পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৭৪
সিলেবাস
Exam - 8 • Full Model Test - 02 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৭৪ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৫খ অনুসারে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আবেদন বা লিখিত আপত্তি দাখিল না করা হয়, তবে শুনানির জন্য কত টাকা পর্যন্ত বিলম্ব ফি দিতে হতে পারে?
  1. ৩,০০০ টাকা
  2. ২,০০০ টাকা
  3. ১,০০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
২,০০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫খ (Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters) ধারায় বলা হয়েছে—
→ যদি কোনো পক্ষ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো আবেদন বা লিখিত আপত্তি দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে
- উক্ত আবেদন বা লিখিত আপত্তি শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না সংশ্লিষ্ট পক্ষ অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা প্রদান করে।
→ এই বিধানটি মূলত আদালতের কার্যক্রমে দেরি রোধ করার জন্য প্রণীত হয়েছে, যাতে পক্ষগণ সময়মতো তাদের আবেদন বা আপত্তি দাখিল করে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো (খ) ২,০০০ টাকা।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section- 35B. Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters.
(1) If at any stage of a suit or proceeding, an application or written objection is not filed within the time fixed by the Court, such application or written objection, as the case may be, shall not be admitted for hearing without payment by that party of such cost to the other party not exceeding two thousand taka.
(2) If after filing of written statement, any party to the suit makes an application in respect of any matter which, in the opinion of the Court, could and ought to have been made earlier, and is likely to delay the main proceeding of the suit, the Court may admit, but shall not hear and dispose of the application, without payment by that party of such cost to the other party not exceeding three thousand taka, as it shall determine and direct, and upon failure to pay the cost, the application shall stand rejected.
.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সর্বাধিক সময়সীমা কত?
  1. এক মাস
  2. দুই মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
সঠিক উত্তর:
দুই মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার ৮, ধারা ১ অনুযায়ী, লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সর্বাধিক সময়সীমা হল দুই মাস।
এটি আদালতের অনুমতি বা অন্য কোন ব্যতিক্রম না থাকলে, বিবাদী প্রথম শুনানির সময় বা তার পূর্বে বা আদালতের অনুমতিক্রমে অনধিক দুই মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে পারেন।
তবে, আদালত বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারেন বা শর্ত সাপেক্ষে দাখিলের অনুমতি দিতে পারেন।

⇒ বিবাদীর সমন প্রাপ্তির পর ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে, আদালত আরো ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় দিতে পারে। লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বিবাদী সর্বমোট ৬০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পেতে পারেন।

⇒ বিবাদী যদি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মামলাটি একতরফা নিষ্পত্তি হবে। বিবাদী লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হয়ার কারণে একতরফা নিষ্পত্তি করলে আপিল করা যাবে।

⇒ সাক্ষ্য হিসাবে দাবির সমর্থনে ব্যবহারের জন্য বিবাদীর দখলে থাকা দলিলসমূহ লিখিত জবাব পেশ করার সময় আদালতে হাজির করবেন এবং তখন দলিলগুলো লিখিত জবাবের সাথে নথিভুক্ত করবেন। তবে উক্ত দলিল দখলে না থাকলে, সেক্ষেত্রে লিখিত বিবৃতির সাথে দলিলাদির তালিকা অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং উক্ত দলিলসমূহ কার দখলে আছে তা বর্ণনা করবেন। এরুপ দলিলসমূহ লিখিত জবাব দাখিলের সময় তালিকাভুক্ত না করলে পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি ছাড়া সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে না।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় ডিক্রি হস্তান্তরের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৪৮ ধারা
  2. ৪৯ ধারা
  3. ৫০ ধারা
  4. ৫২ ধারা
সঠিক উত্তর:
৪৯ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, ডিক্রি হস্তান্তর (Transfer of Decree) সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধারার মূল বক্তব্য হলো—
যদি কোনো ডিক্রি হস্তান্তর করা হয়, তাহলে নতুন ডিক্রি-ধারী সেই ডিক্রিটি সেইসব শর্ত ও সীমাবদ্ধতার অধীনে গ্রহণ করবে, যেসব শর্ত বিচার-দেনাদার (Judgment Debtor) মূল ডিক্রি-ধারীর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারত।
অর্থাৎ, নতুন ডিক্রি-ধারী (Transferee) কোনো নতুন সুবিধা দাবি করতে পারবে না এবং পূর্ববর্তী ডিক্রি-ধারীর শর্তেই ডিক্রি কার্যকর করতে পারবে।

⇒ অর্থাৎ ডিক্রি হস্তান্তরের (Transfer of Decree) সুনির্দিষ্ট বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
------
→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-49. Transferee: 
 Every transferee of a decree shall hold the same subject to the equities (if any) which the judgment-debtor might have enforced against the original decree-holder.
.
আদেশ-১০ বিধি-৪ অনুয়ায়ী, যদি কোন পক্ষের উকিল বা সঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে বা অসমর্থ হয়, আদালত কী করতে পারেন?
  1. মামলা পুনরায় শুরু করবে
  2. অবিলম্বে রায় দান করতে পারেন
  3. পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরের নির্দেশ দেবে
  4. পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করবে
সঠিক উত্তর:
পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরের নির্দেশ দেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরের নির্দেশ দেবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১০, বিধি ৪(১) অনুসারে, যদি কোন পক্ষের উকিল বা তার সঙ্গী আদালতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে বা অসমর্থ হয়, এবং আদালতের মতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে উত্তর দিতে সক্ষম, তাহলে আদালত শুনানি স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
- বিধি ৪(২) অনুসারে, যদি পক্ষ বিনা বৈধ কারণে ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়, তাহলে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় দান করতে পারেন বা অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ দিতে পারেন।

সুতরাং, প্রথম ধাপে আদালত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেবেন এবং শুধুমাত্র হাজির না হলে পরবর্তীতে রায় দিতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১০, বিধি-৪ অনুসারে, যদি কোনো পক্ষের উকিল বা সঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে বা অসমর্থ হয়, তবে আদালত মামলার শুনানি ভবিষ্যতের কোন তারিখ পর্যন্ত স্থগিত রাখবে এবং সে তারিখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেবে।
এছাড়া, যদি নির্ধারিত তারিখে পক্ষ কোনো আইনসঙ্গত কারণে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়, তখন আদালত ওই পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারেন বা অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারেন।
.
আদেশ-১১ বিধি-১ অনুসারে, প্রশ্নমালা প্রদানের জন্য কত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
সঠিক উত্তর:
১০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ আদেশ-১১ বিধি-১ অনুযায়ী, প্রশ্নমালা প্রদানের জন্য ১০ দিন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
- এটি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, কোন পক্ষ (অভিযোগকারী বা প্রতিপক্ষ) আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলার ইস্যু নির্ধারণের দিন থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিত প্রশ্নমালা (interrogatories) প্রদান করতে পারবে। এর মধ্যে, প্রশ্নমালার শেষে কোন ব্যক্তি বা পক্ষকে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, তা উল্লেখ করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-11 Rule-1: Discovery by Interrogatories:
- In any suit, the plaintiff or defendant, by leave of the Court, may, [within ten days from the date of framing of issues,] deliver interrogatories in writing for the examination of the opposite parties or any one or more of such parties, and such interrogatories, when delivered, shall have a note at the foot thereof stating which of such interrogatories each of such persons is required to answer:
Provided that no party shall deliver more than one set of interrogatories to the same party without an order for that purpose:
Provided also that interrogatories which do not relate to any matters in question in the suit shall be deemed irrelevant, notwithstanding that they might be admissible on the oral cross-examination of a witness.
.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে, রুল কমিটির সদস্যদের কে নিয়োগ করেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. আইন মন্ত্রণালয়
  4. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩(৩) ধারা অনুযায়ী, রুল কমিটির সদস্যদের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন এবং তিনি কমিটির একজন সদস্যকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন।

রুল কমিটির গঠন:
দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩(২) ধারা অনুসারে, রুল কমিটি গঠিত হয়—
- ৩ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, যাদের মধ্যে অন্তত একজন ৩ বছর জেলা জজ হিসেবে কাজ করেছেন।
- ২ জন আইনজীবী, যারা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।
- ১ জন দেওয়ানি আদালতের বিচারক, যিনি উচ্চ আদালতের অধীনস্থ।
এই সমস্ত সদস্য প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং তিনি নিজেও চাইলে কমিটির সদস্য হতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তিনি কমিটির সভাপতি হবেন।

সুতরাং, দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুসারে রুল কমিটির সদস্যদের নিয়োগের দায়িত্ব একমাত্র প্রধান বিচারপতির।

→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 123. Constitution of Rule Committees.
(1) A Committee, to be called the Rule Committee, shall be constituted for the purpose referred to in section 122. 
(2) Such Committee shall consist of the following persons, namely:- 
(a) three Judges of the Supreme Court, one of whom at least has served as a District Judge for three years; 
(b) two advocates parctising in that Court; and 
(c) a Judge of a Civil Court subordinate to the High Court Division.
(3) The members of such Committee shall be appointed by the Chief Justice, who shall also nominate one of their number to be president: 
Provided that, if the Chief Justice elects to be himself a member of the Committee, the number of other Judges appointed to be members shall be two, and the Chief Justice shall be the President of the Committee.
(4) Each member of such committee shall hold office for such period as may be prescribed by the Chief Justice in this behalf; and whenever any member retires, resigns, dies or becomes incapable of acting as a member of the Committee, the said Chief Justice may appoint another person to be a member in his stead. 
(5) There shall be a Secretary to such Committee, who shall be appointed by the Chief Justice and shall receive such remuneration as may be provided in this behalf by the Government.
.
ORDER-XII-এর Rule-4 অনুসারে ঘটনা স্বীকারের নোটিশ পাওয়ার পর কত দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে?
  1. ৩ দিন
  2. ৬ দিন
  3. ৯ দিন
  4. ১৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ দিন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ৬ দিন।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ORDER-XII, Rule-4 অনুযায়ী: কোনো পক্ষ ঘটনা স্বীকারের জন্য লিখিত নোটিশ পেলে, তাকে ৬ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। এই সময়সীমা নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে গণনা করা হয়। আদালত প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দিতে পারে।

- দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER XII, Rule 4 অনুসারে, মামলার কোনো পক্ষ লিখিতভাবে অপর পক্ষকে নির্দিষ্ট ঘটনা বা ঘটনাবলী স্বীকার করার জন্য নোটিশ দিতে পারে। এই নোটিশ শুনানির তারিখের নয় (৯) দিন আগে দিতে হবে।
- এ ধরনের নোটিশ পাওয়ার পর ছয় (৬) দিনের মধ্যে বা আদালতের অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে উত্তর প্রদান করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বীকারোক্তি না করা হয় বা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা প্রমাণ করার জন্য যে ব্যয় হবে, তা সেই পক্ষকে পরিশোধ করতে হবে, যদি না আদালত অন্য কোনো নির্দেশ দেন।
- এছাড়া, এই স্বীকারোক্তি কেবল সংশ্লিষ্ট মামলার জন্যই প্রযোজ্য হবে এবং এটি অন্য কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। আদালত উপযুক্ত মনে করলে, শর্তসাপেক্ষে স্বীকারোক্তি সংশোধন বা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-12 Rule-4: Notice to Admit Facts:
- Any party may, by notice in writing, at any time not later than nine days before the day fixed for the hearing, call on any other party to admit, for the purposes of the suit only, any specific fact or facts mentioned in such notice.
- In case of refusal or neglect to admit the same within six days after service of such notice, or within such further time as may be allowed by the Court, the costs of proving such fact or facts shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs.
Provided that any admission made in pursuance of such notice shall be deemed to be made only for the purposes of the particular suit and not as an admission to be used against the party on any other occasion or in favor of any person other than the party giving the notice.
Provided also that the Court may, at any time, allow any party to amend or withdraw any admission so made on such terms as may be just.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি-১৪ অনুযায়ী কমিশনার যদি একাধিক ব্যক্তি হন এবং তারা একমত না হতে পারেন, তাহলে তারা কী করবেন?
  1. একক প্রতিবেদন জমা দেবেন
  2. কোন প্রতিবেদন জমা দেবেন না
  3. পৃথক প্রতিবেদন জমা দেবেন
  4. আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা করবেন
সঠিক উত্তর:
পৃথক প্রতিবেদন জমা দেবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথক প্রতিবেদন জমা দেবেন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১৪ (২) অনুযায়ী, যদি একাধিক কমিশনার নিযুক্ত হন এবং তারা একমত না হন, তাহলে প্রত্যেক কমিশনার পৃথক প্রতিবেদন প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করবেন।
- এই পৃথক প্রতিবেদনগুলোতে প্রত্যেক পক্ষের অংশ নির্দেশ করা হবে এবং (যদি আদেশে উল্লেখ থাকে) প্রত্যেক অংশের পরিমাণ ও সীমানা নির্ধারণ করা হবে। পরে এই প্রতিবেদনসমূহ কমিশনের সাথে সংযুক্ত করে আদালতে দাখিল করতে হবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে।
- এরপর আদালত পক্ষগণের আপত্তি শুনে প্রতিবেদন বহাল, পরিবর্তন বা রদ করতে পারে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ-৪৭ , বিধি-২ অনুসারে নিচের কোনটি পুনর্বিবেচনার আবেদনের ভিত্তি নয়?
  1. ক্লারিক্যাল ভুল
  2. নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ
  3. বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত
  4. গাণিতিক ভুল
সঠিক উত্তর:
বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ-৪৭, বিধি-২ অনুযায়ী, পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে যদি:
- ক্লারিক্যাল ভুল (যেমন, টীকা বা ভাষাগত ভুল),
- গাণিতিক ভুল (যেমন, গাণিতিক হিসাবের ভুল),
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আবিষ্কার হওয়া, এছাড়া, বিচারকের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কোন আবেদন পুনর্বিবেচনা করা যাবে না।
অতএব, বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত পুনর্বিবেচনার আবেদনের বৈধ ভিত্তি নয়।

