পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৪৯
সিলেবাস
বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলি [পার্ট-১] [৭০ নাম্বার] সিলেবাস: : i) i) বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীনকাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ + সমসাময়িক পর্যন্ত), ii) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি, iii) বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ, i v) বাংলাদেশের অর্থনীতি, vi) বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির সংশ্লিষ্ট বোর্ড বই, বিভিন্ন জাতীয় সমীক্ষা, বাংলাপিডিয়া, সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইড বই। --------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ১০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন

.
হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে কোন চীনা পরিব্রাজক ভারতে এসেছিলেন?
  1. ফা-হিয়েন
  2. ই-ৎ সিঙ
  3. হিউয়েন সাং
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
হিউয়েন সাং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিউয়েন সাং
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী চীনা তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন।
- ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।

⇒ হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।

- কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ব্ল্যাক বেঙ্গল নিম্নের কোন প্রাণীর উন্নত জাত?
  1. গরু
  2. ছাগল
  3. ভেড়া
  4. মহিষ
সঠিক উত্তর:
ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাগল
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল:
- ব্ল্যাক বেঙ্গল একটি উন্নত জাতের ছাগল।
- এর আকার ছোট।
- পূর্ণবয়স্ক ছাগলের উচ্চতা ৫০ সেন্টিমিটার।
- দেহের বর্ণ মূলত কালো; তবে ধুসর, বাদামি বা সাদাও হয়।
- এদের কানের আকার ১১-১৪ সেন্টিমিটার এবং সামনের দিকে সুচালো।
- মব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পরিষ্কার, শুষ্ক এবং উঁচু জায়গায় থাকতে পছন্দ করে।
- বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়।

উল্লেখ্য,
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলকে অন্যতম সেরা জাতের ছাগল বলা হয়।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মাংস এবং চামড়ার জন্য বিখ্যাত।
- বিশ্ববাজারে এই প্রজাতির ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।
- ২০০৭ সালে এফএও বিশ্বের ১০০টি জাতের ছাগলের ওপরে গবেষণা চালিয়ে 'ব্ল্যাক বেঙ্গল'কে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ২০১৮ সালে ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের জেনোম সিকোয়েন্সিং বা পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের একটি দল।
- সম্প্রতি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল জিআই স্বীকৃতি লাভ করে।

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) কালের কন্ঠ।
.
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভাগ কয়টি? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ৬১টি
  2. ৬২টি
  3. ৬৫টি
  4. ৬৬টি
সঠিক উত্তর:
৬৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভাগ:
- অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থায়ন বন্ধসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন চারটি বিভাগ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- নতুন চালু হওয়া বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে— ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৯, পরিদর্শন পরিপালন বিভাগ, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগ এবং ইসলামী ব্যাংকিং রেগুলেশন্স অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট।  
- সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভাগ ৬৫টি।

⇒ এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ৬১টি বিভাগ ছিল।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন বিভাগ চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংক পরিদর্শন ও পরিপালন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ও শাখাগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকি আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হবে।  

উৎস: i) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
.
বাংলাদেশের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল -
  1. www.bangladesh.com
  2. www.bangladesh.gov.net
  3. www.bangladesh.gov.bd
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
www.bangladesh.gov.bd
উত্তর
সঠিক উত্তর:
www.bangladesh.gov.bd
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল:
- অনেক দেশেরই জাতীয় ওয়েব পোর্টাল আছে। সরকার পরিচালিত এ ধরনের সাইট নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের তথ্যসেবার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়।
- সরকারি সাইটের ডোমেইন বা ওয়েব ঠিকানায় .মড়া-এর সঙ্গে দেশের নির্ধারিত কোড থাকে।

⇒ বাংলাদেশের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল www.bangladesh.gov.bd।
- এখানে .gov-এর পরে যুক্ত হওয়া .bd হচ্ছে কান্ট্রি কোড।
- ওয়েব পোর্টালটি ‘বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ নামেও পরিচিত।
- বিভিন্ন সেবা ও তথ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের ঠিকানাও এ পোর্টালে রাখা হয়েছে।
- অর্থাৎ কেউ যদি সরকারি কোনো সাইটের ঠিকানা না জানে, সমস্যা নেই।

⇒ এই পোর্টালের ঠিকানা জানা থাকলেই এখান থেকে সরকারি বিভিন্ন সাইটে যাওয়া যাবে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলার জন্য চালু করা সাইটের লিংকও আছে এখানে।
- সর্বসাধারণের জন্য সরকারি নির্দেশনা, বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি বিভিন্ন সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন কিংবা নিবন্ধন করা যাবে এ পোর্টাল থেকে। এ ছাড়া পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আয়কর, অর্থ ও বাণিজ্য, নিয়োগ, ট্রেন ও বিমানের টিকিট বুকিং, পোস্টাল ও কুরিয়ার, রেডিও-টিভির খবর, ইউটিলিটি বিল, মৎস্য ও প্রাণী, ট্রেজারি চালানসংক্রান্ত সেবার লিংক পাওয়া যাবে পোর্টালটিতে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) কালের কন্ঠ।
.
নিম্নের কোন ব্যাংকটি আয়কর মুক্ত? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. জনতা ব্যাংক
  2. গ্রামীণ ব্যাংক
  3. সোনালী ব্যাংক
  4. পূবালী ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণ ব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণ ব্যাংক
ব্যাখ্যা
গ্রামীণ ব্যাংক:
- গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়ন ব্যাংক।
- গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালের প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর ব্যাংক হিসেবে চালু হয়।
- গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ভূমিহীন এবং দরিদ্র নারীদের পাঁচ জনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে এবং এ ঋণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য,
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর।
- এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৭৬ এর উপধারা (১) এর ক্ষমতাবলে, গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪ এর অধীন স্থাপিত গ্রামীণ ব্যাংকের অর্জিত সকল আয়কে এই আইনের অধীন আয়কর প্রদান হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’ এর এই কর অব্যাহতির মেয়াদ থাকবে ২০২৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত।

