পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫ টপিক: বাংলা (সম্পূর্ণ সিলেবাস) [মার্কস-৫০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৮ প্রশ্ন

.
'হাতির গর্জন' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. হ্রেষা
  2. কেকা
  3. বৃংহিত
  4. কূজন
সঠিক উত্তর:
বৃংহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃংহিত
ব্যাখ্যা
• ‘হাতির গর্জন’ এর এক কথায় প্রকাশ - বৃংহিত।

অন্যদিকে,
- ‘ঘোড়ার ডাক’ এর এক কথায় প্রকাশ - হ্রেষা।
- ‘পাখির কলতান’ এর এক কথায় প্রকাশ - কূজন।
- 'ময়ূরের ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ - কেকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোনটি বিপ্রকর্ষ-র উদাহরণ?
  1. স্টেশন > ইস্টিশন
  2. রত্ন > রতন
  3. বেঞ্চ >বেঞ্চি
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
সঠিক উত্তর:
রত্ন > রতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্ন > রতন
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
অ — রত্ন> রতন, ধর্ম >ধরম, স্বপ্ন> স্বপন, হর্ষ >হরষ ইত্যাদি।
ই — প্রীতি> পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ — মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ভূ >ভুরু ইত্যাদি।
এ — গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ >সেরেফ ইত্যাদি।
ও — শ্লোক> শোলোক, মুরগ >মুরোগ> মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আদি স্বরাগম :
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন:
- স্কুল> ইস্কুল, স্টেশন> ইস্টিশন। 

• অন্ত্যস্বরাগম :
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে, এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন
দিশ্> দিশা, পোখত্ >পোক্ত, বেঞ্চ >বেঞ্চি, সত্য >সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন
আজি >আইজ, সাধু> সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি> চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
.
"বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।" - এ মতের প্রবক্তা কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্রোপধ্যায়
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,
গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ বাংলা ভাষার উৎপত্তি - গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।

• কিন্তু ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন মগধ জনপদের মানুষের মুখের ভাষা অর্থাৎ মগধ অঞ্চলের প্রাকৃজনের ভাষা বা মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করেছে।

• জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান:
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'মানুষ' শব্দটিতে কয়টি ধ্বনি আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
• "মানুষ" শব্দটিতে ৫টি ধ্বনি আছে।

ধ্বনি বিশ্লেষণ:
"মানুষ" = ম্ + আ + ন্ + উ + ষ্।

ম্ - ব্যঞ্জনধ্বনি;
আ - স্বরধ্বনি;
ন্ - ব্যঞ্জনধ্বনি;
উ - স্বরধ্বনি;
ষ্ - ব্যঞ্জনধ্বনি;

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- ধ্বনি গণনা করা হয় উচ্চারণ অনুযায়ী;
- প্রতিটি স্বতন্ত্র উচ্চারণ একটি করে ধ্বনি।

অন্য উদাহরণ:
"বই" = ব্ + ও + ই = ৩টি ধ্বনি;
"স্কুল" = স্ + ক্ + উ + ল্ = ৪টি ধ্বনি।

উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. দাউদ হায়দার
  3. হেলাল হাফিজ
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• "যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক - হেলাল হাফিজ।

'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'শব্দকল্পদ্রুম' একটি -
  1. উপাখ্যান
  2. সংস্কৃত অভিধান
  3. গীতিকা
  4. ব্যঙ্গ রচনা
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত অভিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত অভিধান
ব্যাখ্যা
• 'শব্দকল্পদ্রুম' একটি — সংস্কৃত অভিধান গ্রন্থ।

• শব্দকল্পদ্রুম: 
- শব্দকল্পদ্রুম ⎯ একটি সংস্কৃত অভিধান গ্রন্থ।
- এর সংকলক ⎯ রাজা রাধাকান্ত দেব (১৭৮৩-১৮৬৭) এবং সম্পাদক ⎯ করুণাসিন্ধু বিদ্যানিধি।
- সুদীর্ঘ চল্লিশ বছরের পরিশ্রমে আট খণ্ডে এ কোষগ্রন্থটি সংকলিত হয়।
- সংকলনের কাজ শুরু হয় ১৮০৩ সালে এবং প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮১৯ সালে এবং সর্বশেষ অষ্টম খণ্ড পরিশিষ্ট খণ্ড হিসেবে প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে।

