পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: পরীক্ষা – ২ টপিক: i) সু-শাসনের বৈশিষ্ট্য, শর্ত, উপাদান, স্তম্ভ, সু-শাসন ও বিভিন্ন সংস্থা সু-শাসন সম্পর্কিত সূচক, বই, টার্ম। ii) নীতিবিদ্যার ধারণা, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ, আদর্শ। [Live Class – 3 & 4]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
UNDP অনুযায়ী, সুশাসন মানে কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল
  2. অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি
  3. আইনি কাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ
  4. রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি
ব্যাখ্যা

UNDP অনুযায়ী, সুশাসন হলো সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা।
----------------------------------------------
• সুশাসন:
- সুশাসন ধারণাটি মূলত বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় প্রথমবারের মতো 'Good Governance' বা সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই গভর্নেন্স।
- ২০০০ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল—
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।
-----------------------
• সুশাসন ও UNDP:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসন অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত প্রশাসন নিশ্চিত করে, যা টেকসই মানব উন্নয়নে সহায়ক।

- UNDP সুশাসনের ৯ টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে- 
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহি, 
- কৌশলগত লক্ষ্য। 

উৎস:
UNDP Website; 
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
সুশাসন সম্পর্কিত ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. UNHCR
  2. UNDP 
  3. European Economic Community 
  4. International Development Agency
সঠিক উত্তর:
European Economic Community 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
European Economic Community 
ব্যাখ্যা

European Economic Community (EEC) সুশাসন উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করে।
------------------------------- 
• White Paper ও সুশাসন:
- White Paper বা শ্বেতপত্র- হলো কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা, নীতি বা প্রকল্পের ওপর বিস্তারিত তথ্য, বিশ্লেষণ এবং সমাধানের প্রস্তাবনা সম্বলিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন।
- এটি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, জনগণ বা পার্লামেন্টকে তথ্য প্রদান করতে এবং ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। 
- শ্বেতপত্র প্রকাশ সাধারণত পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক করা হয়।
- এবং কখনও কখনও নতুন আইন বা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আগে জারি করা হয়।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এই প্রথা প্রচলিত।

- শ্বেতপত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—
- তথ্যবহুল বিশ্লেষণ, নীতি নির্ধারণী প্রস্তাব, স্বচ্ছতা প্রদর্শন, এবং জনগণকে প্রচারের মাধ্যমে সচেতন করা। সহজ কথায়, শ্বেতপত্র হলো।
- ইংল্যান্ডে এটিকে Parliamentary Papers বলা হয়।

- সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ, এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য।
- দুর্নীতি হলো সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।

- European Economic Community (EEC) সুশাসনের উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করে থাকে
- এই পত্রে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।

.
জাতিসংঘ (UN) সুশাসন বাস্তবায়নে কয়টি মূল নীতি অনুসরণ করে?
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি 
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন দ্বারা সরকারি সম্পদ ও ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন করা হয়।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

- ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ "Human Development Report" প্রকাশ করে সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
- জাতিসংঘ সুশাসন বাস্তবায়নে মোট ৮টি মূল নীতি অনুসরণ করে—
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনের শাসন (Rule of Law),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- প্রতিক্রিয়াশীলতা (Responsiveness),
- ঐক্যমত্য (Consensus Oriented),
- সাম্য ও অন্তর্ভুক্তিকরণ (Equity and Inclusiveness),
- কার্যকারিতা ও দক্ষতা (Effectiveness and Efficiency),
- জবাবদিহিতা (Accountability)।
- প্রতিটি নীতি সুশাসনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

.
কোন গ্রন্থে এরিস্টটল সুশীল সমাজ (Civil Society) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন?
  1. দি পলিটিক্স
  2. নিকোম্যাচিয়ান এথিক্স
  3. দি লজিক 
  4. দি এথিক্স
সঠিক উত্তর:
দি পলিটিক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দি পলিটিক্স
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও সুশীল সমাজ:
- সুশাসন ও সুশীল সমাজ বিষয়ে এরিস্টটল তাঁর পলিটিক্স গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
- তিনি ইংরেজি ‘Civil Society’ ধারণাটিকে বাংলা অর্থে ‘সুশীল সমাজ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা কখনও নাগরিক সমাজ, জনসমাজ, লোকসমাজ বা বেসামরিক সমাজ হিসেবেও অভিহিত হয়।
- এরিস্টটল রাষ্ট্রকে একটি সুশীল সমাজ বা রাজনৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে দেখতেন, যেখানে নাগরিকরা শাসন ও শাসিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। 
- এবং রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো নাগরিকদের নৈতিক ও গুণগত জীবন নিশ্চিত করা।

