পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়42 minutes৫৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৬০
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 15” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ৬ পার্ট-১) বাংলাদেশ বিষয়াবলি: টপিকসমূহ বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইতিহাস। পার্ট-২) সূচক ও লগারিদম, সমান্তর ও গুণোত্তর অনুক্রম ও ধারা। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]যেকোনো গাইড বই, বিগত ১২ মাসের সাম্প্রতিক পত্রিকা (Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার দেখুন)। এবং সম্ভব হলে সম্পর্কিত বাংলাদেশ সরকারেরে বিভিন্ন ওয়েবসাইট (যেমন, nrigostisanad.gov.bd, bangladesh.gov.bd) থেকে এই টপিকের সাধারণ তথ্যাবলী দেখে নিন। পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৬০ প্রশ্ন

.
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ- 
  1. ছয়দফা
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান 
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ।
- দীর্ঘ দু'শো বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণের পর ভারত ও পাকিস্তান নামের দু'টি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলা অঞ্চল দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
- কলকাতাসহ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ভারতের অধীনে এবং ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বেশি দিন পর্যন্ত অখন্ড থাকতে পারেনি।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়।
- পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘিষ্ট মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
- জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য এ অঞ্চলের জনমনে প্রবল অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- ফলে শুলুথেকেই স্বাধিকারের প্রশ্নে এই অঞ্চলের জনগণকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়।
- সূচিত হয় ভাষা আন্দোলন। 

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. ইস্কান্দার মীর্জা
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ:
- তিনি একজন  আইনজীবী, রাজনীতিক ও পাকিস্তানের স্থপতি।
- ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন এ রাজনীতিবিদ।
- ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতীয় কাউন্সিল অ্যাক্ট পাশ হলে রাজনীতিতে জিন্নাহর উত্থান শুরু হয়। 
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর মুসলিম লীগের সঙ্গে জিন্নাহর যোগাযোগ শুরু হয়।
- জিন্নাহ পরের বছর ডিসেম্বর মাসে মুসলিম লীগের অধিবেশনে যোগ দেন।
- এ অধিবেশনে কংগ্রেসের সঙ্গে একই সুরে ‘স্বরাজ’ দাবি করার লক্ষ্যে মুসলিম লীগের গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- মওলানা মোহাম্মদ আলী ও সৈয়দ ওয়াজির হাসানের অনুরোধে জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- জিন্নাহর জন্য বিশের দশক ছিল শুধুই রাজনৈতিক হতাশার।
- রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে ব্রিটিশ সরকার টালবাহানা করতে থাকে, কংগ্রেস মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে,
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে বিভিন্ন আইন পরিষদে মুসলমান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষার জন্য তাদের প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
- ১৯৪০ সালে জিন্নাহ দ্বিজাতিতত্বের প্রচারণা শুরু করেন এবং ওই  বছর ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- এ অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক উত্থাপিত ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ গ্রহণ করা হয়।
-  লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভক্তি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ দিল্লিতে পৌঁছান।
- ১৯৪৭ সালের ৭ আগস্ট জিন্নাহ দিল্লি থেকে করাচি যান এবং ১৪ আগস্ট পকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- তাঁর নেতৃত্ব এবং তাঁর প্রতি জনগণের পূর্ণ আস্থার কারণেই নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তান তার প্রাথমিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ
  2. ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ 
  3. ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৪৯ সালের ১১ মার্চ
ব্যাখ্যা

• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালে   ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

• ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

.
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. আবুল হাশিম
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত গণআন্দোলন;
- ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু;
- পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও উর্দুভাষী বুদ্ধিজীবীরা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চান;
- পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে;
- ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানে ঘোষণা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কেবল উর্দু হবে এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেন;
- ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালিত হয়;
- ৩১ জানুয়ারি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব;

- এ সময় সরকার আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব পেশ করে। এর বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। 
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি ( একুশে ফেব্রুয়ারি) সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে  হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
- এসব কর্মসূচির আয়োজন চলার সময় সরকার ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সমাবেশ-শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের (১৯০৫-৭৪) সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা হয়।
- ১৪৪ ধারা অমান্য করা হবে কিনা এ প্রশ্নে সভায় দ্বিমত দেখা দেয় তবে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সঙ্কল্পে অটুট থাকে।
- ছাত্রনেতা আবদুল মতিন ও গাজীউল হক অবস্থানে অনড় থাকেন;

- ছাত্ররা পাঁচ-সাতজন করে ছোট ছোট দলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসলে পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে, ছাত্রীরাও এ আক্রমন থেকে রেহাই পায়নি।
- ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। 
- বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গণপরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসররত মিছিলের উপর পুলিশ গুলি চালায়। 
- গুলিতে  রফিক উদ্দিন আহমদ,  আবদুল জববার,  আবুল বরকত (রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ শ্রেণীর ছাত্র) নিহত হয়। 
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ও উর্দু উভয়কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়;
- ১৯৫২ সাল থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি হিসেবে পালিত হয়;
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে;