উৎস: i) গ্রামীণ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) BBC.
.
বাংলাদেশের সরকারি নোটে কার স্বাক্ষর থাকে?
  1. বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
  2. অর্থসচিব
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. বাণিজ্য মন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
অর্থসচিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থসচিব
ব্যাখ্যা
⇒ ব্যাংক নোট:
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব নোট বের করে থাকে তাদের ব্যাংক নোট বলা হয়। এসব নোটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাংক নোটের সংখ্যা ৭টি। এগুলো হলো:
• ১০ টাকা,
• ২০ টাকা,
• ৫০ টাকা,
• ১০০ টাকা,
• ২০০ টাকা,
• ৫০০ টাকা,
• ১০০০ টাকা।

⇒ সরকারি নোট:
- ১, ২ ও ৫ টাকার নোট হলো সরকারি নোট।
- এসব নোটে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে। এসব নোট বের করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

উৎস: অর্থ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশের জাতীয় মনোগ্রামের নকশাকার কে?
  1. রফিকুন্নবী
  2. এ এন এ সাহা
  3. সৈয়দ মাইনুল হোসেন
  4. বিমান মল্লিক
সঠিক উত্তর:
এ এন এ সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এন এ সাহা
ব্যাখ্যা
জাতীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ', নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- এ মনোগ্রামের নকশাকার এ এন এ সাহা।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মাইনুল হোসেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের ডিজাইনার।
- বিমান মল্লিক প্রথম ডাকটিকিটের ডিজাইনার।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
কোন মৌর্য রাজা বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. বিন্দুসরা
  2. অশোক
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
অশোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশোক
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিন্দুসরার পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
- ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক অহিংস বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি শালগাছ রয়েছে?
  1. ভাওয়াল
  2. সিলেট
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. সুন্দরবন
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াল
ব্যাখ্যা
শালগাছ: 
- শাল একটি বহুবর্ষজীবী পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- শালগাছের উচ্চতা হয় ২৫ মিটার পর্যন্ত এবং পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় শীতকালে বেশির ভাগ গাছের পাতা ঝরে যায়, বসন্তে পাতা ও ফুলের সমারোহে ভরে ওঠে শালবন।

⇒ বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ ছাড়া কুমিল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন দেখা যায়।
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ভাল জাতের শালকাঠ বাড়িঘর তৈরি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- শালগাছের কাণ্ড ‘শাল দামার’, ‘রাল’ বা ‘ধুম’ নামে পরিচিত এক ধরনের সুগন্ধি আঠার উৎস।
- এই আঠা নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে, কার্বন পেপার, টাইপ করার যন্ত্রের ফিতা, বার্নিশ এবং রং তৈরির উপাদান হিসেবে কাজে লাগে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০.
কোন জাতের ধান বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পরিমানে উৎপাদন হয়? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. আউশ
  2. নাইজারশাইল
  3. বোরো
  4. আমন
সঠিক উত্তর:
বোরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরো
ব্যাখ্যা
ধান চাষ:
- ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে দেশের ধান উৎপাদনের তিনটি মৌসুম লক্ষ্য করা যায়। যথা: আউশ, আমন ও বোরো।

উল্লেখ্য,
- বোরো ধানের জাত বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পরিমানে উৎপাদন হয়।
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক বোরো ধানের প্রায় ২৭টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
- উৎপাদনের পরিমাণ বিচারে বোরো ধান শীর্ষে এবং তারপরই রয়েছে আমন ও আউশ।
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুসারে, বাংলাদেশের ১১,৯৮,০০০ একর জমিতে মোট ২,০৭,৬৮,০০০ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপন্ন হয়।
- বোরো ধান উৎপাদনের শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।

অন্যদিকে -
- আউশ ধান ২৬২২০০০ একর জমিতে মোট উৎপন্ন হয় ২৯০১০০০ মেট্রিক টন।
- আমন ধান ১৪১৪৩০০০ লক্ষ একর জমিতে মোট উৎপন্ন হয় ১৫৪২৬০০০ মেট্রিক টন।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়।
ii) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
১১.
কত সালে সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয়?
  1. ১৭৭১ সালে
  2. ১৭৭৩ সালে
  3. ১৮৬১ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
রেগুলেটিং এ্যাক্ট (১৭৭৩ খ্রি:):
- ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হওয়ার পর ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থের সরকার সর্বপ্রথম বাংলা তথা ভারত শাসন বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে।
- ১৭৭৩ সালে প্রণীত রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হলে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। 

উৎস: i) ইতিহাস, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কোরিয়ান ইপিজেড কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. গাজীপুর
  4. নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
কোরিয়ান ইপিজেড:
- দেশের একমাত্র বেসরকারি ইপিজেড কোরিয়ান ইপিজেড।
- এটি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত।
- কোরিয়ান ইপিজেড-এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াক সুং।
- চট্টগ্রামে কোরিয়ান ইপিজেড এর কার্যক্রম ১৯৯৫ সালে শুরু হয়।
- প্রথমে দুই দেশের সরকার উদ্যোগ নিলেও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান গ্রুপ শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলে বেসরকারিভাবে।
- ইয়াংওয়ান করপোরেশন পরিচালিত কেইপিজেডে বর্তমানে ৪৮টি শিল্পে ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
- এই ইপিজেডের ৫২ শতাংশ জমি বনায়ন ও পরিবেশের জন্য নির্ধারিত।
- ফলে এটিকে বড় পরিবেশবান্ধব ইপিজেড বলা হয়।

