পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
Exam - 11 The Code of Civil Procedure, 1908: Test-3 Topic ➝ • Written Statement (Order-8) • Appearance of Parties and Consequences of Non-appearance (Order-9) • Execution of Parties by the Court (Order-10) • Discovery, Inspection and Interrogatories ( Order-11)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন লিখিত জবাব দাখিলের সর্বোচ্চ মেয়াদ-
  1. সমন জারির তারিখ হতে ৩০ কার্যদিবস
  2. আরজি দাখিলের তারিখ হতে ৬০ কার্যদিবস
  3. সমন জারির তারিখ হতে ৬০ কার্যদিবস
  4. আরজি দাখিলের তারিখ হতে ৩০ কার্যদিবস
সঠিক উত্তর:
সমন জারির তারিখ হতে ৬০ কার্যদিবস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমন জারির তারিখ হতে ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ১ বিধির অধীন লিখিত জবাব দাখিলের সর্বোচ্চ মেয়াদ সমন জারির তারিখ হতে ৬০ কার্যদিবস

• বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে তাকে লিখিত জবাব বা Written Statement বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশে লিখিত জবাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিখিত জবাবের সাধারন নিয়মাবলী ৮ নং আদেশের ১ হতে ১০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ৮ বিধি (১)-৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যাতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।

আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।
.
পক্ষগণের জবানবন্দী গ্রহণ (Examination of parties) সম্পর্কিত দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ কত?
  1. আদেশ ১০
  2. আদেশ ১১
  3. আদেশ ১৬
  4. আদেশ ১৮
সঠিক উত্তর:
আদেশ ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশ ১০
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

• আদেশ ১০ বিধি ৪(১,২) অনুসারে, যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয়, সেই ক্ষেত্রে আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত মোকদ্দমার শুনানী মুলতুবি রেখে উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। উক্ত নির্ধারিত দিনে এমন পক্ষ হাজির হতে ব্যর্থ হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে।

• উল্লেখ্য যে, আদেশ ১০ এর ৪ বিধির অধীন কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আদেশ হলো একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
.
যেক্ষেত্রে শুনানির দিন শুধুমাত্র বিবাদী হাজির হয় এবং বাদীর দাবী অস্বীকার করে, সেক্ষেত্রে আদালত কি আদেশ দিতে পারে?
  1. এক তরফা নিষ্পত্তি
  2. মোকদ্দমা খারিজ
  3. পরবর্তী দিন হাজির হওয়ার
  4. নতুন মোকদ্দমা দায়ের করার
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমা খারিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমা খারিজ
ব্যাখ্যা
আদেশ-৯, বিধি-৮:
শুনানির দিন বিবাদী উপস্থিত, কিন্তু বাদী অনুপস্থিত- যদি শুনানির দিন বিবাদী হাজির হয়, কিন্তু বাদী হাজির না হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর দাবী বা উহার কোন অংশ স্বীকার না করলে, আদালত মামলা খারিজের (dismissal) আদেশ দিবেন। বিবাদী যদি বাদীর দাবি বা উহার অংশ স্বীকার করে নেয়, তবে আদালতে সে অনুপাতে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দিবেন এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবি সম্পর্কে মামলা খারিজের (dismissal) আদেশ দিবেন।

• ৮ বিধির অধীন খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদীর প্রতিকারঃ বাদী হাজির না হওয়ার কারণে ৮ বিধির অধীন আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিলে, উক্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদী নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারে-
১. মোকদমা খারিজ আদেশ বাতিলের [For setting aside the order of dismissal] জন্য ৯ বিধির অধীন আবেদন করতে পারে;
২. খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের [Directly Setting aside dismissal] জন্য ৯ক বিধির অধীন আবেদন করতে পারে।

• ৮ বিধির অধীন মোকদ্দমা খারিজ হলে,বাদী উক্ত একই কারণে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে না।
.
প্রশ্নমালার উত্তর বা দলিল প্রকাশ ও নিরীক্ষণের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে-
  1. বিবাদী প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তার আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিল হবে
  2. বাদী প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে একতরফা নিষ্পত্তি হবে
  3. বাদী প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে মামলা খারিজ ও বিবাদীর ক্ষেত্রে একতরফা নিষ্পত্তি হবে
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
বিবাদী প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তার আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিল হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাদী প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তার আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিল হবে
ব্যাখ্যা
• যদি কোন পক্ষ যাকে মামলা সম্পর্কিত কোন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার (to answer Interrogatories) বা কোন দলিল প্রকাশ (discovery of documents) বা দলিল নিরীক্ষণের (inspection of documents) আদেশ দেয়া হয়েছে, যদি সে বাদী হয় এবং সে যদি উক্ত আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত তার মামলা খারিজ (Dismissed the suit) করে দিবে এবং যদি সে বিবাদী হয় তাহলে তার আত্মপক্ষ সমর্থন (Right to defence) বাতিল করবে।

আদেশ-১১, বিধি-২১ (আদেশ অমান্যকরণ)-
যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রশ্নমালার উত্তর দানের বা দলিলসমূহের উদ্ঘাটন বা পরিদর্শনের জন্য কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তদক্ষেত্রে সে যদি বাদি হয় তবে পরিচালনার অভাবে তার মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার জন্য সে দায়ী হবে, এবং যদি বিবাদি হয় তবে তার যদি কোন জবাব থাকে, উহা কর্তন হওয়ার নিমিত্তে সে দায়ী হবে এবং সে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এরূপ পরিস্থিতিতে স্থিত হবে এবং প্রশ্নকারী পক্ষ কিংবা উদঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী উক্ত মর্মে আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করবে এবং তদনুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবে

Rule 21: Non-compliance with order for discovery-
Where any party fails to comply with any order to answer interrogatories or for discovery or inspection of documents, he shall if a plaintiff be liable to have his suit dismissed for want of prosecution and if a defendant to have his defence, if any, struck out, and to be placed in the same position as if he had not defended, and the party interrogating or seeking discovery or inspection may apply to the Court for an order to that effect, and an order may be made accordingly.
.
পক্ষদ্বয় লিখিত জবাবে উল্লেখিত তথ্যসমূহ স্বীকার বা অস্বীকার করে কিনা, তা আদালত নিশ্চিত করবে-
  1. লিখিত জবাব দাখিলের সময়
  2. মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময়
  3. ক বা খ
  4. রায় ঘোষণার পূর্বে
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময়
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

বিধি-১ (আরজি জবাবের অভিযোগাদি স্বীকৃত না অস্বীকৃত তা নিশ্চিতকরণ)-
আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে প্রত্যেক পক্ষ কিংবা পক্ষের উকিল হতে নিশ্চিত করবে যে, সেই পক্ষ অপর পক্ষের আরজিতে কিংবা লিখিত বিবৃতিতে (যদি থাকে) রচিত তথ্যগত উক্তি সমূহ স্বীকার না কি অস্বীকার করে, এবং যা সংশ্লিষ্ট পক্ষ দ্বারা প্রকাশ্য কিংবা প্রয়োজনীয় অর্থে স্বীকৃত বা অস্বীকৃত হয়নি-আদালত একই ধরণের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিসমূহ রেকর্ড করবে।

Rule 1: Ascertainment whether allegations in pleadings are admitted or denied-
At the first hearing of the suit the Court shall ascertain from each party or his pleader whether he admits or denies such allegations of fact as are made in the plaint or written statement (if any) of the opposite party, and as are not expressly or by necessary implication admitted or denied by the party against whom they are made. The Court shall record such admissions and denials.
.
সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে কত টাকা খরচ প্রদান করতে হবে?
  1. অনধিক ১০০০
  2. অনধিক ৩০০০
  3. অনধিক ১৫০০
  4. অনধিক ২০০০
সঠিক উত্তর:
অনধিক ৩০০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনধিক ৩০০০
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।

আদেশ ৯, বিধি ১৩: একতরফা ডিক্রি রদ / বাতিল (Set aside ex parte decree)- 

দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১০নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি; 
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারে নি।

আদেশ ৯, বিধি ১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল (Directly setting-aside exparte decree)-

বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
.
'ক' একটি বিল অব এক্সচেঞ্জ বাবদ ৫০০ টাকার জন্য 'খ'-এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দাখিল করে। ‘খ, 'ক'-এর বিরুদ্ধে তার পূর্বেই ৫০০ টাকার ডিক্রি লাভ করেছিল। এখানে কে,কার বিরুদ্ধে সেট অফ দাবি করতে পারবে?
  1. 'খ','ক' এর বিরুদ্ধে
  2. 'ক','খ' এর বিরুদ্ধে
  3. পারস্পরিক অপরিশোধযোগ্য
  4. আদালত উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে
সঠিক উত্তর:
'খ','ক' এর বিরুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'খ','ক' এর বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
• বাদী-বিবাদী একে অন্যের নিকট পাওনাদার বা দেনাদার হলে সেই মোকদ্দমায় সেট-অফের দাবি যাবে।এক্ষেত্রে বিবাদী,বাদীর বিরুদ্ধে সেট অফ দাবি করতে পারে। উল্লেখিত প্রশ্নে 'ক' বাদী এবং 'খ' বিবাদী। এক্ষেত্রে 'খ','ক' এর বিরুদ্ধে সেট অফ দাবি করতে পারবে

• অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ বিধি অনুযায়ী, কোন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই (at the first hearing of suit) লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সেট অফের দাবি করতে হয়। প্রথম শুনানির পর আদালতে সেট অফের জন্য লিখিত জবাব দাখিল করা যাবে না। তবে আদালত অনুমতি দিলে প্রথম শুনানির পর Set off এর দাবি করা যায়।

• কোন দেওয়ানী মামলায় বিবাদি যদি সেট অফ দাবি করতে চায়, তাহলে বিবাদীকে নিম্নলিখিত শর্ত সমূহ পূরণ করতে হবে। যেমন-

i) মোকদ্দমাটি অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা হবে;

ii) দাবীকৃত অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট হবে;

iii) দাবীকৃত অর্থ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও আইনগতভাবে আদায়যোগ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদি সেই পরিমান টাকার দাবি সমন্বয় করে চাইতে পারবে যার পরিমান ঐ বিচারিক আর্থিক এখতিয়ারের সমপরিমান হবে। বিচারিক আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বেশি হলে সে রকম পরিমাণের টাকার জন্য বিবাদি সেট-অফ দাবি করতে পারবে না;

iv) দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদী উভয়কেই একই চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। অর্থাৎ মামলায় বাদী-বিবাদী একে অন্যের নিকট পাওনাদার বা দেনাদার না হলে সেই মামলায় সেট-অফের দাবি করা যাবে না; 

v) সেট-অফের মোকদ্দমায় আদালত বাদীর মূল দাবি এবং বিবাদীর সেট অফের ব্যাপারে এক সঙ্গে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে পারেন।
.
মোকদ্দমা শুনানীর নির্ধারিত তারিখে বাদী এবং বিবাদী উভয় পক্ষ হাজির না হলে, আদালত মোকদ্দমা-
  1. এক তরফা নিষ্পত্তি করতে পারেন
  2. স্থগিত করতে পারেন
  3. চালিয়ে যাবেন
  4. খারিজ করে দিতে পারেন
সঠিক উত্তর:
খারিজ করে দিতে পারেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খারিজ করে দিতে পারেন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ আদেশে মোকদ্দমার প্রথম শুনানীতে পক্ষগণের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির সম্পর্কিত পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ৯ বিধি ৩ অনুসারে, মোকদ্দমার কোন পক্ষই উপস্থিত না হলে-

মোকদ্দমার শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখে যদি বাদী এবং বিবাদী উভয় পক্ষ হাজির না হয়, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করে দিতে পারে।
[Where neither party appears when the suit is called on for hearing, the Court may make an order that the suit be dismissed]

• প্রদত্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার (বিধি ৪) :
১- উল্লিখিত কারণে মোকদ্দমা খারিজ হলে, উক্ত খারিজের বিরুদ্ধে বাদী নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
২- খারিজ আদেশ রদ করতে আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারে। 
.
আদালত কর্তৃক গৃহীত জবানবন্দী-
  1. বিচারক কর্তৃক সারমর্ম লিখিত হবে
  2. মোকদ্দমার নথির অংশে পরিণত হবে
  3. পক্ষগণকে প্রদান করা হবে
  4. 'ক' ও 'খ' উভয়
সঠিক উত্তর:
'ক' ও 'খ' উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'ক' ও 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

বিধি-৩ঃ জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত হতে হবে-
জবানবন্দির সারমর্ম বিচারক কর্তৃক লিখিত হবে এবং তা নথির অংশে পরিণত হবে।

Rule.-3: Substance of examination to be written-
The substance of the examination shall be reduced to writing by the Judge, and shall form part of the record
১০.
নিম্নের কোন ধরণের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিলের সময়সীমার ব্যতিক্রম দেয়া হয়েছে-
  1. মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে
  2. নাবালকের বিরুদ্ধে
  3. সরকার বা সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
  4. উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
সরকার বা সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার বা সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি (১)-
৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে, তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।

ধারা ৮০ (২) তে সরকার কর্তৃক লিখিত জবাব দাখিলের সময়সীমা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে-

৮০ ধারা অনুযায়ী সরকার বা সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করার পূর্বে ২ মাসের নোটিশ দিতে হয়। ২ মাসের নোটিশ দেওয়ার পর মোকদ্দমাটি দায়ের করতে হবে। যদি নোটিশ দিয়ে মোকদ্দমাটি দায়ের করা হয়, তাহলে সরকার লিখিত জবাব দাখিল করার সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবস সময় পেতে পারে। কিন্তু যেক্ষেত্রে নোটিশ না দিয়ে মোকদ্দমাটি দায়ের করা হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য আদালত সরকারকে সর্বনিম্ন ৩ মাসের সময় দিতে হবে।
১১.
প্রশ্নমালা কর্তন (Strike out) করা যেতে পারে যদি প্রশ্নমালাটি-
  1. দীর্ঘ শব্দবহুল হয় (profix)
  2. অপ্রয়োজনীয় হয় (unreasonably)
  3. যাতনাদায়ক হয় (oppressive)
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশে উদঘাটন বা আবিষ্কার ও পরিদর্শন (Discovery and Inspection) বিষয়ে আলোচনা  করা হয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার দুইভাবে হতে পারে। যথা-
> প্রশ্নের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) এবং 
> দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)।

• ১১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে।বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।

• ১১ নং আদেশ বিধি-৭ঃ প্রশ্নমালা রদ এবং কর্তন-

কোন প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে উত্থাপিত হয়েছে—এ অজুহাতে তা রদ করা যেতে পারে, কিংবা তা দীর্ঘ ও শব্দ বহুল, যাতনাদায়ক, অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসামূলক বলে কর্তন করা যেতে পারে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন আবেদন করতে হলে প্রশ্নমালা জারির সাতদিনের মধ্যে পেশ করা যেতে পারে।

Rule.-7: Setting aside and striking out interrogatories-
Any interrogatories may be set aside on the ground that they have been exhibited unreasonably or vexatiously, or struck out on the ground that they are profix, oppressive, unnecessary or scandalous; and any application for this purpose may be made within seven days after service of the interrogatories.
১২.
সমনে বিবাদিকে হাজির হওয়ার যথেষ্ট সময় প্রদান করা না হলে, আদালত-
  1. মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি রাখবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ দিবে
  2. মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি রাখবে এবং বাদী- বিবাদীকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ দিবে
  3. মোকদ্দমার বাতিল করবে
  4. খ বা গ
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি রাখবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ দিবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি রাখবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ দিবে
ব্যাখ্যা
• যেক্ষেত্রে সমন যথারীতি সমন যথারীতি জারি হয়েছে, বিবাদিকে সমনে নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হয়ে জবাব দেয়ার জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করা হয়নি, তবে আদালত পরবর্তী কোন নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি রাখবে এবং বিবাদিকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করবে।

• আদেশ ৯ বিধি-৬ঃ

১) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে বাদি উপস্থিত হয় এবং বিবাদি উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে তাহলে আদালত-

ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে,  একতরফা বিচার করতে পারবেন:

খ) যদি প্রমাণিত না হয় যে, যথারীতি জারি হয়েছে, তবে আদালত বিবাদির উপর দ্বিতীয়বার সমন প্রেরণ এবং জারি করার নির্দেশ দান করবেন;

