১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন' তাঁর রচিত কোন প্রবন্ধে?
ব্যাখ্যা
• "শিক্ষার হেরফের" প্রবন্ধ:
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ 'শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক প্রবন্ধটি রচনা করেন।
- প্রবন্ধটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
- পরবর্তীতে প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ "শিক্ষা" নামক প্রবন্ধ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লেখেন-
শিক্ষার হেরফেরনামক প্রবন্ধ যখন লিখিত হয় তখন মনে করি নাই যে, বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রুটি প্রদর্শনে কাহারো হৃদয়ে আঘাত লাগিবে। বিশেষত উক্ত প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্মুখেই পঠিত হয়। সেখানে রাজশহী কলেজের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁহারা কেহ কোনোরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাই; বরং যতদূর জানা গিয়াছিল অনেকেই অনুকূলভাবে লেখকের মতের অনুমোদন করিয়াছিলেন।
অবশেষে উক্ত প্রবন্ধ সাধনায় প্রকাশিত হইলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী পাঠক উহা ইংরেজিতে অনুবাদ করিবার জন্য ঔৎসুক্য প্রকাশ করেন এবং কলেজের অনেক পুরাতন ছাত্রের নিকট উহার ঐকমত শুনা যায়। বঙ্কিমবাবু, গুরুদাসবাবু এবং আনন্দমোহন বসু মহাশয় তৎসম্বন্ধে যে-পত্র লিখিয়াছিলেন তাও পাঠকগণ অবগত আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি যাঁহাদের হৃদয়নিকুঞ্জে প্রিয়স্থান অধিকার করিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্ভুক্ত লোকের মুখে তাহার কোনোরূপ অমর্যাদার কথা শুনিলে তাঁহাদের মধ্যে কাহারো মনক্ষোভ উপস্থিত হইতে পারে সন্দেহ নাই, তাহাদের অতএব বর্তমান আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া আমি আমার পক্ষে দুর্ভাগ্য বিবেচনা করি। কেবল, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁহারা যাঁহারা গৌরবস্থল এমন অনেক মহোদয়ের উৎসাহবাক্যে আমি নিজের লজ্জা নিবারণে সক্ষম হইতেছি।
উৎস: 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ 'শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক প্রবন্ধটি রচনা করেন।
- প্রবন্ধটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
- পরবর্তীতে প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ "শিক্ষা" নামক প্রবন্ধ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লেখেন-
শিক্ষার হেরফেরনামক প্রবন্ধ যখন লিখিত হয় তখন মনে করি নাই যে, বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রুটি প্রদর্শনে কাহারো হৃদয়ে আঘাত লাগিবে। বিশেষত উক্ত প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্মুখেই পঠিত হয়। সেখানে রাজশহী কলেজের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁহারা কেহ কোনোরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাই; বরং যতদূর জানা গিয়াছিল অনেকেই অনুকূলভাবে লেখকের মতের অনুমোদন করিয়াছিলেন।
অবশেষে উক্ত প্রবন্ধ সাধনায় প্রকাশিত হইলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী পাঠক উহা ইংরেজিতে অনুবাদ করিবার জন্য ঔৎসুক্য প্রকাশ করেন এবং কলেজের অনেক পুরাতন ছাত্রের নিকট উহার ঐকমত শুনা যায়। বঙ্কিমবাবু, গুরুদাসবাবু এবং আনন্দমোহন বসু মহাশয় তৎসম্বন্ধে যে-পত্র লিখিয়াছিলেন তাও পাঠকগণ অবগত আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি যাঁহাদের হৃদয়নিকুঞ্জে প্রিয়স্থান অধিকার করিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্ভুক্ত লোকের মুখে তাহার কোনোরূপ অমর্যাদার কথা শুনিলে তাঁহাদের মধ্যে কাহারো মনক্ষোভ উপস্থিত হইতে পারে সন্দেহ নাই, তাহাদের অতএব বর্তমান আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া আমি আমার পক্ষে দুর্ভাগ্য বিবেচনা করি। কেবল, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁহারা যাঁহারা গৌরবস্থল এমন অনেক মহোদয়ের উৎসাহবাক্যে আমি নিজের লজ্জা নিবারণে সক্ষম হইতেছি।
উৎস: 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।