উৎস: i) বণিক বার্তা।
ii) বেজা ওয়েবসাইট।
১৩.
ভারতীয় উপমহাদেশের কোন সাম্রাজ্যটি দীর্ঘ সময় শাসন করেছিল?
  1. গুপ্ত
  2. মৌর্য
  3. পাল
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- ভারতীয় উপমহাদেশের পাল সাম্রাজ্যটি দীর্ঘ সময় শাসন করেছিল।

উল্লেখ্য,
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
নিম্নের কোনটি উন্নত জাতের বেগুন?
  1. নয়নতারা
  2. হীরা
  3. কার্ডিনাল
  4. কাঞ্চন
সঠিক উত্তর:
নয়নতারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়নতারা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।

অন্যদিকে,
• উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
• উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি।
• উন্নত জাতের মরিচ: যমুনা।
• উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১৫.
বর্তমানে দেশের জিডিপিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অবদান কত?
  1. ১৮ শতাংশ
  2. ২০ শতাংশ
  3. ২৪ শতাংশ
  4. ২৮ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
২৮ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জিডিপিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প:
- ২০৩০ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
- এমন লক্ষ্য ঘোষণা করে সম্প্রতি 'জাতীয় এসএমই নীতি-২০২৫'-এর খসড়া প্রকাশ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
- খসড়া এসএমই নীতিতে মোটাদাগে রয়েছে ছয়টি উদ্দেশ্য ও ১০টি বাস্তবায়ন কৌশল। 

⇒ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, দেশে কুটিরশিল্পসহ প্রায় ৭৮ লাখ মাইক্রেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) রয়েছে।
- এ খাতে ২ কোটির বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত।
- বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান ৩৭ শতাংশের বেশি, এর মধ্যে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৮ শতাংশ।

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।
১৬.
ফকির মজনু শাহ নিম্নের কোন আন্দোলনের সাথে জড়িত?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. ওয়াহাবি আন্দোলন
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে। তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
লিঙ্গ সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকার কোন ‘বন্ড’ ইস্যু করেছে?
  1. ব্লু বন্ড
  2. পার্পল বন্ড
  3. গ্রিন বন্ড
  4. অরেঞ্জ বন্ড
সঠিক উত্তর:
অরেঞ্জ বন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরেঞ্জ বন্ড
ব্যাখ্যা
অরেঞ্জ বন্ড:
- দেশে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পথ সহজ করা, লিঙ্গ সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘অরেঞ্জ বন্ড’ চালু করছে সরকার।

উল্লেখ্য,
- ৭ নভেম্বর, ২০২৪ বাংলাদেশে অরেঞ্জ বন্ড প্রবর্তনের বিষয়ে ‘‘রিবিল্ডিং এন ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ উইথ অরেঞ্জ বন্ড’ শিরোনামে সভাটির আয়োজনে অর্থায়ন করে সুইডিশ সরকার ও ইউএনডিপির গভর্ন্যান্স অব ক্লাইমেট চেঞ্জ ফিন্যান্স (জিসিসিএফ)।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ (আইআইএক্স) এর যৌথ আয়োজনে জলবায়ু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাণ্ড সহজ করতে অরেঞ্জ বন্ড চালু করছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

⇒ বিশ্বের অনেক দেশে প্রচলিত হলেও অরেঞ্জ বন্ডের মতো অর্থায়ন বাংলাদেশে এবারই প্রথম।
- এই নতুন ধরনের উদ্যোগ এক বিলিয়ন পর্যন্ত টেকসই বন্ড ইস্যু করে লিঙ্গ সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
- এই অরেঞ্জ বন্ড টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পথ সহজ করবে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৮.
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা?
  1. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
  2. শিল্প
  3. অর্থ
  4. বাণিজ্য
সঠিক উত্তর:
বাণিজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB):
- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) Export Promotion Bureau Act, 2015 দ্বারা গঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা।
- মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পদাধিকার বলে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।
- সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংস্থার সদস্যবৃন্দের (যুগ্মসচিবের নিন্মে নহে) সমন্বয়ে ব্যুরোর ২২-সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ।
- এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা। 
- ১৯৬২ সালে ইপিবি সরকারি সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ (XLVII of 1977) বলে ২৫৪ জনবলের ইপিবিকে আধা-স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় রুপান্তর করা হয়।  ১৯৮৪ সালে ইপিবির TO&E পুনর্গঠনপূর্বক ২৩৬ জনবল কাঠামোর সংস্থায় রুপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইপিবির আওতায় সৃষ্ট বস্ত্রসেলে বৎসর-ভিত্তিক সংরক্ষণ মঞ্জুরির ৪২টি পদ ২০০৯ ও ২০১০ সালে ইপিবির সাংগঠনিক কাঠামোতে স্থায়ী করা হয়।

• বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ও দপ্তরসমূহ:
⇒ বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১৩টি সংস্থা বা দপ্তর রয়েছে। যথা:
১. বাংলাদেশ ট্রেড এবং ট্যারিফ কমিশন,
২. রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো,
৩. ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ,
৪. জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর,
৫. যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর,
৬. আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের অফিস,
৭. বাংলাদেশ চা বোর্ড,
৮. বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন,
৯. বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট,
১০. বিজনেজ প্রমোশন কাউন্সিল,
১১. দি ইন্সটিটিউট অব কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টস অব বাংলাদেশ,
১২. দি ইন্সটিটিউট অব চার্টাড একাউন্টস অব বাংলাদেশ,
১৩. ইন্সটিটিউট অব চার্টাড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ।

উৎস: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন হেমায়েত বাহিনী কোন অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে?
  1. টাঙ্গাইল
  2. ময়মনসিংহ
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. গোপালগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী গঠন ও কার্যক্রম:
- মুজিবনগর সরকার সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী।
- মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল ১. নিয়মিত বাহিনী ও ২. অনিয়মিত বাহিনী।