গ) যেক্ষেত্রে সমন যথারীতি জারি হয়, কিন্তু উপযুক্ত সময়ের মধ্যে নয়ঃ
যদি প্রমাণিত হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে, বিবাদিকে সমনে নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হয়ে জবাব দেয়ার জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করা হয়নি, তবে আদালত পরবর্তী কোন নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মূলতবী রাখবে এবং বিবাদিকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করবে।
১৩.
দেওয়ানী কার্যবিধিতে ছানী মোকদ্দমার (Miscellaneous Case) বিধান কোথায় আছে ?
  1. আদেশ ৯ বিধি ৪
  2. আদেশ ৯ বিধি ১৩
  3. আদেশ ৯ বিধি ৯
  4. ক,খ এবং গ
সঠিক উত্তর:
ক,খ এবং গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক,খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি মোকদ্দমায় মিসকেস- অনুপস্থিতির কারণে কোন মোকদ্দমা খারিজ বা এক-তরফা ডিক্রি হলে একই আদালতে উক্ত মোকদ্দমা পূর্নবহালের আবেদনকে ছানী মোকদ্দমা বা মিসকেস বলে।

সাধারণভাবে কোন মামলা খারিজ (Dismiss) হলে অথবা একতরফা হলে, উক্ত আদেশ রদ/রহিত করার জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ৪, ৯ ও ১৩ বিধির অধীন যে আবেদন করা হয় তাকে মিসকেস বলে।

• আদেশ ৯ বিধি ৩ অনুসারে- মোকদ্দমার কোন পক্ষই উপস্থিত না হলে, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করে দিতে পারে।

আদেশ ৯ বিধি ৪ঃ প্রদত্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার-
১- উল্লিখিত কারণে মোকদ্দমা খারিজ হলে, উক্ত খারিজের বিরুদ্ধে বাদী নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
২-খারিজ আদেশ রদ করতে আবেদন করতে পারে। তবে, এমন আবেদন খারিজ আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের হবে।

• বাদী হাজির না হওয়ার কারণে ৮ বিধির অধীন আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিলে, উক্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদী ৯ ধারায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারে-
১. মোকদমা খারিজ আদেশ বাতিলের (For setting aside the order of dismissal) জন্য ৯ বিধির অধীন আবেদন করতে পারে;
২. খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের (Directly Setting aside dismissal) জন্য ৯ক বিধির অধীন আবেদন করতে পারে।

• বিবাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মোকদ্দমা একতরফা নিষ্পত্তি করলে, উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।
১৪.
আরজিতে উল্লেখিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদী অস্বীকার করবে-
  1. সাধারণভাবে
  2. সুনির্দিষ্টভাবে
  3. চাতুরীপূর্ণভাবে
  4. যেকোনো এক ভাবে
সঠিক উত্তর:
সুনির্দিষ্টভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনির্দিষ্টভাবে
ব্যাখ্যা
আরজিতে উল্লেখিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদী সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করবে।

• আদেশ-৮, বিধি-৩: সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার-
ক্ষতিপূরণ ব্যতীত আরজিতে উল্লেখিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদী সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করবে, তা নাহলে বিবাদী তা স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদী তার লিখিত জবাবে বাদীর দাবি চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করবে না। যদি বিবাদী আরজির কোন বিষয় চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করেন, তবে তা স্বীকার করেছেন বলেই ধরে নেওয়া হবে।

[Denial to be specific-
It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.]
১৫.
"Oral examination of party or companion of party" - নিম্নোক্ত কোন বিধির শিরোনাম?
  1. আদেশ ১০ বিধি ১
  2. আদেশ ১১ বিধি ২
  3. আদেশ ১০ বিধি ২
  4. আদেশ ১০ বিধি ৪
সঠিক উত্তর:
আদেশ ১০ বিধি ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশ ১০ বিধি ২
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

• আদেশ ১০ বিধি ২ (পক্ষ বা পক্ষের সহযোগীর মৌখিক জবানবন্দি)-
মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোন শুনানিতে স্বয়ং হাজির কোন পক্ষ কিংবা আদালতে উপস্থিত কেউ কিংবা পক্ষ বা পক্ষের উকিলের সাথে অবস্থানরত এমন কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা সম্বন্ধে যদি কোন প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে মৌখিকভাবে তার জবানবন্দি আদালত কর্তৃক গ্রহণ করা যাবে, এবং উক্তরূপ জবানবন্দি গ্রহণ করার সময়ে, আদালত যদি সঙ্গত মনে করেন, তাহলে যে কোন পক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

Order 10 Rule 2 (Oral examination or party of companion of party)-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.

১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ কোন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. নাবালক,মানসিক ভারসাম্যহীন
  2. অক্ষম ব্যক্তিদের আসন্ন বন্ধু এবং অভিভাবক
  3. ক এবং খ উভয়
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশে উদঘাটন বা আবিষ্কার ও পরিদর্শন (Discovery and Inspection) বিষয়ে আলোচনা  করা হয়েছে।

• দেওয়ানী কার্যবিধিতে প্রকাশ (Discovery) অর্থ হলো এক পক্ষ কর্তৃক অন্য পক্ষকে তার দখলে বা এখতিয়ারে যে বিষয় রয়েছে তা প্রকাশ করতে বাধ্য করা। বিরোধী পক্ষের দখলে আছে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত এমন কোন দলিল বা বিষয় বিরোধী পক্ষকে প্রকাশ করতে মোকদ্দমার কোন পক্ষ ১১ আদেশ অনুসারে আবেদন করতে পারে।

প্রকাশ [Discovery] ২ (দুই) প্রকার-
১. প্রশ্ন দ্বারা কোন ঘটনা বা বিষয় প্রকাশ করা [Discovery by Interrogatories]
২. কোন দলিল প্রকাশ করা [Discovery of Documents]

• ১১নং আদেশে উদঘাটন এবং পরিদর্শন সম্পর্কে যাবতীয় বিধি-বিধান রয়েছে।সেই সাথে উক্ত আদেশের বিধি ২৩ এ বলা হয়েছে-
এই আদেশ নাবালক বাদি এবং বিবাদিগণের ক্ষেত্রে এবং অক্ষম ব্যক্তিদের মোকদ্দমার জন্য তাদের আসন্ন বন্ধু ও অভিভাবকগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
[This order shall apply to minor plaintiffs and defendants, and to the next friends and guardians for the suit of persons under disability.]

১৭.
নিম্নলিখিত কোনটি নির্ধারণ করতে আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময় পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে-
  1. পক্ষগণ তাদের মধ্যেকার অভিযোগগুলো স্বীকার করে কিনা
  2. পক্ষগণ বিরোধ সম্পর্কে অবগত কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য
  3. পক্ষগণ তাদের মধ্যেকার অভিযোগগুলো স্বীকার বা অস্বীকার করে কিনা
  4. উল্লেখিত সব
সঠিক উত্তর:
পক্ষগণ তাদের মধ্যেকার অভিযোগগুলো স্বীকার বা অস্বীকার করে কিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষগণ তাদের মধ্যেকার অভিযোগগুলো স্বীকার বা অস্বীকার করে কিনা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে। 

• বিধি-১ আরজি জবাবের অভিযোগাদি স্বীকৃত না অস্বীকৃত তা নিশ্চিতকরণ :-
আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে প্রত্যেক পক্ষ কিংবা পক্ষের উকিল হতে নিশ্চিত করবে যে, সেই পক্ষ অপর পক্ষের আরজিতে কিংবা লিখিত বিবৃতিতে (যদি থাকে) রচিত তথ্যগত উক্তি সমূহ স্বীকার না কি অস্বীকার করে, এবং যা সংশ্লিষ্ট পক্ষ দ্বারা প্রকাশ্য কিংবা প্রয়োজনীয় অর্থে স্বীকৃত বা অস্বীকৃত হয়নি-আদালত একই ধরণের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিসমূহ রেকর্ড করবে।

[Rule.-1: Ascertainment whether allegations in pleadings are admitted or denied-
At the first hearing of the suit the Court shall ascertain from each party or his pleader whether he admits or denies such allegations of fact as are made in the plaint or written statement (if any) of the opposite party, and as are not expressly or by necessary implication admitted or denied by the party against whom they are made. The Court shall record such admissions and denials]
১৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের(Set off) বিধান রয়েছে?
  1. ৮ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে
  2. ৯ নং আদেশের ৪ নং বিধিতে
  3. ৮ নং আদেশের ৫ নং বিধিতে
  4. ৯ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে
সঠিক উত্তর:
৮ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে
ব্যাখ্যা
• সেট অফ অর্থ হল- কোন দাবীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আরেকটি দাবী দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

• ৮ নং আদেশের ৬ বিধি অনুযায়ী কোন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই (at the first hearing of suit) লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সেট অফের দাবি করতে হয়। প্রথম শুনানির পর আদালতে সেট অফের জন্য লিখিত জবাব দাখিল করা যাবে না। তবে আদালত অনুমতি দিলে প্রথম শুনানির পর Set off এর দাবি করা যায়।

