পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়08 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৫ টপিক: দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, বচন, পুরুষ ও স্ত্রী-বাচক শব্দ পদাশ্রিত নির্দেশক উক্তি - কারক ও বিভক্তি। [লাইভ ক্লাস – ৩৪, ৩৫ ও ৩৬]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
কোনটি নিরর্থকভাবে ব্যবহৃত নির্দেশক?
  1. টি
  2. টুকু
  3. টো
  4. খানা
সঠিক উত্তর:
টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টি
ব্যাখ্যা
• নিরর্থকভাবে ব্যবহৃত নির্দেশক - টি

পদাশ্রিত নির্দেশক:
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
যেমন:  -টা, -টি, -খানা, -খানি, -টুকু ইত্যাদি।
- বাংলায় নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article ‘The’ - এর স্থানীয়।

• ‘এক’ ব্যতীত অন্য সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে টা, টি যুক্ত হলে নির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন - তিনটি টাকা, দশটি বছর।

নিরর্থকভাবেও নির্দেশক টা, টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়
যেমন -
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছি।
- ন্যাকামিটা এখন রাখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। - বাক্যে 'ছাত্র' শব্দটি কোন কর্তা?
  1. মুখ্য কর্তা
  2. প্রযোজক কর্তা
  3. প্রযোজ্য কর্তা
  4. ব্যতিহার কর্তা
সঠিক উত্তর:
প্রযোজ্য কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজ্য কর্তা
ব্যাখ্যা
• শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। - বাক্যে 'ছাত্র' শব্দটি প্রযোজ্য কর্তা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:
১. মুখ্য কর্তা, 
২. প্রযোজক কর্তা,
৩. প্রযোজ্য কর্তা,
৪. ব্যতিহার কর্তা।

প্রযোজক কর্তা:
মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন -
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন

প্রযোজ্য কর্তা:
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
যেমন -
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
এ বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।

তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে কোন সংখ্যাশব্দের?
  1. ক্রমবাচক
  2. তারিখ পূরণবাচক
  3. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  4. সাধারণ পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
- সংখ্যাশব্দ দুই রকমের: ক্রমবাচক ও পূরণবাচক।
• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়।

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
যেমন – ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চৌদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।
- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
→ 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ ‘দ্বি’, 'দু', এবং 'দো'।
→ 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং ‘তে’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ সেথা শির।' - বাক্যে 'চিত্ত' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ সেথা শির।' - বাক্যে 'চিত্ত' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ সেথা শির

• 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ সেথা শির।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কী যেথা ভয়শূন্য?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চিত্ত'। তাই, 'চিত্ত' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'মেঘ' শব্দকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আবলি
  2. মালা
  3. সব
  4. সমূহ
সঠিক উত্তর:
মালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালা
ব্যাখ্যা
বচন:
বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। 
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে। 

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘-সব’ , ‘-সমূহ’ , ‘-আবলি’ , ‘-মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়। 
যেমন -
→ সব - ভাইসব, পাখিসব।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।
→ সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমুহ।
→ আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
উক্তি পরিবর্তন করুন: শিক্ষক বললেন, "কাল তোমাদের ছুটি থাকবে।"
  1. শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
  2. শিক্ষক বললেন যে, পরদিন তোমাদের ছুটি থাকবে।
  3. শিক্ষক বললেন যে, পূর্বদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
  4. শিক্ষক বললেন যে, সেদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

• যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
• আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তির কালবাচক পদকে পরোক্ষ উক্তিতে অর্থ অনুসারী করতে হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "কাল তোমাদের ছুটি থাকবে।"
→ পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।