আদেশ-৪৭ বিধি-২: যার নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে:
বিধি-১ এ উল্লিখিত রূপ এবং নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কারের বা ক্লারিক্যাল সম্পর্কে অথবা গাণিতিক ভুলের সঙ্গত কারণ বা নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান কোন ভ্রান্তির অস্তিত্ব ছাড়া অন্য কোন যুক্তিসংগত কারণের উপর করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য কোন আদালতের ডিক্রি বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন করলে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রার্থীত ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন, শুধু সে বিচারকের নিকট আবেদন করতে হবে, কিন্তু ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন তিনি যদি বিধি-৪ এর উপবিধি-২ এর অন্তর্গত (ক) শর্তাংশ মোতাবেক নোটিশ জারি করে থাকেন, তাহলে অনুরূপ আবেদনপত্র তার স্থলাভিষিক্ত বিচারক দ্বারা সমাধান করা যাবে।

Order 47, Rule 2: To Whom Applications for Review May Be Made: 
An application for review of a decree or order of a Court (other than the High Court Division) may be made on grounds other than the discovery of new and important matter or evidence, or the existence of a clerical or arithmetical mistake or an error apparent on the face of the decree. Such an application must be made to the Judge who passed the decree or made the order sought to be reviewed. However, if the Judge who passed the decree or made the order has ordered notice to be issued under Rule 4, Sub-rule (2), proviso (a), the application may be disposed of by his successor.
১০.
দেওয়ানি কার্যবিধি ORDER-XIV এর Rule-1(6) অনুসারে, যদি বিবাদী বাদীর সমস্ত দাবি স্বীকার করে নেয়, তাহলে:
  1. নতুন সাক্ষী তলব করতে হবে
  2. মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যাবে
  3. আদালতকে অবশ্যই বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে হবে
  4. আদালতের জন্য বিচার্য বিষয় প্রণয়নের প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
আদালতের জন্য বিচার্য বিষয় প্রণয়নের প্রয়োজন নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালতের জন্য বিচার্য বিষয় প্রণয়নের প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ORDER-XIV এর Rule-1(6) অনুযায়ী, যদি বিবাদী বাদীর সমস্ত দাবি স্বীকার করে নেয়, তবে আদালতকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে হবে না।
- কারণ, যখন বিবাদী সমস্ত দাবি স্বীকার করে নেয়, তখন মামলাটি সহজতর হয় এবং আদালত কোন বিরোধী বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত নেবে না, কারণ কোনো বিরোধ আর অবশিষ্ট থাকে না। এটি আদালতের সময় এবং শক্তি সাশ্রয় করে, তাই বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করার প্রয়োজন পড়ে না।

⇒ ORDER-XIV, Rule-1(6) Nothing in this rule requires the Court to frame and record issues where the defendant at the first hearing of the suit makes no defence.
১১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৭ ধারা অনুসারে, যদি কেউ প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করে, তাহলে—
  1. মামলাটি পুনরায় বিচার করা হবে
  2. চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে
  3. উচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন করা যাবে
  4. প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা চূড়ান্ত ডিক্রির আপিলে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না
সঠিক উত্তর:
প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা চূড়ান্ত ডিক্রির আপিলে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা চূড়ান্ত ডিক্রির আপিলে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৭ ধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, যদি কোনো পক্ষ প্রাথমিক ডিক্রির (preliminary decree) বিরুদ্ধে আপিল না করে, তাহলে সে পরবর্তীতে চূড়ান্ত ডিক্রির (final decree) আপিলে সেই প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না। অর্থাৎ, প্রাথমিক ডিক্রি চূড়ান্ত ডিক্রির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আপিলের সময় সেটিকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি মামলায় আদালত সম্পত্তির বিভাজন (partition) সংক্রান্ত প্রাথমিক ডিক্রি প্রদান করেছে, যেখানে নির্ধারণ করা হয়েছে যে কে কত অংশ পাবে। এই ডিক্রির বিরুদ্ধে যদি কোনো পক্ষ আপিল না করে, তাহলে পরবর্তী চূড়ান্ত ডিক্রিতে (যেখানে বিভাজন কার্যকর করা হবে) সেই পক্ষ আর দাবি করতে পারবে না যে প্রাথমিক ডিক্রি ভুল ছিল।

অর্থাৎ ধারা ৯৭ মূলত প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ডিক্রির পার্থক্য এবং আপিলের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে। এটি নিশ্চিত করে যে, প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করলে চূড়ান্ত ডিক্রির আপিলে সেটি নিয়ে বিতর্ক করা যাবে না। 

→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-97. Appeal from final decree where no appeal from preliminary decree.
Where any party aggrieved by a preliminary decree passed after the commencement of this Code does not appeal from such decree, he shall be precluded from disputing its correctness in any appeal which may be preferred from the final decree.
১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৯০ অনুযায়ী, যদি নিলাম বিক্রয় রদের আবেদনকারী প্রমাণ করতে না পারে যে তার স্বার্থ যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাহলে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে?
  1. নিলাম বিক্রয় স্থগিত রাখবে।
  2. আবেদনটি খারিজ করবে।
  3. আবেদনকারীকে জরিমানা করবেন
  4. নিলাম বিক্রয় রদ করে দেবে।
সঠিক উত্তর:
আবেদনটি খারিজ করবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেদনটি খারিজ করবে।
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৯০ অনুযায়ী, নিলাম বিক্রয়ের রদে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে, নিলাম বিক্রয়ের ফলে তার স্বার্থ যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি আবেদনকারী তার ক্ষতির প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দিবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৯০- অনিয়মতা কিংবা প্রতারণার কারণে নিলাম বিক্রয় রদের আবেদন:
যেক্ষেত্রে কোন স্থাবর সম্পত্তি ডিক্রি জারিতে নিলাম বিক্রয় হয়েছে, সেক্ষেত্রে ডিক্রিদার কিংবা সম্পত্তির বণ্টনে আনুপাতিক অংশের অধিকারী কোন ব্যক্তি অথবা উক্ত নিলাম বিক্রয়ের ফলে যার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় ঐ ব্যক্তি নিলাম বিক্রয় রদের জন্য সেটা প্রচার বা পরিচালনার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম বা প্রতারণার অজুহাতে আদালতে আবেদন করতে পারে-
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ অনিয়ম বা তঞ্চকতার কারণে কোন নিলাম বিক্রয় রদ হবে না, যদি না প্রমাণিত তথ্যসমূহের উপর আদালত এ মর্মে পরিতুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী উক্ত অনিয়মতা বা তঞ্চকতার অজুহাতে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

⇒ আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, নিলাম বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নানা রকম অনিয়ম বা প্রতারণা হতে পারে। এসব অনিয়ম বা প্রতারণার ফলে যাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তারা নিলাম বিক্রয় রদের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে মূল শর্ত হল - আবেদনকারীর স্বার্থ প্রকৃতপক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তা পরিষ্কার প্রমাণ দিয়ে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

অর্থাৎ, আদালত শুধু দাবি শোনা নিয়ে নিলাম বিক্রয় রদ করবে না। নিলাম বিক্রয়ে প্রকৃত অনিয়ম বা প্রতারণার কারণে যে আবেদনকারীর যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে, সেটা প্রমাণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন পড়বে নথিপত্র, প্রমাণাদি ইত্যাদি। শুধু দাবি করলেই চলবে না। আদালতকে প্রমাণে সন্তুষ্ট করাটাই প্রাথমিক শর্ত হবে।
১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ বিধি-২ অনুযায়ী, আদালত মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণের সময় কী করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র উকিলের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে
  2. শুধুমাত্র সাক্ষীর নিজস্ব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে
  3. পক্ষগণের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে
  4. কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে না
সঠিক উত্তর:
পক্ষগণের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষগণের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০, বিধি ২ অনুযায়ী, আদালত প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোনো শুনানিতে যদি কোনো পক্ষ বা তার সাথে থাকা ব্যক্তি মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হন, তবে আদালত তাকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
- এছাড়া, আদালত চাইলে পক্ষগণের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে। তবে এটি আদালতের নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে—অর্থাৎ আদালত বাধ্য নয় যে, পক্ষগণ যা সুপারিশ করবে তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।

⇒ Order 10 Rule 2 (Oral examination or party of companion of party)-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.
১৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক ধারা অনুযায়ী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কে নিয়োগ পেতে পারেন না?
  1. আইনজীবী
  2. অবসরপ্রাপ্ত বিচারক
  3. সরকারি চাকুরিজীবী
  4. প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী
সঠিক উত্তর:
সরকারি চাকুরিজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি চাকুরিজীবী
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক ধারা অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ) সরকারি চাকুরিজীবী নিয়োগ পেতে পারেন না।

- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যিনি রাষ্ট্রের চাকরিতে আছেন বা রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক কোনো অফিসে কর্মরত, তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবেন না। এর মূল উদ্দেশ্য হল, মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে, এবং সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা হতে পারে।

- অন্যদিকে, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, বা প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী যথাযথ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক ধারার উপধারা (২)-এর দ্বিতীয় প্রভিজো (Proviso) অনুযায়ী, "a person holding an office of profit in the service of the Republic shall not be eligible for appointment as mediator" অর্থাৎ "প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগের অযোগ্য"।

অন্যদিকে:
ক) আইনজীবী (প্লিডার) নিয়োগযোগ্য [৮৯ক(১) ও (২) অনুযায়ী]।
খ) অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিয়োগযোগ্য [৮৯ক(২) ও (১০) অনুযায়ী]।
ঘ) প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী (ডিস্ট্রিক্ট জজ কর্তৃক প্রস্তুত প্যানেলভুক্ত) নিয়োগযোগ্য [৮৯ক(১০) অনুযায়ী]।
সুতরাং, সরকারি চাকুরিজীবী একমাত্র অপশন যারা মধ্যস্থতাকারী হতে পারেন না।
১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারায় বিদেশি আদালতের কোন কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়েছে?
  1. বিদেশি সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ
  2. বিদেশি আদালত থেকে কমিশন জারি
  3. বিদেশি আদালতের আদালত ফি নির্ধারণ
  4. বিদেশি আদালতের জন্য আইনি ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
বিদেশি আদালত থেকে কমিশন জারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি আদালত থেকে কমিশন জারি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারায় বিদেশি আদালত থেকে কমিশন জারি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ সরকারের কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বা অনুমোদিত কোনো আদালত, অথবা বিদেশী কোনো রাষ্ট্রের আদালত, যদি সাক্ষীদের পরীক্ষার জন্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কমিশন জারি করে, তবে সেই কমিশনটির নির্বাহী এবং ফেরত আনা প্রক্রিয়া বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে, তবে নির্দিষ্ট শর্তাবলী এবং সীমাবদ্ধতার অধীনে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো (খ) বিদেশি আদালত থেকে কমিশন জারি।

→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 78. Commissions issued by foreign Courts.
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the provisions as to the execution and return of commissions for the examination of witnesses shall apply to commissions issued by or at the instance of- 
(a) Courts situate beyond the limits of Bangladesh and established or continued by the authority of Government, or 
(c) Courts of any State or country outside Bangladesh.
১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির  ___________ অনুযায়ী প্রথম শুনানিতে যদি পক্ষগণ কোন প্রশ্নে বিরোধী না হন, তাহলে আদালত তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করতে পারেন?
  1. ORDER-XV এর Rule-1
  2. ORDER-XIV এর Rule-1
  3. ORDER-XIV এর Rule-4
  4. ORDER-XV এর Rule-5
সঠিক উত্তর:
ORDER-XV এর Rule-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ORDER-XV এর Rule-1
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ORDER-XV এর Rule-1 অনুসারে, প্রথম শুনানিতে যদি পক্ষগণ কোন প্রশ্নে বিরোধী না হন, তাহলে আদালত তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করতে পারেন। এটি তখন ঘটে যখন পক্ষগণ কোন আইনগত বা তথ্যগত প্রশ্নে বিরোধী না হন এবং তাদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই।

⇒ ORDER-XV, Rule-1 :Parties not at issue.
- Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.
১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৫ক অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণমূলক খরচের সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. ৫,০০০ টাকা
  2. ১০,০০০ টাকা
  3. ১৫,০০০ টাকা
  4. ২০,০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১০,০০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৫ক অনুযায়ী, যদি কোনো পক্ষের অনুরোধে অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয় এবং পরে দেখা যায় যে এর ফলে অপর পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে আদালত ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে তার ব্যয়িত খরচ ছাড়াও অনধিক ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণমূলক খরচ প্রদান করতে পারে।

- এই বিধান অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার অপব্যবহার রোধের জন্য যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কোনো পক্ষ ভিত্তিহীন বা অনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ আদায় করতে না পারে।

