পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৪৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১২ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৭০ নম্বর]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৫ প্রশ্ন

.
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. শুধু লেখায় ব্যবহার হয়।
  2. ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে।
  3. বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
  4. এ রীতি পরিবর্তনশীল।
সঠিক উত্তর:
এ রীতি পরিবর্তনশীল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ রীতি পরিবর্তনশীল।
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

প্রমিত ভাষারীতি:
- বিভিন্ন ভাষারীতি কালক্রমে পরিমার্জিত হয়ে সবার গ্রহণযোগ্য একটি রূপ লাভ করে।
- এই ভাষারীতি সাধারণত শিক্ষিত লোকের কথাবার্তা ও নিত্য ব্যবহারে আরও আকর্ষণীয় হয়।
- ভাষাও যে শ্রমসাধ্য, প্রযত্নলব্ধ এবং শেখার কোনো বিষয়- প্রমিত ভাষারীতি তার প্রমাণ।
- এক কথায়, ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য ও সমকালের সর্বোচ্চ মার্জিত রূপকেই প্রমিত ভাষারীতি বলে।
যেমন: 'একজনের দুটো ছেলে ছিল।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর কয়টি শাখা রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।

ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা — ২ টি।
যথা-
কেন্তম ও শতম।

উল্লেখ্য, 
- বাংলার আদি অধিবাসী/জনগােষ্ঠীর ভাষা ছিল অস্ট্রিক।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত/তৎসম ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ‘দ্বিতীয় খণ্ড’।
.
মুখবিবরের ছাদকে বলা হয় -
  1. অগ্রদন্তমূল
  2. তালু
  3. পশ্চাৎদন্তমূল
  4. মূর্ধা
সঠিক উত্তর:
তালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালু
ব্যাখ্যা
• 'তালু':
- মুখবিবরের ছাদকে বলা হয় - তালু।
- তালুর দুটি অংশ কোমল তালু ও শক্ত তালু।
- অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণে কোমল তালু নিচে নামে। কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- দন্তমূলের শুরু থেকে কোমল তালু পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলা হয় শক্ততালু।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
.
ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম থাকলে, সেগুলােকে বলা হয় -
  1. ঘােষ ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা - 
অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'বাতাস' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সমীর
  2. মারুত
  3. অগ্নিসখ
  4. মহি
সঠিক উত্তর:
মহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহি
ব্যাখ্যা
• 'বাতাস' এর সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, পবন, সমীর, সমীরণ, গন্ধবহ/গন্ধবাহ, অনিল, মারুত, বাত, বায়, আশুগ, পবমান, সদাগতি, নভঃশ্বাস, শব্দবহ, অগ্নিসখ, জগতায়ু, জগৎপ্রাণ, মাতরিশ্বা, জগদ্বল, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• 'পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ - মহি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'চাক্ষুষ' শব্দটির বিপরীত শব্দ কী?
  1. দৃশ্য
  2. অগোচর
  3. মৃদু
  4. প্রকাশ্যে
সঠিক উত্তর:
অগোচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগোচর
ব্যাখ্যা
• 'চাক্ষুষ' এর বিপরীত শব্দ- অগোচর।

অন্যদিকে, 
• অদৃশ্য এর বিপরীত শব্দ- দৃশ্য। 
• 'উগ্র' এর বিপরীত শব্দ-মৃদু / সৌম্য।
• নিরিবিলি এর বিপরীত শব্দ-প্রকাশ্যে।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. নষ্ট হওয়া
  2. ছিপছিপে
  3. শ্রমবিমুখ
  4. নিতান্ত অলস
সঠিক উত্তর:
শ্রমবিমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রমবিমুখ
ব্যাখ্যা
• 'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারার অর্থ- 'শ্রমবিমুখ'।
বাক্যগঠন: ছেলেটাকে একেবারে ননীর পুতুল বানিয়ে রেখেছে, কোনো কাজ করতে দেয় না ৷

