পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়29 minutes৫৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৬০
সিলেবাস
রিভিশন পরীক্ষা [নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি বাটনের বিগত ৬টি পরীক্ষার টপিকের উপর রিভিশন পরীক্ষা] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৬০ প্রশ্ন

.
'বর্ণ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. শব্দতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়সমূহ হলো-
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

.
বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌।

স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবে, দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
• 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্‌ ]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
• একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্‌]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
'উপসর্গ' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষও রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
‘লক্ষ্মী’ শব্দের ‘ক্ষ্ম’ যুক্তবর্ণটি কোন তিনটি বর্ণের সমষ্টি?
  1. ল + ক্ + ষ
  2. ক্ + ষ + ন
  3. ক্ + ষ + ম
  4. ক্ + স + ম
ব্যাখ্যা

• ‘লক্ষ্মী’ শব্দের ‘ক্ষ্ম’ যুক্তবর্ণটি - ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম। 

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

.
সাধু ভাষারীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হয়
  2. এটি কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হয়
  3. এর রূপ অপরিবর্তনীয়
  4. ব্যাকরণের নিয়ম মানে না
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -২০২১ সংস্করণ)।

.
'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [অ] হয়েছে নিচের কোন শব্দটিতে?
  1. অনেক
  2. অণু
  3. অদ্য
  4. অতি
ব্যাখ্যা

'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], অনৃত [অনৃতো], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্কো], অদ্য [ওদো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

.
‘আসিয়া’ - এই ক্রিয়াপদটির চলিত রূপ কী হবে?
  1. আসতে
  2. আসুক
  3. এসে
  4. আসলো
ব্যাখ্যা

• ‘আসিয়া’  ক্রিয়াপদটির চলিত রূপ - এসে।

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

সাধু - চলিত:
আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
পড়িল - পড়ল/পড়লো;
করিয়া - করে;
ভাঙিয়া - ভেঙে;
যাইতে - যেতে;
ফুটিয়া -  ফুটে; 
সহিত - সঙ্গে/সাথে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
‘রাখিয়া > রেখে’ — এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন:
- রাখিয়া > রেখে,
- করিয়া > করে,
- শুনিয়া > শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
‘আজি’ শব্দটি ‘আইজ’ হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে কীসের উদাহরণ বলা হয়?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্তর্হতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০.
নিচের কোন শব্দটিতে মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ রয়েছে?
  1. কলম
  2. ফুল
  3. বই
  4. ঢোল
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, , ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১.
She has _________ of experience in the marketing industry.
  1. a great number of 
  2. a great deal of
  3. a number of 
  4. many
ব্যাখ্যা

Correct answer: a great deal of.
- Complete sentence: She has a great deal of experience in the marketing industry.
- Bangla meaning: মার্কেটিং সেক্টরে তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতা আছে।
- প্রদত্ত বাক্যে শূন্যস্থানের পরে uncountable noun 'experience" থাকায় এর পূর্বে "a great deal of" বসবে।

• A good/great deal of something:
- English Meaning: a large amount of.
- Bangla Meaning: অনেক; অনেকটা; অনেকখানি; বেশ; প্রচুর; ঢের।

- We use much, a lot, lots and a good deal as adverbs to refer to frequency, quantity, and degree.
- কোনো কিছুর সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদির দিক থেকে পর্যাপ্ত বা যথেষ্ট বুঝাতে সাধারণত uncountable noun এর পূর্বে determiner হিসেবে A good/great deal of ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
ক) A great number of→ countable plural noun-এর পূর্বে ব্যবহৃত হয় (যেমন: A great number of people).

গ) A number of → countable plural noun-এর পূর্বে ব্যবহৃত হয় (A number of people).

ঘ) Many → countable plural noun-এর সাথে ব্যবহৃত হয় (যেমন: Many people/many letters).

Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২.
Which of the following is plural?
  1. News
  2. Mathematics
  3. Economics
  4. Formulas
ব্যাখ্যা

Correct answer: Formulas.

• Formulas (Plural noun)
- English meaning: a standard or accepted way of doing or making something.
- Bangla meaning: সূত্র, ফর্মূলা, অনুমোদিত বিধি, বা সঙ্কেত।
- এর singular number হলো Formula.

• Other options:
- অন্যদিকে, News, Mathematics, Economics সবগুলোই Singular number.
- কারণ, কতগুলো Noun দেখতে plural মনে হলেও ব্যবহারে Singular number.
- Examples: News, Physics, Ethics, Politics, Statistics, Mathematics, Economics, Athletics, etc.

Source:
1. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.
2. Cambridge Dictionary.

১৩.
What is the masculine gender of 'lady'?
  1. Lass
  2. Lord
  3. Duchess
  4. Baroness
ব্যাখ্যা

Correct answer: lord.

• Lady (feminine gender)
- English Meaning: a polite or formal way of referring to a woman; a woman of good social position.
- Bangla Meaning: মহিলা; সংস্কৃতিবান বা উচ্চবংশীয় স্ত্রীলোক।

• এর Masculine gender হলো- Lord: সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি।
 
অন্যদিকে,
ক) Lass (feminine gender)
- বালিকা; প্রেমিকা।
- এর Masculine gender হলো- "Lad".

গ) Duchess (feminine gender)
- ডিউকপত্নী; ডিউকের বিধবা স্ত্রী; ডিউকের সমমর্যাদার্সম্পন্ন মহিলা।
- এর Masculine gender হলো- "Duke".

ঘ) Baroness (feminine gender)
- সম্ভ্রান্তা মহিলা, ব্যারন-পত্নী।
- এর Masculine gender হলো- "Baron".

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১৪.
I’d rather stay home and watch a movie. Here, 'home' is a/an-
  1. Noun
  2. Pronoun
  3. Adjective 
  4. Adverb
ব্যাখ্যা

Correct answer: Adverb.

• I’d rather stay home and watch a movie.