- অর্থাৎ ক্ষতিপূরণমূলক খরচের সর্বোচ্চ সীমা ১০,০০০ টাকা। এই ক্ষতিপূরণ কেবল তখনই দেওয়া হবে, যখন দেখা যাবে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্য পক্ষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার অধীনে, যদি বিক্রেতা বিক্রির পর সম্পত্তির ওপর নতুন স্বত্ব অর্জন করে, তাহলে ক্রেতার অধিকার কী?
  1. চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
  2. বিক্রেতাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে পারবেন।
  3. বিক্রেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন।
  4. বিক্রেতাকে সেই স্বত্ব দিয়ে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবেন।
সঠিক উত্তর:
বিক্রেতাকে সেই স্বত্ব দিয়ে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিক্রেতাকে সেই স্বত্ব দিয়ে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবেন।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) বিক্রেতাকে সেই স্বত্ব দিয়ে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার অধীনে, যদি বিক্রেতা চুক্তির পর সম্পত্তির ওপর নতুন স্বত্ব অর্জন করেন, তাহলে ক্রেতার অধিকার রয়েছে বিক্রেতাকে সেই স্বত্ব ব্যবহার করে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করার। অর্থাৎ, বিক্রেতা যদি পরে সম্পত্তির বৈধ মালিকানা পান, তবে ক্রেতা চাইলে সেই মালিকানা দিয়ে বিক্রেতাকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার বিধান ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার:
যেখানে এক ব্যক্তি এমন নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যার উপর তার শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব রয়েছে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদারের (যদি না এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধান প্রদান করা হয়) নিম্নলিখিত অধিকার রয়েছে:
(ক) যদি বিক্রেতা বা ইজারাদাতা বিক্রয় বা ইজারা প্রদানের পর পরই সম্পত্তিতে কোন নতুন স্বত্ব অর্জন করেন, তবে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন স্বত্বের জন্য চুক্তি পালন করতে বাধ্য করতে পারেন;
(খ) যেখানে স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তারা বিক্রেতা বা ইজারাদাতার অনুরোধে তা করতে বাধ্য থাকে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারেন;
(গ) যেখানে বিক্রেতা দায়হীন সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেন, কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তিটি এমন পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে যা ক্রয়মূল্যকে অতিক্রম করে না এবং বিক্রেতার কাছে শুধুমাত্র তা মুক্ত রাখার অধিকার রয়েছে, সেখানে ক্রেতা তাকে তা বন্ধকমুক্ত করতে এবং বন্ধকগ্রহীতার নিকট হতে হস্তান্তর অর্জন করতে বাধ্য করতে পারেন;
(ঘ) যেখানে বিক্রেতা বা ইজারাদাতা চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেন এবং মামলা তার ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বের অজুহাতে খারিজ হয়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদীর অধিকার রয়েছে, সুদসহ জমাকৃত অর্থ (যদি জমা করে থাকে) এবং মামলার খরচ ফেরত পাওয়ার এবং তেমন জমাকৃত অর্থ, সুদ ও খরচের জন্য বিক্রেতা বা ইজারাদার যে জমি বিক্রয় বা ইজারা দিতে সম্মত হয়েছিলেন, তাতে বিক্রেতা বা ইজারাদাতার স্বত্বের উপর পূর্বস্বত্ব অধিকার থাকবে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections-18. Purchaser's rights against vendor with imperfect title:
Where a person contracts to sell or let certain property, having only an imperfect title thereto, the purchaser or lessee (except as otherwise provide by this Chapter) has the following rights:- 
(a) if the vendor or lessor has subsequently to the sale or lease acquired any interest in the property, the purchaser or lessee may compel him to make good the contract out of such interest; 
(b) where the concurrence of other persons is necessary to validate the title, and they are bound to convey at the vendor's or lessor's request, the purchaser or lessee may compel him to procure such concurrence; 
(c) where the vendor professes to sell unincumbered property, but the property is mortgaged for an amount not exceeding the purchase-money, and the vendor has in fact only a right to redeem it, the purchaser may compel him to redeem the mortgage and to obtain a conveyance from the mortgagee ; 
(d) where the vendor or lessor sues for specific performance of the contract, and the suit is dismissed on the ground of his imperfect title, the defendant has a right to a return of his deposit (if any) with interest thereon, to his costs of the suit, and to a lien for such deposit, interest and costs on the interest of the vendor or lessor in the property agreed to be sold or let.
১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী, দণ্ডমূলক আইনের কার্যকর করার জন্য কী ধরনের প্রতিকার প্রদান করা যাবে?
  1. নিষেধাজ্ঞা
  2. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার
  4. কোনো প্রতিকার প্রদান করা যাবে না
সঠিক উত্তর:
কোনো প্রতিকার প্রদান করা যাবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো প্রতিকার প্রদান করা যাবে না
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) কোনো প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী, দণ্ডমূলক আইনের কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।
- অর্থাৎ, দণ্ডমূলক আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন বা শাস্তি প্রদান করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (যেমন, সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন) প্রদান করা যাবে না।
- এই ধারার উদ্দেশ্য হলো যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কেবলমাত্র চুক্তি বা অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু দণ্ডমূলক আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
- এটি মূলত বিচারিক ব্যবস্থাকে দণ্ডমূলক আইনের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব থেকে আলাদা করে রাখে, যা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৭ ধারা মতে: দণ্ডমূলক আইনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের প্রয়োগ (Relief not granted to enforce penal law)-
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারামতে দণ্ডমূলক আইন (Penal Laws) বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে কোনো দণ্ড বা Penal কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
---------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section-7. Relief not granted to enforce penal law:
Specific relief cannot be granted for the mere purpose of enforcing a penal law.
২০.
‘ক’ তার জমি ‘খ’-কে লিজ দেয়, এবং ‘খ’ সেখানে একটি স্থাপনা তৈরি করার কথা বলে। কিন্তু ‘খ’ সেখানে অন্য কাজে জমি ব্যবহার শুরু করলে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে ‘ক’ কী করতে পারবে?
  1. শুধুমাত্র প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে
  2. ‘খ’-এর কাছ থেকে বাড়তি টাকা দাবি করতে পারবে
  3. ‘খ’-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারবে
  4. আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারবে
সঠিক উত্তর:
আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারবে।
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার অধীনে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Permanent Injunction) তখনই দেওয়া হয় যখন কোনো পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং যার ফলে বাদীর আইনি অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ক্ষেত্রে, ‘ক’ তার জমি ‘খ’-কে লিজ দিয়েছে নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্যে (স্থাপনা নির্মাণের জন্য), কিন্তু ‘খ’ সেই উদ্দেশ্য পরিবর্তন করে জমিটি অন্য কাজে ব্যবহার করছে। এটি চুক্তির লঙ্ঘন, যা ‘ক’-এর অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
এমতাবস্থায়, ‘ক’ আদালতে একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য মামলা করতে পারে, যাতে ‘খ’ চুক্তিভঙ্গ করে জমিটি অন্য কাজে ব্যবহার করতে না পারে এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
-এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) 'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' মামলা দায়ের করতে পারে।
(খ) একজন জিম্মাদার জিম্মা ভঙ্গের হুমকি প্রদান করে। তার সহ-জিম্মাদার যদি থেকে থাকে, অবশ্যই এবং উপকার লাভকারী মালিক চুক্তিভঙ্গ নিরোধের লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।
২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, যদি চুক্তির শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এটি কাঙ্খিত আইনি ফলাফল দিতে পারে না, তাহলে কী হবে?
  1. চুক্তি কার্যকর হবে না
  2. চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে
  3. চুক্তি পুনরায় সংশোধন করা হবে না
  4. পক্ষরা সমস্যা উপেক্ষা করতে পারবেন
সঠিক উত্তর:
চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, যদি চুক্তির শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এটি কাঙ্খিত আইনি ফলাফল দিতে পারে না, তবে চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে।
অর্থাৎ, যদি কোনো চুক্তি এমনভাবে তৈরি হয় যে তা একটি নির্দিষ্ট আইনি ফলাফল অর্জন করতে পারে না, তাহলে আদালত চুক্তির শর্তাবলীতে পরিবর্তন করতে পারে, যাতে তা কাঙ্খিত আইনি ফলাফল প্রদান করে। তবে, চুক্তিটি পুরোপুরি বাতিল করা হবে না; পরিবর্তে, সেটি সংশোধন সহ কার্যকর হতে পারে।
সঠিক উত্তর: খ) চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭-এর ধারা ২৬: পরিবর্তন ছাড়া কার্যকরী করা যাবে না:
যখন কোনো বাদী লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চায় এবং প্রতিরোধকারী তা পরিবর্তনের দাবি জানায়, তখন বাদী সেই কার্যসম্পাদন লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সেই পরিবর্তনটি কার্যকর করা হয়, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে:
(ক) যেখানে প্রতারণা বা সত্যের ভুলের কারণে চুক্তির শর্তগুলো এমনভাবে তৈরি হয়েছে যা প্রতিরোধকারী যখন চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন তখন তিনি যেভাবে এটি ভাবছিলেন তেমন ছিল না;
(খ) যেখানে প্রতারণা, সত্যের ভুল বা বিস্ময়ের কারণে প্রতিরোধকারী চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, যখন তিনি সঠিকভাবে চুক্তির ফলাফল বোঝেননি এবং বাদীর সঙ্গে চুক্তির সম্পর্কেও ভুল ধারণা করেছিলেন;
(গ) যেখানে প্রতিরোধকারী চুক্তির শর্তগুলো জানতেন এবং তার প্রভাব বুঝতেন, এবং চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন বাদীর কিছু ভুল বিবৃতি বা বাদীর শর্তের ভিত্তিতে যা চুক্তিতে সংযোজন ছিল, কিন্তু বাদী সেই শর্ত পূর্ণ করতে অস্বীকার করেছিলেন;
(ঘ) যেখানে পক্ষদের উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্দিষ্ট আইনি ফলাফল অর্জন করা, কিন্তু চুক্তির বর্তমান শর্তগুলো সেই ফলাফল অর্জন করার জন্য উপযুক্ত নয়;
(ঙ) যেখানে পক্ষরা চুক্তি সম্পাদনের পরে চুক্তির শর্তাবলী পরিবর্তন করতে চুক্তি করেছেন।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 26. Non-enforcement except with variation:
Where a plaintiff seeks specific performance of a contract in writing, to which the defendant sets up a variation, the plaintiff cannot obtain the performance sought, except with the variation so set up, in the following cases (namely):- 
(a) where by fraud or mistake of fact the contract of which performance is sought is in terms different from that which the defendant supposed it to be when he entered into it; 
(b) where by fraud, mistake of fact, or surprise the defendant entered into the contract under a reasonable misapprehension as to its effect as between himself and the plaintiff; 
(c) where the defendant, knowing the terms of the contract and understanding its effect, has entered into it relying upon some misrepresentation by the plaintiff, or upon some stipulation on the plaintiff's part, which adds to the contract, but which he refuses to fulfil; 
(d) where the object of the parties was to produce a certain legal result, which the contract as framed is not calculated to produce; 
(e) where the parties have, subsequently to the execution of the contract, contracted to vary it.
২২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৭ অনুযায়ী, চুক্তি রদ করার আর্জি কে করতে পারেন?
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. আদালত
  4. চুক্তির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তৃতীয় ব্যক্তি
সঠিক উত্তর:
বাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদী
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) বাদী।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, বাদী (Plaintiff) যিনি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা করেছেন, তিনি বিকল্পভাবে আদালতের কাছে চুক্তি রদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
- এই ধারা অনুসারে, বাদী যদি দেখতে পান যে চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব নয়, তাহলে তিনি বিকল্পভাবে চুক্তি রদের জন্য প্রার্থনা করতে পারেন।
এছাড়া, যদি আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকর করতে অস্বীকার করে, তাহলে আদালত চুক্তিটি রদের আদেশ দিতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------  
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ কোন পরিস্থিতিতে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করতে
  2. আদালতের আদেশ কার্যকর করতে
  3. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ তিনটি প্রধান কারণে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:
১) আদালতের আদেশ কার্যকর করতে
২) আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করতে
৩) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে
অতএব, হাইকোর্ট বিভাগ উপরের সবগুলো পরিস্থিতিতেই সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-561A: Saving of inherent power of High Court Division:
-Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে কী উল্লেখ আছে?
  1. অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য কিনা
  2. আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ
  3. যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য
  4. প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা
সঠিক উত্তর:
আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে "আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ" উল্লেখ করা হয়েছে।
- এটি বোঝায় যে, এই কলামে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি না, তা নির্ধারণ করা হয়।
- অর্থাৎ, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ কি তার শিকারকে গ্রেফতার করার জন্য অনুমতি পাবে, বা প্রথমে পুলিশকে কোনো পরোয়ানা ইস্যু করতে হবে কিনা, এই বিষয়টি ৩য় কলামে উল্লেখিত থাকে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ৮টি কলাম নিম্নরূপ দেওয়া হলো:
১ম কলাম - পেনাল কোডের অধীন ধারাসমূহ,
২য় কলাম - অপরাধ,
৩য় কলাম - আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ (পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে কি না),
৪র্থ কলাম - প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা,
৫ম কলাম - অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য,
৬ষ্ঠ কলাম - অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা,
৭ম কলাম - দণ্ডবিধির অধীনে উল্লিখিত শাস্তি,
৮ম কলাম - যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের জন্য অনুসন্ধান বা তদন্তের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ২০০
  2. ধারা ২০২
  3. ধারা ২০৪
  4. ধারা ২০৫ক
সঠিক উত্তর:
ধারা ২০২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২০২
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ধারা ২০২।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারা অনুযায়ী, কোনো অপরাধের নালিশ পাওয়ার পর যদি ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে তিনি নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের জন্য নিজে অনুসন্ধান করতে পারেন বা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, তার অধীনস্থ অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
- এটি পরোয়ানা ইস্যুর পূর্ববর্তী পর্যায়ে অনুসন্ধানের জন্য ব্যবহৃত হয়, বিশেষত তখন, যখন ম্যাজিস্ট্রেট নিশ্চিত হতে চান যে অভিযোগটি যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য কিনা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার বিধান: পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা (Postponement for issue of process)-
১) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসম্পন্ন সেই অপরাধের নালিশ পাওয়ার পর অথবা ১৯২ ধারার অধীন তা তার নিকট হস্তান্তরিত হওয়ার পর,তিনি যদি উপযুক্ত মনে করেন তাহলে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নালিশ করা হয়েছে তাকে হাজির হতে বাধ্য করার জন্য সমন বা পরোয়ানা প্রদান স্থগিত রাখতে পারেন এবং নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নিজে ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন, অথবা তিনি যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন তাহলে তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন এরূপ অন্যকোনো ব্যক্তিকে এই বিষয় অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিবেন।
তবে শর্ত এই যে,যেক্ষেত্রে আদালত নালিশ করেন সেক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ২০০ ধারার বিধান পালন না করে এরূপ কোন নির্দেশ দেয়া যাবে না।আরও শর্ত এই যে-যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য নালিশ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাজির হতে বাধ্য করার পরোয়ানা স্থগিত রাখতে পারবেন এবং নালিশের সত্যতা ও অসত্যতা নিরূপণের উদ্দেশ্যে এই উপধারায় উল্লিখিত অনুসন্ধান বা তদন্ত করবেন বা করাবেন।
২) এই ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত যে ব্যক্তি করবেন তিনি যদি ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা না হন,তাহলে তিনি এই কার্যবিধি অনুসারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া) কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
(২ক) এই ধারার অধীন কোন ঘটনা অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে শপথ করিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন তবে শর্ত এই যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য অভিযোগ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য,তাহলে তিনি ফরিয়াদীকে তার সকল সাক্ষীদেরকে হাজির করতে বলবেন এবং তাদের শপথ করে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।
(২খ) পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ করতে এবং অভিযুক্তদেরকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।
২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক(১) ধারায় যদি আসামী দণ্ডপ্রাপ্ত হয় এবং তার জেল হাজতে থাকা সময় দণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ দেয়া হয়, তবে এটি কোন শর্তে প্রযোজ্য হবে না?
  1. যারা শুধুমাত্র অর্থদণ্ড প্রাপ্ত
  2. মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে
  3. যে সকল আসামি জামিনে মুক্ত থাকে
  4. যারা পাঁচ বছরের কম সময় জেলে ছিল
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক(১) ধারায় উল্লেখ আছে যে, যদি আসামী দণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং তার জেল হাজতে থাকা সময় দণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ দেয়া হয়, তবে এটি মৃত্যুদণ্ড (death penalty) প্রাপ্ত আসামীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে তার জেল হাজতে থাকা সময় কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কীভাবে দণ্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ:
- ধারা-৩৫ক (১): ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেলহাজতে ছিল, তা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
তবে এই বিধানটি আসামি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- ধারা-৩৫ক (২): যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদণ্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদণ্ড থাকলে সেই অর্থদণ্ড মওকুফ হয়ে যাবে।
------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-35A: Deduction of imprisonment in cases where convicts may have been in custody:
(1) Except in the case of an offence punishable only with death, when any court finds an accused guilty of an offence and, upon conviction, sentences such accused to any term of imprisonment, simple or rigorous, it shall deduct from the sentence of imprisonment, the total period the accused may have been in custody in the meantime, in connection with that offence.
(2) If the total period of custody prior to conviction referred to in sub-section (1) is longer than the period of imprisonment to which the accused is sentenced, the accused shall be deemed to have served out the sentence of imprisonment and shall be released at once, if in custody, unless required to be detained in connection with any other offence; and if the accused is also sentenced to pay any fine in addition to such sentence, the fine shall stand remitted.
২৭.
বাংলাদেশে ফৌজদারি আদালতের কত প্রকার শ্রেণী বিদ্যমান?
  1. ১ প্রকার
  2. ২ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৪ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে ফৌজদারি আদালতের ২টি প্রধান শ্রেণী বিদ্যমান:
১) সেশন আদালত (Courts of Sessions);
২) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Courts of Magistrates)।

