পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান) টপিক: আধুনিক বিজ্ঞান: গুরুত্বপূর্ণ টপিক: বিভিন্ন রশ্মি (এক্সরে, আলফা, বিটা, গামা, ইত্যাদি), স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, ডায়োড-ট্রানজিস্টর, আইসি, ট্রান্সফর্মার, নবায়নযোগ্য শক্তি, আধুনিক জ্যোতির্বিদা। উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
এক্স-রের প্রকৃতি সম্পর্কিত সঠিক তথ্য কোনটি? 
  1. ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক
  2. তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড়
  3. প্রতিসরণ ঘটে না
  4. পোলারণ ঘটে না
সঠিক উত্তর:
ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক
ব্যাখ্যা

• এক্সরের প্রকৃতি হলো এর ভেদন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। এক্সরে হলো একটি ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, যা সহজেই কঠিন পদার্থ, ধাতু ও হাড়ের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব ছোট, তাই এগুলি অণু বা পরমাণুর স্তরের বিন্যাসকেও ছেদ করতে পারে। এক্সরকে বিভিন্ন পদার্থে প্রতিসরণ বা পোলারণের দিক থেকে সীমিত বলা যায়, কারণ এগুলি মূলত ভেদন ক্ষমতার জন্য পরিচিত। তাই এক্সরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ ভেদন ক্ষমতা।

- সঠিক উত্তর: ক) ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।

এক্সরের ধর্ম:
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত কোনটি? 
  1. মেসনের প্রবাহ
  2. নিউট্রনের প্রবাহ
  3. ইলেকট্রনের প্রবাহ
  4. প্রোটনের প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• বিটা রশ্মি মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। যখন কোনো অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে, তখন এটি অতিরিক্ত শক্তি মুক্তি পায়। এই শক্তি মুক্তির সময় নিউক্লিয়াস ইলেকট্রন নির্গত করে, যাকে আমরা বিটা কণা বা বিটা রশ্মি বলি। বিটা কণা একটি ক্ষুদ্র, নেতিবাচক চার্জযুক্ত কণা, যা দ্রুত গতিতে নির্গত হয়। তাই বিটা রশ্মির সাথে ইলেকট্রনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এবং এটি পারমাণবিক বিকিরণের এক গুরুত্বপূর্ণ ধরন।

- সঠিক উত্তর: গ) ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উদ্ভাবক কে?
  1. ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  2. নিউম্যান
  3. জেক কেলবি
  4. চার্লস ব্যাবেজ
সঠিক উত্তর:
জেক কেলবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেক কেলবি
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit) বা আইসি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক উপাদান যা অনেকগুলি ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটার একত্রিত করে একটি ছোট চিপে তৈরি করা হয়। এর উদ্ভাবক হলেন জেক কেলবি। ১৯৫৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টস-এ একটি পূর্ণ কার্যক্ষম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করেন। এই উদ্ভাবনের ফলে কম্পিউটার, মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস আরও ছোট, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হয়। জেক কেলবির এই কাজ আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং বৈদ্যুতিন যন্ত্রের বিপ্লব ঘটিয়েছে।

- উত্তর: গ) জেক কেলবি।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট: 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। 
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোনটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট হিসেবে পরিচিত?
  1. FPGA
  2. VLSI
  3. LSI
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হলো একটি ছোট চিপে হাজার হাজার বা মিলিয়ন ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপাদান একত্রিত করা। FPGA হলো প্রোগ্রামেবল লজিক ডিভাইস যা বিভিন্ন ডিজাইন অনুযায়ী কনফিগার করা যায়। LSI (Large Scale Integration) এবং VLSI (Very Large Scale Integration) হল বড় আকারের ইন্টিগ্রেশন প্রযুক্তি, যেখানে ক্রমশ আরও বেশি ট্রানজিস্টর একটি চিপে সংযুক্ত করা হয়।
- তাই FPGA, LSI এবং VLSI - তিনটিই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উদাহরণ। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) সবগুলোই।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের সুবিধা সমূহ- 
১. এটি আকারে বেশ ছোট্ট। 
২. অনেক জটিল সার্কিট একটি একক চিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাই এটি একটি জটিল বৈদ্যুতিক সার্কিটের নকশাকে সহজতর করে। এছাড়াও এটি সার্কিটের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. আইসিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
৪. অধিক উৎপাদনের কারণে এগুলো কম খরচে পাওয়া যায়।
৫. আইসিগুলো খুব অল্প শক্তি গ্রহণ করে।
৬. প্যারাসাইটিক ক্যাপাসিট্যান্স প্রভাব না থাকায় এদের অপারেটিং গতি অনেক উচ্চ হয়।
৭. মূল সার্কিট থেকে খুব সহজেই প্রতিস্থাপন করা যায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