১. নিয়মিত বাহিনী: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। সরকারিভাবে এদের নামকরণ করা হয় এম. এফ. (মুক্তিফৌজ)। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।

২. অনিয়মিত বাহিনী: ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়। এই বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল 'গণবাহিনী' বা এফ. এফ. (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। এছাড়া ছাত্রলীগের বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে গঠিত হয় 'মুজিববাহিনী'। কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী) ও ছাত্র ইউনিয়নের আলাদা গেরিলা দল ছিল।

⇒ আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে ওঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা), লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রগামি জাহাজ ‘এমভি আনসু’ কোন দেশে রপ্তানি হয়েছে?
  1. জার্মানি
  2. ডেনমার্ক
  3. ফ্রান্স
  4. নরওয়ে
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা
এমভি আনসু:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রগামি জাহাজ ‘এমভি আনসু’ জার্মানিতে রপ্তানি হয়েছে। 
- জাহাজটি কিনেছে জার্মান কোম্পানি এইচএস সিফার্টস জিএমবিএইচ অ্যান্ড কোং কেজিএমএস।

উল্লেখ্য,
- আনসু ৫৫০০ ডিডব্লিউটিএ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মাল্টি পারপাস মালবাহী জাহাজ।
- জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৩৪২ ফুট, প্রস্থ ৫০ ফুট, গভীরতা ২৪ দশমিক ২৭ ফুট, ইঞ্জিনের ক্ষমতা ২৭৫০ হর্সপাওয়ার এবং ঘন্টায় গতিবেগ ১২ নটিক্যাল মাইল।
- ২০০৮ সালে ডেনমার্কে অত্যাধুনিক কন্টেইনার জাহাজ ‘স্টেলা মারিস’ রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য জাহাজ রপ্তানির স্বর্ণদ্বার উন্মোচন করে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শিপওয়েজ লিমিটেড। 
- এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানিকারক দেশ হিসাবে পরিচিতি পায়।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক।
২১.
সর্বশেষ কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী কোন বিভাগে সবচেয়ে বেশি তুলা উৎপাদন হয়?
  1. রাজশাহী
  2. ঢাকা
  3. খুলনা
  4. রংপুর
সঠিক উত্তর:
খুলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুলনা
ব্যাখ্যা
তুলা:
- ১৯৭৩-৭৪ সনে বাংলাদেশে সমভূমির তুলাচাষ শুরু হওয়ার পর থেকে তুলা চাষ এলাকা ও উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।
- বর্তমানে সমতল এলাকার পাশাপাশি ৩টি পার্বত্য জেলাতেও পাহাড়ি জাতের তুলার চাষাবাদ হচ্ছে।
- বর্তমানে তুলা উন্নয়ন বোর্ড তুলা গবেষণা, এর সম্প্রসারণ, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ, প্রশিক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও জিনিং এবং ঋণ বিতরণ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

তুলার চাষকৃত জাতগুলো:
- সমতল এলাকায় বর্তমানে, সিবি-৫, সিবি-৯ সিবি-১০ ও সিবি-১১ প্রভৃতি উচ্চফলনশীল জাতের তুলা এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে হীরা ও রূপালী-১ ও ডিএম-১ জাতের তুলা চাষ হচ্ছে।
- এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড়ি তুলা-১ ও পাহাড়ি তুলা-২ নামে উচ্চফলনশীল জাতের তুলা চাষ হয়।

⇒ সর্বশেষ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৩ অনুসারে তুলা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ: খুলনা।

উৎস: i) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
ii) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
২২.
মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র রংপুর বিভাগ নিয়ে কত নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল?
  1. ৪ নং
  2. ৬ নং
  3. ৯ নং
  4. ১১ নং
সঠিক উত্তর:
৬ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সেক্টর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

• ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

• ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩.
২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. সৌদি আরব
  3. যুক্তরাজ্য
  4. সংযুক্ত আরব আমিরাত
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে।
- ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে দুই দশমিক নয় বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য,
- চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রধান উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে—এ সময়ে শীর্ষ ৩০ দেশ থেকে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২৪ সালে দেশে মোট প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

উৎস: i) The Business Standard.
ii) The Daily Star Bangla।
২৪.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. সঞ্জীবনী
  2. ধুমকেতু
  3. সমাচার দর্শন
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবনী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এই গান প্রচার করেন।

⇒ মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত পরিবেশিত হতো।
- স্বাধীনতার পর সাংবিধানিকভাবে (অনুচ্ছেদ ৪.১) ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার গানটির প্রথম দশ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গীতবিতানের স্বদেশ পর্বে অন্তর্ভুক্ত। এর চরণসংখ্যা ২৫।
- গানের প্রথম ১০ লাইন কণ্ঠসঙ্গীত এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়েছে।
- প্রথম চার চরণের যন্ত্রসংগীত বাজানো হয় বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে।
- দেশে ১৯৭৮ সালে জাতীয় সংগীত বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯০৫ সালের সঞ্জীবনী পত্রিকায় ও বঙ্গদর্শন পত্রিকায় গানটি প্রকাশিত হয়।
- গানটি গীতবিতান গ্রন্থের স্বদেশ অংশের অর্ন্তভুক্ত।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
২৫.
'লাল কেল্লা' কে নির্মাণ করেন?
  1. শাহ সুজা
  2. মীর জুমলা
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহজাহান ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জাহাঙ্গীরের উত্তরাধিকারী হিসেবে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন ।
- দাদা আকবরের মতো তিনিও তার সাম্রাজ্য প্রসারিত করতে আগ্রহী ছিলেন।
- ১৬৫৮ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুত্র আওরঙ্গজেব তাকে বন্দী করেন এবং বন্দী অবস্থায় ১৬৬৬ সালে আগ্রা দূর্গে তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- তার রাজত্বের সময়কালের মুঘল স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ ছিল।
- তিনি পৃথিবীর স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সমাধিসৌধ 'আগ্রার তাজমহল' নির্মাণ করেন।
- তিনি কেবল তাজমহলই নয়, আগ্রায় মতি মসজিদ, দিল্লিতে লাল কেল্লা ও জামে মসজিদও নির্মাণ করেন; শাহজাহানাবাদ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- তিনি ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৬.
বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিময় কার্যক্রম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে কে?
  1. বাংলাদেশ ব্যাংক
  2. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
  3. অর্থ মন্ত্রণালয়
  4. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ ব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাখ্যা
বৈদেশিক বিনিময়:
- অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বৈদেশিক বিনিময় বলতে দেশি ও বিদেশী মুদ্রার বিনিময় হারকেও বুঝায়।
- আমাদের দেশের এক টাকা দিয়ে বিদেশের যে পরিমাণ মুদ্রা ক্রয় করা হয় তাই বিনিময় হার।
- কোন দেশের মুদ্রার অধিকার অন্য দেশের মুদ্রার অধিকারে রূপান্তরিত করার উপায় ও পদ্ধতি বৈদেশিক বিনিময় নামে অভিহিত।