• কোন দেওয়ানী মামলায় বিবাদি যদি সেট অফ দাবি করতে চায় তাহলে বিবাদীকে নিম্নলিখিত শর্ত সমূহ পূরণ করতে হবে। যেমন-

i) মোকদ্দমাটি অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা হবে
ii) দাবীকৃত অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট হবে
iii) দাবীকৃত অর্থ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও আইনগতভাবে আদায়যোগ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদি সেই পরিমান টাকার দাবি সমন্বয় করেচাইতে পারবে যার পরিমান ঐ বিচারিক আর্থিক এখতিয়ারের সমপরিমান হবে। বিচারিক আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বেশি হলে সে রকম পরিমাণের টাকার জন্য বিবাদি সেট-অফ দাবি করতে পারবে না
iv) দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদী উভয়কেই একই চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। অর্থাৎ মামলায় বাদী-বিবাদী একে অন্যের নিকট পাওনাদার বা দেনাদার না হলে সেই মামলায় সেট-অফের দাবি করা যাবে না
v) সেট-অফের মোকদ্দমায় আদালত বাদীর মূল দাবি এবং বিবাদীর সেট অফের ব্যাপারে এক সঙ্গে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে পারেন।
১৯.
এক তরফা ডিক্রি রদ বা বাতিল শর্ত কি?
  1. বিরুদ্ধ পক্ষকে নোটিশ
  2. বিরুদ্ধ পক্ষকে হাজির
  3. উভয় পক্ষকে নোটিশ
  4. উভয় পক্ষের হাজির
সঠিক উত্তর:
বিরুদ্ধ পক্ষকে নোটিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরুদ্ধ পক্ষকে নোটিশ
ব্যাখ্যা
• ৯ নং আদেশের ১৪ নং বিধি অনুযায়ী বিরুদ্ধ পক্ষকে নোটিশ প্রদান না করে, কোন এক তরফা ডিক্রি রদ বা বাতিল করা যাবে না।

• ৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।

• আদেশ-৯, বিধি-১৩: একতরফা ডিক্রি রদ / বাতিল (Set aside ex parte decree)-
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১০ নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি;
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারেনি।

• আদেশ-৯, বিধি-১৩কঃ
সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল ( Directly setting-aside exparte decree)- বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য নেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
২০.
আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে,বিধি অনুযায়ী আদালত কি আদেশ দিতে পারে?
  1. উক্ত পক্ষকে ১০০০ টাকা জরিমানা
  2. উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা
  3. মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে
  4. খ বা গ
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
ব্যাখ্যা
• আদালত কর্তৃক অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ এবং দাখিল না করার ফলাফল:

দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

• প্রতিকার:

১০ বিধির নিয়মটি শুধুমাত্র প্রযোজ্য যখন ৯ বিধির অধীন বিবাদী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয় এবং উক্ত ব্যর্থতার কারণে আদালত রায় ঘোষণা করে আদেশ দিলে। ১০ বিধির অধীন রায় ঘোষণার আদেশ (An order pronouncing judgment) হলো আপীলযোগ্য আদেশ তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে।
২১.
বাদী কর্তৃক কোর্ট ফি প্রদান না করার কারনে বিবাদীর উপর সমন জারি করা না হলে, সেক্ষেত্রে আদালত কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
  1. মোকদ্দমা শুনানীর নতুন দিন
  2. মোকদ্দমাটি খারিজ
  3. নতুন করে সমন জারির সিদ্ধান্ত
  4. সমনের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান করার আদেশ
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমাটি খারিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমাটি খারিজ
ব্যাখ্যা
বাদী খরচ প্রদান না করার কারণে সমন জারি না হলে, মোকদ্দমা খারিজ করা যায়। 

• আদেশ ৯ বিধি-২ঃ
নির্ধারিত তারিখে যদি দেখা যায় যে, বাদি কোর্ট ফি প্রদান না করার কিংবা ঐরূপ সমনজারির জন্য প্রয়োজনীয় ডাক-মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ায় বিবাদির উপর সমন জারি করা হয় নেই, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দান করতে পারবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদির উপর সমন জারি না হলেও যদি তার হাজিরা ও জবাব দানের নির্ধারিত তারিখে সে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মারফতে হাজিরা চললে প্রতিনিধির মারফতে জন্য হাজির হয়, সেক্ষেত্রে অনুরূপ খারিজের আদেশ প্রদান করা যাবে না।

Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs-
Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff, to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed:
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
২২.
সমন ফেরত আসার কত দিনের মধ্যে বাদী নতুন করে সমন দেয়ার আবেদন না করলে, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করতে পারে?
  1. ২ মাসের
  2. ৪ মাসের
  3. ১ মাসের
  4. ৬ মাসের
সঠিক উত্তর:
১ মাসের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ মাসের
ব্যাখ্যা
যখন সমন জারি না হওয়ায় ফেরত আসে এবং অতঃপর এক মাস পর্যন্ত বাদী নতুন করে সমন দেয়ার আবেদন না করে, তখন মোকদ্দমা খারিজ হয়
 
আদেশ ৯ বিধি-৫ঃ
১) বিবাদিকে কিংবা কতিপয় বিবাদির কোন একজনের প্রতি সমন দেয়ার পর যদি তা জারি না হয়ে ফেরত আসে, এবং আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারি বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন, তিনি আদালতে উক্ত সমন জারি না হওয়ার প্রত্যয়নপত্রসহ তা ফেরত দেয়ার পর এক মাসের মধ্যে বাদি যদি নতুন সমন দেয়ার জন্য আবেদন না করেন, তাহলে আদালত অনুরূপ বিবাদির বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দিবে। যদি না উক্ত এক মাসের মধ্যে বাদি নিম্নলিখিত যে কোন কারণ দর্শিয়ে আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন—

ক) যে বিবাদির উপর সমন জারি হয়নি, বাদি যথাসাধ্য সকল চেষ্টা করেও ঐ বিবাদির ঠিকানা আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে; অথবা

খ) উক্ত বিবাদি পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলতেছে; অথবা

গ) সময়ের মেয়াদ বাড়াতে কোন সঙ্গত কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত নূতন সমন দেয়ার আবেদনের সময়ের মেয়াদ উপযুক্ত মনে করে বৃদ্ধি করতে পারবে।

২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বাদি (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
২৩.
বিবাদী তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বা তার দাবীর সমর্থনে তার দখলে থাকা যে সকল দলিলসমূহের উপর নির্ভর করে, সেই সকল দলিলসমূহ দাখিল করবে-
  1. প্রথম শুনানীর সময়
  2. লিখিত জবাব দাখিলের সময়
  3. সাক্ষ্য গ্রহণের সময়
  4. যে কোন সময়
সঠিক উত্তর:
লিখিত জবাব দাখিলের সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিখিত জবাব দাখিলের সময়
ব্যাখ্যা
• বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে তাকে লিখিত জবাব বা Written Statement বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশে লিখিত জবাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিখিত জবাবের সাধারন নিয়মাবলী ৮নং আদেশের ১ হতে ১০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ৮ বিধি (১)-

১) ৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।

২) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার দখলীয় কিংবা ক্ষমতায় রক্ষিত দলিলসমূহের উপর তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বা দাবী সমন্বয় করার দাবীর সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে নির্ভর করেন, সেক্ষেত্রে তিনি লিখিত বিবৃতি পেশ করার সময় তা আদালতে উপস্থাপন করবে এবং তখনই দলিলসমূহ লিখিত বিবৃতির সাথে নথিভুক্ত করার জন্য দিবে ।

৩) শুনানির সময় বা আদালত তলব করলে তখনই দাখিল করার অঙ্গীকার প্রদান করে ঐ সকল দলিলের ফটোস্ট্যাট কিংবা উকিল কর্তৃক সত্যায়িত প্রতিলিপি প্রতিস্থাপিত হওয়ার পর প্রতিলিপি আদালতে দাখিল করলে আদালত এরূপ দলিলাদি ফেরত প্রদান করতে পারে।

৪) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বা পাল্টা দাবীর অধিকার সমর্থনে তার দখলে ব ক্ষমতায় না থাকা অন্য প্রকার দলিলাদির উপর নির্ভর করে, সেক্ষেত্রে সে লিখিত বিবৃতির সঙ্গে সংযোজন কিংবা যুক্ত করার জন্য একটি তালিকায় অনুরূপ দলিলাদি অন্তর্ভুক্ত করবে এবং ঐ দলিলাদি কার দখলে বা ক্ষমতায় আছে তা বর্ণনা করবে।