⇒ বাংলাদেশে ফৌজদারি আদালতের দুটি প্রধান শ্রেণী বিদ্যমান:
- দায়রা আদালত: এই শ্রেণীর মধ্যে রয়েছে দায়রা জজ আদালত, অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত, এবং যুগ্ম দায়রা জজ আদালত।
- ম্যাজিস্ট্রেট আদালত: এই শ্রেণীর মধ্যে রয়েছে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, এবং তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, এই দুই শ্রেণীর মধ্যে আলাদা বিচারিক কাঠামো এবং দায়িত্ব থাকে, এবং আদালতের বিচারিক ক্ষমতা নির্ভর করে তাদের শ্রেণী অনুযায়ী।
২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারা অনুযায়ী, সরকার কোন প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করার সময় কী করতে পারবেন?
  1. সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন জারি করতে পারবেন
  2. অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি দিতে পারবেন
  3. পুলিশ অফিসারকে তল্লাশি করার নির্দেশ দিতে পারবেন
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবকটি।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারা অনুযায়ী, সরকার যখন কোন প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে, তখন তাদের তিনটি কাজ করতে হয়:
- সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন জারি করতে হবে, যাতে সরকার প্রকাশনাটি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে এবং এর কারণ উল্লেখ করে।
- অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি দিতে হবে, অর্থাৎ সরকার কেন এই প্রকাশনাটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করছে, তার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
- পুলিশ অফিসারকে তল্লাশি করার নির্দেশ দিতে হবে, যাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্তকৃত প্রকাশনাগুলি খুঁজে এবং উদ্ধার করা যায়।
এই তিনটি পদক্ষেপ একসাথে গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকার বাজেয়াপ্তকৃত প্রকাশনাগুলি উদ্ধারের জন্য কার্যক্রম শুরু করে।


⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারার বিধান: কতকগুলি প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করা হলো বলে ঘোষণা করার ও উহার জন্য তল্লাশি পরোয়ানা দিবার ক্ষমতা:
(১) যেক্ষেত্রে সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন সংবাদপত্রে বা গ্রন্থে বা কোন দলিলে, তা যেখানেই মুদ্রিত হোক না কেন, নিম্নে বর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে-
(ক) কোন বিষয়বস্তু, যার প্রকাশনা দণ্ডবিধি (১৮৬০ সনের ৪৫নং আইন)-এর ধারা-১২৩এ অথবা ১২৪এ অথবা ১৫৩এ অথবা ২৯২ অথবা ২৯৫এ অথবা ৫০৫ অথবা ৫০৫এ মতে দণ্ডনীয়,
(খ) কোন বিষয়বস্তু যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, সরকারের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পীকার, অথবা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির জন্য মানহানিকর, অথবা
(গ) এরূপ কোন বিষয়বস্তু রয়েছে যা অত্যন্ত শিষ্ঠাচারহীন বা অশ্লীল অথবা কুৎসিত, অথবা
(ঘ) কোন কথা, বা দৃষ্টিগোচর আচরণ, যা কোন ব্যক্তিকে বা কোন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গকে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনে উত্তেজিত করে বা করতে পারে,

সেক্ষেত্রে সরকার, সরকারি গেজেট গেজেট নোটিফিকেশন কর্তৃক, উহার অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি করে, অনুরূপ বিষয়বস্তু, কথা বা দৃষ্টিগোচর আচরণ সম্বলিত গ্রন্থ অথবা অন্য কোন প্রকার দলিল সরকারে বাজেয়াপ্ত বলে ঘোষণা করতে পারবেন, এবং অতঃপর যে কোন পুলিশ অফিসার বাংলাদেশের যে স্থানে পরিদৃষ্ট হোক না কেন, সে স্থানেই তা আটক করতে পারবেন এবং যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট পরোয়ানা জারি দ্বারা সাব-ইন্সপেক্টর-এর চেয়ে নিম্নের পদাধিকারী নহেন এরূপ যে কোন পুলিশ অফিসারকে ক্ষমতা দিতে পারবেন এরূপ সকল প্রাঙ্গণে তল্লাশি করার, যেখানে উক্ত গ্রন্থ বা অন্য কোন দলিলের যেকোনো সংখ্যা খুঁজে পাওয়া যাবে অথবা পাওয়া যাবার সংগত সন্দেহ করা যেতে পারে।

(২) উপধারা (১) এ "সংবাদপত্র", "গ্রন্থ" এবং "দলিল" শব্দগুলো মুদ্রণালয় ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সনের ২৩নং আইন)-এ যে অর্থ দেয়া আছে, সেই একই অর্থ বহন করবে।
২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ(২) ধারা অনুযায়ী,  যদি অভিযুক্ত আদালতে হাজির হওয়ার পর পলায়ন করে বা হাজির না হয়, তাহলে কী করা হবে?
  1. অভিযুক্তের পরিবারকে জরিমানা করা হবে
  2. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা বাতিল করা হবে
  3. অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হবে
  4. অভিযুক্তের আইনজীবীকে জরিমানা করা হবে
সঠিক উত্তর:
অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হবে। 
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ(২) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো অভিযুক্ত আদালতে হাজির হওয়ার পর পলায়ন করে বা নির্ধারিত তারিখে হাজির না হয়, তাহলে (৩৩৯-খ(১) উপধারার মতো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই)। বরং, সংশ্লিষ্ট আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
তবে, যদি অভিযুক্ত প্রথম থেকেই অনুপস্থিত থাকে, তাহলে ৩৩৯-খ(১) ধারা অনুসারে তার বিরুদ্ধে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান প্রয়োগ করতে হবে এবং জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশি অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।

(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.

(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণের পদ্ধতি
  2. আপসযোগ্য অপরাধসমূহ
  3. দণ্ডবিধির বিশেষ বিধান
  4. জামিনযোগ্য অপরাধসমূহ
সঠিক উত্তর:
আপসযোগ্য অপরাধসমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপসযোগ্য অপরাধসমূহ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারা মূলত আপসযোগ্য অপরাধসমূহ (compoundable offences) সম্পর্কে আলোচনা করে।
এই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে—
- যে সকল অপরাধ আপসযোগ্য, তাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে।
- কোন অপরাধ কোন ব্যক্তির সাথে আপসযোগ্য, সেটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- কিছু অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্মতিতেই আপস করা যায়, আবার কিছু অপরাধে আদালতের অনুমতি নিয়ে আপস করা যায়।
আপসযোগ্য অপরাধ বলতে বোঝায় এমন অপরাধ, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন।

⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে কোন অপরাধ আপসযোগ্য এবং কীভাবে আপস করা যাবে। এটি সাক্ষ্য গ্রহণ বা জামিনের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং আপসযোগ্য অপরাধ সম্পর্কেই আলোচনা করে।
৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারার অধীনে পুলিশ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত সুরতহাল রিপোর্ট কার কাছে প্রেরণ করতে হবে?
  1. প্রধান বিচারপতির কাছে
  2. দায়রা আদালতের কাছে
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে
  4. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে
সঠিক উত্তর:
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪(২) ধারার বিধান অনুসারে, পুলিশ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত সুরতহাল রিপোর্ট (Inquest Report) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে।
⇒ ১৭৪(১) ধারার মতে:
যদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (O.C.) বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জানতে পারেন যে—
- কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে,
- কোনো প্রাণী বা যন্ত্র দ্বারা দুর্ঘটনায় মারা গেছে,
- কোনো ব্যক্তি এমনভাবে মারা গেছে, যা থেকে সন্দেহ হয় যে অন্য কেউ অপরাধ করেছে—
তাহলে তিনি নিকটস্থ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন এবং স্থানীয় দুজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে তদন্ত পরিচালনা করবেন।
⇒ ১৭৪(২) ধারার বিধান:
এই তদন্ত শেষে পুলিশের দায়িত্ব সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা এবং সেটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো।

⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪(২) ধারা অনুযায়ী, পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করবে।
৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী দায়রা আদালতের বিচারকদের নিয়োগ কে প্রদান করেন?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. সরকার
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) রাষ্ট্রপতি।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯(৩) ধারার অধীনে, দায়রা আদালতের বিচারকদের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজকে নিয়োগ দেন, যা সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদে নির্ধারিত রয়েছে।

⇒ দায়রা আদালতের শ্রেণীবিভাগ- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরণের বিচারক থাকে। যথা-
ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।
- ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ- সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 9: Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court ; and the Court of Session for Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.
(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore.
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts.
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct.
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৪১৯
  2. ধারা ৪২০
  3. ধারা ৪২১
  4. ধারা ৪২২
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪২১
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারা-তে "আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ" (Summary Dismissal of Appeal) করার বিধান রয়েছে।
এই ধারার মূল বিষয়বস্তু:
- আপিল আদালত ধারা ৪১৯ বা ৪২০ অনুযায়ী দাখিলকৃত আপিলপত্র এবং তার অনুলিপি পর্যালোচনা করার পর যদি মনে করেন যে, আপিলে হস্তক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত কারণ নেই, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারেন।
- তবে, ধারা ৪১৯-এর অধীনে দাখিলকৃত আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।
- আদালত চাইলে মামলার নথি তলব করতে পারেন, কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক নয়।
⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারা স্পষ্টভাবে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করার বিধান উল্লেখ করে।
৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৭ ধারার অধীনে কোন পরিস্থিতিতে তদন্ত করা যাবে না?
  1. যদি বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে চায়
  2. যদি আসামির পরিচয় অজানা থাকে
  3. যদি তদন্তের উপযুক্ত কারণ না থাকে
  4. যদি অভিযোগ মৌখিকভাবে দায়ের করা হয়
সঠিক উত্তর:
যদি তদন্তের উপযুক্ত কারণ না থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি তদন্তের উপযুক্ত কারণ না থাকে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৭(১)(খ) ধারার বিধান অনুসারে, যদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (Officer-in-Charge) দেখেন যে তদন্ত শুরু করার জন্য পর্যাপ্ত কারণ নেই, তাহলে তিনি মামলাটি তদন্ত করবেন না। এই ক্ষেত্রে, তিনি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানাবেন এবং সংবাদদাতাকে (informant) অবহিত করবেন যে, তিনি এই মামলাটি তদন্ত করবেন না বা করাবেন না।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
(ক) যদি বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে চায় →
- বাদী মামলা প্রত্যাহার করলেও আমলযোগ্য অপরাধ হলে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে।
(খ) যদি আসামির পরিচয় অজানা থাকে →
- আসামির পরিচয় অজানা হলেও পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধী শনাক্ত করার চেষ্টা করবে।
(ঘ) যদি অভিযোগ মৌখিকভাবে দায়ের করা হয় →
- মৌখিক অভিযোগ গ্রহণ করার পর পুলিশ সেটি লিখিতভাবে রেকর্ড করতে পারে এবং তদন্ত শুরু করতে পারে।