অন্যদিকে, 
• 'ডকে ওঠা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- নষ্ট হওয়া।
• ‘তালপাতার সেপাই' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ছিপছিপে।
• 'গোঁফ খেজুরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- নিতান্ত অলস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিঙ্গাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. মেঘলা
  2. নম্র
  3. পানসে
  4. সৌন্দর্য
সঠিক উত্তর:
নম্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নম্র
ব্যাখ্যা
• 'নম্র' - কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
প্রকৃতি- প্রত্যয় বিশ্লেষণ: '√ নম্‌ + র'।

অন্যদিকে,
• 'মেঘ + লা = মেঘলা'; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• 'পানি + সে = পানসে'; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• 'সুন্দর + য = সৌন্দর্য'; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'সূর্য' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অদ্রি
  2. অর্ণব
  3. ভানু
  4. শশাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ভানু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানু
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য' এর সমার্থক শব্দ - ভানু।

‘সূর্য’ শব্দের আরো কিছু সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভাস্কর, আদিত্য, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, অংশুমালী, অরুণ।

অন্যদিকে,
• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ: গিরি, শৈল, পাহাড়, অদ্রি।
• 'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ- চন্দ্র, নিশাকর, বিধু, সুধাংশু, হিমাংশু, শশধর, শশাঙ্ক ইত্যাদি।
• ‘সমুদ্র’ শব্দের সমার্থক শব্দ: অর্ণব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০.
'মুখপত্র' শব্দের অর্থ কী?
  1. প্রতিনিধি
  2. প্রস্তাবনা
  3. উপযুক্ত
  4. অক্ষর সংবলিত
সঠিক উত্তর:
প্রস্তাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তাবনা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মুখপত্র' শব্দের অর্থ:
- ভূমিকা,
- প্রস্তাবনা,
- দলের কর্ম বা আদর্শজ্ঞাপক প্রচারপত্র বা পত্রিকা।

অন্যদিকে,
• 'মুখপাত্র' শব্দের অর্থ: কারো পক্ষে কথা বলার অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রতিনিধি। 
• 'সাক্ষর' শব্দের অর্থ- অক্ষর সংবলিত,
• 'যোগ্য' শব্দের অর্থ- উপযুক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
নিচের কোন যুক্তবর্ণের বিশ্লেষণটি ভুল?
  1. রূ = (র্ + ঊ)
  2. ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
  3. ঞ্জ = (ঞ্‌ + ছ)
  4. হৃ = (হ্ + ঋ)
সঠিক উত্তর:
ঞ্জ = (ঞ্‌ + ছ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্জ = (ঞ্‌ + ছ)
ব্যাখ্যা
'ঞ্জ' যুক্ত ব্যঞ্জনে 'ঞ্‌ + জ' বর্ণ আছে।

'ঞ্জ' যুক্ত ব্যঞ্জন সহযোগে গঠিত কিছু শব্দ: 
- অঞ্জন,
- গঞ্জনা,
- গঞ্জ,
- রঞ্জনা,
- কুঞ্জ ইত্যাদি।  
-------------
কিছু অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
-  রূ (র্+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
'আইন' শব্দের প্রতিশব্দ -
  1. আলয়
  2. দস্তাবেজ
  3. কানুন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কানুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানুন
ব্যাখ্যা
'আইন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বিধান, 
- কানুন,
- ধারা,
- নিয়ম।