- তিনি সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং নৈতিক শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন।
- রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও কার্যকর শাসনের জন্য তিনি মধ্যবিত্তের প্রাধান্যকে অপরিহার্য মনে করতেন, কারণ এটি ধনী ও দরিদ্রের চরমপন্থার ঝুঁকি কমায়।
- এছাড়া তিনি সুশাসনকে ‘পলটি’ (Polity) বা সাংবিধানিক সরকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে এবং ক্ষমতা সীমিত ব্যক্তির হাতে থাকে না।
- আদর্শ রাষ্ট্রে নাগরিকদের উচিত আত্মনির্ভর, পরস্পরকে চেনা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হওয়া। 
- মূলত, এরিস্টটলের কাছে সুশাসন হলো নাগরিকদের সুখী ও নৈতিক জীবন যাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা।
--------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- দি এথিক্স (নীতিশাস্ত্র) ও দি লজিক (যুক্তিবিদ্যা) এরিস্টটলের লিখা বই। 
- নিকোম্যাচিয়ান এথিক্স এরিস্টটল রচিত নীতিশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

.
গণতন্ত্র সূচক (Democracy Index) প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. Transparency International
  2. Economist Intelligence Unit
  3. UNDP
  4. World Justice Project
সঠিক উত্তর:
Economist Intelligence Unit
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Economist Intelligence Unit
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র সূচক (Democracy Index):
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU)।
- এটি The Economist Group-এর একটি অঙ্গসংস্থা।
- এটি প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থার মূল্যায়ন করে এই সূচক প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সাধারণত ১৬৫টি স্বাধীন দেশ ও দুটি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- সূচকটি নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান মানদণ্ড ব্যবহৃত হয়—
- নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় ব্যবস্থা,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং
- নাগরিক অধিকার।
- মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- পূর্ণ গণতন্ত্র,
- ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র,
- মিশ্র শাসনব্যবস্থা এবং
- কর্তৃত্ববাদী শাসন।
----------------------------
• সুশাসন সম্পর্কিত সূচক:
- সুশাসন কতটা কার্যকরভাবে একটি দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে—তা পরিমাপ করার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নানা সূচক (Index) প্রকাশ করে।
- এসব সূচক মিলেই একটি দেশের সুশাসনের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে।
- যেমন, 
• আইনের শাসন সূচক দেখায় আইন কতটা ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, এটি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক World Justice Project।

• মানুষের জীবনমান পরিমাপের জন্য UNDP ১৯৯০ সাল থেকে মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) প্রকাশ করছে।

• গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যাচাই করা হয় World Press Freedom Index দ্বারা, যা প্রকাশ করে Reporters Without Borders.

• মানুষের সামগ্রিক সুখের মাত্রা বোঝাতে World Happiness Index প্রকাশ করে Sustainable Development Solutions Network.

• এছাড়া, বিশ্বে শান্তির অবস্থা জানাতে Global Peace Index প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক Institute for Economics and Peace.

• দুর্নীতির মাত্রা নির্ণয়ে সবচেয়ে পরিচিত সূচক হলো Corruption Perceptions Index, যা প্রকাশ করে Transparency International. 

• আধুনিক অর্থনীতিতে ডিজিটাল বাণিজ্যের অবস্থা বোঝাতে UNCTAD প্রকাশ করে E-commerce Index। Economist Intelligence Unit. 