উৎস: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।

.
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিলো কোথায়?
  1. যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
  2. জয়দেবপুর, গাজীপুর
  3. ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ঢাকা
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১৯শে মার্চ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয়।
- ৭ মার্চের ভাষণের পর আন্দোলন দুর্বল করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জয়দেবপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের তাঁদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
- কিন্তু বাঙালি সৈন্যরা অস্ত্র জমা না দিয়ে জনতাকে সাথে নিয়ে চান্দিনা-জয়দেবপুর সড়ক অবরোধ করে।

- এতে পাকবাহিনী গুলিবর্ষণ করলে হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা নিহত এবং অনেকে আহত হন।
- পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।

- এটির স্বরণে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় জাগ্রত চৌরঙ্গী নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য নির্মিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট।

.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ১৯৭৮: 
- গণভোটে জয়লাভের এক বছর পরই দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে জিয়াউর রহমান তাঁর ক্ষমতা শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন।
- ৩ জুন, ১৯৭৮ নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল (অবঃ) এম এ জি ওসমানীকে পরাজিত করে জিয়াউর রহমানরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- নির্বাচনে জিয়াউর রহমান ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬ শত ৭ ভোট এবং ওসমানী ৪৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ২ শত ভোট পায়। 
- ১২ জুন ১৯৭৮ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশের সাংবিধানিক গণভোট কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• বাংলাদেশে গণভোট:
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সর্বশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• তৃতীয় গণভোট: 
- গণ আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ।
- এর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। 
- ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতির (পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি) সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট মধ্যরাতে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল পাস হয়।

উৎস: গণভোট আইন ১৯৯১ এবং  প্রথম আলো ।

.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কোথায় প্রথম উত্তোলিত হয়?
  1. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  2. পল্টন ময়দানে
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ সে পতাকাটিই ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করে।
- এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে পতাকা ওড়ান তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।
- এই জাতীয় পতাকাটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭০ সালের ৬ জুন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে এই পতাকা তৈরি করেন কয়েকজন ছাত্রনেতা।
- জাতীয় পতাকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ছাত্রনেতা কাজী আরেফ আহমেদ, শিব নারায়ণ দাস সহ ২২ জন।
- বিদেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল। 
- ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- স্বাধীনতার পর পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়। পতাকার মাপ ও রঙ নির্ধারণ করে পরিমার্জন করা হয় পতাকা।
- যা আজ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝখানে লাল বৃত্ত, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

উৎস:  বিডিনিউজ-২৪ এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ কে জারি করেন?
  1. ইয়াহিয়া খান 
  2. ইস্কান্দার মীর্জা
  3. আইয়ুব খান
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা

• মৌলিক গণতন্ত্র :
- মৌলিক গণতন্ত্র ১৯৬০-এর দশকে জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রবর্তিত একটি স্থানীয় সরকার পদ্ধতি।
-মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ জারি হয় - ২৭ অক্টোবর ১৯৫৯ সাল।
-এ সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসনিক কাঠামো ৪ স্তর বিশিষ্ট ছিল-
১. ইউনিয়ন পরিষদ।
২. থানা পরিষদ।
৩. জেলা পরিষদ।
৪. বিভাগীয় পরিষদ।
তাছাড়াও,
- একজন চেয়ারম্যান এবং প্রায়শ ১৫ জন সদস্য নিয়ে একেকটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হতো।
- সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিনিধি নিয়ে দ্বিতীয় স্তরের থানা পরিষদ গঠিত হতো।
- তৃতীয় স্তরে ছিল জেলা পরিষদ। একজন চেয়ারম্যান এবং সরকারি ও বেসরকারি সদস্যদের নিয়ে এ পরিষদ গঠিত হতো।
- চতুর্থ ও শীর্ষ স্তর ছিল বিভাগীয় পরিষদ। বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকারবলে এ পরিষদের চেয়ারম্যান থাকতেন।

উল্লেখ্য যে,
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস : ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১০.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি কত সদস্য বিশিষ্ট ছিলো?
  1. ৬ সদস্য
  2. ৭ সদস্য
  3. ১১ সদস্য
  4. ৮ সদস্য
ব্যাখ্যা

• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।

- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কোন শাসকের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
⇒ ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর এবং গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মধ্যে, ইতিহাসে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। 

- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ গণজাগরণ।
- আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয় মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষিত গভর্নর হাউস ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে।
- ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালনের জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন এবং আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১২.
মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. এ কে খন্দকার
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. জেনারেল এম এ জি ওসমানী
  4. কর্নেল মোশাররফ
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।
-  শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন - অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে পদাধিকারবলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

১৩.
তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র ছিলো কোন পত্রিকা??
  1. সাপ্তাহিক মুক্তি
  2. সাপ্তাহিক সৈনিক
  3. সাপ্তাহিক আনন্দ
  4. সাপ্তাহিক নির্ভীক
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
→ তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
→ তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
→ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
→ মদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল
→ অধ্যাপক আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তমদ্দুন মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
→ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে বস্তুত তমদ্দুন মজলিশই প্রথম প্রতিবাদ উত্থাপন করে।
→ এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
→ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
→ তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিক প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪.
ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. সিরাজুল আলম
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার কাগমারীর সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
- কাগমারী সাংস্কৃতিক সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
- ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি।
- কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ’বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ৪২৬ জন
  2. ৩২৫ জন
  3. ১২৫ জন
  4. ৬৮ জন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৪২৬ জন কে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ’বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

• বীরত্বসূচক খেতাব:

- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।

- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।


• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব →  বীর বিক্রম।
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব →  বীর প্রতীক।

• ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়

• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন;
• বীর উত্তম- ৬৮ জন;
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন;
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন;

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
- বীর উত্তম ৬৭ জন,
- বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
- বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬.
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৭ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

• সামরিক শাসন জারি :
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় একধরণের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ৩নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর নুরুজ্জামান
  2. মেজর শফিকুর রহমান
  3. মেজর আবু উসমান
  4. মেজর  এ.এন.এম নূরুজ্জামান
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন  ৩নং সেক্টর:
- এ সেক্টর উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
- দুই ইস্ট বেঙ্গল এবং সিলেট ও ময়মনসিংহের ইপিআর বাহিনী সমন্বয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টরের সদর দফতর ছিল হেজামারা।
- এই সেক্টরের অধীনে ১৯টি গেরিলা ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল।
- নভেম্বর মাস পর্যন্ত গেরিলার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ত্রিশ হাজার।
- তারা কুমিল্লা-সিলেট সড়কে কয়েকটি সেতু বিধ্বস্ত করে পাক বাহিনীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
- তাদের সবচেয়ে সফল আক্রমণ ছিল শায়েস্তাগঞ্জের নিকটে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মাইনের সাহায্যে একটি রেলগাড়ি বিধ্বস্ত করা।

- এই সেক্টরের দশটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
- আশ্রমবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ এবং পরে ক্যাপ্টেন এজাজ); 
- বাঘাইবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ এবং পরে ক্যাপ্টেন এজাজ); 
- হাতকাটা (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান); 
- সিমলা (ক্যাপ্টেন মতিন); 
- পঞ্চবটী (ক্যাপ্টেন নাসিম); 
- মনতলা (ক্যাপ্টেন এম.এস.এ ভূঁইয়া); 
- বিজয়নগর (এম.এস.এ ভূঁইয়া); 
- কালাছড়া (লেফটেন্যান্ট মজুমদার); 
- কলকলিয়া (লেফটেন্যান্ট গোলাম হেলাল মোরশেদ); 
- এবং বামুটিয়া (লেফটেন্যান্ট সাঈদ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৮.
ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্ট্রের ২১ দফা দাবির প্রথম দাবি কি ছিল?
  1. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
  4. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

⇒ এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কত তারিখে ১ দফা দাবি ঘোষিত হয়?
  1. ১ আগস্ট, ২০২৪ 
  2. ৩ আগস্ট, ২০২৪  
  3. ৫ আগস্ট, ২০২৪  
  4. ২ আগস্ট, ২০২৪  
ব্যাখ্যা

• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য ১ দফা দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

২০.
ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. বরিশাল
  2. নাটোর
  3. মানিকগঞ্জ
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

• প্রথম ভাষা শহীদ:
- একুশের প্রথম শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ। 
- তিনি ছিলেন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ এবং মায়ের নাম রাফিজা খানম। 
- রফিক উদ্দিনের জন্ম ১৯২৬ সালে, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়। 
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি শহীদ হন। 
- ঘটনার সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের কারণে ছাত্ররা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যারাকে আশ্রয় নেন। 
- ওই সময় পুলিশের গুলিতে তাঁর মাথার খুলি উড়ে যায়।
- মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তখনই মারা যান তিনি।
- ম্যাজিস্ট্রেট ওবায়দুল্লাহর উপস্থিতিতে তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান আজিমপুর মসজিদের ইমাম হাফেজ আবদুল গফুর।
- আত্মীয়স্বজনকে না জানিয়ে গোপনে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। 
- ভাষা শহীদ রফিক ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো।

২১.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কবে গঠিত হয়?
  1. ২০২৪ সালের ১২ জুলাই
  2. ২০২৪ সালের ১ জুন
  3. ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই
  4. ২০২৪ সালের ১ জুলাই
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে। ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

২২.
১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন মোট কতটি আসনে হয়েছিলো?
  1. ৩০৯
  2. ২৫৭
  3. ৩০১
  4. ২৯৮
ব্যাখ্যা

•যুক্তফ্রন্ট এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন (১৯৫৪ সাল)
⇒  ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মুসলিম লীগ সরকার পরাজয়ের আশঙ্কায় নানা টালবাহানা করে নির্বাচনের তারিখ বারবার পিছিয়ে দেয়। অবশেষে সরকার পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ধার্য 
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে ৩০৯টি আসনে নির্বাচন হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।

⇒ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,নবম ও দশম শ্রেণি।

২৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিলনা-
  1. এক্স ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. জেড ফোর্স
  4. এস ফোর্স
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

•মুক্তিযুদ্ধকালীন নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিলনা- এক্স ফোর্স।

• মুক্তিযুদ্ধকালীন নিয়মিত এবং অনিয়মিত বাহিনী :

• প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের নিয়ে তিনটি বাহিনী গঠন করা হয়: 
- মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে জেড ফোর্স,
- খালেদ মোশারফের অধীনে কে ফোর্স ।
- এবং কে.এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।

- সৈনিকদের অধিকাংশই এসেছিল পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্ এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে। 
- পূর্ব পাকিস্তান রাইফেল্স, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর  যেসব সদস্যকে এই বাহিনীগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি, তাদের বিভিন্ন সেক্টরে  যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকটি ইউনিট এবং সাব-ইউনিটে বিভক্ত করা হয়।
- যাদের গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ দান করা হয়, তারা ছিল অধিকাংশই অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য। 

- এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে।
- এগুলির মধ্যে ছিল মুজিব বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার ব্যাটালিয়ন এবং হেমায়েত বাহিনী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪.
১৯৫২ সালে পল্টন ময়দানে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেন কে?
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. আবুল হাসিম
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত গণআন্দোলন;
- ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু;
- পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও উর্দুভাষী বুদ্ধিজীবীরা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চান;
- পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে;
- ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানে ঘোষণা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কেবল উর্দু হবে এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেন;
- ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালিত হয়;
- ৩১ জানুয়ারি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব;

- এ সময় সরকার আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব পেশ করে। এর বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। 
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি ( একুশে ফেব্রুয়ারি) সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে  হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
- এসব কর্মসূচির আয়োজন চলার সময় সরকার ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সমাবেশ-শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের (১৯০৫-৭৪) সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা হয়। 
- ১৪৪ ধারা অমান্য করা হবে কিনা এ প্রশ্নে সভায় দ্বিমত দেখা দেয় তবে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সঙ্কল্পে অটুট থাকে।
- ছাত্রনেতা আবদুল মতিন ও গাজীউল হক অবস্থানে অনড় থাকেন;

- ছাত্ররা পাঁচ-সাতজন করে ছোট ছোট দলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসলে পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে, ছাত্রীরাও এ আক্রমন থেকে রেহাই পায়নি।
- ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। 
- বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গণপরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসররত মিছিলের উপর পুলিশ গুলি চালায়। 
- গুলিতে  রফিক উদ্দিন আহমদ,  আবদুল জববার,  আবুল বরকত (রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ শ্রেণীর ছাত্র) নিহত হয়। 
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ও উর্দু উভয়কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়;
- ১৯৫২ সাল থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি হিসেবে পালিত হয়;
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে;

উৎস: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।

২৫.
বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?
  1. বিচারপতি  ‍জুবায়ের  আহমদে
  2. বিচারপতি আব্দুর রব
  3. বিচারপতি হামিদুর রহমান
  4. বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদে
ব্যাখ্যা

• তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) একটি অস্থায়ী ও বিশেষধরণের সরকার পদ্ধতি।
- বিশেষ রাজনৈতিক সংকটজনক পরিস্থিতিতে এ ধরণের সরকার দায়িত্ব পালন করে।
- এই সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সম্পূর্ণ অস্থায়ী ও নির্দলীয় সরকার যার মূল দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা অর্পন করা।
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন:
- ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন ও পদত্যাগের সময় যে সাংবিধানিক সংকট সৃস্টি হয়-তা নিরসনে এইরূপ একটি অস্থায়ী সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
-
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর পঞ্চম জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

- এরশাদবিরোধী আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাকে সরকারের প্রধান করা হয়েছিল।

- ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তখনকার মতো এই সরকারের পর্ব সমাপ্ত হয়ে যায়।
- কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন (১৯৯১-৯৫) বিরোধী দল কতকগুলি দাবীকে সামনে রেখে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে এবং একই সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরিচালনার দাবি জানায়।
- কিন্তু সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী অসাংবিধানিক বলে অগ্রাহ্য করে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করে।
- কিন্তু সকল দল নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি তা প্রতিহত করারও ঘোষণা দেয়।
- কিন্তু সরকার বিরোধীদল ছাড়াই একতরফাভাবে সম্পন্ন করে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় এই নির্বাচন জনগণের নিকট গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেনি।
- ফলে উদ্ভুত গণ আন্দোলনের চাপে সরকার ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে "তত্ত্বাবধায়ক সরকার" গঠন আইন পাশ করে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা কত তারিখ ছিল?
  1. ৯ মাঘ, ১৩৫৮
  2. ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  3. ১২ পৌষ, ১৩৫৮
  4. ১৩ ফাল্গুন, ১৩৫৮
ব্যাখ্যা

• একুশে ফেব্রুয়ারি:
- একুশে ফেব্রুয়ারি  শহীদ দিবস ও  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের একাধারে মর্মান্তিক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন।
- ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন।
- তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ অনেকেই।
- তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণঅভ্যুত্থান কবে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ছিলেন—
  1. আবদুল মতিন
  2. শামসুল আলম
  3. নূরুল হক ভূইয়া
  4. শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা

• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালে ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন- শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

• ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯.
পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটির সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. আল মাহমুদ
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
⇒ পূর্ব বাংলার জনগণের আন্দোলনের মুখে প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে সভাপতি এবং কবি গোলাম মোস্তফাকে সম্পাদক করে একটি সংস্কার কমিটি গঠন করে।

- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- এই রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'। কমিটি রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রশ্নকে কমপক্ষে বিশ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়।
- এ সময়ের মধ্যে উর্দু ভাষাকেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানায়।
- এই রিপোর্টটি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ হয়নি বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
এ.কে ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিযুক্ত হন কত সালে?
  1. ১৯৫৮ সাল
  2. ১৯৫৩ সাল
  3. ১৯৫৫ সাল
  4. ১৯৫৬ সাল
ব্যাখ্যা

