পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]

পরীক্ষা৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ - ৩ ব্যাকরণ অংশের টপিক: প্রত্যয়, সন্ধি ও সমাস।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. বাকপটু
  2. রাজপুত্র
  3. গৃহস্থ
  4. ক্রোড়পত্র
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• খে (আকাশে) চরে যে = খেচর,
• গাঁট কাটে যে = গাঁটকাটা,
• গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া,
• গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ,
• ছা পোষে যে = ছাপোষা,
• জলে চরে যা = জলচর,
• জল দেয় যে = জলদ,
• পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র। 
রাজার পুত্র = রাজপুত্র।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
গাছে পাকা = গাছপাকা,
বাকে পটু = বাকপটু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'ক্ষিতীশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক্ষিতী + ঈশ
  2. ক্ষিতি + ঈশ
  3. ক্ষিত + ঈশ
  4. ক্ষিতী + ইশ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী+ ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'পাঠক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পাঠ্‌ + অক
  2. √পাঠ্‌ + ণক
  3. √পঠ্‌ + অক
  4. √পাঠ্‌ + ওক
ব্যাখ্যা
• ণক-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে):
পঠ্‌ + ণক = √পঠ্‌ + অক = পাঠক।
[মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে। ]

যেমন:
- √নী + ণক = (নৈ + অক-প্রথম স্বরের বৃদ্ধি) নায়ক,
- √গৈ + ণক = গায়ক,
- √লিখ্ + ণক = লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
.
নিত্য সমাস কোনটি?
  1. হাভাত
  2. দর্শনমাত্র
  3. আকণ্ঠ
  4. আরক্ত
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
তুমি আমি ও সে = আমরা,
দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
(বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ।

অন্যদিকে:
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ-
ভাতের অভাব = হাভাত,
কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ,
ঈষৎ রক্ত = আরক্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'চলিষ্ণু' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ চলি + ষ্ণু
  2. √চল্ + ঈষ্ণু
  3. √চলি + ইষ্ণু
  4. √ চল্ + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
• ইষ্ণু-প্রত্যয়:
√ চল্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
√ সহ্ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
√ ক্ষয় + ইষ্ণ = ক্ষয়িষ্ণু।

• বর-প্রত্যয়:
√ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
√ ভাস্ + বর = ভাস্বর।

• র-প্রত্যয়:
√ নম্ + র = নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. ধ্বনি-পরিবর্তনে সহজতা
  2. নতুন ধ্বনি গঠন
  3. ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
  4. সন্ধি মাধ্যমে শব্দের মিলন
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

সন্ধির অন্যান্য কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- ধ্বনি-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
- শব্দের আকার ছোট করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. পুরস্কার
  2. নরাধম
  3. ফনীন্দ্র
  4. আশাতীত
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ  + ক = (স্ + ক) নমঃ + কার = নমস্কার; পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = (স্ + খ) পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) নিঃ + কর = নিষ্কর; বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) দুঃ + কর = দুষ্কর; দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি।

এরূপ - মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। স্বরসন্ধিযোগে গঠিত শব্দ-
অ + অ = আ; নর+অধম = নরাধম।
ঈ + ই = ঈ; ফনী + ইন্দ্র = ফনীন্দ্র।
আ + অ = আ; আশা+ অতীত = আশাতীত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'মিথ্যা + উক = মিথ্যুক' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
বাংলা তদ্ধিত 'উক' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
যেমন:
- লাজ + উক = লাজুক;
- মিশ + উক = মিশুক;
- মিথ্যা + উক = মিথ্যুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
'প্রভাত' শব্দটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. রূপক কর্মধারায় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি,
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১- সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চৌকিদার
  2. পঙ্কিল
  3. কারিগর
  4. বাবুয়ানি
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। এখানে কতগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ দেয়া হলো।

ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল্ = ঊর্মিল,
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।

