পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৭ বাংলা - ব্যাকরণ বাংলা ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধান, সমাস।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) ভাই - বোন
  2. খ) চুন - কালি
  3. গ) আদান - প্রদান
  4. ঘ) লোক - জন
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে। 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ৷ 

• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে একত্র বা মিলন বা সম্পর্ক বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: মা-বাবা, ভাই - বোন, ছেলে-মেয়ে, নানা-দাদা, কাগজ-কলম, নদী-নালা, নাচ-গান, চা-বিস্কুট, চুন-কালি, ঝড়-বৃষ্টি, আদান-প্রদান, হাসি-ঠাট্টা, বিদ্যা-বুদ্ধি ইত্যাদি। 

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ-পরপদ একই অর্থ বা প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি, সমাজ-সংস্কার, ঘর-বাড়ি, নদ-নদী, হাট-বাজার, বই-পুস্তক, চোর-ডাকাত, কুলি-মজুর, খাল- বিল, টাকা-কড়ি, ধন-দৌলত, জন-মানব, বন-জঙ্গল, বন্ধু-বান্ধব, ভাগ-বাটোয়ারা, চালাক-চতুর, লোক-জন, আপদ-বিপদ ইত্যাদি।

⇒ 'লোক-জন' মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয়। 
- এটি সমার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোন ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান হয়?
  1. ক) ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে
  2. খ) ত-বর্গীয় বর্ণের যুক্তাক্ষরে
  3. গ) সমাসবদ্ধ শব্দে
  4. ঘ) বিদেশি শব্দের বানানে
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে।
- এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযােজ্য নয়:
- সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন হয়। যেমন-ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
- ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনাে (ণ) হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়ােজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'নির্বিঘ্ন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) অব্যয়ীভাব সমাস
  4. ঘ) নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন:
- নির্বিঘ্ন = বিঘ্নের অভাব, 
- নিরামিষ = আমিষের অভাব, 
- গরমিল = মিলের অভাব,  
- জানু পর্যন্ত লম্বিত ('পর্যন্ত' শব্দের অব্যয় 'আ')= আজানুলম্বিত (বাহু),

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববদ্যালয়। 
.
বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) আয়তলোচনা
  3. গ) ধীরবুদ্ধি
  4. ঘ) অলৌকিক
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস: 
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা:
- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- এখানে ‘বহু’ কিংবা ‘ব্রীহি’ কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে। 
- বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

যথা:
- আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী),
- মহান আত্মা যার মহাত্মা,
- স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা,
- নীল বসন যার = নীলবসনা,
- স্থির প্রতিজ্ঞা যার = স্থিরপ্রতিজ্ঞ,
- ধীর বুদ্ধি যার = ধীরবুদ্ধি। 

⇒ অলৌকিক বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ নয়। 
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: অলৌকিক, অসাধ্য, নাতিশীতোষ্ণ ইত্যদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। 
.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) পোষ্ট
  2. খ) মাষ্টার
  3. গ) অগ্নিষাৎ
  4. ঘ) ভূমিসাৎ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: 
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন: পোস্ট, মাস্টার, জিনিস, পোশাক ইত্যাদি।

- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্ৰত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন- ভূমিসাৎ, ধুলিসাৎ, অগ্নিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'জ্ঞানশূন্য' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা।

- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- এক দ্বারা উন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

- উপকরণবাচক বিশেষ্য পদ পূর্বপদে বসলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- স্বর্ণ দ্বারা মণ্ডিত = স্বর্ণমণ্ডিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
.
উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে বলে -
  1. ক) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলা হয়।

যেমন:
- চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ,
- কর কমলের ন্যায় = করকমল,
- সোনার মতো মুখ = সোনামুখ।

উপমিত কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য:
- এ সমাসের ব্যাসবাক্যের দুটি পদই বিশেষ্য হয়।
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে সমাস হয়।
- উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
- এ সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) উত্তরায়ণ
  2. খ) নারায়ন
  3. গ) ত্রিনয়ন
  4. ঘ) পরনিন্দা
ব্যাখ্যা
• উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়। 
যেমন:
- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ,
- পর + অয়ন = পরায়ণ,
- রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ,
- চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ,
- নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি। 

• সমাসসাধিত শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না এক্ষেত্রে 'ন' হয়। 
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, অগ্রনায়ক, পরনিন্দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের ক্ষেত্রে সত্য নয়?
  1. ক) উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের সমাস হয়।
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি বিশেষণ পদ থাকে।
  3. গ) উপমান কর্মধারয় সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উপস্থিতি আবশ্যক।
  4. ঘ) উপমান কর্মধারয় সমাসে দুই পদের অর্থের প্রাধান্য পায়।
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
- উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি বিশেষণ পদ থাকে এবং কোনো উপমেয় পদের উল্লেখ থাকে না।

যেমন:
- শশকের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল। 

উপমান কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য:
• উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের সমাস হয়।
- যেমন: রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল।
- এখানে 'লাল' সাধারণ ধর্ম।

• উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি বিশেষণ পদ থাকে।
- যেমন- দুগ্ধের ন্যায় ধবল।
- এখানে 'ধবল' হচ্ছে বিশেষণ।

• উপমান কর্মধারয় সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উপস্থিতি আবশ্যক।
- যেমন: মিশির মতো কালো।
- এখানে 'কালো' হলো সাধারণ ধর্ম।

⇒ উপমান কর্মধারয় সমাসে দুই পদের অর্থের প্রাধান্য পায়। - এটি সত্যি নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) উষ্ণ
  2. খ) বর্ননা
  3. গ) ঘণ্টা
  4. ঘ) ঋণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান: 
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- 'ট' বর্গীয় ধ্বনির পরে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) নির্নিমেষ
  2. খ) পরিবহণ
  3. গ) প্রবণ
  4. ঘ) প্রনত
ব্যাখ্যা
• পরি, প্র, নির - এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। 

যেমন-
- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। 
- ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নদী - নালা
  2. খ) দেশে - বিদেশে
  3. গ) নানা - দাদা
  4. ঘ) বন্ধু - বান্ধব
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে। 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ৷ 

• অলুক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
- যেমন: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৩.
'বিড়ালচোখী' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: 
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।

যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
'মাতাপিতা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিগু সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে। 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৫.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়নি?
  1. কঙ্কণ
  2. ব্যাকরণ
  3. লাবণ্য
  4. গৌণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান: 
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়:
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।