- এখানে 'home' শব্দটি adverb হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- It answers the question “where?” → “To stay where?” → home.
- এখানে "home" verb (stay)-এর পরে বসে এবং একে Modify করে তাই এটি একটি Adverb.

• Home (Adverb):
- English Meaning: to or at one's place of residence or home; at or to your house or the place where you live.
- Bangla Meaning: (১) বাড়িতে; বাড়ির দিকে: যাত্রার সূচনাস্থলে; স্থানটি তার বাসস্থান হোক কি না হোক। (২) যথাস্থানে; উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে।

• Adverb: 
- যেসব word noun বা pronoun ছাড়া অন্য যেকোন parts of speech, বিশেষ করে verb কে modify করে সেগুলোকে adverb বলে।
- Adverb এমন একটি part of speech যা একটি verb, adjective, অন্য আর একটি adverb অথবা পুরো একটি বাক্যকে modify করতে পারে।
- where, why, how, when, ইত্যাদি শব্দগুলো দিয়ে Verb-কে প্রশ্ন করে পাওয়া উত্তরই হলো adverb.

Source:
1. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১৫.
The hungry cat found a small fish. Here, the word 'hungry' is a/an-
  1. Adverb
  2. Adjective
  3. Verb
  4. Noun
ব্যাখ্যা

Correct answer: Adjective.

• The hungry cat found a small fish.
- "hungry" শব্দটির অর্থ ক্ষূধার্ত।
-"hungry"শব্দটি এখানে Adjective কারণ এটি বাক্যের Noun 'Cat' কে modify করছে।
- Adjective এর কাজ হলো Noun বা Pronoun আগে বসে এর দোষ, গুণ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা দেয়া।

• Hungry (adjective)
- English meaning: feeling an uneasy or painful sensation from lack of food: feeling hunger.
- Bangla meaning: ক্ষুধার্ত; ক্ষুধিত; বুভুক্ষু; ক্ষুধাতুর; ক্ষুধা-উদ্রেককর।

• Adjective: যে সকল Word Noun বা pronoun এর দোষ,গুন,অবস্থা ,সংখ্যা বা পরিমাপ প্রকাশ করে তাদের adjective বলে। যেমন:
- They live in a giant house.
- He found an ancient coin.
- She sat at a round table.

Source:
1. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১৬.
He is planning to look ______ a new job next month.
  1. to
  2. up
  3. into
  4. for
ব্যাখ্যা

Correct answer: for.
Complete sentence: He is planning to look for a new job next month.
Bangla: সে আগামী মাসে একটি নতুন চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা করছে।

• Look for
- English meaning: to search for: seek.
- Bangla meaning: খোঁজা, সন্ধান করা।

Other options:
ক) Look to
- English meaning: to direct one's attention to.
- Bangla meaning: মনোযোগ দেওয়া।

খ) Look up
- English meaning: to search for in a book of reference, etc.
- Bangla meaning: তথ্য খোঁজা।

গ) Look into
- English meaning: to examine the facts about a problem or situation.
- Bangla meaning: অনুসন্ধান করা বা খতিয়ে দেখা।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Collins Dictionary.

১৭.
One should do _______  best in every situation.
  1. his
  2. her
  3. one's
  4. their
ব্যাখ্যা

• Correct answer: one's.
- Complete sentence: One should do one's best in every situation.

• প্রশ্নটি মূলত বাক্যে Possessive pronoun এর ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী,
- এখানে one শব্দটি হলো pronoun.
- One এর possessive হিসাবে সবসময়ই One's বসে।
- বাক্যে Subject হিসাবে One বসলে এর Possessive Adjective হিসাবে one's হবে।
- তাই এখানে one's ই ব্যবহার করতে হবে।

• He এর possessive form 'his'.
- She এর possessive form "her"
- They এর possessive form "their"

Source: A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১৮.
It is human nature to hanker ______ things that belong to others.
  1. to
  2. on
  3. after
  4. by
ব্যাখ্যা

Correct answer: after.
Example sentence: It is human nature to hanker after things that belong to others.
- অন্যের জিনিসের প্রতি আকাঙ্ক্ষা করা মানুষের স্বভাব।

• Hanker after/ for something:
- English Meaning: to have a strong wish for something, especially if you cannot or should not have it.
- Bangla Meaning: কোনোকিছুর জন্য অত্যন্ত লালায়িত হওয়া/ কোনো কিছুর পেছনে ছোটা।
- Example:
- 1. What did you hanker after most when you were in prison.
- 2. Even after all these years, I still hanker for a motorbike.

• আকাঙ্ক্ষা করা অর্থে Hanker এর পর to/on/by এর কোন ব্যবহার নেই।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

১৯.
It was _______ who called you.
  1. her
  2. him
  3. she
  4. hers
ব্যাখ্যা

• Correct answer: she.
- It was she who called you.


• Traditional grammar অনুযায়ী,
- Be verb (am, is, are, was, were, be, being, been) এর পর pronoun আসলে ঐ pronoun টি subjective form (I/we/he/she) হবে৷
- আবার as, if, than এদের পরেও Subjective Pronoun বসে।
- Subjective Pronoun: I, We, She, He, It, They.
- Verb এর subject হিসেবে বসে।

Source: A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

২০.
What gender is the word "Neighbor"?
  1. Masculine gender
  2. Feminine gender 
  3. Common gender
  4. Neuter gender
ব্যাখ্যা

Correct answer: Common gender.

Neighbor: (noun)
- English meaning: someone who lives near you.
- Bangla meaning: প্রতিবেশী; প্রতিবাসী; পড়শি।
- It could be anyone, male or female. তাই এটি একটি Common gender. 

• Common gender:
- Noun টি পুংবাচক বা স্ত্রীবাচক উভয়কেই বুঝালে তা Common Gender হয়।
- যেমন: Parent, Child, Baby, Sibling, Server, Monarch, Sheep, Deer, Teacher, Student, Neighbor, etc.