.
ডায়োড মূলত কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. বৈদ্যুতিক প্রবাহ বৃদ্ধি করা
  2. সার্কিটে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা
  3. একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা
  4. ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা
সঠিক উত্তর:
একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

• ডায়োড মূলত এক ধরনের অর্ধপরিবাহী উপাদান যা বিদ্যুৎ প্রবাহকে একদিক থেকে অন্যদিকে প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকের প্রবাহকে বাধা দেয়। এটি সার্কিটে একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা rectification প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ডায়োড AC (বিকল্প ধারা) কে DC (স্থির ধারা) তে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। এছাড়া কিছু ডায়োড ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ বা সিগন্যালের গতি নিয়ন্ত্রণেও ব্যবহার হয়, তবে মূল কাজ হলো একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা।

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোন ধরনের ট্রান্সফর্মার বিদ্যুৎ পরিবহনে ব্যবহৃত হয়?
  1. স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
  2. তাড়িত চৌম্বক ট্রান্সফরমার
  3. স্টেপ-ডাউন ট্রানফরমার
  4. আধুনিক ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• বিদ্যুৎ পরিবহনে প্রধানত স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা লম্বা দূরত্বে প্রেরণ করার সময় ভোল্টেজ বাড়ানো প্রয়োজন যাতে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় শক্তি ক্ষয় কম হয়। স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ বৃদ্ধি করে কারেন্ট কমিয়ে দেয়, ফলে পরিবহনের সময় তাপ ক্ষয় কমে। গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগে ভোল্টেজ কমানোর জন্য পরে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।
- তাই বিদ্যুৎ পরিবহন ব্যবস্থায় স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার বা ট্রান্সফর্মার একটি স্থির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যার দ্বারা কোনাে পরিবর্তী তড়িৎ ব্যবস্থায় অপরিবর্তীত কম্পাঙ্কতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎশক্তিকে ভােল্টেজের মান অনুযায়ী কমিয়ে বা বাড়িয়ে এক সার্কিট থেকে অন্য সার্কিটে স্থানান্তর করা যায়।
- এ.সি. (Alternating Current) ব্যবস্থায় কম ভােল্টেজকে বেশি ভােল্টেজে বা বেশি ভােল্টেজকে কম ভােল্টেজে রূপান্তর করার জন্য ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।
- কম থেকে বেশি ভােল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে ''স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার'' বা ''উচ্চধাপী ট্রান্সফর্মার'' এবং বেশি থেকে কমভােল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে''স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার'' বা ''নিম্নধাপী ট্রান্সফর্মার'' বলা হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণী।

.
ব্ল্যাক হোলের অভ্যন্তরীণ ভৌত অবস্থা কেমন?
  1. আয়তন ও ঘনত্ব উভয়ই অসীম
  2. আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
  3. আয়তন প্রায় অসীমের কাছাকাছি, ঘনত্ব প্রায় শূন্য
  4. আয়তন অনেক বড়, ঘনত্ব খুবই কম
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
ব্যাখ্যা

• ব্ল্যাক হোলের অভ্যন্তরকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়, যেখানে পদার্থ একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র আয়তনে সংকুচিত হয়ে যায় এবং ঘনত্ব অসীমের দিকে ধাবিত হয়। এখানে প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কাজ করা বন্ধ করে দেয়, কারণ মহাকর্ষ এতই শক্তিশালী যে আলোও পালাতে পারে না।
- তাই বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর হলো- খ) আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম।

কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। এই সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত কোন বিকিরণ ক্যান্সার কোষ দূর করতে সহায়ক?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

• কোবাল্ট-৬০ থেকে প্রধানত গামা রশ্মি নির্গত হয়, যা গভীর টিস্যু পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। এই রশ্মি ক্যান্সার কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তাদের বিভাজন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে কোষগুলো ধ্বংস হয় এবং টিউমারের আকার কমতে থাকে। আলফা বা বিটা রশ্মি ত্বক বা পৃষ্ঠের কোষে প্রভাব ফেলে, কিন্তু গভীর টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে না। রঞ্জন রশ্মিও কিছু চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, তবে কোবাল্ট-৬০ মূলত গামা রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার থেরাপিতে কার্যকর।

- সঠিক উত্তর: গ) গামা রশ্মি।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। 
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনেশিয়াম-৯৯ আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রধান তত্ত্বটি কী?
  1. বিগব্যাং তত্ত্ব
  2. ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব
  3. আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. নিউটনের গতি সূত্রীয় তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি বোঝানোর প্রধান তত্ত্ব হলো বিগব্যাং তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুসারে, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত অবস্থায় সংকুচিত ছিল। এক মুহূর্তে এটি একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হতে শুরু করে, যা থেকে সময়, স্থান ও পদার্থের সৃষ্টি হয়। বিগব্যাং তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন এবং গ্যালাক্সি গঠনের প্রমাণগুলি ব্যাখ্যা করা যায়। তাই মহাবিশ্বের উৎপত্তি বোঝার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব।