• এ.কে. ফজলুল হক:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামের সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩১.
(√2)(x + 1) = 16 হলে, x এর মান কত?
  1. 9
  2. 8
  3. 5
  4. 7
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: (√2)(x + 1) = 16 হলে, x এর মান কত?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
(√2)(x + 1) = 16
⇒ (21/2)(x + 1) = 24
⇒ (x + 1)/2 = 4
⇒ x + 1 = 8
⇒ x = 8 - 1
∴ x = 7

৩২.
৩ + ৯ + ১৫ + ২১ + ....... ধারাটির কোন পদ ২৪৩?
  1. ৩৯ 
  2. ৪১ 
  3. ৪৫ 
  4. ৩৮ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৩ + ৯ + ১৫ + ২১ + ....... ধারাটির কোন পদ ২৪৩?

সমাধান:
এটি একটি সমান্তর ধারা।
যার, প্রথম পদ, a = ৩
সাধারণ অন্তর, d = ৯ - ৩ = ৬

আমরা জানি, 
n-তম পদে, an = a + (n - 1)d

প্রশ্নমতে,
৩ + (n - ১) × ৬ = ২৪৩
⇒ (n - ১) × ৬ = ২৪৩ - ৩
⇒ (n - ১) × ৬ = ২৪০
⇒ n - ১ = ২৪০/৬
⇒ n - ১ = ৪০
⇒ n = ৪০ + ১ 
∴ n = ৪১

সুতরাং, ধারাটির ৪১তম পদ = ২৪৩

৩৩.
7√7 এর 7 ভিত্তিক লগ কত?
  1. 3/2
  2. 1
  3. 7/5
  4. 4/3
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 7√7 এর 7 ভিত্তিক লগ কত? 

সমাধান: 
7√7 এর 7 ভিত্তিক লগ
= log77√7
= log77 +log7√7
= 1 + log771/2          
= 1 + (1/2)log77
= 1 + (1/2)
= (2 + 1)/2
= 3/2

৩৪.
একটি গুণোত্তর ধারার প্রথম পদ 9 এবং সাধারণ অনুপাত 1/3 হলে ধারাটি কত?
  1. 9 + 6 + 1 + 0 + …....
  2. 9 + (1/3) + (1/9) + (1/27) + .....
  3. 9 + 3 + 2 + (1/6) + .....
  4. 9 + 3 + 1 + (1/3) + .....
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি গুণোত্তর ধারার প্রথম পদ 9 এবং সাধারণ অনুপাত 1/3 হলে ধারাটি কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে, 
গুণোত্তর ধারার প্রথম পদ, a = 9 
সাধারণ অনুপাত, r = 1/3

আমরা জানি, 
a + ar + ar2 + ar3 + .......
= 9 + 9 × (1/3) + 9 × (1/3)2 + 9 × (1/3)3 + ....
= 9 + 3 + 1 + 1/3 + .....

∴ গুণোত্তর ধারা 9 + 3 + 1 + 1/3 + .....

৩৫.
ax = b2, by = c এবং cz = a হলে xyz এর মান কত?
  1. 0
  2. 1
  3. 2
  4. 4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ax = b2, by = c এবং cz = a হলে xyz এর মান কত?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
ax = b2, by = c
এবং cz = a
⇒ (by)z = a  ; [c এর মান বসিয়ে]
⇒ byz = a
⇒ bxyz = ax   ; [ঘাতে x দ্বারা গুণ করে]
⇒ bxyz = b2   ; [a এর মান বসিয়ে]
∴ xyz = 2

৩৬.
5 + 8 + 11 + 14 + ...... + 62 ধারাটি, 
(i) একটি সসীম ধারা,
(ii) একটি গুণোত্তর ধারা
(iii) এর 19 তম পদ 59
  1. i ও ii
  2. i ও iii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 5 + 8 + 11 + 14 + ...... + 62 ধারাটির, 
(i) একটি সসীম ধারা,
(ii) একটি গুণোত্তর ধারা
(iii) এর 19 তম পদ 59

সমাধান:
প্রথম পদ, a = 5
সাধারণ অন্তর, d = 8 - 5 = 3
শেষ পদ = 62
যেহেতু একটি নির্দিষ্ট পদ আছে, তাই এটি সসীম ধারা।

আবার, 
আমরা জানি, 
n-তম পদে, an = a + (n - 1)d
19-তম পদে, an = 5 + (19 - 1)3
= 5 + 18 × 3
= 5 + 54
= 59

∴ 19তম পদ = 59
এটি সসীম ধারা এবং 19তম পদ = 59

সঠিক উত্তর খ) i ও iii

৩৭.
log102 + 2log105 - log103 - 2log107 = ?
  1. log10(50/47)
  2. log10(25/147)
  3. log10(50/21
  4. log10(50/147)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: log102 + 2log105 - log103 - 2log107 = ?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
log102 + 2log105 - log103 - 2log107
= log102 + log1052 - log103 - log1072
= log102 + log1025 - log103 - log1049
= (log102 + log1025) - (log103 + log1049)
= log10(2 × 25) - log10(3 × 49)  ; [logxa + logxb = logxab]
= log1050 - log10147
= log10(50/147)  ; [logxa - logxb = logx(a/b)]