• Gender:
- যে সকল শব্দ দ্বারা কোন noun or pronoun এর পুরুষ, স্ত্রী বা এদের উভয়টি অথবা কোনটিই নয় বা অবচেতন পদার্থ (ক্লীব) ইত্যাদি বুঝায় তাদেরকে Gender বলে।

• Gender চার প্রকার। যথা:
- Masculine gender (পুং লিঙ্গ),
- Feminine gender (স্ত্রী লিঙ্গ),
- Common/Neutral gender (উভয় লিঙ্গ/লিঙ্গ নিরপেক্ষ),
- Neuter gender (ক্লীব লিঙ্গ).

Source: A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

২১.
x + y = 8 এবং x - y = 4 হলে, xy এর মান কত? 
  1. 11
  2. 14
  3. 13
  4. 12
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x + y = 8 এবং x - y = 4 হলে, xy এর মান কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
x + y = 8 
x - y = 4

আমরা জানি, 
xy  = {(x + y)2 - (x - y)2}/4
⇒ xy = {(8)2 - (4)2}/4
⇒ xy = (64 - 16)/4
⇒ xy = 48/4
∴ xy = 12

২২.
x > 0 এবং x2 = 4x হলে, x এর মান কোনটি?
  1. 4
  2. 1
  3. 2
  4. 6
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x > 0 এবং x2 = 4x হলে, x এর মান কোনটি?

সমাধান: 
x2 = 4x
⇒ x2 - 4x = 0
⇒ x(x - 4) = 0
হয়,
x = 0   [∴ x > 0 বলে x = 0 গ্রহণযোগ্য নয়]
অথবা,
x - 4 = 0
∴ x = 4

২৩.
50 ফুট লম্বা একটি বাঁশকে এমনভাবে কাটা হলো যেন এক অংশ অন্য অংশের 1/4 হয়। ছোট অংশটির দৈর্ঘ্য কত? 
  1. 8 ‍ফুট
  2. 10 ‍ফুট
  3. 12 ‍ফুট
  4. 15 ‍ফুট
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 50 ফুট লম্বা একটি বাঁশকে এমনভাবে কাটা হলো যেন এক অংশ অন্য অংশের 1/4 হয়। ছোট অংশটির দৈর্ঘ্য কত? 

সমাধান: 
মনে করি, 
একটি অংশ = x 
অপর অংশটি = x/4

প্রশ্নমতে, 
x + x/4 = 50
⇒ (4x + x)/4 = 50
⇒ 5x = (50 × 4) 
⇒ 5x = 200 
⇒ x = 200/5 
∴ x = 40

∴ ছোট অংশটির দৈর্ঘ্য = 40/4
= 10 ফুট।

২৪.
x2 - 5ax - 66a2 এর উৎপাদক কোনটি?
  1. (x + 6a)(x + 11a)
  2. (x - 6a)(x - 11a)
  3. (x + 6a)(x - 11a)
  4. (x - 3a)(x - 10a)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x2 - 5ax - 66a2 এর উৎপাদক কোনটি? 

সমাধান: 
x2 - 5ax - 66a2
= x2 - 11ax + 6ax - 66a2
= x(x - 11a) + 6a(x - 11a)
= (x - 11a)(x + 6a)
= (x + 6a)(x - 11a)

২৫.
যদি x + 1/x = 2 হয়, তাহলে x6 - 1/x6 এর মান কত? 
  1. 0
  2. 1
  3. - 1
  4. 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি x + 1/x = 2 হয়, তাহলে x6 - 1/x6 এর মান কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
x + 1/x = 2
বা, (x2 + 1)/x = 2 
বা, x2 + 1 = 2x 
বা, x2 - 2. x . 1 + 12 = 0
বা, (x - 1)2 = 0
বা, x - 1 = 0
∴ x = 1

এখন, 
x6 - 1/x6
= (1)6 - {1/(1)6}
= 1 - 1/1
= 1 - 1
= 0

২৬.
x2 - 2x - 15 > 0 এর সমাধান সেট কোনটি?
  1. S = {x : x > 5 অথবা x > 3} 
  2. S = {x : x > 5 অথবা x < - 3} 
  3. S = {x : x > 5 অথবা x > - 3}
  4. S = {x : x > 5 অথবা x < 3}
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x2 - 2x - 15 > 0 এর সমাধান সেট কোনটি? 

সমাধান: 
x2 - 2x - 15 > 0
⇒ x2 - 5x + 3x - 15 > 0
⇒ x(x - 5) + 3(x - 5) > 0
⇒ (x - 5)(x + 3) > 0 ............... (1) 

(1) সত্য হবে যদি (x - 5), (x + 3) উভয়েই ধনাত্মক হয়।
x - 5 > 0
∴ x > 5

এবং
x + 3 > 0
∴ x > - 3

আবার, 
(1) সত্য হবে যদি (x - 5), (x + 3) উভয়েই ঋণাত্মক হয়।
x - 5 < 0
∴ x < 5
এবং
x + 3 < 0
∴ x < - 3
কিন্তু, 
- 3 < x < 5 এর জন্য 
(x - 5)(x + 3) এর মান ঋণাত্মক হয় যা গ্রহণযোগ্য নয়। 
∴ x এর সঠিক মান হবে x > 5 অথবা x < - 3

∴ নির্ণেয় সেট S = {x : x > 5 অথবা x < - 3} । 

২৭.
(x/3) - (x/4) = (x + 1)/6 সমীকরণের সমাধান কোনটি?
  1. x = 1
  2. x = 2
  3. x = - 2
  4. x = - 1/2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: (x/3) - (x/4) = (x + 1)/6 সমীকরণের সমাধান কোনটি?