- সঠিক উত্তর: ক) বিগব্যাং তত্ত্ব।

মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১০.
কোন যন্ত্রে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়?
  1. টেলিভিশন
  2. টেপরেকর্ডার
  3. রেডিও
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার মূলত বিদ্যুতের ভোল্টেজ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। ঘরোয়া বা ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র যেমন টেলিভিশন, টেপ রেকর্ডার ও রেডিওতে সাধারণত পাওয়ার সাপ্লাইয়ে মেইন ভোল্টেজকে কমানো প্রয়োজন হয়, যাতে যন্ত্রের ভেতরের সার্কিট নিরাপদভাবে কাজ করতে পারে। তাই এই যন্ত্রগুলিতে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়। এটি মেইন ভোল্টেজকে যন্ত্রের উপযুক্ত ভোল্টেজে নামিয়ে আনে এবং সার্কিটের ক্ষতি বা সংক্ষিপ্ত সংযোগের ঝুঁকি কমায়। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো – উপরের সবগুলো।

ট্রান্সফর্মার:

• ট্রান্সফরমার একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সিকে কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।
• ট্রান্সফর্মার প্রধানত ২ প্রকার। যথা: স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

• আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার (Step up Transformer):
- যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলে।
- উদাহরণ: দূরদূরান্তে তড়িৎ প্রেরণের জন্য আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

• অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার (Step down Transformer):
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
- উদাহরণ: অবরোহী বা স্টেপডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় নিম্ন ভোল্টেজ ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি যেমন রেডিও, টেলিভিশন, টেপরেকর্ডার, ভিসিআর, ভিসিপি, ইলেকট্রিক ঘড়ি, ওয়াকম্যান ইত্যাদিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষণ, বিএড প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
BCG টিকা কোন রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা হয়?
  1. যক্ষ্মা
  2. হাম
  3. হেপাটাইটিস
  4. টাইফয়েড
সঠিক উত্তর:
যক্ষ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা

• BCG টিকা প্রধানত যক্ষ্মা (Tuberculosis) প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। সাধারণত শিশুরা জন্মের পর এই টিকা গ্রহণ করে, যা শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে যক্ষ্মার সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে। BCG টিকা কাশির মাধ্যমে ছড়ানো সংক্রমণকে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অন্যান্য রোগ যেমন হাম, হেপাটাইটিস বা টাইফয়েড প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক) যক্ষ্মা।

• যক্ষ্মা:
- যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। যেকোনো লোক যেকোনো সময় এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
- যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গে হতে পারে। 

• দেহে এ রোগের আক্রমণ ঘটলে সহজে এর লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
-  যখন জীবাণুগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকাকে পরাস্ত করে দেহকে দুর্বল করে, তখনই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- এ মারাত্মক রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে হলে যক্ষ্মা প্রতিষেধক বিসিজি টিকা দিতে হবে।
- সাধারণত শিশুর জন্মের পর থেকে এক বছর বয়সের মধ্যে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১২.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে প্রধানত কোন উপাদান থাকে?
  1. সোনা
  2. গ্যালিয়াম
  3. সিলিকন
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হলো একটি ছোট চিপ যা বৈদ্যুতিক সার্কিটের বিভিন্ন উপাদান একত্রিত করে। এতে প্রধানত সিলিকন ব্যবহার করা হয় কারণ সিলিকন আধা-পরিবাহী হিসেবে কাজ করে এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে উপযুক্ত। IC-তে ছোট ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটার ইত্যাদি সিলিকন চিপের ভিতরে একত্রিত থাকে, যা বিদ্যুৎ সংকেত নিয়ন্ত্রণ ও প্রসেসিং সক্ষম করে। অন্য উপাদান যেমন সোনা বা তামা সংযোগের জন্য ব্যবহার হতে পারে, কিন্তু মূল উপাদান হিসেবে সিলিকন অপরিহার্য।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) সিলিকন।

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হল একটি ছোট আকারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে অসংখ্য ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একটি একক চিপে যুক্ত থাকে। একে সিলিকন চিপও বলা হয়। 
- পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে (Wafer) অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো।
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয়। এভাবেই আইসি তৈরির যাত্রা শুরু হয়। 

• IC এর প্রধান উপাদান:
→ সিলিকন (Silicon):
- এটি সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করে।
- সিলিকন সহজে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা IC তৈরির জন্য একে উপযুক্ত।