অন্যদিকে,
• 'গৃহ’ শব্দের প্রতিশব্দ: আলয়।
• 'দলিল' শব্দের প্রতিশব্দ: দস্তাবেজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।
১৩.
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, বর্ণানানুক্রমে নিচের কোন শব্দটি সবার আগে হবে?
  1. মন্তর
  2. মন্দ্র
  3. মন্বন্তর
  4. মণ্ড
সঠিক উত্তর:
মণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণ্ড
ব্যাখ্যা
বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ, 
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড,  ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ। 
---------------
• সে অনুসারে সঠিক শব্দক্রম হবে,
মণ্ড → মন্তর → মন্দ্র → মন্বন্তর । 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪.
'পরিতুষ্ট' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. পোরিতুশ্‌ট
  2. পরিতুশ্‌টো
  3. পোরিতুশ্‌টো
  4. পোরিতশ্‌টো
সঠিক উত্তর:
পোরিতুশ্‌টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোরিতুশ্‌টো
ব্যাখ্যা
• 'পরিতুষ্ট' এর সঠিক উচ্চারণ- 'পোরিতুশ্‌টো'। 

• আরো কিছু শব্দের উচ্চারণ: 

- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫.
'খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।' এখানে ‘ঘুম’ কী?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমধাতুজ কর্ম
  3. নামধাতু
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ কর্ম
ব্যাখ্যা
• কর্মকারকের প্রকারভেদ:
ক) সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
খ) প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
গ) সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম।
যেমন -
- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'চুল' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. লোচন
  2. লহরী
  3. চিকুর
  4. অহি
সঠিক উত্তর:
চিকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিকুর
ব্যাখ্যা
• 'চুল' এর প্রতিশব্দ:
- কেশ,
- অলক,
- চিকুর,
- কুন্তল,
- কবরী।

অন্যদিকে, 
• 'চক্ষু' শব্দের প্রতিশব্দ - লোচন। 
• 'ঢেউ' শব্দের প্রতিশব্দ- লহরী।
• 'সাপ' শব্দের প্রতিশব্দ - অহি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।
১৭.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. অজ
  2. খাস
  3. ফি
  4. অধি
সঠিক উত্তর:
ফি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফি
ব্যাখ্যা
• ফারসি উপসর্গ - ফি।
 
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম্‌, ফি, বদ, বে, বর্‌, ব, কম্‌।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
• 'অজ' বাংলা উপসর্গ।
• 'খাস' আরবি উপসর্গ
• 'অধি' তৎসম উপসর্গ

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
'উগ্র' শব্দটির বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. মৃদু
  2. বিনীত
  3. সৌম্য
  4. ক এবং গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক এবং গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• ’উগ্র’ এর বিপরীত শব্দ- মৃদু / সৌম্য।

• 'উগ্র' শব্দের অর্থ - প্রখর, উৎকট, কর্কশ।

অন্যদিকে,
• 'মৃদু' শব্দের অর্থ - কোমল, শান্ত, হালকা।
• 'সৌম্য' শব্দের অর্থ - ধীর, স্থির, মনোরম।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
'চট্টগ্রাম' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. চট্‌টোগ্রাম্‌
  2. চটোগ্রাম
  3. চট্টোগাম
  4. চঠ্‌টোগ্রাম
সঠিক উত্তর:
চট্‌টোগ্রাম্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্‌টোগ্রাম্‌
ব্যাখ্যা
• 'ট্ট' এর উচ্চারণে ট- এর দ্বিত্ব ঘটে। তাই, 'চট্টগ্রাম' এর সঠিক উচ্চারণ- 'চট্‌টোগ্রাম্‌'। 

• আরো কিছু শব্দের সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
'জিলাপি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তৎসম
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'জিলাপি' - হিন্দি ভাষার শব্দ।

 আরো কিছু হিন্দি শব্দ:
- দুলকি,
- দিলরুবা,
- দাবা,
- দাপট,
- দহলা,
- দশেরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১.
উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

অভিসম্বন্ধ:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২.
বহুব্রীহি সমাসে কোন পদ প্রধান থাকে?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয় পদ
  4. অন্য পদ
সঠিক উত্তর:
অন্য পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য পদ
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস: 
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু (অন্য কোন পদকে) বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।

