণ:
- ১১৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট।
- রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি।
- ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, উৎপীড়ন ও শোষণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

১১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একুশের প্রথম সংকলন গ্রন্থের নাম: একুশে ফেব্রুয়ারি।

- গ্রন্থটির সম্পাদক: হাসান হাফিজুর রহমান।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্যচর্চার সূচনা: ছাত্রজীবন থেকেই।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- একই বছরে (১৯৫২) তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে, তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রথম উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' এর রচয়িতা জহির রায়হান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২.
বাংলায় আগমনকারী প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক কে?
  1. ইউয়েন সাং
  2. ফা হিয়েন
  3. মেগাস্থিনিস
  4. ই-সিং
ব্যাখ্যা

ফা হিয়েন:
- ফা-হিয়েন ছিলেন একজন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী ও পরিব্রাজক।
- তিনি বাংলায় আগমনকারী প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন এবং ভ্রমণকালে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেন।
- ভারতে আগত চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাঁর লিখিত বিবরণ পাওয়া যায়, তিনি ফা-হিয়েন।
- তিনি পঞ্চম শতকের সূচনায় ভারত ভ্রমণ করেন।
- সে সময় গুপ্ত বংশীয় শাসকরা বাংলার অংশবিশেষসহ ভারত শাসন করছিলেন।
- ফা-হিয়েন ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং ১৪ বছর পর (প্রায় ৪১৩ খ্রি.) চীনে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ভারত ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে তিনি সীমান্ত রাজ্য চম্পার মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করেন।
- তাঁর প্রধান গন্তব্য ছিল তৎকালীন বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান তমলুক, পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত)।
- তাম্রলিপ্তি থেকেই তিনি সমুদ্রপথে বৌদ্ধপ্রধান দেশ শ্রীলংকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
- শ্রীলংকা যাওয়ার পূর্বে তিনি দীর্ঘ দুই বছর তাম্রলিপ্তিতে অবস্থান করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

১৩.
২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতো-
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. ১১ মার্চ
  3. ১৪ আগস্ট
  4. ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা

প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস:
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ একটি অবিস্মরণীয় ও যুগান্তকারী দিন।
- ২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে ১১ মার্চই রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতো।
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের ঘটনার পরের বছর (১৯৪৯) প্রথমবারের মতো দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত আন্দোলনের আগপর্যন্ত, অর্থাৎ ১৯৫১ সাল পর্যন্ত, ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল।

উৎস: i) প্রথম আলো।
         ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

১৪.
তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম কোন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন?
  1. দর্শন
  2. ইতিহাস
  3. পদার্থবিজ্ঞান
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস:
- তমদ্দুন মজলিস একটি ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরে সংগঠনটি গড়ে ওঠে।
- সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাস্থল ঢাকা।
- তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭।
- প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম।
- প্রতিষ্ঠাকালে সংগঠনটির নাম ছিল পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস।
- সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করা।
- বাংলা ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিসের ভূমিকা ছিল পূর্ববাংলার জনসাধারণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে তমদ্দুন মজলিস বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করে।
- রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সংগঠনটি বাংলা ভাষার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫.
বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রাথমিক নাম কী ছিল?
  1. ফসলি সন
  2. তারিখ-ই-এলাহী
  3. হিজরি সন
  4. বাংলা-ই-এলাহি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ষপঞ্জি:
- বাংলা বর্ষপঞ্জি বা বঙ্গাব্দ প্রবর্তন করেন মুঘল সম্রাট আকবর।
- বঙ্গাব্দ প্রবর্তিত হয় ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে।
- প্রবর্তনের সময় আকবরের রাজত্বের ২৯তম বর্ষ চলছিল।
- বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রাথমিক নাম ছিল তারিখ-ই-এলাহী।
- ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ ‘তারিখ-ই-এলাহী’ বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
- নতুন সন প্রবর্তিত হলেও এর গণনা ধরা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে।
- ৫ নভেম্বর ১৫৫৬ খ্রি.-এই দিনে আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- বঙ্গাব্দ মূলত রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক সুবিধার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়।
- বাংলা বর্ষপঞ্জি বাংলা অঞ্চলকেন্দ্রিক একটি সৌর-চান্দ্র মিশ্র বর্ষপঞ্জি হিসেবে ব্যবহৃত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬.
পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি প্রথম উত্থাপন করেন কে?
  1. আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাংলা ভাষা প্রস্তাব:
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- উক্ত অধিবেশনে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য।
- তিনি গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি পেশ করেন।
- প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে বাংলার স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
- প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন।
- মুসলিম লীগের অন্যান্য সদস্যরাও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।
- প্রবল বিরোধিতার কারণে বাংলা ভাষা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বাতিল ঘোষিত হয়।
- এই ঘটনা ভাষা আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনাবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি)।

১৭.
পলাশীর যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
  1. ২৩ জুন ১৭৫৬
  2. ২৩ জুন ১৭৫৭
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭
  4. ১৭ জুলাই ১৭৫৭
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ: 
- পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ২৩ জুন ১৭৫৭।
- যুদ্ধের একপক্ষ ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা।
- অপরপক্ষ ছিল রবার্ট ক্লাইভ নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- যুদ্ধের ফলাফল: সিরাজুদ্দৌলা পরাজিত হন।
- এই যুদ্ধের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
- এর পর বাংলায় প্রায় দুইশ বছরের ইংরেজ শাসন শুরু হয়।
- যুদ্ধের মাধ্যমে মীর জাফরকে নবাব বানানো হয়, যিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুতুলশাসক হিসেবে কাজ করেন।
- পলাশীর যুদ্ধ ইতিহাসে ভূমিকম্প-সদৃশ পরিবর্তন সূচিত করে- রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে বাংলার শাসন ব্যর্থ হয়।
-এটি মুঘল শাসন অবসানের প্রাক্কালে বাংলার প্রধান ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি)।

১৮.
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় কবে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে।
- ৭ মে ১৯৫৪ অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহীদ দিবস ঘোষণা করে।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।
- ১৯৬২ সালে সংবিধানে তা বহাল থাকে।
- সংবিধান প্রণয়নের আগে, ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বিল উত্থাপন করেন।
- উক্ত বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
- এই প্রক্রিয়া বাংলার ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা কোনটি?
  1. রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
  4. মাতৃভাষা বাংলা চাই
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- এই সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিল বাঙালির সংস্কৃতি, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন যা এই আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।

২০.
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী কি বার ছিল?
  1. মঙ্গলবার
  2. বুধবার
  3. বৃহস্পতিবার
  4. রবিবার
ব্যাখ্যা

একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্তগৃহীত হয়।
- ১৪৪ ধারা ভাঙার পন্থা হিসেবে দশজন দশজন করে ছাত্র রাস্তায় মিছিল বের করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 
- অনেকেই এদিন গ্রেফতার হন। 
- পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
- কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।