সুতরাং, তদন্ত বন্ধ করার একমাত্র বৈধ কারণ হলো "যথেষ্ট তদন্তের কারণ না থাকা" যা ১৫৭(১)(খ) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারা অনুসারে অভিযুক্তকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদি কোথায় প্রতিকার চাইতে পারেন?
  1. সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন
  2. দায়রা জজ আদালতে আপিল করতে পারেন
  3. দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করতে পারেন
  4. কোনো প্রতিকার নেই
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করতে পারেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করতে পারেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারা অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট যদি চার্জ গঠনের আগে অভিযোগ ভিত্তিহীন মনে করে, তাহলে অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারেন। তবে, যদি ফরিয়াদি (Complainant) এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার চান, তাহলে তিনি দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করতে পারেন।

- অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিল করার কোনো বিধান নেই।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ও ৪১৭ক ধারায় শুধু খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে, অব্যাহতির বিরুদ্ধে নয়।
- যেহেতু আপিল করা যায় না, তাই রিভিশনের সুযোগ রয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী দায়রা জজ আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং বিচারিক আদেশ পর্যালোচনা করতে পারে।

অর্থাৎ ফরিয়াদি যদি মনে করেন যে অভিযুক্তকে ভুলভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাহলে তিনি দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করতে পারেন, কিন্তু সরাসরি আপিল করতে পারবেন না। 
৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭ ধারার অধীনে কারা অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারেন না?
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিম কোর্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিম কোর্ট
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) সুপ্রিম কোর্ট।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭ ধারার অধীনে অপরাধের সহযোগীকে (Accomplice) শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করার ক্ষমতা রয়েছে—
১) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট,
২) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, এবং
৩) চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের।
এরা মামলার তদন্ত, অনুসন্ধান বা বিচার চলাকালীন সময়ে অপরাধের সত্য তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে কোনো অভিযুক্তকে ক্ষমা করতে পারেন, যদি সে অপরাধ সম্পর্কিত সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশ করতে রাজি হয়।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্ট মূলত আপিল ও রিভিশনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো অভিযুক্তকে ক্ষমা করার এখতিয়ার তার নেই।
- তাই সুপ্রিম কোর্টের এই ক্ষমতা না থাকার কারণে "ক" অপশনটি সঠিক উত্তর।
৩৭.
দণ্ডবিধির ৪৯ ধারা অনুসারে, "year" বা "month" শব্দ ব্যবহৃত হলে, তা কোন ক্যালেন্ডারের ভিত্তিতে গণনা করা হয়?
  1. বাংলা ক্যালেন্ডার
  2. ভারতীয় ক্যালেন্ডার
  3. ইসলামিক ক্যালেন্ডার
  4. ইংরেজি ক্যালেন্ডার
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ক্যালেন্ডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ক্যালেন্ডার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯ ধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, "year" বা "month" শব্দ ব্যবহৃত হলে তা ইংরেজি ক্যালেন্ডার (অথবা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার) অনুযায়ী গণনা করা হবে। অর্থাৎ, ইংরেজি ক্যালেন্ডারে এক বছর ৩৬৫ দিন (অথবা লিপ বছরের ক্ষেত্রে ৩৬৬ দিন) এবং এক মাস ৩০ বা ৩১ দিন (ফেব্রুয়ারিতে ২৮ বা ২৯ দিন) হিসেবে গণনা করা হয়।

⇒ The Penal Code, 1860- Sections- 49.“Year” “Month”:
 Wherever the word "year" or the word "month" is used, it is to be understood that the year or the month is to be reckoned according to the British calendar.
৩৮.
দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারা অনুসারে, 'গৃহ' বলতে নিচের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. তাঁবু
  2. গাড়ি
  3. দালান
  4. জাহাজ
সঠিক উত্তর:
গাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাড়ি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারা অনুসারে, 'গৃহ' বলতে বোঝায়—
- দালান (Building)
- তাঁবু (Tent)
- জাহাজ বা নৌকা (Vessel) → যদি এটি মানুষের বসবাস, উপাসনা বা সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
তবে, গাড়ি (Car) বা অন্যান্য যানবাহন এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, গাড়িকে সাধারণত মানুষের স্থায়ী বসবাস বা সম্পত্তি সংরক্ষণের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে গণ্য করা হয় না।
সুতরাং, ‘গাড়ি’ ৪৪২ ধারায় বর্ণিত ‘গৃহ’-এর সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না, তাই সঠিক উত্তর হলো ‘ঘ) গাড়ি’।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান অনধিকার গৃহে প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 442- House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".
Explanation:-The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house trespass.
৩৯.
'ক'-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। 'ক' যদি ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে, তাহলে তার সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মচারীর আদেশ অনুযায়ী হাজির হতে আইনত বাধ্য হন এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গরহাজির থাকেন, তবে তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি নির্ভর করে আদেশের ধরন ও উৎসের ওপর।
→ সাধারণ ক্ষেত্রে (অর্থাৎ, আদালত ব্যতীত অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীর আদেশ লঙ্ঘন করলে):
- সর্বোচ্চ ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
→ কিন্তু যদি আদেশটি কোনো আদালতে হাজির হওয়ার জন্য হয়:
- অর্থাৎ, যদি সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ পেয়ে গরহাজির থাকেন, তবে শাস্তি হবে—
-  ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয় দণ্ড।

→ এখানে প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে, ‘ক’-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন দিয়েছেন, কিন্তু সে ইচ্ছাকৃতভাবে গরহাজির থাকে।
- যেহেতু এটি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত, তাই ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রযোজ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারার বিধান সরকারি কর্মচারীর আদেশানুসারে উপস্থিত না হওয়া- কোন ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে আইনত: কোন সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণা জারি করার ক্ষমতাসম্পন্ন অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর নিকট থেকে উদ্ভূত অনুরূপ সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণার আজ্ঞানুযায়ী স্বয়ং বা প্রতিনিধি মারফত কোন নির্দিষ্ট স্থানে এবং সময়ে হাজির হওয়ার জন্য আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও,- ইচ্ছাকৃত সে স্থানে ও সময়ে উপস্থিত না হয় অথবা যে স্থানে সে উপস্থিত থাকতে বাধ্য সে স্থান হতে যখন তার প্রস্থান করা আইনসম্মত হত তার আগেই প্রস্থান করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
- অথবা সমন, নোটিশ, আদেশ বা ঘোষণাটি যদি স্বয়ং বা প্রতিনিধি, মারফত কোন আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশবাহী হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) ক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে ইস্যুকৃত একটি নির্দেশ মোতাবেক উক্ত আদালতে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু সে ইচ্ছাকৃত আদালতে গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
(খ) ক-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। ক এ সমন মোতাবেক সাক্ষী হিসেবে উক্ত জেলা জজের সম্মুখে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু ক ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 174. Non-attendance in obedience to an order from public servant:
Whoever, being legally bound to attend in person or by an agent at a certain place and time in obedience to a summons, notice, order or proclamation proceeding from any public servant legally competent, as such public servant, to issue the same, intentionally omits to attend at that place or time, or departs from the place where he is bound to attend before the time at which it is lawful for him to depart,shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka or with both;
or, if the summons, notice, order or proclamation is to attend in person or by agent in a Court of Justice, with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
৪০.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর কোন ধারা অনুযায়ী বিদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচার বাংলাদেশে করা যায়?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৪
  4. ধারা ৫
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪ অনুযায়ী, বিদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচার বাংলাদেশে করা যেতে পারে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশী নাগরিক বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যিনি বাংলাদেশে বিচারের আওতায় আনা যেতে পারেন, তার বিরুদ্ধে বিদেশে সংঘটিত কোনো অপরাধে দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হবে যদি সেই অপরাধ বাংলাদেশে দণ্ডনীয় হয় বা যদি অপরাধী বাংলাদেশের কোনো জাহাজ বা বিমানে অবস্থান করে।

- এটি বিদেশে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের আইন অনুসারে পরিচালনার অধিকার প্রদান করে।
৪১.
দণ্ডবিধির ১২০ ধারা অনুসারে, যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়, তবে শাস্তি কত হতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের সমান
  2. সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত
  3. সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত
  4. সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের অর্ধেক পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১২০ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি কারাবিধেয় অপরাধ সংঘটনের ডিজাইন (পরিকল্পনা) গোপন করে এবং সেই অপরাধটি সংঘটিত না হয়, তবে সেই ব্যক্তির শাস্তি হবে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত।

- যে ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা গোপন করে বা মিথ্যা তথ্য দেয়, সে যদি অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে তাকে শাস্তির এক চতুর্থাংশ সময় বা জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া হবে।
- যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়, তবে তাকে এক অষ্টমাংশ সময় বা জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section-120. Concealing design to commit offence punishable with imprisonment
Whoever, intending to facilitate or knowing it to be likely that he will thereby facilitate the commission of an offence punishable with imprisonment, 
voluntarily conceals, by any act or illegal omission, the existence of a design to commit such offence, or makes any representation which he knows to be false respecting such design,
if offence be committed; if offence be not committed
shall, if the offence be committed, be punished with imprisonment of the description provided for the offence, for a term which may extend to one-fourth, and, if the offence be not committed, to one-eighth, of the longest term of such imprisonment, or with such fine as is provided for the offence, or with both.
৪২.
যদি কেউ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের উস্কানি দেয় কিন্তু সেই অপরাধ সংঘটিত না হয়, তাহলে দণ্ডবিধি অনুসারে উস্কানিদাতার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. ৫ বছর কারাদণ্ড
  2. ৭ বছর কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. কোন শাস্তি হবে না কারণ অপরাধ সংঘটিত হয়নি
সঠিক উত্তর:
৭ বছর কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কেউ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য কোনো অপরাধের উস্কানি দেয়, কিন্তু সেই অপরাধ সংঘটিত না হয়, তবে উস্কানিদাতা সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
এছাড়া, যদি উস্কানির ফলে কোনো শারীরিক ক্ষতি বা আঘাত হয়, তবে শাস্তি আরো কঠোর হতে পারে এবং তা ১৪ বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১১৫ ধারার বিধান- মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের উস্কানি দেওয়া - যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়; যদি ক্ষতি সৃষ্টিকারী কার্য সম্পাদিত হয়:
যে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটিত করার জন্য উস্কানি দেয়, কিন্তু উস্কানির ফলে ওই অপরাধ সংঘটিত না হয় এবং এই দণ্ডবিধিতে উস্কানির শাস্তির জন্য কোনো বিশেষ বিধান না থাকে, তাকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হতে পারে;

এবং যদি কোনো এমন কার্য, যার জন্য উস্কানিদাতা দণ্ডনীয়, এবং যার কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সংঘটিত হয়, তাহলে উস্কানিদাতা ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 115.  Abetment of offence punishable with death or imprisonment for life- if offence be not committed; if act causing harm be done in consequence:
Whoever abets the commission of an offence punishable with death or 31[imprisonment] for life, shall, if that offence be not committed in consequence of the abetment, and no express provision is made by this Code for the punishment of such abetment, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine; 
 
and if any act for which the abettor is liable in consequence of the abetment, and which causes hurt to any person, is done, the abettor shall be liable to imprisonment of either description for a term which may extend to fourteen years, and shall also be liable to fine. 
 