এরূপকিছু উদাহরণ হলো:
• জনের মুখ হতে শ্রুত যা - জনশ্রুতি।
• দশহজ পরিমাণ যার - দশগজি।
• ধর্মে বুদ্ধি যার - ধর্মবুদ্ধি।
• নীল কণ্ঠ যার - নীলকণ্ঠ।
• চার পদ আছে যার - চতুষ্পদী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. তাস
  2. হস্ত
  3. জানালা
  4. সমুদ্র
সঠিক উত্তর:
জানালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানালা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'জানালা'- পর্তুগিজ শব্দ।

• পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ হলো-
আলপিন, আনারস, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, বালতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তাস - হিন্দি শব্দ।
• হস্ত, সমুদ্র - তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪.
'প্রবীণ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
প্রবীণ - রূঢ়ি শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ: 
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন - বাদাম তেল।

- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে নিচের কোন বর্ণটি সবার আগে হবে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ( ং) - সবার আগে বসবে।

• বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ, 
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড,  ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৬.
'আভরণ' শব্দের অর্থ -
  1. আচ্ছাদন
  2. গহনা
  3. সুন্দর
  4. আংটা
সঠিক উত্তর:
গহনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গহনা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'আভরণ' শব্দের অর্থ: 
- ভূষণ, অলংকার, গহনা।  

অন্যদিকে,
• 'আবরণ' শব্দের অর্থ- 'আচ্ছাদন'।
• 'অভিরাম' শব্দের অর্থ- সুন্দর।
• 'কড়া' শব্দের অর্থ - আংটা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৭.
নিম্নলিখিত কোন বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ রয়েছে?
  1. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
  2. বাগানটি সুন্দর।
  3. বই টেবিলে আছে।
  4. রাস্তা সংকীর্ণ।
সঠিক উত্তর:
ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

• ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

অন্যদিকে,
খ) "বাগানটি সুন্দর।"
এখানে "সুন্দর" একটি বিশেষণ (adjective) যা বাগান শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি কোনো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এটি সরাসরি একটি বিশেষণ। তাই এখানে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

গ) "বই টেবিলে আছে।"
এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

ঘ) "রাস্তা সংকীর্ণ।"
এখানে "সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা রাস্তা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
'গিরীন্দ্র' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গিরি + ঈন্দ্র
  2. গিরি + ইন্দ্র
  3. গিরী + ইন্দ্র
  4. গির্‌ + ইন্দ্র
সঠিক উত্তর:
গিরি + ইন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরি + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
• 'গিরীন্দ্র' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - গিরি + ইন্দ্র।
-------------- 

• সন্ধির নিয়ম: 
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন -
→ ই + ই = ঈ; অতি + ইত = অতীত।
→ ই + ঈ = ঈ; পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
→ ঈ + ই = ঈ; সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
→ ঈ + ঈ = ঈ; সতী + ঈশ = সতীশ।

এরূপ,
- গিরীন্দ্র, ক্ষিতীশ, মহীন্দ্র, শ্রীশ, পৃথ্বীশ, অতীব, প্রতীক্ষা, প্রতীত, রবীন্দ্র, দিল্লীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
"Disputant" এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. অযোগ্যতা
  2. স্বাতন্ত্র্য
  3. বিবাদি
  4. সামঞ্জস্য
সঠিক উত্তর:
বিবাদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাদি
ব্যাখ্যা
• "Disputant" এর বাংলা পরিভাষা - 'বিবাদি'।

অন্যদিকে, 
Disqualification - অযোগ্যতা,
Distinction - স্বাতন্ত্র্য,
Harmony - সামঞ্জস্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩০.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. বড়দাদা > বড়দা
  3. শুনিয়া > শুইনা > শুনে
  4. কবাট > কপাট
সঠিক উত্তর:
কবাট > কপাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবাট > কপাট
ব্যাখ্যা
• 'কবাট > কপাট'- ব্যঞ্জন বিকৃতি এর উদাহরণ। 