⇒ বাংলাদেশে ১৯৪৭ সালের "বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ বিধি" অনুসারে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ কার্যাবলি পরিচালিত হয়।
- বৈদেশিক মুদ্রা ও সিকিউরিটির আদান-প্রদান ও কাজ-কারবার এবং কারেন্সী ও সোনা-রূপার বাঁটের আমদানী-রপ্তানী নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে এ বিধি জারী করা হয়।
- ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান আমলেও এই আইনে কিছু সংশোধন করা হয়, যদিও সেগুলো খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

⇒ বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্য পরিচালনা করে।
- বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি 'বিনিময় নিয়ন্ত্রণ বিভাগ' খোলা হয়েছে।
- এ বিভাগের প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত এবং এর প্রশাসনের ভার একজন "বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রক"-এর উপর ন্যস্ত।

উৎস: ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
কুতুবউদ্দিন আইবেক নিম্নের কোন বংশের প্রতিষ্ঠাতা?
  1. তুঘলক বংশ
  2. দাস বংশ
  3. খিলজি বংশ
  4. সৈয়দ বংশ
সঠিক উত্তর:
দাস বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাস বংশ
ব্যাখ্যা
দাস বংশ:
- ভারতবর্ষে দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক।


উল্লেখ্য,
⇒ মুহাম্মদ ঘোরির কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ তরাইনের যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং মুহাম্মদ ঘোরির আস্থাভাজন কুতুবউদ্দিন আইবেককে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সনদ ও 'সুলতান' উপাধি প্রদান করেন।
- এভাবে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে স্বাধীন সুলতানদের শাসনের সূচনা হয়।
- কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে তথাকথিত 'দাস বংশ' নামে সমধিক পরিচিত।
- ভারতীয় উপমহাদেশে এই বংশ ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করে।
- উল্লিখিত সময়ে (৮৪ বছর) সর্বমোট ১১ জন সুলতান শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
- ১২০৬ থেকে ১২৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কুতুবউদ্দিন, ইলতুতমিস, বলবন এবং তাঁদের বংশধরেরা শাসন করেন।
- এই বংশের প্রথম সুলতান ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবেক এবং সর্বশেষ সুলতান ছিলেন শামসুদ্দিন কাইমুরস (১২৮৯-১২৯০ খ্রি.)।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. শের শাহ
  3. শায়েস্তা খান
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
শের শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শের শাহ
ব্যাখ্যা
শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।

এছাড়াও,
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন।
- গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
বাংলাদেশের ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল বিশ্বের কয়টি দেশে রপ্তানি করা হয়? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ১৫৫টি
  2. ১৫৭টি
  3. ১৫৮টি
  4. ১৫৯টি
সঠিক উত্তর:
১৫৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭টি
ব্যাখ্যা
ঔষধ শিল্প:
- দেশের উৎপাদিত ওষুধের গুণ-মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয় এবং তা বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- স্বাধীনতার পর আমদানিনির্ভর ওষুধ খাত আজ দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ মেটাচ্ছে
- এরা বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল উন্নত বিশ্বের ইউরোপ ও আমেরিকাসহ রপ্তানি করছে ১৫৭টি দেশে।

⇒ ওষুধশিল্প দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এক অবিচ্ছেদ্য খাত।
- ১৯৮২ সালের জাতীয় ঔষধ নীতি ছিল বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিপ্লবের সূচনা।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানি শুরু হয় ১৯৮৫ সালে।
- এরপর গত কয়েক দশকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় ওষুধের বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

উৎস: i) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩।
ii) বণিক বার্তা।
৩০.
বাংলাদেশের প্রথম এলএনজি-টার্মিনাল কোথায় অবস্থিত?
  1. মংলা
  2. সন্দ্বীপ
  3. মীরসরাই
  4. মহেশখালী
সঠিক উত্তর:
মহেশখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহেশখালী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম এলএনজি-টার্মিনাল:
⇒ Excelerate Energy Bangladesh Limited (EEBL) কর্তৃক স্থাপিত MLNG টার্মিনাল।
- অবস্থান: কক্সবাজারের মহেশখালীতে।
- চুক্তি স্বাক্ষর: ১৮ জুলাই, ২০১৬।
- বাস্তবায়ন: Build Own Operate and Transfer (BOOT) ভিত্তিতে।
- Floating Storage Re-gasification Unit (FSRU) এর নাম : Excellence।
- ধারনক্ষমতা: ১৩৮,০০০ ঘনমিটার।
- রিগ্যাসিফিকেশন ক্যাপাসিটি: ৫০০ এমএমএসসিএফডি।
- চুক্তির মেয়াদ : ১৫ বছর (২০১৮-২০৩২)।
- গ্যাস সরবরাহ শুরু: ১৯ আগষ্ট, ২০১৮।
- শুরু থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পরিমান: ৫৯৭,৭৮৬.৭১ এমএমএসসিএফ।
- টার্মিনাল হস্তান্তর: ১৫ বছর পর কোন ধরনের চার্জ গ্রহন ব্যাতিত FSRU টি EEBL পেট্রোবাংলার নিকট হস্তান্তর করবে।