৩৮.
একটি গুণোত্তর ধারার প্রথম ও দ্বিতীয় পদ যথাক্রমে 27 এবং 9 হলে ধারাটির অষ্টম পদ কত?
  1. 1/81
  2. 1/729
  3. 1/243
  4. 1/27
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি গুণোত্তর ধারার প্রথম ও দ্বিতীয় পদ যথাক্রমে 27 এবং 9 হলে ধারাটির অষ্টম পদ কত?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
ধারাটির প্রথম পদ, a = 27
ধারাটির দ্বিতীয় পদ, ar2 - 1 = ar = 9

অতএব সাধারণ অনুপাত, r = 1/3

আমরা জানি, 
গুণোত্তর ধারার n-তম পদ = arn - 1 
∴ অষ্টম পদ = ar8 - 1
= 27 ×(1/3)
7
= (33 × 1)/(33 × 34)
= 1/34
= 1/81

৩৯.
  1. 0
  2. - 2
  3. 2
  4. 1
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 


সমাধান: 

৪০.
২ - ৫ - ১২ - ১৯ - ...... ধারাটির ১৫ তম পদ নির্ণয় করুন- 
  1. - ৮৮ 
  2. - ১০২ 
  3. - ৯৬
  4. - ৯৮ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ২ - ৫ - ১২ - ১৯ - ...... ধারাটির ১৫ তম পদ নির্ণয় করুন- 

সমাধান:
এটি একটি সমান্তর ধারা।
যার, প্রথম পদ, a = ২
সাধারণ অন্তর, d = - ৫ - ২ = - ৭

আমরা জানি, 
n-তম পদ, an = a + (n - ১)d
১৫তম পদ, a১৫ = ২ + (১৫ - ১) × (- ৭)
= ২ + ১৪ × (- ৭)
= ২ - ৯৮
= - ৯৬

৪১.
log2√12 + log2√(4/3) = কত?
  1. 0
  2. 1
  3. 2
  4. 4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: log2√12 + log2√(4/3) = কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
log2√12 + log2√(4/3)
= log2{√12 × √(4/3)} 
= log2{(√12 × √4)/√3}
= log2{(√4 × √3 × 2)/√3}
= log2(2 × 2)
= log2(2)2
= 2log22
= 2

৪২.
12 + 24 + 48 + ............. + 768 ধারাটির সমষ্টি কত?
  1. 1475
  2. 1920
  3. 1771
  4. 1524
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 12 + 24 + 48 + ............. + 768 ধারাটির সমষ্টি কত?

সমাধান:
12 + 24 + 48 + ............. + 768
ধারাটির প্রথম পদ, a = 12
সাধারন অনুপাত, r = 24/12 = 2
∴ n-তম পদ = arn-1
⇒ 768 = 12.2n-1
⇒ 64 = 2n-1
⇒ 2n-1 = 26
⇒ n - 1 = 6
⇒ n = 6 + 1
∴ n = 7

∴ ধারাটির সমষ্টি = a(rn - 1)/(r - 1)
= 12 × (27 - 1)/(2 - 1) 
= 12 × (128 - 1)
= 12 × 127
= 1524

৪৩.
  1. 75
  2. 100
  3. 225
  4. 625
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 

সমাধান:

৪৪.
কোনো সমান্তর ধারার ৭ম পদ ৩৫ এবং ১৫তম পদ ৭৫ হলে, ধারাটির প্রথম ২০টি পদের সমষ্টি কত?
  1. ১১২০ 
  2. ৯৮০ 
  3. ১২৪০ 
  4. ১০৫০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোনো সমান্তর ধারার ৭ম পদ ৩৫ এবং ১৫তম পদ ৭৫ হলে, ধারাটির প্রথম ২০টি পদের সমষ্টি কত?

সমাধান: 
ধরি, সমান্তর ধারার
প্রথম পদ = a
সাধারণ অন্তর = d

দেওয়া আছে, 
৭ম পদ = ৩৫
১৫তম পদ = ৭৫
∴ ৭ম পদ, a + ৬d = ৩৫  .......(১)
এবং ১৫তম পদ, a + ১৪d = ৭৫  .......(২)

এখন, (২) - (১) করে পাই, 
⇒ (a + ১৪d) - (a + ৬d) = ৭৫ - ৩৫ 
⇒ ৮d = ৪০
 ⇒ d = ৪০/৮ 
∴ d = ৫
সমীকরণ (1)-এ d এর মান বসিয়ে পাই, 
⇒ a + ৬ × ৫ = ৩৫
⇒ a = ৩৫ - ৩০ 
∴ a = ৫

প্রথম ২০টি পদের যোগফল S২০ = (২০/২) × [২a + (২০ - ১)d]
= ১০ × [(২ × ৫) + (১৯ × ৫)]
= ১০ × [১০ + ৯৫]
= ১০ × ১০৫
= ১০৫০

∴ ধারাটির প্রথম ২০টি পদের সমষ্টি = ১০৫০

৪৫.
যদি log(a/b) + log(b/a) = log(a + b) হয়, তাহলে-
  1. a - b = 1
  2. a = b
  3. a + b = 1
  4. a2 - b2 = 1
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি log(a/b) + log(b/a) = log(a + b) হয়, তাহলে-

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
log(a/b) + log(b/a) = log(a + b)
⇒ log{(a/b) × (b/a)} = log(a + b)
⇒ log(a + b) = lag 1
∴ a + b = 1

৪৬.
log2 + log4 + log8 + ........... ধারাটির সপ্তম পদ কত?
  1. log128
  2. log64
  3. log512
  4. log256
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: log2 + log4 + log8 + ........... ধারাটির সপ্তম পদ কত? 