- ‘কল্পদ্রুম’ শব্দের অর্থ কল্পবৃক্ষ, অর্থাৎ যে বৃক্ষের নিকট যা কামনা করা হয় তা-ই পাওয়া যায়।
- কথিত আছে, এমন কোনো  সংস্কৃত শব্দ নেই যা এ কোষগ্রন্থটিতে পাওয়া যায় না। তাই এর নাম রাখা হয় ‘শব্দকল্পদ্রুম’।
- সংস্কৃত ভাষায় গদ্যে রচিত সর্ববৃহৎ এ অভিধানটি বাংলা হরফে মুদ্রিত। এতে প্রতিটি সংস্কৃত শব্দের অর্থ, ব্যুৎপত্তি এবং সংস্কৃত ভাষায় তার প্রয়োগ দেওয়া আছে।

উল্লেখ্য,
- 'শব্দকল্পদ্রুম' নামে সুকুমার রায়ের একটি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
.
কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
  2. চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
  3. যাবতীয় প্রাণীবৃন্দ এই গ্রহের বাসিন্দা।
  4. তোমার মতো এমন বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।
সঠিক উত্তর:
যাবতীয় প্রাণীবৃন্দ এই গ্রহের বাসিন্দা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাবতীয় প্রাণীবৃন্দ এই গ্রহের বাসিন্দা।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: যাবতীয় প্রাণীবৃন্দ এই গ্রহের বাসিন্দা।
• শুদ্ধ: যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।

অন্যদিকে, 
- আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
- চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
- তোমার মতো এমন বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।

[এই বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোন পদকর্তা 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে পরিচিত?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
১০.
'সম্মান' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. সোমমান্‌
  2. শম্‌মান্‌
  3. সম্‌মান্‌
  4. সমোমান
সঠিক উত্তর:
শম্‌মান্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শম্‌মান্‌
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'সম্মান' এর সঠিক উচ্চারণ — 'শম্‌মান্‌'।

• 'শম্‌মান্‌' এর অর্থ:
- মর্যাদা; গৌরব।

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১১.
ধ্বনি পরিবর্তন 'দ্বিত্ব ব্যঞ্জন' এর উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. পাকা > পাক্কা
  2. সকাল > সক্কাল
  3. মুলুক > মুল্লুক
  4. পক্ব > পক্ক
সঠিক উত্তর:
পক্ব > পক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ব > পক্ক
ব্যাখ্যা
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
- অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
নিচের কোনটি বিভক্তিযুক্ত শব্দ?
  1. জানালা
  2. আকাশে
  3. কাগজ
  4. পাহাড়
সঠিক উত্তর:
আকাশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর- খ) আকাশে।

ব্যাখ্যা:
"আকাশে" = আকাশ + এ;
"আকাশ" = মূল শব্দ (প্রাতিপদিক);
"এ" = বিভক্তি (সপ্তমী বিভক্তি)।

অন্য অপশনগুলো:
ক) জানালা - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক);
গ) কাগজ - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক);
ঘ) পাহাড় - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক)।

আরো উদাহরণ:
ঘর + এ = ঘরে;
বাগান + এ = বাগানে;
স্কুল + এ = স্কুলে।

সুতরাং "আকাশে" একটি বিভক্তিযুক্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
১৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শোণিত
  2. গৌণ
  3. নির্নিমেষ
  4. পূর্বাহ্ন
সঠিক উত্তর:
পূর্বাহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাহ্ন
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাহ্ন' - শব্দের বানানটি অশুদ্ধ।
কারণ,

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন,
- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, পূর্বাহ্ন শুদ্ধ নয়, এর শুদ্ধ বানান- 'পূর্বাহ্ণ'।

