[বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক নিয়োগ প্রস্তুতি - ২০২৩]
বিষয়: বাংলা
টপিক:
১. ধ্বনি, শব্দ, ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দের উচ্চারণ, যুক্তবর্ণ, শব্দ ও পদের গঠন, বানান, শব্দের উৎস, শব্দের শ্রেণি বিভাগ, লিঙ্গ ও দ্বিরুক্ত শব্দ।
২. কারক-বিভক্তি, ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়াপদ।
• অশুদ্ধ বানান - দুরাকাঙ্ক্ষি • শুদ্ধ বানান - দুরাকাঙ্ক্ষী - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃত প্রত্যয় = [দুঃ+আ+√কাঙ্ক্ষ্+ইন্] অর্থ: অনুচিত উচ্চ আকাঙ্ক্ষাবিশিষ্ট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২.
‘সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে’- বাক্যে ‘সুপ্তি থেকে’ কোন কারক?
ক
ক) কর্তৃকারক
খ
খ) কর্ম কারক
গ
গ) সম্বন্ধ কারক
ঘ
ঘ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক: যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। যেমন - - জমি থেকে ফসল পাই। - সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
• কর্তৃকারক: বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। যেমন: হামিদ বই পড়ে।
• কর্ম কারক: যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। - বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। - সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়। যেমন, - শিক্ষককে জানাও। - অসহায়কে সাহায্য করো।
• সম্বন্ধ কারক: - যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। - এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। - এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন – - ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩.
অপকর্ম’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
ক
ক) তদ্ভব
খ
খ) সংস্কৃত
গ
গ) খাঁটি বাংলা
ঘ
ঘ) বিদেশি
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ ‘অপ’ যোগে নিকৃষ্ট অর্থে - অপকর্ম শব্দটি গঠিত।
⇒ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। - যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
- [বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।] - বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
ক
ক) চলন্ত
খ
খ) গাছ
গ
গ) ডুবুরি
ঘ
ঘ) গরমিল
ব্যাখ্যা
⇒ মৌলিক শব্দ: যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন- পা, গােলাপ, নাক, পাখি, ফুল, লাল, গাছ, হাত ইত্যাদি।
⇒ সাধিত শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি। শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক
ক) মধুপর্ণি
খ
খ) সমিচীন
গ
গ) নির্ধন
ঘ
ঘ) পাণিনী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ‘নির্ধন’
অন্যান্য বানানগুলোর অশুদ্ধ ও শুদ্ধ রূপ দেয়া হলো: • অশুদ্ধ - সমিচীন • শুদ্ধ - সমীচীন (বিশেষণ) - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = সম্য্ চ+ঈন্ অর্থ:- সংগত, উপযুক্ত, উওম, যথার্থ, সত্য, উচিত।
• অশুদ্ধ - পণিনী • শুদ্ধ - পাণিনি (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = পাণিন্+অ অর্থ:- খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের সংস্কৃত ব্যাকরণপ্রণেতা।
• অশুদ্ধ- মধুপর্ণি • শুদ্ধ- মধুপর্ণী - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয়- মধু+√পা+ইন্ অর্থ: নীলীবৃক্ষ, গুলঞ্চলতা, গাম্ভারী, গামার।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬.
'সত্য' শব্দটির শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
ক
ক) সোত্য্ত
খ
খ) শোত্যত
গ
গ) সোত্যত
ঘ
ঘ) শোত্তো
ব্যাখ্যা
• ‘সত্য’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চরণ (শোত্তো) - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = [সৎ+য] অর্থ: মিথ্যা নয়, প্রকৃত, বাস্তব, চির-কালীন, নিত্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
ক
ক) থকথকে
খ
খ) জ্বর জ্বর
গ
গ) অঙ্কটঙ্ক
ঘ
ঘ) জোরে জোরে
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের: ১.অনুকার দ্বিত্ব ২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ৩.পুনরাবৃত্তদ্বিত্ব
⇒ অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। - যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্রাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।
⇒ ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে। যেমন: টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, থকথকে, টসটস, দুম দুম ।
⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, জোরে জোরে, কথায় কথায় ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৮.
‘চাষি’ কোন ভাষার শব্দ?
ক
ক) বাংলা
খ
খ) ফারসি
গ
গ) সংস্কৃত
ঘ
ঘ) চীনা
ব্যাখ্যা
⇒ চাষি - বাংলা শব্দ। অর্থ: ভূমিকর্ষণ যার পেশা, কৃষক।
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে - ক) পুংলিঙ্গ খ) স্ত্রীলিঙ্গ গ) ক্লীবলিঙ্গ ও ঘ) উভয়লিঙ্গ
পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ। এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।
স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।
ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।
উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
নিচের কোনটি নির্দেশক লগ্নকের উদাহরণ?
ক
ক) কৃষকের
খ
খ) বইখানি
গ
গ) ছেলেরা
ঘ
ঘ) তখনই
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বইখানি’ শব্দটি হলো নির্দেশক লগ্নকের উদাহরণ।
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:
• বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। - ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ। এবং টি, টা, খানা, খানি ইত্যাদিও নির্দেশক উদাহরণ।
• বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’ বা বইগুলো পদের ‘রা’ বা গলো হলো বচনের উদাহরণ।
• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ ‘ও’ বলকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।