পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অধ্যায়: বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি টপিকসমূহ: ১. বৈশ্বিক ইতিহাস: i) মানব সমাজের বিবর্তন ii) বিশ্ব সভ্যতা উৎস: ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কিত বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] -------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল -
  1. ভেনাস
  2. ডুঙি
  3. জিগগুরাট
  4. পাতেজী
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয়।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'জরথুস্ত্র' ধর্ম কোন সভ্যতায় প্রচলিত ছিল?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. চৈনিক সভ্যতা
  3. অ্যাশেরীয় সভ্যতা
  4. পারস্য সভ্যতা
ব্যাখ্যা
পারস্য:
- পারস্য বর্তমানে ইরান নামে পরিচিত।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয় ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিল জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস: প্রথমপত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয় -
  1. পারস্য সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশ যা আমাদের কাছে পরিচিত ইজিপ্ট বা মিশর নামে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- যার একটি ছিল উত্তর মিশর (নিম্ন মিশর) অপরটি ছিল দক্ষিণ মিশর (উচ্চ মিশর)।
- মানব সভ্যতার অগ্রগতি তাদের অবদানে সমৃদ্ধ।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- চিত্রকলায় আছে বিশেষ বৈচিত্রপূর্ণ অবদান।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' কোন সভ্যতার অপূর্ব নিদর্শন?
  1. বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. হিব্রু সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' গ্রিক সভ্যতার অপূর্ব নিদর্শন।

গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সর্বপ্রথম লোহা আবিষ্কৃত হয় -
  1. এশিয়া মাইনরে
  2. গ্রিসে
  3. ইতালিতে
  4. মিশরে
ব্যাখ্যা
⇒ এশিয়া মাইনরে হিট্রাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।

লোহা:
- আধুনিক সভ্যতা মূলত লৌহের ওপর নির্ভরশীল।
- আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি লোহা।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়। এ
- গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রশক্তির প্রয়োগ আরও সহজ হয়।
- ফলে শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।

তথ্যসূত্র - সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
হিব্রু সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে
  2. ইয়াংসিকিয়াং নদীর অববাহিকায়
  3. উত্তর ইসরায়েল ও লেবাননে
  4. মিসিসিপি নদী তীরে
ব্যাখ্যা
⇒ হিব্রু সভ্যতা হল বর্তমানের ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা একটি প্রাচীন সভ্যতা।

হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই।
- হিব্রু জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের (আঃ) (আব্রাহাম) নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় একত্রে বসবাস শুরু করে।
- তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament) হিব্রু ধর্মের (ইহুদী জাতির) প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
- হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন জেহোভা।
- জেহোভাকে তারা আকার-বিশিষ্ট একেশ্বর বলে মনে করত।
- এ যুগে ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং আবার একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল -
  1. প্রাচীন প্রস্তর যুগে
  2. মধ্য প্রস্তর যুগে
  3. নতুন প্রস্তর যুগে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নতুন প্রস্তর যুগ:
- নতুন প্রস্তর যুগের সময় তৈরি পাথরের অস্ত্র অনেক বেশি উন্নত ছিল।
- এ যুগে মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল।
- কৃষি আর পশু পালন ছিল মানুষের প্রধান পেশা।
- এরই পাশাপাশি মাটির রকমারি বাসন-কোসন তৈরি করতে শিখে।
- নতুন পাথরের যুগের মানুষ কাপড় বুনতে পারতো।
- শিকারি জীবনের অবসান হওয়ায় এ যুগের মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করে।
- মানুষ স্থায়ী বসবাস গড়ার কারণেই ধীরে ধীরে গ্রামের বিকাশ ঘটলো।
- সিন্ধু নদীর উপত্যকা এবং বেলুচিস্তানে এই সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল।
- দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায় উন্নত ধরনের পাথরের কুঠার।
- এ যুগে মৃতদেহকে কবর দেয়া হতো। কবরের উপরে তৈরি করা হতো সমাধি।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পাথরের বদলে তামার ব্যবহার প্রথম শুরু হয় -
  1. দক্ষিণ ভারতে
  2. উত্তর ভারতে
  3. মাদ্রাজ সংস্কৃতিতে
  4. পশ্চিম ভারতে
ব্যাখ্যা
তাম্রযুগ:
- নতুন প্রস্তর যুগের শেষদিকে ভারতের আদি মানবেরা ধাতুর ব্যবহার শিখে।
- নতুন পাথরের যুগে উন্নত ধরনের হাতিয়ার তৈরি হত। এইজন্য প্রয়োজন ছিল শক্ত পাথরের।
- প্রাগৈতিহাসিক যুগের শেষদিকে ভারতে ব্যাপকভাবে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- উত্তর ভারতে প্রথম পাথরের বদলে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- এ সময় তামা দিয়ে মূলত: অস্ত্র এবং সাধারণ পাত্র তৈরি করা হতো।
- উত্তর ভারতের প্রায় সর্বত্রই তামার তৈরি দ্রব্য-সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে।
- সবচেয়ে বেশি এ অঞ্চলে পাওয়া দ্রব্য সামগ্রীর মধ্যে কুঠার, তলোয়ার, হারপূণ, তীরের ফলা, বাটালি ইত্যাদির নাম করা যেতে পারে।
- তামা আবিষ্কারের বহুকাল পর মানুষ লোহার সন্ধান পায়।
- তামা ব্যবহারের যুগটিকে ইতিহাসে তাম্রযুগ বলা হয়। আর, লোহা ব্যবহারের যুগটি পরিচিত ছিল লৌহ যুগ নামে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রাচীন নগরী পালমিরা কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইরাক
  2. মেক্সিকো
  3. সিরিয়া
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
পালমিরা:
- বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে প্রাচীন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের শহর পালমিরা।
- পালমিরা বর্তমান সিরিয়ার হমস প্রদেশে অবস্থিত।

সিরিয়া:
- আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্র।
- সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থিত।
- আয়তন: ৭১,৪৯৮ বর্গ মাইল (১৮৫,১৮০ বর্গ কিমি)।
- রাজধানী: দামেস্ক।
- ভাষা: আরবি (অফিসিয়াল), কুর্দি, আর্মেনিয়ান।
- ধর্ম: ইসলাম (প্রধানত সুন্নি), এছাড়াও খ্রিস্টান।
- মুদ্রা: সিরিয়ান পাউন্ড।
- দেশটি ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১০.
প্রাচীন মিশরীয় সম্রাট বা রাজাদের উপাধি ছিল -
  1. নারমার
  2. জার
  3. ইখনাটন
  4. ফারাও
ব্যাখ্যা
ফারাও:
- প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের 'ফারাও' বলা হতো।
- ফারাও শব্দের অর্থ বড় বাড়ি।
- বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী ফারাওদের মনে করা হতো ঈশ্বরের সন্তান।
- তাঁরা একই সঙ্গে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- মিশরের 'ফারাও' বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথমত আহমোজ, রাজা তুথমোস, সম্রাট ইখনাটন এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস।
- পরাক্রমশালী তৃতীয় র‍্যামেসিসের মৃত্যুর পর ফারাওদের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১১.
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারের প্রাচীন অধিবাসীরা কোন গোত্রের?
  1. দ্রাবিড় গোত্র
  2. আর্য গোত্র
  3. আদিম উপজাতি
  4. মঙ্গোলীয় গোত্র
ব্যাখ্যা
দ্রাবিড়:
- ভারতে আর্যদের আগমনের পূর্বে দ্রাবিড় জাতির বসবাস ছিল।
- এই জাতিগোষ্ঠী দক্ষিণে ইন্দো-আফ্রিকার নিগ্রোদের গোত্রভুক্ত।
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে যে আদিবাসীদের অস্তিত্বের কথা সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের ফলে জানা যায় এরাই দ্রাবিড় জাতি।
- প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেই ভারতে দ্রাবিড়দের অবস্থান ছিল বলে অনুমান করা হয়।
- দ্রাবিড়দের মূল পেশা ছিল কৃষিকাজ।
- এরা আদিম অবস্থা অতিক্রম করে ভারতে নগর গড়ে তোলে এবং প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র।
- তারা মিশর, প্যালেস্টাইন, পারস্য, মেসোপটেমিয়া, ব্যবিলনিয়া ও এশিয়া মাইনর প্রভৃতি দেশে বাণিজ্য করত।
- তাদের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল হাতির দাঁত, স্বর্ণ, মূল্যবান পাথর, ধান, কাঠ, বানর ও ময়ূর।
- দ্রাবিড় ভাষার সাথে এখনও তামিল, তেলেগু, কানাড়ীয়, মালিয়াম প্রভৃতি অঞ্চলের ভাষার মিল রয়েছে।
- দ্রাবিড়দের সমাজ কাঠামো ছিল মাতৃতান্ত্রিক।
- দ্রাবিড় সমাজে কোন বর্ণভেদ ছিল না।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার সর্বশেষ পর্যায় কোনটি?
  1. অ্যাসেরীয়
  2. ক্যালেডীয়
  3. ব্যাবিলনীয়
  4. সুমেরীয়
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
• সুমেরীয়।
• ব্যাবিলনীয়।
• অ্যাসেরীয়।
• ক্যালেডীয়।