সমাধান: 
(x/3) - (x/4) = (x + 1)/6
বা, (4x - 3x)/12 = (x + 1)/6
বা, x/12 = (x + 1)/6
বা, 12x + 12 = 6x
বা, 12x - 6x = - 12
বা, 6x = - 12
বা, x = - 12/6
∴ x = - 2

২৮.
x2 - 1 - y(y - 2) এর উৎপাদক কত?
  1. (x - y - 1) (x - y + 1) 
  2. (x - y - 1) (x + y - 1)
  3. (x - y + 1) (x + y + 1) 
  4. (x + y - 1) (x - y + 1)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x2 - 1 - y(y - 2) এর উৎপাদক কত? 

সমাধান: 
x2 - 1 - y(y - 2)
= x2 - 1 - y2 + 2y 
= x2 - (y2 - 2y + 1) 
= x2 - (y - 1)2
= (x + y - 1) (x - y + 1)

২৯.
a4 + a2b2 + b4 = 8 এবং a2 + ab + b2 = 4 হলে, a2 - ab + b2 এর মান কত?
  1. 2
  2. 1
  3. 0
  4. 4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: a4 + a2b2 + b4 = 8 এবং a2 + ab + b2 = 4 হলে, a2 - ab + b2 এর মান কত?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
a4 + a2b2 + b4 = 8
a2 + ab + b2 = 4

এখন, 
a4 + a2b2 + b4 = 8
বা, (a2)2 + 2 . a2 . b2 + (b2)2 - a2 . b2 = 8
বা, (a2 + b2)2  - (ab)2 = 8
বা, (a2 + b2 + ab)(a2 + b2 - ab) = 8
বা, 4(a2 - ab + b2) = 8
বা, (a2 - ab + b2) = 8/4
∴ a2 - ab + b2 = 2

৩০.
দুই অঙ্কবিশিষ্ট কোনো সংখ্যার দশকের অঙ্কের সাথে ৩ যোগ করলে এবং এককের অঙ্ক থেকে ২ বিয়োগ করলে প্রাপ্ত সংখ্যাটি মূল সংখ্যার তিন গুণ হয়। সংখ্যাটি কত?
  1. ২৪ 
  2. ১৪
  3. ২৩ 
  4. ১৩ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুই অঙ্কবিশিষ্ট কোনো সংখ্যার দশকের অঙ্কের সাথে ৩ যোগ করলে এবং এককের অঙ্ক থেকে ২ বিয়োগ করলে প্রাপ্ত সংখ্যাটি মূল সংখ্যার তিন গুণ হয়। সংখ্যাটি কত? 

সমাধান: 
ধরি, 
দুই অঙ্কবিশিষ্ট সংখ্যার এককের অঙ্ক = x এবং 
দুই অঙ্কবিশিষ্ট সংখ্যার দশকের অঙ্ক = y 
∴ সংখ্যাটি = x + ১০y 

আবার,
নতুন সংখ্যাটির এককের অঙ্ক = x − ২ 
নতুন সংখ্যাটির দশকের অঙ্ক = y + ৩ 
∴ নতুন সংখ্যাটি = x − ২ + ১০ (y + ৩) 
= x − ২ + ১০y + ৩০ 
= x + ১০y + ২৮ 

প্রশ্নমতে, 
৩ (x + ১০y) = x + ১০y + ২৮ 
বা, ৩x + ৩০y = x + ১০y + ২৮ 
বা, ৩x − x +৩০y − ১০y = ২৮ 
বা, ২x + ২০y = ২৮ 
বা, ২ (x + ১০y) = ২৮ 
বা, x + ১০y = ২৮/২ 
∴ x + ১০y = ১৪ 

∴ সংখ্যাটি = ১৪ ।

৩১.
শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
  1. সংগীতমাধব
  2. কবিকঙ্কন
  3. কবিরাজ
  4. কবিকন্ঠহার
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন।

অন্যদিকে,
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল - কবিকঙ্কন।
• কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো - কবিকন্ঠহার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩২.
বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কথোপকথন
  2. বত্রিশ সিংহাসন
  3. রাজাবলি
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থ:
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'। এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এই গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলেঅ স্থান পেয়েছে।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ:
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র,
- লিপিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩.
সংস্কৃত ভাষায় ‘রামায়ণ’ মহাকাব্যটি কে রচনা করেন?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বাল্মীকি
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

রামায়ণ:
- রামচন্দ্রে কাহিনি এক হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল বলে মনে করা হয়।
- এ কাহিনি অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি অনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে সংস্কৃত ভাষায় ‘রামায়ণ’ মহাকাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটি সপ্তখণ্ড সাত খণ্ডে বিভক্ত।
- কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত। মধুসুদন দত্ত রামায়ণের অংশ-বিশেষ অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। সংস্কৃত রামায়ণকে পৃথিবীর আদি মহাকাব্য বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪.
‘হাসু’ - চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. আবু ইসহাক
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫.
বিদ্যাপতি কোন ভাষার পদাবলি রচনার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত?
  1. সংস্কৃত
  2. মৈথিলি
  3. ফারসি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।

৩৬.
‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ গদ্য গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের অনুশীলনের শুরুর দিকের রচনা।
- গ্রন্থটি ১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৭.
কার আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. রাজা শিবসিংহ
  2. লক্ষণ সেন
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. রাজা রাজবল্লভ
ব্যাখ্যা

‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
'অমল' চরিত্রটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. গোরা
  3. নষ্টনীড়
  4. ডাকঘর
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

'অমল' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প 'নষ্টনীড়' ও নাটক 'ডাকঘর' উভয় গ্রন্থেই রয়েছে।
অপশনে একাধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
-----------
'ডাকঘর' নাটক:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'রতন'।
• গোরা উপন্যাসের চরিত্র- গোরা, বিনয়, সুচরিতা, ললিতা, লাবণ্য।
• 'নষ্টনীড়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র চারুলতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৯.
‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

‘ভদ্রার্জুন’ নাটক:
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।
- তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বছরে প্রকাশিত নাটক।
- এটি ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- এই নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪০.
কবীন্দ্র পরমেশ্বরের অনুবাদকৃত মহাভারতকে কী বলা হয়?
  1. ভারত পাচালী
  2. পাচালী মহাভারত
  3. ছুটি খাঁনী মহাভারত
  4. পরাগলী মহাভারত
ব্যাখ্যা

পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ' পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর
  2. ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  3. ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর
  4. ১৯৪৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বে তমদ্দুন মজলিশের ভূমিকা :
→ ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বে তমদ্দুন মজলিশ অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সংগঠিত প্রতিবাদ জানায় তমদ্দুন মজলিশ। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এই সংগঠন পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে।

• ঐতিহাসিক পুস্তিকা প্রকাশ:
→ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে একটি ঐতিহাসিক পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এই পুস্তিকার সম্পাদক ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাশেম।
- এ ঐতিহাসিক পুস্তিকায় সন্নিবেশিত নিবন্ধগুলোতে এদের লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
- তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিও তুলে ধরেন।
- এই মূল পুস্তিকার মুখবন্ধে, পুস্তিকার সম্পাদক আবুল কাশেম কর্তৃক প্রণীত একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনাও ছিল বাংলা ভাষার অনুকূলে। বাংলাকে স্বীকৃতি দানের দাবির এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ ছিল নিম্নরূপঃ

১. বাংলা ভাষাই হবে:
(ক) পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন।
(খ) পূর্ব পাকিস্তানের আদালতের ভাষা এবং।
(গ) পূর্ব পাকিস্তানের অফিসের ভাষা; 

২. পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের দাপ্তরিক ভাষা হবে দুটি- বাংলা ও উর্দু;
৩.
(ক) বাংলাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের প্রথম ভাষা। পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা একশ’  জনই এ ভাষা শিক্ষা করবেন।
(খ) পূর্ব পাকিস্তানে উর্দু হবে দ্বিতীয় ভাষা বা আন্তঃপ্রাদেশিক ভাষা। যারা পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে চাকরি ইত্যাদি কাজে নিযুক্ত হবেন শুধু তারাই এ ভাষা শিক্ষা করবেন। এই ভাষা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা ৫ হতে ১০ জন শিক্ষা করলেও চলবে। মাধ্যমিক স্কুলের উচ্চতর শ্রেণিতে এই ভাষাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে শিক্ষা দেয়া হবে।
(গ) ইংরেজি হবে পাকিস্তানের তৃতীয় ভাষা বা আন্তর্জাতিক ভাষা। পাকিস্তানের কর্মচারী হিসেবে যারা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে চাকরি করবেন বা যারা উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষায় নিয়োজিত হবেন তারাই শুধু ইংরেজি শিক্ষা করবেন। তাদের সংখ্যা পূর্ব পাকিস্তানে হাজার, করা একজনের চেয়ে কখনও বেশি হবে না। ঠিক এই নীতি হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোতে (স্থানীয় ভাষার দাবি না উঠলে) উর্দু প্রথম ভাষা, বাংলা দ্বিতীয় ভাষা আর ইংরেজি তৃতীয় ভাষার স্থান অধিকার করবে।
৪. শাসন কাজ ও বিজ্ঞান শিক্ষার সুবিধার জন্য আপাতত কয়েক বছরের জন্য ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষাতেই পূর্ব পাকিস্তানের শাসন কাজ চলবে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনানুযায়ী বাংলা ভাষায় সংস্কার করতে হবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২.
১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন কে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. ফিরোজ খান
  3. টিক্কা খান
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন
→ ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করেন।
→ তিনি দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
→ তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন।
→ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন।
→ মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
→ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
→ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে।
→ মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
→ এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৩.
জুলাই গণহত্যা সংক্রান্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে কোন সংস্থা?
  1. Human Rights Watch
  2.  Amnesty International
  3. UNDP
  4. OHCHR
ব্যাখ্যা

→ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) সংস্থাটি বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য একটি তথ্যানুসন্ধানকারী দল পাঠায়। এই দলটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে OHCHR একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

→ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে ওএইচসিএইচআর বাংলাদেশে এসে ওই তদন্ত করেছিলো।

• জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদনে  উল্লেখ করা হয়েছে:

→ বাংলাদেশে গত জুলাই-অগাস্টে প্রায় ১৪০০ জনের মতো নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে রাইফেল ও শটগানের গুলিতে। ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

→ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

উৎস: বিবিসি।

৪৪.
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে কে ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. বেগম খালেদা জিয়া
  2. হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ 
  3. শেখ হাসিনা
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ক্ষমতাচ্যুত হন- জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ।

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
একুশের চেতনা নিয়ে নির্মিত প্রথম সিনেমা কোনটি?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. আবার তোরা মানুষ হ
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. ওরা ১১ জন
ব্যাখ্যা

- একুশের চেতনা নিয়ে নির্মিত প্রথম সিনেমা জীবন থেকে নেয়া।
- সিনেমাটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান।
- এতে অভিনয় করেন রাজ্জাক, সুচন্দা, আনোয়ার হোসেন, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান ও রওশন জামিল।
- এ ছবির চিত্রগ্রাহক আফজাল চৌধুরী।
- চলচ্চিত্রের গানগুলোয় সুরারোপ করেন খান আতাউর রহমান।
- জীবন থেকে নেয়া সিনেমার পরিবেশক আনিস ফিল্ম। মুক্তি পায় ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল।
- এই চলচ্চিত্রে এক গৃহকর্ত্রীর স্বেচ্ছাচারী ভূমিকার মাধ্যমে পাকিস্তানি স্বৈরতন্ত্রকে তুলে ধরা হয়েছে।

 অন্যদিকে,
- শ্যামল ছায়া, ওরা ১১ জন বাংলাদেশী যুদ্ধভিত্তিক নাট্য চলচ্চিত্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং প্রথম আলো।

৪৬.
‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় কত তারিখ?
  1. ২৯ জুলাই ২০২৪
  2. ৩০ জুলাই ২০২৪
  3. ৩১ জুলাই ২০২৪
  4. ১ আগস্ট ২০২৪
ব্যাখ্যা