অন্যদিকে, 
---------------
কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
আনা (গরিবানা),
আনি (বাবুয়ানি),
ওয়ান (গাড়োয়ান),
খানা (ছাপাখানা),
গর (কারিগর),
বাজ (চালবাজ),
দার (চৌকিদার),
সই (মানানসই) ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র
  2. বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর
  3. ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য
  4. শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
এরূপ কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো-
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নিয়ম অনুসারে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ-
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর। 
- ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য।  
- শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
কোনটি দ্বিগু সমাস?
  1. পঞ্চবটী
  2. দশগজি
  3. দোনলা
  4. পাঁচহাতি
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। প্র-দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
- চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা,
- তিন পায়া যার = তেপায়া,
- দুই নল যার = দোনলা।

এরকম: দশহাতি, একগুঁয়ে, দ্বিচক্র, একতারা, দশানন, দ্বিমাত্রিক, দ্বীপ, একরোখা, দুমুখো, পঞ্চানন, চতুর্ভুজ, পাঁচহাতি, চতুষ্কোণ, দোতলা, চতুষ্পদী, সেতার, দোপেয়ে, চারপেয়ে, চৌপায়া, তেতলা, ত্রিলোচন, ত্রিশূল, সাতনরি, শতমূলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'অ + অ = আ' সন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. আশাতীত
  2. মহার্ঘ
  3. নবান্ন
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম: 
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:

• আ + আ = আ:
- বিদ্যা+আলায় = বিদ্যালয়।
- মহা + আশয় = মহাশয়।
- কারা আগার = কারাগার।

• অ + আ = আ:
- হিম + আলয় = হিমালয়
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

• আ + অ = আ:
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

• অ + অ = আ:
- নর + অধম = নরাধম।
- নব + অন্ন = নবান্ন।
- স্ব + অধীন = স্বাধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. আরী
  2. তব্য
  3. অট
  4. সই
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
১. ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি-বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি-দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ-মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ-দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।
২. ওয়ান>আন (হিন্দি): গাড়ি-গাড়োয়ান, দার-দারোয়ান।
৩. আনা>আনি (হিন্দি): মুনশি-মুনশিয়ানা, বিবি-বিবিআনা, হিন্দু-হিন্দুয়ানি।
8. সা (হিন্দি): পানি-পানসা> পানসে, এক-একসা, কাল (কাল)-কালসা>কালসে।
৫. গর> কর (ফারসি) কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
৬. দার (ফারসি): তাঁবেদার, খবরদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার।
৭. বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি) কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ, গলাবাজ-ই-গলাবাজি (বিশেষ্য)।
৮. বন্দি (কদ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
৯. সই: মতো অর্থে: জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।
১০. পনা: মতো অর্থে গিন্নীপনা, বেহায়াপনা।

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়-
 অট>ট-প্রত্যয়: স্বার্থে : ভরা-ভরাট, জমা-জমাট।
• আরি/আরী/আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ-ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়- তব্য: √কৃ+তব্য-কর্তব্য, দা+তব্য-দাতব্য, পট্+তব্য=পঠিতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫.
'দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'আল-' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• আল- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- √মাত্ + আল= মাতাল,
- √মিশ্ + আল= মিশাল।

এরূপ কিছু বাংলা কৃৎ প্রত্যয় হলো-
 অন্, আ, অনা, অনি, অন্ত, অক, আ, আই, আও, আন, আরি, ই, ইয়া > ইয়ে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৭.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অভি + ঈষ্ট = অভীষ্ট
  2. প্রতি + ইতি = প্রতীতি
  3. অতী + ইত = অতীত
  4. অতী + ইন্দ্র = অতীন্দ্র
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- প্রতি + ইতি = প্রতীতি। 

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৮.
'যথাসাধ্য' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে:
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
'ভাস্বর' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ভাস্ + বর
  2. √ভাস্ + কর
  3. √ভাস্ + সর
  4. √ভাস্ + স্বর
ব্যাখ্যা
• কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় হলো:

বর-প্রত্যয়:
-√ঈশ্ + বর = ঈশ্বর;
-√ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
-√নম্ + র = নম্র।