উৎস: রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড।
৩১.
কত সালে ঢাকার নামকরণ জাহাঙ্গীরনগর করা হয়?
  1. ১৬০১ সালে
  2. ১৬০২ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়।
- এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩২.
'সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. মৌলভীবাজার
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান:
- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত।
- উদ্যানের কাছাকাছি ৯টি চা বাগান আছে।
- উদ্যানের পশ্চিম দিকে সাতছড়ি চা বাগান এবং পূর্ব দিকে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান অবস্থিত।
- এই ক্রান্তীয় ও মিশ্র চিরহরিৎ পাহাড়ী বনভূমি ভারতীয় উপমহাদেশ এবং উন্দো-চীন অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থিত।সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রয়েছে প্রায় ২০০’রও বেশি গাছপালা।
- এর মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, সিধাজারুল, আওয়াল, মালেকাস, ইউক্যালিপটাস,আকাশমনি, বাঁশ, বেত-গাছ ইত্যাদির বিশেষ নাম করা যায়।
- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভিতর সাতটি ছড়া বা ঝর্না আছে যেখান থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি।

জীববৈচিত্র্য:
- এ উদ্যানে ১৯৭ প্রজাতির জীব-জন্তু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরিসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর। আরো আছে প্রায় ১৫০-২০০প্রজাতির পাখি। এটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পাখিদের একটি অভয়াশ্রম। বনে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক (Gibbon), চশমা পরা হনুমান (Langur), কুলু বানর (Macaque), মেছো বাঘ, মায়া হরিণ (Barking Deer) ইত্যাদি; সরিসৃপের মধ্যে সাপ; পাখির মধ্যে কাও ধনেশ, বনমোরগ, লালমাথা ট্রগন, কাঠঠোকরার, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলুদ পাখি, টিয়া প্রভৃতির আবাস রয়েছে। এছাড়া গাছে গাছে আশ্রয় নিয়েছে অগণিত পোকামাকড়, ঝিঁঝিঁ পোকা তাদের অন্যতম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৩.
প্রাচীন জনপদগুলোকে একত্রিত করে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শশাঙ্ক
  2. অশোক
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. গোপাল
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন গৌড় রাজ্য:
- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।
- শশাঙ্ক আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
জাতিসংঘের কোন সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে?
  1. খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
  2. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  3. জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা
  4. আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল
সঠিক উত্তর:
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি:
- ১৯৬০ সালে দেশে প্রথমবারের মত নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,
- কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- এ তথ্য-উপাত্ত কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
ii) BBS ওয়েবসাইট।
৩৫.
BEPZA নিম্নের কোন সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেছে?
  1. Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA)
  2. World intellectual Property Organization (WIPO)
  3. International Center for the Settlement (ICSID)
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
BEPZA:
- BEPZA-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Export Processing Zone Authority অথবা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ।
- BEPZA হলো ইপিজেডগুলোতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ বৃদ্ধিও জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রতিষ্ঠান।

⇒ বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা।
- বাংলাদেশ সরকার দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনের উদ্দেশ্যে শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) আইন ১৯৮০ (আইন নং-৩৬) এর মাধ্যমে "বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ" (বেপজা) গঠন করে।
- বেপজা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপনর্পবুক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনয়ন, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং প্রযুক্তি আহরণের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা সরকারের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পুরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
- ১৯৮৩ সালে BEPZA (Bangladesh Export processing Zone Authority) কর্তৃক সর্বপ্রথম ইপিজেড (EPZ) প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে।

⇒ BEPZA বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেছে। যথা:
- Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA) 
- World intellectual Property Organization (WIPO)
- International Center for the Settlement (ICSID)
- Overseas Private Investment Corporation (OPIC)। 

উৎস: i) আন্তর্জাতিক ব্যবসায়, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BEPZA ওয়েবসাইট।
৩৬.
বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোন যুদ্ধে পরাজিত হন?
  1. পলাশী যুদ্ধে
  2. কর্ণাটকের যুদ্ধে
  3. বক্সারের যুদ্ধে
  4. কলিঙ্গ যুদ্ধে
সঠিক উত্তর:
পলাশী যুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশী যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:
- বাংলার শেষ নবাব নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৭.
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৮৬ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক শুমারি:
- বাংলাদেশে ১৯৮৬ সালে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা করে।
- ১৯৮৬ সালের ২৭-২৯ ডিসেম্বর দেশজুড়ে এ শুমারি পরিচালনা করা হয়।
- সেবার এর শিরোনাম ছিল ‘Census on Non-Farm Economic Activities and Disabled Persons’।
- ওই বছরের শুমারিতে যেসব প্রতিষ্ঠান এবং খানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড করত, সেগুলোকে শুমারির আওতায় আনা হয়েছিল।
- তবে কৃষি খানাগুলোকে শুমারির আওতায় রাখা হয়নি।

উৎস: পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
৩৮.
প্রজনন মৌসুমে কত দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে?
  1. ২২ দিন
  2. ২৫ দিন
  3. ২৭ দিন
  4. ২৮ দিন
সঠিক উত্তর:
২২ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ দিন
ব্যাখ্যা
ইলিশ:
- বর্তমানে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬%।
- দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১১%।
- বাংলাদেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১%।
- প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে।