'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি:

→ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা ও গুমের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই বুধবার সারাদেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

→ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের রাত সোয়া ১১টার দিকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

→ কর্মসূচির ঘোষণায় বলা হয়, ‘সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা, গুম-খুনের প্রতিবাদে ও জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্তপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং ছাত্রসমাজের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে আগামীকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করা হবে।’ 


⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে।
- ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

৪৭.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয় কী কেন্দ্র করে?
  1. শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে
  2. কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে
  3. ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে
  4. ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে
ব্যাখ্যা

• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান :
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন দানা বাঁধে, তা একসময় ছড়িয়ে পড়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক দুর্বার আন্দোলন, যা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হিসেবে পরিচিত।
- আইয়ুব খানের পতনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের দুই অংশের মানুষ প্রথমবারের মতো একসাথে আন্দোলনে নামে। 
- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালের সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
-  ৮ই ডিসেম্বর প্রধান বিরোধী দলগুলোর ডাকে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১০ই ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ 'নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস' পালন করে।
- ২৯শে ডিসেম্বর ঘেরাও আন্দোলনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আওয়ামী লীগের ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- উনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এই ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী।
- ফলে দ্রুত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এরপর থেকে 'ডাকসু' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- ডাকসুর আহ্বানে ১৪ই জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৮ই জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট পালন করে।
- ধর্মঘট চলাকালীন পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
- ২০শে জানুয়ারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন। হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।   
 - আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষিত হয়।
- ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৮.
মুক্তিযুদ্ধকালীন আকবর বাহিনী কোন অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিলো?
  1. মাগুরা
  2. টাঙ্গাইল
  3. বরিশাল
  4. গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা

আকবর বাহিনী শ্রীপুর, মাগুরার একটি স্থানীয় মুক্তিবাহিনী।
- আকবর বাহিনীর প্রধান ছিলেন আকবর হোসেন মিয়া।
- যুদ্ধের শুরুতে মাত্র কয়েকটি ৩০৩ রাইফেল, ১টি চাইনিজ রাইফেল ও কয়েক রাউন্ড গুলির ওপর নির্ভর করে বাহিনী গড়ে ওঠে।
- যুদ্ধ চলাকালে এ বাহিনী ‘আকবর বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়।
- আকবর হোসেন মিয়া ১৯২৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম গোলাম কাদের মিয়া এবং মাতার নাম নবেজান খাতুন।
- তিনি ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।
- ১৯৫১ সালে তিনি রয়েল পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।
- পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ১৯৫৪ সালে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।
- ২৪শে এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী মাগুরা শহর দখল করলে আকবর হোসেন মিয়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শ্রীপুরে স্থানান্তর করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য একটি বাহিনী গড়ে তোলেন।
- শ্রীপুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এ বাহিনী এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে থাকে।
- এ বাহিনীতে ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের মোট ১২৮ জন এবং সাধারণ পরিবার থেকে আসা হাজারেরও বেশি যোদ্ধা ছিলেন।
- এ বাহিনীর যোদ্ধারা শ্রীপুর, বালিয়াকান্দি, শৈলকুপা, পাংশা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী অর্থাৎ ঝিনাইদহের গাড়াগঞ্জ থেকে ফরিদপুরের গোয়ালন্দ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাঁদের দখলে এনেছিলেন।
- অধিনায়ক আকবর হোসেন মিয়ার দক্ষ নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য সফল অভিযান চালানো হয়েছিল। সেসব অভিযানের মধ্যে শ্রীপুর থানা দখল, শৈলকুপা থানা দখল,

• মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক বাহিনী:

- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত। ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলারা।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক।

৪৯.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়?
  1. এককেন্দ্রিক ব্যবস্থা
  2. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা
  3. সামরিক ব্যবস্থা
  4. সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য

→ বৃহৎ শাসনতন্ত্র: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের প্রথম পরিচয় হল এটি ছিল একটি বৃহৎ শাসনতন্ত্র। মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা (Preamble), ১৩টি অংশ (Part), ২৩৪টি বিধি (Article) এবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল। এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল। সুতরাং এ শাসনতন্ত্র ছিল আয়তনে বড়।

→ লিখিত শাসনতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র ছিল লিখিত প্রকৃতির।

→ ইসলামী আদর্শ: ইসলামি আদর্শ ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল মূলত একটি ইসলামি আদর্শ ভিত্তিক শাসনতন্ত্র। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামে আখ্যায়িত করা হয়। এর প্রস্তাবনায় ইসলামি সাম্য, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার নীতি অনুসৃত হয়।

→ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়। এ শাসনতন্ত্রে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনুসরণ করা হয়।

→ প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়। রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।

→  সংসদীয় ব্যবস্থা: সংসদীয় ব্যবস্থা ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানে সংসদীয় শাসন প্রবর্তনের বিধান রাখা হয়। আরও বলা হয় যে, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা হবে প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। শাসনতন্ত্র মতে মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী থাকত।

→ মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি: এ শাসনতন্ত্রে জনগণের মৌলিক অধিকারের উল্লেখ ছিল। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে আদালতের প্রয়োজনীয় ভূমিকার কথা স্বীকার করা হয়।

→  এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কেন্দ্র ও প্রদেশে এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করে। এ শাসনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয় যে, পাকিস্তানের আইনসভা হবে এক কক্ষবিশিষ্ট। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সমস্যা সমাধান ও আলোচনার জন্য এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার বিধান রাখা হয়।

→  বিচার বিভাগের প্রাধান্য: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে বিচার বিভাগের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
এ শাসনতন্ত্রের বিচার বিভাগের প্রাধান্য স্বীকৃতি পায়। আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিচার বিভাগই ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান কবচ। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগের প্রাধান্য স্বীকার করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫০.
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের  নির্বাচনী ইশতেহার ছিল-
  1. ৬ দফা
  2. ২১ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ১৮ দফা
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্টের -২১ দফা ছিল নির্বাচনী ইশতেহার ।
 নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