ইষ্ণ-প্রত্যয়:
-√চল্ + ইষ্ণ = চলিষ্ণু;
এরূপ- ক্ষয়িষ্ণু, বর্ধিষ্ণু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
'বুদ্ধ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বুদ + ধ = বুদ্ধ
  2. বুধ + ত = বুদ্ধ
  3. বুত + দ্ধ = বুদ্ধ
  4. বুধ + ধ = বুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে:
আগে ধ্‌, ভ্‌ কিংবা হ্ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধ্‌ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ + ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্ + ত) স্থলে গ্ধ হয়।

যেমন:
- বুধ + ত = বুদ্ধ,
- লভ্ + ত = লব্ধ,
- বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ,
- দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১.
দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি হয়-
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২২.
সন্ধি শব্দের অর্থ কী?
  1. সম্পাদন
  2. সন্নিহিত
  3. মিলন
  4. সংযোজন
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
সন্ধি শব্দের অর্থ 'মিলন'। সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

সন্ধি তিন প্রকার:
যথা:
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জনসন্ধি ও
- বিসর্গসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
'ইন্‌' কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. জমিদারি
  2. ডাক্তারি
  3. তাঁতি
  4. মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• 'ইন্‌' কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়) :
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্‌ + ইন = দোষী;
- √মন্ত্র + ইন = মন্ত্রী;
- √যুজ্ + ইন = যোগী।

অন্যদিকে,
• 'ই' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: পেশা, বৃত্তি অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- তাঁত + ই = তাঁতি,
- কাগজ + ই = কাগজি, 
- জমিদার + ই = জমিদারি,
- ডাক্তার + ই = ডাক্তারি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৪.
কোনটি নঞ্‌ তৎপুরুষের দৃষ্টান্ত?
  1. অজ্ঞান
  2. অকাল
  3. অজানা
  4. অবুঝ
ব্যাখ্যা
• নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্চ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।

এরূপ- অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের ক্ষেত্রে খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন:
ন কাল = অকাল বা আকাল।

তদ্রূপ- আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক। 

অন্যদিকে,
• নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস:
নঞর্থক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। অথবা, বিশেষ্য পদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস বলে। নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = অজানা,
- অ (নেই) বুঝ যার = অবুঝ,
- বে (নেই) হায়া যার = বেহায়া।

এ-রকম: অজ্ঞান, অসাড়, অতন্দ্র, অরাজক, অথই, অসীম, অনাচার, অহিংস, অনাদি, অনীহ, অপুত্রক, আনাড়ি, নির্বিঘ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পৎ + হতি = পদ্ধতি
  2. উৎ + হৃিত = উদ্ধৃত
  3. তদ্‌ + হিত = তদ্ধিত
  4. উৎ + চ্ছ্বাস = উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- তদ্‌ + হিত = তদ্ধিত। 

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি নিয়মে গঠিত সন্ধি:

ৎ বা দ্ এবং পরে হ থাকলে দুইয়ে মিলে দ্ধ হয় এবং শ্ থাকলে দুইয়ে মিলে চ্ছ হয়।
যেমন:
উৎ + হার = উদ্ধার,
উৎ + হৃত = উদ্ধৃত,
পদ্‌ + হতি = পদ্ধতি,
তদ্‌ + হিত = তদ্ধিত,
উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস,
উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬.
উপমিত কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. জয়ধ্বনি
  2. বদ্বীপ
  3. নয়নপদ্ম
  4. সিংহপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- ব-এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ,
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি।

এরকম: অষ্টাদশ, ইগলপাখি, উটপাখি, উল্কাপিন্ড, খড়িমাটি, পদ্মানদী, কলিযুগ, কাঠফলক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭.
কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মিঠাই
  2. চলন
  3. ছেলেমি
  4. ব্যাঙাচি
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন;  ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি। আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।