অন্যদিকে,
শোণিত; গৌণ; নির্নিমেষ - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৪.
বিমল ঘোষের ছদ্মনাম -
  1. সুনন্দ
  2. পরশুরাম
  3. মৌমাছি
  4. বনফুল
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
ব্যাখ্যা
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম — 'মৌমাছি'।

অন্যদিকে, 
- 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'বনফুল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'ষত্ব-বিধান' এর নিয়ম অনুসারে কোন বাক্যটি মিথ্যা?
  1. বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না।
  2. ‘ঋ’ ও ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়।
  3. তৎসম শব্দে ‘র’ এর পর ‘ষ’ হয়।
  4. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে কখনো ‘ষ’ যুক্ত হয় না।
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে কখনো ‘ষ’ যুক্ত হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে কখনো ‘ষ’ যুক্ত হয় না।
ব্যাখ্যা
• 'ষ'ত্ব বিধান:
তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।

ষ-ত্ব বিধানের নিয়মাবলী:
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন: অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
• ‘ঋ’ ও ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক।
• তৎসম শব্দে ‘র’ এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ।
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, কাষ্ঠ।
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন: ষড়ঋতু, আষাঢ়, ভাষা, মানুষ, দ্বেষ, ভূষণ।
• বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন: জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর লেখক কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কবি গোলাম মোস্তফা
  3. আহসান হাবীব
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
কবি গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• ''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর লেখক: কবি গোলাম মোস্তফা।

কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
_________ বাতাসের তোড়ে ছাতা উড়ে গেল।
  1. ঘূর্ণায়মান
  2. ঘূর্ণায়মাণ
  3. ঘূর্নায়মান
  4. ঘুর্ণায়মান
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে- ঘূর্ণায়মান। যার অর্থ ঘুরছে এমন।

• সুতরাং সঠিক বাক্যটি - 
ঘূর্ণায়মান বাতাসের তোড়ে ছাতা উড়ে গেল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
'Dualism' শব্দের বাংলা পরিভাষা -
  1. দ্বিজাতিত্ব
  2. দ্বৈতসংগীত
  3. দ্বৈতবাদ
  4. ঘূর্ণায়মান
সঠিক উত্তর:
দ্বৈতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈতবাদ
ব্যাখ্যা
• 'Dualism' শব্দের বাংলা পরিভাষা - দ্বৈতবাদ।

অন্যান্য অপশন গুলোর বাংলা পরিভাষা:
'Dual nationality' শব্দের বাংলা পরিভাষা - দ্বিজাতিত্ব।
'Duet'  শব্দের বাংলা পরিভাষা - দ্বৈতসংগীত।
Whirling/ Rotation শব্দের বাংলা পরিভাষা- ঘূর্ণায়মান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারিভাষিক শব্দ হলো:
Valuation - মাননির্ণয়/ মূল্যনির্ধারণ। 
Variable - অসম/ চল/ পরিবর্তনীয়। 
Venation - শিরাবিন্যাস। 
Verification - প্রতিপাদন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৯.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. জলাঙ্গী - শওকত ওসমান
  2. উপমহাদেশ - আল মাহমুদ
  3. নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী
  4. রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী।

ব্যাখ্যা:
ক) জলাঙ্গী - শওকত ওসমান:এটি সঠিক।
কারণ, শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।

খ) উপমহাদেশ - আল মাহমুদ: এটি সঠিক। 
• আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - উপমহাদেশ।

গ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী: এটি ভুল।
নেকড়ে অরণ্য শওকত ওসমান রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

ঘ) রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা: এটি সঠিক।
রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশার রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৭১ সালে লেখা হয়।

সুতরাং গ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী; এটি ভুল তথ্য। "নেকড়ে অরণ্য" উপন্যাসটি শওকত আলীর নয়, বরং শওকত ওসমানের লেখা।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
- বাংলাপিডিয়া, জাতীয় বিশ্বকোষ। 
২০.
ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে কোন পদ গঠন করে?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. সর্বনাম পদ
  4. ক্রিয়াপদ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠন করে তাকে ক্রিয়াপদ বলে।