- প্রধান দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা;
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা:
৩. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রর্বতন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১.
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. আবু ধাবি
  2. রিয়াদ
  3. দোহা
  4. মানামা
ব্যাখ্যা

Gulf Cooperation Council (GCC):
- Gulf Cooperation Council হলো পারস্য উপসাগর তীরবর্তী আরব উপদ্বীপের দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক জোট।
- গঠিত হয়: ২৫মে, ১৯৮১ ।
- সদরদপ্তর: রিয়াদ, সৌদি আরব।
- বর্তমান মহাসচিব: জাসেম মোহাম্মদ আল বুদাইউই।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ৬টি (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান)।
- GCC সদস্য দেশগুলো একে অপরের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ট্যুরিজম এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করে থাকে।
- প্রধান উদ্দেশ্য: অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। 

উৎস: Gulf Cooperation Council ওয়েবসাইট।

৫২.
'পৃথিবীর কারখানা’ বলা হয় কোন দেশকে?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. দক্ষিণ কোরিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর কারখানা:
- চীনকে 'পৃথিবীর কারখানা' (Factory of the World) বলা হয়।

• চীনকে বলা হয় ‘বিশ্বের কারখানা'।
- কারণ দেশটির বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হয় ছোট-বড় নানান পণ্য। এগুলো সারা বিশ্বে রপ্তানি করা হয়।
- ১৯৭৬ সালে মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর কয়েক দশকের মধ্যে চীনে অনেক কারখানা গড়ে ওঠে। সেগুলোই চীনের প্রবৃদ্ধির কারণ ছিল। 
- কম উৎপাদন খরচ, দক্ষ শ্রমিক, উন্নত অবকাঠামো এবং বিশাল উৎপাদন ক্ষমতার কারণে চীন বিশ্বব্যাপী উৎপাদনে আধিপত্য বিস্তার করে।

উল্লেখ্য,
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শিল্প বিপ্লবের সময় ইংল্যান্ডকে প্রথম বিশ্বের কারখানা হিসেবে গণ্য করা হতো।

উৎস: i) The Economist.
ii) Investopedia.

৫৩.
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর কোনটি?
  1. সাংহাই
  2. সিঙ্গাপুর
  3. রটারডাম
  4. দুবাই
ব্যাখ্যা

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর:
- বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর হলো চীনের সাংহাই বন্দর।

• বিশ্ব বাণিজ্য মহাদেশ জুড়ে পণ্যের বিশাল প্রবাহ পরিচালনার জন্য দক্ষ এবং সুসংযুক্ত সমুদ্রবন্দরগুলির উপর নির্ভর করে। বিশ্বের বৃহত্তম বন্দরগুলি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, বার্ষিক লক্ষ লক্ষ কন্টেইনার প্রক্রিয়াজাত করে এবং কাঁচামাল, তৈরি পণ্য এবং প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকে সহজতর করে। এই বন্দরগুলি বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি এবং শিপিং খরচকে প্রভাবিত করে।
- ইয়াংজি নদীর মোহনায় অবিস্তত সাংহাই বন্দরটির আয়তন ৩ হাজার ৬১৯ বর্গ কিলোমিটার।  
- এই পরিচালনা করে সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট গ্রুপ (এসআইপিজি)। 
- এই বন্দরে মাসে প্রায় দুই হাজার কন্টেইনার জাহাজ আসা-যাওয়া করে। চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের একচতুর্থাংশ এই বন্দর দিয়েই পরিচালিত হয়।
- একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শিপিং হাব হিসেবে, সাংহাই বন্দর চীনা নির্মাতাদের এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বাজারের সাথে সংযুক্ত করে।

⇒ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর:
১. সাংহাই বন্দর, চীন। 
২. সিঙ্গাপুর বন্দর, সিঙ্গাপুর। 
৩. নিংবো-ঝোশান বন্দর, চীন। 
৪. শেনজেন বন্দর, চীন। 
৫. কিংডাও বন্দর, চীন। 

উৎস: i) FREIGHTS LOGISTICS ওয়েবসাইট।
ii) World Shipping Council ওয়েবসাইট।

৫৪.
কাস্পিয়ান সাগর আসলে কী ধরনের জলাশয়?
  1. হ্রদ
  2. প্রণালী
  3. উপসাগর
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা

কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- এটি এশিয়া এবং ইউরোপের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।
- প্রধান নদী: ভলগা, ইউরাল, কুরা ও তেরেক নদী এতে পানি সরবরাহ করে।

উল্লেখ্য,
- এটি পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান। এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।

উৎস: World Atlas.

৫৫.
আরব উপদ্বীপের সর্ববৃহৎ দেশ কোনটি?
  1. সৌদি আরব 
  2. ইয়েমেন 
  3. ওমান
  4. সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা

আরব উপদ্বীপ:
- বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ হলো আরব উপদ্বীপ। 
- এটি এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে এবং আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ আরব অঞ্চল। এর পূর্বদিকে আরব উপসাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর, উত্তর-পশ্চিমে এডেন উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগর অবস্থিত।
- এর আয়তন ১,২৫০,০০৬ বর্গ মাইল। 
- আরব উপদ্বীপের দেশগুলো হলো সৌদি আরব, ইয়েমেন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইন।

উল্লেখ্য,
- আরব উপদ্বীপের সর্ববৃহৎ দেশ হলো সৌদি আরব। এটি উপদ্বীপটির প্রায় ৮০% এলাকা জুড়ে অবস্থিত এবং এর আয়তন প্রায় ২১,৫০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। এটি মধ্যপ্রাচ্যেরও বৃহত্তম দেশ এবং এশিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম দেশ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: World Atlas.

