পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

পরীক্ষাব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
Exam - 61 Daily Quiz: Bangla: Topic: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত। (লেখকদের জীবনী, গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তারিত, ছদ্মনাম, উপাধী ইত্যাদি)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন' তাঁর রচিত কোন প্রবন্ধে?
  1. শিক্ষাসংস্কার
  2. শিক্ষা ও সংস্কৃতি
  3. শিক্ষার হেরফের
  4. শিক্ষার মিলন
ব্যাখ্যা
• "শিক্ষার হেরফের" প্রবন্ধ:
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ 'শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক প্রবন্ধটি রচনা করেন।
- প্রবন্ধটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
- পরবর্তীতে প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ "শিক্ষা" নামক প্রবন্ধ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লেখেন-
শিক্ষার হেরফেরনামক প্রবন্ধ যখন লিখিত হয় তখন মনে করি নাই যে, বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রুটি প্রদর্শনে কাহারো হৃদয়ে আঘাত লাগিবে। বিশেষত উক্ত প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্মুখেই পঠিত হয়। সেখানে রাজশহী কলেজের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁহারা কেহ কোনোরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাই; বরং যতদূর জানা গিয়াছিল অনেকেই অনুকূলভাবে লেখকের মতের অনুমোদন করিয়াছিলেন।

অবশেষে উক্ত প্রবন্ধ সাধনায় প্রকাশিত হইলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী পাঠক উহা ইংরেজিতে অনুবাদ করিবার জন্য ঔৎসুক্য প্রকাশ করেন এবং কলেজের অনেক পুরাতন ছাত্রের নিকট উহার ঐকমত শুনা যায়। বঙ্কিমবাবু, গুরুদাসবাবু এবং আনন্দমোহন বসু মহাশয় তৎসম্বন্ধে যে-পত্র লিখিয়াছিলেন তাও পাঠকগণ অবগত আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি যাঁহাদের হৃদয়নিকুঞ্জে প্রিয়স্থান অধিকার করিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্ভুক্ত লোকের মুখে তাহার কোনোরূপ অমর্যাদার কথা শুনিলে তাঁহাদের মধ্যে কাহারো মনক্ষোভ উপস্থিত হইতে পারে সন্দেহ নাই, তাহাদের অতএব বর্তমান আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া আমি আমার পক্ষে দুর্ভাগ্য বিবেচনা করি। কেবল, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁহারা যাঁহারা গৌরবস্থল এমন অনেক মহোদয়ের উৎসাহবাক্যে আমি নিজের লজ্জা নিবারণে সক্ষম হইতেছি।

উৎস: 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
.
মধুসূদন দত্ত পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রথম ব্যবহার করেন কোন গ্রন্থে?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. পদ্মাবতী
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. হেক্টরবধ
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসুদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

• পরের বছর ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনি নিয়ে একই ছন্দে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'। এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য। এই কাব্যের মাধ্যমেই তিনি মহাকবির মর্যাদা লাভ করেন এবং তাঁর নব আবিষ্কৃত অমিত্রাক্ষর ছন্দও বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

• হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।

উৎস: 'পদ্মাবতী' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"কপোতাক্ষ নদ" মধুসূদন দত্তের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• "কপোতাক্ষ নদ" কবিতা:
- বাংলা কাব্য-সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' নামক সনেট কাব্য থেকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি সঙ্কলিত হয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।

- ফ্রান্সে বসে দেশের নদী কপোতাক্ষের কথা কবির মনে পড়ে। বহু দেশের বিচিত্র নদী কবি দেখেছেন। কিন্তু ওই নদীর তুলনা আর কোথাও পাননি। 

- এ কবিতায় কবির শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের প্রতি ভালোবাসার অন্তরালে স্বদেশপ্রেমের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সাময়িক মোহে পাশ্চাত্য সাহিত্যে আত্মপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে প্রবাস জীবনে স্বদেশের প্রতি অনুরাগের স্বরূপ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কবির আকূল আকুতি কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করে।

কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো:

কপোতাক্ষ নদ
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে!
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;
সতত (যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"দুইবোন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• "দুইবোন" উপন্যাস:
- 'দুইবোন' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস। ১৯৩২-১৯৩৩ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় বের হয়।

- শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে। উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শশাঙ্ক,
- শর্মিলা,
- ঊর্মিলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে কী নামে পরিচিত?
  1. সনেটের কবি
  2. ছন্দকবি
  3. মধুকবি
  4. ট্র্যাজেডি কবি
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তাঁর কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

• উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতাটি কোন উপন্যাসের শেষে উধৃত হয়েছে?
  1. গোরা
  2. শেষের কবিতা
  3. ঘরে-বাইরে
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
• "শেষের কবিতা" উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।

- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে। নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।

- এই গ্রন্থ সম্পর্কে সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'

- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।

উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন:
• ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
• পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে। দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।
• মেনে নেওয়া আর মনে নেওয়া, এই দুইয়ের তফাৎ আছে।

উৎস: "শেষের কবিতা" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যে?
  1. বীরঙ্গনা কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• "মেঘনাদবধ কাব্য":
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' মধুসূদন রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।

- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য। এই কাব্যের মাধ্যমেই তিনি মহাকবির মর্যাদা লাভ করেন এবং তাঁর নব আবিষ্কৃত অমিত্রাক্ষর ছন্দও বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: "মেঘনাদবধ কাব্য" এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা-
  1. প্রকৃতির খেদ
  2. কবি-কাহিনী
  3. হিন্দুমেলার উপহার
  4. অভিলাষ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১২৮১ সনের (১৮৭৪) অগ্রহায়ণ মাসে (কারও কারও মতে প্রথম কবিতা ‘ভারতভূমি’ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

• তাঁর দ্বিতীয় মুদ্রিত কবিতা ‘প্রকৃতির খেদ’ (১৮৭৫)। এ দুটি কবিতা তিনি পড়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির বিদ্বজ্জন সভায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৮৭৪ সালের গোড়ার দিকে ঠাকুরবাড়ির মনীষীরা বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক, সংবাদপত্র-সম্পাদকসহ বিদগ্ধজনদের আহবান করে ‘বিদ্বজ্জন সমাগম’ নামে এক সাহিত্য সম্মিলনীর আয়োজন করেন। দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ছিলেন সম্মিলনীর উদ্যোক্তা।

• জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় তাঁর বনফুল এবং ভারতী পত্রিকায় 'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।

• জ্ঞানাঙ্কুর সাহিত্যপত্রে সেকালের বিখ্যাত লেখকদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ স্থান পেয়েছিলেন। এর অন্যতম কারণ হিন্দুমেলায় পঠিত তাঁর কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’। যে স্বদেশিচেতনা দেবেন্দ্রনাথের পরিবারে সহজেই বিকাশ লাভ করেছিল, তারই আনুকূল্যে প্রবর্তিত হয় হিন্দুমেলা। বাঙালির জাতীয় চেতনার উন্মেষ ও বিকাশের ইতিহাসে হিন্দুমেলা বিশেষভাবে স্মরণীয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কবিতা?
  1. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  2. অনধিকার প্রবেশ
  3. জুতা আবিষ্কার
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• 'জুতা আবিষ্কার' কবিতা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কল্পনা' কাব্য থেকে 'জুতা আবিষ্কার' কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে।
- ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গই কবিতাটির মূল উপজীব্য।

কবিতাটির মূলভাব:
রাজা তাঁর মন্ত্রীদের রাজ্য থেকে ধুলাবালি দূর করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীরা রাজ্যের ধুলাবালি ঝাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে রাজ্য ধুলোয় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। রাজার আদেশ মানতে গিয়ে রাজ্যের সভাসদ কোনো উপায় যেন খুঁজে আর পান না। অবশেষে রাজ্যেরই এক বয়স্ক চর্মকার নিজ বুদ্ধিতে রাজার পদযুগল চামড়া দিয়ে ঢেকে দেয়। এভাবে রাজার পা ধুলার স্পর্শ থেকে মুক্তি পায়। সাধারণ সমস্যার সমাধান সাধারণ বুদ্ধিতেই করতে হয়। জটিলভাবে করতে গেলে বিড়ম্বনাই বাড়ে। সমস্যা সমাধানে পদস্থ জনই যে অনিবার্য তাও নয়। সাধারণের দ্বারাও অসাধারণ কৃত্য সম্পাদিত হতে পারে। কবিতায় তাই মূর্ত হয়ে উঠেছে।

কবিতাটি সংক্ষেপে-

জুতা-আবিষ্কার
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কহিলা হবু, 'শুন গো গোবুরায়,
কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র-
মলিন ধুলা লাগিবে কেন পায়
ধরণী-মাঝে চরণ-ফেলা মাত্র!
তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি,
রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি।
আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি,
রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি!
শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার,
নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।'

অন্যদিকে, 
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, অনধিকার প্রবেশ ও ক্ষুধিত পাষাণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।