সমাধান: 
log2 + log4 + log8 + ........... ধারাটির সপ্তম পদ কত? 
= log2 + log22 + log23 + ...................
= log2 + 2log2 + 3log2 + ..................

এখানে
১ম পদ a = log2
সাধারণ অন্তর d = 2log2 - log2
= log2

সপ্তম পদ= a +(7 - 1)d
= log2 + 6 log2
= 7log2
= log27
= log128

৪৭.
8x + 8x + 8x + 8x এর মান কোনটি?
  1. 32x + 1
  2. 4x + 2
  3. 23x + 2
  4. 23x
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 8x + 8x + 8x + 8x এর মান কোনটি?

সমাধান:
8x + 8x + 8x + 8x
= 8x(1 + 1 + 1 + 1)
= 8x × 4
= (23)x × 22
= 23x × 22
= 23x + 2

৪৮.
একটি সমান্তর ধারার 17 তম পদ - 20 হলে, এর প্রথম 33 টি পদের সমষ্টি কত?
  1. - 660
  2. - 720 
  3. - 610
  4. - 710
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সমান্তর ধারার 17 তম পদ - 20 হলে, এর প্রথম 33 টি পদের সমষ্টি কত?

সমাধান:
মনে করি, সমান্তর ধারাটির ১ম পদ = a
সাধারণ অন্তর = d 

আমরা জানি, 
n তম পদ = a + (n - 1)d

∴ 17 তম পদ = a + (17 - 1) d = a + 16d

প্রশ্নমতে,
a + 16d = - 20 ...... (i)


আবার, 
n পদের সমষ্টি , Sn= (n/2){2a + (n - 1)d}
S33 = (33/2){2a + (33 - 1)d}
=  (33/2) (2a + 32d)
= 33 × (a + 16d)
= 33 × (- 20) [ (i) হতে]
= - 660

৪৯.
যদি log105 + log10(5x + 1) = log10(x + 5) + 1 হয়, তবে x এর মান কত?
  1. 4
  2. 2
  3. 7
  4. 3
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি log105 + log10(5x + 1) = log10(x + 5) + 1 হয়, তবে x এর মান কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
 log105 + log10(5x + 1) = log10(x + 5) + 1
⇒ log105 + log10(5x + 1) = log10(x + 5) + log1010
⇒ log10[5(5x + 1)] = log10[10(x + 5)]
⇒ 5(5x + 1) = 10(x + 5)
⇒ 5x + 1 = 2x + 10
⇒ 5x - 2x = 10 - 1
⇒ 3x = 9
⇒ x = 9/3
∴ x = 3

৫০.
3 + x + y + 192 গুনোত্তর ধারাভুক্ত হলে, x এবং y এর মান নির্ণয় করুন।
  1. 5, 20
  2. 8, 32
  3. 12, 48
  4. 6, 24
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 3 + x + y + 192 গুনোত্তর ধারাভুক্ত হলে, x এবং y এর মান নির্ণয় করুন।

সমাধান: 
একটি গুণোত্তর ধারা
ধারাটির ১ম পদ a = 5


আমরা জানি,
n-তম পদ = arn - 1

∴ চতুর্থ পদ = ar4 - 1
= 3 × r3
প্রশ্নমতে,
3 × r3 = 192

⇒ r3 = 192/3
⇒ r3 = 64 = 43
∴ r = 4

দ্বিতীয় পদ, x = ar = 3 × 4 = 12
তৃতীয় পদ, y = ar2 = 3 × 42 = 48

∴ x = 12, y = 48​ 

৫১.
  1. 0
  2. 1
  3. b2
  4. a
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 

সমাধান: 

৫২.
একটি ক্লাবের সদস্য প্রথম মাসে ৩০০ টাকা চাঁদা দেন এবং প্রতি মাসে ৪০ টাকা বেশি দেন। প্রথম ১০ মাসে মোট কত টাকা চাঁদা দিবে?
  1. ৫২০০ টাকা
  2. ৪৮০০ টাকা
  3. ৫০০০ টাকা
  4. ৪২০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ক্লাবের সদস্য প্রথম মাসে ৩০০ টাকা চাঁদা দেন এবং প্রতি মাসে ৪০ টাকা বেশি দেন। প্রথম ১০ মাসে মোট কত টাকা চাঁদা দিবে?

সমাধান:
এটি একটি সমান্তর অনুক্রম।
যার, প্রথম পদ, a = ৩০০ টাকা
সাধারণ অন্তর, d = ৪০ টাকা

প্রথম ১০ মাসে মোট চাঁদা পরিমাণ,

আমরা জানি, 
প্রথম n পদের সমষ্টি,
Sn = (n/২) × [২a + (n - ১)d]
∴ S১০ = ১০/২ × [২ × ৩০০ + (১০ - ১) × ৪০]
= ৫ × [৬০০ + ৯ × ৪০]
= ৫ × [৬০০ + ৩৬০]
= ৫ × ৯৬০
= ৪৮০০ টাকা

সুতরাং, প্রথম ১০ মাসে মোট চাঁদা দিবে ৪৮০০ টাকা। 

৫৩.
log3(1/81) = কত?
  1.  - 4
  2. - 1
  3. 2
  4. - 5
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: log3(1/81) = কত? 