• ধাতু:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- অন্যকথায় ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়: (১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং (২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন 'করে' একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ; এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি।
- সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর্' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'।
- অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২১.
"প্রত্যয়, সমাস বা উপসর্গ" দিয়ে সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. জয়
  2. পরিচালক
  3. পরাগ
  4. বাঘা
সঠিক উত্তর:
পরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
মৌলিক শব্দে প্রত্যয়, বিভক্তি বা উপসর্গ যুক্ত থাকে না। এ শব্দ বিশ্লেষণে কোন অর্থপূর্ণ অংশ থাকে না।  
উদাহরণ- গোলাপ, হাত, পুষ্প, পরাগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাধিত শব্দ:
‘ফিসফিস’ সাধিত শব্দ। মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে প্রত্যয়, উপসর্গ যোগে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
এখানে,
• পরিচালক; উপসর্গ সাধিত শব্দ। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
• √ জি + অল = জয়; বাঘ + আ = বাঘা; প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২২.
বাংলা ভাষায় কোন দুটি শব্দ পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে?
  1. তুরুপ, রুইতন
  2. ইস্পাত, বালতি
  3. কিস্তি, হামলা
  4. কুলি, তোপ
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত, বালতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত, বালতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় "ইস্পাত, বালতি" শব্দ দুটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে

আরো কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
আচার, আয়া , আলমারি, আলকাতরা, ইস্পাত, কেরানি, গির্জা, গুদাম, চাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তুর্কি শব্দ : কুলি, কোর্মা, খাতুন, তোপ, বেগম, লাশ ইত্যাদি।
ওলন্দাজ শব্দ :তুরুপ, রুইতন, হরতন, টেক্‌কা ইত্যাদি।
আরবি শব্দ : আজব, আতর, আক্কেল, আমল, আমানত, কবর, কেবলা, কিস্তি, কুদরত, হামলা, হারাম, হাল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
'মুক্তল হোসেন' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. লোকসাহিত্য
  2. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. মর্সিয়া
  4. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া
ব্যাখ্যা
•'মুক্তল হোসেন' কাব্য:
- 'মুক্তল হোসেন' মুহম্মদ খান রচিত ফারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
- মুহম্মদ খান 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
- ১৬৪৫ সালে 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচিত হয়। এই কাব্যটি ফারসি 'মক্তুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- কবির বৃদ্ধ অবস্থায় এটি রচিত। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৪.
কাজী নজরুল ইসলামের 'দুর্দিনের যাত্রী' কোন জাতীয় রচনা?
  1. কবিতা
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে দেশপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: আমি সৈনিক; মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা; স্বাগত; তুবড়ি বাঁশির ডাক।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উল্লেখ্য,
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
২৫.
'ঘাতক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ঘাত + অক
  2. √ ঘাত্‌ + ক
  3. √ হন্‌ + অক
  4. √হন্‌ + অফ
সঠিক উত্তর:
√ হন্‌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ হন্‌ + অক
ব্যাখ্যা
• ‘ঘাতক’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় - √ হন্‌ + অক = ঘাতক।

• বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়।
- ধাতুর সঙ্গে অক - প্রত্যয় যোগে কর্তৃবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন -  
√নী + অক = নায়ক;
√পাল্ + অক =পালক;
√নিন্দ + অক = নিন্দক;
√গৈ + অক = গায়ক;
√পচ্+ অক = পাচক;
√হিনস্ + অক = হিংসক;
√সেব্‌ + অক = সেবক;
√খাদ্‌ + অক = খাদক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ -
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বর্ণপরিচয়
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম - প্রভাবতী সম্ভাষণ।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রাজা রামমোহন রায় রচনা করেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে। এটিই বাঙালি রচিত বাংলা ভাষার প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৭.
'সাকার' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. আকার
  2. কদাকার
  3. নিরাকার
  4. বৃহদাকার
সঠিক উত্তর:
নিরাকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরাকার
ব্যাখ্যা
• নিরাকার (বিশেষণ পদ):
অর্থ- আকারশূন্য; অবয়বহীন; নিরবয়ব; মূর্তিহীন; বিমূর্ত।