Illustration
A instigates B to murder Z. The offence is not committed. If B had murdered Z, he would have been subject to the punishment of death or 32[imprisonment] for life. Therefore A is liable to imprisonment for a term which may extend to seven years and also to a fine; and, if any hurt be done to Z in consequence of the abetment, he will be liable to imprisonment for a term which may extend to fourteen years, and to fine.
৪৩.
কেউ যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা লুকিয়ে রাখে এবং তা জানার পরও কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে, তাহলে দণ্ডবিধি অনুসারে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
১০ বছর কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১২৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কেউ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর পরিকল্পনা লুকিয়ে রাখে এবং তার মাধ্যমে এটি সংঘটিত হতে সহায়তা করতে চায়, তবে তাকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। এটি তখন ঘটে যখন কেউ কোনো অযাচিত কর্মকাণ্ড বা অবহেলা করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা লুকিয়ে রাখে।
- তাহলে, এই প্রশ্নে সঠিক উত্তর হবে: গ) ১০ বছর কারাদণ্ড। 
---------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Sections- 123. Concealing with intent to facilitate design to wage war:
Whoever, by any act, or by any illegal omission, conceals the existence of a design to wage war against Bangladesh, intending by such concealment to facilitate, or knowing it to be likely that such concealment will facilitate the waging of such war, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৪৪.
দণ্ডবিধির ১৯৭ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে দণ্ডের বিধান রয়েছে?
  1. ভুয়া সাক্ষী হওয়া
  2. জালিয়াতি করা
  3. ঘুষ গ্রহণ করা
  4. মিথ্যা সার্টিফিকেট ইস্যু করা
সঠিক উত্তর:
মিথ্যা সার্টিফিকেট ইস্যু করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথ্যা সার্টিফিকেট ইস্যু করা
ব্যাখ্যা
→ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৯৭ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আইনত স্বীকৃত কোনো সার্টিফিকেট ইস্যু করে বা স্বাক্ষর করে এবং তা বাস্তব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিথ্যা জেনেও বা বিশ্বাস করেও করে, তাহলে তিনি মিথ্যা সাক্ষ্যের শাস্তির অনুরূপ দণ্ডযোগ্য হবেন।
অতএব, সঠিক উত্তর: ঘ) মিথ্যা সার্টিফিকেট ইস্যু করা।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৭ ধারার বিধান মিথ্যা সার্টিফিকেট ইস্যু করা কিংবা উহাতে স্বাক্ষর করা:
- কোন ব্যক্তি যদি আইনের নির্দেশানুসারে কোন সার্টিফিকেট ইস্যু করে কিংবা উহাতে স্বাক্ষর করে কিংবা যে বিষয়ে আইনানুসারে কোন সার্টিফিকেট সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে অনুরূপ সার্টিফিকেট দান বা স্বাক্ষর করে এবং সার্টিফিকেটটি কোন বাস্তব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিক হতে মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও বা অনুরূপভাবে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও অনুরূপভাবে উহা দান বা স্বাক্ষর করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা সাক্ষ্যদান করলে যেভাবে দণ্ডিত হত, এক্ষেত্রেও সে সেভাবে দণ্ডিত হবে।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 197: Issuing or signing false certificate:
- Whoever issues or signs any certificate required by law to be given or signed, or relating to any fact of which such certificate is by law admissible in evidence, knowing or believing that such certificate is false in any material point, shall be punished in the same manner as if he gave false evidence.
৪৫.
একজন ডাক্তার রোগীকে জানালেন যে তার মৃত্যু আসন্ন। রোগী শোকে মারা গেল। দণ্ডবিধি অনুসারে ডাক্তারের বিরুদ্ধে কী করা হবে?
  1. তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন
  2. তিনি নির্দোষ হবেন
  3. তাকে জরিমানা দিতে হবে
  4. তার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা হবে
সঠিক উত্তর:
তিনি নির্দোষ হবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি নির্দোষ হবেন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৯৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কারও মঙ্গলার্থে সৎ উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য জানিয়ে দেন এবং এতে কোনো ক্ষতি হয়, তবে এটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না। ডাক্তারের উদ্দেশ্য যদি রোগীকে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করা হয় এবং এটি যদি তিনি সৎ উদ্দেশ্যে ও মঙ্গলের জন্য করেন, তাহলে এটি অপরাধ হবে না, যদিও রোগী এতে শোকে মারা যান।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৯৩ অনুসারে, সদিচ্ছায় (good faith) এবং ব্যক্তির মঙ্গলের জন্য প্রদত্ত কোনো তথ্য বা পরামর্শ যদি কোনো ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
- এই ক্ষেত্রে, ডাক্তার সদিচ্ছায় রোগীকে তার আসন্ন মৃত্যুর বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
- রোগীর মৃত্যু শোকে হলেও ডাক্তারের উদ্দেশ্য ছিল রোগীকে সতর্ক করা বা প্রস্তুত করা, যা কল্যাণকর।
তাই, দণ্ডবিধি অনুযায়ী ডাক্তার নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

⇒ ধারা ৯৩-এর উদাহরণে (Illustration) বলা হয়েছে:
"A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence."
(একজন ডাক্তার সদিচ্ছায় রোগীকে জানান যে সে বাঁচবে না। রোগী শোকে মারা গেলেও ডাক্তার কোনো অপরাধ করেননি।)
সুতরাং, ডাক্তার নির্দোষ।
৪৬.
দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার মতে, বলপ্রয়োগ সংঘটিত হয় যখন—
  1. কেবলমাত্র সরাসরি আঘাত করা হয়।
  2. মৌখিক হুমকি প্রদান করা হয়।
  3. শুধুমাত্র শারীরিক বল প্রয়োগ করা হয়।
  4. গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করা হয়।
সঠিক উত্তর:
গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করা হয়।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারা অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ (Force) সংঘটিত হয় যখন—
১) কোনো ব্যক্তির গতি সঞ্চার (cause motion) করা হয়,
২) তার গতির পরিবর্তন (change of motion) করা হয়, অথবা
৩) তার গতি স্তব্ধ (cessation of motion) করা হয়।
এছাড়াও, কোনো বস্তু বা প্রাণীর গতি পরিবর্তনের মাধ্যমে যদি কারও শরীরের সংস্পর্শে আনা হয় বা তার অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে, তাহলেও বলপ্রয়োগ সংঘটিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে।
অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারা অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ বলতে বোঝায় গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করা, যা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংঘটিত হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে।
----------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 349: Force:
- A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described:
Firstly. By his own bodily power.
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person.
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.
৪৭.
দণ্ডবিধির ৭৫ ধারা অনুসারে, পূর্বে দণ্ডিত হওয়ার পর আবার একই ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ শাস্তি কেমন হবে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ৭৫ ধারার মতে, যদি কোনো ব্যক্তি পূর্বে ৩ বছর বা তার বেশি সময়ের শাস্তি পেয়ে থাকে এবং পুনরায় একই ধরনের অপরাধ করে, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করা হতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860-Section -75. Enhanced punishment for certain offences under Chapter XII or Chapter XVII after previous conviction:
Whoever, having been convicted,
(a) by a Court in Bangladesh of an offence punishable under Chapter XII or Chapter XVII of this Code with imprisonment of either description for a term of three years or upwards;
shall be guilty of any offence punishable under either of those Chapters with like imprisonment for the like term, shall be 
subject for every such subsequent offence to imprisonment for life, or to imprisonment of either description for a term which may extend to ten years.
৪৮.
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি অনুযায়ী কত জন বা তার বেশি ব্যক্তির সমাবেশকে "বেআইনি সমাবেশ" হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৫ জন
  4. ৭ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুযায়ী, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি যদি একটি নির্দিষ্ট অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তবে সেটিকে "বেআইনি সমাবেশ" হিসেবে গণ্য করা হবে।
অতএব, সঠিক উত্তর: গ) ৫ জন।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারার বিধান বেআইনি সমাবেশ:- পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশকে 'বেআইনি সমাবেশ' সেক্ষেত্রেই বলা হয়, যেক্ষেত্রে উক্ত সমাবেশের ব্যক্তিদের সাধারণ লক্ষ্য হয়-
প্রথম:- বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভাকে অথবা কোন সরকারি কর্মচারীকে অনুরূপ কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের সময় অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি কর্তৃক ভীতি প্রদর্শন করা; কিংবা
দ্বিতীয়:- কোন আইনের অথবা কোন আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরকরণে বাধা সৃষ্টি করা; কিংবা
তৃতীয়:- কোন ব্যক্তির দুষ্কর্ম বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ অথবা অন্যবিধ অপরাধ অনুষ্ঠিত করা; কিংবা
চতুর্থ:- কোন ব্যক্তির প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করা, অথবা কোন ব্যক্তিকে পথের অধিকার ভোগ হতে বঞ্চিত করা অথবা জল ব্যবহারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার দখলে অবস্থিত অপর কোন অশরীরী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অথবা কোন অধিকার বা কল্পিত অধিকার প্রতিষ্ঠা করা; কিংবা
পঞ্চম:- অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন ব্যক্তিকে সে আইনত বাধ্য নয় এমন একটি কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা অথবা যে কার্যটি করতে সে আইনত বাধ্য বা অধিকারী তা সম্পাদন হতে বিরত করা।

ব্যাখ্যা:- যে সমাবেশ, সমাবিষ্ট হওয়াকালে বেআইনি ছিল না তা পরে বেআইনি সমাবেশ হতে পারে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-141. Unlawful assembly:
An assembly of five or more persons is designated an "unlawful assembly," if the common object of the persons composing that assembly is
First.-To overawe by criminal force, or show of criminal force, Government or Legislature, or any public servant in the exercise of the lawful power of such public servant; or
Second.-To resist the execution of any law, or of any legal process; or
Third.- To commit any mischief or criminal trespass, or other offence; or
Fourth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to any person to take or obtain possession of any property, or to deprive any person of the enjoyment of a right of way, or of the use of water or other incorporeal right of which he is in possession or enjoyment, or to enforce any right or supposed right; or
Fifth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to compel any person to do what he is not legally bound to do, or to omit to do what he is legally entitled to do.

Explanation.-An assembly which was not unlawful when it assembled, may subsequently become an unlawful assembly.
৪৯.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে, প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা কতভাবে হতে পারে?
  1. ২ ভাবে
  2. ৩ ভাবে
  3. ৪ ভাবে
  4. ৫ ভাবে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে, প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা তিনটি প্রধান উপায়ে হতে পারে:
১) Instigation (প্ররোচনা): কাউকে কোনো অপরাধ করতে উদ্দীপিত করা বা প্ররোচিত করা।
২) Engagement in Conspiracy (ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ): কাউকে বা অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করা।
৩) Aiding (সহায়তা): অপরাধ সংঘটন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করা, যা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হতে পারে।
- এই তিনটি উপায়ে একজন ব্যক্তি অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা দিতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিরও অপরাধের জন্য দায়িত্ব জড়িত থাকে।

⇒ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন জোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়।
-দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে।
(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation)
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement)
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
৫০.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী 'ঠগ' (Thug)-এর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ধারা ৩০৯
  2. ধারা ৩১০
  3. ধারা ৩১১
  4. ধারা ৩১২
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩১১
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১১ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ ঠগ (Thug) হয়, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। ঠগ হওয়ার জন্য, ব্যক্তিকে অভ্যাসগতভাবে খুন বা শিশু অপহরণ করে দস্যুতা সংঘটনের উদ্দেশ্যে মেলামেশা করতে হবে, যা ৩১০ ধারায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় ঠগের সংজ্ঞা (Thug) রয়েছে। খুন অথবা খুন সহকারে দস্যুতা সংঘটন অথবা শিশু অপহরণ করার উদ্দেশ্যে দুষ্টু মন নিয়ে মেলামেশা করাকে ঠগ (Thug) বলে। অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে কাউকে খুন বা শিশু অপহরন করে দস্যুতার উদ্দেশ্যে মেলামেশা করাকে ঠগ বলা হয়। সমস্ত ঠগই দস্যু এবং ডাকাত কিন্তু সমস্ত দস্যু বা ডাকাত ঠগ নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১১ ধারার বিধান ঠগের শাস্তি:-কোন ব্যক্তি যদি ঠগ হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 310: Thug:
-Whoever, at any time after the passing of this Act, shall have been habitually associated with any other or others for the purpose of committing robbery or child-stealing by means of or accompanied with murder, is a thug.
⇒ The Penal Code, 1860: Section 311:Punishment:
- Whoever is a thug, shall be punished with imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
৫১.
দণ্ডবিধির ৩২০ ধারা অনুসারে, নিচের কোনটি গুরুতর আঘাতের উদাহরণ নয়?
  1. দাঁত ভাঙা
  2. হাড় ভাঙা
  3. সামান্য কাটা ছেঁড়া
  4. চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করা
সঠিক উত্তর:
সামান্য কাটা ছেঁড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য কাটা ছেঁড়া
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারা অনুযায়ী, "গুরুতর আঘাত" (Grievous hurt) হিসেবে কয়েকটি নির্দিষ্ট আঘাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- এর মধ্যে দাঁত ভাঙা, হাড় ভাঙা এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়া গুরুতর আঘাত হিসেবে গণ্য হয়।
- তবে, সামান্য কাটা ছেঁড়া সাধারণত গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয় না, এটি সাধারণ আঘাত হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংসকরণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 320: Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":-
Firstly.-Emasculation.
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye.
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear.
Fourthly.-Privation of any member or joint.
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint.
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face.
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth.
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
৫২.
নিম্নলিখিত কোনটি বেসরকারি দলিলের উদাহরণ?
  1. সংসদের আইন
  2. সরকারি গেজেট
  3. দানপত্র বা উইল
  4. আদালতের রেকর্ড
সঠিক উত্তর:
দানপত্র বা উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দানপত্র বা উইল
ব্যাখ্যা
⇒ বেসরকারি দলিল (Private Document) হলো সেই সমস্ত দলিল যা সরকারি সংস্থা বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের অংশ নয়, বরং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তৈরি বা ব্যবহৃত হয়।
- দানপত্র বা উইল একটি বেসরকারি দলিল, কারণ এটি সাধারণত ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যে সম্পাদিত হয় এবং এর সাথে কোনো সরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্টতা থাকে না।

- বেসরকারি দলিল হলো সেইসব দলিল, যা ব্যক্তি বা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সম্পাদিত হয় এবং সরকারি কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। দানপত্র (Gift Deed) বা উইল (Will) এই ধরনের দলিলের উদাহরণ।
অর্থাৎ দানপত্র বা উইল হলো একটি বেসরকারি দলিল, কারণ এটি ব্যক্তিগত লেনদেনের অংশ। 
তাই সঠিক উত্তর: (গ) দানপত্র বা উইল।

অন্যদিকে:
সংসদের আইন এবং সরকারি গেজেট সরকারি দলিলের উদাহরণ।
আদালতের রেকর্ডও সরকারি নথির মধ্যে পড়ে।
৫৩.
শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের মতামত দেওয়ার জন্য কী প্রয়োজন?
  1. আদালতের অনুমতি
  2. বিশেষজ্ঞের রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া
  3. রিপোর্টের কপি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দেওয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের মতামত দেওয়ার জন্য নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হয়:
ক) আদালতের অনুমতি: বিশেষজ্ঞকে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত হতে হয় বা আদালতের অনুমোদন নিয়ে তার মতামত প্রদান করতে হয়।
খ) বিশেষজ্ঞের রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া: বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত একটি লিখিত রিপোর্ট আকারে আদালতে পেশ করতে হয়।
গ) রিপোর্টের কপি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দেওয়া: অভিযুক্ত ও প্রাসঙ্গিক পক্ষগুলোর আইনী অধিকার রয়েছে বিশেষজ্ঞের রিপোর্ট পরীক্ষা করার, তাই তাদেরকে রিপোর্টের কপি সরবরাহ করতে হয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) উপরের সবগুলো।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক: বিশেষজ্ঞের মতামত শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে:
(১) আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যতক্ষণ না তার প্রতিবেদনটি (উপ-ধারা ২ অনুযায়ী) সমস্ত পক্ষকে প্রদান করা হয়।
(২) বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদনটি আদালতের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হবে এবং কোনো পক্ষের পক্ষে নয়, এবং বিশেষজ্ঞের কর্তব্য হচ্ছে আদালতকে সাহায্য করা।