উল্লেখ্য,
- দেশে ইলিশ অধ্যুষিত জেলা ৩৮টি।
- ইলিশের অভয়াশ্রম ৬টি।
- বাংলাদেশে ইলিশের চারটি প্রজনন ক্ষেত্র রয়েছে।
- সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে ভোলা জেলায়।

উৎস: i) ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প।
ii) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর।
৩৯.
উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির সময় নিম্নের কোনটি ঘটে না?
  1. রপ্তানি হ্রাস পায়
  2. উৎপাধন ব্যয় বৃদ্ধি পায়
  3. দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়
  4. আমদানি হ্রাস যায়
সঠিক উত্তর:
রপ্তানি হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রপ্তানি হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
মুদ্রাস্ফীতি:
- মুদ্রাস্ফীতি বলতে বোঝায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়াকে, যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে।
- একটি দেশের বাজারে পণ্যের মজুদ এবং মুদ্রার পরিমাণের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হয়।
- যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক বেড়ে যায় অর্থাৎ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।
- এর ফলে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে আপনাকে আগের চাইতে বেশি মুদ্রা খরচ করতে হবে। এর মানে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে ওই মুদ্রার মান বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে।

⇒ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব:
• মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।

• আয় বণ্টনের উপর প্রভাব
- মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থ ও সম্পদ এক শ্রেণীর লোকের হাত হতে অন্য এক শ্রেণীর লোকের হাতে চলে যায়।
- মুদ্রাস্ফীতির ফলে মুদ্রার মূল্য কমে যায়। সেই কারণে ওই দেশে উৎপন্ন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পায়
- মুদ্রাস্ফীতি চলাকালীন ঋণগ্রহীতারা লাভবান হলেও ঋণদাতার ক্ষতিগ্রস্ত হন।
- মুদ্রাস্ফীতির ফলে কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন খরচের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়।
- মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ায় অন্য দেশ থেকে আমদানি কমে যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক অর্থনীতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
BSTI-এর পূর্ণরূপ -
  1. Bangladesh standards and testing Institute
  2. Bangladesh standards and testing Institution
  3. Bangladesh standards and technical Institution
  4. Bangladesh standards and technical Institute
সঠিক উত্তর:
Bangladesh standards and testing Institution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bangladesh standards and testing Institution
ব্যাখ্যা
বিএসটিআই:
- BSTI-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Standards and Testing Institution.
- ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের জারীকৃত অধ্যাদেশ ৩৭ (The Bangladesh Standards and Testing Institution Ordinance, 37 of 1985) এর মাধ্যমে সেন্ট্রাল টেস্টিং ল্যাবরেটরী (CTL) এবং বাংলাদেশ স্ট্যন্ডার্ডস ইন্সটিটিউশন (BDSI) কে একীভূত করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যন্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (BSTI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কৃষি পণ্য বিপণন ও শ্রেনীবিন্যাস পরিদপ্তরটিও (Department of Agricultural Grading and Marking) বিএসটিআই’র সঙ্গে একীভূত হয়।

⇒ বিএসটিআই-এর কাজ:
- পণ্য, সেবা ও প্রক্রিয়ার জাতীয় মান প্রণয়ন, তদানুযায়ী পণ্য পরীক্ষণ ও পণ্যের গুণগত মান সনদ (সার্টিফিকেশন) প্রদান এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে।
- এছাড়া দেশব্যাপী ওজন ও পরিমাপের সকল ক্ষেত্রে মেট্রিক পদ্ধতির প্রচলন এবং পরিমাপ যন্ত্রসমূহ ভেরিফিকেশন ও ক্যালিব্রেশনের দায়িত্বেও নিয়োজিত।

উৎস: বিএসটিআই ওয়েবসাইট।
৪১.
কোন ঐতিহাসিক ইলিয়াস শাহকে "সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ” উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. মিনহাজ উস সিরাজ
  2. আলী মুবারক
  3. শামস-ই-সিরাজ আফীফ
  4. জিয়াউদ্দিন বারানি
সঠিক উত্তর:
শামস-ই-সিরাজ আফীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামস-ই-সিরাজ আফীফ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ:
- ইলিয়াস শাহ 'সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।
- ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- তাঁর পূর্বে আর কোনো সুলতান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
- তাই ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' ও 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভকরেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ” এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় -
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি:
- স্বাধীনতার পর প্রথম কৃষি শুমারি হয় ১৯৭৭ সালে।
- তার আগে বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্ব প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩টি। যথা:
• মৎস্য,
• শস্য,
• প্রাণিসম্পদ।

উৎস: i) বিবিএস ওয়েবসাইট।
ii) কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪৩.
কত সালে বাংলাদেশে মুদ্রার ভাসমান বিনিময় হার চালু হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৩ সালে
  4. ২০০৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
মুদ্রার ভাসমান বিনিময় হার:
- মুদ্রার ভাসমান বিনিময় হার (Floating Exchange Rate) বলতে বোঝায় এমন একটি বিনিময় হার ব্যবস্থা যেখানে দেশের মুদ্রার মূল্য বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
- এই ধরনের বিনিময় হার সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা হয় না বরং আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মুদ্রার সঙ্গে বিনিময়ের মাধ্যমে তা পরিবর্তিত হয়।

⇒ বাংলাদেশে প্রথম কাগুজে নোট চালু করা হয়েছিল ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ।
- বিনিময় হারকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল ১৯৯৩ সালে ১৭ জুলাই।
- এর আগে দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকই চাহিদানুযায়ী ব্যবহারকারীদের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দ দিত। 