উৎস: ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট সূচকের ওয়েবসাইট। 

.
ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য-
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
  2. দারিদ্র বিমোচন
  3. উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়ন
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স বলতে বোঝায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)—যেমন ইন্টারনেট, কম্পিউটার ও মোবাইল নেটওয়ার্ক—ব্যবহার করে সরকারি সেবা ও তথ্যকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজভাবে জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়ার একটি আধুনিক শাসনব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে—
- সরকারের কার্যক্রমকে দক্ষ ও জনগণমুখী করা হয়,
- প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কমানো হয় এবং
- নাগরিকরা সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়।

- ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য হলো- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এর সঙ্গে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
- এটি সাধারণত চারটি ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। 
- এটি সর্বত্র বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ে।
- ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্স বা অনলাইন গভর্নেন্স নামেও অভিহিত করা হয়।

- জাতিসংঘের মতে,
- ই-গভর্নেন্স হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করে সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া হয়।

- বিশ্বব্যাংক ই-গভর্নেন্সকে ব্যাখ্যা করেছে- 
- সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি—যেমন নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ ও সেবা বিনিময়ের সক্ষমতা হিসেবে।

- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ. পি. জে. আবদুল কালাম ই-গভর্নেন্সকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের উন্নত ও পরিষ্কার সেবা প্রদানের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন।

- ই-গভর্নেন্স একদিকে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদার করে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলে।
- ই-গভর্নেন্সের আক্ষরিক অর্থ হলো প্রযুক্তিনির্ভর বা ডিজিটাল সরকার, যার প্রধান কাজ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা প্রদান করা।
- জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট উন্নয়ন সূচক (EGDI) ২০২৪ অনুযায়ী ডেনমার্ক শীর্ষে এবং সুদান সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল, আর বাংলাদেশ ছিল ১০০তম স্থানে।
- সর্বোপরি, ই-গভর্নেন্সের একমাত্র ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএচসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের প্রধান তিনটি গুণ কী কী? 
  1. শিক্ষা, দেশপ্রেম ও আনুগত্য
  2. সাহস, নেতৃত্ব ও কর্তব্যবোধ
  3. সততা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা
  4. বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম
ব্যাখ্যা

• সুনাগরিকের গুণ:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইসের মতে, একজন সুনাগরিকের তিনটি প্রধান ও অপরিহার্য গুণ রয়েছে—
- বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।
- এই তিনটি গুণ অর্জনের মাধ্যমেই একজন সাধারণ মানুষ নিজেকে প্রকৃত অর্থে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

• সুনাগরিকের প্রথম গুণ হলো বুদ্ধি।
- এর মাধ্যমে সে শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে রাষ্ট্রের আইন, অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে। 
- এবং সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে।

• দ্বিতীয় গুণ বিবেক।
- বিবেক একজন নাগরিককে ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে শেখায়।

• তৃতীয় গুণ আত্মসংযম। 
- এটি দ্বারা নাগরিক নিজের আবেগ, অসৎ প্রবৃত্তি ও স্বার্থপরতা নিয়ন্ত্রণে রেখে সমাজের মঙ্গল ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে দারিদ্র বিমোচনের জন্য সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?  
  1. সুশাসনের বুদ্ধিভিত্তিক দিক
  2. সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
  3. সুশাসনের মূল্যবোধের দিক
  4. সুশাসনের গণতান্ত্রিক দিক
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
ব্যাখ্যা

Millennium Development Goals:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়সংগত ও কার্যকর প্রশাসনের কথা উল্লেখ করা হয়, যা টেকসই মানব উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলে।
- এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals—MDG) অর্জনের ক্ষেত্রেও সুশাসনের গুরুত্ব বিশেষভাবে স্বীকৃত।

- MDG মূলত বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রণীত একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
- ২০০০ সালের ৬–৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন সম্মেলনে ৮টি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
- এবং সেগুলো অর্জনের জন্য ১৫ বছরের সময়সীমা নির্ধারিত হয়।
- এই লক্ষ্যগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় বিশ্বের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