৫৬.
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় কত শতাংশ তেল পরিবহন হয়?
  1. ১০%
  2. ২০%
  3. ৩০%
  4. ৪০%
ব্যাখ্যা

হরমুজ প্রণালী:
- পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে জাহাজ প্রবেশের একমাত্র সমুদ্রপথ হলো হরমুজ প্রণালী। এর এক পাশে অবস্থিত আরব দেশগুলো, যাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্রসমূহ, এবং অন্য পাশে রয়েছে ইরান।
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় তেল রপ্তানি করা হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল যায় এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অন্যান্য জায়গায়।
- মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের মতে, বিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংস্থাটি একে বিশ্বের 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলবাহী চোকপয়েন্ট' হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

উল্লেখ্য,
- বৈশ্বিক তেল–বাণিজ্যের অপরিহরণীয় পথ হচ্ছে হরমুজ প্রণালি। 
- ইরানের উপকূলঘেঁষা এই চ্যানেলের মাধ্যমে জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর সংযুক্ত হয়েছে। শুধু ইরানই নয়, পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে এ পথের ওপর।
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) এক প্রতিবেদন অনুসারে, এ পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যের যা প্রায় ২১ শতাংশ।
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

৫৭.
‘সিলিকন ভ্যালি’ কোন শিল্পের জন্য বিখ্যাত?
  1. ইস্পাত
  2. অটোমোবাইল
  3. বস্ত্র
  4. তথ্যপ্রযুক্তি
ব্যাখ্যা

সিলিকন ভ্যালি:
- ‘সিলিকন ভ্যালি’ তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য বিখ্যাত।

• সিলিকন ভ্যালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি ও হাই-টেক শিল্পের কেন্দ্রস্থল।
- সিলিকন ভ্যালি মূলত উন্নত প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, এবং বিশ্বখ্যাত সব টেক জায়েন্ট (যেমন: অ্যাপল, গুগল, মেটা) প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিখ্যাত।
- এটি মূলত সিলিকন-ভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর, মাইক্রোপ্রসেসর ও কম্পিউটার প্রযুক্তি শিল্পের জন্য পরিচিত, যা বর্তমানে সফটওয়্যার, ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দিচ্ছে।
- বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করা হয় সরাসরি সিলিকন ভ্যালি থেকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৯ সালে আমেস রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আবাসভূমি হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সাংবাদিক ডন হফলার তিন পর্বের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম ছিল ‘সিলিকন ভ্যালি ইউএসএ’।
- পরবর্তী সময়ে এই নামেই পরিচিত হয় বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির স্বর্গ হিসেবে। 

উৎস: Britannica.

৫৮.
ডুরান্ড লাইন কোন দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমারেখা?
  1. আফগানিস্তান-পাকিস্তান
  2. ইরান-ইরাক
  3. মিয়ানমার-থাইল্যান্ড
  4. রাশিয়া-চীন
ব্যাখ্যা

ডুরান্ড লাইন: 
- ডুরান্ড লাইন আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সীমান্তে অবস্থিত একটি সীমান্তরেখা যা দুইটি দেশের সীমারেখা নির্দেশ করে।
- এ রেখাটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে প্রায় ২,৬৭০ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক স্থল সীমান্ত।
- এর পশ্চিম প্রান্তটি ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত এবং পূর্ব প্রান্তটি চীনের সীমান্ত পর্যন্ত চলে গেছে।

উল্লেখ্য,
- তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের একজন ব্রিটিশ কূটনৈতিক মার্টিমার ডুরান্ড ও আফগান রাজা আমীর আবদুর রহমান খান তাদের নিজ নিজ দেশের সীমা নির্ধারণের জন্য ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারত ও আফগানিস্তানের আমিরাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে ডুরান্ড লাইন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তখন থেকে আফগানিস্তান ও ব্রিটিশ ভারতের সীমানা ডুরাল্ড লাইন থেকে নির্ধারিত হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) WorldAtlas.

৫৯.
শিন্তো ধর্ম প্রধানত কোন দেশে প্রচলিত?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. দক্ষিণ কোরিয়া
  4. ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা

শিন্তো ধর্ম:
- শিন্তো (Shinto) হলো জাপানের আদিবাসী ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশীলন।
- এটি জাপানের জাতীয় ধর্ম হিসেবে বিবেচিত হয় এবং জাপানের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, উৎসব, মন্দির (জিঙ্গু/শ্রাইন) এবং দৈনন্দিন জীবনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে শিন্তো ধর্মের এমন ব্যাপক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচলন নেই।
- শিন্তো শব্দটির আক্ষরিক অর্থ "কামির পথ" (সাধারণত পবিত্র বা ঐশ্বরিক শক্তি, বিশেষ করে বিভিন্ন দেবতা বা দেবতা)।
- বৌদ্ধধর্ম থেকে আদিবাসী জাপানি বিশ্বাসকে আলাদা করার জন্য এই ধর্ম ব্যবহৃত হয়েছিল।
- এটি ষষ্ঠ শতাব্দীতে জাপানে প্রবর্তিত হয়েছিল।

উৎস: Britannica.

৬০.
‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ’ কোনটি?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. নিউ গিনি
  3. গ্রিনল্যান্ড 
  4. বোর্নিও
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড যা ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল। এটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ।
- এর অবস্থান কানাডা এবং আইসল্যান্ডের মাঝে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- আয়তনে এটি মূল ডেনমার্কের চেয়ে প্রায় ৫০ গুন বড়।
- রাজধানী: নুউক।
- গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এস্কিমো হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ হচ্ছে আদিবাসী ইনুইট সম্প্রদায়ের।
- গ্রীনল্যান্ডের ৮০ শতাংশ এলাকা বরফে ঢাকা।

• বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ:
১. গ্রিনল্যান্ড,
২. নিউ গিনি,
৩. বোর্নিও,
৪. মাদাগাস্কার,
৫. বাফিন।
 
উৎস: Britannica.