• সাকার (বিশেষণ পদ:
অর্থ- আকারবিশিষ্ট; মূর্তিমান।

সুতরাং, 'সাকার' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- নিরাকার। 

অন্যদিকে, 
'কদাকার' অর্থ- কুৎসিত আকৃতিবিশিষ্ট, বেঢপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮.
"তাড়াতাড়ি কাজটি করো।"- কোন কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা
• "তাড়াতাড়ি কাজটি করো।"- অনুজ্ঞা বর্তমান কালের উদাহরণ।

• অনুজ্ঞা বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
২৯.
"বউ ঠাকুরানীর হাট" নামক উপন্যাস হইতে কোন গ্রন্থখানি নাট্যীকৃত হয়?
  1. বিসর্জন
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. ডাকঘর
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।

এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন - 
"বউঠাকুরানীর হাট নামক উপন্যাস হইতে এই প্রায়শ্চিত্ত গ্রন্থখানি নাট্যীকৃত হইল। মূল উপন্যাসখানির অনেক পরিবর্তন হওয়াতে এই নাটকটি প্রায় নূতন গ্রন্থের মতোই হইয়াছে।"

- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। 
- নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০.
নিচের কোন শব্দটিতে সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অদ্যাবধি
  2. অনাটন
  3. প্রাতরাশ
  4. উপর্যুপরি
সঠিক উত্তর:
অনাটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাটন
ব্যাখ্যা
• "অনাটন" শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি অপপ্রয়োগ। এখানে সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর সঠিক শব্দ হলো "অনটন"।

অন্য শব্দগুলো শুদ্ধ:
• অদ্যাবধি → সঠিক, অর্থ: আজ পর্যন্ত।
• উপর্যুপরি → সঠিক, অর্থ: একটার পর একটা (বারবার)।
• প্রাতরাশ → সঠিক, অর্থ: সকালের নাশতা (সংস্কৃতমূলে গঠিত)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩১.
নাটক এবং প্রহসনের পার্থক্য কোথায়?
  1. চরিত্র
  2. উপাখ্যান
  3. ব্যঙ্গ বিদ্রপ
  4. সংলাপ
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ বিদ্রপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ বিদ্রপ
ব্যাখ্যা
• নাটক অর্থ: সংলাপের আকারে রচিত এবং অভিনয়ের ‍উপযোগী দৃশ্যকাব্য।
• প্রহসন অর্থ: হাস্য রসাত্মক নাটক ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ নাটক।

⇒ প্রহসন:
প্রহসন হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা। এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়। পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত। বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

⇒ নাটক:
মঞ্চে অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাহায্যে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন তা হয় নাটক। মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রী কর্তৃক অভিনীত হবে এ উদ্দেশ্য নিয়েই নাট্যকার নাটক রচনা করেন। 'নাটক' শব্দটির মধ্যেই রয়েছে এ সত্যের ইঙ্গিত।

তাই বলা যায়, নাটক ও প্রহসনে পার্থক্য হলো ব্যঙ্গবিদ্রূপ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
শেক্সপিয়রের 'The Taming of The Shrew' গ্রন্থটি "মুখরা রমণী বশীকরণ" নামে অনুবাদ করেছেন কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা।
- ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।
------------------------------------------------ 
• মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:

"কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
"রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
"মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
"নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
"পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
"দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
"রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:

"কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৩৩.
কোন নাট্যকার 'হরগজ' নাটকটি রচনা করেন?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. সেলিম আল দীন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• 'হরগজ' নাটকটির রচয়িতা- সেলিম আল দীন।

'হরগজ' নাটক:
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে এ নাটক লিখেন। 
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি
ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ
শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালে সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
'অনাহুত' শব্দের অর্থ -
  1. স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন
  2. কোমর
  3. অনিমন্ত্রিত
  4. গহ্বর
সঠিক উত্তর:
অনিমন্ত্রিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিমন্ত্রিত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অনাহুত' শব্দের অর্থ - অনিমন্ত্রিত।