উল্লেখ্য,
- ২০০৩ সালের ২৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংক স্থিরীকৃত মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তে টাকাকে ভাসমান মুদ্রা হিসেবে ঘোষণা দেয়।
- এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়। তারপরও মুদ্রা বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতেই থাকে। তবে আগের মতো তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে নিজেই মুদ্রাবাজারে কেনাবেচার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) Britannica.
৪৪.
বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে কোন দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ আসে?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. দক্ষিণ কোরিয়া
  4. শ্রীলঙ্কা
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা
ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ:
- বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ আসে চীন থেকে।
- এ পর্যন্ত বেপজার ইপিজেডগুলোতে ৩৮টি দেশ থেকে বিনিয়োগ এসেছে।
- সবচেয়ে বেশি এসেছে চীন থেকে। চীনের মোট ১০৮টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে ইপিজেডে।
- এরপর বিনিয়োগ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ৬১টি, জাপানের ২৯টি, ভারতের ১৯টি, যুক্তরাজ্যের ১৯টি, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ও শ্রীলঙ্কার ৭টি প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য,
- বেপজার অধীনে বর্তমানে ৮টি ইপিজেড ও বেপজার অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট ৪৪৯ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে।
- এর বাইরে পটুয়াখালী ও যশোরে দুটি ইপিজেড স্থাপনের কাজ চলছে। আর গাইবান্ধায় একটি ইপিজেড স্থাপনের জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

⇒ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ২৯ শতাংশই এসেছে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) থেকে।
- গত অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট ১৪৬ কোটি ৮২ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যার মধ্যে ৪২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ইপিজেডগুলোর মাধ্যমে এসেছে।
- বেপজা রপ্তানি করেছে ৭০৭ কোটি ডলারের পণ্য, এবং ২০২৪ সালে ২৮টি নতুন বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে।

উৎস: i) The Business Standard.
ii) প্রথম আলো
৪৫.
মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশকে ৪টি সামরিক জোনে বিভক্ত করেন কত তারিখে?
  1. ৮ এপ্রিল, ১৯৭১
  2.  ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3.  ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
  4.  ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
 ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী:
- যে জনযুদ্ধ এনেছে বাংলাদেশের পতাকা, সেই জনযুদ্ধের দাবিদার এদেশের সাত কোটি বাঙালি।
- এই সশস্ত্র যুদ্ধ একটি নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
- পরিকল্পিত এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন। এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম: অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪৬.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং মাঝের লালবৃত্তের ব্যাসার্ধের অনুপাত যথাক্রমে -
  1. ৫ : ৩ : ১
  2. ৫ : ৩ : ২
  3. ৪ : ৩ : ১
  4. ৪ : ৩ : ২
সঠিক উত্তর:
৫ : ৩ : ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ : ৩ : ১
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।

• পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে,
- জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- অর্থাৎ, পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থের অনুপাত = ১০ : ৬ = ৫ : ৩।
- পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং লাল বৃত্তের মাঝের অনুপাত = ১০ : ৬ : ২ = ৫ : ৩ : ১।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
iii) প্রথম আলো।
iv) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭.
নিচের কোনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজ নয়?
  1. অর্থ ও মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ
  2. আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান
  3. সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয়
  4. অর্থ ও সম্পদের নিরাপত্তা
সঠিক উত্তর:
অর্থ ও মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ ও মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
বাণিজ্যিক ব্যাংক:
- যে ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণ ও ঋণদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।
- ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনানুসারে বাণিজ্যিক ব্যাংক গঠিত ও পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশে ৬টি রাষ্ট্রয়াত্ত, ৪৩টি বেসরকারি ও ৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে।

⇒ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলী: আমানত গ্রহণ, অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ঋণদান, বিনিয়োগ, ঋণ আমানত সৃষ্টি, বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি, মূলধন গঠন, বিল বাট্টাকরণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা দান, অর্থ স্থানান্তর, তথ্য সরবরা, পরামর্শ প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান, আর্থিক সচ্ছলতার সনদ প্রদান, অর্থ ও সম্পদের নিরাপত্তা, অর্থ আদায় ও পরিশোধ, বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়তা, সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয়, অবলেখক হিসেবে কাজ, অছি হিসেবে কাজ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি, গোপনীয়তা রক্ষা।

উল্লেখ্য,
- 'অর্থ ও মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ' বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজ নয়।

উৎস: i) ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
৪৮.
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI) কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. রাজশাহী
  3. গাজীপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI):
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) দেশের অন্যতম প্রাচীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- পাটের উন্নয়ন সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১৯৫১ সালে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট(বিজেআরআই) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে বিজেআরআই পাট ও পাট জাতীয় আঁশ ফসলের কৃষি গবেষণা, কারিগরী গবেষণা এবং পাট হতে টেক্সটাইল পণ্য উদ্ভাবন সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা করে থাকে।
- প্রধান কার্যালয়: মানিক মিয়া এভিনিউ ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ১৯০৪ সালে স্যার আর.এস. ফিনলো'র নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম পাটের গবেষণা শুরু হয়।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে এ্যাক্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)।
- রংপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও চান্দিনায় (কুমিল্লা) চারটি আঞ্চলিক পাট গবেষণা কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৪৯.
বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের অভ্যুত্থান ঘটে কার শাসনামলে?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে
  2. সম্রাট আকবরের শাসনামলে
  3. সম্রাট হুমায়ুনের শাসনামলে
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবরের শাসনামলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবরের শাসনামলে
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের অভ্যুত্থান ঘটে।

⇒ বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন।
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মুঘল আক্রমণ প্রতিহত করেন। এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারবার চেষ্টা করেও ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

⇒ বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া।
- প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- এ অবস্থায় বহু ভূঁইয়া বিদ্রোহ করেছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।