The Evidence Act, 1872 Section 45A. Opinion of experts on physical or forensic evidence:
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
৫৪.
সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে কোনটি প্রমাণিত হতে পারে?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য
  2. ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী
  3. মূল দলিলের প্রতিলিপি
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
মূল দলিলের প্রতিলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল দলিলের প্রতিলিপি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) মূল দলিলের প্রতিলিপি।

সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুযায়ী, মাধ্যমিক সাক্ষ্য বলতে মূল দলিলের প্রতিলিপি, ফটোগ্রাফ, অথবা অন্য কোনো বিকল্প উপায়ে প্রস্তুত করা যে কোনও প্রমাণ বোঝানো হয় যা মূল দলিলের উপস্থিতি ছাড়াই প্রমাণিত হতে পারে।
তবে মৌখিক সাক্ষ্য এবং ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী মূলত প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) হিসেবে গণ্য হয়, তাই এগুলি ৬৩ ধারার অধীনে মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মূল দলিল আদালতে হাজির না করে মূল দলিলের প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করাকে মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা Secondary Evidence বলে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারার বিধান মাধ্যমিক সাক্ষ্য- মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তাহার অন্তর্ভুক্ত হয়:
(১) বর্ণিত বিধানবলি অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল;
(২) মূল দলিল হইতে এরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্ৰস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এরূপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল;
(৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
(৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহা ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
(৫) যে ব্যক্তি নিজের কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া উক্ত দলিলের বিষয় বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ।

উদাহরণ:
(ক) একটি মূল দলিলের সহিত উহার ফটোগ্রাফ মিলাইয়া দেখা না হইয়া থাকলেও যদি প্রমাণ করা হয় যে, ফটোগ্রাফটি যে দলিলের ফটোগ্রাফ, তাহাই মূল দলিল; তবে উক্ত ফটোগ্রাফ উক্ত মূল দলিলের মাধ্যমিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
---------
The Evidence Act, 1872: Section- 63. Secondary evidence:
Secondary evidence means and includes-
(1) certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) copies made from or compared with the original;
(4) counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself seen it.

Illustrations:
(a) A photograph of an original is secondary evidence of its contents, though the two have not been compared, if it is proved that the thing photographed was the original.
৫৫.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৮ অনুযায়ী, সাক্ষ্য গ্রহণের সঠিক ক্রম কী?
  1. জেরা → জবানবন্দি → পুনঃজবানবন্দি
  2. জবানবন্দি → জেরা → পুনঃজবানবন্দি
  3. পুনঃজবানবন্দি → জবানবন্দি → জেরা
  4. জেরা → পুনঃজবানবন্দি → জবানবন্দি
সঠিক উত্তর:
জবানবন্দি → জেরা → পুনঃজবানবন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবানবন্দি → জেরা → পুনঃজবানবন্দি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) জবানবন্দি → জেরা → পুনঃজবানবন্দি। 
→ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৮ অনুযায়ী, সাক্ষ্য গ্রহণের সঠিক ক্রম হলো:
- জবানবন্দি: প্রথমে, যে পক্ষ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করেছে, সে পক্ষ সাক্ষীকে প্রশ্ন করে (Examination-in-chief)।
- জেরা: তারপর, বিরোধী পক্ষ (যদি চায়) সাক্ষীকে জেরা করতে পারে (Cross-examination)।
- পুনঃজবানবন্দি: শেষে, যদি সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ চায়, তবে তাকে পুনরায় প্রশ্ন করা হয় (Re-examination)।
এই ক্রমটি সাক্ষ্য গ্রহণের নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সাক্ষীর বক্তব্য এবং তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]: যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
- জেরা [Cross Examination]: বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।
- পুনঃজবানবন্দি [Re-examination]: জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুনঃজবানবন্দি (Re- examination) বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুনঃজবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 137:
- Examination-in-chief: The examination of a witness by the party who calls him shall be called his examination-in-chief.
- Cross-examination: The examination of a witness by the adverse party shall be called his cross-examination.
- Re-examination: The examination of a witness, subsequent to the cross-examination by the party who called him, shall be called his re-examination.

⇒ The Evidence Act, 1872 section 138. Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined.
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
৫৬.
The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৩ মতে, 'দলিল' বা 'Document' বলতে কী বোঝায়?
  1. লিখিত কোন বিষয়
  2. ধাতু খন্ডে খোদাইকৃত বিষয়
  3. মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত বিষয়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৩ অনুযায়ী, 'দলিল' বা 'Document' বলতে লিখিত কোন বিষয়, ধাতু খন্ডে খোদাইকৃত বিষয়, এবং মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত বিষয় সবগুলোই বোঝায়। সুতরাং, এই সবগুলোই দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী-
- যে কোন লিখনই দলিল বলে গণ্য হয়;
- মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত যে কোন কথাও দলিল বলে গণ্য হবে (Words printed, lithographed or photographed are documents);
- কোন মানচিত্র বা নকশা, কোন ধাতু খন্ড বা প্রস্তর খন্ডের উপর খোদাইকৃত কোন বিষয় অথবা কোন ব্যঙ্গচিত্র (caricature) দলিল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ অপশনে উল্লিখিত সবগুলো দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ The Evidence Act,1872 এর ধারা ৩ মতে-
'দলিল বা Document' বলতে কোন পদার্থের উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নের (letters, figures or marks) সাহায্যে প্রকাশিত বা বর্ণিত কোন বিষয়কে বোঝায়।
"Document" means any matter expressed or described upon any substance by means of letters, figures or marks, or by more than one of those means, intended to be used, or which may be used, for the purpose of recording that matter.
৫৭.
সাক্ষ্য আইনের ৬৫খ ধারা অনুযায়ী ডিজিটাল রেকর্ডের প্রমাণ গ্রহণযোগ্যতার জন্য প্রধান শর্ত কী?
  1. কম্পিউটারটি অব্যাহতভাবে ব্যবহৃত হতে হবে
  2. তথ্য নিয়মিত প্রবেশ করানো হতে হবে
  3. কম্পিউটার সঠিকভাবে কাজ করছে
  4. উপরের সব
সঠিক উত্তর:
উপরের সব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সব
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৫খ ধারা (ধারা 65B) অনুযায়ী, ডিজিটাল রেকর্ড (যেমন ইমেইল, এসএমএস, ভিডিও, অডিও ইত্যাদি) প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত প্রধান শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:
→ কম্পিউটারটি নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত ব্যবহার হতে হবে (ধারা 65B(2)(a))
ডিজিটাল রেকর্ডটি এমন কম্পিউটার/ডিভাইস থেকে তৈরি হতে হবে যা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
→ তথ্য নিয়মিতভাবে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হতে হবে (ধারা 65B(2)(b))
রেকর্ডকৃত তথ্যটি নিয়মিতভাবে ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কম্পিউটারে ইনপুট করা হয়েছে।
→ কম্পিউটারটি সঠিকভাবে কাজ করছে (ধারা 65B(2)(c))
রেকর্ড তৈরির সময় কম্পিউটারটি সঠিকভাবে কাজ করছিল বা কোনো ত্রুটি থাকলেও তা রেকর্ডের নির্ভুলতাকে প্রভাবিত করেনি।
→ তথ্যটি মূল সোর্স থেকে এসেছে (ধারা 65B(2)(d))
ডিজিটাল রেকর্ডে প্রদর্শিত তথ্যটি সরাসরি বা গণনা/প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মূল তথ্য থেকে উদ্ভূত।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৬৫খ ধারা অনুযায়ী ডিজিটাল রেকর্ড প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হলে কম্পিউটারটি নিয়মিত ব্যবহার হওয়া, তথ্য সঠিকভাবে প্রবেশ করা এবং কম্পিউটারটি সঠিকভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
৫৮.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় আসামির পূর্বের ভালো চরিত্র:
  1. প্রাসঙ্গিক
  2. প্রাসঙ্গিক নয়
  3. শুধুমাত্র জরিমানা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক
  4. শুধুমাত্র বাদী পক্ষ প্রমাণ করলে প্রাসঙ্গিক
সঠিক উত্তর:
প্রাসঙ্গিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৫৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, ফৌজদারি মামলায় আসামির পূর্বের ভালো চরিত্র একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। এর কারণ হলো, একজন ব্যক্তির সুনাম (reputation) ও স্বভাবগত প্রবৃত্তি (disposition) তার নির্দোষ হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। আদালত এটি বিবেচনায় নিতে পারে, বিশেষ করে যখন অপরাধের ধরন এমন যে, কোনো নৈতিক চরিত্রের বিষয়বস্তু রয়েছে।

অর্থাৎ ফৌজদারি মামলায় আসামির পূর্বের ভালো চরিত্র প্রাসঙ্গিক এবং এটি আসামির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫৯.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ক অনুযায়ী, ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই
  2. গ্রাহককেই প্রমাণ করতে হবে
  3. আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন
  4. সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত
সঠিক উত্তর:
গ্রাহককেই প্রমাণ করতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাহককেই প্রমাণ করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ক (67A) অনুযায়ী, যদি কোনো ডিজিটাল স্বাক্ষর একটি ডিজিটাল রেকর্ডে সংযুক্ত করা হয়, তবে সেটি প্রমাণ করতে হবে যে, এটি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের (Subscriber) স্বাক্ষর। সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষর (Secure Digital Signature) ছাড়া, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি গ্রাহকই প্রমাণ করতে হবে, এবং আদালত কোনো বিশেষ অনুমোদন ছাড়াই এটি গ্রহণ করবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ক - ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রমাণ সম্পর্কিত বিধান:
সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ব্যতীত, যদি কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে কোনো গ্রাহকের ডিজিটাল স্বাক্ষর সংযুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়, তবে এটি প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রকৃতপক্ষে সেই গ্রাহকের স্বাক্ষর।
৬০.
ইঙ্গিতবাহী প্রশ্নের (Leading question) উত্তর সাধারণত কীভাবে দেওয়া হয়?
  1. হ্যাঁ বা না
  2. বিস্তারিত ব্যাখ্যা
  3. আদালতের নির্দেশনা
  4. সাক্ষীর ব্যক্তিগত মতামত
সঠিক উত্তর:
হ্যাঁ বা না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যাঁ বা না
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) হ্যাঁ বা না।
- ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading question) এমন প্রশ্ন যা প্রশ্নের মধ্যে উত্তরের ইঙ্গিত প্রদান করে থাকে। সাধারণত, এই ধরনের প্রশ্নে সাক্ষী হ্যাঁ বা না উত্তর দেয়। উদাহরণস্বরূপ, "আপনার নাম কি সালমান?"—এখানে প্রশ্নের মধ্যে উত্তরের ইঙ্গিত রয়েছে (সালমান), তাই সাক্ষী সাধারণত "হ্যাঁ" বা "না" বলে উত্তর দেয়।
এই ধরনের প্রশ্ন আদালত, বিশেষত সাক্ষীকে জেরা করার সময়, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি সাক্ষীর উত্তরকে নিয়ন্ত্রণ বা দিশা প্রদান করতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান হলো ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন: প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
⇒ যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। সাধারণত হ্যাঁ অথবা না ব্যাজেই এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 141. Leading questions:
- Any question suggesting the answer which the person putting it wishes or expects to receive is called a leading question.
৬১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ অনুযায়ী, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালত কাকে হাজির হতে আদেশ দিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র চিকিৎসক
  2. শুধুমাত্র আইনজীবী
  3. যাঁর নমুনা প্রয়োজন, তাঁকে
  4. কেবল তদন্তকারী কর্মকর্তা
সঠিক উত্তর:
যাঁর নমুনা প্রয়োজন, তাঁকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাঁর নমুনা প্রয়োজন, তাঁকে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ(২) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির রক্ত, বীর্য, চুল, ডিএনএ নমুনা, আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো শারীরিক নমুনার মালিকানা বা উৎপত্তি নিয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে আদালত ওই ব্যক্তিকে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে।
- এটি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নমুনা যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয়, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নমুনাটি প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই কিনা।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ(২) অনুসারে, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে (যার নমুনা যেমন - রক্ত, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ ইত্যাদি প্রয়োজন) আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে।
৬২.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮১ক এর আওতায় পড়ে না?
  1. ডিজিটাল অফিসিয়াল গেজেট
  2. ব্যক্তিগত ডায়েরির স্ক্যান কপি
  3. সরকারি ডিজিটাল নোটিফিকেশন
  4. আইন দ্বারা সংরক্ষণযোগ্য ডিজিটাল রেকর্ড
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত ডায়েরির স্ক্যান কপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত ডায়েরির স্ক্যান কপি
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮১ক অনুযায়ী, ডিজিটাল অফিসিয়াল গেজেট, সরকারি ডিজিটাল নোটিফিকেশন, এবং আইন দ্বারা সংরক্ষণযোগ্য ডিজিটাল রেকর্ড আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে যথার্থ বলে ধরে নিতে পারে, যদি এগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয় ও সঠিক হেফাজত থেকে আসে।

তবে, ব্যক্তিগত ডায়েরির স্ক্যান কপি কোনো সরকারি নথি বা আইন দ্বারা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়ে না, তাই এটি ধারা ৮১ক-এর অনুমানের সুবিধা পাবে না। এটি আদালতে গ্রহণযোগ্য করতে হলে স্বতন্ত্র প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮১ক (81A) মূলত দুই ধরনের ডিজিটাল রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য বলে ধরে নেয়:
- অফিসিয়াল গেজেটের ডিজিটাল কপি
- আইন দ্বারা সংরক্ষণযোগ্য ডিজিটাল রেকর্ড
তবে সরকারি ডিজিটাল নোটিফিকেশন, ভূমি রেকর্ড, আদালতের আদেশ ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত ডায়েরির স্ক্যান কপি, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ব্যক্তিগত চিঠি বা ছবি—এসব স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, অতিরিক্ত প্রমাণ লাগবে।
-------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section-81A. Presumption as to Gazettes in digital forms:
 The Court shall presume the genuineness of every digital record purporting to be the Official Gazette, or purporting to be digital record directed by any law to be kept by any person, if such digital record is kept substantially in the form required by law and is produced from proper custody.