- MDG-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল- দারিদ্র্য বিমোচন। 
- এটি অর্জনের জন্য মানুষের ন্যূনতম দৈনিক আয় দারিদ্র্যসীমার ওপরে—অর্থাৎ ১.২৫ মার্কিন ডলারের বেশি—নিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়।
- এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দায়িত্বশীল শাসন অপরিহার্য হওয়ায় MDG বাস্তবায়নে সুশাসনের অর্থনৈতিক মাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (MDG) হচ্ছে -
• চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল,
• সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন,
• শিক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ,
• শিশু মৃত্যু হ্রাসকরণ,
• মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন,
• এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ,
• পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ,
• উন্নয়নের জন্য একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিকাশ ঘটানো।

উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।

.
দুর্নীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Corruption-এর উৎপত্তি ল্যাটিন কোন শব্দ থেকে?
  1. Corruptus
  2. Corrigo
  3. Curatio
  4. Conducere
সঠিক উত্তর:
Corruptus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Corruptus
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও দুর্নীতি:
- দুর্নীতি (Corruption) শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ Corruptus থেকে।
- এটি মূলত ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনের জন্য বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত ক্ষমতার অপব্যবহারকে বোঝায়।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission, ACC) গঠন করা হয়। 
- এই কমিশন দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (United Nations Convention Against Corruption, UNCAC) এর মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতিমালা প্রচলিত হয়েছে।

- বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন-এর একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছে, “ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।”
- সুশাসনের জন্য দুর্নীতি দমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ দুর্নীতি শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা হ্রাস করে।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে সংযুক্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১০.
জোহানেসবার্গ প্ল্যান অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (JPOI)-তে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কোনটি স্বীকৃত?
  1. অর্থনৈতিক বৃদ্ধি
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ 
  4. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

• জোহানেসবার্গ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (JPOI) ও সুশাসন:
- জোহানেসবার্গ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (Johannesburg Plan of Implementation – JPOI) ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন’ থেকে গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- এই পরিকল্পনায় সুশাসন (Good Governance) টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত।
- এটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
- JPOI-এর মূল লক্ষ্য হলো- পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- মূলত, JPOI উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একযোগে পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের পথে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করে।
- পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করা না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন অসম্ভব।

- পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- 
- দারিদ্র্য বিমোচন,
- ক্ষুধা হ্রাস,
- নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন,
- উপযুক্ত আবাসন,
- নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার,
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং
- স্বাস্থ্য সুরক্ষা (যেমন HIV/AIDS, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা প্রতিরোধ)। 

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]। 

১১.
নীতি বিদ্যার আলোচ্য বিষয় কি?
  1. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন
  2. মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান
  3. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা
  4. মানুষের জীবনের সফলতার দিকগুলো আলোচনা
সঠিক উত্তর:
সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যা বা Ethics শব্দটি গ্রিক ভাষার Ethica থেকে উদ্ভূত, যা আবার Ethos থেকে এসেছে।
- Ethos-এর অর্থ হলো চরিত্র, রীতিনীতি বা অভ্যাস।
- নীতিবিদ্যাকে Moral Philosophy বা নীতি দর্শনও বলা হয়।
- নীতি বিদ্যার আলোচ্য বিষয়- সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন। 

• উইলিয়াম লিলি (William Lillie) নীতিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এমনভাবে যে- 
- এটি সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যা মানুষের আচরণকে যথাযথ বা অনুচিত, ভালো বা মন্দ হিসেবে বিচার করে।

• অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি (Mackenzie) নীতিবিদ্যাকে সংক্ষেপে “আচরণের মঙ্গল বা ঔচিত্যের আলোচনা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

• সোফিস্টরা নীতি বিদ্যাকে প্রথমবার জনসম্মুখে তুলে ধরেন।
- তাদের প্রধান দার্শনিক মূলমন্ত্র ছিল- “মানুষ সব কিছুর পরিমাপক”, যা মানুষের বিচার-বিশ্লেষণ ও নৈতিকতা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

• নীতিবিদ্যার মূল চারটি ধারা হলো:
- পরানীতিবিদ্যা (Normative Ethics),
- আদর্শনিষ্ঠ নীতিবিদ্যা (Deontological Ethics),
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা (Descriptive Ethics),
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা (Applied Ethics).

• নীতিবিদ্যার আদর্শ বা মূল প্রবণতাগুলো হলো:
- সুখবাদ (Hedonism),
- বিচারবাদ (Justice-centered Ethics),
- সম্পূর্ণবাদ (Perfectionism),
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism).