৫) যে দলিল বিবাদি কর্তৃক লিখিত বিবৃতি দাখিলের সময় উপস্থাপন করা কোন তালিকায় লিপিবদ্ধ করে লিখিত বিবৃতির সাথে সংবর্ধিত কিংবা যুক্ত করা উচিত ছিল এবং যা তদনুসারে হাজির বা তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি, তা আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে মোকদ্দমা শুনানিকালে তার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা ব্যতিরেকে উক্তরূপ অনুমতি প্রদান করবে না।

৬) বাদির সাক্ষীদের জেরা করার জন্য কিংবা বাদির মাধ্যমে উত্থাপিত কোন বিষয়ের জবাবে কিংবা কোন সাক্ষীর স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে সকল দলিল তার হাতে দেয়া হয়, (৫) উপ-বিধির কোন বিধানই ঐ দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
২৪.
মোকদ্দমার কোনো পক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দিলে এবং আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা অস্বীকার করলে, আদালত কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে?
  1. মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখবে
  2. উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ
  3. মোকদ্দমা খারিজ
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

• আদেশ ১০ বিধি ৪(১,২) অনুসারে, যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয়, সেই ক্ষেত্রে আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত মোকদ্দমার শুনানী মুলতুবি রেখে উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। উক্ত নির্ধারিত দিনে এমন পক্ষ হাজির হতে ব্যর্থ হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে।

• উল্লেখ্য যে, আদেশ ১০ এর ৪ বিধির অধীন কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আদেশ হলো একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
২৫.
জিজ্ঞাসার মাধ্যমে উদঘাটন (Discovery by interrogatories) করতে পারে-
  1. বিবাদী কর্তৃক বাদীকে
  2. বাদী কর্তৃক বিবাদীকে
  3. ক এবং খ
  4. কোনটি নহে
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১নং আদেশের ১নং বিধিমতে-
আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে। বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।

বিধি ১ঃ প্রশ্নাবলী দ্বারা আবিষ্কার-
কোন মোকদ্দমায় বাদি কিংবা বিবাদিপক্ষ অপর পক্ষসমূহকে অথবা তাদের মধ্যে একজন বা একাধিক জনকে পরীক্ষা করার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে, বিচার্য বিষয় প্রণয়নের তারিখ থেকে দশ দিনের মধ্যে লিখিতরূপে প্রশ্নমালা প্রদান করতে পারে এবং অনুরূপ প্রশ্নমালা প্রদান করা হলে এর মধ্যে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর অনুরূপ ব্যক্তির কাউকে প্রদান করতে হবে তা প্রশ্নমালার পাদটিকায় লিখিত থাকবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন পক্ষ অপর পক্ষকে আদালতের আদেশ ব্যতিরেকে এক প্রস্থের অধিক প্রশ্নমালা প্রদান করবে নাঃ তবে আরও শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার সাথে কোনভাবেই সম্পর্কীত নয়, এরূপ প্রশ্নমালা সাক্ষীর মৌখিক জেরায় জিজ্ঞাসা করা চললেও এক্ষেত্রে তা অবান্তর বলে গণ্য হবে।
২৬.
বিবাদি তার জবাবে ঐ সমস্ত বিষয়াবলী উত্থাপন করবে যা থেকে দেখা যাবে যে-
  1. মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় নয়
  2. বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতে বাতিল বা বাতিলযোগ্য
  3. ক বা খ
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি ২-
বিবাদি তার জবাবে ঐ সমস্ত বিষয়াবলী উত্থাপন করবে যা থেকে দেখা যাবে যে, মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় নয় অথবা বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতে বাতিল বা বাতিলযোগ্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের ঐ সমস্ত হেতু উত্থাপন করবেন, যা উত্থাপন না করলে অপর পক্ষ বিস্মিত হত কিংবা আরজিতে উল্লেখ করা হয়নি এরূপ বিষয়াবলী উপস্থাপন করবেন যথা- তক্ষকতা, তামাদি, মুক্তি, পরিশোধ, কার্য সম্পাদন কিংবা আইনবিরুদ্ধ প্রমাণকারী তথ্যসমূহ।

[The defendant must raise by his pleading all matters which show the suit not to be maintainable or that transaction is either void for voidable in point of law and all such grounds of defence as if not raised, would be likely to take the opposite party by surprise or would raise issues of fact not arising out of the plaint as for instance, fraud, limitation, release, payment, performance, or facts showing illegality.]
২৭.
The Code of Civil Procedure,1908 এর Order IX Rule II অনুসারে, আদালত নিম্নলিখিত কোন কারণে মোকদ্দমা খারিজ করতে পারে?
  1. বাদী বা বিবাদী হাজির না হলে
  2. বিবাদী হাজির না হলে
  3. বাদী হাজির না হওয়ার কারণে
  4. বাদী কর্তৃক প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান না করার কারণে বিবাদী বরাবর সমন জারি না হলে
সঠিক উত্তর:
বাদী কর্তৃক প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান না করার কারণে বিবাদী বরাবর সমন জারি না হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদী কর্তৃক প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান না করার কারণে বিবাদী বরাবর সমন জারি না হলে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি-২ঃ

নির্ধারিত তারিখে যদি দেখা যায় যে, বাদি কোর্ট ফি প্রদান না করার কিংবা ঐরূপ সমনজারির জন্য প্রয়োজনীয় ডাক-মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ায় বিবাদির উপর সমন জারি করা হয় নেই, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দান করতে পারবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদির উপর সমন জারি না হলেও যদি তার হাজিরা ও জবাব দানের নির্ধারিত তারিখে সে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মারফতে হাজিরা চললে প্রতিনিধির মারফতে জন্য হাজির হয়, সেক্ষেত্রে অনুরূপ খারিজের আদেশ প্রদান করা যাবে না।

Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs-
Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff, to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed: 
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
২৮.
মোকদ্দমা খারিজ আদেশ প্রত্যাহার করা হলে, মোকদ্দমাটি-
  1. উভয় পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে চালু হবে
  2. খারিজ আদেশ দেয়ার পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, সেই অবস্থা থেকে চালু হবে
  3. বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে চালু হবে
  4. বিবাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিত থাকবে
সঠিক উত্তর:
খারিজ আদেশ দেয়ার পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, সেই অবস্থা থেকে চালু হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খারিজ আদেশ দেয়ার পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, সেই অবস্থা থেকে চালু হবে
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমা খারিজ আদেশ প্রত্যাহার করা হলে- মোকদ্দমাটি খারিজ আদেশ দেয়ার পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, সেই অবস্থা থেকে চালু হবে।

• আদেশ ৯ বিধি-১৫ঃ
যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমার খারিজ সংক্রান্ত আদেশ ৪ কিংবা ৯নং বিধির অধীনে কিংবা ৩১নং বিধির অধীনে কোন ডিক্রি রদ করা হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করার পরিপ্রেক্ষিতে, খারিজ করার আদেশ দান কিংবা ডিক্রি দেয়ার অব্যবহিত পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, উক্ত পর্যায় হতে মোকদ্দমাটি চালু করা হবে।

[Where the dismissal of a suit is set aside under rule 4 or rule 9, or a decree is set aside under rule 13, the suit shall, on restoration, proceed from the stage where it was immediately before the making of the order of dismissal or passing of the decree.]
২৯.
কোন ধরণের মোকদ্দমায় পারস্পরিক দায়শোধ বা Set off দাবি করা যায়?
  1. নিষেধাজ্ঞা
  2. অর্থ আদায়ের
  3. স্বত্বের
  4. স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত
সঠিক উত্তর:
অর্থ আদায়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ আদায়ের
ব্যাখ্যা
পারস্পরিক দায়শোধ বা Set off "অর্থ আদায়ের" মোকদ্দমায় দাবি করা যায়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

• ৮ নং আদেশের বিধি-৬ঃ লিখিত বর্ণনায় পারস্পরিক দায় শোধের বিবরণ দিতে হবে—
১) যেক্ষেত্রে টাকা প্রদায় করার দাবীতে পেশকৃত মোকদ্দমায় বাদির নিকট হতে তার প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করত বাদীর দাবী পরিশোধ করতে চায়, উক্ত প্রাপ্য টাকার পরিমাণ যদি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে না হয় এবং বাদির মোকদ্দমার ন্যায় বিবাদির দাবীর ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একই বৈশিষ্ট্যে পড়ে, তাহলে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে তার পরে নয়, বিবাদি তার পাওনা টাকার বিবরণ সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবে।