• সিলিকন ব্যবহারের কারণ:
- এটির সহজলভ্যতা বেশী। 
- এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা। 
- এর বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য IC তৈরির জন্য উপযোগী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 

১৩.
ডায়োডের মৌলিক ফাংশন কী?
  1. রেকটিফায়ার হিসেবে
  2. রেজিস্টর হিসেবে
  3. ক্যাপাসিটর হিসেবে
  4. ট্রান্সফরমার হিসেবে
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার হিসেবে
ব্যাখ্যা

• ডায়োডের মৌলিক ফাংশন হলো বিদ্যুৎ প্রবাহকে একদিক থেকে অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ করা, যা মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একদিকে সরাসরি প্রবাহকে সহজভাবে সরিয়ে দেয় এবং বিপরীত দিকে প্রবাহকে বাধা দেয়। ডায়োড সাধারণত রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর বা ট্রান্সফরমারের মতো কাজ করে না, কারণ এগুলো ভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য দেখায়।
- তাই ডায়োডের মূল ব্যবহার হচ্ছে এসি সিগনালকে ডিসি-তে রূপান্তর করা, যা শক্তি সরবরাহ ও ইলেকট্রনিক সার্কিটে অপরিহার্য।


ডায়োড:
• ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
• সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
• একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
• ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
• রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
বিটা কণিকার ভর হচ্ছে:
  1. 9.9 × 1031 kg
  2. 9.1 × 10-19 kg
  3. 9.1 × 10-31 kg
  4. 9.4 × 10-28 kg
সঠিক উত্তর:
9.1 × 10-31 kg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
9.1 × 10-31 kg
ব্যাখ্যা

• বিটা কণিকা মূলত একটি ইলেকট্রনের সমতুল্য পারমাণবিক কণিকা। ইলেকট্রনের ভর খুবই ছোট, যা প্রায় 9.1 × 10-31 kg কিলোগ্রাম। এটি এটমের ভরের তুলনায় প্রায় অতি ক্ষুদ্র। 

বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:

- বিটা কণিকা খুব হালকা।
- এর ভর 9.1×10-31 kg।
- এরা ঋণাত্নক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6×10-19 কুলম্ব ।
- তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়।
- এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম ।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী ।
- জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশী বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
গামা রশ্মির প্রকৃতি কেমন?
  1. চার্জ পরিবর্তনশীল 
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  4. আধানহীন
সঠিক উত্তর:
আধানহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধানহীন
ব্যাখ্যা

• গামা রশ্মি একটি ধরনের বৈদ্যুতিক চুম্বকীয় তড়িৎ তরঙ্গ, যা পারমাণবিক বিকিরণ থেকে উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে কোন প্রকার চার্জ বা আধান থাকে না, অর্থাৎ এটি নিরপেক্ষ। গামা রশ্মি শক্তিশালী এবং খুব ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো হিসাবে কাজ করে। এটি পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজেই প্রবেশ করতে পারে এবং ধাতব বা ঘন পদার্থের দ্বারা আংশিকভাবে শোষিত হয়। তাই গামা রশ্মি আধানহীন এবং চার্জবিহীন, যা এটিকে অন্যান্য কণা বিকিরণের তুলনায় আলাদা করে।

- সঠিক উত্তর: ঘ) আধানহীন।

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
কোনটি এক্সরের ধর্ম প্রকাশ করে?
  1. প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে না
  2. তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ
  3. বক্র পথে গমন করে
  4. ভেদন ক্ষমতা কম
সঠিক উত্তর:
তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• এক্সরের ধর্ম বোঝায় তার বৈশিষ্ট্য ও আচরণ। প্রদত্ত অপশনের মধ্যে “তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ” সঠিক, কারণ এক্সর তড়িৎ ও চুম্বকীয় প্রভাবের সাথে সম্পর্কিত এবং এটি আড়ভাবে ছড়িয়ে বা বিকশিত হতে পারে। অন্য অপশন গুলো- যেমন প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে না পারা, বক্র পথে গমন করা বা ভেদন ক্ষমতা কম- এক্সরের মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে প্রাসঙ্গিক নয়। তাই এক্সরের প্রধান ধর্ম হলো এটি তাড়িতচুম্বকীয় এবং আড়ভাবে প্রবাহিত হতে পারে।

এক্সরের বৈশিষ্ট্য:

- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
- এক্সরে সরল পথে গমন করে।
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3 × 108 ms-1 বেগে গমন করে।
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
- ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।

এক্সরের প্রকারভেদ:
- এক্সরে দুই প্রকার।
- কোমল এক্সরে ও কঠিন এক্সরে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।