উৎস:
নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ব্রিটানিকা।

১২.
‘Know Thyself’ উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো 
  2. অ্যারিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. পিথাগোরাস
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

‘Know Thyself’ উক্তি:
- পৃথিবীর সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন বিশ্বব্যাপী দর্শন ও সভ্যতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও চিন্তাধারা জ্ঞান ও নীতিবিদ্যা জগতকে সমৃদ্ধ করেছে।
- তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাগুরু হলেন সক্রেটিস (Socrates)।
- তিনি প্রাচ্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা হিসেবে খ্যাত।

- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি ‘Know Thyself’ বা ‘নিজেকে জানো’।
- তিনি প্রায়ই এই উক্তি নিজের নীতিবিদ্যা ও জীবন দর্শনের প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতেন।
- সক্রেটিসের দর্শনে “Know Thyself” হলো আত্মপরিচয় এবং নিজের সীমাবদ্ধতা, জ্ঞান ও নৈতিক দায়িত্ব বোঝার মাধ্যমে নৈতিক ও যুক্তিসম্মত জীবনযাপন করার নির্দেশ।
- এর মূল লক্ষ্য হলো আত্ম-জ্ঞান ও নৈতিক সচেতনতা অর্জন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
নীতিবিদ জোনাথন হাইটের মতে নৈতিকতার উদ্ভব কোথা থেকে হয়? 
  1. রাষ্ট্র ও আইন
  2. ঐতিহ্য ও মানব আচরণ
  3. সমাজ ও পরিবার
  4. শিক্ষা ও গণমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
ঐতিহ্য ও মানব আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতিহ্য ও মানব আচরণ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- “Morality” শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে। 
- এর অর্থ হলো সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতার গুরুত্ব প্রথমে বিশেষভাবে তুলে ধরেন সক্রেটিস। 
- তাঁর বিখ্যাত বক্তব্য “Virtue is Knowledge” দ্বারা নৈতিকতা ও জ্ঞানের সংযোগ নির্দেশিত হয়।

নৈতিকতার প্রামাণ্য সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ—এই তিনটির ভিত্তিতে উদ্ভব হয়েছে (জোনাথন হাইট)। 
• নীতিবিদ ম্যুর নৈতিকতাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন শুভের প্রতি অনুরাগ এবং অশুভের প্রতি বিরাগের মাধ্যমে। 
• অন্যদিকে এস. ম্যাকাইভার উল্লেখ করেছেন যে নৈতিকতার পেছনে সার্বভৌম রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের কোনো সমর্থন বা বাধ্যবাধকতা থাকে না।

• নৈতিকতার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- মানুষের কল্যাণ সাধন হলো নৈতিকতার লক্ষ্য। 
- নৈতিকতা অর্জনে বিবেক ও মূল্যবোধ প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- মানুষের মানসিক আচরণ এই নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নৈতিকতার রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেকের দংশন বা অন্তর্দৃষ্টি কাজ করে।
- নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে।
- নৈতিকতার মূল ভিত্তি মানুষের নিজের মনের মধ্যে জন্ম নেয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪.
কর্তব্যের নৈতিকতা বা ক্যান্টিয়ান এথিক্স-এর প্রবক্তা কে? 
  1. এডওয়ার্ড উইলসন
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. হ্যারল্ড উইলসন
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

কর্তব্যের নৈতিকতা:
- কর্তব্যের নৈতিকতা ধারণা প্রবর্তন করেন জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট। 
- তিনি তার নীতি “কর্তব্যের জন্য কর্তব্য” (Duty for Duty’s Sake)–এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন;
- যেখানে কোনো কাজ নৈতিক কি না তা কাজের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না;
- বরং কাজটি করা উচিত কর্তব্যের তাগিদে।
- এ ধরনের নৈতিকতাকে কান্টিয়ান নীতিশাস্ত্র বলা হয়।