২) পারস্পরিক দাবী শোধের তাৎপর্যঃ আদালতকে মূল দাবী ও পারস্পরিক দাবী সমন্বয় সঙ্গে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা দিতে ক্ষমতা প্রদান করতে পারে এমন ধরণের পাল্টা মোকদ্দমার আরজির ন্যায় লিখিত বর্ণনার একই প্রকার ক্রিয়া হবেঃ
কিন্তু ডিক্রির টাকার উপর ডিক্রির অধীনে এদের খরচা বাবদ কোন উকিলের দাবী থাকলে তা এতদ্বারা প্রভাবিত হবে না।

৩) পারস্পরিক দাবী সমন্বয়ের দাবীতে বিবাদির লিখিত বর্ণনা সম্পর্কিত নিয়মাবলীসমূহ প্রদত্ত বিবৃতির উত্তর দানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

• বিবাদি যদি সেট অফ দাবি করতে চায় তাহলে বিবাদীকে নিম্নলিখিত শর্ত সমূহ পূরণ করতে হবে। যেমন-
i) মোকদ্দমাটি অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা হবে
ii) দাবীকৃত অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট হবে
iii) দাবীকৃত অর্থ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও আইনগতভাবে আদায়যোগ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদি সেই পরিমান টাকার দাবি সমন্বয় করে চাইতে পারবে যার পরিমান ঐ বিচারিক আর্থিক এখতিয়ারের মধ্যে হবে। বিচারিক আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বেশি হলে সে রকম পরিমাণের টাকার জন্য বিবাদি সেট-অফ দাবি করতে পারবে না
iv) দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদী উভয়কেই একই চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। অর্থাৎ মামলায় বাদী-বিবাদী একে অন্যের নিকট পাওনাদার বা দেনাদার না হলে সেই মামলায় সেট-অফের দাবি করা যাবে না
v) সেট-অফের মোকদ্দমায় আদালত বাদীর মূল দাবি এবং বিবাদীর সেট অফের ব্যাপারে এক সঙ্গে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে পারেন।
৩০.
বিবাদী কত দিনের মধ্যে একতরফা ডিক্রি সরাসরি রহিতকরণের (Directly setting aside ex-parte decree) জন্য প্রার্থনা করতে পারে?
  1. ডিক্রির তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে
  2. লিখিত জবাব দাখিলের ১৫ দিনের মধ্যে
  3. ডিক্রির তারিখ হতে ১৫ দিনের মধ্যে
  4. লিখিত জবাব দাখিলের ৬০ দিনের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
ডিক্রির তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিক্রির তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি ১৩(ক)- একতরফা ডিক্রি সরাসরি রহিতকরণ :

১) বিধি ১৩ বা অন্য কোন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আদালতে বিলম্ব অবসান ও বিচার ত্বরান্বিত করানোর উদ্দেশ্যে, বিধি ১৩ এর অধীন আদালতকে পর্যান্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করানোর উদ্দেশ্যে বাদিকে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান করে, সরাসরি ডিক্রি খারিজ করে দিতে পারেন, তবে আদালত উপযুক্ত ও নির্ধারণ করা সাপেক্ষে বাদীকে অনধিক তিন হাজার টাকার খরচা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির আওতায় কোন একতরফা ডিক্রি রহিত করা যাবে না, যদি না যে বিবাদী হাজির হয়েছিল এবং লিখিত বর্ণনাপত্র দাখিল করেছে সে বিবাদী কর্তৃক একতরফা ডিক্রির তারিখ হতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত একতরফা ডিক্রী রহিতকরণের জন্য প্রার্থনা করে এফিডেভিট সহকারে আদালতের নিকট আবেদন করে: তবে আরো শর্ত থাকে যে, একই বিবাদির অনুরোধে কোন ডিক্রিই একাধিকবার রহিত করা যাবে না।

২) কোন একতরফা ডিক্রি রহিতকরণের আদেশ প্রদানের সঙ্গে সঙ্গেই আদালতে বিবাদির খরচায় বাদির উপর নোটিশ জারি করাবেন।

• অর্থাৎ সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
৩১.
কোনো পক্ষের আয়ত্তাধীন দলিলসমূহ আদালত কখন দাখিল করার আদেশ প্রদান করতে পারেন?
  1. মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাকালীন যেকোনো সময়
  2. আরজি দাখিলের সময়
  3. লিখিত জবাব দাখিলের সময়
  4. রায় ঘোষণাকালে
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাকালীন যেকোনো সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাকালীন যেকোনো সময়
ব্যাখ্যা
 • আদেশ ১১ বিধি ১৪ঃ দলিলাদি দাখিল —

কোন মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাকালে যেকোনো সময়
কোন পক্ষ কর্তৃক আদালত যথোপযুক্ত মনে করবে এরূপ উক্ত মোকদ্দমায় কোন বিতর্কিত বিষয় সম্পর্কিত তার আয়ত্তাধীন দলিলসমূহ, শপথমূলে দাখিল করার আদেশ প্রদান করা আদালতের পক্ষে আইনসঙ্গত হবে; এবং
দাখিল করা হলে ন্যায়সঙ্গত হবে এরূপ প্রক্রিয়ায় আদালত উক্ত দলিলসমূহ সম্পর্কে বিবেচনা করতে পারে।

[It shall be lawful for the Court at time during the pendency of any suit to order the production by any party any thereto, upon oath of such of the documents in his possession or power relating to any matter in question in such suit, as the Court shall think right; and the Court may deal with such documents when produced in such manner as shall appear just.]
৩২.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত বিধির অধীন আদালত বিবাদীকে অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের আদেশ দিতে পারে?
  1. ৮ আদেশের ২ বিধির
  2. ৮ আদেশের ৭ বিধির
  3. ৮ আদেশের ৯ বিধির
  4. ৮ আদেশের ১০ বিধির
সঠিক উত্তর:
৮ আদেশের ৯ বিধির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ আদেশের ৯ বিধির
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment) করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

• প্রতিকার:

১০ বিধির নিয়মটি শুধুমাত্র প্রযোজ্য যখন ৯ বিধির অধীন বিবাদী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয় এবং উক্ত ব্যর্থতার কারণে আদালত রায় ঘোষণা করে আদেশ দিলে। ১০ বিধির অধীন রায় ঘোষণার আদেশ (An order pronouncing judgment) হলো (আপীলযোগ্য আদেশ) তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। 
৩৩.
ডিক্রি রদের আবেদন সম্পর্কে _______ নোটিশ জারি করা না হলে, উক্ত আবেদনক্রমে ডিক্রি রদ করা যাবে না।
  1. আদালতকে
  2. উভয় পক্ষকে
  3. অপর পক্ষকে
  4. উল্লেখিত সকলকে
সঠিক উত্তর:
অপর পক্ষকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপর পক্ষকে
ব্যাখ্যা
অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদান না করে কোন ডিক্রি রদ করা যাবে না।
[No decree to be set aside without notice to opposite party]

আদেশ ৯ বিধি ১৪ অনুযায়ী-
ডিক্রি রদের আবেদন সম্পর্কে অপর পক্ষকে নোটিশ জারি করা না হলে্‌ উক্ত আবেদনক্রমে ডিক্রি রদ করা যাবে না।
[No decree shall be set aside on any such application as aforesaid unless notice thereof has been served on the opposite party.]
৩৪.
যদি বিবাদী আরজির কোন বিষয় চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করেন, তবে তা ____বলেই ধরে নেয়া হবে।
  1. অস্বীকার করেছেন
  2. স্বীকার করেছেন
  3. ক বা খ
  4. বাতিল
সঠিক উত্তর:
স্বীকার করেছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বীকার করেছেন
ব্যাখ্যা
• আদেশ-৮, বিধি-৩: সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার-
ক্ষতিপূরণ ব্যতীত আরজিতে উল্লেখিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদী সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করবে, তা নাহলে বিবাদী তা স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদী তার লিখিত জবাবে বাদীর দাবি চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করবে না। যদি বিবাদী আরজির কোন বিষয় চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করেন, তবে তা স্বীকার করেছেন বলেই ধরে নেয়া হবে।

Denial to be specific-
It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.
৩৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী তথ্য উদঘাটন বা আবিষ্কার কয় ভাবে হতে পারে?
  1. ৪ ভাবে
  2. ৩ ভাবে
  3. ২ ভাবে
  4. ৫ ভাবে
সঠিক উত্তর:
২ ভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাবে
ব্যাখ্যা
• Discovery বলতে মোকদ্দমার পক্ষগণের দখলে থাকা তথ্যকে প্রকাশে করা বোঝায়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশে উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার ও পরিদর্শন (Discovery and Inspection) বিষয়ে আলোচনা  করা হয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার দুইভাবে হতে পারে। যথা-