সমাধান: 
log3(1/81)
= log3(1/34)
= log33- 4 [∵ 1/a4 = a- 4]
= - 4 × log33
= - 4 × 1 [∵ logaa = 1]
= - 4

৫৪.
128 + 64 + 32 +...........  ধারাটির কোন পদ 1/8 হবে? 
  1. 10
  2. 12
  3. 9
  4. 11
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 128 + 64 + 32 +...........  ধারাটির কোন পদ 1/8 হবে? 

সমাধান:
দেওয়া আছে,
গুণোত্তর ধারার প্রথম পদ, a = 128
সাধারণ অনুপাত, r = 64/128 = 1/2
n-তম পদ = 1/8

আমরা জানি,
n-তম পদ = arn - 1 

প্রশ্নমতে,
arn - 1 = 1/8
⇒ 128 × (1/2)n - 1 = 1/8
⇒ (1/2)n - 1 = 1/(8 × 128)
⇒ (1/2)n - 1 = 1/1024
⇒ (1/2)n - 1 = (1/2)10
⇒ n - 1 = 10
⇒ n = 10 + 1 
⇒ n = 11

সুতরাং, ধারাটির 11 তম পদ = 1/8

৫৫.
  1. 1
  2. 0
  3. xb - c
  4. xa + b
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 

সমাধান: 

৫৬.
1 + 3 + 5 + 7 + 9 + 11 + ..... ধারাটির n পদের সমষ্টি কত?
  1. n(n + 1)
  2. n2 + n
  3. n2
  4. n(n - 1)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 1 + 3 + 5 + 7 + 9 + 11 + ..... ধারাটির n পদের সমষ্টি কত?

সমাধান:
১ম পদ, a = 1
সাধারণ অন্তর, d = 3 - 1 = 2

আমরা জানি,
সমান্তর ধারার ১ম n সংখ্যক পদের সমষ্টি,
Sn = (n/2){2a + (n - 1)d}
= (n/2){(2 × 1) + (n - 1)2}
= (n/2)(2 + 2n - 2)
= (n/2) × 2n
= n × n
= n2

৫৭.
2x - 4 = 4bx - 6 এবং b > 0, b ≠ 2 হলে, x এর মান কত?
  1. 2
  2. 0
  3. - 3
  4. 6
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 2x - 4 = 4bx - 6 এবং b > 0, b ≠ 2 হলে, x এর মান কত?

সমাধান: 
2x - 4 = 4bx - 6
⇒ 2x - 4 = 22 × bx - 6
⇒ 2x - 4/22 = bx - 6
⇒ 2x - 4 - 2 = bx - 6
⇒ 2x - 6 = bx - 6
⇒ 2x - 6/bx - 6 = 1
⇒ (2/b)x - 6 = (2/b)0 [∵ (2/b)0 = 1]
⇒ x - 6 = 0
∴ x = 6

৫৮.
3 - 6 + 12 - 24 + ......ধারাটির প্রথম সাতটি পদের সমষ্টি কত?
  1. 129
  2. - 127
  3. 189
  4. - 157
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 3 - 6 + 12 - 24 + ......ধারাটির প্রথম সাতটি পদের সমষ্টি কত?

সমাধান:
এটি একটি গুণোত্তর ধারা।
যার প্রথম পদ, a = 3
সাধারণ অনুপাত, r = - 6/3 = - 2

আমরা জানি, 
প্রথম n পদের সমষ্টি,
Sn = a(1 - rn)/(1 - r)  ; [| r | < 1]
প্রথম সাতটি পদের সমষ্টি S7 = 3 [1 - ( - 2)7]/[1 - (- 2)]  
= 3(1 + 128)/3
= (3 × 129)/3
= 129

সুতরাং, প্রথম সাতটি পদের সমষ্টি 129

৫৯.
০.৫ + ০.০৫ + ০.০০৫ + ...... অসীম ধারাটির সমষ্টি কত?  
  1. ১/২
  2. ৫/১১
  3. ৪/১১
  4. ৫/৯
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ০.৫ + ০.০৫ + ০.০০৫ + ...... অসীম ধারাটির সমষ্টি কত? 

সমাধান: 
ধারাটির প্রথম পদ, a = ০.৫ 
= ৫/১০ = ১/২

ধারাটির সাধারণ অনুপাত r = ০.০৫/০.৫ = ১/১০

∴ সমষ্টি, S = a/(1 - r) 
= (১/২)/(১ - ১/১০)
= (১/২)/(৯/১০)
= ৫/৯

৬০.
কোনো অনুক্রমের n তম পদ = n/(n + ১) হলে, অনুক্রমের ৬ষ্ঠ পদটির মান কত? 
  1. ৫/৭ 
  2. ৬/৭
  3. ৭/৮ 
  4. ৬/৮ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোনো অনুক্রমের n তম পদ = n/(n + ১) হলে, অনুক্রমের ৬ষ্ঠ পদটির মান কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি, 
অনুক্রমের n তম পদ = n/(n + ১) 
∴ অনুক্রমের ৬ষ্ঠ পদ = ৬/(৬ + ১) 
= ৬/৭