- কান্টের মূল নীতি হলো শর্তহীন আদেশ (Categorical Imperative)। 
- এই আদেশ নির্দেশ করে যে মানুষের কাজের নৈতিকতা নির্ধারণ হয় কাজের উদ্দেশ্য এবং সার্বজনীন নৈতিক আইন মেনে চলার ওপর, আবেগ বা সুখের ওপর নয়।
- তিনি নৈতিকতাকে যুক্তি এবং “সদিচ্ছা” (Good Will)-এর ওপর প্রতিষ্ঠা করেন।
- কান্টের দর্শন রেশনালিজম (বুদ্ধিবাদ) ও অভিজ্ঞতাবাদ (Empiricism)-এর এক অনন্য সংমিশ্রণ।
- এখানে তিনি মানুষের স্বায়ত্তশাসন, যুক্তি এবং নৈতিক আইন মেনে চলাকে প্রাধান্য দেন।

- তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ হলো:
- Critique of Pure Reason,
- Critique of Practical Reason,
- Critique of Judgment.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১৫.
জেরেমি বেন্থামের উপযোগবাদের উদ্দেশ্য কী?
  1. সরকারকে শক্তিশালী করা
  2. ব্যক্তিগত আনন্দ সীমাবদ্ধ করা
  3. সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক সুখ নিশ্চিত করা
  4. দার্শনিক নীতি প্রচার করা
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক সুখ নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক সুখ নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থামের উপযোগবাদ:
- জেরেমি বেন্থাম ছিলেন ইংল্যান্ডের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক ও আইনজ্ঞ। 
- তিনি ১৮শ শতকের শেষভাগে উপযোগবাদের আধুনিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
- বেন্থামের মূল ধারণা হলো, মানুষের নৈতিকতা বা কর্মের সঠিকতা বিচার করার একমাত্র মানদণ্ড হলো কাজের মাধ্যমে মানুষ কতটা সুখ বা আনন্দ পায়।
- অর্থাৎ, একটি কাজ নৈতিকভাবে সঠিক হলে সেটি সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ তৈরি করে।

- বেন্থামের উপযোগবাদের উদ্দেশ্য- সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক সুখ নিশ্চিত করা। 
- তিনি মনে করতেন, সরকার বা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করা। 
- বেন্থাম সাধারণত সংস্কারমূলক বা বিপ্লবী উদ্যোগে বেশি বিশ্বাস রাখতেন না, বরং কাজের ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দিতেন।

- বেন্থাম উপযোগবাদকে সর্বজনীন ও চিরন্তন নীতি হিসেবে দেখতেন। 
- অর্থাৎ এটি সব যুগের এবং সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
- তার বিখ্যাত গ্রন্থ “Introduction to the Principles of Morals and Legislation”-এ এই তত্ত্বের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে।
- গ্রন্থে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে নৈতিকতা, আইন এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম মানুষের সর্বাধিক সুখ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে পারে। 

উৎস:
Britannica; 
 নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
"On Liberty” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. টমাস হবস
  4. জেরেমি বেন্থাম  
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

"On Liberty” গ্রন্থের লেখক- জন স্টুয়ার্ট মিল। 
--------------------
• জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill):
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ ও চিন্তাবিদ।
- তাঁর বিখ্যাত উপযোগবাদী নীতিশাস্ত্র ১৮৬১ সালে প্রকাশিত “Utilitarianism” (উপযোগিতাবাদ) গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
- এর আগে ১৮৫৯ সালে তিনি প্রকাশ করেন “On Liberty” (অন লিবার্টি)। 
- এই গ্রন্থে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সমাজের মধ্যে তার সীমা ও সম্পর্ক বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- গ্রন্থটিতে মিল ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত ও চিন্তার স্বাধীনতা এবং সরকারের হস্তক্ষেপ সীমিত করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।
- বিশেষ করে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের কর্তৃত্ব (tyranny of the majority) থেকে ব্যক্তির অধিকার রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
- 'On Liberty' মূলত উপযোগিতাবাদী দর্শনের (Utilitarianism) ভিত্তিতে লেখা।

উল্লেখ্য, 
- মিল জনগণের ইচ্ছার ওপর সরকারের দায়িত্ব স্বীকার করেন।
- এবং মহিলাসহ শিক্ষিত নাগরিকদের ভোটাধিকারের পক্ষে ছিলেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।