১- প্রশ্নের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) এবং
২- দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)।

• প্রশ্নমালার সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories)-

দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে।
বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়।আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবেনা। ১১ নং আদেশের ২ নং বিধিমতে প্রশ্নমালা প্রদানের অনুমতির সিদ্ধান্ত আদালত ১৪ দিনের মধ্যে প্রদান করবেন।

• দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)-

১১ নং আদেশের ১২ নং বিধিতে দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents) এর আবেদন করার বিধান রয়েছে। মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর সাথে কোন দলিল প্রাসঙ্গিক হলে মোকদ্দমার কোন পক্ষ উক্ত দলিল দাখিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবে।
এই আদেশের ১৪ নং বিধি অনুযায়ী আদালত মামলা চলাকালে যে কোন সময় মামলার কোন . পক্ষকে মামলার বিষয় সম্পর্কিত কোন দলিল আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে।
৩৬.
আদালত সর্বোচ্চ কত বার সরাসরি মোকদ্দমা খারিজ আদেশ বাতিলের আবেদন মঞ্জুর করবে?
  1. ২ বার
  2. ৩ বার
  3. ১ বার
  4. ৪ বার
সঠিক উত্তর:
১ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বার
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-৯কঃ সরাসরি খারিজ রদকরণ —
১) বিধি ৯ কিংবা অন্য কোন আইনে যা কিছুই থাকে না কেন, আদালতে বিলম্ব এড়ানো ও বিচার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করানোর উদ্দেশ্যে বিধি ৯ এর অধীন বাদিকে আদালতকে পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য উপস্থাপন করার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি খারিজ নিষ্পত্তি করে দিতে পারেন।
তবে উক্ত বাদিকে অনধিক এক হাজার টাকার খরচ যা যথাযথ ও নির্ধারিত বলে মনে করবেন, প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি ৮ এর অধীন কোন খারিজ এই বিধির অধীন রহিত করা যাবে না, যদি না খারিজের আদেশ প্রদানের তারিখ হতে ত্রিশদিনের মধ্যে খারিজের আদেশ রহিতকরণের উদ্দেশ্যে এফিডেবিট সহযোগে আদালতে আবেদন দাখিল করা না হয়ে থাকেঃ

আরো শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীন কোন খারিজের আদেশ একাধিকবার রহিত করা যাবে না।

২) উপ-বিধি (১) এর অধীন কোন একতরফা খারিজ রহিতকরণের আবেদন দর্শিত হওয়ার সঙ্গে আদালতে বাদির খরচায় মোকদ্দমায় উপস্থিত হয়েছেন এমন বিবাদির বরাবরে নোটিশ জারির ব্যবস্থা করাবেন।
৩৭.
কোন প্রশ্নমালা অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসামূলক হলে, কত দিনের মধ্যে কর্তনের জন্য আবেদন করতে হয়?
  1. ১০ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
ব্যাখ্যা
• আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে।বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবেনা।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১১নং আদেশে এই সংক্রান্ত বিধি-বিধান রয়েছে।

• ১১ নং আদেশ বিধি-৭ঃ প্রশ্নমালা রদ এবং কর্তন-

কোন প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে উত্থাপিত হয়েছে—এ অজুহাতে তা রদ করা যেতে পারে, কিংবা তা দীর্ঘ ও শব্দ বহুল, যাতনাদায়ক, অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসামূলক বলে কর্তন করা যেতে পারে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন আবেদন করতে হলে প্রশ্নমালা জারির সাতদিনের মধ্যে পেশ করা যেতে পারে।

[Rule.-7: Setting aside and striking out interrogatories-
Any interrogatories may be set aside on the ground that they have been exhibited unreasonably or vexatiously, or struck out on the ground that they are profix, oppressive, unnecessary or scandalous; and any application for this purpose may be made within seven days after service of the interrogatories.]
৩৮.
লিখিত জবাবের সাথে দাখিলকৃত দলিলাদি আদালত কখন ফেরত প্রদান করতে পারে?
  1. ঐ সকল দলিলের ফটোস্ট্যাট কপি আদালতে দাখিল করলে
  2. উকিল কর্তৃক সত্যায়িত প্রতিলিপি আদালতে দাখিল করলে
  3. ক এবং খ
  4. ক বা খ
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
ব্যাখ্যা
• বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে তাকে লিখিত জবাব বা Written Statement বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশে লিখিত জবাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিখিত জবাবের সাধারন নিয়মাবলী ৮ নং আদেশের ১ হতে ১০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ৮ বিধি (১)-

১) ৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।

২) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার দখলীয় কিংবা ক্ষমতায় রক্ষিত দলিলসমূহের উপর তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বা দাবী সমন্বয় করার দাবীর সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে নির্ভর করেন, সেক্ষেত্রে তিনি লিখিত বিবৃতি পেশ করার সময় তা আদালতে উপস্থাপন করবে এবং তখনই দলিলসমূহ লিখিত বিবৃতির সাথে নথিভুক্ত করার জন্য দিবে ।

৩) শুনানির সময় বা আদালত তলব করলে তখনই দাখিল করার অঙ্গীকার প্রদান করে ঐ সকল দলিলের ফটোস্ট্যাট কিংবা উকিল কর্তৃক সত্যায়িত প্রতিলিপি প্রতিস্থাপিত হওয়ার পর প্রতিলিপি আদালতে দাখিল করলে আদালত এরূপ দলিলাদি ফেরত প্রদান করতে পারে।

৪) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বা পাল্টা দাবীর অধিকার সমর্থনে তার দখলে ব ক্ষমতায় না থাকা অন্য প্রকার দলিলাদির উপর নির্ভর করে, সেক্ষেত্রে সে লিখিত বিবৃতির সঙ্গে সংযোজন কিংবা যুক্ত করার জন্য একটি তালিকায় অনুরূপ দলিলাদি অন্তর্ভুক্ত করবে এবং ঐ দলিলাদি কার দখলে বা ক্ষমতায় আছে তা বর্ণনা করবে।

৫) যে দলিল বিবাদি কর্তৃক লিখিত বিবৃতি দাখিলের সময় উপস্থাপন করা কোন তালিকায় লিপিবদ্ধ করে লিখিত বিবৃতির সাথে সংবর্ধিত কিংবা যুক্ত করা উচিত ছিল এবং যা তদনুসারে হাজির বা তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি, তা আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে মোকদ্দমা শুনানিকালে তার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা ব্যতিরেকে উক্তরূপ অনুমতি প্রদান করবে না।

৬) বাদির সাক্ষীদের জেরা করার জন্য কিংবা বাদির মাধ্যমে উত্থাপিত কোন বিষয়ের জবাবে কিংবা কোন সাক্ষীর স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে সকল দলিল তার হাতে দেয়া হয়, (৫) উপ-বিধির কোন বিধানই ঐ দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
৩৯.
মোকদ্দমায় শুনানী (hearing) বলতে কি বোঝায়?
  1. রায় বা ডিক্রি শুনানী
  2. মোকদ্দমার পক্ষসমূহের বক্তব্য শ্রবণ
  3. বিচারকের বক্তব্য শ্রবণ
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমার পক্ষসমূহের বক্তব্য শ্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোকদ্দমার পক্ষসমূহের বক্তব্য শ্রবণ
ব্যাখ্যা
• হেয়ারিং বা শুনানী বলতে কোন মোকদ্দমায় কোন বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের বক্তব্য শ্রবণ, যাচাই অথবা জিজ্ঞাসাবাদ করাকে বোঝায়। কোন বিষয় বা ঘটনার শুনানীর মানে বিষয় বা ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত শোনা এবং সেই অনুসারে সিদ্ধান্ত দেয়া।

• দেওয়ানি মোকদ্দমার মূলত তিন ধরনের শুনানী হয়ে থাকে। যথা-

i) বিচার কার্যক্রম-পূর্ব শুনানী (Pre-trial hearing);

ii) চূড়ান্ত শুনানী (Pre-emptory hearing); এবং

iii) অধিকতর শুনানী (Further hearing)।
৪০.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় অপরিপক্ক বা অকালীয় উদঘাটনের (premature discovery) বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-১১, বিধি-১৮
  2. আদেশ-১১, বিধি-১৯
  3. আদেশ-১১, বিধি-২০
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আদেশ-১১, বিধি-২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশ-১১, বিধি-২০
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ২০ নং বিধিতে অপরিপক্ক বা অকালীয় উদঘাটনের (premature discovery) বিধান রয়েছে।