অন্যদিকে,
- 'স্থিতধী' শব্দের অর্থ: স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন। 
- 'কটি' শব্দের অর্থ - কোমর।
- 'বিবর' শব্দের অর্থ - গহ্বর। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৫.
বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন -
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিদ্যাপতি
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. শ্রী চৈতন্য
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি: 
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজসভার একজন বিখ্যাত কবি, যিনি চতুর্দশ শতকে তাঁর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করেছিলেন। মিথিলার রাজা শিবসিংহ তাঁর রচনায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, বিদ্যাপতিকে ‘কবিকণ্ঠহার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

• ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে বিদ্যাপতিকে বোঝায়। যেমন কোকিল তার সুমধুর গান দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, তেমনই বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় পদাবলি ও গীতিকবিতা রচনা করে সবার হৃদয় জয় করেন। এই কারণে তাঁকে মৈথিল কোকিল নামে অভিহিত করা হয়।

• বিদ্যাপতি একজন বৈষ্ণব কবি ছিলেন এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
'টীকা ভাষ্য' বাগ্‌ধারাটির অর্থ –
  1. উৎস
  2. নির্ঘন্ট
  3. ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ
  4. অতিরিক্ত কথা
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
• 'টীকা ভাষ্য' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। 
বাক্য: বিষয়ের উপর টিকা ভাষ্য থাকলে পরীক্ষার্থীরা উপকৃত হয়।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- ‘ঊনপাঁজরে’ বাগধারাটির অর্থ = অপদার্থ।
- ‘ঊনপঞ্চাশ বায়ু’ বাগধারাটির অর্থ = পাগলামি।
- ‘উলুখাগড়া’ বাগধারাটির অর্থ = গুরুত্বহীন লোক।
- ‘আঠারো মাসে বছর’ বাগধারাটির অর্থ = দীর্ঘসূত্রিতা।
- ‘অকাল বোধন’ বাগধারাটির অর্থ = অসময়ে আবির্ভাব।
- ‘ইতর বিশেষ’ বাগধারাটির অর্থ = পার্থক্য।
- ‘আঁটকুড়ো’ বাগধারাটির অর্থ = নিঃসন্তান।
- 'খয়ের খাঁ' বাগধারাটির অর্থ - তোষামোদকারী।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
নিচের কোনটি "ট বর্গীয়" বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বর্গীয় বর্ণ বলে।
যথা:
ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
চ বর্গীয় বর্ণ: চ, ছ, , ঝ, ঞ।
ট বর্গীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
ত বর্গীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ,
প বর্গীয় বর্ণ: প, ফ, ব, ভ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮.
পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. রঙ্গপুর বার্তাবহ
  3. পূর্বাশা
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
রঙ্গপুর বার্তাবহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গপুর বার্তাবহ
ব্যাখ্যা
রঙ্গপুর বার্তাবহ পত্রিকার ইতিহাস বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গের সংবাদপত্রের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রঙ্গপুর থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল, এবং এটি মূলত অনুন্নত পূর্ববঙ্গের একটি অঞ্চলে সংবাদ প্রচার করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মূল তথ্যসমূহ:
প্রথম প্রকাশ: ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে (বাংলা ১২৫৪ সালের ভাদ্র মাসে)।
প্রকাশের স্থান: রংপুর, যা বর্তমান বাংলাদেশের একটি জেলা শহর।
পৃষ্ঠপোষক: কুন্ডির জমিদার কালীচরণ রায় চৌধুরী।
সম্পাদক: গুরুচরণ শর্মা রায়।
প্রকাশকাল: ১৮৪৭ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত।

পত্রিকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা: রঙ্গপুর বার্তাবহ ছিল পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা। এটি মূলত সাধারণ মানুষের জন্য সংবাদ পরিবেশন করতো, এবং তখনকার সময়ে কলকাতার বাইরে থেকে প্রকাশিত প্রথম উল্লেখযোগ্য পত্রিকা।

বিদেশী শাসনের সমালোচনা: পত্রিকাটি পরবর্তীতে বিদেশী শাসন এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে, যা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- বুদ্ধদেব বসু প্রকাশিত পত্রিকা কবিতা। পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।