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি ।
- অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন,
— শাক > শাগ, ধোবা > ধোপা, কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
--------------------
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন- ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা, ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি ।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন- বড়দাদা > বড়দা, বউদিদি > বউদি ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি (Umlaut):
- অভিশ্রুতি অপিনিহিতির পরবর্তী পর্যায়।
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে'।
এরূপ-রাখিয়া > রাইখা, করিয়া > কইরা, শুনিয়া > শুইনা > শুনে, বলিয়া > বইলা > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
'বাণিজ্য' শব্দে 'ণ' বসেছে ণ-ত্ব বিধানের কোন নিয়মে?
  1. ব এবং জ এর মাঝে 'ণ' হয়।
  2. ব বর্ণের পরে 'ণ' হয়।
  3. স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
  4. প-বর্গীয় ধ্বনির পরে 'ণ' হয়।
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান: 
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়:
যেমন,
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২.
'হনহন' শব্দটি কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'হনহন' - অব্যয় পদের উদাহরণ।

• 'হনহন' শব্দের অর্থ: 
- দ্রুততার ভাববাচক।
----------------- 
• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

• বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
• তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
• বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৩.
'তেহাই' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তারিখ পূরণবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. সাধারণ পূরণবাচক
  4. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
১. সাধারণ পূরণবাচক
২. তারিখ পূরণবাচক
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক: 
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকিটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন:
আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
• তৃতীয়, তৃতীয়া = সাধারণ পূরণবাচক।
• তেসরা = তারিখ পূরণবাচক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. ঘর-টর
  2. চুপচাপ
  3. উড়ু উড়ু
  4. ঝমঝম
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম
ব্যাখ্যা
• 'ঝমঝম' - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 
---------------------- 
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- যেমন: ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
- কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়।
- ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
- যেমন: সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে।
যেমন, 
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ঘর-টর, চুপচাপ - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।
• উড়ু উড়ু - পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
  2. অনুসর্গ কারকের ধারণা দেয়।
  3. অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার আছে।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সবগে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।

• অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য:
- অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
- অনুসর্গ কারকের ধারণা দেয়।
- অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার আছে।
- অনুসর্গ শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে না। পৃথক শব্দ হিসেবে থাকে।
- অনুসর্গ সাধারণভাবে অব্যয় হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া থেকেও সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
বিদেশি উপসর্গযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. প্রতিধ্বনি
  2. বকলম
  3. উপসাগর
  4. কদবেল
সঠিক উত্তর:
বকলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বকলম
ব্যাখ্যা
• "বকলম" শব্দটি বিদেশি (ফারসি) উপসর্গ "ব-" দিয়ে গঠিত।
- ফারসি ভাষা থেকে আগত এই উপসর্গটি "সহিত" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• "বকলম" অর্থ:
"বকলম" শব্দের অর্থ হলো "কলমের মাধ্যমে।"

অন্য অপশনে,
• প্রতিধ্বনি:
"প্রতি-" একটি সংস্কৃত উপসর্গ, যা 'সদৃশ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• উপসাগর:
"উপ-" একটি সংস্কৃত উপসর্গ, যা 'ক্ষুদ্র' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• কদবেল:
"কদ-" একটি বাংলা উপসর্গ, যা 'নিন্দিত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭.
"যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।" - বাক্যটির সরলরূপ কোনটি?
  1. পশুরা মাংস ভোজন করে বলে তারা বলবান।
  2. মাংস ভোজন করে পশু বলবান হয়।
  3. মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।
  4. মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান কারণ তারা মাংস ভোজন করে।
সঠিক উত্তর:
মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।
ব্যাখ্যা
• "যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।" - এর সরল বাক্যের রূপ: "মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।"
------------------- 

মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
যথা:
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
সরল বাক্য: নির্বোধরা/বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য:আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮.
কোন বাক্যটিতে 'উৎকর্ষ' অর্থে 'গুণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ওষুধে গুণ করেছে।
  2. মাঝিরা নৌকার গুণ টেনে এসেছে।
  3. দ্রব্যের গুণ জানতে হয়।
  4. তুমি তো নিজের গুণকীর্তন করছো।
সঠিক উত্তর:
তুমি তো নিজের গুণকীর্তন করছো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি তো নিজের গুণকীর্তন করছো।
ব্যাখ্যা
নিচে "গুণ" শব্দটির বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ এর উদাহরণ দেওয়া হলো:

• 'তুমি তো নিজের গুণকীর্তন করছো' – এখানে "গুণ" শব্দটি উৎকর্ষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'দ্রব্যের গুণ জানতে হয়' – এখানে "গুণ" শব্দটি ধর্ম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'ওষুধে গুণ করেছে' – এখানে "গুণ" শব্দটি ক্রিয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'মাঝিরা নৌকার গুণ টেনে এসেছে' – এখানে "গুণ" শব্দটি দড়ি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯.
'নির্মীলিত' শব্দটির বিপরীত শব্দ কী?
  1. শুষ্ক
  2. উন্মীলিত
  3. বিবাদ
  4. সরস
সঠিক উত্তর:
উন্মীলিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্মীলিত
ব্যাখ্যা
• 'নির্মীলিত' এর বিপরীত শব্দ- 'উন্মীলিত'।

অন্যদিকে, 
- 'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'শুষ্ক', 
- 'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ- বিবাদ,
- 'সরস' এর বিপরীত শব্দ- 'নীরস'।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০.
নিচের কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়?
  1. ইহা
  2. পূর্বদিন
  3. ওখানে
  4. এখন
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:

• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
ওখানে - ঐখানে,
এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)। 
৪১.
নিচের কোনটি মিথ্যা?
  1. কমা - 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
  2. সেমিকোলন - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
  3. দাঁড়ি - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
  4. হাইফেন - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
সঠিক উত্তর:
হাইফেন - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
ব্যাখ্যা
• "হাইফেন - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।" - বাক্যটি অশুদ্ধ।
"হাইফেন -এর ক্ষেত্রে থামার প্রয়োজন নেই।
------------------------ 
• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-

- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

অন্যদিকে,
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• থামার প্রয়োজন নেই-
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

• ‘কমা’ এর বিরতিকাল - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. কনিষ্ঠতর
  2. বিবিধপ্রকার
  3. নিরভিমানী
  4. পুরুষত্ব
সঠিক উত্তর:
পুরুষত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরুষত্ব
ব্যাখ্যা
'পুরুষত্ব' শব্দটি শুদ্ধ।
তবে,
পৌরুষত্ব শব্দটি অশুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• 'কনিষ্ঠতর' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - কনিষ্ঠ।

• 'বিবিধপ্রকার' - সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - বিবিধ।

• 'নিরভিমানী' - সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - নিরভিমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ন্যক্কারজনক
  2. ত্বাদৃশ
  3. বিদ্যুতায়ন
  4. ঝান্ডা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুতায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুতায়ন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বিদ্যুতায়ন'- শব্দটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধরূপ: বিদ্যুদায়ন।

• 'বিদ্যুদায়ন' এর অশুদ্ধ প্রচলিত রূপ 'বিদ্যুতায়ন'।

উল্লেখ্য,
বিদ্যুৎ + আয়ন = বিদ্যুদায়ন। তাই, বিদ্যুতায়ন বা বিদ্যুতায়িত বললে ভুল হবে।

অন্যদিকে,
ন্যক্কারজনক, ত্বাদৃশ, ঝান্ডা - শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪.
বাংলা বর্ণমালায় কয়টি কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালায় — ১টি কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি রয়েছে।
যেমন,
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি - হ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
যেমন, 
- 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫.
সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ ---------
  1. দীর্ঘতর হয়
  2. হ্রস্বতর হয়
  3. পরিবর্তন হয় না
  4. সংক্ষিপ্ত হয়
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতর হয়
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি: 
দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।

• সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর হয়, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, - করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।