Explanation.-Digital records are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable.]
৬৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি একটি দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে?
  1. আইনজীবী
  2. শুধুমাত্র দলিলের পক্ষ
  3. দলিলের কোন পক্ষের প্রতিনিধিগণ
  4. তৃতীয় পক্ষ যারা দলিলের শর্তকে প্রভাবিত করে
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় পক্ষ যারা দলিলের শর্তকে প্রভাবিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় পক্ষ যারা দলিলের শর্তকে প্রভাবিত করে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন কারী:
- যেসব ব্যক্তি একটি দলিলের পক্ষ নন, অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিরা, তারা কোনো সমসাময়িক সমঝোতার প্রমাণ দিতে পারেন যা দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ অনুযায়ী, দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার কোনো সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে এমন ব্যক্তি হলো তৃতীয় পক্ষ, যারা দলিলের শর্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তাদের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি দলিলের পক্ষ না, কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা, তারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো সমঝোতা দুটি পক্ষের মধ্যে হয় এবং এটি অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থকে প্রভাবিত করে, তবে সে তৃতীয় পক্ষও এটি প্রমাণ করতে পারে।

⇒ উদাহরণ: যদি A এবং B কোনো লিখিত চুক্তি করেন এবং তাদের মধ্যে মৌখিকভাবে কিছু শর্ত পরিবর্তিত হয়, তবে C, যদি তার স্বার্থ প্রভাবিত হয়, সে এই পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে পারে।
------------- 
⇒ The Evidence Act, 1872- Section- 99. Who may give evidence of agreement varying terms of document:
Persons who are not parties to a document, or their representatives in interest, may give evidence of any facts tending to show a contemporaneous agreement varying the terms of the document.

Illustration:
A and B make a contract in writing that B shall sell A certain cotton, to be paid for on delivery. At the same time they make an oral agreement that three months' credit shall be given to A. This could not be shown as between A and B, but it might be shown by C, if it affected his interests.
৬৪.
The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে
  2. মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে
  3. ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে
  4. আদালতের কার্যধারা পরিচালনার ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৬ ধারা শুধুমাত্র মোকদ্দমা দায়ের, আদালতের কার্যধারা পরিচালনা, এবং ডিক্রি জারির আবেদন সংক্রান্ত তামাদি গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নাবালক, উন্মাদ, বা জড়বুদ্ধি হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি গণনা শুরু হবে তখনই, যখন সে এই অপারগতা থেকে মুক্ত হবে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক মামলা (suit), আদালতের কার্যধারা (proceeding), বা ডিক্রি জারির আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রযোজ্য।
- আপিল দায়ের একটি পৃথক অধিকার: মোকদ্দমা (suit) বা কার্যধারা (proceeding) দায়ের করার অধিকার এবং আপিল দায়ের করার অধিকার আলাদা। আপিল সাধারণত একটি আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, যা স্বতন্ত্র এবং The Limitation Act-এর অন্যান্য ধারা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- তামাদির গণনার প্রভাব: ৬ ধারায় উল্লেখিত বৈধ অপারগতার কারণে যে সময় গণনা বন্ধ রাখা হয়, তা শুধুমাত্র মূল মামলা বা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আপিলের ক্ষেত্রে নয়।

অর্থাৎ আপিলের জন্য নির্ধারিত সময়: আপিল দায়েরের জন্য The Limitation Act-এ স্বতন্ত্র সময়সীমা নির্ধারিত আছে (যেমন, ৩০ বা ৯০ দিন, নির্ভর করে আদেশ বা ডিক্রির ধরন অনুযায়ী)। এই সময়সীমা ৬ ধারার বিধান দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

সুতরাং, The Limitation Act, 1908-এর ৬ ধারা মোকদ্দমা দায়ের, কার্যধারা পরিচালনা, এবং ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, আপিল দায়েরের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারিত আছে এবং তা ৬ ধারার আওতাভুক্ত নয়।
৬৫.
মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ডের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কখন থেকে গণনা শুরু হয়?
  1. মামলা দায়েরের তারিখ থেকে
  2. কারাদণ্ড শুরু হওয়ার তারিখ থেকে
  3. কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
  4. ক্ষতিপূরণের দাবি জানানোর তারিখ থেকে
সঠিক উত্তর:
কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
→ উত্তর: খ) কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে।

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী, মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর। এই মেয়াদ কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

অর্থাৎ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী, মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ডের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়। 
৬৬.
তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুসারে, পরিশোধের স্বীকৃতি কীভাবে প্রদান করতে হবে?
  1. ঋণদাতার মৌখিক স্বীকৃতি
  2. আদালতের অনুমোদন
  3. পরিশোধকারীর হস্তলিখিত বা স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি
  4. কোনো স্বীকৃতি প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
পরিশোধকারীর হস্তলিখিত বা স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশোধকারীর হস্তলিখিত বা স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) পরিশোধকারীর হস্তলিখিত বা স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি।

তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুসারে, সুদ পরিশোধের পর তামাদি মেয়াদ নবায়নের জন্য একটি লিখিত স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।
- এটি হতে হবে পরিশোধকারী ব্যক্তির হস্তলিখিত বা স্বাক্ষরিত একটি লিখিত স্বীকৃতি।
- এটা মৌখিক বা অন্য কোনো অপ্রমাণিত উপায়ে হতে পারবে না।
- এটি সুদের পরিশোধের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহৃত হবে, যা তামাদি মেয়াদ নবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made: 
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
৬৭.
The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপারগ থাকে, তবে তার আইনানুগ প্রতিনিধি সর্বোচ্চ কত বছরের মধ্যে মামলা করতে পারবে?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
সঠিক উত্তর:
৩ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপারগ থাকে (যেমন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি), তবে তার আইনানুগ প্রতিনিধি মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে।

 ৮ ধারার মূল বক্তব্য:
 অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলায় ৬ ও ৭ ধারার সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
 যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপারগ থাকে, তবে তার উত্তরাধিকারী বা আইনানুগ প্রতিনিধি সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে পারবে।
 এই সময়সীমা ৩ বছরের বেশি বাড়ানো যাবে না।

 উদাহরণ:
"ক" একজন নাবালক, যিনি অগ্রক্রয়ের অধিকার অর্জন করেন, কিন্তু সাবালক হওয়ার আগেই মারা যান।
 তার উত্তরাধিকারী বা আইনানুগ প্রতিনিধি মৃত্যুর তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে পারবে।

The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপারগ (যেমন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি) থাকে, তাহলে তার আইনানুগ প্রতিনিধি (যেমন উত্তরাধিকারী বা আইনগত অভিভাবক) অপারগতা অবসানের পর (অর্থাৎ ব্যক্তির মৃত্যুর পর) সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে।
৬৮.
ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল লাভের জন্য ক্রেতা কর্তৃক মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১ বছর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৩৮ অনুযায়ী, ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল লাভের জন্য ক্রেতা কর্তৃক মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর। এই মেয়াদ সম্পত্তি বিক্রয় চূড়ান্ত হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

- ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্রয়কৃত সম্পত্তি বলতে আদালতের ডিক্রি (রায়) অনুযায়ী নিলাম বা বিক্রয়ের মাধ্যমে ক্রয়কৃত সম্পত্তিকে বোঝায়।
- দখল লাভের জন্য মামলা বলতে ক্রেতা কর্তৃক সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা বোঝায়।

এই মামলা দায়ের করার জন্য সম্পত্তি বিক্রয় চূড়ান্ত হওয়ার তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
- যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
৬৯.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলার তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ১৯
  2. অনুচ্ছেদ ১১৪
  3. অনুচ্ছেদ ১২৪
  4. অনুচ্ছেদ ১৪২
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১২৪
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৪ অনুযায়ী, বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত হয়। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১২ বছর। এই মেয়াদ বিবাদী যখন বাদীর প্রতিকূলে পদটি দখল করে সেই তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

- বংশগত পদ বলতে এমন পদকে বোঝায় যা বংশপরম্পরায় উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়, যেমন জমিদারি, পুরোহিত পদ ইত্যাদি।
- পদ দখল বলতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বংশগত পদটি অন্যায়ভাবে দখল করা বা অধিকার লঙ্ঘন করা বোঝায়।

সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) অনুচ্ছেদ ১২৪।
৭০.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, কোন ধরনের দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ ৩ বছর?
  1. যে দরখাস্ত জরিমানা সংক্রান্ত
  2. যে দরখাস্ত আদালত কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে
  3. যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ আছে
  4. যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ নেই
সঠিক উত্তর:
যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ নেই
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, যদি কোনো দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেই দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর ধরা হয়। অর্থাৎ, যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই, সেই ধরনের দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় অধিকার উদ্ভবের তারিখ থেকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কিত দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দরখাস্ত আদালতে দাখিল করতে হবে।
→ সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ নেই।
৭১.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল আদেশ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে আপিল কোথায় দায়ের করতে হবে?
  1. বার কাউন্সিলে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. জেলা জজ আদালতে
  4. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: খ) হাইকোর্ট বিভাগে।

→ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে, ওই অ্যাডভোকেট বা ব্যক্তিকে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করার সুযোগ রয়েছে। এই আপিল ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে এবং তা ডিভিশন বেঞ্চ দ্বারা শ্রবণ করা হবে, যার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
-------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order 1972: Article-36.
- (1) Any person aggrieved by an order of a Tribunal under Article 34 may, within ninety days from the date of the communication of the order to him, prefer an appeal to the High Court.
(2) Every such appeal shall be heard by a Division Bench of the High Court which may pass such order thereon as it may deem fit and the order of the High Court shall be final.
৭২.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর ৪৬ বিধি অনুসারে, সচিব অভিযোগকারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে জবাবের কপি কত দিন আগে সরবরাহ করবেন?
  1. শুনানীর ১ দিন আগে
  2. শুনানীর ২ দিন আগে
  3. শুনানীর ৫ দিন আগে
  4. শুনানীর ৭ দিন আগে
সঠিক উত্তর:
শুনানীর ২ দিন আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুনানীর ২ দিন আগে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর ৪৬ বিধি অনুসারে, অভিযোগকারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে অভিযুক্তের জবাবের কপি শুনানীর কমপক্ষে ২ দিন পূর্বে সরবরাহ করতে হবে।

বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৪৬ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব দিতে পারবেন এবং উহার ২ কপি শুনানীর সময়ের কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দাখিল করবেন। সচিব শুনানীর কমপক্ষে দুই দিন পূর্বে তা অভিযোগকারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরবরাহ করবেন।
-------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council Rules, 1972. Rule- 46: The advocate concerned shall be entitled to file a reply to the allegations against him whether or not he has already filed a reply before the Bar Council.
-He shall deliver such reply along with two copies to the Secretary at least seven days before the date of hearing fixed by the Tribunal and the Secretary shall deliver the copies to the Attorney General and the complainant at least two days before such d hearing.
৭৩.
একজন অ্যাডভোকেটের প্রধান দায়িত্ব কী?
  1. বিচারককে সমর্থন না করা
  2. বিচারকের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করা
  3. বিচারকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নত করা
  4. আদালতের মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় রাখা
সঠিক উত্তর:
আদালতের মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালতের মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় রাখা
ব্যাখ্যা
⇒ একজন অ্যাডভোকেটের প্রধান দায়িত্ব হলো আদালতের মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় রাখা। এটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট, ১৯৬৯ এর অধ্যায় III, বিধি ১-এ উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব শুধুমাত্র তার ক্লায়েন্টের স্বার্থ রক্ষা করা নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের প্রতি সম্মান ও বিশ্বাস বজায় রাখাও তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ।

অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব হলো:
- আদালতের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা।
- ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।
- আদালতের প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করা।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) বিচারকের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করা: এটি অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব নয়, বরং এটি পেশাগত নৈতিকতার পরিপন্থী।
গ) বিচারকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নত করা: অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব বিচারকের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা নয়, বরং আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা।
ঘ) বিচারককে সমর্থন না করা: অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, যা কখনো কখনো বিচারকের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করতে পারে।

অতএব, সঠিক উত্তর হলো খ) আদালতের মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় রাখা।
৭৪.
একজন অ্যাডভোকেট নিম্নলিখিত কোন পরিস্থিতিতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না?
  1. তিনি আগের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না
  2. তিনি আদালতে অন্যান্য মামলা পরিচালনা করেন
  3. তিনি আগে উক্ত বিষয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন
  4. তিনি আগে প্রতিপক্ষের অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করে ছিলেন না
সঠিক উত্তর:
তিনি আগে উক্ত বিষয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি আগে উক্ত বিষয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন
ব্যাখ্যা
→ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট, ১৯৬৯ এর অধ্যায় IV, বিধি ৭ অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেট কোনো মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না যদি তিনি আগে উক্ত বিষয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর কারণ হলো, বিচারকের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি যে তথ্য ও গোপনীয়তা পেয়েছেন, তা তার পক্ষে পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার সময় পক্ষপাতিত্ব বা নৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। এই নীতিটি অ্যাডভোকেটের পেশাগত নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতএব, সঠিক উত্তর হলো গ) তিনি আগে উক্ত বিষয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

- 7. An Advocate should not accept employment as an Advocate in any matter upon the merits of which he has previously acted in a judicial capacity.
An Advocate having once held public office or having been in the public employ, should not, after his retirement accept employment in connection with any matter which he has investigated or dealt with while in such office, nor employment except in support thereof.