ক্যালডীয় সভ্যতা:
- ক্যালডীয় সভ্যতাটি মেসোপটেমীয় সভ্যতার সবার শেষে গড়ে উঠেছিল।
- ৬১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ্যাসিরীয়দের পতন এবং ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে।
- বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
গ্রিক পুরাণের যুদ্ধের দেবী ছিলেন -
  1. এথেনা
  2. অ্যারেস
  3. আফ্রোদিতি
  4. ডিমিটার
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিকদের ১২ টি দেবদেবী ছিল।
- গ্রিকদের বিশ্বাস ছিলো দেবদেবীরা বাস করতেন অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায়।
- জিউস ছিলো দেবতাদের রাজা।
- আর্টেমিস ছিলেন শিকারের বহর-পাওয়ালা দেবী।
- আফ্রোদিতি ছিলেন প্রেম, যৌনতা এবং সৌন্দর্যের দেবী।
- অলিম্পাসের রাণী দেবী হেরা ছিলেন জিউসের বোন এবং স্ত্রী।
- অ্যারেস ছিলেন রক্তপানের দেবতা।
- এথেনা ছিলেন যুক্তি, প্রজ্ঞা এবং যুদ্ধের দেবী।
- আর্টেমিসের যমজ ভাই অ্যাপোলো ছিলেন দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- ডিমিটার একজন কৃষি দেবী।
- ডায়োনিসাস ছিলেন জিউসের এক পুত্র যার জন্ম একজন নশ্বর মা।
- গ্রীক প্যান্থিয়নের অনেক দেবতার মতো, হার্মিস একাধিক গোলকের সভাপতিত্ব করেছিলেন।
- পসেইডন গ্রীক সমুদ্র দেবতা হিসাবে সর্বাধিক পরিচিত, তবে তিনি ঘোড়া এবং ভূমিকম্পেরও দেবতা ছিলেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১৪.
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা কোনটি?
  1. চৈনিক সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
• সুমেরীয়।
• ব্যাবিলনীয়।
• অ্যাসেরীয়।
• ক্যালেডীয়।
- Mesopotamia মানে হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'।
- ফোরাত ও দজলা নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার নামকরণ হয়েছে গ্রিক শব্দে।
- ওই সময় উরুক নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর ছিল। এ শব্দ থেকেই ইরাকের নাম রাখা হয়।
- বর্তমান ইরাকের বেশির ভাগ অংশ এবং সিরিয়ার কিছু অংশ একসময় মেসোপটেমীয় সভ্যতারই
অংশ ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ সালের দিকে এ অঞ্চল পার্সিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে রোমানদের দখলে যায়। মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চল ইরাক নামে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১৫.
রোমান সভ্যতার সমুদ্রের দেবতার নাম কী?
  1. নেপচুন
  2. জুপিটার
  3. ভেনাস
  4. মিনার্ভা
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।