• আদালত যখন উদঘাটন বা আবিষ্কারের প্রশ্ন স্থগিত রেখে, আগে অন্য কোন বিচার্য বিষয় বা প্রশ্নের নিষ্পত্তি করার নির্দেশ প্রদান করে তখন তাকে অপরিপক্ষ উদঘাটন (premature discovery) বলে।

যখন উদঘাটন বা আবিষ্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে অন্য কোনো বিচার্য বিষয় বা প্রশ্নের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে আদালত মনে করেন, তখন উক্ত আদেশ প্রদান করবেন।
৪১.
অযৌক্তিক প্রশ্নমালা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যাবতীয় খরচাদি কে বহন করবেন?
  1. আদালত
  2. আদালত যে পক্ষকে নির্দেশ দিবেন
  3. ত্রুটির জন্য দায়ী পক্ষ
  4. উভয় পক্ষ
সঠিক উত্তর:
ত্রুটির জন্য দায়ী পক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রুটির জন্য দায়ী পক্ষ
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১১ বিধি-৩ঃ 
মোকদ্দমার খরচ সমন্বয়করণে কোন পক্ষের অনুরোধক্রমে অনুরূপ প্রশ্নমালা উপস্থাপনের যথার্থতা অনুসন্ধান করে দেখা হবে, এবং অনুসন্ধানের জন্য আবেদনে কিংবা আবেদন ছাড়া যদি কর কর্মকর্তার বা আদালতের এটা অভিমত হয় যে অনুরূপ প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে বা অযথা দীর্ঘ অবস্থায় উপস্থাপিত হয়েছে, তবে উক্ত প্রশ্নমালা ও তাদের উত্তর সংক্রান্ত খরচাসমূহ ত্রুটির জন্য দায়ী পক্ষ মারফত যে কোন খাতে বহন করা হবে।

[Rule-3:
in adjusting the costs of the suit inquiry shall at the instance of any party be made into the property of exhibiting such interrogatories, and if it is the opinion of the taxing officer or of the Court either with or without an application for inquiry that such interrogatories have been exhibited unreasonably, vexatiously or at improper length, the costs occasioned by the said interrogatories and the answers thereto shall be paid in any event by the party in fault.]
৪২.
জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিনে পক্ষ হাজির হতে ব্যর্থ হলে,আদালত-
  1. উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে
  2. মোকদ্দমা বাতিল করতে পারে
  3. মোকদ্দমা স্থগিত করতে পারে
  4. উল্লেখিত যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে
সঠিক উত্তর:
উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

• আদেশ ১০ বিধি ৪ অনুসারে- যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয় সেই ক্ষেত্রে আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত মোকদ্দমার শুনানী মুলতুবি রেখে উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। উক্ত নির্ধারিত দিনে এমন পক্ষ হাজির হতে ব্যর্থ হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে

• উল্লেখ্য যে, আদেশ ১০ এর ৪ বিধির অধীন কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আদেশ হলো একটি আপীলযোগ্য আদেশ। 
৪৩.
সমনে নির্ধারিত তারিখে আদালতে বিবাদী হাজির হতে পারে-
  1. নিজে
  2. নিজ উকিলের মাধ্যমে
  3. ক বা খ
  4. প্রতিনিধির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি-১ঃ 
বিবাদির উপস্থিতির এবং জবাব দানের জন্য সমনে নির্ধারিত তারিখে পক্ষগণ স্বয়ং কিংবা তাদের নিজ নিজ উকিলের মাধ্যমে বিচারালয়ে হাজিরা দিবেন এবং অতঃপর আদালত কর্তৃক ভবিষ্যতের কোন দিন পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মূলতবী না হলে ঐ দিন মোকদ্দমার শুনানি সংগঠিত হবে।

Rule 1-
On the day fixed in the summons for the defendant to appear and answer, the parties shall be in attendance at the Court-house in person or by their respective pleaders and the suit shall then be heard unless the hearing is adjourned to a future day fixed by the Court.
৪৪.
একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করার বিধান করা হয়েছে-
  1. বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য
  2. বিবাদিকে বিশেষ সুযোগ দানের জন্য
  3. ক এবং খ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
ব্যাখ্যা

• ৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।

• আদেশ-৯, বিধি-১৩: 
একতরফা ডিক্রি রদ / বাতিল (Set aside ex parte decree)- 
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১০ নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি; 
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারেনি।

• আদেশ-৯, বিধি-১৩কঃ
সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল ( Directly setting-aside exparte decree)- 
বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।

অর্থাৎ বিধি-১৩ক সরাসরি বলে এটি "বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য" (ক)। কিন্তু একইসাথে এটি বিবাদীকে সরাসরি রদের আবেদন করার একটি দ্রুত ও সহজ বিকল্প পথ দেয়, যা তাকে বিশেষ সুযোগ দেয় (খ)। ফলে, বিধানটির উদ্দেশ্য আসলে উভয়টি – বিচার দ্রুত করা এবং বিবাদীর জন্য বিশেষ পদ্ধতি তৈরি করা।

৪৫.
যেসকল দলিলাদি লিখিত জবাব দাখিলের সময় বিবাদীর দাখিল করার প্রয়োজন ছিল কিন্তু দাখিল করেনি, উক্ত দলিলসমূহ বিবাদী-
  1. পরবর্তীতে দাখিল করতে পারবে না
  2. পরবর্তীতে দাখিল করতে পারবে
  3. ব্যতিক্রম প্রেক্ষাপটে আদালতে অনুমতি নিয়ে দাখিল করতে পারবে
  4. ক এবং গ উভয়
সঠিক উত্তর:
ক এবং গ উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
• বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে তাকে লিখিত জবাব বা Written Statement বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশে লিখিত জবাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিখিত জবাবের সাধারন নিয়মাবলী ৮নং আদেশের ১ হতে ১০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ৮ বিধি (১)-
যে দলিল বিবাদি কর্তৃক লিখিত বিবৃতি দাখিলের সময় উপস্থাপন করা কোন তালিকায় লিপিবদ্ধ করে লিখিত বিবৃতির সাথে সংবর্ধিত কিংবা যুক্ত করা উচিত ছিল এবং যা তদনুসারে হাজির বা তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি, তা আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে মোকদ্দমা শুনানিকালে তার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা ব্যতিরেকে উক্তরূপ অনুমতি প্রদান করবে না।

বাদির সাক্ষীদের জেরা করার জন্য কিংবা বাদির মাধ্যমে উত্থাপিত কোন বিষয়ের জবাবে কিংবা কোন সাক্ষীর স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে সকল দলিল তার হাতে দেয়া হয়, (৫) উপ-বিধির কোন বিধানই ঐ দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
৪৬.
প্রস্তাবিত প্রশ্নমালা আদালতে উপস্থাপনের কত দিনের মধ্যে, আদালত অনুমতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে?
  1. ১০ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ১৫ দিন
সঠিক উত্তর:
১৪ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ দিন
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১১ বিধি ২-
প্রশ্নমালা প্রদানের অনুমতির জন্য আবেদনের উপর প্রদান করতে প্রস্তাবিত নির্ধারিত প্রশ্নমালা আদালতে পেশ করতে হবে এবং আদালত অনুরূপ দরখাস্ত পেশ করার চৌদ্দ (১৪) দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে
এরূপ আবেদনের উপর সিদ্ধান্ত নেয়ার কালে যে পক্ষকে (অপর পক্ষ) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ঐ পক্ষ যদি কোন বিবরণ- প্রদানের বা স্বীকার করার কিংবা মোকদ্দমার প্রশ্ন কিংবা তাদের কোন বিতর্কিত বিষয় সম্পর্কীত কোন দলিল উপস্থিত করার প্রস্তাব করতে বা তাদের যে কোন প্রস্তাব আদালত বিবেচনা করে দেখবে এবং মোকদ্দমার সুষ্ঠ বিচারের জন্য বা ব্যয় বাঁচানোর জন্য যেগুলো প্রয়োজনীয় বলে আদালত মনে করেন, শুধুমাত্র ঐ প্রশ্নগুলো দাখিল করার জন্যই আদালত অনুমতি প্রদান করবে।

Rule-2: 
On an application for leave to deliver interrogatories, the particular interrogatories proposed to be delivered shall be submitted to the Court and that Court shall decide within fourteen days form the date of filing of the said applications.
In deciding upon such application, the Court shall take into account any offer which may be made by the party sought to be interrogated to deliver particulars or to make admissions, or to produce documents relating to the matters in question or any of them and leave shall be given as to such only of the interrogatories submitted as the Court shall consider necessary either for disposing fairly of the suit or for saving costs.