- 'প্রকৃতি' কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে ✓ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন:
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
------------------
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• মিঠা + আই = মিঠাই।
• ছেলে + আমি = ছেলেমি।
• ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-২০২২ সংস্করণ)।
২৮.
'শিরশ্ছেদ' কী ধরনের সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে 'চ' বা 'ছ' থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্; ট্ বা ঠ থাকলে য; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন 
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯.
কোনটি সমার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দুধেভাতে
  2. কোলেপিঠে
  3. ধূতিচাদর
  4. মাতাপিতা
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
• দয়া ও মায়া = দয়া-মায়া;
• কাপড় ও চোপড় = কাপড়-চোপড়;
• পোকা ও মাকড় = পোকা-মাকড়;
• ধূতি ও চাদর = ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অলুক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি লুপ্ত না হয়ে সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে তাকে অলুক হন্দু বলে।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে ইত্যাদি।

• সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সম্মন্ধ বোঝায় তাকে সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দম্ (জায়া) ও পতি = দম্পতি,
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ডাকু
  2. কলু
  3. ঝাড়ু
  4. উড়ু
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত 'উ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- ঢাল + উ = ঢালু;
- কল + উ = কলু।

অন্যদিকে,
• 'উ' কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- √ডাক্ + উ = ডাকু;
- √ঝাড় + উ = ঝাড়ু;
- √উড় + উ = উড়ু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুনঃ + র্মিলন = পুনর্মিলন
  2. নীঃ + রব = নীরব
  3. আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
  4. নীঃ + রোগ = নীরোগ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ। 

----------------
• বিসর্গসন্ধি:

বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

• বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি। 
• বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়: মনঃ + যোগ = মনোযোগ, তিরঃ + ধান = তিরোধান, তপঃ + বন = তপোবন। 
• বিসর্গ 'র' হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ। 
• বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার। 
• কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রোগ = নীরোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩২.
'সংসার সমুদ্র' কোন ধরনের কর্মধারয় সমাস?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. রূপক কর্মধারয় সমাস
  3. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন,
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩.
'অ + এ = ঐ' নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তথৈবচ
  2. মহৈশ্বর্য
  3. সদৈব
  4. হিতৈষী
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:

• অ + এ = ঐ:
জন + এক = জনৈক;
হিত + এষী = হিতৈষী

• আ + এ =ঐ:
সদা + এব = সদৈব।
তথা + এবচ = তথৈবচ।

• আ + ঐ = ঐ:
মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য;
মহা + ঐক্য = মহৈক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪.
প্রত্যয়ের কোন গঠনটি অশুদ্ধ?
  1. √ঝল্ + অক = ঝলক
  2. √বাঁধ + অনি = বাাঁধনি
  3. √মোড় + অক = মোড়ক
  4. √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত
ব্যাখ্যা
• 'অনি' (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √বাঁধ + অনি = বাাঁধনি;
- √চির + অনি = চিরনি;

• 'অন্ত' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
- √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

• 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √মুড় + অক = মোড়ক;
- √ঝল্ + অক = ঝলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৫.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. আইনকানুন
  2. কাঁচা-মিঠা
  3. ওজোন-স্তর
  4. পোস্ট-অফিস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- সোনা ও রুপা = সোনা-রুপা;
- লজ্জা ও শরম - লজ্জাশরম;
- দম্ (জায়া) ও পতি = দম্পতি;
- দা ও কুমড়া = দাকুমড়া;
- আইন ও কানুন = আইনকানুন। 

অন্যদিকে:
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা; কর্মধারয় সমাস।
- ওজোনের স্তর = ওজোন-স্তর; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 
- পোস্টের নিমিত্ত অফিস = পোস্ট-অফিস; চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬.
'মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি' কোন নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি; এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে; আ + ছাদন = আচ্ছাদন ।
ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ; বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।

এরূপ- পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭.
'খোশ মেজাজ যার' ব্যাসবাক্যটি কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস
  1. অলুক বহুব্রীহি
  2. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।

এরকম: হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, জ্ব বদবত, কমবত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।